Showing posts with label নামাজ. Show all posts
Showing posts with label নামাজ. Show all posts

Thursday, May 13, 2021

ঈদুল ফিত্‌রের নামাজ আদায় নিয়ম:-





🌹🌻" আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ "🌺🌻

🌹সর্ব প্রথম আমি -এই গ্রুপের সকল সদস্য কে “পবিত্র ঈদুল ফিতর " উপলক্ষে  জানাই আন্তরিক "শুভেচ্ছা" ও "মোবারকবাদ " - 🌹" ঈদ মোবারক "🌹।

🕋 আল্লাহর কাছে শত কোটি শুকরিয়া যে আমরা পবিত্র মাহে রমজান সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অতিবাহিত করতে পেরেছি - আলহামদুলিল্লাহ।।।

🕌 আজকে আমরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ এর নিয়ম  সম্পর্কে জানব যে ভুল প্রায় ই আমরা নামাজে দেখে থাকি । বছরের দুটি নামাজ (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা) আদায় এর ব্যাপারে কিছু ভুল করে ফেলি যেমন তিন তকবীর এর সময় কখন হাত বাঁধতে হবে তখন আমরা ডানে বামে তাকিয়ে দেখে থাকি । যেটা আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।

🌹ঈদুল ফিতরের নামাজ :-

ঈদুল ফিত্‌র : রমজানের এক মাস রোজা ও আল্লাহ্‌র অন্যান্য ইবাদত বেশী বেশী পালন করার খুশিতে উক্ত মাস শেষ হলে শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে মুসলমানগণ যে আনন্দ-উৎসব উদযাপন করে, তা-ই ঈদুল ফিতর। এই দিন সকাল বেলা ময়দানে গিয়ে জামায়াতের সহিত সশব্দে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর ও সরবে কিরআত পাঠ-সহকারে দুই রাকআত ওয়াজিব নামাজ পড়তে হয় (শুধুমাত্র পুরুষরা)। এই নামাজকে ঈদুল ফিত্‌রের নামাজ বলে। এই নামাজে আজান ও ইকামাত নাই। সূর্যোদয়ের অল্প পর হতে দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত ঈদের নামাজের সময়। ঈদুল ফিত্‌রের দিন ভোরে ফিত্‌রা আদায় করতঃ নীরবে নিম্নলিখিত তাকবীর বলতে বলতে নামাজের ময়দানে যাওয়া এবং ফেরার সময় অন্য পথে বাড়ি ফেরা মুস্তাহাব।

ঈদুল ফিতরের তাকবীর:-
আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর। আল্লাহু আকবর। ওয়া লিল্লাহিল হামদ্‌।

❤️যেভাবে ঈদের নামাজ আদায় করবেন : -

🕋প্রথমে নিয়্যত করবেন আরবী :-

নাওয়াইতু আন্‌ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল ঈদিল্‌ ফিত্‌রি মা’আ সিত্তাতি তাক্‌বীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা’য়ালা ইক্‌তাদাইতু বিহাযাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি- আল্লাহু আকবর।

না হলে বাংলায় যার অর্থ হবে এরূপ :-
আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহ্‌র (সন্তুষ্টির) জন্য অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের দুই রাকআত ওয়াজিব নামাজ এই ইমামের পিছনে আদায়ের নিয়ত করলাম- আল্লাহু আকবর।

ঈদুল ফিত্‌রের নামাজ আদায় নিয়ম:-

প্রথমে ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত করে,
"প্রথম  তাকবীর" (আল্লাহু আকবর) বলে তাহরিমা বাঁধতে (স্বাভাবিকভাবে নাভি বরাবর হাত বেঁধে নেবেন) হবে
(অন্যান্য নামাজের নিয়ম অনুযায়ী)। ইমামের সাথে সাথে। এরপর নীরবে সুবহানাকা  পাঠ করতে হবে।

তারপর ইমাম সরবে ও মুক্তাদিগণ নীরবে পরপর তিনটি তাকবীর বলবেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দুইটি তকবীর বলার সময় উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠানোর পর নিচের দিকে ছেড়ে দিবেন (ঝুলিয়ে রাখবেন)।

চতুর্থ তাকবীরে হাত বাঁধবেন। তারপর ইমাম যথানিয়মে (অন্যান্য নামাজের নিয়ম অনুযায়ী) আউযুবিল্লাহ্‌ ও বিসমিল্লাহ্‌-সহ সূরা ফাতেহা এবং অন্য একটি সূরা পড়ে প্রথম রাকআত শেষ করবেন।

দ্বিতীয় রাকআতেও যথানিয়মে ইমাম কিরআত পাঠ করবেন। তারপর রুকুতে যাওয়ার পূর্বে তিনটি তাকবীর বলবেন এবং প্রত্যেক বার হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে আবার ছেড়ে দিবেন। চতুর্থ তাকবীর বলে রুকুতে যাবেন। অতঃপর যথানিয়মে (অন্যান্য নামাজের নিয়ম অনুযায়ী) নামাজ শেষ করবেন।  (ফতোয়া আলমগীরী, প্রথম খন্ড, ১৫০ পৃষ্ঠা)

নামাজ শেষে ইমাম মিম্বরের উপর দাড়িয়ে দুইটি খোতবা দিবেন। খোতবা দেওয়া এবং ফিত্‌রার মাসায়েল বর্ণনা করা সুন্নত। মুক্তাদিগণ তা মনোযোগসহ শুনবেন। ঈদের নামাজের খোতবা শুনা ওয়াজিব। খোতবা শেষ হলে ইমাম মুনাজাত করবেন।

ঈদের খুতবার আহকাম : নামাজের পর ইমাম সাহেব খুতবা পড়বেন। জুমার খুতবা দেওয়ার পূর্বে ইমামের মিম্বরে বসা সূন্নাত আর ঈদের নামাজে খুতবার আগে না বসা সূন্নাত। ঈদের প্রথম খুতবার পূর্বে নয় বার আর দ্বিতীয় খুতবার পূর্বে সাতবার এবং মিম্বর থেকে নামার পূর্বে চৌদ্দবার আল্লাহু আকবার বলা সূন্নত।

ঈদের মোস্তাহাব :-

১. ঈদের দিন ফজরের নামাজ মহল্লার মসজিদে পড়া, ২. ঈদের নামাজের আগে সদকায়ে ফিতর আদায় করা, 
৩. ঈদের জামাতে যাওয়ার আগে কয়েকটা খেজুর, কিংবা মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া,
৪. ঈদের নামাজ ঈদগাহে আদায় করা,
৫. ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া,
৬. এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা,
এছাড়াও চুল ও শরীরের প্রয়োজনীয় লোম কাটা, নখ কাটা, গোসল করা, মিসওয়াক করা, ভাল (নতুন) কাপড় পরিধান করা, খুশবু লাগানো, ঈদের আনন্দ প্রকাশ করা, বেশি করে সদকা দেওয়া, ঈদের আনন্দে অপরের সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গন করা, ঈদে যাওয়ার সময় নিচুস্বরে তাকবির পড়া।

হাদিসে আছে, হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- মহানবী (সা.) ঈদের দিন কয়েকটা খেজুর না খেয়ে  জামাতে আসতেন না, আর খেজুরের সংখ্যা বেজোড় হতো। (সহিহ বোখারী)

ঈদের মাসআলা-মাসাইল :-

১. মসজিদের বিছানা, চাটাই, শামিয়ানা ইত্যাদি ঈদগাহে নিয়ে যাওয়া দুরুস্ত। (ফাতাওয়ায়ে শামী-৩/৩৫৯)

২. যে ব্যক্তি দাড়ি মুন্ডায় অথবা একমুষ্ঠির কম রেখে কর্তন করে তাকে ইমাম বানানো জায়েয নেই। ঈদ এবং অন্যান্য নামাযের ক্ষেত্রে একই হুকুম। ইমামতের বেলায় উত্তরাধিকারীর দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। বরং শরী‘আতের দৃষ্টিতে ইমামতীর যোগ্য হওয়া জরুরী। (আদ্দুররুল মুখতার-২/৫৫৯)

৩. ঈদের নামাযের পূর্বে নিজ ঘরে বা ঈদগাহে ইশরাক ইত্যাদি নফল পড়া নিষিদ্ধ। ঈদের জামা‘আতের পরেও ঈদগাহে নফল নামায পড়া মাকরূহ। হ্যাঁ, ঘরে ফিরে ইশরাক, চাশত নফল পড়তে কোন অসুবিধা নেই। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৬৯)

৪. ঈদের নামাযের সালাম ফিরানোর পর মুনাজাত করা মুস্তাহাব। ঈদের খুতবার পরে মুনাজাত করা মুস্তাহাব নয়। (মুসনাদে আহমদ হাদীস-২২১৮)

৫. শর‘ঈ ওযর ব্যতীত ঈদের নামায মসজিদে আদায় করা সুন্নাতের খেলাফ। (আদ্দুররুল মুখতার)২/১৬৯)

৬. যদি ইমাম অতিরিক্ত তাকবীরসমূহ ভুল বশতঃ না বলে, আর ঈদের জামা‘আত অনেক বড় হয়, তাহলে ফেতনা ফাসাদের আশংকায় সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয় না। সুতরাং সিজদায়ে সাহু করবে না। আর যদি এমন হয় যে উপস্থিত সকলেই সিজদায়ে সাহু সম্পর্কে অবগত হতে পারে তাহলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। (আদ্দুররুল মুখতার-২/৯২)

৭. ঈদের দ্বিতীয় রাকা‘আতের রুকুর তাকবীর ওয়াজিব। যদি কোন ব্যক্তি দ্বিতীয় রাকা‘আতের রুকুতে শরীক হয় তাহলে সে প্রথমে দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলবে। অতঃপর দাঁড়ানো অবস্থায় হাত তুলে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। এরপর রুকুর তাকবীর বলে রুকুতে শামিল হবে। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৭৪)

৮. যদি কেউ প্রথম রাকা‘আতে রুকুর পূর্বে জামা‘আতে শরীক হয় এবং তাকবীরে তাহরীমার পর দাঁড়ানো অবস্থায় হাত তুলে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলার সুযোগ না পায় তাহলে রুকুতে গিয় অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। তবে সে ক্ষেত্রে কান পর্যন্ত হাত উঠাবে না। (আদ্দররুল মুখতার-১/২৭৪)

৯. যদি প্রথম রাকা‘আত ছুটে যায় তাহলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে প্রথমে, সূরা, কিরাআত পড়বে। অতঃপর রুকুর পূর্বে তিন বার হাত তুলে তিন তাকবীর দিবে। তারপর রুকুর তাকবীর বলে রুকু সিজদা করে যথা নিয়মে নামায সম্পন্ন করবে। (রুদ্দুল মুহতার-২/১৭৪)

১০. ঈদের ময়দানে জানাযার নামায পড়া জায়েয। প্রথম ঈদের নামায অতঃপর জানাযার নামায এরপর খুতবা হবে। (রদ্দুল মুহতার-৪/৩৫৬)

১১. বর্তমানে খতীব সাহেবগণ ঈদের খুতবার শুরুতে ও মাঝে মাঝে যে তাকবীরে তাশরীফ বলে থাকেন নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং এ ব্যাপারে সঠিক মাসআলা হলো, প্রথম খুতবার শুরুতে নয় বার, দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে সাত বার এবং দ্বিতীয় খুতবার শেষে মিম্বার থেকে নামার পূর্বে চৌদ্দ বার শুধু “আল্লাহু আকবার” বলবে। এটাই মুস্তাহাব। খুতবার সময় বা খুতবার মাঝে তাকবীরে তাশরীক বলবে না। হ্যাঁ, ঈদের নামায শেষে সালাম ফিরিয়ে তাকবীরে তাশরীক একবার বলবে। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৭৫)

১২. নামাযের পর ঈদের দুই খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব। যদি খুতবা শোনা না যায়, তাহলে চুপচাপ বসে থাকবে। অনেক লোক সালামের পর খুতবা না শুনেই চলে যায়। যা সুন্নাতের খেলাফ। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৫৯)

১৩. খুতবার মধ্যে মুসল্লীদের কথা বার্তা বলা নিষেধ। এমন কি নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম উচ্চারিত হলে মুখে দরূদ পড়া নিষেধ। তবে অন্তরে পড়তে পারবে। তেমনিভাবে খুতবার মধ্যে দান বাক্স বা রুমাল চালানোও নিষেধ এবং গুনাহের কাজ। (মুসনাদে আহমদ হাদীস নং-১০১৪০, আদ্দররুল মুখতার-২/১৫৯)

১৪. উভয় খুতবা শেষ হলে ঈদের নামাযের সকল কাজ শেষ হল, এরপর ঈদের আর কোন কাজ বাকী নাই। সুতরাং খুতবা শেষ হলে সকলেই নিজের বাড়িতে ফিরে আসবে। বর্তমানে দেখা যায় যে ঈদের খুতবার পরে লম্বা মুনাজাত হয়। এটা মুস্তাহাব নয়। তারপর লোকদের মধ্যে মু‘আনাকা বা কোলাকুলীর ভীড় লেগে যায় অথচ ঈদের সুন্নাতের মধ্যে কোলাকুলী করার কথা নাই। সুতরাং এটা ঈদের সুন্নাত মনে করা ভুল। বরং এটা দেখা-সাক্ষাতের সুন্নাত। কোন ভাইয়ের সাথে অনেক দিন পরে সাক্ষাত হলে প্রথমে সালাম বিনিময় করবে। তারপর মুসাফাহা করবে। তারপর কোলাকুলী করবে। সুতরাং ঈদের নামাযের পূর্বে সাক্ষাত হলে তখনই এটা সেরে ফেলবে। আর যদি ঈদের খুতবার পর এরূপ কারোর সাথে সাক্ষাত হয় তাহলে কোলাকুলী করবে। এরূপ করবে না যে, সাক্ষাত হলো নামাযের পূর্বে কিন্তু কোলাকুলী করা হলো খুতবার পরে।(ফাতাওয়ায়ে শামী-৬/৩৮১, আহসানুল ফাতাওয়া-১/৩৫৪, সিলসিলাতুল আদাবিল ইসলামিয়াহ (মাকতাবায়ে শামেলা থেকে)

