Showing posts with label নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত. Show all posts
Showing posts with label নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত. Show all posts

Monday, June 3, 2019

নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপদেশঃ

নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপদেশঃ

১। পিতামাতার সঙ্গে- তারা মুসলিম হোক আর অমুসলিম হোক-দয়া-মায়া ও বিনয় নম্রতায় পূরিপূর্ণ অতি উচ্চ মানের সৌজন্যমূলক আচরণ করা।

২। কারো ন্যায্য প্রাপ্য আটকে না রাখা।
৩। দরিদ্রতার ভয়ে কন্যা শিশুকে হত্যা না করা।
৪। মিথ্যা না বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য না দেয়া।
৫। শির্ক না করা।
৬। অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করা।
৭। সলাত আদায় করা।
৮। যাকাত দেয়া।
৯। পবিত্র থাকা।
১০। রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখা।
১১। সন্তানদের আদর স্নেহ করা।
১২। পিতা-মাতার প্রিয়জন, স্বামী ও স্ত্রীর নিকটত্মায়ীদের প্রতি উত্তম ব্যবহার করা।
১৩। বিধবা, ইয়াতীম, গরীব ও দুঃস্থদের ভরণ পোষণের চেষ্টা করা ও তাদেরকে সাহায্য করা।
১৪। জীব জন্তুর প্রতি দয়া প্রদর্শন করা।
১৫। বৃক্ষ রোপন করা।
১৬। প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথিক ও অধীনস্থ দাস-দাসীর প্রতি উত্তম ব্যবহার করা।
১৭। মেহমানকে সম্মান করা।
১৮। হাসিমুখে মিষ্ট ভাষায় কথা বলা এবং অশালীনতা বর্জন করা।
১৯। সকল কাজে নম্রতা অবলম্বন করা।
২০। মু’মিনদেরকে পারস্পরিক সহযোগিতা করা ও সৎ পরামর্শ দেয়া।
২১। দানশীল হওয়া, কৃপণতা পরিহার করা।২২। পারিবারিক কাজকর্মে সময় দেয়া।
২৩। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাউকে ভালবাসা।২৪। অন্যকে উপহাস না করা, হেয়জ্ঞান না করা।
২৫। কাউকে গালি ও অভিশাপ না দেয়া।
২৬। কাউকে খারাপ নামে না ডাকা।
২৭। কারো গীবত না করা।
২৮। চোগলখোরী (একজনের কাছে গিয়ে অন্যের প্রতি অপবাদ দেয়া বা তার দুর্নাম করা) থেকে বিরত থাকা।২৯। মুনাফিকী বর্জন করা।
৩০। কারো অতিরিক্ত প্রশংসা না করা।
৩১। আত্মীয় অনাত্মীয় সকল ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার করা।৩২। কারো প্রতি যুলম অত্যাচার না করা।
৩৩। কারো প্রতি হিংসা বিদ্বেষ পোষণ না করা।
৩৪। যাদু-টোনা ইত্যাদি না করা।
৩৫। কারো প্রতি কু ধারণা পোষণ না করা।
৩৬। অন্যের দোষ-ত্রুটি খোঁজার জন্য গোয়েন্দাগিরি না করা।
৩৭। আন্দাজ অনুমান করা থেকে বিরত থাকা।৩৮। অন্যের দোষ ত্রুটি গোপন করা।
৩৯। সম্পূর্ণরূপে অহংকার বর্জন করা।
৪০। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা।
৪১। অন্যের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বন্ধ না রাখা।
৪২। আল্লাহর অবাধ্যগণের সঙ্গ ত্যাগ করা।
৪৩। আপন লোকের সঙ্গে যথাসম্ভব বেশি বেশি সাক্ষাত করা।
৪৪। নেককার সঙ্গী সাথীর বাড়িতে আহার করা।৪৫। সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উত্তম পোশাক পরা।
৪৬। মুসলমানদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ থাকা।৪৭। আলা জিহবা বের করে হো হো করে না হাসা।
৪৮। সৎকাজ করতে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জেনে নিতে লজ্জাবোধ না করা।
৪৯। ধৈর্যশীল হওয়া।
৫০। লজ্জাশীল হওয়া।
৫১। সরাসরি কাউকে তিরস্কার না করে সাধারণভাবে নাসীহাতের মাধ্যমে ভুল শুধরে দেয়া।
৫২। কাউকে কাফির না বলা।
৫৩। কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে কঠোরতা প্রদর্শন করা।
৫৪। ক্রোধ বা রাগ দমন করা।
৫৫। মানুষকে ক্ষমা করা।
৫৬। কথায় ও কর্মে সহজতা ও সরলতা অবলম্বন করা। ৫৭। আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্র ছাড়া ব্যক্তিগত কারণে কারো নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ না করা।
 ৫৮। মানুষের পরিবেশ ও পরিস্থিতির প্রতি লক্ষ্য করে নাসীহাত প্রদান করা।
৫৯। স্বীয় পরিবার পরিজনের সঙ্গে হাসি তামাশা করা। ৬০। একই রকমের ভুল কাজ দ্বিতীয়বার না করা।
৬১। সংশ্লিষ্ট সকলের অধিকারের প্রতি মনোযোগী থেকে প্রত্যেকের অধিকার আদায় করা।
৬২। বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা। ৬৩। আগন্তুককে মারহাবা বলে স্বাগত জানানো।
৬৪। সময়কে গালি না দেয়া।
৬৫। ভাল নাম রাখা এবং ভাল নামে ডাকা।
৬৬। আশ্চর্যবোধ করলে আল্লাহু আকবার ও সুবহানাল্লাহ বলা।
৬৭। ঢিল ছুঁড়া হতে বিরত থাকা।
৬৮। হাঁচি দিলে আল হামদুলিল্লাহ বলা এবং হাই উঠলে মুখ ঢাকা।
৬৯। রোগীর সেবা করা।
৭০। জানাযায় অংশ গ্রহণ করা।
৭১। কেউ দাওয়াত দিলে কবূল করা।
৭২। সালামের জওয়াব দেয়া।
৭৩। মযলুমকে সাহায্য করা।
 ৭৪। শপথ পূর্ণ করা।

