Monday, May 27, 2019

অধ্যায় - ৩০ - হাওয়ালা (كتاب الحوالات) ( হাদিস নং - ২১৪২-২১৪৪ = মোট ৩ টি হাদিস)

বুখারী শরীফ সব খণ্ড


بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

অধ্যায় - ৩০ - হাওয়ালা (كتاب الحوالات)
( হাদিস নং - ২১৪২-২১৪৪ = মোট ৩ টি হাদিস)

পরিচ্ছদঃ ১৪২২. হাওয়ালা করা। হাওয়ালা করার পর পুনরায় হাওয়ালাকারীর নিকট দাবী করা যায় কি? হাসান এবং কাতাদা (র.) বলেন, যে দিন হাওয়ালা করা হল, সে দিন যদি সে মালদার হয় তাহলে হাওয়ালা জায়িয হবে। ইব্‌ন আব্বাস (রা.) বলেন, দু’জন অংশীদার অথবা উত্তরাধিকারী পরস্পরের মধ্যে এভাবে বণ্টন করল যে একজন নগদ সম্পদ নিল, অন্যজন সে ব্যক্তির অপরের নিকট পাওনা সম্পদ নিল। এমতাবস্থায় যদি কারো সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়, তবে অন্যজনের নিকট তা আবার দাবী করা যাবে না।
২১৪২। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধনী ব্যাক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। যখন তোমাদের কাউকে (তার জন্য) কোন ধনী ব্যাক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন সে যেন তা মেনে নেয়।

পরিচ্ছদঃ ১৪২৩. যখন (ঋণ) কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন (তা মেনে নেওয়ার পর) তার পক্ষে প্রত্যাখ্যান করার ইখতিয়ার নেই। যখন কাউকে কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয় সে যেন তা মেনে নেয় এর অর্থ হোল যদি কারোর তোমার কাছে কোনকিছু পাওনা থাকে আর তুমি তা কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করে থাক এবং সে তোমার পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকে তারপর যদি তুমি নিঃস্ব হয়ে যাও তবে প্রাপক হাওয়ালা গ্রহণকারী ব্যক্তির অনুসরণ করবে এবং তার থেকে পাওনা উশুল করবে।
২১৪৩। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ধনী ব্যাক্তির পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। যাকে (তার পাওনার জন্য) ধনীর হাওয়ালা করা হয়, সে যেন তা মেনে নেয়।
২১৪৪। মক্কী ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদিন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলাম, এমন সময় একটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, আপনি তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে দিন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে? তারা বলল, না। তিনি বললেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? তারা বলল, না। তখন তিনি তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
তারপর আরেকটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে দিন। তিনি বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে? বলা হল হ্যাঁ, আছে। তিনি বললেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? তারা বললেন, তিনটি দ্বীনার। তখন তিনি তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
তারপর তৃতীয় আরেকটি জানাযা উপস্থিত করা হল। সাহাবীগণ বললেন, আপনি তার জানাযা আদায় করুন। তিনি বললেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? তারা বললেন, না। তিনি বললেন, তার কি কোন ঋণ আছে? তারা বললেন, তিন দ্বীনার। তিনি বললেন, তোমাদের এ লোকটির সালাত (নামায/নামাজ) তোমরাই আদায় করে নাও। আবূ কাতাদা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করুন, তার ঋণের জন্য আমি দায়ী। তখন তিনি তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।

No comments:

Post a Comment

Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