আমাদের সঙ্গে থাকতে গ্রুপে জয়েন করুন-https://www.facebook.com/groups/2488624401231395/?ref=share

আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি জানার ও আমল করার তৌফিক দান করুন - আমিন ।।।



 

Sunday, May 26, 2019

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নামায পড়ার নিয়ম

(নামাযের মধ্যে যা যা করতে হবে এবং যেভাবে করতে হবে তার ধারাবাহিক বর্ণনা)

১। নামায পড়ার জন্য পবিত্র স্থানে দাঁড়ানো ফরয।

২। কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো ফরয।

৩। পা দুটো সোজা কেবলামুখী করে রাখা সুন্নত।

৪। পায়ের মাঝখানে সামনে পিছনে ফাঁক রাখবে যাতে পা সোজা কেবলামুখী থাকে।

৫। দুই পায়ের মাঝখানে হাতের মিলিত চার আঙ্গুলের পরিমান ফাঁক রাখা মোস্তাহাব।

৬। নামাযের নিয়ত বাঁধার পূর্ব পর্যন্ত হাত ছাড়া অবস্থায় রাখবে। (হাত বাঁধা মাকরুহ।)

৭। উভয় পায়ের উপর সমান ভর করে দাঁড়াবে। এক পায়ের উপর সম্পূর্ণ ভর করে দাঁড়ানো মাকরুহ।

৮। নিয়ত করার ফরয। নিয়তের ক্ষেত্রে প্রচলিত লম্বা-চওড়া বাক্য বলা নিষ্প্রয়োজনীয়। ফরযের ক্ষেত্রে শুধু কোন ওয়াক্তের ফরয তার উল্লেখ এবং সুন্নাত নফলের ক্ষেত্রে শুধু নামাযের উল্লেখ করার যথেষ্ট।

৯। নিয়তের ক্ষেত্রে হৃদয়ের অনুভূতি দ্বারা অমুক নামায পড়ছি বলে ইচ্ছে করলে এতেই যথেষ্ট হবে। নিয়ত মূলত ইরাদা বা ইচ্ছার নাম। তাই মনে মনে নিয়ত করলেই যথেষ্ট হবে। তবে মুখে নিয়ত উচ্চারন করাকে এই অর্থে উত্তম যে এতে, মনের খটকা দূর হয় এবং হৃদয়ের আকর্ষণ বেড়ে যায়।

১০। নিয়ত মুখে উচ্চারন করলে আরবীতেও করা যায়। আরবীতে করা ফরয, ওয়াজিব বা মোস্তাহাব কিছুই নয়।

১১। নিয়ত বাঁধার ক্ষেত্রে কান পর্যন্ত হাত উঠানো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। হাত উঠানোর সময় পুরুষগণ চাদর পরিহিত থাকলে তার মধ্য থেকে হাত বের করবে। মহিলাগণ কাপড়ের মধ্য থেকে হাত বের করবে না। মহিলাগণ সিনা পর্যন্ত হাত উঠাবে যেন আঙ্গুলের অগ্রভাগ কাঁধ পর্যন্ত ওঠে।

১২। পুরূষ মহিলা উভয়ের জন্য হাতের তালু আঙ্গুলের পেটসহ কেবলামুখি রাখা (উপরের দিকে নয়) সুন্নত।

১৩। হাতের আঙ্গুলসমূহকে মিলাবে না বরং আঙ্গুলসমূহের মাঝে স্বাভাবিকভাবে যেমন ফাঁক থাকবে তেমনই থাকবে। এটিই সুন্নত।

১৪। পুরূষের জন্য দুই বৃদ্ধ আঙ্গুলের অগ্রভাগ কানের লতির সাথে লাগানো মোস্তাহাব।

১৫। আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বাঁধবে। এই তাকবীর ফরয। এটাকে তাকবীরে তাহরীমা বলে।

১৬। “আল্লাহু” “আকবার” শব্দ দুটোর আলিফে জোর দিয়ে উচ্চারণ করা এবং হা কে সামান্য টানের আভাস দিয়ে উচ্চারণ করা উত্তম।

১৭। হাত উঠিয়ে কানের লতির সঙ্গে বৃদ্ধ আঙ্গুল স্পর্শ করার পর আল্লাহু আকবার বলতে শুরু করা উত্তম। হাত উঠাতে উঠাতেবা হাত উঠানো শুরু করার পূর্বেও আল্লাহু আকবার বলে নেয়া যায়।

১৮। হাত বাঁধা সম্পূর্ণ হবে, আল্লাহু আকবার বলাও শেষ হবে- এরূপ করা উত্তম।

১৯। কান থেকে হাত সোজা বাঁধার দিকে নিয়ে যাবে, হাত সোজা নিচের দিকে ছেড়ে দিবে না বা পিছনের দিকে ঝাড়া দিবে না।

২০। তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় স্বাভাবিকভাবে সোজা দাঁড়ানো থাকবে-মাথা নিচের দিকে ঝঁকাবে না।

২১। নাভের নিচে হাত বাঁধা সুন্নাত (নাভির পরেও বাধা যায়।)।

২২। ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রাখবে।

২৩। ডান হাতের বৃদ্ধ ও কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের কবজি ধরা সুন্নাত।

২৪। ডান হাতের অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের পিঠের উপর স্বাভাবিক ভাবে রাখা থাকবে। (মহিলাগণ সিনার উপর ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রেখে নিয়ত বাঁধবে। এটা সুন্নাত।)

২৫। সানা পড়া সুন্নাত।

সানা হলোঃ- “সুবহানাকা আল্লাহুমা অবিহামদিকা অতাবারা কাসমুকা অতাআলা জাদদুকা অলাইলাহা গাইরুক।“

২৬। আউযূ বিল্লাহি মিনাশ শাইওতানির রাজীম পড়া সুন্নাত।

২৭। বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম পড়া সুন্নাত।

২৮। সূরা ফাতেহার প্রত্যেক আয়াতে ওয়াকফ করে পড়া সুন্নাত।

২৯। সূরা ফাতিহার শেষে “আমিন” পড়া সুন্নাত।

৩০। একাকী নামায পড়লে “আমিন” আস্তে বলবে। ইমাম এবং মুক্তাদী হলে আমীন আস্তে বলা উত্তম।

৩১। সূরা/কিরাত মিলানোর পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়া মোস্তাহাব।

৩২। তারপর সূরা/কিরাত মিলানো ওয়াজিব।

৩৩। প্রতি পরবর্তী রাকয়াতের সূরা/কিরাত তারতীব অনুযায়ী পড়া অর্থাৎ, সামনের থেকে কোনো সূরা/কিরাত পড়া, পিছন দিক থেকে না পড়া। এই তারতীব রক্ষা করা ওয়াজিব। এর বিপরীত করলে নামায মাকরূহ হবে তবে সাজদায়ে সহো ওয়াজিব হবে না।

৩৪। অধিক সহীহ মতানুসারে এতটুকু শব্দে কিরাত পড়া যেন নিজে শব্দ শুনতে পায়। তাকবীর ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এই মাসয়ালা প্রযোজ্য।

৩৫। সূরা যিলযাল থেকে নাস পর্যন্ত-এই ছোট সূরাগুলোর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তি রাকয়াতে যেটা পড়া হয়েছে পরবর্তী রাকয়াতে একটা বাদ দিয়ে তার পরেরটা পড়বে না। ফরয এবং ওয়াজিব নামাযে এরূপ করা মাকরূহ। বাদ দিয়ে পড়তে হলে কমপক্ষে দুটো বাদ দিয়ে পরেরটা পড়া যাবে।

৩৬। সূরা/কিরাত শেষ করার পর একটু বিরতি যোগে দম নিয়ে রুকুতে যাওয়ার তাকবীর বলা সুন্নাত।

৩৭। আল্লাহু আকবার বলে হাত রুকুতে হাঁটুর দিকে নিয়ে যাবে। হাত সোজা ছেড়ে দিবে না বা পিছনের দিকে ঝাড়া দিবে না।

৩৮। রুকুর জন্য ঝোঁকার সাথে সাথে আল্লাহু আকবার বলা শুরু করবে এবং রুকুতে সোজা স্থির হওয়ার সাথে বলা শেষ হবে। এটা সুন্নাত তরিকা।

৩৯। রুকুতে পিঠ সোজা রাখা সুন্নাত।

৪০। কোমর এবং মাথা এক বরাবর রাখবে-সামনে বা পিছনে ঝঁকবে না।

৪১। পাঁজর থেকে বাহুকে পৃথক রাখবে।

৪২। রুকুতে উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ ফাঁক করে রাখা সুন্নাত।

৪৩। শক্তভাবে হাঁটু ধরা সুন্নাত।

৪৪। উভয় হাতের কনুই সোজা রাখবে-ভাজ করে রাখবে না। মহিলাগণ উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিত রেখে হাঁটুর উপর হাত রাখবে, হাঁটু ধরবে না এবং হাতের বাহু পাজরের সাথে মিলিত রেখে অল্প ঝুঁকে রুকু করবে এবং হাঁটু সামনের দিকে ঝঁকিয়ে রাখবে আর পিঠ সামান্য বাঁকা রাখবে।

৪৫। রুকুতে নজর উভয় পায়ের পাতা বা পায়ের আঙ্গুলের প্রতি নিবদ্ধ রাখা আদব।

৪৬। পুরুষগন রুকুতে দুই টাখনুকে দাঁড়ানোর অবস্থার মত পৃথক রাখবে এবং নারীগণ মিলিয়ে রাখবে।

৪৭। রুকুতে  “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম’ পড়া সুন্নাত। এই তাসবীহ তিন/পাঁচ/সাত এরূপ বেজোড় সংখ্যায় পড়া সুন্নাত। এই তাসবীহের অর্থ হল আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

৪৮। “সামিয়াল্লাহুলিমান হামিদা” (অর্থাৎ, আল্লাহ শোনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে।) বলে রুকু থেকে উঠা সুন্নাত।

৪৯। সোজা হওয়ার সঙ্গে “হামিদা” বলা শেষ হবে-এটা সুন্নাত।

৫০। রুকুর থেকে সোজা স্থির হয়ে দাঁড়ানো ওয়াজিব।

৫১। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর “ রব্বানা লাকাল হামদ” (অর্থাৎ, হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। ) বলা সুন্নাত। “রব্বানা ওলাকাল হামদ”-বলা আরও উত্তম। তার চেয়ে উত্তম “আল্লাহুমা রব্বানা লাকাল হামদ”-বলা এবং তার চেয়েও উত্তম হল “আল্লাহুমা রব্বানা ওলাকাল হামদ” বলা।

৫২। সাজদায় যাওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলা সুন্নাত।

৫৩। সাজদায় জমীনে কপাল লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে “আকবার” বলা শেষ করবে-এটা সুন্নাত তরীকা।

৫৪। সাজদায় যাওয়ার সময় উভয় হাঁটুর একত্রে, তারপর উভয় হাত একত্রে, তারপর নাক এবং তারপর কপাল জমিনে রাখবে। এই তারতীব সুন্নাত। ওজরের সময় হাঁটুর পূর্বে হাত রাখতে হলে প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত, তারপর উভয় হাঁটু একত্রে রাখবে।

৫৫। হাঁটু জমিনে লাগার পূর্বে কোমর মাথা সামনের দিকে ঝূকানো মাকরূহ; বরং কোমর সোজা রাখবে।

৫৬। সাজদায় যাওয়ার সময় হাঁটুর উপর হাত দিয়ে ভর না করা, এতে হাঁটু মাটিতে পূর্বেই কোমর ও মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। তদুপরি অনেকে এটাকে সুন্নাত মনে করে বিধায় এ থেকে বিরত থাকা উচিত।

৫৭। সাজদায় যাওয়ার সময় কাপড় নাড়াচাড়া বা টানাটানি করবে না। এরুপ করা মাকরুহ।

৫৮। সাজদায় উভয় হাতের মাঝে চেহারার চওড়া পরিমাণ ফাঁক রাখবে।

৫৯। উভয় হাতের সমস্ত আঙ্গুল খুব মিলিয়ে রাখা সুন্নাত।

৬০ উভয় হাতের সমস্ত আঙ্গুলের অগ্রভাগ কেবলামুখী রাখা সুন্নাত।

৬১। উভয় হাতের মধ্যখানে বৃদ্ধ আঙ্গুলদ্বয়ের নখ বরাবর নাক রাখবে।

৬২। নজর নাকের উপর রাখা আদব।

৬৩। দুই পায়ের টাখনু কাছাকাছি রাখবে, মিলাবে না। সাজদাতে টাখনু মিলানো বা পৃথক রাখা সম্পর্কে হাদীছে উভয় রকমের বর্ণনা পাওয়া যায়। এতদুভয়ের মাঝে সমন্বয় হল কাছাকাছি রাখবে।