( বুখারী, মুসলিম)

Sunday, May 26, 2019

পোশাক পরিধানে প্রিয় নবীর আদর্শ 

পোশাক পরিধানে প্রিয় নবীর আদর্শ 
পোশাক পরিধানে সব সময় ডান দিক দিয়ে শুরু করা আর খোলার সময় বাঁ দিক দিয়ে শুরু করা সুন্নাত।

(তিরমিজি : ১/৩০৬)

পুরনো হলেও সব সময় পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা উচিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার অন্তরে ন্যূনতম অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না’

জীবনের সব ক্ষেত্রেই চাই সুন্নাতের অনুসরণ। এটিই আল্লাহকে পাওয়ার একমাত্র পথ। আল্লাহ তাআলা নিজেই এর ঘোষণা দিয়েছেন : ‘হে নবী! বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমাকে অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

(সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৩১)

খাওয়া, পরা, ঘুম থেকে শুরু করে পোশাক-পরিচ্ছদেও রাসুলের সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। এ বিষয়েই আজকের আলোচনা।

পোশাক পরিধানের সুন্নতগুলোঃ

সামর্থ্য অনুযায়ী যখন যে ধরনের কাপড় পাওয়া যায়, তা পরিধান করাই উত্তম। রাসুল (সা.) প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাপড় রাখতেন না এবং বেশি অভিজাত কাপড়ের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল না। যখন যে ধরনের কাপড় পাওয়া যেত, সেটাই তিনি পরিধান করতেন।

(জাদুল মাআদ : ১/৫৩)

বেশির ভাগ সময় রাসুল (সা.) একটি চাদর গায়ে দিতেন আর আরেকটি সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করতেন।

(শামায়েলে তিরমিজি : ৮)

অনেক সময় রাসুল (সা.)-এর কাপড়ে তালি লাগানো থাকত।

(মাদারেজুন নবুয়ত)

পোশাক পরিধানে সব সময় ডান দিক দিয়ে শুরু করা আর খোলার সময় বাঁ দিক দিয়ে শুরু করা সুন্নাত।

(তিরমিজি : ১/৩০৬)

পুরনো হলেও সব সময় পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা উচিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার অন্তরে ন্যূনতম অহংকার আছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ একজন বলল, ‘মানুষ তো সাধারণত সুন্দর কাপড় ও সুন্দর জুতা পরিধান করতে পছন্দ করে।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্য গ্রহণে অনীহা ও মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা।’

(মুসলিম : হা. ১৪৭)

জামা হাঁটুর নিচ পর্যন্ত লম্বা এবং গোল হওয়া সুন্নাত। (মিশকাত শরিফ : হা. ৩৭৪) লুঙ্গি বা পায়জামা টাখনুর নিচে পরিধান করা যাবে না।

(মিশকাত শরিফ : হা. ৩৭৪)

অহংকার আসে এমন কাপড় পরিধান না করাই বাঞ্ছনীয়।

(আলমগিরি : ৫/৩৩৩)

পায়জামা পরিধান করা উত্তম। এটি সতর ঢাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাসুল (সা.) একবার একটি পায়জামা ক্রয় করেন। কিন্তু সেটি তিনি পরিধান করেছেন কি না এ ব্যাপারে মতানৈক্য আছে। তবে সাহাবায়ে কেরাম হুজুর (সা.)-এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে পায়জামা পরিধান করতেন। (আলমগিরি : ৫/৩৩৩)

জুমার দিন সম্ভব হলে নতুন জামা, অন্তত নিজের উত্তম পোশাক পরিধান করা সুন্নত।

(ইবনে মাজাহ)

নতুন জামা পরিধানের সময় এই দোয়া পড়া, ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি কাসানি মা উওয়ারি বিহি আউরতি ওয়া আতাজাম্মালু বিহি ফি হায়াতি।’ (শামায়েলে তিরমিজি : ৫)

এমন টুপি ব্যবহার করা সুন্নাত, যা মাথার সঙ্গে লেগে থাকে। টুপির রং সাদা হওয়াও সুন্নাত।

(ফতোয়ায়ে আলমগিরি : ৫/৩৩০)

পাগড়ি বাঁধা সুন্নাত। সব সময় পাগড়ি বেঁধে রাখতে পারলে ভালো। শুধু নামাজের সময়ও বাঁধা যায়। পাগড়ি সাদা বা কালো রঙের হওয়া উত্তম। (মুসলিম : ১/৪৩৯)

পাগড়ি তিন হাত, সাত হাত, ১২ হাত পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

(ফয়যুল বারী : ৪/৩৭৫)

সব পোশাক ঢিলেঢালা হওয়া উচিত। যেসব পোশাকে সতরের কাঠামো দৃষ্টিগোচর হয়, তা দিয়ে পোশাকের সুন্নত আদায় হয় না।

(আপকে মাসায়েল : ৭/১৬৫)

নারীদের জন্য সালোয়ার-কামিজ পরিধান করা উত্তম। তবে শাড়ি পরিধান করাও জায়েজ।

(আলমগিরি : ৫/৩৩৩)

জুতা-মোজা পরিধান করার সময় প্রথমে ডান পা আর খোলার সময় বাঁ পা ব্যবহার করা সুন্নাত।

(মিশকাত : ৩৮০)

আল্লাহ আমাদের আমল করার তৌফিক দান করুন


⏺️এই পোষ্ট পড়লে নাস্তিকরাও বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে যে কোরআন আল্লাহর বাণী।

⏺️এই পোষ্ট পড়লে নাস্তিকরাও বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে যে কোরআন আল্লাহর বাণী।

২ মিনিট সময় নিয়ে পুরো পোষ্ট পড়ুন। ইনশাল্লাহ সময় নষ্ট হবেনা। অনেক কিছু জানতে পারবেন।

