বুখারী শরীফ সব খণ্ড
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
অধ্যায় - ৫২ - তাফসীর - ৩
( হাদিস নং - ৪৩৩১-৪৪২৩ = মোট ৯৩ টি হাদিস)
হাদিস নং - ৪৩৩১
আহমাদ ইবনু সাইদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসুদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, -আমরা সেভাবেই পড়তাম যেভাবে আমাদের শিখানো হয়েছে। - অর্থ স্থান এবং - অর্থ সে পেয়েছে। এ থেকে --- হয়েছে। এমনিভাবে ইবনু মাসুদ (রাঃ) হতে এর মধ্যে ---কে পেশ যুক্ত করে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি এভাবে পরতেন।
হাদিস নং - ৪৩৩২
হুমায়দি (রহঃ) আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, যখন কুরাইশগন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইসলাম এর দাওয়াত অস্বীকার করল, তখন তিনি আল্লাহর দরবারে আরজ করলেন, ইয়া আল্লাহ! যেমনি ভাবে আপনি ইয়ুসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন, তেমনি ভাবে ওদের উপর দুর্ভিক্ষ নাযিল করুন। তারপর কুরাইশগন এক বছর পর্যন্ত এমন দুর্ভিক্ষের মধ্যে আপতিত হল যে সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেল। এমনকি তারা হাড় পর্যন্ত খেতে শুরু করল; যখন কোন ব্যাক্তি আকাশের দিকে নজর করত, তখন আকাশ ও তার মধ্যে শুধু ধোঁয়া দেখত। আল্লাহ বলেন -“সেদিনের অপেক্ষায় থাক যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আশবে”। আল্লাহ আরও বলেন, ---“আমি শাস্তি কিছুটা সরিয়ে নিব; নিশ্চয়ই তোমরা (পূর্বাবস্থায়) প্রত্যাবর্তন করবে”। কিয়ামত এর দিন তাদের থেকে আযাব দূর করা হবে কি? এবং -- ও --- এর ব্যাখ্যা আগে বলা হয়েছে। অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “যখন দূত ইয়ুসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হল তখন সে বলল, তুমি তোমার প্রভুর নিকট ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, যে সকল নারী হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কি! আমার প্রতিপালক তো তাদের অবস্থা সম্যক অবগত। বাদশাহ নারীদের বলল, যখন তোমরা ইয়ুসুফ থেকে অসৎ কর্ম কামনা করেছিলে তখন তোমাদের কি অবস্থা হয়েছিল? তারা বলল, অদ্ভুত আল্লাহর মাহাত্ম্য! আমাদের ও তার মধ্যে কোন দোষ দেখিনি। --এটা - এবং এর জন্য। অর্থ প্রকাশ হয়ে গেল।
হাদিস নং - ৪৩৩৩
সাইদ ইবনু তালিদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা লুত আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর রহম করুন। তিনি তার সম্প্রদায়ের চরম শত্রুতায় বাধ্য হয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত ইয়ুসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বন্দীখানায় ছিলেন, আমি যদি তদ্রূপ (বন্দীখানায়) থাকতাম, তবে পরিত্রানের জন্য অবশ্যই সাড়া দিতাম। ১ আমরা ইব্রাহিম আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সর্বাগ্রে২ থাকতাম যখন আল্লাহ তাকে বললেন, তুমি কি বিশ্বাস করনা? জবাবে তিনি বললেন, হা। তবে আমার মনের প্রশান্তির জন্য। অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ --“এমনকি যখন রাসুল গন নিরাশ হয়ে গেলেন”।
হাদিস নং - ৪৩৩৪
আব্দুল আযিয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) উরওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়শা (রাঃ) কে আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ -এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে এই আয়াতে শব্দটা - না -। ১ আয়শা (রাঃ) বললেন, “---আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন আম্বিয়ায়ে কিরাম পূর্ণ বিশ্বাস করে নিলেন, এখন তাদের সম্প্রদায় তাদের প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, তখন - ২ ব্যাবহারের উদ্দেশ্য কি? আয়শা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ আমার জীবনের কসম! তারা পূর্ণ বিশ্বাস করেই নিয়েছিলেন। আমি তাঁকে বললাম, অর্থ কি দাঁড়ায়? আয়শা (রাঃ) বললেন, মা’আযাল্লাহ!৩ রাসুল গন কখনও আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা ধারনা করতে পারেননা। আমি বললাম, তবে আয়াতের অর্থ কি হবে? তিনি বললেন, তারা রাসুলদের অনুসারী যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছে। এবং রাসুলদের সত্য বলে স্বীকার করেছে। তারপর তাদের প্রতি দীর্ঘকাল ধরে (কাফেরদের)নির্যাতন চলেছে এবং আল্লাহর সাহায্য আসতেও অনেক বিলম্ব হয়েছে, এমনকি যখন রাসুল গন তাদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে তাদের প্রতি মিথ্যরোপ কারীদের ঈমান আনা সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছেন এবং রাসুলদের এ ধারনা হল যে এখন তাদের অনুসারীরাও ৪ তাদের প্রতি মিথ্যরোপ করতে শুরু করবে, এমতাবস্থায় তাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এল। ১/ মুক্তি পাওয়ার জন্য যে কন নির্দেশ মেনে নিতাম এবং আহ্বানকারীর আহবানে সাড়া দিতাম। এ কথা দ্বারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ুসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ধৈর্যের বর্ণনা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, ইয়ুসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বন্দীখানায় সাত বছর সাত মাস সাত দিন সাত ঘণ্টা ছিলেন। ২/ এর দ্বারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিনয়ী ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
হাদিস নং - ৪৩৩৫
আবূল ইয়ামান (রহঃ) উরওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বললেন, আমি আয়শা (রাঃ) কে বললাম, সম্ভবত --- (তাখফিফ সহ)। তিনি বললেন, মা’আযাল্লাহ! ঐরূপ ।
হাদিস নং - ৪৩৩৬
ইব্রাহিম ইবনু মুনযির (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত , নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইল্ম গায়েব এর চাবি কাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ ভিন্ন আর কেউ জানেনা। তা হল, আগামী দিন কি হবে তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেনা। মাতৃগর্ভে কি আছে তা আল্লাহ ভিন্ন আর কেউ জানেনা। বৃষ্টি কখন আসবে তা আল্লাহ ব্যতিত আর কেউ জানেনা। কোন ব্যাক্তি জানেনা তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে তা আল্লাহ ভিন্ন আর কেউ জানেনা।
হাদিস নং - ৪৩৩৭
উবায়দ ইবনু ইসমাইল (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, বলতো সেটা কন বৃক্ষ , যা কন মুসলিম ব্যাক্তির মতো যার পাতা ঝরেনা, এরুপ নয়, এরুপ নয় ১ এবং এরূপও নয় যা সর্বদা খাদ্য প্রদান করে। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আমার মনে হল এটা খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি দেখলাম আবূ বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) কোন কথা বলছেন না। তাই আমি এ ব্যাপারে কিছু বলা পছন্দ করিনি। অবশেষে যখন কেউ কিছু বললেন না তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেটা খেজুর গাছ। পরে যখন আমরা উঠে গেলাম, তখন আমি ওমর (রাঃ) কে বললাম, হে আব্বা! আল্লাহর কসম! আমার মনেও হয়েছিল খেজুর বৃক্ষ। উমর (রাঃ) বললেন, একথা বলতে তোমার কিসে বাধা দিল? বললাম, আমি আপনাদের বলতে দেখিনি, তাই আমি কিছু বলতে এবং আমার মত ব্যক্ত করতে পছন্দ করিনি। উমর (রাঃ) বললেন, অবশ্য যদি তুমি বলতে তবে তা আমার নিকট এত এত ২ থেকে বেশি প্রিয় হত। ১/ বৃক্ষের বৈশিষ্ট্য তিন প্রকার – সর্বদা ফল ধরে থাকে, যার বীজ নষ্ট হয়না এবং যা দ্বারা সর্বদা উপকৃত হওয়া যায়। ২/ -- (এত এত) দ্বারা বোঝানো হয়েছে অধিক সম্পদ , খেজুর বৃক্ষ , পেস্তা বাদাম বৃক্ষ অথবা মূল্যবান বস্তু
হাদিস নং - ৪৩৩৮
আবূ ওয়ালিদ (রহঃ) বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত , নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কবরে মুসলমান ব্যাক্তিকে যখন প্রশ্ন করা হবে তখন সে সাক্ষ্য দিবে, “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াআন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ” আল্লাহর বাণীতে এর প্রতই ইংগিত করা হয়েছে। বানীটি হল এই --
হাদিস নং - ৪৩৩৯
আলি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আতা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন, - এ আয়াত দ্বারা মক্কার কাফেরদেরকে বোঝানো হয়েছে।
হাদিস নং - ৪৩৪০
আলি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ তা’আলা আকাশের কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন ফেরেশতারা তার কথা শোনার জন্য অতি বিনয়ের সাথে নিজ নিজ পালক ঝাড়তে থাকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জীরের শব্দের মত। আলি (রাঃ) বলেন, --এর মধ্যে --- সাকিন যুক্ত এবং অন্যরা বলেন, -- ফাতাহ যুক্ত। এভাবে আল্লাহ তা’আলা তার বাণী ফেরেশতাদের পৌঁছান। “ যখন ফেরেশতাদের অন্তর থেকে ভয় দূরীভূত হয় তখন তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রভু কি বলেছেন? তখন তারা বলে, যা সত্য তিনি তাই বলেছেন এবং তিনি সর্বোচ্চ, মহান”। চুরি করে কান লাগিয়ে (শয়তানরা) তা শুনে নেয়। শোনার জন্য শয়তান গুলো একের ওপর এক এভাবে থাকে। সুফিয়ান ডান হাতের আঙ্গুল এর উপর অন্য আঙ্গুল রেখে হাতের ইশারায় ব্যপারটা প্রকাশ করলেন। তারপর কখনো আগুনের ফুলকি শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে এ কথাটি পৌঁছানর আগেই আঘাত করে এবং তাকে জ্বালিয়ে দেয়। আবার কখনও সে ফুলকি প্রথম শ্রবণকারী শয়তান পর্যন্ত পোঁছার পূর্বেই সে তার নিচের সাথীকে খবরটি জানিয়ে দেয়। এমনি করে এ কথা ১ পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। কখনও সুফিয়ান বলেছেন, এমনি করে পৃথিবী পর্যন্ত পোঁছে যায়। তারপর তা জাদুকরের মুখে ঢেলে দেওয়া হয় এবং সে তার সাথে শত মিথ্যা মিলিয়ে প্রচার করে। তাই তার কথা সত্য হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলতে থাকে যে, দেখ এ জাদুকর আমাদের কাছে অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছিল, আমরা তা সঠিক পেয়েছি। বস্তুত আসমান থেকে শোনা কথার কারনেই তা সত্যে পরিনত হয়েছে। ১/ আকাশের ফয়সালা সমূহ। ২/ আগুনের ফুলকি।
হাদিস নং - ৪৩৪১
আলি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , যখন আল্লাহ তা’আলা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন এ বর্ণনায় - (জ্যোতির্বিদ কথাটি)অতিরিক্ত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা’আলা কোন ব্যপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এ বর্ণনায় -- (জাদুকরের মুখের উপর)উল্লেখ করেছেন। আলি ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, আমি সুফিয়ান কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি আমর থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইকরামা থেকে শুনেছি এবং (ইকরামা) বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে শুনেছি। সুফিয়ান বলেন, হ্যাঁ। আলি বলেন, আমি সুফিয়ান কে জিজ্ঞেস করলাম, এক ব্যাক্তি আপনার থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, আমর ইকরামা থেকে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - পাঠ করেছেন। সুফিয়ান বললেন, আমি আমর কে এভাবে পড়তে শুনেছি। তবে আমি জানিনা, তিনি এভাবেই শুনেছেন কিনা তবে এই আমাদের পাঠ। ১/ ফেরেশতাদের পারস্পরিক আলাপ আলোচনা থেকে শয়তান চুরি করে যা শুনে।
হাদিস নং - ৪৩৪২
ইব্রাহিম ইবনু মুনযির (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত , নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজর বাসীগন ১ সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থায় ছাড়া অ্যা জাতির এলাকায় প্রবেশ করবেনা। যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে , তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবেনা। আশংকা আছে, তাদের উপর যা আপতিত হয়েছিল তা তোমাদের উপরও আপতিত হয়ে যায়। অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ -- “আমি তো তোমাকে দিয়েছি সাত আয়াত যা পুনঃপুন আবৃত্ত হয় এবং দিয়েছি মহা কুরআন। “ ১/ হিজর একটি উপত্যকার নাম। সেখানে সামুদ সম্প্রদায় বাস করত।
হাদিস নং - ৪৩৪৩
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আবূ সাইদ ইবনু মুয়াল্লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে গেলেন, তখন আমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিলেন, তখন আমি সালাত (নামায/নামাজ) শেষ না করে আসিনি। এরপর আমি আসলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল? আমি বললাম, আমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা কি একথা বলেননি, “ হে ইমানদারগণ! আল্লাহ এবং রাসুলের ডাকে সাড়া দাও”? তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগেই কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিখিয়ে দিবনা? তারপর যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হতে লাগলেন , আমি তাঁকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, সে সূরাটি হল, “আল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন”। এটি হল ১ পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত এবং মহা কুরআন ২ যা আমাকে দান করা হয়েছে। ১/ সাত আয়াতের অর্থ – সূরা ফাতিহার সাত আয়াত, যে আয়াতগুলো প্রত্যহ সালাত (নামায/নামাজ) আমরা বারবার পাঠ করে থাকি। ২/ সুরা ফাতিহাকে মহা কুরআন বলা হয়েছে। কারন কুরআনের সকল বিষয়বস্তুর মূলকথা এর মধ্যে রয়েছে।
হাদিস নং - ৪৩৪৪
আদম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উম্মুল কুরআন ৩ (সূরা ফাতিহা) হচ্ছে পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত ৪ এবং মহান কুরআন। ৩/ উম্মুল কুরআন বলা হয় সুরা ফাতিহাকে। কুরআন শরীফের সকল বিষয়বস্তু এর মধ্যে সংক্ষেপে রয়েছে বলে উম্মুল কুরআন অর্থাৎ কুরআনের মা বলা হয়। ৪/ পূর্বে হাদিসের টীকা দ্রষ্টব্য।
হাদিস নং - ৪৩৪৫
ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহিম (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, “যারা কুরআন কে বিভক্ত করে দিয়েছে” , এরা হল আহলে কিতাব (ইহুদী )। তারা কুরআনকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে দিয়েছে। এরা কোন অংশের উপর ঈমান এনেছে ২ এবং কোন অংশকে অস্বীকার করেছে। ৩ ২/ যে অংশটুকু তাওরাতের অনুরূপ পেয়েছে। অর্থাৎ তাদের মনঃপুত হয়েছে। ৩/ যে অংশটুকু নিজের মনঃপুত হয়নি এবং তাওরাতেও পাওয়া যায়নি।
হাদিস নং - ৪৩৪৬
উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) --- এর ব্যখ্যায় বলেন, তারা কিছু অংশের উপর ঈমান আনে আর কিছু অংশ অস্বীকার করে। এরা হল ইহুদী ও নাসারা।
হাদিস নং - ৪৩৪৭
মূসা ইবনু ইসমাইল (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া করতেন, (হে আল্লাহ!) আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, অলসতা থেকে, নিকৃষ্ট বয়স থেকে [৩] , কবরের আযাব থেকে, দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে।
হাদিস নং - ৪৩৪৮