৬৪। উভয় পা খাড়া রাখবে।

৬৫। পায়ের আঙ্গুলসমূহ জমিনের সাথে চেপে ধরে যথাসম্ভব আঙ্গুলের অগ্রভাগ কেবলামুখী করে রাখবে।

৬৬। কপালের অধিকাংশ ও নাক জমিনের সংঙ্গে লাগিয়ে রাখা ওয়াজিব।

৬৭। পুরুষগণ পেট রান থেকে, বাহু পাজর থেকে এবং কনুই জমিন থেকে পৃথক রাখা অবস্থায় সাজদা করবে।

৬৮। মহিলাগণ উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবে এবং পেট দুই রানের সঙ্গে এবং বাহু পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে ও কনুই পর্যন্ত হাত জমিনের সঙ্গে লাগিয়ে খুব চেপে সাজদা করবে।

৬৯। সাজদায় “সুবহানা রব্বিয়াল আলা”- (আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি) পড়া সুন্নাত। এই তাসবিহ তিন/পাঁচ/সাত-এরুপ বেজোড় সংখ্যায় পড়া সুন্নাত।

৭০। আল্লাহু আকবার বলে সেজদা থেকে উঠা সুন্নাত। উঠার সময় প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত জমিন থেকে উঠানো সুন্নাত।

৭১। সোজা হয়ে বসার সাথে সাথে আকবার বলা শেষ করবে। এটাই সুন্নাত তরীকা।

৭২। বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা সুন্নাত। মহিলাগণ দুই নিতম্বের উপর বসবে।

৭৩। বসার সময় পুরুষের জন্য ডান পা সোজা খাড়া রাখা সুন্নাত।

৭৪। ডান পা জমিনের সঙ্গে চেপে ধরে যথাসম্ভব ডান পায়ের আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে রাখা সুন্নাত। মহিলাগণ উভয় পা ডান দিকে বের করে দিবে।

৭৫। বসার সময় হাতের আঙ্গুলগুলোর মাঝে সামান্য ফাঁক রাখা মোস্তাহাব, মহিলাগণ আঙ্গুল মিলিয়ে রাখবে।

৭৬। হাতের আঙ্গুলগুলো সোজা কেবলামুখী করে রাখা মোস্তাহাব।

৭৭। হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ হাঁটুর কিনারা বরাবর রাখবে।

৭৮। বসার সময় নজর কোলের উপর নিবদ্ধ রাখা আদব।

৭৯। দুই সিজদার মাঝখানে স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব।

৮০। দ্বিতীয় সাজদা থেকেও আল্লাহু আকবার বলে উঠা সুন্নাত। উঠার সময় প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত এবং তারপর হাঁটু জমিন থেকে উঠানো সুন্নাত।

৮১। ২য় সেজদা থেকে উঠে বসা ছাড়াই দাঁড়িয়ে যাওয়া সুন্নাত।

৮২। হাঁটুর উপর হাতে ভর করে উঠা মোস্তাহাব।

৮৩। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সাথে আকবার শব্দের উচ্চারণ শেষ করবে।

৮৪। ২য় রাকাআতে ২য় সাজদা থেকে উঠে বসে তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব।

৮৫। তাশাহহুদ-এর মধ্যে (আশাহাদু আল) বলতে বলতে হাতের হলকা বাঁধা অর্থাৎ, ডান হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুলের এবং মধ্যমার অগ্রভাগকে মিলানো এবং কনিষ্ঠ ও অনামিকাকে হাতের তালুর সঙ্গে মিলানো। এটা মোস্তাহাব। “লা ইলাহা” বলতে বলতে শাহাদাত আঙ্গুলকে উপর দিকে উঠানো, এতটুকু উঠানো যেন তা অগ্রভাগ কেবলামুখী হয়ে যায়। “ইল্লাল্লাহু” বলার সময় নিচের দিকে নামানো। তবে বৈঠকের শেষ পর্যন্ত রানের সাথে না মিলিয়ে উঁচু করে রাখা নিয়ম। এই হালকা বৈঠকের শেষ পর্যন্ত রাখবে।

৮৬। তাশাহহুদের পর দুরুদ শরীফ পড়া সুন্নাত।

৮৭। তারপর দুয়ায়ে মাছুরা পড়া মোস্তাহাব।

৮৮। তারপর “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ”- বলে উভয় দিকে সালাম ফিরানো ওয়াজিব।

৮৯। সালাম ফিরানোর সময় নজর কাঁধের উপর রাখা মোস্তাহাব।

৯০। ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের ফিরিশতাকে সালাম করার নিয়ত করবে। অনুরুপ বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম দিকের ফিরিশতাকে সালামের নিয়ত করবে।

৯১। উভয় সালাম চেহারা কেবলামুখী থাকা অবস্থায় শুরু করবে। এবং কাঁধে নজর করে শেষ করবে।

৯২। দ্বিতীয় সালামকে কম দীর্ঘ করা এবং আওয়াজ নিচু করা সুন্নাত।

৯৩। সালামের সময় ঘাড় এতটুকু ফিরানো যেন (পিছনে কেউ থাকলে) তার চেহারার উক্ত পাশ দেখতে পারে।

এতক্ষণে দুই রাকয়াত নামাযের বিবরণ পেশ করা হল। তিন/চার রাকয়াত বিশিষ্ট নামায হলে দ্বিতীয় রাকায়াতের বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়ে তৃতীয় রাকায়াতের জন্য আল্লাহু আকবার বলে উঠবে। আর সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা বা নফল নামায হলে প্রথম বৈঠকে দুরুদ এবং দুয়ায়ে মাছুরাও পড়ে তারপর উঠা উত্তম। উল্লেখ্য যে, এ নিয়ম অনুযায়ি প্রথম বৈঠকে দুরুদ এবং দুয়ায়ে মাছুরা পড়ে উঠলে তৃতীয় রাকয়াতে ছানা এবং সূরা ফাতেহার পূর্বে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর পূর্বে আউযুবিল্লাহ— ও পড়া উত্তম।
তিন/চার রাকয়াত বিশিষ্ট নামায ফরয হলে তৃতীয়/চতুর্থ রাকয়াতে শুধু সুরা ফাতিহা পড়া উত্তম। আর ফরয ব্যতীত অন্যান্য নামাযে ৩য়/৪র্থ রাকয়াতে সূরা/কিরাত মিলানো ওয়াজিব।
শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দুরুদ শরীফ পড়া সুন্নাত এবং দুআয়ে মাছুরা পড়া মোস্তাহাব।
আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।


Saturday, May 25, 2019

"মুক্তাদীর জামাআতে শামিল হওয়ার বিভিন্ন অবস্থা"

"মুক্তাদীর জামাআতে শামিল হওয়ার বিভিন্ন অবস্থা"

জামাআত শুরু হয়ে যাওয়ার পর কোন নামাযী নামাযে শামিল হতে চাইলে নিয়মিত দুই হাত তুলে তাকবীরে তাহ্‌রীমা দিয়ে তাকে তাই করতে হবে, যা ইমাম করছেন। তাড়াহুড়ো না করে ইমাম যে অবস্থায় থাকবেন সেই অবস্থায় ধীরে-সুস্থ শামিল হতে হবে।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “নামাযে আসার সময় ধীর-স্থিরতার সাথে এস এবং তাড়াহুড়ো করে এসো না। এরপর যা পাবে, তা পড়ে নাও এবং যা ছুটে যাবে, তা পুরা করে নাও।” (আহমাদ, মুসনাদ, বুখারী, মুসলিম,  জামে ২৭৫নং)

তিনি বলেন, “তোমাদের কেউ নামাযে এলে এবং ইমাম কোন অবস্থায় থাকলে, সে যেন তাই করে, যা ইমাম করছে।” (তিরমিযী, সুনান, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ১১৮৮, জামে ২৬১নং)

ইমাম সির্রী নামাযে প্রথম রাকআতে কিয়াম অবস্থায় থাকলে মুক্তাদী যথানিয়মে দুই হাত তুলে তাকবীরে তাহ্‌রীমা দিয়ে ইস্তিফতাহ্‌র দুআ পড়ে ‘আঊযু বিল্লাহ্‌-বিসমিল্লাহ্‌’ পড়ে সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করবে। কিন্তু ইমামের রুকূ চলে যাওয়ার আশঙ্কা হলে কেবল ‘আঊযু বিল্লাহ্‌-বিসমিল্লাহ্‌’ পড়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। ফাতিহা পাঠ করতে করতে ইমাম রুকূ চলে গেলে পুরো না পড়েই রুকূতে যেতে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/২৫৯) এ ক্ষেত্রে ফাতিহা পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা বৈধ নয়।

জেহরী নামাযে ইমামের সূরা ফাতিহা বা অন্য সূরা পাঠ করা অবস্থায় শামিল হলে মুক্তাদী ইস্তিফতাহ্‌ বা সানা পড়বে না। বরং চুপে চুপে কেবল ‘আঊযু বিল্লাহ্‌-বিসমিল্লাহ্‌’ পড়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৩৯৪)

ইমাম রুকূতে চলে গেলে মুক্তাদী তাড়াহুড়ো না করে ধীরে-সুস্থ যথানিয়মে দাঁড়িয়ে দুইহাত তুলে তাকবীরে তাহ্‌রীমা দেওয়ার পর রুকুতে যাওয়ার তকবীর পড়ে রুকূতে যাবে এবং রুকূর তাসবীহ পাঠ করবে। অবশ্য সময় সংকীর্ণ বুঝলে কেবল তাহ্‌রীমার তকবীরই যথেষ্ট। এ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে তকবীরের পর বুকে হাতও রাখবে না এবং সানা বা ফাতিহাও পড়বে না। কারণ, ইমামের অনুসরণ জরুরী। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/২৫৫, আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/২৪২-২৪৩)

রুকূ পেলে রাকআত গণ্য :

ইমামের সাথে রুকূ পেলে রাকআত গণ্য হবে কি না সে বিষয়টি বিতর্কিত। বর্তমান বিশ্বের সত্যানুসন্ধানী উলামাগণের সুচিন্তিত মতানুসারে রুকু পেলে রাকআত গণ্য হবে।

এ ব্যাপারে যে সকল স্পষ্ট হাদীস বর্ণিত হয়েছে তাতে কিছু কিছু দুর্বলতা থাকলেও এক জামাআত সাহাবার আমল এ কথার সমর্থন করে।

এ ব্যাপারে ইবনে মাসঊদ, ইবনে উমার, যায়দ বিন সাবেত, আব্দুল্লাহ বিন আম্‌র প্রভৃতি কর্তৃক রুকূ পেলে রাকআত গণ্য হওয়ার কথা সহীহ সনদে বর্ণিত আছে। পক্ষান্তরে আবূ বাকরার সহীহ হাদীসের ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও অনেকে হাদীসটিকে রুকূ পেলে রাকআত গণ্য হওয়ার দলীল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। আবূ বাকরাহ্‌ একদা মসজিদ প্রবেশ করতেই দেখলেন নবী (সাঃ) রুকূতে চলে গেছেন। তিনি তাড়াহুড়ো করে কাতারে শামিল হওয়ার আগেই রুকূ করলেন। অতঃপর রুকূর অবস্থায় চলতে চলতে কাতারে গিয়ে শামিল হলেন। একথা নবী (সাঃ)-কে বলা হলে তিনি তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন, “আল্লাহ তোমার আগ্রহ্‌ আরো বৃদ্ধি করুন। আর তুমি দ্বিতীয় বার এমনটি করো না। (অথবা আর তুমি ছুটে এসো না। অথবা তুমি নামায ফিরিয়ে পড়ো না।)” (বুখারী, আবূদাঊদ, সুনান, মিশকাত ১১১০নং)

উক্ত হাদীসে রুকূ পেলে রাকআত পেয়ে নেওয়ার কথা ইঙ্গিতে বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া আর একটি সুন্নতের কথা বর্ণিত হয়েছে যে, যদি কেউ মসজিদে প্রবেশ করে ইমামকে রুকূর অবস্থায় দেখে তাহলে কাতারে শামিল হওয়ার আগেই তার জন্য রুকূ করা সুন্নত। তাতে যদি সে ইমামের মাথা তোলার পর কাতারে শামিল হয় তাহলেও তার ঐ রাকআত গণ্য হয়ে যাবে। (তামামুল মিন্নাহ্‌, আলবানী ২৮৬পৃ:)

ইবনুয যুবাইর (রাঃ) বলেন, “তোমাদের মধ্যে যখন কেউ মসজিদে প্রবেশ করে দেখে যে (জামাআতের) লোকেরা রুকূর অবস্থায় আছে, তাহলে সে যেন প্রবেশ করেই রুকূ করে। অতঃপর রুকূর অবস্থায় চলতে চলতে কাতারে শামিল হয়। কারণ, এটাই হল সুন্নাহ্‌।” (ত্বাবরানী, আওসাত্ব, আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফ, ইবনে খুযাইমাহ্‌, সহীহ ১৫৭১,হাকেম, মুস্তাদরাক ১/২১৪, বায়হাকী ৩/১০৬, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ২২৯নং, ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ২/২৬০-২৬৫)

