ভুট্টার গুনাগুণ
পর্ব - ১
পুষ্টি মূল্যঃ
ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশী। এতে প্রায় ১১ভাগ আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রয়োজনীয় এ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমানে আছে। এছাড়া হলদে রংয়ের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ থাকে।
ভেষজ গুনঃ
ব্যবহারঃ ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নত মানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট গুরূত্ব রয়েছ। শুধু পশু, মুরগির খামার ও মাছের চাহিদা মিটানোর জন্যই বছরে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টন ভুট্টা দানা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ভুট্টার জমি দ্রুত বাড়ছে।
উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ
বেলে দোআশ ও দোআশ মাটি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন জমিতে পানি জমে না থাকে।
জাত পরিচিতিঃ
ভুট্টার জাত সংগ্রহ ও বাছাই করনের মাধ্যমে বিএআরআই আজ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটাতে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী ভুট্টা জাতের চাষের সম্ভবনা খুবই উজ্জ্বল।
ভুট্টার জাতঃ
বর্ণালীঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বর্ণালী জাতটি ১৯৮৬ সালে অনুমোদিত হয়। স্থানীয় জাতসমূহের চেয়ে বর্ণালী জাতের গাছের উচ্চতা বেশী। এ জাতের মোচা আকারে বেশ বড় এবং আগার দিক কিছুটা সরু। মোচার অগ্রভাগ পযন- শক্তভাবে খোসাদ্বারা আবৃত থাকে। বর্ণালীর দানা সোনালী হলদে রংয়ের এবং দানা আকারে বেশ বড়। হাজার দানার ওজন ২৪৫-৩২০ গ্রাম। এ জাতটি রবি মৌসুমে ১৪০-১৪৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৯৫-১০০ দিনে পাকে। ফলন প্রতি হেক্টরে রবি মৌসুমে ৫.৫-৬.০ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৪.০-৪.৫ টন হয়। বর্ণালী জাতে বেশী পরিমানে ক্যারোটিন আছে বলে এর দানা হাঁস-মুরগির খাদ্য তৈরির একটি উত্তম উপকরণ।
শুভ্রাঃ
শুভ্রা নামে ভুট্টার উচ্চ ফলনশীল এ জাতটি ১৯৮৬ সালে অনুমোদন করা হয়। স্থানীয় জাতের চেয়ে শুভ্রা জাতের গাছের উচ্চতা বেশী। শুভ্রার দানা আকারে বড় এবং সম্পূর্ণ মোচা দানায় ভর্তি থাকে। হাজার দানার ওজন ৩১০-৩৩০ গ্রাম। এ জাতটির গাছের উপরের অংশের পাতা নিচের অংশের পাতার চেয়ে আকারে ছোট এবং অপেক্ষাকৃত সরু। জাতটি রবি মৌসুমে ১৩৫-১৪৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৯৫-১০৫ দিনে পাকে। পরিপক্ক অবস্থায় মোচা সংগ্রহ করলে প্রতি হেক্টরে ৫০-৫৩ হাজার মোচা পাওয়া যায়। ফলন প্রতি হেক্টরে রবি মৌসুমে ৪.০-৫.৫ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৩.৫-৪.৫ টন হয়। দানার রং সাদা বলে গমের আটার সাথে মিশিয়ে রুটি তৈরি করা যায়।
খইভুট্টাঃ
খইভুট্টা জাত খই এর জন্য ১৯৮৬ সালে জাত হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। গাছ মাঝারি উচ্চতা সম্পন্ন, মোচার উপরের পাতা অপেক্ষাকৃত সরু এবং দানা আকারে ছোট। হাজার দানার ওজন ১৪০-১৫০ গ্রাম। খইভুট্টা রবি মৌসুমে ১২৫-১৩০ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৯০-১০০ দিনে পাকে। ফলন হেক্টরে রবি মৌসুমে ৩.৫-৪.০ টন এবং খরিফ মৌসুমে ২.৫-৩.৫ টন হয়। খইভুট্টার দানা থেকে শতকরা ৯০-৯৫ ভাগ খই পাওয়া যায়। খই আকারে বেশ বড় ও সুস্বাদু।
মোহরঃ
ভুট্টার মোহর জাত ১৯৯০ সালে উচ্চ ফলনশীল জাত হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। মোহর জাতের গাছ অন্যান্য জাতের গাছের চেয়ে বেশ উঁচু, ফলে খড়ের পরিমান বেশী হয়। এ জাতের মোচা পাকার পরেও পাতা বেশ সবুজ থাকে বলে পাতা উৎকৃষ্ট গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মোহর জাতের কান্ড শক্ত হওয়ায় বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না। মোচা মোটা,লম্বা এবং সম্পূর্ণ মোচা দানায় পূর্ণ থাকে। দানা উজ্জ্বল হলুদ এবং আকারে বড়। হাজার দানার ওজন ১৮০-৩০০ গ্রাম। মোহর জাতটি দানা এবং গো-খাদ্য উভয় উদ্দেশ্যে চাষ করা যেতে পারে। জাতটি রবি মৌসুমে ১৩৫-১৪৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৯৫-১০৫ দিনে পাকে। ফলন হেক্টরপ্রতি রবি মৌসুমে ৫.০-৫.৫ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৩.৫-৪.৫ টন হয়।
বারি ভুট্টা-৫:
নাইজেরিয়া থেকে ১৯৮৮ সালে সংগৃহিত ১০ টি ইনব্রেড সারি থেকে ৫টি বাছায় করা হয়। পরবর্তীতে ১টি অগ্রবর্তী কম্পোজিটের সংগে সংকরায়ণের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবিত হয় এবং ১৯৯৭ সালে অনুমোদন করা হয়। জাতটি বাংলাদেশে ভুট্টা চাষ উপযোগী এলাকায় চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত বলে প্রমানিত হয়েছে।
গাছ সহজে হেলে পড়ে না। জাতটির মোচা বেশ লম্বা ও মোটা এবং সম্পূর্ণভাবে খোসাদ্বারা আবৃত। এ জাতের দানার রং হলুদ এবং হাজার দানার ওজন ২৯০-৩১০ গ্রাম। এ জাতের জীবনকাল ১৩৫-১৫৫ দিন। হেক্টরপ্রতি ফলন রবি মৌসুমে ৬.০-৬.৫ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৩.৫-৪.০ টন হয়।
বারি ভুট্টা-৬:
সংগৃহিত কম্পোজিট জাতসমূহের মধ্য থেকে বাছই করে বারি ভুট্টা-৬ জাতটি উদ্ভাবন করা হয় এবং ১৯৯৮ সালে অনুমোদন করা হয়। রবি মৌসুমে এ জাতের জীবনকাল ১৪৫-১৫০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ৯৫-১০৫ দিন। এ জাতের মোচা খোসাদ্বারা ভালভাবে আবৃত থাকে। মোচা মাঝারি আকারের। হাজার দানার ওজন ৩১৫-৩২৫ গ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন রবি মৌসুমে ৬.৫-৭.০ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৫.০-৫.৫ টন পাওয়া যায়।
বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১:
থাইল্যান্ড হতে সংগৃহিত ইনব্রেড থেকে বাছাইয়ের মাধ্যমে বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১ জাতটি উদ্ভাবিত হয়। বর্তমানে জাতটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। জাতটি বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উৎপাদনের উপযোগী। জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৩৫-১৪৫ দিন ও খরিফ মৌসুমে ৯৫-১০৫ দিন। জাতটির দানা বেশ বড়, রং হলুদ। মোচার অগ্রভাগ ভরাট। এ জাতের গাছের উচ্চতা ১৯০-২১০ সেমি। হাজার দানার ওজন ৫৭০-৫৮০ গ্রাম। জাতটির ফলন হেক্টরপ্রতি ৮.০-৮.৫ টন।
বপনের সময়ঃ
বাংলাদেশে রবি মৌসুমে মধ্য-আশ্বিন থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ (অক্টোবর-নভেম্বর) এবং খরিফ মৌসুমে ফাল্গুন থেকে মধ্য-চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারী-মার্চ) পর্যন্ত সময় বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।
সার ব্যবস্থাপনাঃ
ভুট্টা চাষে বিভিন্ন প্রকার সারের পরিমান নিচে দেওয়া হলোঃ
পরিমান / হেক্টর / কেজি
সারের নাম
কম্পোজিট রবি, কম্পোজিট খরিফ ও হাইব্রিড রবি
ইউরিয়া ১৭২-৩১২, ২১৬-২৬৪. ৫০০-৫৫০
টিএসপি ১৬৮-২১৬,১৩২-২১৬, ২৪০-২৬০
এমপি ৯৬-১৪৪, ৭২-১২০, ১৮০-২২০
জিপসাম ১৪৪-১৬৮, ৯৬-১৪৪, ২৪০-২৬০
জিংকসালফেট ১০-১৫, ৭-১২, ১০-১৫
বোরিকএসিড ৫-৭ , ৫-৭ , ৫-৭
গোবর ৪-৬ টন , ৪-৬ টন , ৪-৬ টন
সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
জমি তৈরীর শেষ পর্যায়ে অনুমোদিত ইউরিয়ার এক তৃতীয়াংশ এবং অন্যান্য সারের সবটুকু ছিটিয়ে জমি চাষ দিতে হবে। বাকি ইউরয়া সমান ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তি বীজ গজানোর ২৫-৩০ দিন পর এবং দ্বিতীয় কিসি- বীজ গজানোর ৪০-৫০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। চারা গজানোর ৩০ দিনের মধ্যে জমি থেকে অতিরিক্ত চারা তুলে ফেলতে হবে। চারার বয়স এক মাস না হওয়া পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ
উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্টার আশানুরূপ ফলন পেতে হলে রবি মৌসুমে সেচ প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। উদ্ভাবিত জাতে নিম্নরূপ ৩-৪টি সেচ দেওয়া যায়।
প্রথম সেচ : বীজ বপনের ১৫-২০ দিনের মধ্যে (৪-৬ পাতা পর্যায়)
দ্বিতীয় সেচ : বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে (৮-১২ পাতা পর্যায়)
তৃতীয় সেচ : বীজ বপনের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে (মোচা বের হওয়া পর্যায়)
চতুর্থ সেচ : বীজ বপনের ৮৫-৯৫ দিনের মধ্যে (দানা বাঁধার পূর্ব পর্যায়)
ভুট্টার ফুল ফোটা ও দানা বাঁধার সময় কোন ক্রমেই জমিতে যাতে জলবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে নিড়ানী দিয়ে দমন করতে হবে।
পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনাঃ
ভুট্টার চারা অবস্থায় কাটুই পোকার আক্রমণ হলে হাত দিয়ে তা মেরে ফেলতে হবে।
রোগ ব্যবস্থাপনাঃ
ভুট্টার বীজ পচা এবং চারা গাছের রোগ দমনঃ বীজ পচা এবং চারা নষ্ট হওয়ার কারণে সাধারণত ক্ষেতে ভুট্টা গাছের সংখ্যা কমে যায়। নানা প্রকার বীজ ও মাটি বাহিত ছত্রাক যেমন পিথিয়াম, রাইজোকটনিয়া, ফিউজেরিয়াম, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি বীজ বপন, চারা ঝলসানো, রোগ ও শিকড় পচা রোগ ঘটিয়ে থাকে। জমিতে রসের পরিমান বেশী হলে এবং মাটির তাপমাত্রা কম থাকলে বপনকৃত বীজের চারা বড় হতে অনেক সময় লাগে। ফলে এ সময়ে ছত্রকের আক্রমনের মাত্রা বেড়ে যায়।
প্রতিকার
১. সুস্থ্য, সবল ও ক্ষতমুক্ত বীজ এবং ভুট্টার বীজ পচা রোগ প্রতিরোধী বর্ণালী ও মোহর জাত ব্যবহার করতে হবে।
২. উত্তমরূপে জমি তৈরী করে পরিমিত রস ও তাপমাত্রায় (১৩ সে. এর বেশী) বপন করতে হবে।
৩. থিরাম বা ভিটাভেক্স (০.২৫ভাগ) প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করলে ভুট্টার বীজ পচা রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়।
ভুট্টার পাতা ঝলসানো রোগ দমনঃ
হেলমিনথোসপরিয়াম টারসিকাম ও হেলমিনথোসপরিয়াম মেইডিস নামক ছত্রাকদ্বয় এ রোগ সৃষ্টি করে। প্রথম ছত্রাকটি দ্বারা আমাদের দেশে ভুট্টার পাতা ঝলসানো রোগ বেশী হতে দেখা যায়। হেলমিনথোসপরিয়াম টারসকাম দ্বারা আক্রান্ত গাছের নিচের দিকের পাতায় লম্বাটে ধূসর বর্ণের দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে গাছের উপরের অংশে তা বিস্তার লাভ করে। রোগের প্রকোপ বেশী হলে পাতা আগাম শুকিয়ে যায় এবং গাছ মরে যায়। এ রোগের জীবানু গাছের আক্রান্ত অংশে অনেক দিন বেঁচে থাকে জীবাণুর বীজকণা বা কনিডিয়া বাতাসের সাহায্যে অনেক দূর পর্যন্ত সুস্থ্য গাছে ছড়াতে পারে। বাতাসের আদ্রতা বেশী হলে এবং ১৮-২৭ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় এ রোগের আক্রমণ বেড়ে যায়।
প্রতিকারঃ
১. রোগ প্রতিরোধী জাতের (মোহর) চাষ করতে হবে।
২. আক্রান্ত ফসলে টিল্ট ২৫০ ইসি (০.০৪ভাগ) ১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
৩. ভুট্টা উঠানোর পর জমি থেকে আক্রান্ত গাছ সরিয়ে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
ভুট্টার মোচা ও দানা পচা রোগ দমনঃ
মোচা ও দানা পচা রোগ ভুট্টার ফলন, বীজের গুনাগুন ও খাদ্যমান কমিয়ে দেয়। বিভিন্ন প্রকার ছত্রাক যথা ডিপ্লোডিয়া মেডিস, ফিউজেরিয়াম মনিলিফরমি প্রভৃতি এ রোগ ঘটায়। আক্রান্ত মোচার খোসা ও দানা বিবর্ণ হয়ে যায়। দানা পুষ্ট হয় না, কুঁচকে অথবা ফেটে যায়। অনেক সময় মোচাতে বিভিন্ন দানার মাঝে বা উপরে ছত্রাকের উপস্থিতি খালি চোখেই দেখা যায়। ভুট্টা গাছে মোচা আসা থেকে পাকা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বেশী থাকলে এ রোগের আক্রমণ বাড়ে। পোকা বা পাখির আক্রমনে বা কান্ড পচা রোগে গাছ মাটিতে পড়ে গেলে এ রোগ ব্যাপকতা লাভ করে। এ রোগের জীবাণু বীজ অথবা আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশে বেঁচে থাকে। একই জমিতে বার বার ভুট্টার চাষ করলে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