আদম (রহঃ) ইবনু মাসুদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেছেন, সূরা বনী ইসরাইল , কাহফ এবং মরিয়ম প্রথমে অবতীর্ণ অতি উত্তম সূরা। এগুলো আমার পুরানো রক্ষিত সম্পদ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, --- তারা তাদের মাথা নাড়াবে। অন্য থেকে বর্ণিত , --- - তোমার দাঁত নড়ে গেছে। -- আমি বনী ইসরাইল কে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, তারা অচিরেই বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। --- বহু অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন, তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন। “ফয়সালা” অর্থে যেমন বলা হয়েছে “নিশ্চয়ই তোমার রব তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবেন”। এবং “সৃষ্টি করা” অর্থে ও ব্যবহৃত হয়। যেমন, -- সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান। - দল ১ যারা তার সাথে চলে। তাদের প্রাধান্য সম্পূর্ণ রুপে ধ্বংস করার জন্য। --- বন্দীখানা। অনিবার্য হয়েছে। - নমর। পাপ। এটা থেকে এবং -- (জবর সহকারে) তার মাসদার গুনাহের অর্থে)। আমি পাপ করেছি। --- কখন বিদীর্ণ করতে পারবেনা। - এটি - থেকে এর দ্বারা তাদের (জালিমদের) অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থ পরস্পর কানাঘুষা করছে। -- চূর্ণবিচূর্ণ। উত্তেজিত কর। - তোমার অশ্বারোহী দ্বারা। (পদাতিক বাহিনী)এর একবচন --- যেমন এর বহুবচন এবং --- এর বহুবচন ---। প্রবাহিত প্রচণ্ড বায়ু এবং যা ঝঞ্ঝা বায়ু প্রবাহিত করে। এর থেকেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। অর্থাৎ তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত বস্তু। --- যমিনে চলে গেছে। - থেকে গঠিত। অর্থ পাথরগুলো। অর্থ একবার। তার বহুবচন তাদের সমূলে উৎখাত করব। বলা হয় --- অর্থাৎ অন্যের যে ইল্ম ছিল তা সে পুরপুরি হাসিল করে নিয়েছে। - তার ভাগ্য। ইবনু আব্বাস (রহঃ) বলেন, কুরআন শরীফে যত জায়গায় - শব্দ রয়েছে, তার অর্থ প্রমান। - অর্থাৎ দুর্দশার কারনে কারও সাথে তার বন্ধুত্ব করতে পারেনা। ১/ আল্লাহ তা’আলার বাণী --- তোমাদেরকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করলাম। (১৫;৬)।
হাদিস নং - ৪৩৪৯
আবদান ১ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, যে রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বায়তুল মুকাদ্দাস সফর করানো হয়, সে রাতে তাঁর সামনে দুটি পেয়ালা পেশ করা হয়েছিল। তার একটিতে ছিল শরাব, আরেকটিতে ছিল দুধ। তিনি উভয়টির দিকে তাকালেন এবং দুধ গ্রহন করলেন। তখন জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহর, যিনি আপনাকে ফিতরাতের পথ দেখিয়েছেন। যদি আপনি শরাব গ্রহন করতেন, তাহলে আপনার উম্মত অবাধ্য হয়ে যেত। ১ আবদান-উপাধি। পুর্ণাঙ্গ – আবদুল্লাহ ইবনু উসমান।
হাদিস নং - ৪৩৫০
আহমদ ইবনু সালিহ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যখন কুরাইশরা মিরাজের ঘটনায় আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে লাগলো , তখন আমি হিজরে ২ দাঁড়ালাম। আল্লাহ তা’আলা বায়তুল মুকাদ্দাস কে আমার সামনে উম্মুক্ত করে দিলেন। আমি তা দেখে দেখে তার সকল চিহ্ন তাদের বলে দিতে লাগলাম। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহিম ইবনু শিহাব সূত্রে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। যখন কুরাইশরা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে লাগল , সেই ঘটনার ব্যাপারে যখন আমাকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফর করানো হয়েছিল। পরবর্তী অনুরূপ। এমন যা সবকিছু চুরমার করে দেয়। আমাকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফর করানোর ঘটনাটি যখন কুরাইশরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে লাগল। ২ হিজর – বায়তুল্লাহ শরিফের মিযাবে রহমতের নিচে যে অংশটি পাথর দিয়ে ঘেরা তাকে হিজর বলা হয়।
হাদিস নং - ৪৩৫১
আলি ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, জাহিলিয়াতের যুগে কোন গোত্রের লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে আমরা বলতাম “আমিরা বানু ফুলান” অমুক গোত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
হাদিস নং - ৪৩৫২
হুমায়দি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমিরা (মীম কাসরাহ যুক্ত)।
হাদিস নং - ৪৩৫৩
মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে গোশত আনা হল এবং তাকে সামনের রান পরিবেশন করা হল। তিনি এটা পছন্দ করতেন। তিনি তার থেকে কামড় দিয়ে খেলেন। এরপর বললেন, আমি হব কিয়ামতের দিন মানবকুলের সরদার। তমাদের কি জানা আছে তা কেন? কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ এমন এক ময়দানে সমবেত হবে, যেখানে একজন আহ্বানকারীর আহবান সকলে শুনতে পাবে। এবং সকলেই একসঙ্গে দৃষ্টিগোচর হবে। সূর্য নিকটে এসে যাবে। মানুষ এমনি কষ্ট ক্লেশের সম্মুখিন হবে যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে। তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কি বিপদের সম্মুখীন হয়েছ তা কি দেখতে পাচ্ছনা? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজে বের করবেনা যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশকারি হবেন? কেউ কেউ অন্যদের বলবে যে, আদমের কাছে চল। তখন সকলে তার কাছে এসে তাকে বলবে, আপনি আবূল বাশার। আল্লাহ তা’আলা আপনাকে স্বীয় হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তার রুহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন, এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলে তারা আপনাকে সিজদা করেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কি অবস্থায় পৌঁছেছি? তখন আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরুপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি আমাকে একটি বৃক্ষের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি। নফসি, নফসি, নফসি (আমি নিজেই সুপারিশ প্রার্থী ), তোমরা অন্যের কাছে যাও। তোমরা নূহ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে যাও। তখন সকলে নূহ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর কাছে এসে বলবে, হে নূহ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম )! নিশ্চয়ই আপনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রথম রাসুল। আর আল্লাহ তা’আলা আপনাকে পরম কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরুপ রাগান্বিত হবেন না। আমার একটি গ্রহণীয় দোয়া ছিল যা আমি আমার কওমের ব্যপারে করে ফেলেছি। (এখন) নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা ইব্রাহিম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে। তখন তারা ইব্রাহিম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে বলবে, হে ইব্রাহিম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে আপনি আল্লাহর বন্ধু। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরুপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমিতো তিনটি মিথ্যা বলে ফেলেছিলাম। রাবি আবূ হাইয়ান তার বর্ণনায় এগুলোর উল্লেখ করেছেন। (এখন) নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা মূসা র কাছে। তারা মূসা র কাছে এসে বলবে, হে মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি আল্লাহর রাসুল। আল্লাহ আপনাকে রিসালাত (নামায/নামাজ) এর সম্মান দান করেন এবং আপনার সাথে কথা বলে সমগ্র মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরুপ রাগান্বিত হবেন না। আর আমিতো এক ব্যাক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম। যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। (এখন) নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা ঈসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে। তারা ঈসার কাছে এসে বলবে, হে ঈসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি আল্লাহর রাসুল এবং কালেমা যা তিনি মরিয়ম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর ঢেলে দিয়েছিলেন। আপনি রূহ আপনি দোলনায় থেকে মানুষের সাথে কথা বলেছেন। আজ আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার আগে কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হন নি আর পরেও এরুপ রাগান্বিত হবেন না। তিনি নিজের কন গুনাহের কথা বলবেন না। নফসি, নফসি, নফসি। তোমরা অন্যের কাছে যাও। যাও তোমরা মুহাম্মদ এর কাছে। তারা মুহাম্মদ এর কাছে এসে বলবে, হে মুহাম্মদ! আপনি আল্লাহর রাসুল য় শেষ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । আল্লাহ তা’আলা আপনার আগের, পরের সব গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন আমি আরশের নীচে এসে আমার রবের সামনে সিজদা দিয়ে পড়ব। তারপর আল্লাহ তা’আলা তার প্রশংসা এবং গুণগানের এমন সুন্দর পদ্ধতি আমার সামনে খুলে দিবেন যা এর আগে অন্য কারও জন্য খুলেন নি। এরপর বলা হবে, হে মুহাম্মদ! তোমার মাথা উঠাও। তুমি যা চাও তোমাকে দেওয়া হবে। তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে। এরপর আমি মাথা উঠিয়ে বলব, “হে আমার রব! আমার উম্মত! হে আমার রব! আমার উম্মত! হে আমার রব! আমার উম্মত! তখন বলা হবে, হে মুহাম্মদ আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব নিকাশ হবেনা, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পাশের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। এ দরজা ছাড়া অন্যদের সাথে অন্য দরজায় ও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে। তারপর তিনি বলবেন, যার হাতে আমার প্রান সে সত্তার শপথ! বেহেশতের এক দরজার দুই পাশের মধ্যবর্তী প্রশস্ততা যেমন মক্কা ও হামিরের মধ্যবর্তী দূরত্ব , অথবা মক্কা ও বসরার মাঝখানের দূরত্ব। ১/ আবূল বাশার অর্থ মানবজাতির পিতা। ২/ যেহেতু তিনি শরীয়তের হুকুম আহকওমের প্রথম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা সমস্ত পৃথিবী প্রলয়ঙ্করী বন্যায় প্লাবিত হয়ে যাওয়ার পর প্রিথিবীর সর্বপ্রথম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূহ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিধায় তাকে প্রথম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলা হয়। তার কওম ডুবিয়ে দেওয়ার দোআর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ৩/ খলিলুল্লাহ উপাধি একমাত্র আপনার। ৪/ কালেমা – এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে --- শব্দ। যেহেতু এ শব্দটি বলার সাথে সাথে ঈসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর কুদরতে মাতৃগর্ভে আসেন। তাই তাকে “তার কালেমা” (আল্লাহর কালেমা) বলা হয়। ৫/ “রুহ” দ্বারা ফেরেশতাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন ফেরেশতা জিবরাইল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বোঝানো হয়েছে। যেহেতু তিনি এসে মরিয়মকে তার পুত্রের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, তাই বলা হয় “তার রুহ”।
হাদিস নং - ৪৩৫৪
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাউদ (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর (যাবুর) পড়া এত সহজ করে দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি তার সওয়ারির উপর জ্বীন বাঁধার জন্য নির্দেশ দিতেন, জ্বীন বাঁধা শেষ হওয়ার আগেই তিনি পড়ে ফেলতেন তার উপর অবতীর্ণ কিতাব।
হাদিস নং - ৪৩৫৫
আমর ইবনু আলি (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত , - তিনি আয়াতটি সম্পর্কে বলেন, কিছু মানুষ কিছু জ্বীনকে ইবাদত করত। সেই জ্বীনেরা তো ইসলাম গ্রহন করে ফেলল। আর ঐ লোকজন তাদের (বাতিল) ধর্ম আঁকড়িয়ে রইল। আশজায়ি সুফআন সূত্রে আমাশ (রাঃ) থেকে আয়াতটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেন।
হাদিস নং - ৪৩৫৬
বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) - এ আয়াতটি সম্পর্কে বলেন, কিছু লোক জ্বীনের পূজা করত। পরে জ্বীনগুলো ইসলাম ধর্ম গ্রহন করল। তাদের সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।
হাদিস নং - ৪৩৫৭
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) -- এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, এ আয়াতে -- (স্বপ্নে দেখা নয়, বরং) চোখ দ্বারা প্রত্যক্ষ ভাবে দেখা বোঝানো হয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিরাজের রাতে প্রত্যক্ষ ভাবে দেখানো হয়েছিল। আর এখানে - (অভিশপ্ত বৃক্ষ)বলতে যাক্কুম (১) বৃক্ষ কে বোঝানো হয়েছে। (১) “যাক্কুম” বৃক্ষ , যা জাহান্নামীদের খাদ্য হবে। আল্লাহর বাণী “নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ হবে পাপীদের খাদ্য। গলিত তামরের ক্ষত , তা তাদের উদরে ফুটতে থাকবে”। ২৫:৪৩-৪৪:৪৫ জাহান্নামের এ বৃক্ষ এবং মিরাজ উভয় আপাত দৃষ্টিতে অস্বভাবিক ব্যাপার। তাই আল্লাহ এর দ্বারা মানুষ পরীক্ষা করেন। কে বিশ্বাস করে আর কে করেনা।
হাদিস নং - ৪৩৫৮
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বরনিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জামাতের সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার ফজিলত একাকী পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুন বেশি। আর প্রাতঃকালের সালাত (নামায/নামাজ) রাতের ফেরেশতারা এবং দিনের ফেরেশতারা সমবেত হয় (এ প্রসঙ্গে) আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াতটি পড়ে নিতে পার - (কায়েম করবে)“ ফজরের সালাত (নামায/নামাজ), ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)” পরিলক্ষিত হয় বিশেষ ভাবে”।
হাদিস নং - ৪৩৫৯
ইসমাইল ইবনু আবান (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন লোকেরা ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। প্রত্যেক নাবীর উম্মত নিজ নিজ নাবীর অনুসরন করবে। তারা বলবে, হে অমুক (নাবী)! আপনি সুপারিশ করুন। হে অমুক (নাবী)! আপনি সুপারিশ করুন। তারা কেউ সুপারিশ করতে রাজী হবেন না। শেষ পর্যন্ত সুপারিশের দায়িত্ব নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর বর্তাবে। আর এ দিনেই আল্লাহ তা’আলা তাকে প্রশংসিত স্থানে (১) (মাকামে মাহমুদে) প্রতিষ্ঠিত করবেন (২) (১) মাকামে মাহমুদ অর্থ প্রশংসিত স্থান। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেই সর্বপ্রথম “শাফায়াতকারির” মর্যাদা দান করে প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন। (২) -- অর্থ প্রতিষ্ঠিত করবেন। (জালালায়ন)।
হাদিস নং - ৪৩৬০
আলি ইবনু আইয়াশ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি আজানো শোনার পর এ দোয়া পড়বে , “হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহবানের এবং প্রতিষ্ঠিত সালাত (নামায/নামাজ)-এর প্রতিপালক, মুহাম্মাদ কে ওসিলা য় শ্রেষ্ঠত্ব দান কর। প্রতিষ্ঠিত কর তাকে মাকামে মাহমুদে, যার ওয়াদা তুমি করেছ”। কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফায়াত অনিবার্য হয়ে যাবে। এ হাদিসটি হামযা ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতার থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৪৩৬১
হুমায়দি (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (মক্কা বিজয়ের দিন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করলেন। তখন কা’বা ঘরের চারপাশে তিনশ ষাট টি মূর্তি ছিল। তাঁর হাতের ছড়ি দিয়ে তিনি এগুলোকে ঠোকা দিতে লাগলেন এবং বলছিলেন, “ সত্য এসেছে আর মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই” (৩৪;৪৯) “বল সত্য এসেছে আর অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে এবং না পারে পুনরাবৃত্তি করতে”।
হাদিস নং - ৪৩৬২
উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একটি ক্ষেতের মাঝে উপস্থিত ছিলাম। তিনি একটি খেজুর যষ্ঠীতে ভর করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় কিছু সংখ্যক ইহুদী যাচ্ছিল। তারা একে অন্যকে বলতে লাগলো , তাঁকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন কর। কেউ বলল, কেন তাকে জিজ্ঞেস করতে চাইছ? আবার কেউ বলল, তিনি এমন উত্তর দিবেন না যা তোমরা অপছন্দ কর। তারপর তারা বলল যে , তাকে প্রশ্ন কর। এরপরে তাকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিরত রইলেন। এ সম্পর্কে তাদের কোন উত্তর দিলেন না। আমি বুঝতে পারলাম, তার উপর ওহি নাযিল হবে। আমি আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর যখন ওহি নাযিল হল, তখন তিনি [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ] বললেন, --“তোমাকে তারা রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। বল, রুহ (১) আমার রবের আদেশ এবং তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে। (১৭;৮৫)। ১/ “রুহ” অর্থ আত্মা ও আদেশ। জীবের ক্ষেত্রে এর অর্থ আত্মা এবং আল্লাহর ক্ষেত্রে এর অর্থ আদেশ। যথা --- অর্থ আল্লাহর আদেশ।