মোট কথা, কেউ যদি ইমামকে রুকূর অবস্থায় পেয়ে তাঁর সাথে রুকূর (কমপক্ষে একবার) তাসবীহ পড়তে সক্ষম হয়, তাহলে তার সে রাকআত গণ্য হয়ে যাবে। কিয়াম ও সূরা ফাতিহা না পেলেও রাকআত হয়ে যাবে। সূরা ফাতিহা ছাড়া নামায হয় না। কিন্তু কিয়াম অবস্থায় পড়ার সুযোগ না পেয়ে ইমামের সাথে রুকূতে চলে গেলে মুক্তাদীর হ্‌ক্কে তা মার্জনীয়। কারণ, সাধারণ দলীল থেকে এ ব্যাপারটাও ব্যতিক্রম। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/২৪৪) পরন্তু ইচ্ছা করে যদি কেউ কিয়ামে শামিল না হয়ে (লম্বা তারাবীহ্‌র) রুকূতে শামিল হয়, তাহলে তার ঐ রাকআত হবে না। কারণ সে ইচ্ছাকৃত নামাযের একটি রুক্‌ন কিয়াম ও সূরা ফাতিহা ত্যাগ করে।

সতর্কতার বিষয় যে, ইমাম রুকূ অবস্থায় থাকলে মসজিদে প্রবেশ করে অনেক মুক্তাদী তাকে রুকূ পাইয়ে দেওয়ার আশায় গলা ঝাড়া দিয়ে ইমামকে সতর্ক করে। এমন করা বৈধ নয়।

ইমাম কওমার অবস্থায় থাকলে যথানিয়মে দাঁড়িয়ে দুইহাত তুলে তাকবীরে তাহ্‌রীমা দেওয়ার পর কওমার দুআ পাঠ করবে। এ ক্ষেত্রে আর রাকআত গণ্য হবে না।

ইমাম সিজদায় চলে গেলে যথানিয়মে দাঁড়িয়ে দুইহাত তুলে তাকবীরে তাহ্‌রীমা দেওয়ার পর (বুকেহাত না বেঁধে) আবার তকবীর বলে সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পাঠ করবে। আর এ ক্ষেত্রেও রাকআত গণ্য হবে না এবং ইমামের দ্বিতীয় রাকআতে কিয়ামে দাঁড়ানোর সময় ইস্তিফতাহও পড়বে না। বরং ‘আঊযু বিল্লাহ্‌-বিসমিল্লাহ্‌’ পড়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।

মহানবী (সাঃ) বলেন, “আমরা সিজদারত থাকা অবস্থায় তোমরা নামাযে এলে তোমরাও সিজদা কর এবং সেটাকে কিছুও গণ্য করো না।” (বুখারী ৫৫৬, মুসলিম, সহীহ ৬০৭-৬০৮, আবূদাঊদ, সুনান ৮৯৩নং)

ইমাম দুই সিজদার মাঝের বৈঠকে থাকলে মুক্তাদী যথানিয়মে দাঁড়িয়ে দুইহাত তুলে তাকবীরে তাহ্‌রীমা দেওয়ার পর পুনরায় তকবীর দিয়ে (বুকেহাত না বেঁধে) সরাসরি ইমামের মত বসে যাবে এবং ঐ বৈঠকের দুআ পাঠ করবে।

ইমাম শেষ সিজদায় থাকলেও তাঁর জন্য উঠে দাঁড়ানোর অপেক্ষা বৈধ নয়। বরং যথানিয়মে সিজদায় যেতে হবে এবং যথানিয়মে ইমামের সাথে উঠে দাঁড়িয়ে ‘আঊযু বিল্লাহ্‌-বিসমিল্লাহ্‌’ পড়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।

এখানে দাঁড়িয়ে থেকে একটা সিজদা খামাখা নষ্ট করা উচিৎ নয়। কারণ, মহানবী (সাঃ) বলেন, “তুমি আল্লাহর জন্য অধিকাধিক সিজদা করাকে অভ্যাস বানিয়ে নাও; কারণ যখনই তুমি আল্লাহর জন্য একটি  সিজদা করবে তখনই আল্লাহ তার বিনিময়ে তোমাকে এক মর্যাদায় উন্নীত করবেন এবং  তার দরুন একটি গুনাহ মোচন করবেন।” (মুসলিম, সহীহ ৪৮৮নং তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান)

আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “প্রত্যেক বান্দাই, যখন সে আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করে তখনই তার বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য একটি সওয়াব লিপিবদ্ধ করেন, তার একটি গুনাহ ক্ষালন করে দেন এবং তাকে একটি মর্যাদায় উন্নীত করেন। অতএব তোমরা বেশী বেশী করে সিজদা কর।” (ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, সহিহ তারগিব ৩৭৯নং)

বলাই বাহুল্য যে, ইমামের রুকূ থেকে মাথা তোলার পর রাকআতের কোন অংশে শামিল হলে ঐ রাকআত গণ্য হবে না। ইমাম সালাম ফিরে দিলে ঐ নামাযী সালাম না ফিরে তকবীর দিয়ে উঠে ছুটে যাওয়া ঐ রাকআত একাকী যথানিয়মে পূরণ করে সালাম ফিরবে।

অনুরুপ দ্বিতীয় রাকআতে শামিল হলে অনুরুপভাবে রাকআত গণ্য ও অগণ্য হবে।

ইমাম তাশাহ্‌হুদে থাকলে মুক্তাদী যথানিয়মে দাঁড়িয়ে দুইহাত তুলে তাকবীরে তাহ্‌রীমা দেওয়ার পর পুনরায় তকবীর দিয়ে (বুকে হাত না বেঁধে) সরাসরি ইমামের মত বসে যাবে এবং ঐ তাশাহহুদের দুআ পাঠ করবে। এর ফলে কোন কোন ৪ রাকআত বিশিষ্ট নামাযে ৩ বার, ৩ রাকআত বিশিষ্ট নামাযে ৩ থেকে ৪ বার এবং ২ রাকআত বিশিষ্ট নামাযে ২ বার তাশাহহুদ হয়ে যেতে পারে।

যেমন যোহ্‌র, আসর বা এশার নামাযের প্রথম তাশাহ্‌হুদে জামাআতে শামিল হলে মুক্তাদী ইমামের সাথে ২ রাকআত নামায পড়ে শেষ তাশাহহুদ পড়বে। আর তার হবে প্রথম তাশাহহুদ। তারপর ইমামের সালাম ফিরার পর তকবীর দিয়ে উঠে বাকী ২ রাকআত নামায পড়ে শেষ তাশাহহুদ পাঠ করবে। এইভাবে মুক্তাদীর হয়ে যাবে ৩ তাশাহহুদ।

অনুরুপভাবে দ্বিতীয় রাকআতে বা শেষ তাশাহ্‌হুদে শামিল হলে ইমামের সালাম ফিরার পর উঠে বাকী নামায আদায় করলেও যথানিয়মে তার ৩টি তাশাহহুদ হবে।

মাগরেবের নামাযের দ্বিতীয় রাকআতে রুকূর পর বা প্রথম তাশাহ্‌হুদে জামাআতে শামিল হলে ইমামের সাথে শেষের রাকআত পড়ে শেষ তাশাহহুদ পড়বে। তারপর ইমামের সালাম ফিরার পর তকবীর দিয়ে উঠে বাকী ২ রাকআত নামায পড়তে প্রথম যে রাকআত সে একাকী পড়বে সেটি তার দ্বিতীয় রাকআত। ফলে সে তার হিসাবে সে প্রথম তাশাহহুদ পড়বে। তারপর উঠে তৃতীয় রাকআত পড়ে শেষ তাশাহহুদ পাঠ করবে। এইভাবে ঐ মুক্তাদীর হয়ে যাবে ৩ রাকআতে ৪টি তাশাহহুদ।

কিন্তু এই নামাযের দ্বিতীয় রাকআতে রুকূর আগে বা রুকূতে শামিল হলে প্রত্যেক রাকআতে ১টি করে মোট ৩টি তাশাহহুদ হয়ে যাবে। যেমন শেষ তাশাহ্‌হুদে শামিল হলেও যথানিয়মে ৩টি তাশাহহুদ হবে।

ফজরের নামাযে দ্বিতীয় রাকআতে অথবা তাশাহ্‌হুদে শামিল হলে ২ রাকআত নামাযে ২টি তাশাহহুদ হয়ে যাবে।

অবশ্য তাশাহহুদ বেশী হওয়ার জন্য কোন সহু সিজদা লাগবে না।

প্রকাশ থাকে যে, মুক্তাদী ইমামের সালাম ফিরার পর উঠে একাকী যে নামায পড়বে সেগুলো তার শেষ রাকআত। অতএব শেষ রাকআত গুলো সে একাকী যে নিয়মে পড়ে ঠিক সেই নিয়মে আদায় করবে। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ১৭/৬৬, ১৮/১০৭, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩০৮) জেহরী নামায হলে জেহরী ক্বিরাআতে যদি পাশের নামাযীর ডিষ্টার্ব না হয়, তাহলে জেহরী, নচেৎ সির্রী ক্বিরাআত করে নামায শেষ করবে। যেহেতু একাকী নামাযে জোরে জোরে ক্বিরাআত বাধ্যতামূলক নয়। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩৪০)

ইমাম সালাম ফিরে দিলে আর জামাআতে শামিল না হয়ে অন্য নামাযী থাকলে তাকে নিয়ে দ্বিতীয় জামাআত করে নামায পড়বে।

ইমাম প্রথম সালাম ফিরে শেষ করলেই মসবূক নিজের বাকী নামায পড়ার জন্য উঠতে পারে। কারণ, এক সালামেও নামায হয়ে যায়। তবে সতর্কতার বিষয় যে, তাঁর সালাম শুরু করার সাথে সাথে উঠবে না। পক্ষান্তরে অনেকে বলেছেন, ইমাম যতক্ষণ দ্বিতীয় সালাম থেকে ফারেগ না হয়েছেন, ততক্ষণ উঠা বৈধ নয়। ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন, কোন মসবূক যেন ইমামের উভয় সালাম ফিরে শেষ না করা পর্যন্ত তার বাকী নামায আদায় করতে না উঠে। (মুখতাসারু মুখালাফাতু ত্বাহারাতি অসস্বালাহ, আব্দুল আযীয সাদহান ৪১পৃ:) মহানবী (সাঃ) বলেন, “হে লোক সকল! আমি তোমাদের ইমাম। অতএব আমার আগে তোমরা রুকূ করো না, সিজদা করো না, বসো না এবং সালাম ফিরো না।” (আহমাদ, মুসনাদ, মুসলিম, সহীহ)

অনেকে বলেছেন, ইমামের দুই সালাম ফিরার আগে উঠে গেলে মসবূকের নামায বাতিল হয়ে যাবে। (ফাতাওয়াশ শায়খ ইবনি সা’দী ১৭৪পৃ:, মুখালাফাত ফিত্বাহারাতি অসস্বালাহ্‌ ৯৬-৯৭পৃ:) অতএব নামাযী সাবধান!


⏹️নামাজের ছানা আত্তাহিয়া, দরুদ শরীফ, দোয়ায়ে মাসুরা :-

⏹️নামাজের ছানা আত্তাহিয়া, দরুদ শরীফ, দোয়ায়ে মাসুরা :-


سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَا لَى جَدُّكَ وَلاَ اِلَهَ غَيْرُكَ

⏺️উচ্চারণ: সুবাহানাকা আল্লাহুমা ওয়া বিহামদিকা ওয়াতাবারা কাসমুকা ওয়া তায়ালাজাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা।

↪️অনুবাদ: হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র সকল প্রশংসা তোমারই। তোমার নাম মঙ্গলময়। তোমার মহিমা অতীব উচ্চ। তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই।

➡️আত্তাহিয়াতু

اَلتَّحِيَّاتُ لِلهِ وَالصَّلَوَاةِ وَالطَّيِّبَاتُ اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُه‘ – اَلسَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّا لِحِيْنَ
– اَشْهَدُ اَنْ لاَّ اِلَهَ اِلاَّ اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدً عَبْدُه‘ وَرَسَوْلُه‘

⏺️উচ্চারন: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত্তায়্যেবাতু আস্-সালামু আলাইকা আইয়ু্যহান্নাবীয়ু্য ওয়া রামাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আস্-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল-লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।

↪️অনুবাদ: জান এবং মাল সর্বপ্রকার ইবাদতই আল্লাহর জন্য। হে পয়গাম্বর, আপনার উপর আল্লাহর কৃপা, বরকত এবং শান্তি বর্ষিত হইক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর পূণ্যবান বান্দাগণের উপর শান্তি বর্ষিত হউক। আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কেহ উপাস্য নাই। আমি আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, নিশ্চই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) তাঁহার বান্দা ও রাসূল।

➡️দুরূদ শরীফ

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى اِبْرَ اهِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَ اهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى اِبْرَ اهِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَاهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌمَّجِيْدٌ

⏺️উচ্চারনঃ আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজীদ । আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ ।

↪️অনুবাদঃ যে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর ঐরূপ আশীর্বাদ অবতীর্ণ কর যেইরূপ আর্শীবাদ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর অবতীর্ণ করিয়াছ । নিশ্চই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম । হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর সেইরূপ অনুগ্রহ কর যে রূপ অনুগ্রহ ইব্রাহীম (আঃ) এবং তাঁহার বংশরগণের উপর করিয়াছ । নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম।

➡️দোয়ায়ে মাসুরা

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِىْ وَلِوَ الِدَىَّ وَلِمَنْ تَوَالَّدَ وَلِجَمِيْعِ الْمُؤْ مِنِيْنَ وَالْمُؤْ مِنَاتِ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالاْاَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالْاَمُوْ اَتْ بِرَحْمَتِكَ يَااَرْحَمَرَّحِمِيْنَ