প্রতিকার
১. এ রোগের প্রাদুর্ভাব এড়াতে একই জমিতে বার বার ভুট্টা চাষ করা ঠিক নয়।
২. জমিতে পোকা ও পাখির আক্রমন রোধ করতে হবে।
৩. ভুট্টা পেকে গেলে তাড়াতাড়ি কেটে ফেলতে হবে।
৪. কাটার পর ভুট্টার পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
ভুট্টার কান্ড পচা রোগ দমনঃ
বিভিন্ন প্রজাতির ছত্রাক যথা ডিপ্লোডিয়া মেডিস, ফিউজেরিয়াম মনিলিফরমি-এর কারণে এ রোগ ঘটে থাকে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে গাছের কান্ড পচে যায় এবং গাছ মাটিতে ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের দেশে খরিফ মৌসুমে এ রোগ বেশী হয়ে থাকে। জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশী এবং পটাশের পরিমাণ কম হলে ছত্রাক জনিত কান্ড পচা রোগ বেশী হয়।
প্রতিকারঃ
১. ছত্রাকনাশক ভিটাভেক্স-২০০ দিয়ে বীজ শোধন করে লাগাতে হবে।
২. সুষম হারে সার ব্যবহার করতে হবে, বিশেষ করে নাইট্রোজেন ও পটাশ পরিমিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
৩. ভুট্টা কাটার পর পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৪. শিকড় ও কান্ড আক্রমকারী পোকা-মাকড় দমন করতে হবে।
৫. আক্রান্ত জমিতে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
ফসল সংগ্রহঃ
দানার জন্য ভুট্টা সংগ্রহের ক্ষেত্রে মোচা চক্চক্ খড়ের রং ধারণ করলে এবং পাতা কিছুটা হলদে হলে সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। এ অবস্থায় মোচা থেকে ছড়ানো বীজের গোড়ায় কালো দাগ দেখা যাবে। ভুট্টা গাছের মোচা ৭৫-৮০ভাগ পরিপক্ক হলে ভুট্টা সংগ্রহ করা যাবে। বীজ হিসেবে মোচার মাঝামাঝি অংশ থেকে বড় ও পুষ্ট দানা সংগ্রহ করতে হবে।পর্ব - ১
ভুট্টা
পুষ্টি মূল্যঃ
ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশী। এতে প্রায় ১১ভাগ আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রয়োজনীয় এ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমানে আছে। এছাড়া হলদে রংয়ের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ থাকে।
ভেষজ গুনঃ
ব্যবহারঃ ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নত মানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট গুরূত্ব রয়েছ। শুধু পশু, মুরগির খামার ও মাছের চাহিদা মিটানোর জন্যই বছরে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টন ভুট্টা দানা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ভুট্টার জমি দ্রুত বাড়ছে।
উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ
বেলে দোআশ ও দোআশ মাটি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন জমিতে পানি জমে না থাকে।
জাত পরিচিতিঃ
ভুট্টার জাত সংগ্রহ ও বাছাই করনের মাধ্যমে বিএআরআই আজ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটাতে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী ভুট্টা জাতের চাষের সম্ভবনা খুবই উজ্জ্বল।
ভুট্টার জাতঃ
বর্ণালীঃ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত বর্ণালী জাতটি ১৯৮৬ সালে অনুমোদিত হয়। স্থানীয় জাতসমূহের চেয়ে বর্ণালী জাতের গাছের উচ্চতা বেশী। এ জাতের মোচা আকারে বেশ বড় এবং আগার দিক কিছুটা সরু। মোচার অগ্রভাগ পযন- শক্তভাবে খোসাদ্বারা আবৃত থাকে। বর্ণালীর দানা সোনালী হলদে রংয়ের এবং দানা আকারে বেশ বড়। হাজার দানার ওজন ২৪৫-৩২০ গ্রাম। এ জাতটি রবি মৌসুমে ১৪০-১৪৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৯৫-১০০ দিনে পাকে। ফলন প্রতি হেক্টরে রবি মৌসুমে ৫.৫-৬.০ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৪.০-৪.৫ টন হয়। বর্ণালী জাতে বেশী পরিমানে ক্যারোটিন আছে বলে এর দানা হাঁস-মুরগির খাদ্য তৈরির একটি উত্তম উপকরণ।
শুভ্রাঃ
শুভ্রা নামে ভুট্টার উচ্চ ফলনশীল এ জাতটি ১৯৮৬ সালে অনুমোদন করা হয়। স্থানীয় জাতের চেয়ে শুভ্রা জাতের গাছের উচ্চতা বেশী। শুভ্রার দানা আকারে বড় এবং সম্পূর্ণ মোচা দানায় ভর্তি থাকে। হাজার দানার ওজন ৩১০-৩৩০ গ্রাম। এ জাতটির গাছের উপরের অংশের পাতা নিচের অংশের পাতার চেয়ে আকারে ছোট এবং অপেক্ষাকৃত সরু। জাতটি রবি মৌসুমে ১৩৫-১৪৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৯৫-১০৫ দিনে পাকে। পরিপক্ক অবস্থায় মোচা সংগ্রহ করলে প্রতি হেক্টরে ৫০-৫৩ হাজার মোচা পাওয়া যায়। ফলন প্রতি হেক্টরে রবি মৌসুমে ৪.০-৫.৫ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৩.৫-৪.৫ টন হয়। দানার রং সাদা বলে গমের আটার সাথে মিশিয়ে রুটি তৈরি করা যায়।
খইভুট্টাঃ
খইভুট্টা জাত খই এর জন্য ১৯৮৬ সালে জাত হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। গাছ মাঝারি উচ্চতা সম্পন্ন, মোচার উপরের পাতা অপেক্ষাকৃত সরু এবং দানা আকারে ছোট। হাজার দানার ওজন ১৪০-১৫০ গ্রাম। খইভুট্টা রবি মৌসুমে ১২৫-১৩০ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৯০-১০০ দিনে পাকে। ফলন হেক্টরে রবি মৌসুমে ৩.৫-৪.০ টন এবং খরিফ মৌসুমে ২.৫-৩.৫ টন হয়। খইভুট্টার দানা থেকে শতকরা ৯০-৯৫ ভাগ খই পাওয়া যায়। খই আকারে বেশ বড় ও সুস্বাদু।
মোহরঃ
ভুট্টার মোহর জাত ১৯৯০ সালে উচ্চ ফলনশীল জাত হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। মোহর জাতের গাছ অন্যান্য জাতের গাছের চেয়ে বেশ উঁচু, ফলে খড়ের পরিমান বেশী হয়। এ জাতের মোচা পাকার পরেও পাতা বেশ সবুজ থাকে বলে পাতা উৎকৃষ্ট গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মোহর জাতের কান্ড শক্ত হওয়ায় বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না। মোচা মোটা,লম্বা এবং সম্পূর্ণ মোচা দানায় পূর্ণ থাকে। দানা উজ্জ্বল হলুদ এবং আকারে বড়। হাজার দানার ওজন ১৮০-৩০০ গ্রাম। মোহর জাতটি দানা এবং গো-খাদ্য উভয় উদ্দেশ্যে চাষ করা যেতে পারে। জাতটি রবি মৌসুমে ১৩৫-১৪৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৯৫-১০৫ দিনে পাকে। ফলন হেক্টরপ্রতি রবি মৌসুমে ৫.০-৫.৫ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৩.৫-৪.৫ টন হয়।
বারি ভুট্টা-৫:
নাইজেরিয়া থেকে ১৯৮৮ সালে সংগৃহিত ১০ টি ইনব্রেড সারি থেকে ৫টি বাছায় করা হয়। পরবর্তীতে ১টি অগ্রবর্তী কম্পোজিটের সংগে সংকরায়ণের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবিত হয় এবং ১৯৯৭ সালে অনুমোদন করা হয়। জাতটি বাংলাদেশে ভুট্টা চাষ উপযোগী এলাকায় চাষাবাদের জন্য উপযুক্ত বলে প্রমানিত হয়েছে।
গাছ সহজে হেলে পড়ে না। জাতটির মোচা বেশ লম্বা ও মোটা এবং সম্পূর্ণভাবে খোসাদ্বারা আবৃত। এ জাতের দানার রং হলুদ এবং হাজার দানার ওজন ২৯০-৩১০ গ্রাম। এ জাতের জীবনকাল ১৩৫-১৫৫ দিন। হেক্টরপ্রতি ফলন রবি মৌসুমে ৬.০-৬.৫ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৩.৫-৪.০ টন হয়।
বারি ভুট্টা-৬:
সংগৃহিত কম্পোজিট জাতসমূহের মধ্য থেকে বাছই করে বারি ভুট্টা-৬ জাতটি উদ্ভাবন করা হয় এবং ১৯৯৮ সালে অনুমোদন করা হয়। রবি মৌসুমে এ জাতের জীবনকাল ১৪৫-১৫০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ৯৫-১০৫ দিন। এ জাতের মোচা খোসাদ্বারা ভালভাবে আবৃত থাকে। মোচা মাঝারি আকারের। হাজার দানার ওজন ৩১৫-৩২৫ গ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন রবি মৌসুমে ৬.৫-৭.০ টন এবং খরিফ মৌসুমে ৫.০-৫.৫ টন পাওয়া যায়।
বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১:
থাইল্যান্ড হতে সংগৃহিত ইনব্রেড থেকে বাছাইয়ের মাধ্যমে বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১ জাতটি উদ্ভাবিত হয়। বর্তমানে জাতটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। জাতটি বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উৎপাদনের উপযোগী। জীবনকাল রবি মৌসুমে ১৩৫-১৪৫ দিন ও খরিফ মৌসুমে ৯৫-১০৫ দিন। জাতটির দানা বেশ বড়, রং হলুদ। মোচার অগ্রভাগ ভরাট। এ জাতের গাছের উচ্চতা ১৯০-২১০ সেমি। হাজার দানার ওজন ৫৭০-৫৮০ গ্রাম। জাতটির ফলন হেক্টরপ্রতি ৮.০-৮.৫ টন।
বপনের সময়ঃ
বাংলাদেশে রবি মৌসুমে মধ্য-আশ্বিন থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ (অক্টোবর-নভেম্বর) এবং খরিফ মৌসুমে ফাল্গুন থেকে মধ্য-চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারী-মার্চ) পর্যন্ত সময় বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।
সার ব্যবস্থাপনাঃ
ভুট্টা চাষে বিভিন্ন প্রকার সারের পরিমান নিচে দেওয়া হলোঃ
পরিমান / হেক্টর / কেজি
সারের নাম
কম্পোজিট রবি, কম্পোজিট খরিফ ও হাইব্রিড রবি
ইউরিয়া ১৭২-৩১২, ২১৬-২৬৪. ৫০০-৫৫০
টিএসপি ১৬৮-২১৬,১৩২-২১৬, ২৪০-২৬০
এমপি ৯৬-১৪৪, ৭২-১২০, ১৮০-২২০
জিপসাম ১৪৪-১৬৮, ৯৬-১৪৪, ২৪০-২৬০
জিংকসালফেট ১০-১৫, ৭-১২, ১০-১৫
বোরিকএসিড ৫-৭ , ৫-৭ , ৫-৭
গোবর ৪-৬ টন , ৪-৬ টন , ৪-৬ টন
সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
জমি তৈরীর শেষ পর্যায়ে অনুমোদিত ইউরিয়ার এক তৃতীয়াংশ এবং অন্যান্য সারের সবটুকু ছিটিয়ে জমি চাষ দিতে হবে। বাকি ইউরয়া সমান ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তি বীজ গজানোর ২৫-৩০ দিন পর এবং দ্বিতীয় কিসি- বীজ গজানোর ৪০-৫০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। চারা গজানোর ৩০ দিনের মধ্যে জমি থেকে অতিরিক্ত চারা তুলে ফেলতে হবে। চারার বয়স এক মাস না হওয়া পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ
উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্টার আশানুরূপ ফলন পেতে হলে রবি মৌসুমে সেচ প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। উদ্ভাবিত জাতে নিম্নরূপ ৩-৪টি সেচ দেওয়া যায়।
প্রথম সেচ : বীজ বপনের ১৫-২০ দিনের মধ্যে (৪-৬ পাতা পর্যায়)
দ্বিতীয় সেচ : বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে (৮-১২ পাতা পর্যায়)
তৃতীয় সেচ : বীজ বপনের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে (মোচা বের হওয়া পর্যায়)
চতুর্থ সেচ : বীজ বপনের ৮৫-৯৫ দিনের মধ্যে (দানা বাঁধার পূর্ব পর্যায়)
ভুট্টার ফুল ফোটা ও দানা বাঁধার সময় কোন ক্রমেই জমিতে যাতে জলবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে নিড়ানী দিয়ে দমন করতে হবে।
পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনাঃ
ভুট্টার চারা অবস্থায় কাটুই পোকার আক্রমণ হলে হাত দিয়ে তা মেরে ফেলতে হবে।
রোগ ব্যবস্থাপনাঃ
ভুট্টার বীজ পচা এবং চারা গাছের রোগ দমনঃ বীজ পচা এবং চারা নষ্ট হওয়ার কারণে সাধারণত ক্ষেতে ভুট্টা গাছের সংখ্যা কমে যায়। নানা প্রকার বীজ ও মাটি বাহিত ছত্রাক যেমন পিথিয়াম, রাইজোকটনিয়া, ফিউজেরিয়াম, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি বীজ বপন, চারা ঝলসানো, রোগ ও শিকড় পচা রোগ ঘটিয়ে থাকে। জমিতে রসের পরিমান বেশী হলে এবং মাটির তাপমাত্রা কম থাকলে বপনকৃত বীজের চারা বড় হতে অনেক সময় লাগে। ফলে এ সময়ে ছত্রকের আক্রমনের মাত্রা বেড়ে যায়।
প্রতিকার
১. সুস্থ্য, সবল ও ক্ষতমুক্ত বীজ এবং ভুট্টার বীজ পচা রোগ প্রতিরোধী বর্ণালী ও মোহর জাত ব্যবহার করতে হবে।
২. উত্তমরূপে জমি তৈরী করে পরিমিত রস ও তাপমাত্রায় (১৩ সে. এর বেশী) বপন করতে হবে।
৩. থিরাম বা ভিটাভেক্স (০.২৫ভাগ) প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করলে ভুট্টার বীজ পচা রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়।
ভুট্টার পাতা ঝলসানো রোগ দমনঃ