কোরআন আল্লাহ তাআালার বাণী, কি নেই এই কোরআনে?
ব্যাবসা, শিক্ষা, সমাজ, পরিবার, বিজ্ঞান থেকে শুরু করে মানব জীবনের সকল সমস্যার সমাধান আছে এই পবিত্র আল-কোরআনে।
আর মহান আল্লাহ পাক তার সৃষ্টিকর্তা হবার বহু নিদর্শন দিয়ে রেখেছেন এই আল-কোরআনে।
পবিত্র আল-কোরআনে আছে মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো কিছু গানিতিক Calculation.
আজ আমি আপনাদেরকে এমন কিছু বলব যা আপনাদের ইমান করে মজবুত করবে।

পবিত্র কোরআনে শাস্তি শব্দটি আছে = ১১৭ বার।
আর ক্ষমা শব্দটিও আছে = ২৩৪ বার।
আর ১১৭ কে গুন করলে হয় ২৩৪ বার।
তার মানে বুজা গেলো আমাদের রব শাস্তি থেকে দ্বিগুন ক্ষমা করে থাকেন।
আমাদের রব যে পরম দয়ালু তা প্রমান হয়ে গেলো।

আল্লাহ বললেন/তিনি বললেন শব্দটি আছে = ৩৩২ বার
অপরদিকে তারা বলল কথাটিও আছে == ৩৩২ বার।
দেখুন মহান আল্লাহ যতবার তার খতা বলেছেন ততবার তার উওর এসেছে
সেখানে যদি তারা বলল কথাটি ৩৩২ বারের চেয়ে কম হতো, তাহলে মহান আল্লাহর কথা কোন বার না আসলে তাকে অসম্মান করা হতো।
অপরদিকে যদি তারা বলল কথাটি ৩৩২ বারের চেয়ে বেশী হতো তাহলেও মহান আল্লাহ তা'আলা কে অসম্মান করা হতো।

পৃথিবী বা এইদুনিয়া = ১১৫ বার
মৃত্যুর পরের জিবন ও আখিরাতও = ১১৫ বার
শয়তান শব্দটি এসেছে - ৮৮ বার
ফেরেস্তা শব্দটিও এসেছে - ৮৮ বার
বেহেস্ত শব্দটি আছে - ৭৭ বার
দোযখ শব্দটিও আছে - ৭৭ বার
যাকাত শব্দটি আছে ৩২ বার = মঙ্গল বা বারাকাহ শব্দটিও আছে ৩২ বার।
কেনো মহান আল্লাহ তা'য়ালা এই শব্দগুলো সমান সমান রেখেছেন তা আমার মনে হয় আপনাদের আর ভেঙ্গে বুজাতে হবে না।
দেখুন গীষ্ম বা গরম শব্দটি আছে ৫ বার = শীত বা ঠান্ডা শব্দটিও আছে ৫ বার।।
সচ্ছলতা শব্দটি আছে ২৬ বার = দরিদ্র শব্দটি আছে ১৩ বার, যা সচ্ছলতা শব্দের চেয়ে অর্ধেক।
এরপর আমি যা বলব, তাতে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না।
পবিত্র কেরআনে
নারী বা মহিলা শব্দটি আছে ২৩ বার
অপরদিকে পুরুষ শব্দটিও আছে ২৩ বার
এখানে দুইজনকেই ২৩ - ২৩ বলে সমান দেওয়ায় প্রমান করে মহান আল্লাহর কাছে নারী - পুরুষের সমান গুরুত্ব।
শুধু এখানেই শেষ নয়,
আপনি কি অনুমান করতে পারছেন, এই সংখ্যা দ্বারা আপনার রব আপনাকে কি বুজাতে চাচ্ছেন?
একটু মনে করে দেখুন
মানব দেহে ক্রোমোজমের সংখ্যা ৪৬ টি
যা ২৩ এবং ২৩ যোগ করলে হয়।
বর্তমান বিজ্ঞান বলে প্রত্যেক শিশু আলাদা ৪৬ টি ক্রোমোজম নিয়ে জন্মায় ,
যার ২৩ টি আসে পিতার থেকে, আর ২৩ টি আসে মাতার থেকে।
কি অবাক হচ্ছেন?
অবাক হওয়ার আরো কিছু বাকি আছে ।
পবিত্র কোরআনে স্থল এর উল্লেখ আছে ১৩ বার
অপরদিকে সাগর বা সমুদ্র এর উল্লেখ আছে ৩২ বার।
প্রথমে দেখলে মনে হবে এটা তেমন কোনো অর্থ প্রকাশ করছে না।
তবে আপনি যদি এই দুটি সংখ্যা যোগ করেন তাহলে হবে ৪৫।
আপনি এই যোগফলের হিসাব করলে দারাবে
১৩/৪৫ % == ২৮.৮৮ ভাগ।
এবং ৩২/৪৫ % এর শতকরা দারাবে = ৭১.১১ ভাগ।
কোনো অনুমান করতে পাচ্ছেন?
এই শতকরা হিসাব আসলে কি বুজাচ্ছে?
তাহলে আমি বলছি,
পৃথিবীতে সমস্ত স্থল ভাগের পরিমান ২৮.৮৮ ভাগ
এবং পানির পরিমান ৭১.১১ ভাগ।
যা কিছুদিন আগে বিজ্ঞান আমাদেরকে জানিয়েছে।
কোনো মানুষের পক্ষে কও সম্ভব? এত সুন্দর গানিতিক হিসাব করে ছন্দ মিলিয়ে মিলিয়ে এই ধরনের গ্রন্থ লেখা?
এই রকম আরো অসংখ্য বিষয় আছে যা আপনাকে মানতে বাধ্য করবে যে পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহ তা'আলার বানী।
যদি পোষ্ট ভালো লাগে তাহলে অব্যশই শেয়ার করুন।।।