হাদিস নং - ৪৩৬৩
ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহিম (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাত (নামায/নামাজ) স্বর উঁচু করবেনা এবং অতিশয় ক্ষীণ ও করবেনা। এ আয়াত টি এমন সময় অবতীর্ণ হয় যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় অপ্রকাশ্যে অবস্থান করছিলেন। তিনি যখন তার সাহাবাদের নিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন তখন তিনি উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা তা শুনে কুরআনকে গালি দিত। আর গালি দিত যিনি তা অবতীর্ণ করেছেন ও যিনি তা নিয়ে এসেছেন। এজন্য আল্লাহ তা’আলা তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছিলেন, “তুমি তোমার সালাত (নামায/নামাজ) উচ্চস্বরে কিরাত পড়বে না, যাতে মুশরিকরা শুনে কুরআনকে গালি দেয়, এবং তা এত নিম্ন স্বরে ও পড়বে না, যাতে তোমার সাহাবীরা শুনতে না পায়, বরং এ দুয়ের মধ্যপথ অবলম্বন কর”।
হাদিস নং - ৪৩৬৪
তালক ইবনু গাননাম (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , এ আয়াতটি দোয়ার ব্যপারে অবতীর্ণ হয়েছে।
হাদিস নং - ৪৩৬৫
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা রাতের বেলা তার ও ফাতিমার (রাঃ) কাছে এসে বললেন, তোমরা কি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছনা? (১) ১ / সালাত (নামায/নামাজ)- এর মর্ম ‘তাহাজ্জুদের সালাত (নামায/নামাজ)’ (পরবর্তী ঘটনা)আলি (রাঃ) বললেন, আল্লাহ আমাদের জেগে তাহাজ্জুদের সালাত (নামায/নামাজ) পরার তাওফিক দান করেন নি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম --- এ আয়াত পরে চলে গেলেন। (বুখারি ১ম খণ্ড , তাহাজ্জুদ অধ্যায়: )।
হাদিস নং - ৪৩৬৬
হুমায়দি (রহঃ) সাইদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস কে বললাম, নওফাল বাককালির ধারনা, খিযির ের সাথী – মূসা , তিনি বনী ইসরাইলের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা ছিলেন না। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর দুশমন [১] মিথ্যা কথা বলেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন) উবায় ইবনু কা’আব (রাঃ) আমাকে বলেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা বনী ইসরাইলের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, কোন ব্যাক্তি সবচে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি। এতে আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা এ জ্ঞানের কথাটিকে তিনি আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করেন নি। আল্লাহ তার প্রতি ওহী পাঠালেন , দু সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে ২ আমার এক বান্দা রয়েছে। সে তোমার চে অধিক জ্ঞানী। মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ইয়া রব! আমি কিভাবে তার সাক্ষাত পেতে পারি? আল্লাহ বললেন, তোমার সাথে একটি মাছ নাও এবং সেটা থলের মধ্যে রাখ। যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে সেখানেই। তারপর তিনি একটি মাছ নিলেন এবং সেটাকে থলের মধ্যে রাখলেন। অতঃপর রওনা দিলেন। আর সঙ্গে চললেন তাঁর খাদেম ‘য়ূশা’ ইবনু নুন। তারা যখন সমুদ্রের তীরে একটি বিরাট পাথরের কাছে এসে পৌঁছলেন , তখন তারা উভয়ই তার উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় মাছটি থলের মধ্যে লাফিয়ে উঠল এবং থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে পড়ে গেল। “মাছটি সুড়ঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল”। আর মাছটি যেখান দিয়ে চলে গিয়েছিল, আল্লাহ সেখানে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দিলেন। এবং সেখানে একটি সুড়ঙ্গের মত হয়ে গেল। যখন তিনি জাগলেন, তার সাথী তাকে মাছটির সংবাদ দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। সেদিনের বাকি সময় ও পরবর্তী রাত তারা চললেন। যখন ভোর হল, মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার খাদেমকে বললেন, ‘আমাদের প্রাতরাশ আন, আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ যে স্থানের ১ নির্দেশ করেছিলেন, সে স্থান অতিক্রম করার পূর্বে মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্লান্তি অনুভব করেন নি। তখন তার খাদিম তাকে বলল, ‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন আমরা যখন শিলা খণ্ডে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই এ কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ করে নেমে গেল সমুদ্রে’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাছটি তার পথ করে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিল এবং মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তার খাদেম কে তা আশ্চর্যান্বিত করে দিয়েছিল। মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমরা তো সে স্থান টিরই অনুসন্ধান করছিলাম। তারপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারা উভয়ে তাদের পদচিহ্ন অনুসরন করে সে শিলাখন্ডের কাছে ফিরে আসলেন। সেখানে এসে এক ব্যাক্তিকে কাপড় জড়ানো অবস্থায় পেলেন। মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে সালাম দিলেন। খিযির (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের এ স্থলে সালাম কোত্থেকে?২ তিনি বললেন, আমি মূসা। খিযির (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেশ করলেন, বনী ইসরাইলের মূসা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি আপনার কাছে এসেছি এ জন্য যে, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন। তিনি বললেন, তুমি কিছুতেই আমার সাথে ধৈর্য ধারন করে থাকতে পারবেনা। হে মূসা! আল্লাহর জ্ঞান থেকে আমাকে এমন কিছু জ্ঞান দান করা হয়েছে যা তুমি জানোনা আর তোমাকে আল্লাহ তাঁর জ্ঞান থেকে যে জ্ঞান দান করেছেন তা আমি জানিনা। মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ চাহেত, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। এবং আপনার কন আদেশ আমি অমান্য করবনা। তখন খিযির (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, আচ্ছা তুমি যদি আমার অনুসরন করই, তবে কন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেনা, যতক্ষণ আমি তোমাকে সে সম্পর্কে না বলি। তারপর উভয়ে চললেন। তারা সমুদ্রের তীর ধরে চলতে লাগলেন। তখন একটি নৌকা যাচ্ছিল। তারা তাদের নৌকায় উঠিয়ে নেওয়ার ব্যপারে নৌকার চালকদের সাথে আলাপ করলেন। তারা খিযির (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে চিনে ফেলল। তাই তাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে নৌকায় উঠিয়ে নিল। “যখন তারা উভয়ে নৌকায় আরোহণ করলেন” খিযির (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুড়াল দিয়ে নৌকার একটি তক্তা বিদীর্ণ করলেন। (এ দেখে) মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, এ লোকেরা তো বিনা পারিশ্রমিকে আমাদের বহন করছে, অথচ আপনি এদের নৌকাটি বিনষ্ট করতে চাইছেন? “আপনি নৌকাটি বিদীর্ণ করে ফেললেন, যাতে আরোহীরা ডুবে যায়। আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। আমি কি বলিনি যে তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্য ধারন করতে পারবেনা? মূসা বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না ও আমার ব্যপারে অত্যধিক কঠোরতা আবিলম্ব করবেন না’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রথমবারের এই অপরাধ টি ভুলবশত হয়েছিল। তিনি বললেন, এরপরে একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার পাশে বসে ঠোঁট দিয়ে সমুদ্রে এক ঠোকর মারল। খিযির (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললেন, এ সমুদ্র হতে পাখিটি যতটুকু পানি ঠোঁটে নিল, আমার য় তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় ততটুকু। তারপর তারা নৌকা থেকে অবতরন করে সমুদ্রের তীর ধরে চলতে লাগলেন। এমন সময় খিযির (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি বালককে অন্য বালকদের সাথে খেলতে দেখলেন। খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত দিয়ে ছেলেটির মাথা ধরে তাকে হত্যা করলেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন, “আপনি কি জানের বদলা ছাড়াই এক নিষ্পাপ জীবনকে হত্যা করলেন? আপনি ত এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবেনা? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ অভিযোগ করাটা ছিল প্রথমটির চাইতেও গুরুতর। (মূসা বললেন) এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি তাহলে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না। আপনার কাছে আমার ওজর আপত্তি চূড়ান্তে পৌঁছে গিয়েছে। তারপর উভয়ে চলতে লাগলেন। অবশেষে তারা এক জনপদের কাছে পৌঁছে তার অধিবাসীদের কাছে খাদ্য চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। তারপর তথায় তারা এক পতনম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন। বর্ণনা কারী বলেন, সেটি ঝুঁকে পড়েছিল। খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে সেতি সোজা করে দিলেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এ লোকদের কাছে আমরা এলাম। তারা আমাদের খাবার দিলনা এবং আমাদের মেহমানদারীও করলনা। “আপনি তো ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহন করতে পারতেন”। তিনি বললেন, এখানেই তোমার এবং আমার মধ্যে পার্থক্য ঘটল। যে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারন করতে পারনি, এ তার ব্যাখ্যা”। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার মনোবাঞ্ছা হচ্ছে যে, যদি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর একটু ধৈর্য ধারন করতেন, তাহলে আল্লাহ তাদের আরও ঘটনা আমাদের জানাতেন। সাইদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এভাবে এ আয়াত পাঠ করতেন - নিচের আয়াতটি এভাবে পাঠ করলেন -। ১/ নওফাল বাককালি একজন মুসলমান। ইবনু আব্বাস তাকে আল্লাহর দুশমন বলেছেন রাগান্বিত অবস্থায়। ২/ ‘সঙ্গমস্থলের’ অবস্থান সম্পর্কে মতভেদ আছে। নীল নদের দুমাথার সঙ্গম বা দজলায় ফোরাত নদীর সঙ্গম বা সিনাই উপত্যকায় উকাবা উপসাগর ও সুয়েজের মিলনস্থান। ১/ স্থানঃ যেখানে মাছটি হারানো যাবে। ২/ যে এলাকায় বসে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাক্ষাত হয়েছিল, সে এলাকায় কন মুসলমান ছিলনা। তাই তিনি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাম পেয়ে আশ্চর্যান্বিত হয়ে এ কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, এ অমুসলিম এলাকায় সালামের প্রচলন কিভাবে হল।
হাদিস নং - ৪৩৬৭
ইব্রাহিম ইবনু মূসা (রহঃ) সাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে তার ঘরে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ইচ্ছা করলে আমার কাছে প্রশ্ন কর। আমি বললাম, হে আবূ আব্বাস! আল্লাহ আমাকে আপনার উপর উৎসর্গ করুন। কুফায় নওফ নামে একজন বক্তা আছে। সে বলছে যে, (খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে যে মূসা র সাক্ষাত হয়েছিল তিনি বনী ইসরাইলের প্রতি প্রেরিত মূসা নন। তবে, আমর ইবনু দিনার আমাকে বলেছেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ কথা শুনে বললেন, আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। কিন্তু ইয়ালা (একজন বর্ণনাকারী)আমাকে বলেছেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) একথা শুনে বললেন, উবায় ইবনু কা’আব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর রাসুল মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন লোকদের সামনে ওয়াজ করছিলেন। অবশেষে যখন তাদের চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল এবং তাদের অন্তর বিগলিত হল, তখন তিনি (ওয়াজ সমাপ্ত করে) ফিরলেন। এক ব্যাক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! এ পৃথিবীতে আপনার চাইতে অধিক জ্ঞানী আর কেউ আছে? তিনি বললেন, না। এতে আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা তিনি এ কথাটি আল্লাহর উপর হাওয়ালা ১ করেন নি। তখন তাকে বলা হল, নিশ্চই আছে। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে রব! তিনি কোথায়? আল্লাহ বললেন, তিনি দুসমুদ্রের সঙ্গমস্থলে। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে রব! আপনি আমাকে এমন চিহ্ন বলুন, যার সাহায্যে আমি তার পরিচয় লাভ করতে পারি। বর্ণনাকারী ইবনু জুরাইহ বলেন, আমর আমাকে এভাবে বলেছেন যে, তাকে (সেখানে পাবে), যেখানে মাছটি তোমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর ইয়ালা আমাকে এভাবে বলেছেন, একটি মৃত মাছ নাও। যেখানে মাছটির মধ্যে প্রান দেওয়া হবে (সেখানেই তাকে পাবে)। তারপর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি মাছ নিলেন এবং তা থলের মধ্যে রাখলেন। তিনি তার খাদেম কে বললেন, আমি তমাকে শুধু অ্যা দায়িত্ব দিচ্ছি যে, মাছটি যে স্থানে তোমার থেকে চলে যাবে সে স্থানটির কথা আমাকে বলবে। খাদেম বলল, এ তো বড় দায়িত্ব নয়। এরই বিবরন রয়েছে আল্লাহ তা’আলার এ বাণীতেঃ “আর যখন মূসা বললেন, তার খাদেমকে অর্থাৎ ইউশা ইবনু নুনকে”। সাইদ (বর্ণনাকারী)এর বর্ণনায় নামের উল্লেখ নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তিনি একটি বড় পাথরের ছায়ায় ভিজা মাটির কাছে অবস্থান করছিলেন তখন মাছটি লাফিয়ে উঠল। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন নিদ্রায় ছিলেন। তার খাদেম (মনে মনে) বললেন, তাকে এখন জাগাব না। অবশেষে যখন তিনি জাগালেন, তখন তাকে মাছের খবর বলতে ভুলে গেল। আর মাছটি লাফিয়ে সমুদ্রে ঢুকে পড়ল। আল্লাহ তা’আলা মাছটির চলার পথে পানি বন্ধ করে দিলেন। পরিনামে যেন পাথরের মধ্যে চিহ্ন পড়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমর আমাকে বলেছেন যে, যেন পাথরের মধ্যে চিহ্ন এরুপ হয়ে রইল, বলে তিনি তার দুটি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙ্গুলগুলো একসাথে মিলিয়ে বৃত্তাকার বানিয়ে দেখালেন। (মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন) ‘আমরা ত আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি’। ইউশা বললেন, আল্লাহ আপনার থেকে ক্লান্তি দূর করে দিয়েছেন। সাইদের বর্ণনায় এ কথার উল্লেখ নেই। খাদেম তাকে মাছের পালিয়েযাবার সংবাদ দিলেন। তারপর তারা উভয়ে ফিরে এলেন এবং খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে পেলেন। বর্ণনাকারী ইবনু যুরাইজ বলেন, উসমান ইবনু আবূ সুলাইমান আমাকে বলেছেন যে, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম খিজিরআলাইহি ওয়া সাল্লাম কে পেলেন সমুদ্রের বুকে সবুজ বিছানার উপর। সাইদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) বলেন, তিনি চাঁদর মুড়ি দিয়েছিলেন। চাঁদরের এক পাশ ছিল তার দুপায়ের নিচে এবং অন্য পাশ ছিল তার মাথার উপর। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সালাম দিলেন। তিনি তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, আমার এ অঞ্চলেও কি সালাম আছে? তুমি কে? তিনি বললেন, আমি মূসা। খিজিরআলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বনী ইসরাইলের মূসা? উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার ব্যপার কি? মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি এসেছি, “সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন” তিনি বললেন, তোমার কাছে যে তাওরাত রয়েছে তা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? তোমার কাছে তো ওহী আসে। হে মূসা! আমার কাছে যে জ্ঞান আছে তা তোমার জানা সমীচীন নয়। আর তোমার কাছে যে জ্ঞান আছে তা আমার জানা উচিত নয়। এ সময় একটি পাখি এসে তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি নিল। (এ দৃশ্য দেখে) খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম , আল্লাহর জ্ঞানের কাছে আমার ও তোমার জ্ঞান এতটুকু। যতটুকু এ পাখীটি সমুদ্র হতে তার ঠোঁটে করে নিয়েছে। অবশেষে তারা উভয়ে নৌকায় আরোহণ করলেন। তারা ছোট খেয়া নৌকা পেলেন, যা এ পারের লোকদের ও পারে এবং ও পারের লোকদের এ পারে বহন করত। নৌকার লোকেরা খিযির কে চিনতে পারল। তারা বলল, আল্লাহর নেক বান্দা। ইয়ালা বলেন, আমরা সাইদকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা কি খিযির সম্পর্কে এ মন্তব্য করেছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (তারা বলল) আমরা তাকে পারিশ্রমিক নিয়ে বহন করবনা। এরপর খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নৌকা (এর একস্থান) বিদীর্ণ করে দিলেন এবং একটি গোঁজ দিয়ে তা বন্ধ করে দিলেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনি কি আরোহীদের নিমজ্জিত করার জন্য নৌকাটি বিদীর্ণ করলেন? আপনি তো গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ নিষিদ্ধ কাজ। তিনি (খিযির)বললেন, আমি কি বলিনি যে তুমি কিছুতেই আমার সঙ্গে ধৈর্য ধারন করতে পারবেনা?’ প্রথমটি ছিল মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষ থেকে ভুল। , দ্বিতীয়টি শর্তস্বরূপ এবং তৃতীয় ইচ্ছাকৃত বলে গণ্য। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না ও আমার ব্যপারে অত্যধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না। (এরপর) তারা এক বালকের সাক্ষাত পেলেন, খিযির তাকে হত্যা করে ফেললেন। ইয়ালা বলেন, সাইদ বলেছেন, খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বালকদের খেলাধুলা করতে দেখতে পেলেন। তিনি একটি চটপটে কাফের বালককে ধরলেন এবং তাকে পাশে শুইয়ে যবেহ করে ফেললেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বল্লেন, ’আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন অপরাধ ছাড়াই?’ সে তো কন গুনাহের কাজ করেনি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এখানে -- পড়তেন। --- ভাল মুসলমান। যেমন তুনি পড় ---। তারপর তারা দুজন চলতে লাগল এবং একটি পতনোম্মুখ প্রাচীর পেল। খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটাকে সোজা করে দিলেন। সাইদ তার হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন এরুপ , এবং তিনি তার হাত উঠিয়ে সোজা করলেন। ইয়ালা বলেন, আমার মনে হয় সাইদ বলেছিলেন, খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাচীরের উপর দুহাতে স্পর্শ করলেন এবং প্রাচীর দাঁড়িয়ে গেল। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনি ইচ্ছা করলে এ জন্য পারিশ্রমিক গ্রহন করতে পারতেন। সাইদ বলেন, --- দ্বারা এখানে খাদ্য দ্রব্য বোঝান হয়েছে। - এর অর্থ তাদের সামনে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতে -- (তাদের সামনে ছিল এক রাজা) পড়েন। সাইদ ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীরা সে রাজার নাম বলেছেন “হুদাদ ইবনু বুদাদ” আর হত্যা কৃত বালকটির [১] নাম ছিল জাইসুর। সে রাজা প্রত্যেকটি ভাল নৌকা বল প্রয়োগে ছিনিয়ে নিত। খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নৌকা বিদীর্ণ করার উদ্দেশ্য ছিল , (সে অত্যাচারী রাজা) ত্রুটি যুক্ত নৌকা দেখলে তা ছিনিয়ে নিবেনা। তারপর যখন অতিক্রম করে গেল, তখন তাদের নৌকা মেরামত করে নিল এবং তা ব্যবহার যোগ্য করে তুলল। কেউ বলে নৌকার ছিদ্রটা মেরামত করেছিল সীসা গলিয়ে। আবার কেউ বলে, আলকাতরা মিলিয়ে নৌকা মেরামত করেছিল। “তার পিতা মাতা ছিল মুমিন”। আর সে বালকটি ছিল কাফের। আমি আশংকা করলাম যে সে বিদ্রোহচরন ও কুফরির দ্বারা তাদের বিব্রত করবে। অর্থাৎ তার স্নেহ ভালবাসায় তাদের তার ধর্মের অনুসারী করে ফেলবে। এরপর আমি চাইলাম যে তাদের প্রতিপালক যেন তাদের ওর পরিবর্তে এক সন্তান দান করেন, যে হবে পবিত্রতায় মহত্তর ও ভক্তি ভালবাসায় ঘনিষ্টতর। খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে বালকটিকে হত্যা করেছিলেন, সে বালকটির চেয়ে পরবর্তী বালকটির প্রতি তার পিতামাতা অধিক স্নেহশীল ও দয়াশীল হবেন। ইবনু জুরাইয বলেন) সাইদ ব্যতীত অন্য সকল বর্ণনাকারী বলেছেন যে, এর অর্থ হল, সে বালকটির পরিবর্তে আল্লাহ তাদের একটি কন্যা সন্তান দান করেন। দাউদ ইবনু আবূ আনিস বলেন, এখানে কন্যা সন্তান বোঝানো হয়েছে। ১/ খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে বালকটি কে হত্যা করেছিল।
হাদিস নং - ৪৩৬৮
কুতায়বা ইবনু সাইদ (রহঃ) সাইদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে বললাম, নওফুল বাককালির ধারনা, বনী ইসরাইলের মূসা , খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথী মূসা একই ব্যাক্তি নয়। এ কথা শুনে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শত্রু মিথ্যা বলেছে। উবায় ইবনু কা’আব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদা মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনী ইসরাইলের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যাক্তি কে? তিনি বললেন, আমি। আল্লাহ তার একথায় অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা, তিনি এ কথাটি আল্লাহর দিকে নিসবত করেন নি। আল্লাহ তার উপর ওহী নাযিল করে বললেন, (হে মূসা!) দুসমুদ্রের সঙ্গমস্থলে আমার এক বান্দা আছে। সে তোমার চাইতে অধিক জ্ঞানী। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে রব! আমি তার কাছে কিভাবে যেতে পারি? আল্লাহ বললেন, থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে রওয়ানা হও। যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে সেখানেই তার অনুসরন করবে। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম রওয়ানা হলেন এবং তার সাথে ছিল তার খাদেম ইয়ুশা ইবনু নুন। তারা মাছ সাথে নিলেন। তারা চলতে চলতে সমুদ্রের তীরে একটি বিশাল শিলা খণ্ডের কাছে পৌঁছে গেলেন। সেখানে তারা বিশ্রামের জন্য থামলেন। বর্ণনাকারী বলেন, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিলা খণ্ডের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরলেন। সুফিয়ান বলেন, আমর ইবনু দীনার ছাড়া সকল বর্ণনাকারী বলেছেন, শিলা খণ্ডের তলদেশে একটি ঝরনা ছিল। তাকে হায়াত বলা হত। কেননা যে মৃতের উপর তার পানি পড়ে , সে অমনি জীবিত হয়ে উঠে। সে মাছটির উপরও ওই ঝরনার পানি পড়ল এবং সাথে সাথে সে লাফিয়ে উঠল। তারপর মাছটি বের হয়ে সমুদ্রে চলে গেল। এরপরে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন জেগে উঠলেন। “মূসা তার খাদেমকে বললেন, আমাদের নাস্তা আন। আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি”। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে স্থান সম্পর্কে তাকে বলা হয়েছিল সে স্থান অতিক্রম করার পর থেকেই তিনি ক্লান্তি অনুভব করছিলেন। তার খাদেম ইউশা ইবনু নুন তাকে বললেন, ‘আপনি কি লক্ষ করেছেন আমরা যখন শিলা খণ্ডে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে সে স্থানে প্রত্যাবর্তন করলেন। তারা সমুদ্রে মাছটির চলে যাওয়ার জায়গায় সুড়ঙ্গের মত দেখতে পেলেন। যা মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথী যুবক কে আশ্চর্যান্বিত করে দিল। যখন তারা শিলা খণ্ডের কাছে পৌঁছলেন , সেখানে এক ব্যাক্তিকে কাপড় আবৃত অবস্থায় দেখতে পেলেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সালাম দিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের এলাকায় সালামের প্রথা কিভাবে এল? মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি মূসা। তিনি(খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বনী ইসরাইলের মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম? মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তারপর বললেন, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন – এ শর্তে আমি আপনার অনুসরন করব কি? খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে মূসা! তুমি আল্লাহ কর্তৃক যে জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছ তা আমি (সম্পূর্ণভাবে) জানিনা। আর আমি আল্লাহর থেকে যে ‘ইল্ম’ লাভ করেছি তাও (সম্পূর্ণভাবে)তুমি জানোনা। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি আপনার অনুসরন করব। খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আচ্ছা তুমি যদি আমার অনুসরন করই , তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেনা, যতক্ষণ না আমি সে বিষয়ে তোমাকে কিছু বলি। তারপর তারা সমুদ্রের তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। একটি নৌকা তাদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। নৌকার লোকেরা খিযির কে দেখে চিনতে পারল। তারা বিনা পারিশ্রমিকে তাদের নৌকায় উঠিয়ে নিল। তারা নৌকায় আরোহণ করলেন। এ সময় একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকার অগ্রভাগে বসলো। পাখীটি সমুদ্রে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন, তোমার, আমার এবং সৃষ্টি জগতের জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের তুলনায় অতখানি, যতখানি এ চড়ুই পাখি তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি উঠাল। বর্ণনাকারী বলেন, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্থান পরিবর্তন করেন নি। খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা করলেন। এমতাবস্থায় খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম নৌকা বিদীর্ণ করে দিলেন। তখন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, এরা আমাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের নৌকায় নিয়ে এল আর আপনি আরোহীদের নিমজ্জিত করার জন্য নৌকাটি বিদীর্ণ করে দিলেন। আপনি তো এক গর্হিত কাজ করলেন। তারপর তারা আবার চলতে লাগলেন। (পথে) এবং দেখতে পেলেন যে, একটি বালক কতগুলো বালকের সাথে খেলা করছে। খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে বালকটির শিরচ্ছেদ করে দিলেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন অপরাধ ছাড়াই? আপনি তো এক গর্হিত কাজ করে ফেলেছেন। তিনি বললেন, আমি কি বলিনি যে তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবেনা? মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না। আমার ওজরের চূড়ান্ত হয়েছে। তারপর তারা চলতে লাগলেন। তারা এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছলেন এবং তাদের কাছে খাদ্য চাইলেন। তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। তারপর সেখানে তারা এক পতনম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেল। বর্ণনাকারী হাতের ইশারায় দেখালেন যে, এভাবে খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম পতনম্মুখ প্রাচীর সোজা করে দিলেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম , খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন, আমরা যখন এ জনপদে প্রবেশ করছিলাম, তখন জনপদের অধিবাসীরা আমাদের মেহমানদারী করেনি এবং আমাদের খেতে দেয়নি। এ জন্য আপনি ইচ্ছা করলে পারিশ্রমিক গ্রহন করতে পারতেন। খিযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এখানেই তোমার এবং আমার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। যে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধরতে পারনি আমি তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি আরেকটু ধৈর্যধারণ করতেন তবে আমরা তাদের দুজনের ঘটনাবলী সম্পর্কে আরও জানতে পারতাম। সাইদ বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর স্থানে --- পড়তেন। অর্থ তাদের সম্মুখে ছিল এক রাজা। , যে বল প্রয়োগে ভাল নৌকা ছিনিয়ে নিত। আর বালকটি ছিল কাফের”।
হাদিস নং - ৪৩৬৯
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) মূসা য়াব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে [১] জিজ্ঞেস করলাম, - এ আয়াতে যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা ‘হারুরি’ [২] গ্রামের অধিবাসী। তিনি বললেন, না। তারা হল ইহুদি য় খ্রিষ্টান। কেননা ইহুদিরা মুহাম্মদ কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং খ্রিষ্টানরা জান্নাতকে অস্বীকার করত এবং বলত, সেখানে কোন খাদ্য পানীয় নেই। আর হারুরিরা হচ্ছে, যারা আল্লাহর সাথে ওয়াদা করার পরও তা ভঙ্গ করে। সা’দ তাদের বলতেন ফাসিক। ১/ সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস। ২/ কুফার নিকটবর্তী একটি গ্রামের নাম। আলি (রাঃ) এর বিরুদ্ধে ‘খারিজী সম্প্রদায়ের’ আন্দোলন এ গ্রাম থেকেই শুরু হয়।
হাদিস নং - ৪৩৭০
মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন একজন খুব মোটা ব্যাক্তি আসবে। কিন্তু সে আল্লাহর নিকট মশার ডানার চেয়েও ক্ষুদ্র হবে। তারপর তিনি বলেন, পাঠ করো, ‘ কিয়ামতের দিন তাদের কাজের কোন গুরুত্ব রাখবনা। [১] ইয়াহিয়াহ ইবনু বুকায়র (রহঃ) আবূ যিনাদ (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত আছে। ১/ পুণ্য মনে করে তারা যে সকল কর্ম করেছে, তাদের কোন ওজন থাকবেনা। অর্থাৎ সেগুল কোন কাজে আসবেনা।
হাদিস নং - ৪৩৭১
উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) আবূ সাইদ খুদরি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন মৃত্যু কে একটি ধুসর রঙের মেষের আকৃতিতে আনা হবে। তখন একজন সম্বোধনকারী ডাক দিয়ে বলবেন, হে জান্নাতবাসী! তখন তারা ঘাড় মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। সম্বোধনকারী বলবেন, তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে, হ্যাঁ, এতো মৃত্যু। কেননা প্রত্যেকেই তাকে দেখেছে। তারপর সম্বোধনকারী আবার ডেকে বলবেন, হে জাহান্নামবাসী! জাহান্নামীরা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। তখন সম্বোধনকারী বলবে, তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে, হ্যাঁ, এতো মৃত্যু। কেননা প্রত্যেকেই তাকে দেখেছে। তারপর (সেটি) যবেহ করা হবে। আর ঘোষক বলবেন, হে জান্নাতবাসী! স্থায়ী ভাবে এখানে থাক। তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী! চিরদিন এখানে থাক। তোমাদের আর মৃত্যু নেই। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন, “তাদের সতর্ক করে দাও পরিতাপের দিবস সম্বন্ধে যখন সকল সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে অথচ এখন তারা গাফিল, তারা অসতর্ক দুনিয়াবাসি, অবিশ্বাসী”।
হাদিস নং - ৪৩৭২
আবূ নুয়াইম (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার জিবরাঈলকে বললেন, আপনি আমার সঙ্গে যতবার সাক্ষাত করেন, তার চাইতে বেশি সাক্ষাত করতে আপনাকে কিসে বাধা দেয়? [১] তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল “আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ব্যতীত অবতরণ করবনা (যা রয়েছে আমাদের সম্মুখে ও পেছনে)”। ১/ কিছু কালের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ওহী বন্ধ ছিল। এতে রাসুল খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপস্থিত হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিলম্বের কারন জিজ্ঞেস করেন। এ হাদিসখানা সাওরি (রহঃ) আ’মাশ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন।
হাদিস নং - ৪৩৭৩