হেলমিনথোসপরিয়াম টারসিকাম ও হেলমিনথোসপরিয়াম মেইডিস নামক ছত্রাকদ্বয় এ রোগ সৃষ্টি করে। প্রথম ছত্রাকটি দ্বারা আমাদের দেশে ভুট্টার পাতা ঝলসানো রোগ বেশী হতে দেখা যায়। হেলমিনথোসপরিয়াম টারসকাম দ্বারা আক্রান্ত গাছের নিচের দিকের পাতায় লম্বাটে ধূসর বর্ণের দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে গাছের উপরের অংশে তা বিস্তার লাভ করে। রোগের প্রকোপ বেশী হলে পাতা আগাম শুকিয়ে যায় এবং গাছ মরে যায়। এ রোগের জীবানু গাছের আক্রান্ত অংশে অনেক দিন বেঁচে থাকে জীবাণুর বীজকণা বা কনিডিয়া বাতাসের সাহায্যে অনেক দূর পর্যন্ত সুস্থ্য গাছে ছড়াতে পারে। বাতাসের আদ্রতা বেশী হলে এবং ১৮-২৭ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় এ রোগের আক্রমণ বেড়ে যায়।
প্রতিকারঃ
১. রোগ প্রতিরোধী জাতের (মোহর) চাষ করতে হবে।
২. আক্রান্ত ফসলে টিল্ট ২৫০ ইসি (০.০৪ভাগ) ১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
৩. ভুট্টা উঠানোর পর জমি থেকে আক্রান্ত গাছ সরিয়ে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
ভুট্টার মোচা ও দানা পচা রোগ দমনঃ
মোচা ও দানা পচা রোগ ভুট্টার ফলন, বীজের গুনাগুন ও খাদ্যমান কমিয়ে দেয়। বিভিন্ন প্রকার ছত্রাক যথা ডিপ্লোডিয়া মেডিস, ফিউজেরিয়াম মনিলিফরমি প্রভৃতি এ রোগ ঘটায়। আক্রান্ত মোচার খোসা ও দানা বিবর্ণ হয়ে যায়। দানা পুষ্ট হয় না, কুঁচকে অথবা ফেটে যায়। অনেক সময় মোচাতে বিভিন্ন দানার মাঝে বা উপরে ছত্রাকের উপস্থিতি খালি চোখেই দেখা যায়। ভুট্টা গাছে মোচা আসা থেকে পাকা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বেশী থাকলে এ রোগের আক্রমণ বাড়ে। পোকা বা পাখির আক্রমনে বা কান্ড পচা রোগে গাছ মাটিতে পড়ে গেলে এ রোগ ব্যাপকতা লাভ করে। এ রোগের জীবাণু বীজ অথবা আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশে বেঁচে থাকে। একই জমিতে বার বার ভুট্টার চাষ করলে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
প্রতিকার
১. এ রোগের প্রাদুর্ভাব এড়াতে একই জমিতে বার বার ভুট্টা চাষ করা ঠিক নয়।
২. জমিতে পোকা ও পাখির আক্রমন রোধ করতে হবে।
৩. ভুট্টা পেকে গেলে তাড়াতাড়ি কেটে ফেলতে হবে।
৪. কাটার পর ভুট্টার পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
ভুট্টার কান্ড পচা রোগ দমনঃ
বিভিন্ন প্রজাতির ছত্রাক যথা ডিপ্লোডিয়া মেডিস, ফিউজেরিয়াম মনিলিফরমি-এর কারণে এ রোগ ঘটে থাকে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে গাছের কান্ড পচে যায় এবং গাছ মাটিতে ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের দেশে খরিফ মৌসুমে এ রোগ বেশী হয়ে থাকে। জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশী এবং পটাশের পরিমাণ কম হলে ছত্রাক জনিত কান্ড পচা রোগ বেশী হয়।
প্রতিকারঃ
১. ছত্রাকনাশক ভিটাভেক্স-২০০ দিয়ে বীজ শোধন করে লাগাতে হবে।
২. সুষম হারে সার ব্যবহার করতে হবে, বিশেষ করে নাইট্রোজেন ও পটাশ পরিমিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
৩. ভুট্টা কাটার পর পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৪. শিকড় ও কান্ড আক্রমকারী পোকা-মাকড় দমন করতে হবে।
৫. আক্রান্ত জমিতে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
ফসল সংগ্রহঃ
দানার জন্য ভুট্টা সংগ্রহের ক্ষেত্রে মোচা চক্চক্ খড়ের রং ধারণ করলে এবং পাতা কিছুটা হলদে হলে সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। এ অবস্থায় মোচা থেকে ছড়ানো বীজের গোড়ায় কালো দাগ দেখা যাবে। ভুট্টা গাছের মোচা ৭৫-৮০ভাগ পরিপক্ক হলে ভুট্টা সংগ্রহ করা যাবে। বীজ হিসেবে মোচার মাঝামাঝি অংশ থেকে বড় ও পুষ্ট দানা সংগ্রহ করতে হবে।
আমাদের আরো অ্যাপস
"আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু" * বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম * "ইসলামের আলোকে আমাদের জগৎ" Site এ সবাইকে স্বাগতম। * "প্রচার কর,যদি একটি মাত্র আয়াতও হয়"। [বুখারী-৩৪৬১] * "কেউ হেদায়েতের দিকে আহ্বান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে,তবে যারা অনুসরন করেছে তাদের সওয়াবের কোন কমতি হবেনা।"(মুসলিম-২৬৭৮) * আমাদের এই Site এ আল কুরআন/সুন্নাহ ভিত্তিক লিখনী দেয়া হবে- ইনশা আল্লাহ।আপনারা আমাদের সাথেই থাকবেন। * "জাযাকাল্লাহু/জাযাকি-আল্লাহু খায়রান”
Saturday, May 25, 2019
ভুট্টার গুনাগুণ:-
কাঁচা মরিচের গুনাগুণ:-
কাঁচা মরিচের গুনাগুণ
পর্ব - ১
প্রতিদিন যাদের ভাতের সাথে একটি কাঁচা মরিচ না খেলে চলেই না তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে কাঁচা মরিচ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। মরিচকে ঝাল বানায় এর বিশেষ উপাদান ক্যাপসাইকিন। কাঁচা মরিচ সাধারণত কাঁচা, রান্না কিংবা বিভিন্ন ভাজিতে দিয়ে খাওয়া হয়। এতে আছে ভিটামিন এ, সি, বি-৬, আয়রন, পটাশিয়াম এবং খুবই সামান্য পরিমাণে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট।
ঝাল স্বাদের সব্জিগুলোতে থাকে বিটা ক্যারোটিন ও আলফা ক্যারোটিন, বিটা ক্রিপ্টোক্সানথিন ও লুটেইন জিয়াক্সানথিন ইত্যাদি উপাদান। এই উপাদান গুলো মুখে লালা আনে ফলে খেতে মজা লাগে। এছাড়াও এগুলো ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। দেখে নিন কাঁচা মরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো।
দুনিয়াতে সম্ভবত মরিচই এক মাত্র ফল যা কামড়ালে পাল্টা কামড় দেয়। এই পাল্টা কামড়ের প্রতিক্রিয়া মরিচের জাতভেদে নানা ধরনের হতে পারে। কোনটা কামড় দেয়ার সাথে সাথে মুখের ভিতর জ্বালা শুরু হয়, কোনটা গলাধঃকরণ না করা পর্যন্ত টের পাওয়া যায়না, কোনটা জিহ্বার আগায় জ্বালা ধরিয়ে দেয়, কোনটা আবার সমস্ত মুখগহবরে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিশ্বে প্রায় ২০ থেকে ২৭টি জাতের মরিচ আছে। রং, আকার, আকৃতিতে ও ঝালের মাত্রায় সবগুলোই ভিন্ন ধরনের।
বিভিন্ন তরকারিতে মরিচ মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তরকারির স্বাদ বাড়ানোর জন্য মরিচ ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মরিচ ছাড়া কোন তরকারি রান্না করা চিন্তা করা হয় না। মরিচ সালাদে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য মরিচের সসের অনেক চাহিদা রয়েছে।
বিভিন্ন প্রকার রান্নার জন্য মরিচ একটি অপরিহার্য উপাদান। মরিচকে অর্থকরী ফসল বলা হয়। এর ইংরেজি নাম Chilli ও বৈজ্ঞানিক নাম Capsicun annuum. বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে মরিচের চাষ করা হয়। তবে চরাঞ্চালে মরিচের উৎপাদন বেশি হয়। আমাদের দেশের অনেক জায়গায় এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মরিচ চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। একজন বেকার নারী বা পুরুষ নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য নিজের জমিতে অথবা বর্গা নেওয়া জমিতে মরিচ চাষ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
বাংলাদেশে অসংখ্য জাতের মরিচ চাষ হয়। যেমনঃ ধানি মরিচ, লাল মরিচ, কামরাঙ্গা মরিচ, সিমলা মরিচ, উল্টা মরিচ, বেলুন মরিচ, লঙ্কা মরিচ ও বোম্বাই মরিচ ইত্যাদি ।
ব্যবহারিক দিক থেকে মরিচকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ঝাল মরিচ ও ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম)।
ঝাল মরিচ :
মূলত কাঁচা মরিচ বা নাগা মরিচ যা কম-বেশি ঝালযুক্ত তা রান্নায় ব্যবহার করা হয়। একইসাথে শুকনা মরিচ যা দেখতে লম্বাটে ধরণের তাও ব্যবহার করা হয়। শুকনা মরিচ গুঁড়ো অথবা শিল-পাটায় বেটে রান্না করা হয়। মরিচের সস ব্যাপকহারে বিপণন করা হয়।
ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম) :
উপমহাদেশে এ ধরণের মরিচকে সিমলা মরিচ বলা হয়। এ মরিচ সাধারণত আকরে বড় এবং পুরু। এ মরিচকে সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং সালাদেও ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এ মরিচ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় এবং এটি একটি উচ্চমূল্য সম্পন্ন শস্য।
শুধুমাত্র কাঁচা মরিচ ও লাল মরিচেই রয়েছে অন্যান্য যে কোন খাবারের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি। পানিতে দ্রবণীয় এই ভিটামিনটি স্যুপ, কারি ও সস-এর মধ্যে ব্যবহূত হয়। অনেকে আবার সালাদ তৈরিতেও কাঁচা মরিচ ব্যবহার করেন।
শুধু একটি মাত্র কাঁচা মরিচে থাকে ১০৯ দশমিক ১৩ মিলিগ্রাম (১৮২ভাগ) ভিটামিন সি। একই ভাবে লাল মরিচে প্রতিটিতে থাকে ৬৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি (১০৮ভাগ)। প্রতি ১০০ গ্রাম সার্ভিং পরিমাণের মধ্যে থাকে ৪০ খাদ্যশক্তি। চর্বি, কোলেস্টেরল সোডিয়ামের পরিমাণ থাকে শূন্য শতাংশ। শর্করা ৩ভাগ, খাদ্য আঁশ ৬ভাগ, ভিটামিন এ ২৪ভাগ, ভিটামিন সি ৪০৪ভাগ, ক্যালসিয়াম ২ভাগ, আয়রণ ৭ভাগ, ভিটামিন ই ৩ভাগ, ভিটামিন কে ১৮ভাগ, থায়ামিন ৬ভাগ, রায়বোফ্লভিন ৫ভাগ, নিয়াসিন ৫ভাগ, প্যান্টোথেনিক এসিড ৫ভাগ, ভিটামিন বি-৬ ১৪ভাগ, ফলিক এসিড ৬ভাগ, পটাশিয়াম ১০ভাগ এবং মাঙ্গানিজ ১২ভাগ ইত্যাদি।
তাই প্রতিদিন আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তত ১টি কাঁচা বা লাল মরিচ রাখুন এবং শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ভিটামিনটির অভাব পূরণ করুন। আঙ্গুর, নাশপাতি, আপেলের মত বিদেশী ফল অপেক্ষা একটা ছোট্ট কাঁচা মরিচ হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের সঙ্গী। আর একটি মিডিয়াম আপেলের ২ থেকে আড়াই ইঞ্চি পরিমাণ টুকরায় থাকে মাত্র ৮ মিলিগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন সি। অবশ্য আপেলের অন্যান্য গুণাগুণ বেশি।
কাঁচা মরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতা:
গরম কালে কাঁচা মরিচ খেলে ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা থাকে।
প্রতিদিন একটি করে কাঁচা মরিচ খেলে রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি কমে যায়।
নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যা কমে যায়।
কাঁচা মরিচ মেটাবলিসম বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে।
কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন আছে যা কার্ডোভাস্ক্যুলার সিস্টেম কে কর্মক্ষম রাখে।
নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
কাঁচা মরিচ রক্তের কোলেস্টেরল কমায়।
কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন এ যা হাড়, দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভালো রাখতে সহায়তা করে।
কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে যা মাড়ি ও চুলের সুরক্ষা করে।
নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে নার্ভের বিভিন্ন সমস্যা কমে।
প্রতিদিন খাবার তালিকায় অন্তত একটি করে কাঁচা মরিচ রাখলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না।
কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন সি। তাই যে কোনো ধরণের কাটা-ছেড়া কিংবা ঘা শুকানোর জন্য কাঁচা মরিচ খুবই উপকারী।
কাঁচা মরিচের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি শরীরকে জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে।
পর্ব - ২
মরিচ চাষ
মরিচ চাষ কনটেন্টটিতে মরিচ চাষ কীভাবে করা যায়, চাষ করার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে কিনা, এক বিঘা জমির উৎপাদন খরচ, এর পুষ্টিমান এবং সর্বোপরি এর মাধ্যমে কীভাবে বাড়তি আয় করা সম্ভব, সে বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিভিন্ন প্রকার রান্নার জন্য মরিচ একটি অপরিহার্য উপাদান। মরিচকে অর্থকরী ফসল বলা হয়। এর ইংরেজি নাম Chilli ও বৈজ্ঞানিক নাম Capsicun annuum. বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে মরিচের চাষ করা হয়। তবে চরাঞ্চালে মরিচের উৎপাদন বেশি হয়। আমাদের দেশের অনেক জায়গায় এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মরিচ চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। একজন বেকার নারী বা পুরুষ নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য নিজের জমিতে অথবা বর্গা নেওয়া জমিতে মরিচ চাষ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