Saturday, May 25, 2019

মৃত্যু কালীন সুন্নাত সমূহ

মৃত্যু কালীন সুন্নাত সমূহ

১.মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তির চেহারা কিবলামুখী করে দেয়া এবং তার সামনে বসে তাকে শুনিয়ে কালিমা শরীফ পড়তে থাকা। তবে তাকে কালিমা পড়ার হুকুম দিবে না এবং তার পাশে বসে সূরা ইয়াসীন পড়া। উল্লেখ্য, কালিমা শরীফ একবার পড়ে নিয়ে তারপর যদি দুনিয়াবী কোন কথা না বলে তাহলে দ্বিতীয় বার কালিমার তালকীন না করা। (মুস্তাদরাক, হাদীস নং- ১৩০৫/ মুসলিম, হাদীস নং- ৯১৬/ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৩১২১)

২. স্বীয় মৃত্যু নিকটবর্তী মনে হলে এই দু‘আ পড়তে থাকাঃ

اَللّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِيْ وَألْحِقْنِيْ بِالرَّفِيْقِ الأعْلَى
(তিরমিযী, হাদীস নং- ৩৪৯৬/ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৩১২১)

৩. যখন রূহ বের হচ্ছে বলে অনুভব হতে থাকে, তখন এই দু‘আ পড়াঃ

اللَّهُمَّ أعِنِّيْ عَلى غَمَرَاتِ المَوْتِ وَسَكَرَاتِ المَوْتِ .
(তিরমিযী, হাদীস নং- ৯৭৮)

৪. কোন মুসলমানের মৃত্যু সংবাদ শ্রবণে এই দু‘আ পড়া : (মুসলিম, হাদীস নং- ৯১৮)

إنّا لِلَّهِ وإنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ؛ اَللَّهُمَّ أجُرْنِيْ فِيْ مُصِيبَتِيْ وَأخْلِفْ لِيْ خَيْراً مِنْهَا

৫. মৃত ব্যক্তির চক্ষুদ্বয় ও মুখ খোলা থাকলে বন্ধ করে দেয়া। প্রয়োজন বোধে মাথার উপর ও থুতনীর নীচ দিয়ে কাপড় বেঁধে দেয়া। চেহারা দেখা,আত্মীয়-স্বজনদের আসা, জানাযায় লোক কম হবে এসব কথা বলে দাফনে বিলম্ব করা নিষেধ।(মুসলিম, হাদীস নং- ৯২০)

৬. মৃত ব্যক্তিকে খাটে রাখার সময় বা মৃত ব্যক্তির লাশবাহী খাট কাঁধে উঠানোর সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস নং- ১২০৬২)

৭. যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি মৃত ব্যক্তিকে গোসল, কাফন ও জানাযার নামায সম্পন্ন করে নিকটস্থ গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা। দাফনের জন্য বিনা অপারগতায় দূরের গোরস্থানে বা এক শহর থেকে অন্য শহরে নেয়া মাকরূহ। (আবু দাউদ, হাদীস নং- ৩১৮, ৩১৬৫)

বি. দ্র. জানাযার পরে দাফনের পূর্বে হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা নিষেধ এবং জানাযার পর থেকে মুর্দার চেহারা দেখানো নিষেধ। (আহসানুল ফাতাওয়া, ৪: ২১৯/ ইমদাদুল মুফতীন, ৪৪৪ দারুল উলূম, ৫ : ৩০৫)

৮. মৃত ব্যক্তির লাশ কবরে রাখার সময় এই দু‘আ পড়াঃ

بِسْمِ اللهِ وَعَلى مِلَّةِ رَسُوْلِ اللهْ.

(আবু দাউদ, হাদীস নং- ১০৪৬/ মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ৪৯৮৯)

৯. কবরে লাশ পুরোপুরি ডান কাতে শোয়ানো অর্থাৎ তার চেহারা ও সীনা কিবলামুখী করে দেয়া। এর জন্য কবরের তলদেশে পশ্চিম পার্শ্বে উত্তর দক্ষিণে লম্বাভাবে এক হাত পরিমাণ গর্ত করতে হবে অথবা পিঠের পেছনে ও মাথার নীচে মাটির চাকা দিয়ে ডান কাতে শোয়াতে হবে। মৃত ব্যক্তিকে কবরে চিত করে শুইয়ে শুধু তার চেহারা কিবলামুখী করে দিলেই সুন্নাতের অনুসরণ হবে না। (মুস্তাদরাক, হাদীস নং- ১৯৭)

১০. আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির পরিবার পরিজনের জন্য প্রথম দিন খানার ব্যবস্থা করা উচিত। মৃত ব্যক্তির উপর যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব ছিল, শুধু তারাই এ খানা খাবে। আগন্তুক মেহমানগণ উক্ত খানায় শরীক হবে না। বরং তারা সান্ত্বনা দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে যাবে। মৃত ব্যক্তির লোকদের উপর বোঝা সৃষ্টি করবে না। বর্তমানে বিষয়টিকে মোটেও খেয়াল করা হচ্ছে না। রেওয়াজ হিসেবে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে মৃতের পরিবারের পক্ষ হতে কোনরূপ খানার আয়োজন না করা চাই। তেমনিভাবে ৪ দিনা, ৭/ ১০ দিনা, ত্রিশ-চল্লিশ কুলখানী ইত্যাদি বিধর্মীদের রসম। এগুলো থেকে কঠোরভাবে পরহেজ করবে। চাই মূর্খ লোকেরা যতই বদনাম করুক। আল্লাহর জন্য এ সব বদনাম বরদাশ্‌ত করে নিবে। ‘জীবনের শেষদিন’ কিতাব থেকে বিস্তারিত দেখে নিবে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫৪১৭/ মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ৯০৫)

১১. কবর খুব বেশি উঁচু না করা এবং পাকা না করা। (মুসলিম, হাদীস নং- ৯৬৯, ৯৭০)

১২. কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং- ৬৪৮১)