⏺️উচ্চারনঃ আল্লাহুমাগ ফিরলী ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিমান তাওয়াল্লাদা ওয়ালি জামীঈল, মু’মিনীনা ওয়াল মুমিনাত, ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত, ওয়াল আহ্ইয়ায়ি মিনহুম ওয়াল আমুয়াত, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।


↪️অনুবাদঃ হে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা! আমাকে, আমার পিতা মাতাকে, সন্তান-সন্ততিকে, সমস্ত মু’মিন পুরুষ ও নারীকে এবং জীবিত মৃত সমস্ত মুসলিম নর-নারীকে ক্ষমা কর।


দোয়া সমুহ:-

سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَا لَى جَدُّكَ وَلاَ اِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ: সুবাহানাকা আল্লাহুমা ওয়া বিহামদিকা ওয়াতাবারা কাসমুকা ওয়া তায়ালাজাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা।
অনুবাদ: হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র সকল প্রশংসা তোমারই। তোমার নাম মঙ্গলময়। তোমার মহিমা অতীব উচ্চ। তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই।

আত্তাহিয়াতু

اَلتَّحِيَّاتُ لِلهِ وَالصَّلَوَاةِ وَالطَّيِّبَاتُ اَلسَّلاَمُ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُه‘ – اَلسَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّا لِحِيْنَ – اَشْهَدُ اَنْ لاَّ اِلَهَ اِلاَّ اللهُ وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدً عَبْدُه‘ وَرَسَوْلُه‘
উচ্চারন: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত্তায়্যেবাতু আস্-সালামু আলাইকা আইয়ু্যহান্নাবীয়ু্য ওয়া রামাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আস্-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল-লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।

অনুবাদ: জান এবং মাল সর্বপ্রকার ইবাদতই আল্লাহর জন্য। হে পয়গাম্বর, আপনার উপর আল্লাহর কৃপা, বরকত এবং শান্তি বর্ষিত হইক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর পূণ্যবান বান্দাগণের উপর শান্তি বর্ষিত হউক। আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কেহ উপাস্য নাই। আমি আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, নিশ্চই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) তাঁহার বান্দা ও রাসূল।

দুরূদ শরীফ

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى اِبْرَ اهِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَ اهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ
اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى اِبْرَ اهِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَاهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌمَّجِيْدٌ
উচ্চারনঃ আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজীদ । আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ ।

অনুবাদঃ যে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর ঐরূপ আশীর্বাদ অবতীর্ণ কর যেইরূপ আর্শীবাদ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর অবতীর্ণ করিয়াছ । নিশ্চই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম । হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর সেইরূপ অনুগ্রহ কর যে রূপ অনুগ্রহ ইব্রাহীম (আঃ) এবং তাঁহার বংশরগণের উপর করিয়াছ । নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম।

দোয়ায়ে মাসুরা

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِىْ وَلِوَ الِدَىَّ وَلِمَنْ تَوَالَّدَ وَلِجَمِيْعِ الْمُؤْ مِنِيْنَ وَالْمُؤْ مِنَاتِ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالاْاَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالْاَمُوْ اَتْ بِرَحْمَتِكَ يَااَرْحَمَرَّحِمِيْنَ
উচ্চারনঃ আল্লাহুমাগ ফিরলী ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিমান তাওয়াল্লাদা ওয়ালি জামীঈল, মু’মিনীনা ওয়াল মুমিনাত, ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত, ওয়াল আহ্ইয়ায়ি মিনহুম ওয়াল আমুয়াত, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

অনুবাদঃ হে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা! আমাকে, আমার পিতা মাতাকে, সন্তান-সন্ততিকে, সমস্ত মু’মিন পুরুষ ও নারীকে এবং জীবিত মৃত সমস্ত মুসলিম নর-নারীকে ক্ষমা কর।


প্রয়োজনীয় ছোট সুরা :-

প্রয়োজনীয় ছোট সুরা :-



সুরা আল ফাতিহা (সূচনা)

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আর রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াওমিদ্দিন। ই্‌য়াকানাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাইন। ইহ দিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম। সিরাতাল লাযিনা আনআমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দুয়ালিন।

অর্থ-পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ্‌রই, যিনি পরম করুণাময়, পরম দয়াময় যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

সূরা আল ইখলাস (একত্ব)

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ক্বুলহু আল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

অর্থ-পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

সূরা আল ফালাক (নিশিভোর)

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ক্বুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। মিন শাররি মাখালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গাসিক্বিন ইযা অক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফ্‌ফাসাতি ফিল্‌ উকাদ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।

অর্থ-পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

সূরা নাসর (স্বর্গীয় সাহায্য)

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ইযা জাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহু। ওয়ারা আইতান নাসা ইয়াদ খুলুনা ফি দিনিল্লাহি আফওয়াজা। ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াসতাগফিরহু। ইন্নাহুকানা তাওওয়াবা।

অর্থ-পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।

সূরা আল কাওসার (প্রাচুর্য)

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ইন্না আতাইনা কাল কাওসার। ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ান হার। ইন্না শানিয়াকা হুয়াল আবতার।

অর্থ-পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ।

সূরা আল কুরাইশ (কুরাইশ গোত্র)

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
লি-ঈলাফি কুরাইশিন। ঈলাফিহিম রিহলাতাশ শিতায়ি ওয়াস সাইফ। ফাল ইয়াবুদু রাব্বা হাযাল বাইত। আল্লাযি আত আমাহুম মিন জুয়েঁউ ওয়া আমানাহুম মিন খাউফ।

অর্থ-পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
কোরাইশের আসক্তির কারণে, আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের। অতএব তারা যেন এবাদত করে এই ঘরের পালনকর্তার যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।

সূরা নাস (মানবজাতি)

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ক্বুল আউযু বিরাব্বিন নাস। মালিকিন্নাস। ইলাহিন্নাস। মিন শাররীল ওয়াস ওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযি ইউওয়াস ভিসু ফী সুদুরিন্নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।

অর্থ-পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার। মানুষের অধিপতির, মানুষের প্রভুর, তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্মগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

সূরা আসর (সময়)

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
ওয়াল আসরি। আন্নাল ইনসানা লাফী খুস্‌রিন। ইল্লাল্লাযীনা আমানু ওয়া আমিলুস সালিহাতি। ওয়া তাওয়াসাও বিল কাককি। ওয়া তাওয়াসাও বিল সাবর।

অর্থ-পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
কসম যুগের (সময়ের), নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।

সূরা লাহাব (জ্বলন্ত অংগার)

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
তাব্বাৎ ইয়াদা আবি লাহাবেউ ওয়াতাব্বা মা আগনা আনহু মালুহু ওয়ামা কাছাব। ছাইয়াছলা নারান জাতা লাহাবিউ ওয়ামরা আতুহু হাম্মালাতাল হাতাব। ফী জীদিহা হাবলুম মিম মাছাদ।

অর্থ-পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে, কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে এবং তার স্ত্রীও – যে ইন্ধন বহন করে, তার গলদেশে হবে এক খর্জুরের রশি ।

সুরা কাফিরুন (অবিশ্বাসী গোষ্ঠী)

বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
কুল ইয়া আইউহাল কাফিরূন। লা আ’বুদু মাতাবুদুন। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আবুদ। ওয়া লা আনা আবিদুনা মা আবাদতুম। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মাআবুদ। লাকুম দীনুকুম ওয়ালীয়া দ্বীন।

অর্থ-পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
বলুন, হে কাফেরকূল, আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।


⏹️নামাজের প্রয়োজনীয় কয়েকটি ছোট সুরা :-

⏹️নামাজের প্রয়োজনীয় কয়েকটি ছোট সুরা :-

⏺️আল্লাহ তাআলা  ঈমানদার বান্দাদের ওপর প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। কিন্তু এ কথা সত্য যে, কুরআন তেলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ নামাজ আদায় করার আমাদেরকে জন্য অবশ্যই কুরআন শিখতে হবে। তাই নামাজে প্রয়োজনীয় এমন কয়েকটি সুরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ আজকের আলোচনায় পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। 

১➡️সুরা আল ফাতিহা বাংলা উচ্চারণ : -

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আর রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াওমিদ্দিন। ই্য়াকানাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাইন। ইহ্ দিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম। সিরাতাল লাযিনা আনআমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দুয়ালিন। 

↪️অর্থ : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই, যিনি পরম করুণাময়, পরম দয়াময় যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই এবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। 

২➡️সুরা ইখলাস বাংলা উচ্চারণ :বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। ক্বুলহু আল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। 

↪️অর্থ : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। 

৩➡️সুরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ :বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। ক্বুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। মিন শাররি মাখালাক্ব। ওয়া মিন শাররি গাসিক্বিন ইযা অক্বাব। ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফাসাতি ফিল্ উকাদ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ। 

↪️অর্থ : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে। 

৪➡️সুরা নাসর বাংলা উচ্চারণ :বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। ইযা জাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহু। ওয়ারা আইতান নাসা ইয়াদ খুলুনা ফি দিনিল্লাহি আফওয়াজা। ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াসতাগফিরহু। ইন্নাহুকানা তাওওয়াবা। 

↪️অর্থ : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী। 

৫➡️সুরা কাউসার বাংলা উচ্চারণ :বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। ইন্না আতাইনা কাল কাওসার। ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ান হার। ইন্না শানিয়াকা হুয়াল আবতার। 

↪️অর্থ : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়–ন এবং কোরবানী করুন। যে আপনার শত্রু, সে-ই তো লেজকাটা, নির্বংশ। 

৬➡️সুরা কুরাইশ বাংলা উচ্চারণ :বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। লি-ঈলাফি কুরাইশিন। ঈলাফিহিম রিহলাতাশ শিতায়ি ওয়াস সাইফ। ফাল ইয়াবুদু রাব্বা হাযাল বাইত। আল্লাযি আত আমাহুম মিন জুয়েঁউ ওয়া আমানাহুম মিন খাউফ। 

↪️অর্থ : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। কোরাইশের আসক্তির কারণে, আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের। অতএব তারা যেন এবাদত করে এ ঘরের পালনকর্তার যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন। 

৭➡️সুরা নাস বাংলা উচ্চারণ :বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। ক্বুল আউযু বিরাব্বিন নাস। মালিকিন্নাস। ইলাহিন্নাস। মিন শাররীল ওয়াস ওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযি ইউওয়াস ভিসু ফী সুদুরিন্নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস। 

↪️অর্থ : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার। মানুষের অধিপতির, মানুষের প্রভুর, তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্মগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

৮➡️ সুরা আসর বাংলা উচ্চারণ :বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। ওয়াল আসরি। আন্নাল ইনসানা লাফী খুস্রিন। ইল্লাল্লাযীনা আমানু ওয়া আমিলুস সালিহাতি। ওয়া তাওয়াসাও বিল কাককি। ওয়া তাওয়াসাও বিল সাবর। 

↪️অর্থ : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। কসম যুগের (সময়ের), নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের। 

৯➡️সুরা লাহাব বাংলা উচ্চারণ :বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। তাব্বাৎ ইয়াদা আবি লাহাবেউ ওয়াতাব্বা মা আগনা আনহু মালুহু ওয়ামা কাছাব। ছাইয়াছলা নারান জাতা লাহাবিউ ওয়ামরা আতুহু হাম্মালাতাল হাতাব। ফী জীদিহা হাবলুম মিম মাছাদ। 

↪️অর্থ : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে, কোনো কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে এবং তার স্ত্রীও- যে ইন্ধন বহন করে, তার গলদেশে হবে এক খর্জুরের রশি । 

১০➡️সুরা কাফিরুন বাংলা উচ্চারণ :বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। কুল ইয়া আইউহাল কাফিরূন। লা আ’বুদু মাতাবুদুন। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আবুদ। ওয়া লা আনা আবিদুনা মা আবাদতুম। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মাআবুদ। লাকুম দীনুকুম ওয়ালীয়া দ্বীন। 

↪️অর্থ : পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। বলুন, হে কাফেরকূল, আমি এবাদত করি না, তোমরা যার এবাদত করো। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে। 


দোয়া কুনুত

দোয়া কুনুত

 

আরবি উচ্চারন বাংলায় অনেক সময় ভুল থাকে।তাই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, যখন বাংলায় উচ্চারন শিখবেন তখন অবশ্যই আরবির সাথে মিলিয়ে নিবেন। আর যদি কেউ আরবি দেখে পড়তে না পারেন তাহলে অবশ্যই অডিও শোনে বাংলার সাথে মিলিয়ে নিবেন। ধন্যবাদ সবাইকে

اَللَّهُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা ওয়ানুমিনু বিকা ওয়ানাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাসকুরুকা আলা নাক ফুরুকা ওয়ানাখলাউ উয়ানাত রুকু মাইয়্যাফযুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা বুদু ওয়ালাকা নুছালি্ল ওয়া নাস জুদু ওয়া ইলাইকা নাসয়া ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আজাবাকা ইন্না আজাবাকা বিলকুফফারি মূলহিক।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করিতেছি, তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি, তোমার ভরসা করিতেছি। তোমার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করিতেছি, তোমার উপর ঈমান আনিতেছি, তোমার ভরসা করিতেছি তোমার গুণগান করিতেছি এবং তোমারই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। আমরা তোমাকে অস্বীকার করি না। যাহারা তোমার হুকুম অমান্য করে তাহাদের সঙ্গে আমরা সংশ্রব সংসগ্র পরিত্যাগ করি। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই ইবাদত করি, তোমারই খেদমতে হাজির হই এবং তোমার রহমতের আশা করি ও তোমার শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চই তোমার আজাব অবিশ্বাসিগণ ভোগ করিবে।