হুমায়দি (রহঃ) মাসরুক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খাব্বাব (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি (খাব্বাব) বলেন, আমি আস ইবনু ওয়ায়েল সাহমির নিকট গেলাম। তার কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল, তা আদায় করার জন্য। আস ইবনু ওয়ায়েল বলল, আমি তোমার প্রাপ্য তোমাকে দিবনা যতক্ষন তুমি মুহাম্মদের প্রতি অবিশ্বাস না করো। [১] তখন আমি বললাম, না, এমনকি তুমি মরে গিয়ে আবার জীবিত হয়ে আসলেও তা হওয়ার নয়। আস ইবনু ওয়ায়েল বলল, আমি কি মরে যাবার পর আবার জীবিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। আস ইবনু ওয়ায়েল বলল, নিশ্চয়ই তথায়ও আমার ধন সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি থাকবে, তা থেকে আমি তোমার ঋণ পরিশোধ করব। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “তুমি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবেই”। [১] অর্থাৎ মুহাম্মদ কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসেবে অস্বীকার করা।
হাদিস নং - ৪৩৭৪
মুহাম্মদ ইবনু কাসির (রহঃ) খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কায় থাকাকালে কর্মকারের কাজ করতাম। এ সময় আস ইবনু ওয়ায়েল কে একখানা তরবারি বানিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর একদিন আমার সে (তরবারির) পাওনার তাগাদায় তার নিকট আসলাম। সে বলল, মুহাম্মদ কে অস্বীকার না করা পর্যন্ত তোমার পাওনা দেবনা। আমি বল্লেম, মুহাম্মদ কে অস্বীকার করবনা। এমনকি আল্লাহ তোমাকে মৃত্যু দিবার পর তোমাকে পুনরায় জীবিত করা পর্যন্ত। সে বলল, আল্লাহ যখন আমাকে মৃত্যুর পরে আবার জীবিত করবেন, তখন আমার ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততিও থাকবে। (সেখানে তোমার পাওনা দিয়ে দিব)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেনঃ“তুমি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবেই। সেকি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট হতে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে’? রাবি বলেন, -- এর অর্থ দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। আশজায়ি (রহঃ) সুফিয়ান থেকে বর্ণনার মধ্যে - (তরবারি) শব্দ এবং (প্রতিশ্রুতি) শব্দ উল্লেখ করেন নি।
হাদিস নং - ৪৩৭৫
বিশর ইবনু খলিদ (রহঃ) খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাহিলিয়াতের যুগে কর্মকার ছিলাম। সে সময় আস ইবনু ওয়ায়েলের কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। আমি পাওনা তাগাদা করতে তার কাছে আসলে সে বলল, আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করবনা। যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মদকে অস্বীকার করো। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম। আমি অস্বীকার করবনা। এমনকি আল্লাহ তোমাকে মেরে ফেলার পর আবার তোমাকে জীবিত করার পরও নয়। বলল, তাহলে তুমি আমাকে ছেড়ে দাও আমি মরে আবার জীবিত হয়ে উঠা পর্যন্ত। তখন তো আমাকে সম্পদ সন্তান দেওয়া হবে। তখন তোমাকে পরিশোধ করে দিব। এ প্রসঙ্গে আ আয়াত নাযিল হয়। “তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবেই”।
হাদিস নং - ৪৩৭৬
ইয়াহইয়া (রহঃ) খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একজন কর্মকার ছিলাম। এবং আস ইবনু ওয়ায়েল এর নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। আমি পাওনা তাগাদা করতে তার কাছে আসলে সে বলল, আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করবনা। যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মদকে অস্বীকার করো। তখন তিনি বললেন, আমি কখনও তাকে অস্বীকার করবনা। এমনকি তুমি মরার মর জীবিত হওয়া পর্যন্তও না। আস বলল, আমি যখন মৃত্যুর পর আবার জীবিত হব তখন অবলম্বনে আমি সম্পদ ও সন্তানের দিকে প্রত্যাবর্তন করব এবং তোমাকে পরিশোধ করে দিব। এ সময় আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেন। “তুমি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবেই। ‘সেকি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট হতে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে? কখনওই নয়, তারা যা বলে, আমি তা অনতিবলম্বে লিখে রাখব এবং তাদের শাস্তি বৃদ্ধি করতে থাকব। সে যে বিষয়ের কথা বলে তা থাকবে আমার অধিকারে এবং সে আমার নিকট আসবে একা”।
হাদিস নং - ৪৩৭৭
সালত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিলিত হলেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন, আপনি তো সে ব্যাক্তি মানব জাতিকে কষ্টের মধ্যে ফেলেছেন এবং তাদের জান্নাত থেকে বহিষ্কার করিয়েছেন? আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, আপনি তো সে ব্যাক্তি আপনাকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রিসালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য মনোনীত করে নিয়েছেন, এবং বাছাই করেছেন আপনাকে নিজের জন্য এবং আপনার উপর তাওরাত নাযিল করেছেন? মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনি তাতে অবশ্যই পেয়েছেন যে, আমার সৃষ্টির আগেই আল্লাহ তা’আলা তা আমার জন্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এভাবে আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর জয়ী হলেন। --- সমুদ্র।
হাদিস নং - ৪৩৭৮
ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহিম (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় এলেন, তখন ইহুদিরা আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করত। তিনি তাদের (সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) র কারন) জিজ্ঞেস করলেন। তারা বলল, এ দিনে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরাউনের উপর জয় লাভ করেছিলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরাই তো তাদের চাইতে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটবর্তী। এরপর মুসলিমদের নির্দেশ দিলেন, তোমরা এ দিন সিয়াম পালন করো।
হাদিস নং - ৪৩৭৯
কুতায়বা ইবনু সাইদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে যুক্তি উত্থাপন করে বললেন, আপনি তো সে ব্যাক্তি, আপনার গুনাহ দ্বারা মানব জাতিকে জান্নাত থেকে বের করেছেন এবং তাদের দুঃখ কষ্টে ফেলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তো সে ব্যাক্তি, আল্লাহ পাক আপনাকে রিসালাত (নামায/নামাজ)-এর দায়িত্ব অর্পণ করার জন্য এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য মনোনীত করেছেন। তবুও কি আপনি আমাকে এমন বিষয়ের জন্য ভর্ৎসনা করবেন, যা আল্লাহ আমার সৃষ্টির আগেই আমার সম্পর্কে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, অথবা বললেন, আমার সৃষ্টির পূর্বেই তা আমার সম্পর্কে নির্ধারণ করে রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ (যুক্তির মাধ্যমে) আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর জয়ী হলেন।
হাদিস নং - ৪৩৮০
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরা বনী ইসরাইল, কাহফ, মরিয়ম, তাহা এবং আম্বিয়া প্রথমে অবতীর্ণ অতি উত্তম সূরা। এগুল আমার পুরনো রক্ষিত সম্পদ। কাতাদা (রহঃ) বলেন, - অর্থ টুকরা টুকরা করা। হাসান বলেন, (কক্ষপথ) সুতা কাতার চরকির মত। -- ঘুরছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, মানে চরে খেয়েছিল। --- বাধা দেওয়া হবে। অর্থাৎ তোমাদের দ্বীন একই দ্বীন। ইকরামা বলেন, - অর্থ হাবশি ভাষায় জ্বালানী কাঠ। অন্যরা বলেন, অর্থ তারা আঁচ করেছিল। আর এ শব্দটি - থেকে উদ্ভুত। - নির্বাপিত। কর্তিত শস্য। শব্দটি একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচনেও ব্যবহৃত হয়। --- ক্লান্তি বোধ করেনা। এর থেকে উদ্ভুত --। আমি আমার উটকে ক্লান্ত করে দিয়েছি। - অর্থ দূরত্ব। - উল্টিয়ে দেওয়া হয়েছে। --- অর্থাৎ বর্মাদি। -- অর্থ তারা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে। - এগুলোর একই অর্থ, মৃদু আওয়াজ। -- আমি তোমাকে জানিয়েছি। যখন তুমি তাকে জানিয়ে দিলে তখন তুমি আর সে একই পর্যায়ের। তুমি চুক্তি ভঙ্গ করলেনা। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, -- অর্থাৎ তোমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। -- সে সম্মত হল। --- মূর্তি সমূহ। লিপিবদ্ধ কাগজ।
হাদিস নং - ৪৩৮১
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ভাষণে বলেন, কিয়ামতের দ্বীন তোমরা আল্লাহ তা’আলার সামনে বিবস্ত্র এবং খাতনা বিহীন অবস্থায় একত্রিত হবে। (এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন)। --- “ যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; আমার উপর এ ওয়াদা রইল; অবশ্যই আমি তা কার্যকর করব”। এরপর কিয়ামতের দ্বীন সর্বপ্রথম পোশাক পরিধান করানো হবে ইব্রাহিম আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে। জেনে রাখ। আমার উম্মতের মধ্য থেকে বহু লোককে উপস্থিত করা হবে। এরপর তাদের ধরে বাম (জাহান্নামের) দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলব, হে রব! এরা তো আমার সঙ্গী-সাথি (উম্মত)। এরপর বলা হবে, আপনি জানেন না আপনার পরে অরা নতুন কাজে (ইসলামের মধ্যে) (বিদআত) লিপ্ত হয়েছে। তখন আমি সে কথা বলব যেমন আল্লাহর নেক বান্দা (ইসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেনঃ “যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের কার্যাবলীর প্রত্যক্ষদর্শী। কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে, তখন তুমই ছিলে তাদের কার্যাবলীর প্রত্যক্ষকারী এবং তুমই সর্ববিষয়ে সাক্ষী”। এরপর বলা হবে, তুমি এদের থেকে চলে আসার পর এরা মুরতাদ হতে চলেছে।
হাদিস নং - ৪৩৮২
উমর ইবনু হাফস (রহঃ) আবূ সাইদ খুদরি (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, হে আদম! তিনি বলবেন, হে রব! আমার সৌভাগ্য, আমি হাজির। তারপর তাকে উচ্চস্বরে ডেকে বলা হবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা তোমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমার বংশধর থেকে একদলকে বের করে জাহান্নামের দিকে নিয়ে আস। আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবেন, হে রব! জাহান্নামের দলের পরিমান কি? বলবে, প্রতি হাজার থেকে আমার ধারনা যে, বললেন, নয়শত নিরানব্বই, এ সময় গর্ভবতী মহিলা গর্ভপাত করবে, শিশুরু া বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং তুমি মানুষকে দেখেবে মাতাল; অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুত আল্লাহর শাস্তি কঠিন। (পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করলেন), এ কথা লোকদের কাছে ভয়াবহ মনে হল। এমনকি তাদের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন তো ইয়াজুজ মাজুজ থেকে নেওয়া হবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন। আবার মানবকুলের মধ্যে তোমাদের তুলনা হবে যেমন, সাদা গরুর পার্শ্ব মধ্যে যেন একটি কালো পশম অথবা কালো গরুর পার্শ্ব মধ্যে যেন একটি সাদা পশম। আমি অবশ্য আশা রাখিি যে জান্নাতবাসীদের মধ্যে তোমরাই হবে এক চতুর্থাংশ। (রাবি বলেন) আমরা সবাই খুশিতে বলে উঠলাম, আল্লাহু আকবর। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের এক তৃতীয়াংশ। আমরা বলে উঠলাম, আল্লাহু আকবর। তারপর তিনি বললেন, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের অর্ধেক। আমরা বলে উঠলাম, আল্লাহু আকবর। আমাশ থেকে উসামার বর্ণনায় রয়েছে --- এবং তিনি (সন্দেহাতীতভাবে) বলেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন। জারীর, ঈসা, ইবনু ইউনুস ও আবূ মুয়াবিয়ার বর্ণনায় --- এবং --এরয়েছে।
হাদিস নং - ৪৩৮৩
ইব্রাহিম ইবনু হারিস (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি - সম্পর্কে বলেন, কোন ব্যাক্তি মদিনায় আসার পর যদি তার স্ত্রী পুত্র-সন্তান প্রসব করত এবং তার ঘোড়ায় বাচ্চা দিত , তখন বলত এ দ্বীন ভাল। আর যদি তার স্ত্রী গর্ভে পুত্র সন্তান না হত এবং তার ঘোড়াও বাচ্চা না দিত, তখন বলত এ ধর্ম খারাপ।
হাদিস নং - ৪৩৮৪
হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এ আয়াত সম্পর্কে কসম খেয়ে বলেন, এ আয়াত -- (এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালকের ব্যপারে বিতর্ক করছে)। হামযা এবং তার দুই সঙ্গী, এবং উতবা ও তার দুই সঙ্গীর ব্যপারে, নাযিল হয়েছে, যেদিন তারা বদরের যুদ্ধে প্রতিপক্ষের সাথে মোকাবেলা করেছিল। সুফিয়ান আবূ হাশিম সূত্রে এবং উসমান এ বক্তব্যটি আবূ মিজলাযের উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
হাদিস নং - ৪৩৮৫
হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) আলি ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমই সর্বপ্রথম কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে নতজানোু হয়ে নালিশ নিয়ে দাঁড়াব। কায়েস বলেন, এ ব্যপারেই - আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, এরাই বদরের যুদ্ধে সর্বপ্রথম প্রতিপক্ষের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল। অর্থাৎ আলী, হামযা ও উবায়দা, শায়বা ইবনু রাবিয়া, উতবা ইবনু রাবিয়া এবং ওয়ালিদ ইবনু উতবা।
হাদিস নং - ৪৩৮৬
ইসহাক (রহঃ) সালাহ ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উয়াইমির (রাঃ) আসিম ইবনু আদির নিকট আসলেন। তিনি আজলান গোত্রের সর্দার। উয়াইমির তাকে বললেন, তোমরা ঐ ব্যাক্তি সম্পর্কে কি বল, যে তার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষ দেখতে পায়। সেকি তাকে হত্যা করবে? এরপর তো তোমরা তাকেই হত্যা করবে অথবা সে কি করবে? তুমি আমার তরফ থেকে এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস কর। তারপর আসিম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের প্রশ্ন অপছন্দ করলেন। তারপর উয়াইমির (রাঃ) তাকে প্রশ্ন করলেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের প্রশ্ন না-পছন্দ করেছেন ও দূষণীয় মনে করেছেন। তখন উয়াইমির বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি এ বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত বিরত হবনা। তারপর তিনি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য একটি পুরুষকে দেখতে পেলে সেকি তাকে হত্যা করবে? তখন তো আপনারা তাকে (কিসাস স্বরূপ) হত্যা করে ফেলবেন। অথবা সে কি করবে? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার ও তোমার স্ত্রী সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামী স্ত্রী দুজনকে ‘লিয়ান’ করার নির্দেশ দিলেন, যেভাবে আল্লাহ তা’আলা তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তারপর উয়াইমির তার স্ত্রীর সাথে লিয়ান করলেন। এরপর বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! (এরপরও) যদি আমি তাকে রাখি তবে তার প্রতি আমি জালিম হব। তারপর তিনি তাকে তালাক দিয়ে দিলেন। অতএব, তাদের পরবর্তী লোকদের জন্য, যারা পরস্পর ‘লিয়ান’ করে, এটই সুন্নতে পরিনত হল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লক্ষ্য কর, যদি মহিলাটি একটি কালো ডাগর চক্ষু, বড় পাছা ও বড় পা বিশিষ্ট সন্তান জন্ম দেয়, তবে আমি মনে করব, উয়াইমিরই তার সম্পর্কে সত্য বলেছে। এবং যদি সে লাল গিরগিটির মত একটি লাল বর্ণের সন্তান প্রসব করে তবে আমি মনে করব, উয়াইমির তার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে। এরপর সে এমন একটি সন্তান প্রসব করল, যার গুনাবলি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উয়াইমির সত্যবাদী হওয়ার পক্ষে বলেছিলেন। তারপর সন্তানটিকে মায়ের দিকে সম্পৃক্ত করে পরিচয় দেওয়া হত।
হাদিস নং - ৪৩৮৭