১৩. মৃত ব্যক্তির দাফনকার্য সম্পন্ন করার পর হুজুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে তার মাগফিরাত কামনায় দু‘আ করতেন এবং অন্যদেরকেও মাগফিরাতের দু‘আ করতে বলতেন। বিশেষত মুনকার নাকীর ফিরিশতাদ্বয়ের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে সে যেন দৃঢ়পদ ও অবিচল থাকতে পারে, সে জন্য দু‘আ করতে বলতেন। (আবু দাউদ, হাদীস নং- ৩২২১)

১৪. কবরের মাথার দিকে এক ব্যক্তি সূরা বাকারার শুরু থেকে مُفْلِحُوْنْ পর্যন্ত এবং পায়ের দিকে অপর ব্যক্তি آمَنَ الرَّسُوْلُ থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করবে। কবরের চার কোণায় খুঁটি গাড়া এবং চার কোণায় চার কুল পড়ার কোন ভিত্তি পাওয়া যায় না। (শুআবুল ঈমান, হাদীস নং- ৮৮৫৪)

সমাপ্ত


বিবিধ সুন্নাত

বিবিধ সুন্নাত

১. নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম পথ চলার সময় রাস্তা হতে লোকদের ধাক্কানো বা সরানো হত না। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ১৪২৩৬)

২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কেউ কিছু চাইলে তিনি কখনও না বলতেন না। (অর্থাৎ প্রার্থিত জিনিস থাকলে তা দিয়ে দিতেন, আর না থাকলে অপারগতা প্রকাশ করতেন।) (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ১৪২৯৪)

৩. প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো মুখ হতে স্বীয় চেহারা মুবারক ফিরিয়ে নিতেন না যতক্ষণ না সে তার চেহারা ফিরিয়ে নিত। কোন ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কানে কানে কোন কথা বলতে চাইলে তিনি তার দিকে স্বীয় কান মুবারক বাড়িয়ে দিতেন এবং যতক্ষণ তার কথা শেষ না হতো, ততক্ষণ স্বীয় কর্ণ মুবারক সরিয়ে নিতেন না। (ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ৩৭১৬/ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৪৭৯৪)

৪. নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাক্ষাতকালে নিজেই আগে সালাম করতেন, তারপর দু’হাতে মুসাফাহা করতেন। অনেক দিন পর কারো সাথে সাক্ষাত হলে তার সাথে মু‘আনাকাও করতেন। (আবু দাউদ, হাদীস নং- ৫২১৪/ বুখারী শরীফ হাদীস নং- ৬২৬৫-৬২৬৬)

বি.দ্র. সালাম দেয়ার সময় হাত তোলা বিধর্মীদের নীতি। সুতরাং হাত তুলবে না। তবে আওয়াজ না পৌঁছার আশংকা থাকলে হাত তুলতে পারে। কিন্তু স্যালুটের মত করে হাত তুলবে না। আর মুসাফাহার সময় প্রত্যেকের এক হাত অপর ব্যক্তির দু‘হাতের মাঝখানে থাকবে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৬২৬৫)

অমুসলিমদের হ্যান্ডসেকের মত করে হাত ধরবে না। মু‘আনাকার সময় উভয় ব্যক্তি নিজের ডান গর্দান একবার মিলাবে। সাধারণত লোকেরা উভয় দিকে তিনবার সিনা মিলিয়ে থাকে এবং ঈদের দিন মু‘আনাকার ধুম পড়ে যায়। এর কোন ভিত্তি নেই।

৫. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাউকে বিদায় দেয়ার সময় মুসাফাহা করতেন এবং এই দু‘আ পড়তেনঃ

أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وأمانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ .
(আবু দাউদ, হাদীস নং- ২৬০১)

এবং যাকে বিদায় দিতেন তিনি এ দু‘আটি পড়তেনঃ

اَسْتَوْدَعْتُكَ اللَّهَ الَّذِي لَا يُضَيِّعُ وَدَائِعَهُ.
(ইবনে মাজাহ হাদীস নং- ২৮২৫)

৬. রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন পছন্দনীয় জিনিস হাসিল করলে এই দু‘আ পড়তেনঃ

اَلحَمْدُ لِلَّهِ الَّذي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ.
(ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ৩৮০৩)

৭. পক্ষান্তরে মনের ইচ্ছার ব্যতিক্রম কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে এই দু‘আ পড়তেন :الحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ.
(ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ৩৮০৩)

৮. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে এই দু‘আ পড়তেনঃ

يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، بِرَحْمَتِكَ أسْتَغِيثْ .
(তিরমিযী, হাদীস নং- ৩৫২৪)

৯. হুযুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কারো দিকে তাকাতেন, তখন সম্পূর্ণ চেহারা ঘুরিয়ে তাকাতেন। অহংকারীদের ন্যায় আড় চোখে তাকাতেন না। (শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ১)

১০. হুযুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা সৃষ্টি নীচু করে থাকতেন। অধিক লাজুক হওয়ার কারণে তিনি কারো প্রতি দৃষ্টি ভরে তাকাতে পারতেন না। (শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২)

১১. হুযুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম পথ চলার সময় কিছুটা সম্মুখ পানে ঝুঁকে চলতেন। দেখলে মনে হতো যেন তিনি উপর হতে নীচের দিকে অবতরণ করছেন। (শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ১)

১২. প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবার সাথে মিলেমিশে থাকতেন, স্বতন্ত্র মর্যাদা বজায় রেখে চলতেন না। মাঝে মাঝে তিনি হাসি-কৌতুকও করতেন। তবে সে কৌতুকও হতো বাস্তবসম্মত। কাউকে কটাক্ষ করে বা অবাস্তব কথা বলে তিনি কোন কৌতুক করতেন না।(শামায়িলে তিরমিযী,পৃ. ১৫)

বি.দ্র. হাসি কৌতুক-এর অনেক হিকমতের মধ্যে একটা হিকমত ছিল যে, এর কারণে লোকেরা নির্ভয়ে তাঁর নিকট যে কোন দীনী প্রশ্ন করার সুযোগ পেত।

১৩. কোন দুঃস্থ বা বৃদ্ধা মহিলা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলতে চাইলে, রাস্তার একপার্শ্বে গিয়ে তিনি তাদের কথা শুনতেন। (শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২২)