দরূদ শরীফ

দরূদ শরীফ

 

আরবি উচ্চারন বাংলায় অনেক সময় ভুল থাকে।তাই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, যখন বাংলায় উচ্চারন শিখবেন তখন অবশ্যই আরবির সাথে মিলিয়ে নিবেন। আর যদি কেউ আরবি দেখে পড়তে না পারেন তাহলে অবশ্যই অডিও শোনে বাংলার সাথে মিলিয়ে নিবেন। ধন্যবাদ সবাইকে

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ- اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ-

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ছাল্লে ‘আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া ‘আলা আ-লে মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লায়তা ‘আলা ইবরা-হীমা ওয়া ‘আলা আ-লে ইব্রা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক ‘আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া ‘আলা আ-লে মুহাম্মাদিন কামা বা-রক্তা ‘আলা ইব্রা-হীমা ওয়া ‘আলা আ-লে ইব্রা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ ।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি রহমত বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপরে, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের উপরে। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! আপনি বরকত নাযিল করুন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপরে, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের উপরে। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত’।


তাশাহহুদ

তাশাহহুদ

 

আরবি উচ্চারন বাংলায় অনেক সময় ভুল থাকে।তাই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, যখন বাংলায় উচ্চারন শিখবেন তখন অবশ্যই আরবির সাথে মিলিয়ে নিবেন। আর যদি কেউ আরবি দেখে পড়তে না পারেন তাহলে অবশ্যই অডিও শোনে বাংলার সাথে মিলিয়ে নিবেন। ধন্যবাদ সবাইকে

اَلتَّحِيَّاتُ ِللهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ-

উচ্চারণঃ

আত্তাহিইয়া-তু লিল্লা-হি ওয়াছ্ ছালাওয়া-তু ওয়াত্ ত্বাইয়িবা-তু আসসালা-মু ‘আলায়কা আইয়ুহান নাবিইয়ু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু। আসসালা-মু ‘আলায়না ওয়া ‘আলা ‘ইবা-দিল্লা-হিছ ছা-লেহীন। আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আনণা মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহু ।

অর্থ:

যাবতীয় সম্মান, যাবতীয় উপাসনা ও যাবতীয় পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপরে শান্তি বর্ষিত হৌক এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও সমৃদ্ধি সমূহ নাযিল হউক। শান্তি বর্ষিত হউক আমাদের উপরে ও আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাগণের উপরে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল’ (বুঃ মুঃ)।


দো'আয়ে মাসূরাহ

দো'আয়ে মাসূরাহ

 

আরবি উচ্চারন বাংলায় অনেক সময় ভুল থাকে।তাই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, যখন বাংলায় উচ্চারন শিখবেন তখন অবশ্যই আরবির সাথে মিলিয়ে নিবেন। আর যদি কেউ আরবি দেখে পড়তে না পারেন তাহলে অবশ্যই অডিও শোনে বাংলার সাথে মিলিয়ে নিবেন। ধন্যবাদ সবাইকে

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمًا كَثِيْرًا وَّلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدَكَ وَارْحَمْنِيْ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ-

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী যালামতু নাফ্সী যুলমান কাছীরাঁও অলা ইয়াগ্ফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা, ফাগ্ফিরলী মাগফিরাতাম মিন ‘ইনদিকা ওয়ারহাম্নী ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর রহীম’ ।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আমার নফসের উপরে অসংখ্য যুলুম করেছি। ঐসব গুনাহ মাফ করার কেউ নেই আপনি ব্যতীত। অতএব আপনি আমাকে আপনার পক্ষ হ’তে বিশেষভাবে ক্ষমা করুন এবং আমার উপরে অনুগ্রহ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান’।


নামাজের তাসবিহ (ছানা, রুকু ও সিজদাহ)

নামাজের তাসবিহ (ছানা, রুকু ও সিজদাহ)

 

★★★ কি বলছি, কি করছি তা কিছুই জানি না। অধিকাংশ মানুষই নামাজে যে সুরা সমুহ ও তাসবিহ গুলো পড়ছে তার অর্থ জানেনা। যার কারনে নামাজে অমনযোগী হয়। মনে হয় যে তোতা পাখির মত শুধু বলেই যাচ্ছি, কিন্তু কি বলছি কিছুই জানি না, তাহলে নামাজের মাঝে আল্লাহর প্রতি বিনয়, শ্রদ্ধা, ভয়, আত্ম-সমর্পন আসবে কিভাবে?

অথচ আল্লাহ সুবহানাতা’আলা বলেছেন
“ধবংস ওই নামাজি যে তার নামাজ সম্পর্কে বেখবর।”

নামাজে মনোযোগ আনতে হলে অবশ্যই নামাজে কি কি করছি তার অর্থ ভাল ভাবে জানতে হবে, বুঝতে হবে। অর্থ যদি জানা থাকে এবং তা লক্ষ্য করে নামায আদায় করি, তাহলে আমাদের নামায আরো সুন্দর হবে।

নিয়তঃ

“আমি কিবলামুখি হয়ে (ফজর /যোহর/আসরের ………) দুই/তিন/চার রাকাত ফরয/ওয়াজিব/সুন্নত/নফল আদায়ের উদ্দেশ্য নিয়ত করলাম” তারপর “আল্লাহু আকবার”(আল্লাহ মহান) বলে দুহাত বাধতে হবে। - শুরু হয়ে গেল নামাজ।

ছানাঃ

সুবহানাকা আল্লাহুম্মা বিহামদিকা(সমস্ত প্রশংসা পবিত্র আল্লাহ’র জন্য) ওয়াতাবারা কাসমুকা(তোমার নাম বরকতময়) ওয়াতা আলা জাদ্দুকা(তুমি মহান মর্যাদার অধিকারি) ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা (তুমি ব্যতিত অন্য কোন উপাস্য নেই)।

তাআ’উযঃ

আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম (আল্লাহ’র কাছে পানাহ চাচ্ছি বিতারিত শয়তান থেকে)

তাসমিয়াঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম(পরম করুনাময় আল্লাহ’র নামে শুরু করছি)
তারপর সুরা ফাতিহা এবং অন্য সুরা মিলিয়ে পরতে হবে। “আল্লাহু আকবার” বলে রুকুতে যাবে।

রুকু’র তাসবিহঃ

সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম (আমার মহান মর্যাদাশীল প্রভুর পবিত্রতা বর্ননা করছি)/( ‘আমার মহান প্রভু সকল দোষ – ত্রুটি থেকে পবিত্র।’)
রুকু থেকে দাঁড়িয়ে তাসমি পাঠ করবে।

তাসমিঃ

সামি আল্লাহুলিমান হামিদাহ (যে আল্লাহ’র প্রশংসা করে তিনি তা শোনেন)
তারপর

তাহমিদঃ

রাব্বানা লাকাল হামদ(সকল প্রশংসা আল্লাহ’র জন্য)
তারপর সিজদা। সিজদার সময় পরিপুর্ন ভাবে খেয়াল রাখবে যে, আমি আল্লাহ’র কাছে পুর্নভাবে আত্মসমর্পন করছি।

সিজদার তাসবিহঃ

সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা (আমার শ্রেষ্ঠ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ননা করছি)
দুই সাজদার মধ্যবর্তী

দু’আ: আল্লাহু ম্মাগ ফিরলী ওয়ার হামনি ওয়ার যুক্কনী

অর্থ : ‘আয় আল্লাহ ! আমাকে মাফ করে দাও, আমার প্রতি দয়া করো, আমাকে সঠিক পথে চালাও, আমাকে সুস্থ রাখো এবং আমাকে জীবিকা দান করো।’

এভাবে নামাজের দু’রাকাত শেষে তাশাহুদ এবং চার রাকাত শেষে তাশাহুদের সাথে দুরুদ শরিফ ও দুয়া মাছুরা পরতে হয়।


নামাজ পড়িবার নিয়ম নিচে ক্রমানুসারে বর্ণনা করা হল :

১. গোসল বা ওজু বা তায়াম্মুম করে পাক-পবিত্র হবেন।
২. সাংসারিক চিন্তা-ভাবনা ভুলে একমাত্র প্রতিপালক আল্লাহ দিকে মনোনিবেশ করে কেবলামুখী (পশ্চিমমুখী) হয়ে দাড়াবেন।
৩. নামাজের নিয়ত করিবেন (নিয়তস করা জরূরী পড়া নয়)
৪. আল্লাহ আকবার- বলে উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে কান স্পর্শ করে হাত বাঁধবেন। হাত বাঁধার জন্য বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে, ডান হাতের কনিষ্ঠ ও বৃদ্ধাঙ্গুল দ্বারা বাম হাতের কব্‌জি ধরবে এবং ডান হাতের বাকি তিনটি আঙ্গুল বাম হাতের উপর প্রসারিত থাকবে।
৫. এবার চুপে চুপে সানা (সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবিহাম-দিকা ওয়াতাবারাকাসমুকা ওয়াতা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা) পাঠ করবেন।
৬. আউ’জু বিল্লাহি মিনাস শয়তানির রাযিম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম- পাঠ করিবেন। এরপর সূরা ফাতেহা পাঠ করবেন। সূরা ফাতেহা নিচে দেওয়া হয়েছে।
৭. এবার অন্য একটি সূরা পাঠ করবেন। তবে যদি ইমামের পিছনে নামাজ পরেন তাহলে চুপ করে থাকবেন। সূরাসমূহ নিচে দেওয়া হয়েছে।
৮. আল্লাহ আকবার বলে রুকুতে যাবেন। রুকুর সময় দু হাত হাঁটুর উপর এমনভাবে রাখবেন যেন গিরার উপর ভর পরে। মাথা, ঘাড় ও পিঠ এক বরাবর থাকবে। রুকুতে থাকা অবস্থায় তিন বার অথবা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক বেজোর বার রুকুর তাসবীহ অর্থাৎ সূবাহানা রাব্বিয়াল আযীম- এই দোয়া পাঠ করবেন। রুকুর তাসবীহ পাঠ শেষে সোজা হয়ে দাড়াবেন।
৯. রুকুর তাসবীহ পাঠ শেষে সোজা হয়ে দাড়াবেন এবং সামি আল্লাহুলিমান হামিদা এবং রাব্বানা লাকাদ হামদ্‌- বলবেন। তবে ইমামের পিছনে নামাজ পড়লে ইমাম প্রথমে- সামি আল্লাহুলিমান হামিদা- বলবেন, এরপর আপনি শুধু -রাব্বানালাকাদ হামদ্‌- বলবেন।
১০. এবার আল্লাহ আকবার বলে সিজাদায় যাবেন। সিজদার সময় কপাল, নাক, দুই হাত, হাঁটু ও দুই পা মাটির স্থিরভাবে লেগে থাকবে। সিজদায় থাকা অবস্থায় তিন বার বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক বেজোর বার সিজদার তাসবীহ অর্থাৎ সূবাহানারাব্বিয়াল আলা- এই দোয়া পাঠ করবেন। এরপর সিজদা থেকে উঠে সোজা হয়ে বসবেন। এরপর আবার সিজদায় যাবেন এবং পূর্বের ন্যায় সিজদার তাসবীহ পাঠ করবেন। দ্বিতীয় সিজদা শেষ হলে সোজা হয়ে দাড়াবেন।
১১. এবার প্রথম রাকাতের নিয়মে সূরা ফাতেহা ও তার সাথে অন্য সূরা (ইমামের পিছনে হলে চুপ থাকবেন) পাঠ করবেন। এরপর রুকু ও সিজদা শেষ হলে বসুন এবং তাশাহুদ পাঠ করুন। এরপর নামাজ যদি দুই রাকাতের হয় তবে দরুদ ও দোয়া মাসুরা পাঠ করুন। আর নামাজ যদি তিন বা চার রাকাতের হয় তবে শুধু তাশাহুদ পাঠ শেষে উঠে দাড়ান এবং বাকি নামাজ শেষ করুন। এক্ষেত্রে সুন্নত নামাজ হলে বাকি রাকাতসমূহ পূর্বের ন্যায় শেষ করতে হবে। আর যদি ফরজ নামাজ হয় তাহলে শুধু সূরা ফাতেহা পাঠ করতে হবে অর্থাৎ বাকি রাকাতে সূরা ফাতেহার সাথে অন্য কোনো সূরা পাঠ করতে হবে না। শেষ রাকাতে সিজদা শেষে বসে যথাক্রমে তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পাঠ করুন। তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা নিচে দেওয়া হয়েছে।
১২. শেষ রাকাতে দোয়া মাসুরা পাঠ শেষ হলে প্রথমে ডান দিকে মাথা ঘুরিয়ে সালাম ফিরান অর্থাৎ বলুন - আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। এরপর বাম দিকে মাথা ঘুরিয়ে বলুন - আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। এভাবে নামাজ শেষ করুন।


মাসবুক এর নিয়ম

• মাসবুক কি ?