সুলাইমান ইবনু দাউদ (রহঃ) আবূ রবি (রহঃ) সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি আমাকে বলুন তো, একজন তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যাক্তিকে দেখতে পেল। সেকি তাকে হত্যা করবে? পরিনামে আপনারা তাকে হত্যা করবেন। অথবা সে আর কি করতে পারে? তারপর আল্লাহ তা’আলা এ দুজন সম্পর্কে আয়াত নাযিল করেন, যা কুরআন শরিফে পরস্পর লানত করা সম্পর্কে বর্ণিত। তখন তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার ও তোমার স্ত্রীর সম্পর্কে ফয়সালা হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তারা উভয়ে পরস্পর ‘লিয়ান’ করল। তখন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তারপর সে তার স্ত্রীকে পৃথক করে দিল। এরপর তা নিয়মে পরিনত হল যে, লিয়ান কারী উভয়কে পৃথক করে দেওয়া হবে। মহিলাটি গর্ভবতী ছিল। তার স্বামী তার গর্ভ অস্বীকার করল। সুতরাং সন্তান টিকে তার মায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ডাকা হত। তারপর উত্তরাধিকার স্বত্বে এ নিয়ম চালু হল যে, সন্তান মায়ের ‘মিরাস’ পাবে। আর মাতাও সন্তানের মিরাস পাবে, যা আল্লাহ তা’আলা তার ব্যপারে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
হাদিস নং - ৪৩৮৮
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। হিলাল ইবনু উমাইয়া রাসুলুল্লাহ এর কাছে শারিক ইবনু সাহমার সাথে তার স্ত্রীর ব্যভিচারের অভিযোগ করল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাক্ষী (হাযির কর) নতুবা শাস্তি তোমার পিঠে পরবে। হিলাল বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! যখন আমাদের মধ্যে কেউ তার স্ত্রীর উপর অন্য কাউকে দেখে তখন সে কি সাক্ষী তালাশ করতে যাবে? তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে লাগলেন, সাক্ষী নতুবা শাস্তি তোমার পিঠে। হিলাল বললেন, শপথ সে সত্তার, যিনি আপনাকে সত্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিসেবে পাঠিয়েছেন, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী। অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা এমন বিধান অবতীর্ণ করবেন, যা আমার পিঠকে শাস্তি থেকে মুক্ত করে দিবেন। তারপর জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম এলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিল করা হলঃ --- “যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে” থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন, “যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে” পর্যন্ত। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরলেন এবং তার স্ত্রীকে [১] ডেকে আনার জন্য লোক পাঠালেন।। হিলাল এসে সাক্ষী দিলেন [২] আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, আল্লাহ তা’আলা তো জানেন যে তোমাদের দুজনের মধ্যে অবশ্যই একজন মিথ্যাবাদী। তবে কি তোমাদের মধ্যে কেউ তওবা করবে? স্ত্রী লোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিল। সে যখন পঞ্চম বারের কাছে পৌঁছল, তখন লোকেরা তাকে বাঁধা দিল এবং বলল , নিশ্চয়ই এটি তোমার উপর অবশ্যম্ভাবী। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, একথা শুনে সে দ্বিধাগ্রস্ত হল এবং ইতস্তত করতে লাগল। এমনকি আমরা মনে করতে লাগলাম যে, সে নিশ্চয়ই প্রত্যাবর্তন করবে। পরে সে বলে উঠল, আমি চিরকালের জন্য আমার বংশকে কলুষিত করবনা। সে তার সাক্ষ্য পূর্ণ করল। [৩] নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর প্রতি দৃষ্টি রেখ। যদি সে কালো, ডাগর চক্ষু, বড় পাছা ও মোটা নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে ও সন্তান শারিক ইবনু সাহমার। পরে সে অনুরূপ সন্তান জন্ম দিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি এ বিষয়ে আল্লাহর কিতাব কার্যকর না হত, তাহলে অবশ্যই আমার ও তার মধ্যে কি ব্যপার যে ঘটত। ১/ খাওলা। ২/ আনিত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে শপথ করলেন। ৩/ পঞ্চম বার শপথ করল।
হাদিস নং - ৪৩৮৯
মুকাদ্দাম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে তার স্ত্রীর উপর (যেনার) অভিযোগ আনে এবং সে তার স্ত্রী সন্তানের অস্বীকার করে। রাসুল উভয়কে লিয়ান করতে আদেশ দেন। আল্লাহ তা’আলা যেভাবে বলেছেন, সেভাবে সে লিয়ান করে। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সিদ্ধান্ত দিলেন যে, সন্তানটি স্ত্রীর আর তিনি লিয়ান কারী দুজনকে পৃথক করে দিলেন। অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “যারা এ অপবাদ রচনা করেছে , তারা তো তোমাদেরই একটি দল; একে তোমরা তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করোনা; বরং এ তো তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের প্রত্যেকের জন্য আছে তাদের কৃত পাপকর্মের ফল এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি”। -- অর্থ অতি মিথ্যাবাদী।
হাদিস নং - ৪৩৯০
আবূ নুয়াইম (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে এ অপবাদের প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল, সে হল আবদুল্লাহ ইবনু উবায়। যখন তোমরা তা শ্রবন করলে, তখন কেন বললে না, এ বিষয়ে বলাবলি করা আমাদের উচিত নয়। আল্লাহ পবিত্র, এ তো এক গুরুতর অপবাদ। তারা কেন এ ব্যপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনি? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, সে কারনে তারা আল্লাহর বিধানে মিথ্যাবাদী”।
হাদিস নং - ৪৩৯১
ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) ইবনু শিহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন উরওয়া ইবনু যুবায়র, সাইদ ইবনু মূসা ইয়িব, আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস, উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবা ইবনু মাসুদ (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) এর ঘটনা সম্পর্কে বলেন, যখন অপবাদকারীরা তার প্রতি অপবাদ এনেছিল এবং আল্লাহ তা’আলা তাঁকে তাদের অভিযোগ থেকে নির্দোষ থাকার বর্ণনা দেন। তাদের প্রত্যেকেই ঘটনার অংশবিশেষ আমাকে অবহিত করেন। অবশ্য তাদের পরস্পর পরস্পরের বর্ণনা সমর্থন করে, যদিও তাদের মধ্যে কেউ অন্যের তুলনায় এ ঘটনাটি বেশি সংরক্ষণ করেছে। তবে উরওয়া আয়শা (রাঃ) থেকে এরুপ বলেছিলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়শা (রাঃ) বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কথাও সফরে বের হতেন, তখন তিনি তার স্ত্রী গনের মধ্যে লটারি দিতেন। এতে যার নাম উঠত , তাঁকে সঙ্গে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হতেন। আয়শা (রাঃ) বলেন, অতএব, কোন এক যুদ্ধে যাওয়ার সময় আমাদের মধ্যে লটারি দিলেন। তাতে আমার নাম উঠল। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হলাম, পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরে। আমাকে হাওদায় করে উঠান হত এবং তাতে করে নামান হত। এ ভাবেই আমরা চললাম। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ শেষ করে ফিরলেন এবং ফেরার পথে আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম। একদা (মনজিল থেকে) রওয়ানা দেওার জন্য রাত থাক্তেই ঘোষণা দিলেন। এ ঘোষণা দিলে আমি উটে চড়ে সৈন্যদের অবস্থানস্থল থেকে কিছু দূরে চলে গেলাম। আমার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে যখন সওয়ারীর কাছে এলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, জাফারের দানা খচিত আমার হারটি ছিঁড়ে কথাও পড়ে গেছে। আমি তা খোঁজ করতে লাগলাম। খোঁজ করতে আমার একটু দেরি হয়ে গেল। ইতিমধ্যে এ সকল লোক যারা আমাকে সওয়ার করাতো, তারা, আমি আমার হাওদার ভিতরে আছি মনে করে, আমার হাওদা উটের পিঠে রেখে দিল। কেননা এ সময় শরীরের গোশত আমাকে (হালকা পাতলা ছিলাম) ভারী করেনি। আমরা তো খুব অল্প খাদ্য গ্রহন করতাম। আমি ছিলাম অল্পবয়স্কা এক বালিকা। সুতরাং হাওদা উঠাবার তা যে খুব হালকা, তা তারা বুঝতে পারেনি এবং তারা উট হাঁকিয়ে রওয়ানা দিল। সেনাদল চলে যাওয়ার পর আমি আমার হার পেয়ে গেলাম এবং যেখানে তারা ছিল সেখানে ফিরে এলাম। তখন সেখানে এমন কেউ ছিলনা। , যে ডাকবে বা ডাকে সাড়া দিবে। আমি যেখানে ছিলাম সে স্থানেই থেকে গেলাম। এ ধারনায় বসে থাকলাম যে যখন কিছুদূর গিয়ে আমাকে দেখতে পাবেনা, তখন এ স্থানে অবশ্যই খুঁজতে আসবে। সেখানে বসা অবস্থায় আমার চোখে ঘুম এসে গেল, আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। আর সৈন্যবাহিনীর পিছনে সাফওান ইবনু মুয়াত্তাল সুলামি যাকওয়ানি ছিলেন। তিনি শেষ রাতে রওয়ানা দিয়ে ভোর বেলা আমার এ স্থানে এসে পৌঁছলেন। তিনি একজন মানুষের আকৃতি নিদ্রাবস্থায় দেখতে পেলেন। তিনি আমার কাছে এসে আমাকে দেখে চিনতে পারলেন। কেননা, পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার আগে আমাকে দেখেছিলেন। কাজেই আমাকে চেনার পর উচ্চকণ্ঠে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়লেন। পড়ার আওয়াজে আমি উঠে গেলাম এবং আমি আমার চাঁদর দিয়ে চেহারা ধেকে নিলাম। আল্লাহর কসম তিনি আমার সঙ্গে কোন কথাই বলেননি এবং তার মুখ হতে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” আর কোন কথা আমি শুনিনি। এরপর তিনি তার উট বসালেন এবং সামনের দুই পা নিজ পায়ে দাবিয়ে রাখলেন। আর আমি তাতে আরোহণ করলাম। তখন সাফওয়ান উটের লাগাম ধরে চললেন। শেষ পর্যন্ত আমরা সৈন্যবাহিনীর নিকট এ সময় গিয়ে পৌঁছলাম, যখন তারা দুপুরের প্রচণ্ড উত্তাপের সময় অবতরণ করে। (এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে) যারা ধ্বংস হওয়ার তারা ধ্বংস হল। আর যে ব্যাক্তি এ অপবাদের নেতৃত্ব দেয়, সে ছিল (মুনাফিক সর্দার) আবদুল্লাহ ইবনু উবায় ইবনু সলুল। তারপর আমি মদিনায় এসে পৌঁছলাম এবং পৌঁছার পর আমি দীর্ঘ একমাস পর্যন্ত অসুস্থ ছিলাম। আর অপবাদকারীদের কথা নিয়ে লোকেরা রটনা করছিলো। আমি এসব কিছুই বুঝতে পারিনি। তবে এতে আমাকে সন্দেহে ফেলেছিল যে, আমার অসুস্থ অবস্থায় স্বভাবিকভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রকম স্নেহ ভালবাসা দেখাতেন, এবারে তেমনি ভালবাসা দেখাচ্ছেন না। শুধু এতটুকুই ছিল যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসতেন এবং সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, তোমার অবস্থা কি? তারপর তিনি ফিরে যেতেন। এই আচরণই আমাকে সন্দেহে ফেলেছিল। অথচ আমি এই অপপ্রচার সম্বন্ধে জানতেই পারিনি। অবশেষে একটু সুস্থ হওয়ার পর মিসতাহের মায়ের সঙ্গে মানাসের দিকে বের হলাম। সে জায়গাটই ছিল আমাদের প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার স্থান। আর আমরা কেবল রাতের পর রাতেই বাইরে যেতাম। এ ছিল এ সময়ের কথা যখন আমাদের ঘর সংলগ্ন পায়খানা নির্মিত হয়নি। আমাদের অবস্থা ছিল অনেকটা প্রাচীন আরবদের নিচু ময়দানের দিকে বের হয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারা। কেননা, ঘর সংলগ্ন পায়খানা নির্মাণ আমরা কষ্টকর মনে করতাম। কাজেই আমি ও মিসতাহের মা বাইরে গেলাম। তিনি ছিলেন আবূ রুহম ইবনু আবদ মানাফের কন্যা এবং মিসতাহের মায়ের মা ছিলেন সাখর ইবনু আমিরের কন্যা, যিনি আবূ বকর (রাঃ) এর খালা ছিলেন। আর তার পুত্র ছিলেন মিসতাহ ইবনু উসাসাহ। আমি ও উম্মে মিসতাহ আমাদের প্রয়োজন সেরে ঘরের দিকে ফিরলাম। তখন মিসতাহের মা তার চাঁদরে হোঁচট খেয়ে বললেন, মিসতাহ ধ্বংস হোক। আমি তাঁকে বললাম, তুমি খুব খারাপ কথা বলছ, তুমি কি এমন এক ব্যাক্তিকে মন্দ বলছ, যে বদরের যুদ্ধে হাজির ছিল/ তিনি বললেন, হে আত্মভোলা! তুমি কি শোননি সে কি বলেছে? আমি বললাম, সে কি বলেছে? তিনি বললেন, এমন এমন। এ বলে তিনি অপবাদকারীদের অপবাদ সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত খবর দিলেন। এতে আমার অসুখের মাত্রা বৃদ্ধি পেল। যখন আমি ঘরে ফিরে আসলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করে বললেন, তুমি কেমন আছ? তখন আমি বললাম, আপনি কি আমাকে আমার আব্বা আম্মার নিকট যেতে অনুমতি দিবেন? তিনি বললেন, তখন আমার উদ্দেশ্য ছিল যে, আমি তাদের কাছে গিয়ে তাদের থেকে আমার এ ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে জেনে নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আসার জন্য অনুমতি দিলেন। আমি আব্বা আম্মার কাছে চলে গেলাম এবং আমার আম্মাকে বললাম, ও গো আম্মা! লোকেরা কি বলাবলি করছে? তিনি বললেন, বৎস! তুমি তোমার মন হালকা রাখ। আল্লাহর কসম! এমন কমই দেখা যায় যে, কোন পুরুষের কাছে এমন সুন্দরী রূপবতী স্ত্রী আছে, যাকে সে ভালবাসে এবং তার সতীনও আছে, অথচ তার ত্রুটি বের করা হয়না। রাবি বলেন, আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ। সত্যি কি লোকেরা এ ব্যপারে বলাবলি করছে? তিনি বললেন, আমি সে রাত কেঁদে কাটালাম। এমনকি ভোর হয়ে গেল তথাপি আমার কান্না থামল না। এবং আমি ঘুমাতেও পারলাম না। আমি কাঁদতে কাঁদতেই ভোর করলাম। যখন ওহী আসতে দেরি হল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) ও উসামা ইবনু যায়িদ (রাঃ) কে তার স্ত্রীর বিচ্ছেদের ব্যপারে তাদের পরামর্শের জন্য ডাকলেন। তিনি বলেন, উসামা ইবনু যায়েদ তার সহধর্মিণী (আয়িশা (রাঃ) এর পবিত্রতা এবং তার অন্তরে তাদের প্রতি তার ভালবাসা সম্পর্কে যা জানেন তার আলোকে তাঁকে পরামর্শ দিতে গিয়ে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনার পরিবার সম্পর্কে আমরা ভাল ধারনাই পোষণ করি। আর আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আল্লাহ আপনার উপর কোন সংকীর্ণতা আরোপ করেন নি এবং তিনি ছাড়া বহু মহিলা রয়েছেন। আর আপনি যদি দাসীকে জিজ্ঞেস করেন, সে আপনার কাছে সত্য ঘটনা বলবে। তিনি (আয়শা (রাঃ) বলেন, তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারিরাকে ডাকলেন এবং বললেন, হে বারিরা! তুমি কি তার কাছ থেকে সন্দেহজনক কিছু দেখেছ? বারিরা বলল, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরন করেছেন, তাঁর কসম! আমি এমন কোন কিছু তাঁর মধ্যে দেখতে পাইনি, যা আমি গোপন করতে পারি। তবে তাঁর মধ্যে সবচাইতে বেশি যা দেখেছি, তা হল তিনি একজন অল্প বয়স্ক বালিকা। তিনি কখনও তাঁর পরিবাবের আটার খামির রেখে ঘুমিয়ে পড়তেন। আর বকরীর বাচ্চা এসে তা খেয়ে ফেলত। এরপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিম্বরে) দাঁড়ালেন। আবদুল্লাহ ইবনু উবায় ইবনু সলুলের বিরুদ্ধে তিনি সমর্থন চাইলেন। আয়শা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর থেকে বললেন, হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, ঐ ব্যাক্তির মিথ্যা অপবাদ থেকে আমাকে সাহায্য করতে পারে, যে আমার স্ত্রীর ব্যপারে আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালই জানতে পেরেছি। এবং তারা এমন এক পুরুষ সম্পর্কে অভিযোগ এনেছে, যার সম্পর্কে আমি ভাল ছাড়া কিছুই জানিনা। সে কখনও আমাকে ছাড়া আমার ঘরে আসেনি। এ কথা শুনে সা’দ ইবনু মু’য়াজ আনসারি (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তাঁর বিরুদ্ধে আমি আপনাকে সাহায্য করব, যদি সে আউস গোত্রের হয় তবে আমি তাঁর গর্দান মেরে দিব। আর যদি আমাদের ভাই খাযরাজ গোত্রের লোক হয়, তবে আপনি নির্দেশ দিলে আমি আপনার নির্দেশ কার্যকর করব। আয়িশা (রাঃ) বললেন, এরপর সা’দ ইবনু উবাদা দাঁড়ালেন। তিনি খাযরাজ গোত্রের সর্দার। তিনি পূর্বে একজন নেককার লোক ছিলেন কিন্তু এ সময় স্বগোত্রের পক্ষপাতিত্ব তাকে উত্তেজিত করে তোলে। কাজেই তিনি সা’দ কে বললেন, চিরঞ্জীব আল্লাহর কসম! তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি তাকে হত্যা করতে পারবেনা। এবং তাকে হত্যা করার ক্ষমতা তুমি রাখনা। তারপর উসায়দ ইবনু হুদায়র দাঁড়ালেন, যিনি সা’দের চাচাতো ভাই। তিনি সা’দ ইবনু উবায়দা কে বললেন, চিরঞ্জীব আল্লাহর কসম! তুমি মিথ্যা বলেছ। আমরা অবশ্যই তাকে হত্যা করব। তুমি নিজেও মুনাফিক এবং মুনাফিকের পক্ষে প্রতিবাদ করছ। এতে আউস এবং খাযরাজ উভয় গোত্রের লোকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠল। এমনকি তারা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম হল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে দাঁড়ানো ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থামাতে