১৪. রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় পরিবারের লোকদের ব্যাপারেও খুব লক্ষ্য রাখতেন। যাতে তাঁর দ্বারা তাদের কোনরূপ কষ্ট না হয়। এজন্য রাতে ঘর হতে বের হওয়ার প্রয়োজন হলে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে উঠে জুতা পরিধান করতেন এবং নিঃশব্দে দরজা খুলে বের হতেন। অনুরূপভাবে ঘরে প্রবেশ করার সময়ও নিঃশব্দে প্রবেশ করতেন, যাতে ঘুমন্ত ব্যক্তিদের ঘুমের কোন প্রকার ব্যাঘাত না ঘটে।(মুসলিম, হাদীস নং- ১০৩)

১৫. কোন সন্তানের বয়স সাত বছর হলে তাকে নামায এবং শরীয়তের অন্যান্য বিধি-বিধান পালনে অভ্যস্ত করানোর নির্দেশ দিতেন। (তিরমিযী, হাদীস নং- ৪০৭)

১৬. সন্তানের বয়স দশ বছর হলে প্রয়োজনে তাকে নামাযের জন্য হাত দ্বারা (বেত বা লাঠি দ্বারা নয়) প্রহার করার তাকীদ করতেন। (তিরমিযী, হাদীস নং- ৪০৭)

১৭. সকল গোত্রের সম্মানিত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতেন। (শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২৩)

১৮. দিনের সময়কে তিন ভাগ করে এক ভাগ আল্লাহর ইবাদত এবং দীনের ফিকিরের জন্য, এক ভাগ পরিবার-পরিজনের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য এবং আরেক ভাগ ব্যক্তিগত কাজ ও নিজের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়ার তা‘লীম দিতেন।(শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২২)

১৯. রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অধিক পরিমাণ দরূদ পড়তে থাকা, প্রতিবেশীদের সাথে ভাল ব্যবহার করা, বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করা নবীজীর গুরুত্বপূর্ণ তালীম। (মুসলিম হাদীস নং- ৪০৮/ শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২৩)

২০. কোন আত্মীয়ের পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহার পেলে তাকে মাফ করে দিয়ে তার সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখা নবীজীর তরীকা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫৯৯১)

২১. সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর চাই সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক হালকা শব্দ করে তার ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত বলা, কোন বুযুর্গের মুখে চিবিয়ে খেজুর, মিষ্টিদ্রব্য বাচ্চার মুখের তালুতে লাগিয়ে দেয়া, সপ্তম দিনে তার সুন্দর নাম রাখা এবং আক্বীকা করা। (তিরমিযী, হাদীস নং- ১৫১৪, ১৫২২, ১৫১৫/ মুসলিম, হাদীস নং- ৫৬১৭)

২২.আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক সম্পর্ক রাখা এবং সর্বদা সাধ্যমত তাদের খোঁজ-খবর নেয়া। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫৯৮৭)

২৩. বোগল, নাভীর নীচের অংশ নিয়মিত পরিস্কার করে রাখা, এগুলো পরিস্কার না করা অবস্থায় চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে গুনাহগার হবে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৬২৯৭/ তিরমিযী, হাদীস নং- ২৭৫৮)

২৪. যাদের দাড়ি লম্বা হয়, তাদের দাড়ি তিন দিকে এক মুষ্টির কিছু বেশি বা কমপক্ষে এক মুষ্টি পরিমাণ রাখা ওয়াজিব। এক মুষ্টি থেকে ছোট করে রাখা বা একেবারে মুণ্ডিয়ে ফেলা হারাম। মোচ (গোঁফ) কাচি দ্বারা ছোট ছোট করে রাখা, যাতে উপরের ঠোঁটের কিনারা স্পষ্ট দেখা যায়। ব্লেড বা ক্ষুর দ্বারা মোচ একদম মুণ্ডিয়ে ফেলা অনুচিত। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫৮৯২, ৫৮৯৩)

২৫. দুর্বলদের প্রতি সুনজর রাখা। তাদের প্রতি যুলুম হতে দেখলে সাধ্যানুযায়ী তা প্রতিহত করা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ২৪৪৫)

২৬. নিজ স্ত্রীকে আনন্দ দানের জন্য তার সাথে কখনো কখনো হাসি-কৌতুক এবং খোশ গল্প করা। (শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ১৭)

২৭. মুসলমান ভাইয়ের সাক্ষাতে হাসিমুখে মিলিত হওয়া। সাক্ষাতের জন্য আগন্তুক ভাইয়ের উদ্দেশ্যে নিজস্থান থেকে সামান্য সরে গিয়ে বা অগ্রসর হয়ে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। (তিরমিযী, হাদীস নং- ১৮৩৩/ তাকমিলাতু ফাত্‌হুল্‌ মুলহিম, ৩ : ১২৭)

২৮. হাঁচি বা হাই আসলে হাত বা কাপড় দ্বারা মুখ ঢেকে নেয়া এবং যথাসাধ্য শব্দ কম করা। (আবু দাউদ, হাদীস নং- ৫০২৯)

২৯. বিধর্মীদের মত দেখা যায় বা সতর-এর আকৃতি প্রকাশ পায় বা পুরুষদের জন্য টাখনুর নীচে কাপড় পরা হারাম। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫৭৮৭/ মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ৮৬৬৫)

৩০. নীচের কয়েকটি বিষয়ের প্রতি খুব বেশি খেয়াল রাখা অপরিহার্য। কেননা, উক্ত কাজগুলোই দীনের সারমর্ম। এবং উক্ত বিষয়গুলোর ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরযে আইন।