জামাতে নামাজ শুরু হবার পর কোন ব্যক্তি যদি ইমামের সাথে কোন রাকাত পড়তে না পারে (বিলম্বে মসজিদে পৌঁছার দরুন বা অন্য যে কোন কারণে) তবে সেই ব্যক্তি শরীয়তের ভাষায় মাসবুক । কোন রাকাতের রুকু পেলেই সেই রাকাত পেয়েছে বলে গণ্য হবে ।

• মাসবুকের নামাজের নিয়ম

১. ইমামের সাথে সে সালাম ফিরাবে না। ইমাম প্রথম সালাম সম্পূর্ণ করার পর সে দাড়িয়ে যাবে।

২. এরপর মাসবুক তার নামাজের যতটুকু বাকি আছে তা সম্পূর্ণ করে তাশাহুদ, দরুদ, দুআ মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে সাধারণ ভাবে নামা্জ শেষ করবে।

৩. কিরা'আত পড়ার ব্যাপারে মাসবুক তার যে কয় রাকাত বাকি আছে তা অনুসরণ করবে। এক রাকাত বাকি থাকলে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা মিলিয়ে পড়বে। দুই রাকাত বাকি থাকলে উভয় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও অপর সূরা মিলিয়ে পড়বে। তিন রাকাত বাকি থাকলে প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অপর সূরা মিলাবে কিন্তু তৃতীয় ছুটে যাওয়া রাকাতে কেবল সূরা ফাতিহা পড়বে।

৪. বৈঠকের ব্যাপারে মাসবুক ইমামসহ যে কয় রাকাত নামাজ পড়েছে তা হিসেব করে বৈঠকে যাবে। প্রতি জোড় রাকাত শেষে বৈঠকে বসতে হয়। তাই যে কেবল এক রাকাত পেল ইমামের সাথে সে ইমামের নামাজ শেষ করার পর দাড়িয়ে নিজে এক রাকাত পড়ে সেজদা সম্পন্ন করার পর বসে তাশাহুদ পড়বে কারণ এটা তার নামাজের দ্বিতীয় রাকাত। এরপর সাধারণ ভাবে নামাজ শেষ করবে।


সিজদাহ্ সাহু এর নিয়ম

আপনার নামাজ/সালাতের ভিতর যদি কোন ওয়াজীব তরক হয়ে যায় তাইলে আপনাকে অবশ্যই সাহু সিজদা দিতে হবে। যদি না দেন তাইলে আপনার নামায হবে না। সাহু সিজদা দেয়ার নিয়ম হল শেষ রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়ে শুধু ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে ২ টি সিজদা দিতে হবে। ২ সিজদার মাঝখানে অবশ্যই ১ তাসবীহ পরিমান সোজা হয়ে বসতে হবে। তারপর যথারীতি আবার আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে নামায শেষ করতে হবে। তবে নামাজ যদি কোন ফরয তরক হয়ে যায় তাইলে সাহু সিজদা দিয়ে কোন লাভ হবে না। আবার নতুন করে নামাজ পড়তে হবে। অনেককেই দেখা যায় কোন কারন ছাড়াই সব নামাজের শেষে একটা সাহু সিজদা দিয়ে দেয়। এটা ঠিক নয়। আমি এখানে সহজ ভাবে নামাজ কখন সাহু সিজদা দিতে হবে আর কখন দিতে হবে না এই মাসলা- মাসায়েল গুলি নিয়ে আলোচনা করবো। সাহু সিজদার এই মাসলা গুলি ছেলে মেয়ে উভয়ের নামাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে আপনি যদি জামাতে নামাজ পড়েন তাইলে ইমাম সাহেব যদি সাহু সিজদা দেয় তাইলে আপনি দিবেন। আর যদি আপনি জামাতে মাসবুক মানে ১ রাকাত পরে উপস্থিত হন আর যদি আপনার নিজে পড়ার রাকাতে কোন ওয়াজীব তরক হয়ে যায় তাইলে আপনি সাহু সিজদা দিবেন।

১. ফরজ নামাজের প্রথম ২ রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়া ওয়াজীব। যদি আপনি ফরজ নামাজের প্রথম রাকাত বা ২য় রাকাত বা উভয় রাকাতেই সুরা ফাতেহা ভুল বশত না পড়েন তাইলে আপনাকে সাহু সিজদা দিতে হবে। আবার ফরজ নামাযের ৩য়/৪র্থ রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়া সুন্নত। আপনি যদি যে কোন ফরজ নামাজের ৩য়/৪র্থ রাকাতে সুরা ফাতেহা ভুল বশত নাও পড়েন তাইলে আপনাকে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না।

২. ফরজ নামাজের প্রথম ২ রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য একটি সুরা মিলানো ওয়াজীব। যদি আপনি ভুল বশত ফরজ নামাজের প্রথম ২ রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য কোন সূরা না পড়েন তাইলে আপনাকে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। আবার ফরজ নামাযের ৩য়/৪র্থ রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য কোন সুরা পড়ার নিয়ম নেই। তবে আপনি ভুল বশত ফরজ নামাযের ৩য়/৪র্থ রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য কোন সুরা পড়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না।

৩. সুন্নত ও নফল সকল নামাজেই সকল রাকাতেই সুরা ফাতেহা পড়া ও সুরা ফাতেহা পড়ার পর অন্য একটি সুরা মিলানো ওয়াজীব। আপনি যদি যে কোন সুন্নত/নফল নামাযের যে কোন রাকাতে সুরা ফাতেহা বা সুরা ফাতেহার পর অন্য একটি সুরা না পড়েন তাইলে আপনি একটি ওয়াজীব তরক করলেন। আপনাকে অবশ্যই সিজদায়ে সাহু দিতে হবে।

৪. ভুল করে যে কোন রাকাতে ২ রুকু বা ৩ সিজদা দিলে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে।

৫. সুরা ফাতেহা পড়ার পর এখন কি সুরা পড়বো এই চিন্তায় যদি ৩ তসবীহ পরিমান সময় চলে যায় তাইলে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। অথবা কোন সুরার কোন আয়াত ভুলে গেছেন ঐ আয়াত কে স্মরন করার জন্য যদি ৩ তসবীহ পরিমান সময় চলে যায় তাইলে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে।ফরয ও সুন্নত নামাযের ১ম বৈঠকে যদি ভুলে ২ বার আত্তাহিয়্যাতু পড়ে ফেলেন তাইলে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। আবার ফরয ও সুন্নত নামাযের ১ম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর যদি দুরুদ শরীফের আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ পর্যন্ত পড়ে ফেলেন তাইলে শেষ বৈঠকে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। তবে এরচেয়ে কম পড়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না। তবে নফল নামাযের যেকোন বৈঠকে ২ বার আত্তাহিয়্যাতু পড়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না।

৬. যে-কোন বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময় যদি ভুলে সুরা ফাতেহা পড়ে ফেলেন তাইলে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। তবে নিয়ত বাধার সময় ছানার বদলে ভুলে দোয়া কুনুত পড়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না।

৭. ৩/৪ রাকাত বিশিষ্ট নামাযে প্রথম বৈঠক ভুলে গেছেন এবং ৩য় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছেন, যদি অর্ধেকের কম দাঁড়িয়ে থাকেন তাইলে বসে পড়বেন এবং আত্তাহিয়্যাতু পড়ে ৩য় রাকাতের জন্য দাড়াবেন। এই অবস্থায় সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না। আর যদি অর্ধেকের বেশি দাঁড়িয়ে যান তাইলে আর বসবেন না। ৩/৪ রাকাত নামায শেষ করে শেষ বৈঠকে সিজদায়ে সাহু দিবেন।

৮. যোহর ও এশার ৪র্থ রাকাতে বসতে মনে নাই। একদম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ৫ম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছেন। তাও মনে হবার সাথে সাথে বসে পড়বেন। আত্তাহিয়্যাতু ও দুরুদ শরীফ পড়ে সালাম ফিরাবেন। এক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না।আর যদি ৫ম রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়ে ফেলেন এবং রুকুও করে ফেলেন তাইলেও বসে পড়বেন। এই অবস্থায় সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। আর যদি রুকু করার পরও মনে না হয় তাইলে আরো ২ রাকাত পড়ে মোট ৬ রাকাত পড়বেন। এক্ষেত্রে শেষ ২ রাকাত নফল ও প্রথম ৪ রাকাত ফরয হিসাবে আদায় হল। কিন্তু আসরের নামাযে ৪র্থ রাকাতে এই রকম ভুল হলে মোট ৬ রাকাতই পড়বেন কিন্তু ঐ ৬ রাকাত পুরাটাই নফল হবে। কারন আসর নামাযের পর কোন নফল নামায নাই। এক্ষেত্রে আপনাকে পুনরায় আসরের নামায পড়তে হবে।

৯. নামাজ ৩ রাকাত পড়েছেন না ৪ রাকাত পড়েছেন এই রকম সন্দেহ যদি সব সময় হয়ে থাকে তাইলে এই সন্দেহের কোন ভিত্তি নাই। আর যদি হঠাৎ করে এই সন্দেহ হয় তাইলে এই রাকাত কে ৩য় রাকাত ধরে আরেক রাকাত পড়ে নিবেন। আর মন যদি ৪র্থ রাকাতের দিকে সায় দেয় তাইলে আরেক রাকাত পড়ার দরকার নেই। এই অবস্থায় সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না। আবার ১ম রাকাত পড়লেন না ২য় রাকাত পড়লেন এই রকম সন্দেহ যদি সব সময় হয়ে থাকে তাইলে এই সন্দেহের কোন ভিত্তি নাই। আর যদি হঠাৎ করে এই সন্দেহ হয় তাইলে এই রাকাত কে ১ম রাকাত ধরে আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন। কারন এটা ২য় রাকাতও হতে পারে। আবার ২য় রাকাতেও আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন। কারন এটা ২য় রাকাত হতে পারে। আবার ৩য় রাকাতেও আত্তাহিয়্যাতু পড়বেন।কারন এটা ৪র্থ রাকাত হতে পারে। তারপর ৪র্থ রাকাতে সিজদায়ে সাহু করে সালাম ফিরাবেন।

১০. নামাজ শেষ হওয়ার পর সালাম ফিরানোর পর যদি নামায ৩ রাকাত পড়েছেন না ৪ রাকাত পড়েছেন এই রকম সন্দেহ যদি সব সময় হয়ে থাকে তাইলে এই সন্দেহের কোন ভিত্তি নাই। আর যদি স্পষ্ট ভাবে মনে পড়ে যে নামাজ ৩ রাকাত পড়েছেন এবং আপনি কিবলামুখি হয়ে বসে আছেন এবং কারো সাথে কথা বলেন নি তাইলে সাথে সাথে দাঁড়িয়ে যেয়ে আরেক রাকাত পড়ে সিজদায়ে সাহু করে সালাম ফিরাবেন। তবে কারো সাথে কথা বলে ফেললে নামায পুনরায় পড়তে হবে।

১১. একই নামা্জে সিজদায়ে সাহু করার একাধিক কারন পাওয়া গেলেও একটি সিজদায়ে সাহু করলেই হবে।

১২. বিতর নামাজের দোয়া কুনুত না পড়েই রুকুতে চলে গেছেন বা দোয়া কুনুতের জায়গায় অন্য কিছু পড়ে ফেলেছেন তাইলে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। আর যদি দোয়া কুনুতের জায়গায় অন্য কিছু পড়ে ফেলেছেন কিন্তু মনে হবার সাথে সাথে দোয়া কুনুত পড়ে ফেলেছেন তাইলে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না।


বিতরের নামাজের নিয়ত ও নিয়ম

• এশার তিন - রাকাত বেতর নামাজের নিয়্যতঃ

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى ثَلَثَ رَكْعَتِ صَلَوةِ الْوِتْرِوَاجِبُ اللَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ

➢ উচ্চারণঃ নাওয়াইতুয়ান উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা সালাছা রাকায়াতি ছালাতিল বিতরে ওয়াজিবুল্লাহি তা’য়ালা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

➢ বাংলা অর্থঃ আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে তিন রাকাত বেতের ওয়াজিব নামাজ আদায় করছি।আল্লাহু আকবার।

• বিতরের নামাজে দোয়া কুনুত পড়তে হয়ঃ

اَللَّمُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
➢ উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ওয়ানাসতাগফিরুকা ওয়ানু‘মিনুবিকা ওয়ানাতাওয়াক্কালু আ‘লাইকা ওয়ানুছনি আ‘লাইকাল খইর, ওয়ানাশকুরুকা ওয়ালানাকফুরুকা ওনাখলা‘উ ওয়ানাতরুকু মাঈয়াফ যুরুকা, আল্লাহুম্মা ইয়্যা কানা‘বুদু ওয়ালাকানুসল্লি ওয়ানাসযুদু ওয়ালাইকানাস‘আ ওয়ানাহফিদু ওনারযু রাহমাতাকা ওয়ানাখশা আ‘যাবাকা ইন্না আ‘যাবাকা বিলকুফ্ফারি মুলহিক।

➢ বাংলা অর্থঃ হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করিতেছি, তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি, তোমার ভরসা করিতেছি । তোমার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করিতেছি, তোমার উপর ঈমান আনিতেছি, তোমার ভরসা করিতেছি তোমার গুণগান করিতেছি এবং তোমারই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি । আমরা তোমাকে অস্বীকার করি না । যাহারা তোমার হুকুম অমান্য করে তাহাদের সঙ্গে আমরা সংশ্রব সংসগ্র পরিত্যাগ করি । হে আল্লাহ! আমরা তোমারই ইবাদত করি, তোমারই খেদমতে হাজির হই এবং তোমার রহমতের আশা করি ও তোমার শাস্তিকে ভয় করি । নিশ্চই তোমার আজাব অবিশ্বাসিগণ ভোগ করিবে ।

➢ English meaning: “O’ Allah! We implore You for help and beg forgiveness of You and believe in You and rely on You and extol You and we are thankful to You and are not ungrateful to You and we alienate and forsake those who disobey You. O’ Allah! You alone do we worship and for You do we pray and prostate and we take to please You and present ourselves for the service in Your cause and we hope for Your mercy and fear Your chastisement. Undoubtedly, Your torment is going to overtake infidels”

বিঃদ্রঃ বিতর নামাজের শেষ রাকাতের তাকবীরের পরে (বিসমিল্লাহ্ ব্যতীত) দোয়া কুনূত পড়তে হয়। এক্ষেত্রে অন্য কোন সূরা পড়া যাবে না। তবে যাদের দোয়া কুনূত মুখস্ত নেই তারা মুখস্ত করার আগ পর্যান্ত পড়তে হবে।

رَبَّنَآاَتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى اْلاَخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَاعَذَابَ النَّارِ

➢ উচ্চারণঃ রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া ক্বিনা আ'যাবান্নার।

➢ বাংলা অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে ইহকালের মঙ্গল এবং পরকালের শান্তি দান করুন এবং আমাদেরকে দোযখের আগুন হতে রক্ষা করুন।

➢ English meaning: Our Allah, give us in this world [that which is] good and in the Hereafter [that which is] good and protect us from the punishment of the Fire.