পুষ্টিগুন
মরিচে ভিটামিন সি আছে।
বাজার সম্ভাবনা
বিভিন্ন তরকারিতে মরিচ মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তরকারির স্বাদ বাড়ানোর জন্য মরিচ ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মরিচ ছাড়া কোন তরকারি রান্না করা চিন্তা করা হয় না। মরিচ সালাদে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য মরিচের সসের অনেক চাহিদা রয়েছে। মরিচ চাষ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব। ব্যাপকভাবে মরিচ চাষ করলে তা বিদেশেও রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে। মরিচ বিদেশে রপ্তানি করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
মরিচ উৎপাদন কৌশল
* চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটি --
জলবায়ু
সাধারণত মরিচ রবি মৌসুমে বেশি চাষ করা হয়। তবে ভাদ্র মাসেও কিছু কিছু মরিচ চাষ করা হয়।
মাটির প্রকৃতি
যথেষ্ট সূর্যালোক পড়ে এবং বাতাস আছে এ ধরণের উঁচু এবং মুক্ত জমি চাষের জন্য উপযোগী। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য ভালো। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দো-আঁশ বা পলি দো-আঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
জাত
১. বাংলাদেশে অসংখ্য জাতের মরিচ চাষ হয়।
২. সাধারণভাবে এগুলোর বিশেষ কোন নাম নেই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এদের নামও আছে।
৩. খুবই ছোট আকারের একটি মরিচ রয়েছে যাকে ধানি মরিচ বলা হয়।
৪. কামরাঙ্গা মরিচ নামে এদেশে একটি জাত আছে, এটি অত্যন্ত ঝাল এবং উপবৃত্তাকার। কোন কোন জেলায় একে বোম্বাই মরিচ বলা হয়।
ব্যবহারিক দিক থেকে মরিচকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ঝাল মরিচ ও ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম)।
ঝাল মরিচ :
এশিয়া, চীন এবং মধ্য আফ্রিকার দেশসমূহে ঝাল মরিচ ও ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম)-এই দুই ধরণের মরিচ চাষ করা হয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন আকার এবং আকৃতির মরিচ চাষ করা হয়। মূলত কাঁচা মরিচ যা কম-বেশি ঝালযুক্ত তা রান্নায় ব্যবহার করা হয়। একইসাথে শুকনা মরিচ যা দেখতে লম্বাটে ধরণের তাও ব্যবহার করা হয়। শুকনা মরিচ গুঁড়ো অথবা শিল-পাটায় বেটে রান্না করা হয়। মরিচের সস ব্যাপকহারে বিপণন করা হয়।
ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম) :
উপমহাদেশে এ ধরণের মরিচকে সিমলা মরিচ বলা হয়। এ মরিচ সাধারণত আকরে বড় এবং পুরু। এ মরিচকে সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং সালাদেও ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এ মরিচ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় এবং এটি একটি উচ্চমূল্য সম্পন্ন শস্য।
তথ্যসূত্র :
কৃষি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, জুন ২০০৭, Microfinance for Marginal and Small Farmers (MFMSF) Project, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সেল-১, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), ঢাকা।
চারা রোপণ/বীজ বপন পদ্ধতি
১. শীত মৌসুমের জন্য ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমের জন্য ফাল্গুন-চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চারা তৈরির জন্য বীজ বপন করা হয়।
২. মরিচের চারা ৪-৫টি পাতা গজালে রোপণ করা যায়।
৩. মরিচের চারা সারিবদ্ধভাবে ৬০-৭৫ সে.মি. দূরত্বে রোপণ করা হয়।
৪. একটি চারা থেকে আর একটি চারা ৬০-৭৫ সে.মি. দূরত্বে রোপণ করা হয়।
সার প্রয়োগ
কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে মরিচ চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশে-পাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদি স্তুপ করে রেখে আবর্জনা পচা সার তৈরি করা সম্ভব।
সেচ
১. শুকনা মৌসুমে মরিচে পানি সেচ খুবই উপকারী। শীত ও খরার সময় জমিতে ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে জমে।
২. পানির অভাব হলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
৩. আবহাওয়া ও মাটির অবস্থাভেদে সেচই মরিচের জন্য যথেষ্ট।
চাষের সময় পরিচর্যা
১. জমিতে আগাছা থাকলে পোকামাকড়, রোগজীবাণু ও ইঁদুরের আক্রমণ বেশি হয়। তাই বীজ বপনের ১৫-২০ দিন পর একবার নিড়ানী দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
২. মাটিবাহিত রোগে মরিচ বেশি আক্রান্ত হয়। এজন্য একই জমিতে বছরে একবারের বেশি মরিচ চাষ করা ঠিক নয়।
রোগবালাই
১. প্রজেনিয়া, লিটুরিয়া, কাপামোটাস কমপ্রেসাস এবং প্রস্টক্সেল মরিচের প্রধান ক্ষতিকারক কীট।
২. রোগের মধ্যে ডাই-হ্যাক অন্যতম।
৩. সষ্টরটও মরিচ গাছের ক্ষতি করে।
প্রতিকার
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।
ফসল সংগ্রহ
সাধারণত মরিচের চারা রোপনের ৬০ দিন পর মরিচ সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।
উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ
প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমি থেকে প্রায় ১২ মণ মরিচ পাওয়া সম্ভব।
বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
১. পাকা মরিচ ১৫ দিন পর পর সংগ্রহ করা যায়।
২. মরিচের গাছ নির্বাচন করে পরিপূর্ণ পাকা মরিচ সংগ্রহ করতে হবে।
৩. তারপর তা ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে বীজ বের করে নিতে হবে।
৪. বীজ শুকিয়ে আর্দ্রতা ৬-৮ভাগ করে নিয়ে বায়ুরোধী পাত্র বা পলেথিন প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে।
মরিচ উৎপাদন খরচ
* ১বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে ফসল উৎপাদন খরচ
খরচের খাত - পরিমাণ - আনুমানিক মূল্য (টাকা)
বীজ/চারা - ৫০০০ চারা - ১৫০০
পানি সেচ - ৩ বার -১৫০০
শ্রমিক - ৩০জন (প্রতিজন=১৫০ টাকা) - ৪৫০০
সার - প্রয়োজন অনুসারে জৈব সার - এই সার বাড়িতেই তৈরি করা সম্ভব। তাই এর জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই।
টিএসপি=৪৩ কেজি (১ কেজি=২৫ টাকা) - ২১৬৭
ইউরিয়া=২৮ কেজি (১ কেজি=১৩ টাকা)
এমপি=২৬ কেজি (১ কেজি=২৮ টাকা)
কীটনাশক
প্রয়োজন অনুসারে জৈব বা রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার -
নিজস্ব/দোকান বা জমি ভাড়া - একবছর - ৪০০০
মাটির জৈব গুণাগুণ রক্ষা ও উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য জৈব সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ বাড়তে পারে।
মূলধন
এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে মরিচ চাষের জন্য প্রায় ১০০০০ টাকার টাকার প্রয়োজন হবে। মূলধন সংগ্রহের জন্য ঋণের প্রয়োজন হলে নিকট আত্মীয়-স্বজন, সরকারী ও বেসরকারী ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান (এনজিও)-এর সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এসব সরকারি ও বেসরকারি ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) শর্ত সাপেক্ষে ঋণ দিয়ে থাকে।
প্রশিক্ষণ
মরিচ চাষ করার আগে এ চাষে অভিজ্ঞ কারোও কাছ থেকে মরিচ চাষের বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। এছাড়া চাষ সংক্রান্ত কোন তথ্য জানতে হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্ধারিত ফি এর বিনিময়ে কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
বিভিন্ন প্রকার রান্নার জন্য মরিচ একটি অপরিহার্য উপাদান। তাই এর চাহিদা শহর গ্রাম সবখানেই আছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মরিচ চাষ করে পারিবারিক চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা সম্ভব।
কাঁচা মরিচের গুনাগুণ
পর্ব - ১
প্রতিদিন যাদের ভাতের সাথে একটি কাঁচা মরিচ না খেলে চলেই না তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে কাঁচা মরিচ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। মরিচকে ঝাল বানায় এর বিশেষ উপাদান ক্যাপসাইকিন। কাঁচা মরিচ সাধারণত কাঁচা, রান্না কিংবা বিভিন্ন ভাজিতে দিয়ে খাওয়া হয়। এতে আছে ভিটামিন এ, সি, বি-৬, আয়রন, পটাশিয়াম এবং খুবই সামান্য পরিমাণে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট।
ঝাল স্বাদের সব্জিগুলোতে থাকে বিটা ক্যারোটিন ও আলফা ক্যারোটিন, বিটা ক্রিপ্টোক্সানথিন ও লুটেইন জিয়াক্সানথিন ইত্যাদি উপাদান। এই উপাদান গুলো মুখে লালা আনে ফলে খেতে মজা লাগে। এছাড়াও এগুলো ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। দেখে নিন কাঁচা মরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো।
দুনিয়াতে সম্ভবত মরিচই এক মাত্র ফল যা কামড়ালে পাল্টা কামড় দেয়। এই পাল্টা কামড়ের প্রতিক্রিয়া মরিচের জাতভেদে নানা ধরনের হতে পারে। কোনটা কামড় দেয়ার সাথে সাথে মুখের ভিতর জ্বালা শুরু হয়, কোনটা গলাধঃকরণ না করা পর্যন্ত টের পাওয়া যায়না, কোনটা জিহ্বার আগায় জ্বালা ধরিয়ে দেয়, কোনটা আবার সমস্ত মুখগহবরে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিশ্বে প্রায় ২০ থেকে ২৭টি জাতের মরিচ আছে। রং, আকার, আকৃতিতে ও ঝালের মাত্রায় সবগুলোই ভিন্ন ধরনের।
বিভিন্ন তরকারিতে মরিচ মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তরকারির স্বাদ বাড়ানোর জন্য মরিচ ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মরিচ ছাড়া কোন তরকারি রান্না করা চিন্তা করা হয় না। মরিচ সালাদে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য মরিচের সসের অনেক চাহিদা রয়েছে।
বিভিন্ন প্রকার রান্নার জন্য মরিচ একটি অপরিহার্য উপাদান। মরিচকে অর্থকরী ফসল বলা হয়। এর ইংরেজি নাম Chilli ও বৈজ্ঞানিক নাম Capsicun annuum. বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে মরিচের চাষ করা হয়। তবে চরাঞ্চালে মরিচের উৎপাদন বেশি হয়। আমাদের দেশের অনেক জায়গায় এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মরিচ চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। একজন বেকার নারী বা পুরুষ নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য নিজের জমিতে অথবা বর্গা নেওয়া জমিতে মরিচ চাষ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
বাংলাদেশে অসংখ্য জাতের মরিচ চাষ হয়। যেমনঃ ধানি মরিচ, লাল মরিচ, কামরাঙ্গা মরিচ, সিমলা মরিচ, উল্টা মরিচ, বেলুন মরিচ, লঙ্কা মরিচ ও বোম্বাই মরিচ ইত্যাদি ।
ব্যবহারিক দিক থেকে মরিচকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ঝাল মরিচ ও ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম)।
ঝাল মরিচ :
মূলত কাঁচা মরিচ বা নাগা মরিচ যা কম-বেশি ঝালযুক্ত তা রান্নায় ব্যবহার করা হয়। একইসাথে শুকনা মরিচ যা দেখতে লম্বাটে ধরণের তাও ব্যবহার করা হয়। শুকনা মরিচ গুঁড়ো অথবা শিল-পাটায় বেটে রান্না করা হয়। মরিচের সস ব্যাপকহারে বিপণন করা হয়।
ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম) :
উপমহাদেশে এ ধরণের মরিচকে সিমলা মরিচ বলা হয়। এ মরিচ সাধারণত আকরে বড় এবং পুরু। এ মরিচকে সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং সালাদেও ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এ মরিচ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় এবং এটি একটি উচ্চমূল্য সম্পন্ন শস্য।