ক. নিজের ঈমান আক্বীদা সহীহ ও মজবুত করা।

খ. ইবাদত-বন্দেগীসমূহ আমলী মশকের মাধ্যমে পরিপূর্ণ সুন্নাত অনুযায়ী শিখে নেয়া।

গ. রিযিককে হালাল রাখার ফিকির করা।

ঘ. পিতা-মাতা, স্ত্রী সন্তান থেকে নিয়ে সকল আত্মীয়-স্বজন ও মুসলমানদের হক আদায়ে সচেষ্ট থাকা। মোটকথা, বান্দার হক্বের ব্যাপারে খুব বেশি ফিকির রাখা নতুবা সমস্ত ইবাদত-এর সওয়াব শেষ হয়ে যাবে।

ঙ. নিজের আত্মার রোগের চিকিৎসার জন্য কোন হক্কানী বুযুর্গের সাথে সম্পর্ক রাখা।

চ. গুনাহে কবীরা, হারাম, মাকরূহে তাহরীমী ও মুশতাবিহ মনে হয় এমন জিনিস থেকে কঠোরভাবে পরহেয করা।

ছ. নিজের পরিবারের লোকজন,আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব ও মহল্লাবাসী লোকদেরকে সর্বদা দীনের দাওয়াত দিতে থাকা এবং তাদের দীনের তা‘লীম দিতে থাকা। সারকথা, আল্লাহর দীনের জন্য প্রতিদিন কিছু সময় বের করা। (সূরা বাক্বারা, আয়াত, ১৭৭/ তিরমিযী, হাদীস নং-২২৬৭)


নখ কাটার সুন্নাত সমূহ

নখ কাটার সুন্নাত সমূহ

১. সপ্তাহে একবার নখ কাটা। (শরহুস্‌ সুন্নাহ, হাদীস নং- ৩০৯০)

২. শুক্রবার জুমু‘আর নামাযে যাওয়ার পূর্বে নখ কাটা। (শরহুস্‌ সুন্নাহ, হাদীস নং- ৩০৯১)

৩. উভয় হাত (মুনাজাতের আকৃতিতে ধরে) ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল থেকে আরম্ভ করে ধারাবাহিকভাবে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখ কেটে শেষ করা। অতঃপর সর্বশেষে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলীর নখ কাটা। (ফাতাওয়ায়ে শামী- ৬ : ৪০৬/ ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ৫ : ৩৫৮)

৪. ডান পায়ের কনিষ্ঠাঙ্গুলি থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বাম পায়ের কনিষ্ঠাঙ্গুলির নখ কেটে শেষ করা। (শামী, ৬ : ৪০৬)


সফরের সুন্নাত সমূহ

সফরের সুন্নাত সমূহ

১. কমপক্ষে দুই ব্যক্তি এক সাথে সফরে যাওয়া, পারতপক্ষে একা সফর না করা। (তিরমিযী, হাদীস নং- ২১৬৫)

২. বাড়ী থেকে بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهْ পড়ে বের হওয়া। (আবু দাউদ, হাদীস নং- ৫০৯৫)

৩. যানবাহনের দরজায় ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে বলতে পা রাখা। (আবু দাউদ, হাদীস নং- ২৬০২)

৪. যানবাহনে ভাল ভাবে আসন গ্রহণের পর তিনবার আল্লাহু আকবার বলে এই দু‘আ পড়াঃ

اَلْحَمْدُ لِلّهِ سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنْ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ
- اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ وَسُوْءِ الْمَنْظَرِ فِيْ وَ الْمَالِ الْأَهْلِ.

(মুসলিম, হাদীস নং-১৩৪২/ নাসাঈ, হাদীস নং ৫৫১৩/ আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৯৮, ২৫৯৯)

৫. সফরে কোথাও অবস্থানের প্রয়োজন হলে, কোন জায়গায় এমনভাবে অবস্থান করা, যাতে মানুষের চলাফেরা ইত্যাদির ব্যাঘাত না ঘটে। (বুখারী, হাদীস নং- ৬২২৯)

৬. নিজে বা যানবাহন উপরের দিকে উঠতে লাগলে আল্লাহু আকবার বলা। (মুসলিম, হাদীস নং- ১৩৪৪)

৭. নিজে বা যানবাহন নীচের দিকে নামতে বা অবতরণ করতে লাগলে সুবহানাল্লাহ বলা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ২৯৯৩)

৮. দূর হতে গন্তব্যস্থান দৃষ্টিগোচর হতেই এই দু‘আ তিন বার পাঠ করাঃ

اَللّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهَا
(তাবারানী আউসাত, হাদীস নং- ৪৭৫৫)

৯. গন্তব্যস্থানে প্রবেশ কালে এই দু‘আ পড়াঃ

اَللّهُمَّ ارْزُقْنَا جَنَاهَا وَحَبِّبْنَا إلَى اَهْلِهَا وَحَبِّبْ صَالِحِىْ اَهْلِهَا إلَيْنَا.
(তাবরানী আউসাত, হাদীস নং- ৪৭৫৫)

১০. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন : সফরের কার্য শেষ হলেই তাড়াতাড়ি বাড়ী ফিরে আসবে। অযথা সফরকে দীর্ঘ করা ভাল নয়। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ১৮০৪)

১১.দীর্ঘ দিনের সফর শেষে বাড়ী প্রত্যাবর্তনকালে হঠাৎ করেই ঘরে প্রবেশ না করা। বরং প্রথমে নিজ গ্রাম বা মহল্লার মসজিদে এসে অবস্থান করা ও দু‘রাক‘আত নামায পড়া। অতঃপর বাড়ীতে আসার সংবাদ পৌঁছিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে লোকজনের সাথে সাক্ষাৎ করে নিজ বাড়ীতে প্রবেশ করা। তেমনিভাবে দীর্ঘদিন সফর হতে পিরে এসে গভীর রাতে বাড়ীতে প্রবেশ না করা। (মুসলিম, হাদীস নং- ২৭৬৯/ বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ১৮০০)

বি.দ্র. সফরের প্রোগ্রামই এরূপ বানাবে যাতে সকাল হলে বাড়ী পৌঁছা যায়। তবে ঘরের লোকদের যদি তার গভীর রাতে পৌঁছার সংবাদ জানা থাকে এবং তারা তার জন্য অপেক্ষায় থাকে, তবে রাতে এসে সরাসরি ঘরে প্রবেশ করায় কোন দোষ নেই। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫২৪৭)