লাগলেন। অবশেষে তারা থামল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও নিরব হলেন। আয়শা (রাঃ) বলেন, আমি সেদিন এমনভাবে কাটালাম যে, আমার চোখের অশ্রু এ থামেনি এবং চোখে ঘুমও আসেনি। আয়শা (রাঃ) বলেন, সকাল বেলা আমার কাছে আমার আব্বা আম্মা আসলেন, আর আমি দুরাত এবং একদিন (একাধারে) কাঁদছিলাম। এর মধ্যে না আমার ঘুম হয় না আমার চোখের পানি বন্ধ হয়। তারা ধারনা করছিলেন যে এ ক্রন্দনে আমার কলিজা ফেটে যাবে। আয়শা (রাঃ) বলেন, এর পূর্বে তারা যখন আমার কাছে বসা ছিলেন এবং আমি কাঁদছিলাম, ইত্যবসরে জনৈক আনসারি মহিলা আমার কাছে আসার জন্য অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। সে বসে আমার সাথে কাঁদতে লাগল। আমাদের এ অবস্থার মধ্যেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে প্রবেশ করলেন এবং সালাম দিয়ে বসলেন। আয়শা (রাঃ) বলেন, এর পূর্বে যখন থেকে এ কথা রটনা চলেছে, তিনি আমার কাছে বসেন নি। এ অবস্থায় তিনি এক মাস অপেক্ষা করেছেন। আমার সম্পর্কে ওহী আসেনি। আয়শা (রাঃ) বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহুদ পাঠ করলেন। তারপর বললেন, হে আয়শা! তোমার সম্পর্কে এরুপ এরুপ কথা আমার কাছে পৌঁছেছে। তুমি যদি নির্দোষ হয়ে থাক, তবে অচিরেই আল্লাহ তা’আলা তোমার পবিত্রতা ব্যক্ত করে দিবেন। আর যদি তুমি কোন পাপে লিপ্ত হয়ে থাক, তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তাঁর কাছে তওবা কর। কেননা, বান্দা যখন তার পাপ স্বীকার করে নেয় এবং আল্লাহর কাছে তওবা করে তখন আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করেন। আয়শা (রাঃ) বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শেষ করলেন, তখন আমার চোখের পানি এমনভাবে শুকিয়ে গেল যে, এক ফোঁটা পানিও অনুভব করছিলাম না। আমি আমার পিতাকে বললাম, আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (তিনি যা কিছু বলেছেন তার) জবাব দিন। তিনি বললেন। আল্লাহর কসম! আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি জবাব দিব তা আমার বুঝে আসছেনা। তারপর আমার আম্মাকে বললাম, আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জবাব দিন। তিনি বললেন, আমি বুঝতে পারছিনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি জবাব দিব। আয়শা (রাঃ) বলেন, তখন আমি নিজেই জবাব দিলাম। অথচ আমি একজন অল্প বয়স্কা বালিকা। কুরআন খুব বেশি পড়িনি। আল্লাহর কসম১ আমি জানি আপনারা এ ঘটনা শুনেছেন, এমনকি তা আপনাদের অন্তরে বসে গেছে এবং সত্য বলে বিশ্বাস করে নিয়েছেন। এখন যদি আমি বলি যে আমি নির্দোষ এবং আল্লাহ ভালভাবেই জানেন যে, আমি নির্দোষ; তবে আপনারা তা বিশ্বাস করবেন না। আর আমি যদি আপনাদের কাছে এ বিষয় স্বীকার করে নেই, অথচ আল্লাহ জানেন , আমি তা থেকে নির্দোষ; তবে আপনারা আমার এই উক্তি বিশ্বাস করে নিবেন। আল্লাহর কসম! এ ক্ষেত্রে আমি আপনাদের জন্য ইয়ুসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিতার উক্তি ব্যতীত আর কোন দৃষ্টান্ত পাচ্ছিনা। তিনি বলেছিলেন, “পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয় তোমরা যা বলছ; সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া যায়”। তিনি বলেন, এরপর আমি আমার চেহারা ঘুরিয়ে নিলাম এবং কাত হয়ে আমার বিছানায় শুয়ে পড়লাম। তিনি বলেন, এ সময় আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি নির্দোষ এবং আল্লাহ তা’আলা আমার নির্দোষিতা প্রকাশ করে দিবেন। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি তখন এ ধারনা করতে পারিনি যে, আল্লাহ আমার সম্পর্কে এমন ওহী অবতীর্ণ করবেন যা তিলাওাত করা হবে। আমার দৃষ্টিতে আমার মর্যাদা এর চাইতে অনেক নিচে ছিল। বরং আমি আশা করেছিলাম যে, হয়ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রায় কোন স্বপ্ন দেখবেন যাতে আল্লাহ তা’আলা আমার নির্দোষিতা জানিয়ে দিবেন। আয়শা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ান নি এবং ঘরের কেউ বের হন নি। এমন সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ওহী নাযিল হতে লাগল এবং তাঁর শরীর ঘামতে লাগল। এমনকি যদিও শীতের দিন ছিল তবুও তাঁর উপর যে ওহী অবতীর্ণ হচ্ছিল এর বোঝার ফলে মুক্তার মত তাঁর ঘাম ঝরছিল। যখন ওহী শেষ হল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসছিলেন। তখন তিনি প্রথম যে বাক্যটি বলেছিলেন তা হলঃ হে আয়শা! আল্লাহ তোমার নির্দোষিতা প্রকাশ করেছেন। এ সময় আমার মা আমাকে বললেন, তুমি উঠে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবনা, আল্লাহ ছাড়া আর কারও প্রশংসা করবনা। আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন পূর্ণ দশ আয়াত পর্যন্ত। - যারা এ অপবাদ রচনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। যখন আল্লাহ তা’আলা আমার নিরদশিতার আয়াত অবতীর্ণ করলেন, তখন আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) যিনি মিসতাহ ইবনু উসাসাকে নিকটবর্তী আত্মীয়তা এবং দারিদ্র্যের কারনে আর্থিক সাহায্য করতেন, তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! মিসতাহ আয়শা সম্পর্কে যা বলেছে, এরপর আমি তাকে কখনওই কিছুই দান করবনা। তারপর আল্লাহ তা’আলা আয়াত অবতীর্ণ করেলন, “তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহন না করে যে তার আত্মীয় স্বজন ও অভাবগ্রস্থ কে এবং আল্লাহর রাস্তায় যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদের কিছুই দেবেনা। তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাওনা যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আবূ বকর (রাঃ) এ সময় বললেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই পছন্দ করি যে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করেন। তারপর তিনি মিসতাহের সাহায্য আগের মত দিতে লাগলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এ সাহায্য কখনও বন্ধ করবনা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জয়নব বিনতে জাহশকেও আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হে জয়নব! (আয়শা সম্পর্কে) কি জানো আর কি দেখেছ? তিনি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি আমার কান ও চোখকে বাচিয়ে রাখতে চাই। আমি তার সম্পর্কে ভাল ছাড়া অন্য কিছু জানিনা। আয়শা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীদের মধ্যে তিনি আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তার পরহেযগারির কারনে রক্ষা করেন। আর তার বোন হামনা তার পক্ষাবিলম্ব করে মুকাবিলা করে এবং অপবাদ আনয়নকারী যারা ধ্বংস হয়েছিল তাদের মধ্যে সেও ধ্বংস হল।
হাদিস নং - ৪৩৯২
মুহাম্মদ ইবনু কাসির (রহঃ) আয়শা (রাঃ) এর মা উম্মে রুমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আয়শা (রাঃ) এর উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হল তখন তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন।
হাদিস নং - ৪৩৯৩
ইব্রাহিম ইবনু মূসা (রহঃ) ইবনু আবূ মুলায়কা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আয়শা (রাঃ) কে লাম এর জের ও কাফ এর পেশ দিয়ে পড়তে শুনেছি। আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ “ এবং তোমরা যখন এ কথা শ্রবন করলে, তখন কেন বললে না; এ বিষয় বলাবলি করা আমাদের উচিত নয়, আল্লাহ পবিত্র ও মহান, এ তো এক গুরুতর মিথ্যা অপবাদ”।
হাদিস নং - ৪৩৯৪
মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ইবনু আবূ মুলায়কা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আয়শা (রাঃ) এর ইন্তেকালের পূর্বে তার কাছে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেন। এ সময় তিনি (আয়শা (রাঃ) মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন। তিনি বললেন, আমি ভয় করছি তিনি আমার কাছে এসে প্রশংসা করবেন। তখন তাঁর (আয়শা (রাঃ) এর কাছে বলা হল, তিনি হলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই এবং সম্মানিত মুসলমানের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন, তবে তাকে অনুমতি দাও। তিনি এসে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কাছে আপনার অবস্থা কেমন লাগছে? তিনি বললেন, আমি যদি নেক হই তবে ভালই আছি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ চাহেত আপনি নেকই আছেন। আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী এবং তিনি আপনাকে ছাড়া আর কোন কুমারীকে বিয়ে করেন নি এবং আপনার সাফাই আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তাঁর পিছনে ইবনু যুবায়র (রাঃ) প্রবেশ করলেন। তখন আয়শা (রাঃ) বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু আমি এইই পছন্দ করি যে, আমি লোকের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে যেতাম।
হাদিস নং - ৪৩৯৫
মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) কাসিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আয়শা (রাঃ) এর নিকট যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেন। পরবর্তী অংশ উক্তি হাদিসের অনুরূপ। এতে -- (স্মৃতি থেকে বিস্মৃত হয়ে যেতাম) অংশটি নেই।
হাদিস নং - ৪৩৯৬
মুহাম্মাদ ইবনু ইয়ুসুফ (রহঃ) মাসরুক (রাঃ) আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, হাসান ইবনু সাবিত এসে (তাঁর ঘরে প্রবেশের)অনুমতি চাইলেন। আমি বললাম, এ লোকটিকে কি আপনি অনুমতি দিবেন?[১] তিনি (আয়শা (রাঃ) বললেন, তাঁর উপরে কি কঠিন শাস্তি আপতিত হয়নি? সুফিয়ান (রাঃ) বলেন, এর দ্বারা আয়শা (রাঃ) তাঁর দৃষ্টি শক্তি চলে যাওয়ার কথা উদ্দেশ্য করেছেন। হাসান ইবনু সাবিত আয়শা (রাঃ) এর প্রশংসায় নিম্নের ছন্দ দুটি পাঠ করলেন, (আমার প্রিয়তমা) একজন, পবিত্র ও জ্ঞানী মহিলা যার চরিত্রে কোন সন্দেহ করা হয়না। সতীধর্মী মহিলাদের গোশত ভক্ষন থেকে মুক্ত অবস্থায় ভোরে ওঠে। (অর্থাৎ তিনি কারও গিবত করেন না) আয়শা (রাঃ) বললেন, কিন্তু তুমি (এ চরিত্রের নও)। ১/ কেননা, সে আয়শা (রাঃ) এর ইফকের ঘটনার সাথে জড়িত ছিল।
হাদিস নং - ৪৩৯৭
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) মাসরুক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসসান ইবনু সাবিত আয়শা (রাঃ) এর কাছে এসে নিচের শ্লোকটি আবৃত্তি করলেন। সে একজন পবিত্র মহিলা যার চরিত্রে কোন সন্দেহ করা হয়না। সে সতীধর্মী মহিলাদের গোশত ভক্ষন থেকে মুক্ত অবস্থায় ভোরে ওঠে। আয়শা (রাঃ) বললেন, ‘তুমি তো এরুপ নও’। (মাসরুক বললেন) আমি বললাম, আপনি এমন এক ব্যাক্তিকে কেন আপনার কাছে আসতে দিলেন, যার সম্পর্কে আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন। আর যে ব্যাক্তি এর বিরাট অংশ নিজের উপর নিয়েছে, তাঁর জন্য তো রয়েছে কঠিন শাস্তি। আয়শা (রাঃ) বললেন, দৃষ্টিহীনতার চেয়ে কঠোর শাস্তি আর কি হতে পারে? তিনি আরও বললেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরফ হতে জবাব দিতেন।
হাদিস নং - ৪৩৯৮
আবূ নু’আইম (রহঃ) সাফিয়া বিনতে শায়বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আয়শা (রাঃ) বলতেন, যখন এ আয়াত, “তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে” অবতীর্ণ হল তখন মুহাজির মহিলারা তাদের তহবন্দের পার্শ্ব ছিঁড়ে তা ওড়না হিসাবে ব্যবহার করতে লাগল।
হাদিস নং - ৪৩৯৯
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি বলল, হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! কিয়ামতের দিন কাফিরদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় একত্র করা হবে? তিনি বললেন, যিনি এ দুনিয়ায় তাকে দুপায়ের উপর ভর দিয়ে চালাতে পারছেন, তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখে ভর দিয়ে চালাতে সক্ষম হবেন না? কাতাদা (রহঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আমার রবের ইজ্জতের কসম। অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ আর তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহ কে ডাকেনা। আল্লাহই যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারন ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করেনা এবং ব্যভিচার করেনা। যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে’। --- মানে শাস্তি।
হাদিস নং - ৪৪০০
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, অথবা অন্য কেউ জিজ্ঞেস করল, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যাস্ত করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম এরপর কোনটি? তিনি জবাব দিলেন, তোমার সন্তানকে এ আশংকায় হত্যা করা যে, তারা তোমার খাদ্যে অংশীদার হবে। আমি বললাম, এরপর কোনটি? এরপর হচ্ছে তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথার সমর্থনে এ আয়াত নাযিল হয়। “এবং তারা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহকে ডাকেনা। আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারন ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করেনা”।
হাদিস নং - ৪৪০১
ইব্রাহিম ইবনু মূসা (রহঃ) কাসিম ইবনু আবূ বাযযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, যদি কেউ কোন মু’মিন ব্যাক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক হত্যা করে ; তবে কি তার জন্য তওবা আছে? আমি তাঁকে এ আয়াত পাঠ করে শোনালাম “আল্লাহ্ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করে না। ” সাঈদ (রাঃ) বললেন, তুমি যে আয়াত আমার সামনে পাঠ করলে, আমিও এমনিভাবে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সামনে এ আয়াত পাঠ করেছিলাম। তখন তিনি বললেন, এ আয়াতটি মক্কী। সূরা নিসার মধ্যের মাদানী আয়াতটি একে রহিত করে দিয়েছে।
হাদিস নং - ৪৪০২
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাশ্শার মু’মিনের হত্যার ব্যাপারে কূফাবাসী মতভেদ করতে লাগল। আমি (এ ব্যাপারে) ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গেলাম (এবং তাঁকে এ সর্ম্পকে জিজ্ঞেস করলাম)। তখন তিনি বললেন, (মু’মিনের হত্যা সম্পর্কিত) এ আয়াত সর্বশেষে নাযিল হয়েছে। একে অন্য কিছু রহিত করেনি।
হাদিস নং - ৪৪০৩
আদম (রহঃ) সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ (তাদের পরিণাম হচ্ছে জাহান্নাম) সম্পর্কে জিজ্ঞস করলাম। তিনি বললেন, তার জন্য তওবা নেই। এরপরে আমি আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ আয়াত মুশরিকদের ব্যাপারে। [১] ১ জাহিলী যুগের মুশ্রিকদের সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে।
হাদিস নং - ৪৪০৪
সা‘দ ইবনু হাফ্স (রহঃ) সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আবযা (রাঃ) বলেন, ইবনু আব্বাসকে জিজ্ঞস করা হল, আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু‘মিনকে হত্যা করলে তাকে তার শাস্তি জাহান্নাম” এবং আল্লাহর এ বাণীঃ “এবং আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া, তারা তাকে হত্যা করে না” এবং “কিন্তু যারা তওবা করে” পর্যন্ত, সম্পর্কে। আমিও তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি জবাবে বললেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল তখন মক্কাবাসী বলল, আমরা আল্লাহর সঙ্গে শরীক করেছি, আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, “যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। ”… আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পর্যন্ত।
হাদিস নং - ৪৪০৫
আবদান (রহঃ) সাঈদ ইবনু জুবায়ির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আব্যা (রাঃ) আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে এ দুটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। আমি তাকে (এ আয়াত সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, এ আয়াতকে অন্য কিছু রহিত (মানসূখ) করেনি এবং সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলাম, তিনি (আব্বাস (রাঃ)) বললেন, এ আয়াত মুশরিকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।