অথবা

• তিনবার বলবে

اَللَّهُمَ اغْفِرْلِيْ
➢ উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগ-ফিরলী
➢ বাংলা অর্থঃ হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা কর
➢ English meaning: O Allah, forgive me

• বেতের নামাজের বিবরনঃ

বেতের নামাজের সময় - বিভিন্ন ইমাম সাহেবগনের মতে বেতরের নামাজ এশার নামাজের পর থেকে সুবহি সাদিকের পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত থাকে। কিন্তু আমাদের ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মতে এশারের বেতের নামাজের একই সময়। বেতেরের নামাজ নির্দিস্ট সময়ের মধ্যেই আদায় করতে হয় । কিন্তু যারা শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে জাগ্রত থাকার অভ্যাস করেছেন, কেবল ঐ সব লোকেরাই শেষ রাতে তাহাজ্জুদের পর বেতেরের নামাজ আদায় করতে পারেন। কেননা রাসুলে করীম (সাঃ) এই নিয়মেই আদায় করতেন । আর যাদের শেষ রাতে ঘুম হতে জাগ্রত হওয়ার অভ্যাস নেই, তারা অবশ্যই এশার নামাজের সাথে আদায় করবেন।

• বেতের নামাজ পড়ার নিয়মঃ

বেতেরের তিন রাকাত নামাজের নিয়্যত করে তাকবীরে তাহরীমা বেঁধে যথারীতি দু-রাকা'আতের পর বসে তাশাহুদ পাঠ করে দাঁড়িয়ে তৃতীয় রাক'আতে সূরা-কিরায়াত পাঠ করে পুনরায় তাহরীমা বেঁধে দোয়ায়ে কুনূত পাঠ করে যথারীতি রুকূ-সিজদাহ ও শেষে বৈঠকের পর সালাম ফিরিয়ে নামাজ সমাপ্ত করবেন।


কাযা নামাজের নিয়ত ও নিয়ম

কাযা নামাজ এবং ওয়াক্তিয়া নামাজের নিয়ত একই রকম তবে এইটুক পার্থক্য যে কাযা নামাজে (আন উসালি্লয়া) শব্দের জায়গায় (আন আকদিয়া) এবং যে নামাজ তাহার নাম বলিয়া (আল ফাইতাতে) বলিতে হইবে। যথাঃ ফজর অথবা আছরের নামাজ কাযা হইলে নিম্নরূপ নিয়ত পড়তে হবে -

• ফজর নামাজের কাযার - দুই রাক'আত ফরজ এর নিয়্যতঃ

نَوَايْتُ اَنْ اَقْضِ لِلَّّهِ تَعَالَى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْفَجْرِالْفَائِتَةِ فَرْضُ اللَّهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ

نَوَايْتُ اَنْ اَقْضِ لِلَّّهِ تَعَالَى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ الْفَجْرِالْفَائِتَةِ فَرْضُ اللَّهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ

➢ উচ্চারণঃ নাওয়াইতুয়ান আকদিয়া লিল্লাহি ত’আলা রাকাআতি ছালাতিল ফাজরি ফায়েতাতি ফারযুল্লাহি তা’আলা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

➢ বাংলা অর্থঃ আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ফজরের ফরজ দুই রাকাত কাযা নামাজ আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

• আছর নামাজের কাযার - চার রাক'আত ফরজ এর নিয়্যতঃ

نَوَيْتُ اَنْ اَقْضِىَ لِلَّهِ تَعَا لَى اَرْبَعَ رَكْعَاتِ صَلَوةِ الْعَصْرِ الْفَا ئِتَةِ فَرْضُاللَّهِ تَعَا لَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِالشَّرِيْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ

➢ উচ্চারণঃ নাওয়াইতুয়ান আকদিয়া লিল্লাহি ত’আলা আরবায়া রাকাআতি ছালাতিল আছরিল ফায়েতাতি ফারযুল্লাহি তা’আলা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

➢ বাংলা অর্থঃ আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে আছরের ফরজ চার রাকাত কাযা নামাজ আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।

• কাযা নামাজ এর নিয়মঃ

যে কোন জরুরী কারণে সময়মত নামাজ পড়তে না পারিলে ঐ নামাজ অন্য নামাযের পূর্বে আদায় করাকে কাযা নামাজ বলে। কাযা নামাজ দুই প্রকার যথা -

১। ‘ফাওয়ায়েতে কালীল’ অর্থাৎ অল্প কাযা পাঁচ ওয়াক্ত পরিমাণ নামাজ কাযা হইলে উহাকেই ‘ফাওয়ায়েতে কালীল’ বা অল্প কাজা বলে।
২। ‘ফাওয়ায়েতে কাছির’ অর্থাৎ বেশি কাযা। পাঁচ ওয়াক্তের অধিক যত দিনের নামাজই কাযা হউক না কেন উহাকে ‘ফাওয়ায়েতে কাছির’ বা অধিক কাযা বলা হয়। এ ধরনের কাযা নামাজ সকল ওয়াক্তিয়া নামাযের পূর্বে পড়িবে। কিন্তু,
(ক) কাযার কথা ভুলিয়া গেলে অথবা
(খ) ওয়াক্তিয়া নামাযের ওয়াকত সস্কীর্ণ হইয়া গেলে বা (গ) কাযা পাঁচ ওয়াক্তের বেশী হইলে কাযা নামাজ পরে পড়া যাইতে পারে।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বা তার কম নামাজ না পড়িয়া থাকিলে তাহার তরতীবের প্রতি লক্ষ্য রাখিতে হইবে। আগের নামাজ আগে, পরের নামাজ পরে পড়িতে হইবে। যথঃ কোন ব্যক্তির ফরজ এবং যোহরের নামাজ তরক হইয়া গিয়াছে; এখন আছরের নামাজ পড়িবার পূর্বে সর্ব প্রথম ফজরের কাযা তারপর যোহরের কাযা আদায় করিতে হইবে। তারপর আছরের ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করিবে।

১) ফরয নামাজের কাযা ফরয।
২) ওয়াজিব নামাজের কাযা ওয়াজিব।
৩) সুন্নত নামাযের কাযা পড়িতে হয় না। কিন্তু ফজরের সুন্নতের কাযা আদায় করিতে হইব।
৪) কাযা নামাজ জামায়াতের সহিত আদায় করিলে ইমাম কেরাত জোরে পড়িবেন। তবে যোহর এবং আছরে চুপে চুপে পড়িবেন।
৫) এক মাস বা তার চেয়ে বেশী দিনের নামাজ কাযা হইয়া থাকিলে উক্ত পরিমাণ সময়ের কাযা আদায় করিবে এবং তরতীবের প্রতি লক্ষ্য রাখিবে।
৬) জীবনে যে নামাজ পড়ে নাই বা কত নামাজ তরক করিয়াছে তাহার হিসাবও নাই। সে যদি এখন কাযা করিতে চায়, তবে প্রথমে নামাজের পূর্বে তরতীব অনুযায়ী কাযা আদায় করিতে থাকিবে, ইহাকে ‘ওমরী কাযা’ বলে। ইহাতে অশেষ ছওয়াব আছে। কাযা নামাজের নিয়ত করিবার সময় নামাজের উল্লেখ করিয়া নিয়ত করিতে হইবে।


চার রাকাত নামাজের নিয়ম

চার রাকাত নামাজের নিয়ম

১. প্রথমে অজু করে পবিত্র হয়ে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে জায়নামাজের দোয়া পড়বে।

২. মনে মনে নিয়ত করুন, কোন ওয়াক্তের নামাজ এখন পড়বেন? সুন্নত, ফরজ, ওয়াজিব না নফল নিয়তে তা উল্লেখ করুন এবং আল্লাহু আকবার বলে তাকবীরে তাহরিমার পরে নারীরা বুকের উপর ও পুরুষেরা নাভীর উপরে হাত বাঁধবে (বাম হাঁতের উপরে ডান হাত)।

৩. সানা পড়বে।

৪. এবার মনে মনে - আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পাঠ করুন।

৫. সূরা ফাতিহা পড়বে এবং তারপরে অন্য একটি সূরা মিলাবে।

৬. ধীর - স্থিরভাবে রুকু ও দুই সিজদা করে উঠে দাঁড়াবে এবং পূর্বের ন্যায় হাত বাঁধবে।

৭. সূরা ফাতিহা পড়বে এবং অন্য কোন সূরা মিলাবে।

৮. পূর্বের ন্যায় রুকু সেজদা করে উঠে না দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে বসবে (প্রথম বৈঠক), এবং তাশাহুদ পাঠ করবে।

৯. আল্লাহু - আকবার বলে উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাঁধবে এবং সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। ফরজ নামাজ না হলে সূরা ফাতিহার পর আরেকটি সূরা মিলাবে।

১০. রুকু সেজদা করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাত বাঁধবে। তৃতীয় রাকাতের নিয়মানুযায়ী সূরা পাঠ করবে।

১১. সম্পূর্ণভাবে রুকু - সেজদা করবে এবং উঠে না দাঁড়িয়ে বৈঠকে বসবে। বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পাঠ করবে। অতঃপর ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে।

* আসসালামু আলাইকুম।


তিন রাকাত নামাজের নিয়ম

১. প্রথমে অযু করে পবিত্র হয়ে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে জায়নামাজের দোয়া পড়বে।

২. মনে মনে নিয়ত করুন, কোন ওয়াক্তের নামাজ এখন পড়বেন? সুন্নত, ফরজ, ওয়াজিব না নফল নিয়তে তা উল্লেখ করুন এবং আল্লাহু আকবার বলে তাকবীরে তাহরিমার পরে নারীরা বুকের উপর ও পুরুষেরা নাভীর উপরে হাত বাঁধবে (বাম হাঁতের উপরে ডান হাত)।

৩. সানা পড়বে।

৪. এবার মনে মনে - আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পাঠ করুন।

৫. সূরা ফাতিহা পড়বে এবং তারপরে অন্য একটি সূরা মিলাবে।

৬. ধীর-স্থিরভাবে রুকু ও দুই সিজদা করে উঠে দাঁড়াবে এবং পূর্বের ন্যায় হাত বাঁধবে।

৭.সূরা ফাতিহা পড়বে এবং অন্য কোন সূরা মিলাবে।

৮. পূর্বের ন্যায় রুকু সেজদা করে উঠে না দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে বসবে (প্রথম বৈঠক),
এবং তাশাহুদ পাঠ করবে।

৯. আল্লাহু - আকবার বলে উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাঁধবে এবং সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। ফরজ নামাজ না হলে সূরা ফাতিহার পর আরেকটি সূরা মিলাবে।

১০. বিতরের নামাজ হলে তৃতীয় রাকাতে রুকু সেজদার আগে পুনরায় একটি তাকবির দিয়ে হাত বাঁধবে এবং দোয়া কুনুত পাঠ করবে।

১১. সম্পূর্ণভাবে রুকু - সেজদা করবে এবং উঠে না দাঁড়িয়ে বৈঠকে বসবে। বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পাঠ করবে। অতঃপর ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে।

* আসসালামু আলাইকুম। 
দুই রাকাত নামাজের নিয়ম

১. প্রথমে অযু করে পবিত্র হয়ে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে জায়নামাজের দোয়া পড়বে।

২. মনে মনে নিয়ত করুন, কোন ওয়াক্তের নামাজ এখন পড়বেন? সুন্নত, ফরজ, ওয়াজিব না নফল নিয়্যতে তা উল্লেখ করুন এবং আল্লাহু আকবার বলে তাকবীরে তাহরিমার পরে নারীরা বুকের উপর ও পুরুষেরা নাভীর উপরে হাত বাঁধবে (বাম হাঁতের উপরে ডান হাত)।

৩. সানা পড়বে।

৪. এবার মনে মনে - আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পাঠ করুন।

৫. সূরা ফাতিহা পড়বে এবং তারপরে অন্য একটি সূরা মিলাবে।

৬. ধীর - স্থিরভাবে রুকু ও দুই সিজদা করে উঠে দাঁড়াবে এবং পূর্বের ন্যায় হাত বাঁধবে।

৭. সূরা ফাতিহা পড়বে এবং অন্য কোন সূরা মিলাবে।

৮. সম্পূর্ণভাবে রুকু - সেজদা করবে এবং উঠে না দাঁড়িয়ে বৈঠকে বসবে। বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পাঠ করবে। অতঃপর ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে।

* আসসালামু আলাইকুম।

Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