১২. সফরে কুকুর, ঘুঙরু ও গলঘন্টী সঙ্গে না রাখা। কেননা, শয়তান এগুলোর পিছু নেয়, তাতে সফরের বরকত চলে যায়। উল্লেখ্য, সখ করে বাড়ীতে কুকুর পালা শরী‘আতে নিষেধ। (মুসলিম, হাদীস নং- ১৫৭৪/ মুসলিম শরীফ, হাদীস নং- ২১১৩)

১৩. সফর হতে প্রত্যাবর্তন করে এই দু‘আ পড়া : آيِبُوْنَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ.
(তিরমিযী, হাদীস নং- ৩৪৪০)


বিবাহের সুন্নাত সমূহ

বিবাহের সুন্নাত সমূহ

১. মাসনূন বিবাহ সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর হবে, যা অপচয়, অপব্যয়, বেপর্দা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি, গান-বাদ্য, ভিডিও-অডিও মুক্ত হবে এবং তাতে যৌতুকের শর্ত বা সামর্থ্যের অধিক মহরানার শর্ত থাকবে না। (তাবরানী আউসাত, হাদীস নং- ৩৬১২)

২. সৎ ও খোদাভীরু পাত্র-পাত্রীর সন্ধান করে বিবাহের পয়গাম পাঠানো। কোন বাহানা বা সুযোগে পাত্রী দেখা সম্ভব হলে, দেখে নেয়া মুস্তাহাব। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটা করে পাত্রী দেখানোর যে প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত, তা সুন্নাতের পরিপন্থী ও পরিত্যাজ্য। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪ : ২০০/ বুখারী হাদীস নং- ৫০৯০)

৩. শাওয়াল মাসে এবং জুমু‘আর দিনে মসজিদে বিবাহ সম্পাদন করা। উল্লেখ্য, সকল মাসের যে কোন দিন বিবাহ করা জায়েয আছে। (মুসলিম, হাদীস নং- ১৪২৩/ বাইহাকী, হাদীস নং- ১৪৬৯৯)

৪. বিবাহের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করে বিবাহ করা এবং বিবাহের পরে আকদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকদের মাঝে খেজুর বণ্টন করা। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং- ৫১৪৭)

৫. সামর্থ্যানুযায়ী মহর ধার্য করা।(আবু দাউদ: হাদীস নং- ২১০৬)

৬. বাসর রাতে স্ত্রীর কপালের উপরের চুল হাতে নিয়ে এই দু‘আ পড়াঃ

اَللّهُمَّ إنِّيْ أسْألُكَ مِنْ خَيْرِهَا وَخَيْرِ مَا جَبَلْتَ عَلَيْهِ . وأعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَ عَلَيْهِ.
(আবু দাউদ, হাদীস নং- ২১৬০)

৭. স্ত্রীর সঙ্গে প্রথমে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি করবে, তারপর যখনই সহবাস-এর ইচ্ছা হয়, তখন প্রথমে নিম্নোক্ত দু‘আ পড়ে নেবেঃ

بِسْمِ اللّهِ اَللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطانَ مَا رَزَقْتَنَا.
(মুসলিম, হাদীস নং- ১৪৩৪)

বি.দ্র. উপরোক্ত দু‘আ না পড়লে শয়তানের তাছীরে বাচ্চার উপর কু-প্রভাব পড়ে। অতঃপর সন্তান বড় হলে, তার মধ্যে ধীরে ধীরে তা প্রকাশ পেতে থাকে এবং বাচ্চা নাফরমান ও অবাধ্য হয়। সুতরাং পিতা-মাতাকে খুবই সতর্ক থাকা জরুরী।

৮. বাসর রাতের পর দু’হাতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং গরীব-মিসকিনদের তাওফীক অনুযায়ী ওলীমা খাওয়ানোর আয়োজন করা। (মুসলিম, হাদীস নং- ১৪২৭)

বি.দ্র. (ক) কোন পক্ষ যেওরের শর্ত করা নিষেধ এবং ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক চাওয়া হারাম। (আহসানুল ফাতাওয়া, ৫ : ১৩)

(খ) কনের ইযন-এর জন্য সাক্ষীর কোন প্রয়োজন নাই। সুতরাং ছেলের পক্ষের লোক ইযন শুনতে যাওয়া অনর্থক এবং বেপর্দা। সুতরাং তা নিষেধ। মেয়ের কোন মাহরাম বিবাহের উকিল হওয়ার অনুমতি নিবে। (মুসলিম, হাদীস নং- ১৪২১)

(গ) শর্ত আরোপ করে বরযাত্রীর নামে বরের সাথে অধিক সংখ্যক লোকজন নিয়ে যাওয়া এবং কনের বাড়ীতে মেহমান হয়ে কনের পিতার উপর বোঝা সৃষ্টি করা আজকের সমাজের একটি জঘন্য কু-প্রথা, যা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা আবশ্যক। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং- ২০৭২২/ বুখারী হাদীস নং- ২৬৯৭)

(ঘ) ওলীমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব উঁচু মানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরী নয়। বরং সামর্থ্যানুযায়ী খরচ করাই সুন্নাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট। যে ওলীমায় শুধু ধনী ও দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত করা হয়, দীনদার ও গরীব-মিসকিনদের দাওয়াত করা হয় না, সে ওলীমাকে হাদীসে নিকৃষ্টতম ওলীমা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের নিকৃষ্ট ওলীমার আয়োজন থেকে বিরত থাকা উচিত।(আবু দাউদ, হাদীস নং- ৩৭৫৪)

(ঙ) ওলীমার মজলিসে হাদিয়া লেন-দেন ঠিক নয়। কেউ হাদিয়া দিতে চাইলে নিজের সুযোগ মত পাঠিয়ে দিবে, প্রচার করবে না। গোপনে দিবে, এটাই হাদিয়ার সুন্নাত।


Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