হাদিস নং - ৪৪০৬
উমর ইবনু হাফ্স ইবনু গিয়াস (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পাঁচটি ঘটনা ঘটে গেছে ধূমরাচ্ছন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়া, রোমকদের পরাজয়, প্রবলভাবে পাকড়াও এবং ধ্বংসের।
হাদিস নং - ৪৪০৭
ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (হাশরের ময়দানে ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পিতার সাক্ষাত পেয়ে (তাকে এ অবস্থায় দেখে) বলবেন, ইয়া রব! আপনি আমার সাথে ওয়াদা করেছেন যে, কিয়ামতের দিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেন, আমি কাফেরদের উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছি।
হাদিস নং - ৪৪০৮
উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (র ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা (পর্বতে) আরোহণ করলেন এবং ডাকতে লাগলেন, হে বনী ফিহ্র! হে বনী আদী! কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রকে। অবশেষে তারা একত্রিত হল। যে নিজে আসতে পারল না, সে তার প্রতিনিধি পাঠাল, যাতে দেখতে পায়, ব্যাপার কী? সেখানে আবূ লাহাব ও কুরাইশগণও আসল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বল তো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, শক্রসৈন্য উপত্যকায় এসে পড়েছে, তারা তোমাদের উপর অতর্কিতে আক্রমণ করতে উদ্যত, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা বলল, হাঁ আমরা আপনাকে সর্বদা সত্য পেয়েছি। তখন তিনি বললেন, “আমি তোমাদের সম্মুখে কঠিন শাস্তির ভয় প্রদর্শন করছি। ” আবূ লাহাব (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে) বলল, সারাদিন তোমার উপর ধ্বংস আসুক! এজন্যই কি তুমি আমাদের একত্র করেছ? তখন নাযিল হয়, “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দু-হস্ত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সস্পদ ও তার উপার্জন তার কোন কাজে আসেনি। ”
হাদিস নং - ৪৪০৯
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (তোমার নিকটের আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও) এ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়! অথবা অনুরূপ বাক্য, নিজেদের কিনে নাও। আমি আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষার ব্যাপারে তোমাদের কোন উপকারে আসব না। হে বনী আব্দ মানাফ! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষার ব্যাপারে আমি তোমাদের কোন উপকারে আসব না। হে আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষার ব্যাপারে তোমার কোনই উপকারে আসব না। হে আল্লাহর রাসূল -এর ফুফু সুফিয়া! আমি তোমার নাজাতের ব্যাপারে কোনই উপকার করতে পারব না। হে মুহাম্মদ -এর কন্যা ফাতিমা! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা চাও নিয়ে যাও, কিন্তু আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষার ব্যাপারে আমি তোমার কোনই উপকারে আসব না। আস্বাগ (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৪৪১০
আবূল ইয়ামান (রহঃ) মূসা ইয়্যাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ তালিবের মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছিল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়া ইবনু মুগীরাকে উপস্থিত পেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আপনি বলুন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। ” এ ‘কালেমা’ দ্বারা আমি আপনার জন্য (কিয়ামতে) আল্লাহর কাছে (আপনার মুক্তির) দাবি করতে পারব। আবূ জাহল এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়া বলল, তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ছেড়ে দেবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার তার কাছে এ ‘কালেমা’ পেশ করতে লাগলেন। আর তারা সে উত্তি বারবার করতে থাকল। অবশেষে আবূ তালিব তাঁদের সঙ্গে সর্বশেষ এ কথা বললেন, আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর আছি, এবং কালেমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” পাঠ করতে অস্বীকার করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম। আমাকে নিষেধ না করা পর্যন্ত আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেই থাকব। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মু’মিনদের জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর আল্লাহ্ তা’আলা আবূ তালিব সম্পর্কে নাযিল করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সম্বোধন করে আল্লাহ্ তা’আলা বললেন, “তুমি যাকে ভালবাস (ইচ্ছা করলেই) তাকে সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। ”
হাদিস নং - ৪৪১১
মুহাম্মাদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এর অর্থ মক্কার দিকে।
হাদিস নং - ৪৪১২
মুহাম্মাদ ইবনু কাসীর (রহঃ) মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি কিন্দাবাসীদের সামনে বলছিল, কিয়ামতের দিন ধোঁয়া আসবে এবং মুনাফিকদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেবে। এ কথা শুনে আমরা ভীত হয়ে পড়লাম। এরপর এবং আমি ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট এলাম। তখন তিনি তাকিয়ায় ঠেস লাগিয়ে বসেছিলেন। (এ সব ঘটনা শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে উঠে বসলেন এবং বললেন, যার জানা আছে সে যেন তা বলে, আর যে না জানে সে যেন বলে, আল্লাহ্ তা’আলাই ভাল জানেন। জ্ঞানের মধ্যে এটাও একটা জ্ঞান যে, যার যে বিষয় জানানেই সে বলবে “আমি এ বিষয়ে জানিনা। ” আল্লাহ্ তা’আলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলেছেন, হে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি বলুন, “আমি আল্লাহর দ্বীনের দিকে আহবানের জন্য তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাই না এবং যারা মিথ্যা দাবি করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই। কুরাইশগণ ইসলাম গ্রহণে দেরী করতে লাগল, সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য বদদোয়া করেন। “হে আল্লাহ্! আপনি তাদের উপর ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ন্যায় সাত বছর (দুর্ভিক্ষ) দিয়ে আমাকে সাহায্য করুন। ” তারপর তারা এমন ভীষণ দুর্ভিক্ষের মধ্যে পতিত হল যে, তারা তাতে ধ্বংস হয়ে গেল এবং মৃত জন্তু ও তার হাড় খেতে বাধ্য হল। তারা (দুর্ভিক্ষের দরুন) আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে ধোঁয়ার মত দেখতে পেল। তারপর আবূ সুফিয়ান তাঁর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! তুমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ও তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছ ; অথচ তোমার গোত্রের লোকেরা এখন ধ্বংস হয়ে গেল। সুতরাং আমাদের (এ দুর্ভিক্ষ থেকে) বাঁচার জন্য দোয়া কর। তখন তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন “অতএব, তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূমরাচ্ছন্ন হবে আকাশ। ” তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। অবশেষে দুর্ভিক্ষের অবসান হল কিন্তু তারা কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করলো। তখন আল্লাহ্ তা’আলা এদের উদ্দেশ্যেই নাযিল করলেন, যেদিন আমি তোমাদের প্রবলভাবে পাকড়াও করব। এবং দ্বারা বদরের যুদ্ধ বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আলিফ, লাম, মীম। রোমকগণ পরাজিত হয়েছে। এবং পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে। রোমকগণের ঘটনা অতিবাহিত হয়ে গেছে।
হাদিস নং - ৪৪১৩
আব্দান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল মানব শিশুই ফিত্রাত (ইসলাম)-এর ওপর জন্ম গ্রহণ করে। তারপর তার পিতা ও মাতা তাকে ইহুদী, নাসারা অথবা অগ্নিউপাসক বানিয়ে দেয়। যেমন জানোয়ার পূর্ণ বাচ্চার জন্ম দেয়। তোমরা কি তার মধ্যে কোন ত্রুটি পাও? পরে তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন। (আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর) যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এ-ই সরল দ্বীন।
হাদিস নং - ৪৪১৪
কুতায়বা ইবনু সা’দ (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হল (আল্লাহর বাণী): যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবাদের উপর খুবই কঠিন (ভারী) মনে হল। তখন তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, তারা তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ আয়াত দ্বারা এ অর্থ বোঝানো হয়নি। তোমরা লুকমানের বাণী, যা তিনি তাঁর পুত্রকে সম্ভোধন করে বলেছিলেন, শির্ক করা বড় জুলুম, তা কি শোননি?
হাদিস নং - ৪৪১৫
ইসহাক (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সাথে বসেছিলেন। এক ব্যাক্তি তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ঈমান কী? তিনি বললেন, “আল্লাহ্তে ঈমান আনবে এবং তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণের প্রতি ঈমান আনবে এবং (কিয়ামতে) আল্লাহর দর্শন লাভ ও পুনরুত্থানের ওপর ঈমান আনবে। ” লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ইসলাম কী? তিনি বললেন, ইসলাম (হল) আল্লাহর ইবাদত করবে ও তার সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক সাব্যস্ত করবে না এবং সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, ফরয যাকাত দিবে ও রমযানের সিয়াম পালন করবে। লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ইহ্সান কী? তিনি বললেন, ইহ্সান হচ্ছে আল্লাহর ইবাদত এমন একাগ্রতার সাথে করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে (মনে করবে) আল্লাহ্ তোমাকে দেখছেন। লোকটি আরও জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কখন কিয়ামত সংঘটিত হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে বেশি জাননা। তবে আমি তোমার কাছে এর (কিয়ামতের) কতগুলো লক্ষণ বলছি। তা হল, যখন দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে, এটা তার (কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার) একটি নিদর্শন। আর যখন দেখবে, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ লোকেরা মানুষের নেতা হবে, এও তার একটি লক্ষণ। এটি ঐ পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ জানেন নাঃ (১) ‘কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই রয়েছে। (২) তিনই বৃষ্টি বর্ষণ করান, (৩) তাঁরই জ্ঞানে রয়েছে, মাতৃগর্ভে কি আছে। এরপর লোকটি চলে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে আমার নিকট ফিরিয়ে আন। সাহাবাগণ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে গেলেন, কিন্তু কিছুই দেখতে পাননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি জিবরাঈল, লোকদের তাদের দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছিলেন।
হাদিস নং - ৪৪১৬
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গায়েবের [১] চাবি পাঁচটি। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ্ তা’আলারই রয়েছে। ১ অদৃশ্যঃ দৃষ্টির অন্তরালের বস্তু, যা ইন্দ্রিয়ানুভূতির অতীত যেমন, আল্লাহ্, ফেরেশতা, আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি।
হাদিস নং - ৪৪১৭
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব সামগ্রী তৈরী করে রেখেছি, যা কোন নয়ন দর্শন করেনি, কোন কর্ণ শ্রবণ করেনি এবং কোন অন্তকরণের চিন্তায় আসেনি। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, তোমরা চাইলে (প্রমাণ স্বরূপ) এ আয়াত তিলাওয়াত করঃ কেউ জাননা তাদের জন্য নয়ন শীতলকারী কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে। সুফিয়ান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কি এ হাদিস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, তা নয়তো কি? আবূ মু’আবীয়া (রহঃ) আবূ সালিহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) “আলিফ” এবং লম্বা ‘তা’ সহ পাঠ করেছিলেন।
হাদিস নং - ৪৪১৮
ইসহাক ইবনু নাস্র (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব জিনিস তৈরি করে রেখেছি, সঞ্চিতরুপে যা কোন নয়ন দর্শন কনেনি, কোন কর্ণ শ্রবণ করেনি এবং কোন ব্যাক্তির মনেও তার কল্পনা সৃষ্টি হয়নি। আর যা তোমাদের অবহিত করা হয়েছে, তা ছাড়া। তারপর এ আয়াত পাঠ করলেন, কেউ জাননা তাদের জন্য নয়ন শীতলকারী কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ।
হাদিস নং - ৪৪১৯
ইব্রাহীম ইবনুল মুন্যির (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়া ও আখিরাতে সকল মু’মিনের জন্য আমই ঘনিষ্ঠতম। তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াত পাঠ করতে পার। “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু’মিনদের নিকট তাদের নিজেদের চাইতে বেশি ঘনিষ্ঠ। ” সুতরাং কোন মু’মিন কোন মাল-সম্পদ রেখে গেলে তার নিকটআত্মীয় সে যে-ই হোক, হবে তার উত্তরাধিকারী, আর যদি ঋণ অথবা অসহায় সন্তানাদি রেখে যায় সে যেন আমার কাছে আসে, আমি তার অভিভাবক।
হাদিস নং - ৪৪২০
মুয়াল্লা ইবনু আসা’দ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর আযাদকৃত গোলাম যায়িদ ইবনু হারিসাকে আমরা “যায়িদ ইবনু মুহাম্মদ-ই” ডাকতাম, যে পর্যন্ত না এ আয়াত নাযিল হয়। তোমরা তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক, আল্লাহর দৃষ্টিতে এটই অধিক ন্যায়সংগত।
হাদিস নং - ৪৪২১
মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এ আয়াত আনাস ইবনু নায্ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। “মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে। ”
হাদিস নং - ৪৪২২
আবূল ইয়ামান (রহঃ) যায়িদ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন সহীফা থেকে কুরআন লিপিবদ্ধ করছিলাম তখন সূরা আহযাবের একটি আয়াত অবিদ্যমান পেলাম, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (অধিক পরিমাণ) তিলওয়াত করতে শুনেছি। (অবশেষে) সেটি খুযায়মা আনসারী ব্যতীত অন্য কারও কাছে পেলাম না; যার সাক্ষী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জন পুরুষ সাক্ষীর সমান গণ্য করেছেন।
হাদিস নং - ৪৪২৩
আবূল ইয়ামান (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে এলেন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর সহধর্মিণীগণের ইখতিয়ার দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন, [১] তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম আমাকে দিয়ে শুরু করলেন এবং বললেন, আমি তোমার কাছে একটি কথা উল্লেখ করছি। তাড়াহুড়ো না করে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ করে উত্তর দেবে। তিনি এ কথা ভালভাবেই জানতেন যে, আমার আব্বা-আম্মা তাঁর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরামর্শ কখনও দিবেন না। আয়িশা (রাঃ) বলেন, (আমাকে এ কথা বলার পর) তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )বললেন, আল্লাহ্ বলছেন, “হে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন। তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর । তখন আমি তাঁকে বললাম, তাতে আমার আব্বা-আম্মা থেকে পরামর্শ নেবার কী আছে? আমি তো আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবনই চাই। ১ খায়বারের যুদ্ধের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রীগণ তাদের ভরণ-পোষণের জন্য কিছু আর্থিক অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানোান। এতে তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এ ঘটনার দিকেই এর ইঙ্গিত।