শুধুমাত্র কাঁচা মরিচ ও লাল মরিচেই রয়েছে অন্যান্য যে কোন খাবারের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি। পানিতে দ্রবণীয় এই ভিটামিনটি স্যুপ, কারি ও সস-এর মধ্যে ব্যবহূত হয়। অনেকে আবার সালাদ তৈরিতেও কাঁচা মরিচ ব্যবহার করেন।
শুধু একটি মাত্র কাঁচা মরিচে থাকে ১০৯ দশমিক ১৩ মিলিগ্রাম (১৮২ভাগ) ভিটামিন সি। একই ভাবে লাল মরিচে প্রতিটিতে থাকে ৬৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি (১০৮ভাগ)। প্রতি ১০০ গ্রাম সার্ভিং পরিমাণের মধ্যে থাকে ৪০ খাদ্যশক্তি। চর্বি, কোলেস্টেরল সোডিয়ামের পরিমাণ থাকে শূন্য শতাংশ। শর্করা ৩ভাগ, খাদ্য আঁশ ৬ভাগ, ভিটামিন এ ২৪ভাগ, ভিটামিন সি ৪০৪ভাগ, ক্যালসিয়াম ২ভাগ, আয়রণ ৭ভাগ, ভিটামিন ই ৩ভাগ, ভিটামিন কে ১৮ভাগ, থায়ামিন ৬ভাগ, রায়বোফ্লভিন ৫ভাগ, নিয়াসিন ৫ভাগ, প্যান্টোথেনিক এসিড ৫ভাগ, ভিটামিন বি-৬ ১৪ভাগ, ফলিক এসিড ৬ভাগ, পটাশিয়াম ১০ভাগ এবং মাঙ্গানিজ ১২ভাগ ইত্যাদি।
তাই প্রতিদিন আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তত ১টি কাঁচা বা লাল মরিচ রাখুন এবং শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ভিটামিনটির অভাব পূরণ করুন। আঙ্গুর, নাশপাতি, আপেলের মত বিদেশী ফল অপেক্ষা একটা ছোট্ট কাঁচা মরিচ হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের সঙ্গী। আর একটি মিডিয়াম আপেলের ২ থেকে আড়াই ইঞ্চি পরিমাণ টুকরায় থাকে মাত্র ৮ মিলিগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন সি। অবশ্য আপেলের অন্যান্য গুণাগুণ বেশি।
কাঁচা মরিচের স্বাস্থ্য উপকারিতা:
গরম কালে কাঁচা মরিচ খেলে ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা থাকে।
প্রতিদিন একটি করে কাঁচা মরিচ খেলে রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি কমে যায়।
নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যা কমে যায়।
কাঁচা মরিচ মেটাবলিসম বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে।
কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন আছে যা কার্ডোভাস্ক্যুলার সিস্টেম কে কর্মক্ষম রাখে।
নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
কাঁচা মরিচ রক্তের কোলেস্টেরল কমায়।
কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন এ যা হাড়, দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভালো রাখতে সহায়তা করে।
কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে যা মাড়ি ও চুলের সুরক্ষা করে।
নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে নার্ভের বিভিন্ন সমস্যা কমে।
প্রতিদিন খাবার তালিকায় অন্তত একটি করে কাঁচা মরিচ রাখলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না।
কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন সি। তাই যে কোনো ধরণের কাটা-ছেড়া কিংবা ঘা শুকানোর জন্য কাঁচা মরিচ খুবই উপকারী।
কাঁচা মরিচের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি শরীরকে জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে।
পর্ব - ২
মরিচ চাষ
মরিচ চাষ কনটেন্টটিতে মরিচ চাষ কীভাবে করা যায়, চাষ করার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে কিনা, এক বিঘা জমির উৎপাদন খরচ, এর পুষ্টিমান এবং সর্বোপরি এর মাধ্যমে কীভাবে বাড়তি আয় করা সম্ভব, সে বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিভিন্ন প্রকার রান্নার জন্য মরিচ একটি অপরিহার্য উপাদান। মরিচকে অর্থকরী ফসল বলা হয়। এর ইংরেজি নাম Chilli ও বৈজ্ঞানিক নাম Capsicun annuum. বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে মরিচের চাষ করা হয়। তবে চরাঞ্চালে মরিচের উৎপাদন বেশি হয়। আমাদের দেশের অনেক জায়গায় এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মরিচ চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। একজন বেকার নারী বা পুরুষ নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য নিজের জমিতে অথবা বর্গা নেওয়া জমিতে মরিচ চাষ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
পুষ্টিগুন
মরিচে ভিটামিন সি আছে।
বাজার সম্ভাবনা
বিভিন্ন তরকারিতে মরিচ মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তরকারির স্বাদ বাড়ানোর জন্য মরিচ ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মরিচ ছাড়া কোন তরকারি রান্না করা চিন্তা করা হয় না। মরিচ সালাদে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য মরিচের সসের অনেক চাহিদা রয়েছে। মরিচ চাষ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব। ব্যাপকভাবে মরিচ চাষ করলে তা বিদেশেও রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে। মরিচ বিদেশে রপ্তানি করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
মরিচ উৎপাদন কৌশল
* চাষের উপযোগী পরিবেশ ও মাটি --
জলবায়ু
সাধারণত মরিচ রবি মৌসুমে বেশি চাষ করা হয়। তবে ভাদ্র মাসেও কিছু কিছু মরিচ চাষ করা হয়।
মাটির প্রকৃতি
যথেষ্ট সূর্যালোক পড়ে এবং বাতাস আছে এ ধরণের উঁচু এবং মুক্ত জমি চাষের জন্য উপযোগী। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য ভালো। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দো-আঁশ বা পলি দো-আঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
জাত
১. বাংলাদেশে অসংখ্য জাতের মরিচ চাষ হয়।
২. সাধারণভাবে এগুলোর বিশেষ কোন নাম নেই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এদের নামও আছে।
৩. খুবই ছোট আকারের একটি মরিচ রয়েছে যাকে ধানি মরিচ বলা হয়।
৪. কামরাঙ্গা মরিচ নামে এদেশে একটি জাত আছে, এটি অত্যন্ত ঝাল এবং উপবৃত্তাকার। কোন কোন জেলায় একে বোম্বাই মরিচ বলা হয়।
ব্যবহারিক দিক থেকে মরিচকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ঝাল মরিচ ও ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম)।
ঝাল মরিচ :
এশিয়া, চীন এবং মধ্য আফ্রিকার দেশসমূহে ঝাল মরিচ ও ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম)-এই দুই ধরণের মরিচ চাষ করা হয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন আকার এবং আকৃতির মরিচ চাষ করা হয়। মূলত কাঁচা মরিচ যা কম-বেশি ঝালযুক্ত তা রান্নায় ব্যবহার করা হয়। একইসাথে শুকনা মরিচ যা দেখতে লম্বাটে ধরণের তাও ব্যবহার করা হয়। শুকনা মরিচ গুঁড়ো অথবা শিল-পাটায় বেটে রান্না করা হয়। মরিচের সস ব্যাপকহারে বিপণন করা হয়।
ঝালবিহীন মরিচ (ক্যাপসিকাম) :
উপমহাদেশে এ ধরণের মরিচকে সিমলা মরিচ বলা হয়। এ মরিচ সাধারণত আকরে বড় এবং পুরু। এ মরিচকে সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং সালাদেও ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এ মরিচ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় এবং এটি একটি উচ্চমূল্য সম্পন্ন শস্য।
তথ্যসূত্র :
কৃষি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, জুন ২০০৭, Microfinance for Marginal and Small Farmers (MFMSF) Project, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সেল-১, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), ঢাকা।
চারা রোপণ/বীজ বপন পদ্ধতি
১. শীত মৌসুমের জন্য ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমের জন্য ফাল্গুন-চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চারা তৈরির জন্য বীজ বপন করা হয়।
২. মরিচের চারা ৪-৫টি পাতা গজালে রোপণ করা যায়।
৩. মরিচের চারা সারিবদ্ধভাবে ৬০-৭৫ সে.মি. দূরত্বে রোপণ করা হয়।
৪. একটি চারা থেকে আর একটি চারা ৬০-৭৫ সে.মি. দূরত্বে রোপণ করা হয়।
সার প্রয়োগ
কৃষকদের মতে গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে মরিচ চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভালো থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যাবে। নিজের গবাদি পশু না থাকলে পাড়া-প্রতিবেশি যারা গবাদি পশু পালন করে তাদের কাছ থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভালো ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির আশে-পাশে গর্ত করে সেখানে আবর্জনা, ঝরা পাতা ইত্যাদি স্তুপ করে রেখে আবর্জনা পচা সার তৈরি করা সম্ভব।
সেচ
১. শুকনা মৌসুমে মরিচে পানি সেচ খুবই উপকারী। শীত ও খরার সময় জমিতে ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে জমে।
২. পানির অভাব হলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
৩. আবহাওয়া ও মাটির অবস্থাভেদে সেচই মরিচের জন্য যথেষ্ট।
চাষের সময় পরিচর্যা
১. জমিতে আগাছা থাকলে পোকামাকড়, রোগজীবাণু ও ইঁদুরের আক্রমণ বেশি হয়। তাই বীজ বপনের ১৫-২০ দিন পর একবার নিড়ানী দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
২. মাটিবাহিত রোগে মরিচ বেশি আক্রান্ত হয়। এজন্য একই জমিতে বছরে একবারের বেশি মরিচ চাষ করা ঠিক নয়।
রোগবালাই
১. প্রজেনিয়া, লিটুরিয়া, কাপামোটাস কমপ্রেসাস এবং প্রস্টক্সেল মরিচের প্রধান ক্ষতিকারক কীট।
২. রোগের মধ্যে ডাই-হ্যাক অন্যতম।
৩. সষ্টরটও মরিচ গাছের ক্ষতি করে।
প্রতিকার
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকা দমন না হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।
ফসল সংগ্রহ
সাধারণত মরিচের চারা রোপনের ৬০ দিন পর মরিচ সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।
উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ
প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমি থেকে প্রায় ১২ মণ মরিচ পাওয়া সম্ভব।
বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
১. পাকা মরিচ ১৫ দিন পর পর সংগ্রহ করা যায়।
২. মরিচের গাছ নির্বাচন করে পরিপূর্ণ পাকা মরিচ সংগ্রহ করতে হবে।
৩. তারপর তা ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে বীজ বের করে নিতে হবে।
৪. বীজ শুকিয়ে আর্দ্রতা ৬-৮ভাগ করে নিয়ে বায়ুরোধী পাত্র বা পলেথিন প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে।
মরিচ উৎপাদন খরচ
* ১বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে ফসল উৎপাদন খরচ
খরচের খাত - পরিমাণ - আনুমানিক মূল্য (টাকা)
বীজ/চারা - ৫০০০ চারা - ১৫০০
পানি সেচ - ৩ বার -১৫০০
শ্রমিক - ৩০জন (প্রতিজন=১৫০ টাকা) - ৪৫০০
সার - প্রয়োজন অনুসারে জৈব সার - এই সার বাড়িতেই তৈরি করা সম্ভব। তাই এর জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই।
টিএসপি=৪৩ কেজি (১ কেজি=২৫ টাকা) - ২১৬৭
ইউরিয়া=২৮ কেজি (১ কেজি=১৩ টাকা)
এমপি=২৬ কেজি (১ কেজি=২৮ টাকা)
কীটনাশক
প্রয়োজন অনুসারে জৈব বা রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার -
নিজস্ব/দোকান বা জমি ভাড়া - একবছর - ৪০০০
মাটির জৈব গুণাগুণ রক্ষা ও উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য জৈব সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ বাড়তে পারে।
মূলধন
এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে মরিচ চাষের জন্য প্রায় ১০০০০ টাকার টাকার প্রয়োজন হবে। মূলধন সংগ্রহের জন্য ঋণের প্রয়োজন হলে নিকট আত্মীয়-স্বজন, সরকারী ও বেসরকারী ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান (এনজিও)-এর সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এসব সরকারি ও বেসরকারি ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) শর্ত সাপেক্ষে ঋণ দিয়ে থাকে।
প্রশিক্ষণ
মরিচ চাষ করার আগে এ চাষে অভিজ্ঞ কারোও কাছ থেকে মরিচ চাষের বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। এছাড়া চাষ সংক্রান্ত কোন তথ্য জানতে হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্ধারিত ফি এর বিনিময়ে কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
বিভিন্ন প্রকার রান্নার জন্য মরিচ একটি অপরিহার্য উপাদান। তাই এর চাহিদা শহর গ্রাম সবখানেই আছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মরিচ চাষ করে পারিবারিক চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করা সম্ভব।
আমাদের আরো অ্যাপস
কচুর লতির উপকারিতা:-
কচুর লতির উপকারিতা
পর্ব - ১
নানা ধরনের কচু পাওয়া যায় আমাদের দেশে। পানি কচু, মুখি কচু, কচুর লতি, ওলকচু প্রভৃতি। তবে পুষ্টি ও গুণাগুণের দিক থেকে কচু এবং কচুপাতা অনেক উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো কচুর ডাঁটা এবং পাতায় পুষ্টির মোটামুটি সব উপাদানই থাকে। কচুতে আয়রন, মিনারেল এবং সব ধরনের ভিটামিন বিভিন্ন পরিমাণে থাকে।
কচুর লতির গুণাগুণ-
১/ আয়রন-কচুর লতিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গর্ভস্থ অবস্থা, খেলোয়াড়, বাড়ন্ত শিশু, কেমোথেরাপি পাচ্ছে- এমন রোগীদের জন্য কচুর লতি ভীষণ উপকারী। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে ও চুলের ভঙ্গুরতা রোধ করে।
২/ ফাইবার-এই সবজিতে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশের পরিমাণ খুব বেশি। এই আঁশ খাবার হজমে সাহায্য করে, দীর্ঘ বছরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যেকোনো বড় অপারেশনের পর খাবার হজমে উপকারী পথ্য হিসেবে কাজ করে এটি।
৩/ ভিটামিন-ভিটামিন ‘সি’ও রয়েছে কচুর লতিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে, যা সংক্রামক রোগ থেকে আমাদের দূরে রাখে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী। ভিটামিন ‘সি’ চর্মরোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।
৪/ কোলেস্টেরল বা চর্বি-কিছু পরিমাণ ভিটামিন ‘বি’ হাত, পা, মাথার উপরিভাগে গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ে ঝিঁ ঝিঁ ধরা বা অবশ ভাব- এ সমস্যাগুলো দূর করে। মস্তিষ্কে সুষ্ঠুভাবে রক্ত চলাচলের জন্য ভিটামিন ‘বি’ ভীষণ জরুরি। এতে কোলেস্টেরল বা চর্বি নেয়। তাই ওজন কমানোর জন্য কচুর লতি খেতে বারণ নেই।
৫/ আয়োডিন-খাবার হজমের পর বর্জ্য দেহ থেকে সঠিকভাবে বের হতে সাহায্য করে। তাই কচুর লতি খেলে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে খুব কম। আয়োডিনও বসতি গড়েছে কচুর লতিতে। আয়োডিন দাঁত, হাড় ও চুল মজবুত করে।
৬/ ডায়াবেটিস-অনেকেই কচুর লতি খান চিংড়ি মাছ দিয়ে। চিংড়ি মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল। তাই যাঁরা হৃদরোগী, ডায়াবেটিস ও উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলজনিত সমস্যায় আক্রান্ত বা উচ্চ রক্তচাপে (হাই ব্লাড প্রেশারের) ভুগছেন তাঁরা চিংড়ি মাছ শুঁটকি মাছ বর্জন করুন।
ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, হাই ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকলে অল্প পরিমাণে চিংড়ি মাছ খেতে পারেন কচুর লতিতে। তবে মাসে এক দিন অবশ্য ছোট চিংড়ি মাছ দিয়ে খেতে পারেন। বড় চিংড়িতে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি, তাই পরিহার করা ভালো।
কচুর লতি রক্তে চিনির মাত্রা বাড়ায় না। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা নিঃসংকোচে খেতে পারেন কচুর লতি।
কেন খাবেন
➢ প্রতি দিনের খাদ্য তালিকায় কচুর ডাঁটা বা কচু রাখা যেতে পারে। গরমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। কচুর ডাঁটায় প্রচুর পানি থাকে।
➢ এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ফোলেট, থায়োমিনও রয়েছে।
➢ কচু রক্তের কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়।
➢ কোলন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।
➢ শিশুদের কচুশাক বেশি করে তেল দিয়ে খাওয়ানো ভালো। এতে রাতকানা রোগের আশঙ্কা কমে।
➢ কচুতে অক্সলেট রয়েছে। তাই রান্নার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গলা খানিকটা চুলকায়। তাই কচুর তরকারি খাওয়ার সময় কিছুটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন।
কেন খাবেন না
➢ অনেক ক্ষেত্রে কচু খেলে শরীরে অ্যালার্জি এবং হজমে সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে যাদের এ ধরনের সমস্যা রয়েছে তারা কচু খাবেন না।
পর্ব - ২
কচুর লতির গুণাগুণ / কচুর লতির উপকারিতা-
কচুর লতির অসাধারণ গুণ,কচুর লতি,এই মৌসুমের সবজি কচুর লতি। নানা ধরনের কচু পাওয়া যায় আমাদের দেশে। পানি কচু, মুখি কচু, কচুর লতি, ওলকচু প্রভৃতি। তবে পুষ্টি ও গুণাগুণের দিক থেকে কচু এবং কচুপাতা অনেক উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো কচুর ডাঁটা এবং পাতায় পুষ্টির মোটামুটি সব উপাদানই থাকে। কচুতে আয়রন, মিনারেল এবং সব ধরনের ভিটামিন বিভিন্ন পরিমাণে থাকে।প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে এই সবজিতে। প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গর্ভস্থ অবস্থা, খেলোয়াড়, বাড়ন্ত শিশু, কেমোথেরাপি পাচ্ছে—এমন রোগীদের জন্য কচুর লতি ভীষণ উপকারী। এতে ক্যালসিয়াম রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে ও চুলের ভঙ্গুরতা রোধ করে। এই সবজিতে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশের পরিমাণ খুব বেশি। এই আঁশ খাবার হজমে সাহায্য করে, দীর্ঘ বছরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যেকোনো বড় অপারেশনের পর খাবার হজমে উপকারী পথ্য হিসেবে কাজ করে এটি। দেহের বর্জ্য বের করার জন্য চাপ দিলে যেকোনো অপারেশনের পর সেলাইয়ের স্থান দুর্বল হতে পারে। এর জন্য খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে পানি, শাক-সবজি, বিশেষত কচুর লতি। তবে খেয়াল রাখুন যাঁদের কিডনিতে সমস্যা রয়েছে তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করবেন। বিশেষত যাঁদের কিডনিতে ডায়ালাইসিস হচ্ছে তাঁরা পানি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হবেন।ভিটামিন ‘সি’ও রয়েছে কচুর লতিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে, যা সংক্রামক রোগ থেকে আমাদের দূরে রাখে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী। ভিটামিন ‘সি’ চর্মরোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। কিছু পরিমাণ ভিটামিন ‘বি’ হাত, পা, মাথার উপরিভাগে গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ে ঝিঁ ঝিঁ ধরা বা অবশ ভাব—এ সমস্যাগুলো দূর করে। মস্তিষ্কে সুষ্ঠুভাবে রক্ত চলাচলের জন্য ভিটামিন ‘বি’ ভীষণ জরুরি। এতে কোলেস্টেরল বা চর্বি নেয়। তাই ওজন কমানোর জন্য কচুর লতি খেতে বারণ নেই। খাবার হজমের পর বর্জ্য দেহ থেকে সঠিকভাবে বের হতে সাহায্য করে। তাই কচুর লতি খেলে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে খুব কম। আয়োডিনও বসতি গড়েছে কচুর লতিতে। আয়োডিন দাঁত, হাড় ও চুল মজবুত করে। অনেকেই কচুর লতি খান চিংড়ি মাছ দিয়ে। চিংড়ি মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল। তাই যাঁরা হূদেরাগী, ডায়াবেটিস ও উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলজনিত সমস্যায় আক্রান্ত বা উচ্চ রক্তচাপে (হাই ব্লাড প্রেশারের) ভুগছেন তাঁরা চিংড়ি মাছ শুঁটকি মাছ বর্জন করুন। ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, হাই ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকলে অল্প পরিমাণে চিংড়ি মাছ খেতে পারেন কচুর লতিতে। তবে মাসে এক দিন অবশ্য ছোট চিংড়ি মাছ দিয়ে খেতে পারেন। বড় চিংড়িতে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি, তাই পরিহার করা ভালো। কচুর লতি বাড়ায় না রক্তে চিনির মাত্রা। তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা নিঃসংকোচে খেতে পারেন কচুর লতি। তবে কচুতে (যেটা মাটির নিচে থাকে) রয়েছে শর্করার পরিমাণ বেশি, যা ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য পরিমাণে অল্প খাওয়াই উচিত। মাটির নিচে জন্মানো সবজিতে শর্করা ও চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। যেমন: আলু, গাজর, মুলা, ওল, মিষ্টি আলু, কচু ইত্যাদি। কিন্তু কচুর লতিতে চিনির পরিমাণ থাকে খুব সামান্য, তাই কচুর লতি সুস্থ-অসুস্থ সবার জন্যই উপকারী।কচু আমাদের সবার কাছেই একটি অতি পরিচিত সবজি। কচু কম পরিশ্রমে ও সহজে চাষ করা যায়। কচুগাছের পাতা, ডাটা, মুখী ও লতি সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। কচু শুধু পুষ্টিকর নয়, এর অনেক ঔষধী গুণও আছে। পারিবারিক বাগানের জন্য কচু একটি উৎকৃষ্ট সবজি।
আমাদের আরো অ্যাপস
কচুর উপকারিতা:-
কচুর উপকারিতা
পর্ব - ১
কচু অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদ। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব এলাকায় কম বেশি কচু দেখতে পাওয়া যায়। রাস্তার পাশে, বাড়ির আনাচে কানাচে, বিভিন্ন পতিত জমিতে অনাদরে-অবহেলাতেই জন্মে যেতে পারে এই কচু। বহু জাতের কচু রয়েছে। কিছু কিছু জাতের কচু রীতিমত যত্নের সাথে চাষ করতে হয়। সবজি হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও সৌন্দর্যের কারণে কিছু কিছু প্রজাতির কচু টবে ও বাগানে চাষ করা হয়। এদের মধ্যে কতগুলোর রয়েছে বেশ বাহারী পাতা, আবার কতগুলোর রয়েছে অত্যন্ত সুন্দর ফুল।
কচুর উৎপত্তি-
অনুমান করা হয়, কচুর উৎপত্তি ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। প্রায় দু'হাজার বছর আগেও কচুর চাষ হত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্থলভূমি ও জলভুমি উভয় স্থানে কচু জন্মাতে পারে। তবে স্থলভাগে জন্মানো কচুর সংখ্যাই বেশি। কচুর বহু আয়ূর্বেদীয় গুনাগুন আছে বলে দাবি করা হয়।
বিভিন্ন রকম কচু-
বনে জঙ্গলে যেসব কচু আপনাআপনি জন্মায় সেগুলোকে সাধারণত বুনো কচু বলা হয়। এর সবগুলো মানুষের খাবারের উপযোগী নয়। খাবার উপযোগী জাতগুলোর অন্যতম হচ্ছে মুখীকচু, পানিকচু, পঞ্চমুখী কচু, ওলকচু, দুধকচু, মানকচু, শোলাকচু ইত্যাদি।
মুখী কচু-
মুখী কচু একটি সুস্বাদু সবজি । এ সবজি খরিফ মৌসুমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই এর চাষ হয়। মুখী কচু বাংলাদেশের গুড়া কচু, কুড়ি কচু, ছড়া কচু, দুলি কচু, বিন্নি কচু, ইত্যাদি নামে ও পরিচিত।মুখী কচুতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ‘এ’ এবং লৌহ থাকে।
ওল কচু-
এতে পুষ্টি ও ঔষধি মূল্য উভয়ই বিদ্যমান এবং সাধারণত রান্না করে তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। বাংলাদেশে এটি গ্রীষ্ম মৌসুমে জন্মে যখন বাজারে সবজির খুব ঘাটতি থাকে। ওল কচুর রস, উচ্চরক্তচাপের রোগীকে প্রতিষেধক হিসেবে খাওয়ানো হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে এর আবাদ হয়।
মান কচু-
মান কচুর ডগা ও পাতা বাতের রোগীকে খাওয়ানোর প্রথা এ দেশের ঘরে ঘরে প্রচলিত রয়েছে। কচু শাকে পর্যাপ্ত আঁশ থাকায় এটি দেহের হজমের কাজে সহায়তা করে।
পাইন্যা কচু-
পানিতে হয় বলে সম্ভবতই এর নাম পানি কচু। তবে বেশির ভাগ মানুষের কাছে পাইন্যা কচু হিসেবে পরিচিত। পানি কচুই হোক কিংবা পাইন্যা কচুই হোক সব্জি হিসেবে এর গুরুত্ব ব্যাপকভাবে সমাদৃত। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি একটি জনপ্রিয সব্জি। কারণ এর স্বাদ এবং পুষ্টিমান ও অত্যাধিক, রান্না করাও সহজ।
কচু দিয়ে রান্না-
প্রজাতিভেদে কচুর মুল, শিকড় বা লতি, পাতা ও ডাটা সবই মানুষের খাদ্য। কচুর লতি দিয়ে চিংড়ি মাছ অনেকেরই খাদ্য তালিকায় পছন্দের মধ্যে আছে। এছাড়াও কচুর লতি চচ্চড়ি, কচুর লতির ভুনা, কচুর লতির ইলিশ, কচুর লতির কোরমা, সরিষা বাটায় কচুর লতি আরও কত রকমের খাবার যে রান্না করা যায় তার ইয়ত্তা নেই।
কচুর উপকারিতা-
- কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে “ভিটামিন এ” থাকায় রাতকানা রোগ প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত উপকারী।
- কচু আঁশ জাতীয় হওয়ায় এটি কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করে।
- কচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম যা আমাদের হাড় শক্ত করতে সহায়তা করে।
- চুলের ভঙ্গুরতাও বন্ধতেও কচুর উপকারিতা অনেক।
- কচুতে আয়োডিনের পরিমাণও অনেক।
- যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি রয়েছে তাদের জন্য কচু অনেক উপকারী।
- কচুর লতিতে চিনির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরাও নিশ্চিন্তে খেতে পারেন এটি।
বিদেশের বাজারে দেশী কচুর লতি-
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে কচুর লতি। কচুর লতি ঢাকা, জয়দেবপুর, টাঙ্গাইল, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ গত ক'বছর ধরে গ্রেট ব্রিটেন, আমেরিকা, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বাজারে এ লতি বাজারজাত করা হচ্ছে। সকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে বিদেশের বাজারে এই লতির লাভজনক ব্যবসা করা সম্ভব।
পর্ব - ২
আমাদের সবার কাছেই একটি অতি পরিচিত সবজি, যার নাম কচু। কচুতে আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন, যা মানব দেহের জন্য খুবই দরকারি। তবে অনেকেই মনে করেন কচু খাওয়া বেশ ঝামেলার কাজ,তাই অন্য সব সবজি খেলেও কচু এড়িয়ে চলেন অনেকেই। বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের প্রায় সব এলাকাতেই কচু জন্মাতে দেখা যায়। গ্রামের বাড়ির আনাচে কানাচে ও রাস্তার পাশে অনেক জায়গায় কচু জন্মে। তবে অনেক প্রজাতির কচু আছে যা যত্নের সাথে চাষ করা হয়ে থাকে। এই ধরনের চাষ করা কচুই আমরা নানা ধরনের রান্নায় ব্যবহার করে থাকি।
ধারনা করা হয়, কচুর উৎপত্তি ভারতীয় দ্বিপপুঞ্জ সহ দক্ষিন-পূর্ব এশিয়াতে। প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বেও কচুর চাষ করা হত। কচু মাটিতে ও পানিতে দুই স্থানেই বেশ সহজেই জন্মাতে পারে। তবে মাটিতে জন্ম নেয়া কচুর সংখ্যাই বেশি। অনেক প্রজাতির কচু আছে যেগুলো বনে জঙ্গলে জন্মে থাকে,এগুলো বুনো কচু নামে পরিচিত। এই ধরনের কচু মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। মানুষের খাওয়ার উপযোগী জাতের ভেতরে, মুখী কচু ,দুধ কচু, মান কচু, পানি কচু, পঞ্চমুখী কচু ও ওল কচু উল্লেখযোগ্য। কচুর মূল, লতি, পাতা ও ডাটা প্রায় সব অংশই খাওয়ার উপযোগী।
আসুন জেনে নেই কচুর গুনাগুন সম্পর্কে–
- কচুর শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ,বি,সি,ক্যালসিয়াম ও লৌহ। ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য রাতকানা প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচুর শাক খাওয়ানো উচিত।
- কচুতে আছে আয়রন,যা রক্ত শূন্যতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। যাদের রক্ত শূন্যতা আছে তারা নিয়মিত কচু খেলে উপকার পাবেন।
- কচুতে আছে নানা রকমের ভিটামিন যা গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য দারুন উপকারি। কচু দামেও বেশ সস্তা, তাই দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী মহিলারা ভিটামিন ও আয়রনের চাহিদা পূরণের জন্য কচু খেতে পারেন।
- কচুর ডাঁটায় প্রচুর পরিমানে পানি থাকে,তাই গরমের সময় কচুর ডাঁটায় রান্না করে খেলে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয়।
- কচুর শাকে পর্যাপ্ত পরিমানে আঁশ থাকে যা হজমে সহায়তা করে।
- জ্বরের সময় রোগীকে দুধ কচু রান্না করে খাওয়ালে জ্বর দ্রুত ভাল হয়।
- কচুতে আছে প্রচুর ফাইবার, ফোলেট ও থায়ামিন যা মানব শরীরের জন্য অনেক দরকারি উপাদান।
- কচু খেলে রক্তের কোলেস্টরল কমে তাই উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের জন্য ওল কচুর রস বেশ উপকারী।
- নিয়মিত কচু খেলে কোলন ক্যান্সার ও ব্রেষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
- কচুতে আছে অক্সলেট নামক উপাদান। তাই কচু শাক বা কচু খেলে অনেক সময় গলা চুলকায়। তাই কচু রান্না করার সময় লেবুর রস বা সিরকা ব্যবহার করা উচিত।
তবে যাদের শরীরে অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের কচু না খাওয়াই ভালো।
পর্ব - ৩
কচু অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদ। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব এলাকায় কম বেশি কচু দেখতে পাওয়া যায়। রাস্তার পাশে, বাড়ির আনাচে কানাচে, বিভিন্ন পতিত জমিতে অনাদরে-অবহেলায় অনেক সময় কচু হয়ে থাকতে দেখা যায়। বহু জাতের কচু রয়েছে। কিছু কিছু জাতের কচু রীতিমত যত্নের সাথে চাষ করতে হয়।
কচুপাতা -
বনে জঙ্গলে যেসব কচু আপনাআপনি জন্মায় সেগুলকে সাধারণত বুনো কচু বলা হয়। এরা সবগুলো মানুষের খাবারের উপযোগী নয়। খাবার উপযোগী জাতগুলোর অন্যতম হচ্ছে মুখীকচু, পানিকচু, পঞ্চমুখী কচু, পাইদনাইল, ওলকচু, দুধকচু, মানকচু, শোলাকচু ইত্যাদি। সবজি হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও সৌন্দর্যের কারণে কিছু কিছু প্রজাতির কচু টবে ও বাগানে চাষ করা হয়। এদের মধ্যে কতগুলোর রয়েছে বেশ বাহারী পাতা, আবার কতগুলোর রয়েছে অত্যন্ত সুন্দর ফুল।
অনুমান করা হয়, কচুর উৎপত্তি ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। প্রায় দু'হাজার বছর আগেও কচুর চাষ হত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আমাদের দেশে তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব এলাকায় কম-বেশি কচু জন্মে। রাস্তার পাশে, বাড়ির আনাচে-কানাচে, বিভিন্ন পতিত জমিতে অনেক সময় অনাদরে-অবহেলায় কচু হয়ে থাকতে দেখা যায়। বন-জঙ্গলেও জন্মে বুনো কচু। স্থলভূমি ও জলভুমি উভয় স্থানে কচু জন্মাতে পারে। তবে স্থলভাগে জন্মানো কচুর সংখ্যাই বেশি। বুনো কচু মানুষ খায় না।
খাবার উপযোগী জাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুখি, পানি, পঞ্চমুখী, ওল, দুধ, মান, শোলাকচু ইত্যাদি। প্রজাতিভেদে কচুর মূল, শেকড় বা লতি, পাতা ও ডাঁটা সবই মানুষের খাদ্য। আমাদের দেশে সবজি হিসেবে কচুর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুদিন ধরে। ছোট চিংড়ি অথবা ইলিশ মাছের কাঁটা দিয়ে রান্না করা কচুশাক অত্যন্ত মুখরোচক ও সুস্বাদু। অন্যদিকে কচু তরকারি হিসেবে কিংবা ডালের সঙ্গেও খাওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কচুর চেয়ে কচুশাকে বেশি পুষ্টিমান লক্ষ্য করা যায়। কচুশাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন 'এ' থাকায় রাতকানা রোগ প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত উপকারী। তাছাড়া এতে লালশাক ও পুঁইশাকের চেয়ে খাদ্যশক্তি, চর্বি, শর্করা, খনিজ পদার্থ, ক্যালসিয়াম ও লৌহ বেশি থাকে। রক্তশূন্যতা এবং গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকরা সহজে আয়রন বা লৌহ পাওয়ার জন্য বেশি করে কচু খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের ক্যালসিয়াম ও লৌহের চাহিদা কচুশাক সহজেই মেটাতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সবুজ কচুর চেয়ে কালো কচুতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি বেশি থাকে। অনেক সময় কচু খেলে গলা চুলকায়। এর কারণ হচ্ছে কচুতে অপালেটের যে দানা থাকে, তা খাওয়ার সময় গলায় কাঁটার মতো বিঁধে যায়। তাই বলে কচু কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।
রান্নার আগে কচুকে ভালোভাবে ধুলে এবং পুরো করে ওপরের অংশ কেটে বাদ দিলে অথবা রান্না করার সময় কিছু পরিমাণ লেবুর রস, ভিনেগার অথবা তেঁতুল গোলা পানি দিলে অপালেটের দানা দূর করা যায়। আর এই অপালেটের দানা দূর হওয়ার কারণে কচু খেলেও গলায় ধরবে না।
সবজি হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও সৌন্দর্যের কারণে কিছু প্রজাতির কচু টবে ও বাগানে চাষ করা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে কতগুলোর রয়েছে বাহারি পাতা আবার কতগুলোর রয়েছে বেশ সুন্দর ফুল। কচুর আছে ভেষজ গুণ। সুতরাং নানা রোগ-বালাইয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। প্রজাতিভেদে কচুর মুল, শিকড় বা লতি, পাতা ও ডাটা সবই মানুষের খাদ্য। কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় রাতকানা রোগ প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত উপকারী।
পানি কচুর উৎপাদন প্রযুক্তি
পুষ্টি মূল্য: কচুতে ভিটামিন এ এবং প্রচুর পরিমানে লৌহ থাকে।
ব্যবহার: যে সমস্ত কচু দাড়াঁনো পানিতে চাষ করা যায় তাকে পানি কচু বলে। আমাদের দেশে কচু একটি সুস্বাদু সবজি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের পানি কচুর বিভিন্ন নাম রয়েছে যেমন নারিকেল কচু, জাত কচু, বাশঁ কচু ইত্যাদি।
উপযুক্ত জমি ও মাটি:
পলি দোআঁশ ও এটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উপযুক্ত ।
জাত পরিচিতি:
জাতের নাম/লতিরাজ
বৈশিষ্ট্য
লতি লম্বায় ৯০-১০০ সেমি. সামান্য চেপ্টা, সবুজ । লতি সিদ্ধ করলে সমানভাবে সিদ্ধ এবং গলা চুলকানি মুক্ত হয়। বোঁটা এবং পাতার সংযোগস্থলের উপরিভাগের রং বেগুনি। জীবনকাল ১৮০-২১০ দিন। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই এর চাষাবাদ করা যায়।
ফলন/(টন/হেক্টর)
লতি : ২৫-৩০
কান্ড : ১৮-২
চারা রোপণ:
আগাম
ফসলের জন্য কার্তিক (মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেস্বর)| নাবী ফসলের জন্য মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য বৈশাখ (মার্চ-এপ্রিল) মাসে লাগানো যায়। দক্ষিণাঞ্চলে বৎসরের যেকোন সময় লাগানো যায়। প্রতি শতকে প্রায় ১৫০টি লতা রোপণের জন্য প্রয়োজন। জমি ভালভাবে তৈরি করে লাইন থেকে লাইন ২ ফুট (৬০ সে.মি) এবং গাছ থেকে গাছ ১.৫ ফুট (৪৫ সে.মি) রাখতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনা:
সারের নাম সারের পরিমাণ ( প্রতি শতকে)
ইউরিয়া ৬০০ গ্রাম
টিএসপি ৫০০ গ্রাম
এমওপি ৭৫০ গ্রাম
গোবর ৫০ কেজি
গোবর, টিএসপি এবং এমওপি সার জমি তৈরির শেষ সময়ে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ২-৩ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হয়, তবে প্রথম কিস্তি রোপণের ২০-২৫ দিনের মধ্যে প্রয়োগ করা দরকার।
সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা:
পানি কচুর গোড়ায় দাড়াঁনো পানি রাখতে হবে এবং দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিতে হবে। লতিরাজ জাতের জন্য দাঁড়ানো পানির গভীরতা ৮-১০ সে.মি হওয়া দরকার।
রোগ ব্যবস্থাপনা:
কচুর পাতার মড়ক রোগ
ক্ষতির নমুনা:
পাতার উপর বেগুনি থেকে বাদামি রংয়ের গোলাকার দাগ পড়ে। পরবর্তীতে এ সমস্ত দাগ আকারে বেড়ে একত্রিত হয়ে যায় এবং পাতা ঝলসে যায়। পরে তা কচু ও কন্দে বিস্তার লাভ করে।
অনুকূল পরিবেশ:
উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্র আবহাওয়া ও পর পর ৩-৪ দিন বৃষ্টি থাকলে এ রোগের মাত্রা খুব বেড়ে যায়।
ব্যবস্থাপনা:
রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রিডোমিল এম জেড-৭২ ডব্লিউ অথবা ডাইথেন এম ৪৫ মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ৩ থেকে ৪ বার প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োগ করার আগে ট্রিকস মিশিয়ে নিতে হয়।
ফসল সংগ্রহ:
রোপণের ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে।
আমাদের আরো অ্যাপস
কাঁচাকলার গুণাগুন:-
কাঁচাকলার গুণাগুন
পর্ব - ১
কাঁচকলা একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি। এটি পাকা কলা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এর বৈজ্ঞানিক নাম সুসা প্যারাডিসিকা। কাঁচকলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের তথ্যমতে এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, লোহা, ভিটামিন ‘এ’, অক্সালিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, থায়াসিন, রিবোফ্ল্যাবিন ও ভিটামিন ‘সি’।
একটি কাঁচকলা খোসা সমেত টুকরো টুকরো করে কেটে প্রতিরাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে ওই পানি পান করলে আমাশয় রোগ নির্মূল হয়। এভাবে এক মাস খেতে হবে। এ ছাড়া পেটের অসুখে কাঁচকলা সিদ্ধ করে টাটকা টক দইয়ের সাথে মেখে খেলে রোগ সারে। কাঁচকলা শুকিয়ে গুঁড়া করে প্রতিদিন অল্প পরিমাণ দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে যৌনব্যাধি ও প্রস্রাবের অসুখ সারে।
পর্ব - ২
ফল হিসেবে কলা অনেকে পছন্দ করলেও, সবজি হিসেবে কলা অনেকেই পছন্দ করেন না। কিন্তু সবজি হিসেবে কাঁচা কলা বেশ স্বাস্থ্যকর। ভিটামিন, মিনারেলসহ আরও অনেক পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ একটি সবজি কাঁচা কলা। রোগীর পথ্য হিসেবে কাঁচা কলা পরিচিত থাকলেও স্বাস্থ্যকর এই সবজিটি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। কাঁচা কলার স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে আজকের এই ফিচার।
১। ওজন হ্রাস
ওজন কমাতে চান, তবে খাদ্য তালিকায় রাখুন কাঁচা কলা! কাঁচা কলার ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। এটি আঁশযুক্ত হওয়ায় তা মেদ কাটতে সাহায্য করে। কাঁচা কলার তরকারি খাদ্য তালিকায় রাখা বয়ে আনবে অনেক রকমের সুফল।
২। চিনি নিয়ন্ত্রণ
কলার আঁশযুক্ত হওয়ায় এটি রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ভিটামিন বি৬ গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে দুই টাইপ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৩। পটাশিয়ামের উৎস
পাকা কলার মত কাঁচা কলায়ও প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম। এক কাপ কাঁচা কলায় রয়েছে ৫৩১ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম। The American Heart Association গবেষণায় প্রকাশ করেছে যে, প্রতিদিন ৪৭০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম গ্রহণে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। তবে পটাশিয়াম সবার জন্য নিরাপদ নয়। উচ্চ রক্ত চাপ আক্রান্ত রোগী অথবা কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের কিছুটা সবাধানে কাঁচা কলা গ্রহণ করা উচিত।
৪। হজমে সাহায্য
আঁশযুক্ত সবজি হওয়ায় এটি খুব সহজে হজমযোগ্য। কাঁচা কলা পেটের ভিতরে খারাপ ব্যকটেরিয়া দূর করে দেয়। তবে অতিরিক্ত পেট ফোলা সমস্যা থাকলে কাঁচা কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
৫। কোলন ক্যান্সার
কাঁচা কলা কোলন থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, জীবাণু এবং ইনফেকশন দূর করে কোলনকে সুস্থ রাখে। দীর্ঘমেয়াদী কোলন সংক্রান্ত রোগ দূর করতে কাঁচা কলা বেশ কার্যকরী।
৬। উচ্চ ভিটামিন বি-৬ এর উৎস
কাঁচা কলা ভিটামিন বি-৬ এর অন্যতম উৎস। এক কাপ সিদ্ধ কাঁচা কলা দৈনিক ৩৯ভাগ ভিটামিন বি-৬ চাহিদা পূরণ করে। ভিটামিন বি-৬ রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, যা রক্তে অক্সিজেন পরিবহন করে। এছাড়া ভিটামিন বি-৪ রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণ করে।
৭। ডায়ারিয়া প্রতিরোধ
কাঁচা কলায় থাকা এনজাইম ডায়রিয়া এবং পেটের নানা ইনফেকশন দূর করে। ডায়রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকরা কাঁচা কলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
আমাদের আরো অ্যাপস
মটরশুঁটির গুনাগুন:-
মটরশুঁটির গুনাগুন
পর্ব - ১
শীতের নতুন সবজি মটরশুঁটি। প্রায় সব তরকারী কিংবা খাবারে ব্যবহারযোগ্য এই সবজিটি আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয়। ছোট-বড় প্রায় সবাই মটরশুঁটি পছন্দ করে। খেতে সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি মটরশুঁটিতে আছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি।
প্রতি ১০০ গ্রাম মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোক্যালোরি শক্তি। এছাড়া প্রোটিন পাওয়া যায় ৫.৪ গ্রাম। আর আয়রন, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ম্যাগনেশিয়াম, বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড ও ‘ভিটামিন-কে’ থাকে প্রচুর পরিমাণে।
মটরশুঁটি খেলে পেট পরিস্কার থাকে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কারণ এ সবজিতে আছে বেশ ভালো পরিমাণে তন্তু।
মোটা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে মটরশুঁটি খেতে পারেন। মটরশুঁটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবেও মটরশুঁটির খ্যাতি রয়েছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এর জুড়ি নেই।
মটরশুঁটিতে আছে ফলিক অ্যাসিড। ফলে এটি প্রসূতিদের জন্য খুবই ভালো। শরীরের হাড় শক্ত করার বেলায়ও মটরশুঁটি ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস রোগের জন্যও এটি দারুণ কার্যকর।
এছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে মটরশুঁটির একটা ভূমিকা থাকে। সাথে সাথে এটি চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।
তাই দেরি না করে আজ থেকেই ঘরে রান্না করুন মটরশুঁটি।
পর্ব - ২
মটরশুঁটি আমরা কে না চিনি। এই মটরশুঁটিতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। মটরশুঁটি হলো লেগিউম জাতীয় উদ্ভিদ Pisum sativum এর গোলাকার বীজ। প্রতিটি মটরশুঁটির মধ্যে বেশ কয়েকটি বীজ থাকে। যদিও এটি এক প্রকারের ফল, এটি মূলত সবজি হিসাবে রান্নায় ব্যবহৃত হয়। P. sativum একটি একবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এটি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শীত মৌসুমে চাষ করা হয়ে থাকে। সারা বছরই টিনজাত মটরশুঁটি পাওয়া গেলেও শীতে টাটকা মটরশুঁটির স্বাদই আলাদা।
মটরশুঁটিতে থাকা পর্যাপ্ত ভিটামিন কে শরীরের হাড় শক্ত করতে খুব কার্যকর। ফলিক এসিড থাকায় প্রসূতি মায়েরা মটরশুঁটি খেতে পারেন। ত্বকের জন্যও মটরশুঁটি খুব উপকারী। মটরশুঁটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এই সবজি চোখের দৃষ্টিশক্তিও বাড়াতে সাহায্য করে।
পোলাও, মাছ ভুনা, রোস্ট, নুডলস, রোল সহ অনেক খাবারে মটরশুঁটির ব্যবহার চলে। ছোট দানার এই ডালজাতীয় খাবারটিতে আছে অনেক পুষ্টিগুণ। প্রতি একশ’ গ্রাম মটরশুঁটিতে পাওয়া যায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ১৪ দশমিক ৫ গ্রাম ফ্যাট শূন্য দশমিক পাঁচ গ্রাম ও প্রোটিন পাওয়া যায় পাঁচ দশমিক চার গ্রাম। এছাড়া ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি, ফলিক এসিড, বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন এ, ফসফরাস, জিঙ্ক, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স থাকে। সামান্য পরিমাণে ভিটামিন কে-ও থাকে মটরশুঁটিতে।
এসব উপাদান আপনার শরীরকে দারুণভাবে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। নিয়মিত মটরশুঁটি খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ থাকায় মটরশুঁটি পেট পরিষ্কার রাখে ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে এই সবজি দারুণ কাজ করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। হৃদরোগ প্রতিরোধেও দারুণ ভূমিকা রাখে।
মটরশুঁটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস রুখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। মটরশুঁটিতে থাকা নিয়াসিন রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করে উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
পর্ব - ৩
ছোট ছোট সবুজ দানার মটরশুঁটি খেতে কে না ভালবাসে! এই সবুজ দানাগুলোকে আমরা সবজি হিসেবেই চিনি। যে কোন সবজি ভাজি, মাছ ভুনা, পোলাও, আলু-মটর বা মটর পনির ইত্যাদি অনেক ধরনের রান্নাতেই হয় এর ব্যবহার। জিনিসটি দেখতে ছোট কিন্তু এর মাঝেই লুকিয়ে আছে অসংখ্য গুণাবলি। চলুন তাহলে আজ জেনে নিই মটরশুঁটির কিছু অসাধারণ স্বাস্থ্য গুণাবলি।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
মটরশুঁটি দানাতে ফ্যাট নেই বললেই চলে, কিন্তু অন্যান্য উপদান আছে প্রচুর পরিমানে। এক কাপ মটরশুঁটি তে একশোর কম ক্যালোরি রয়েছে। কিন্তু প্রোটিন, ফাইবার আছে প্রচুর পরিমাণে।
পাকস্থলীর ক্যান্সার রোধ করে
মটরশুঁটির দানাতে আছে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্য প্রতিরক্ষামূলক পলিফেনল যাকে কামস্ট্রল বলা হয়। মেক্সিকো সিটির একটি গবেষণায় বলা হয়েছে আপনি যদি পাকস্থলীর ক্যানসার রোধ করতে চান তাহলে প্রতিদিন মটরশুঁটি দানা খাদ্য তালিকায় রাখুন।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বৃদ্ধি করে
মটরশুঁটির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সমূহ আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই দেহের সুস্থতায় মটরশুঁটি খেতে ভুলবেন না।
বলি রেখা, আলঝেইমারস, বাত, ব্রংকাইটিস, অস্টিওপরোসিস এবং কেনডিডা প্রতিরোধ করেঃ
মটরশুঁটিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, ই, মিনারেল জিংক, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, আলফা লিনলেনিক এসিড ইত্যাদি নানাবিধ উপাদান আমাদের দেহের বলি রেখা, আলঝেইমারস, বাত, ব্রংকাইটিস, অস্টিওপরোসিস এবং কেনডিডা প্রতিরোধ করে।
ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে
মটরশুঁটির ফাইবার ও প্রোটিন আমাদের দেহের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রন করে থাকে। মটরশুঁটিতে আছে প্রাকৃতিক চিনি যা দেহের জন্য ক্ষতিকর না।
হার্টের সমস্যা রোধ করে
মটরশুঁটির ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩ ও বি-৬ আমাদের দেহের হোমসিস্টিন লেভেল রোধ করে। হার্টের সমস্যা হওয়ার অন্যতম কারণ হল হোমসিস্টিন।
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে
মটরশুঁটির অতিরিক্ত ফাইবার উপাদান আমাদের দেহের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রোধ করে।
মজবুত হাড়
মাত্র এক কাপ মটরশুঁটিতে আছে ৪৪ভাগ ভিটামিন-কে যা আমাদের দেহের হাড়ের ভিতর ক্যালসিয়ামের যোগান দিয়ে থাকে। মটরশুঁটির ভিটামিন-বি অস্টিওপরোসিস রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ক্ষতিকর কোলেস্টেরল রোধ করে
মটরশুঁটির পুষ্টিকর উপদান আমাদের দেহের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল রোধ করে ও দেহের জন্য উপযোগী কোলেস্টেরল সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে।
আমাদের আরো অ্যাপস
বরবটির গুনাগুণ:-
বরবটির গুনাগুণ
পর্ব - ১
গ্রীষ্মের নানা সবজির মধ্যে বরবটি একটি অন্যতম সবজি যা এ মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করা যায়। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বরবটি চাষ বাড়িয়ে সবজির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।সবজি হিসেবে বরবটি খুবই উৎকৃষ্ট। এটি আমিষের অন্যতম উৎস। অফ সিজনের সবজি হিসেবে এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। এর পুষ্টিমানও ভালো। এতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, শ্বেতসার, আঁশ, স্নেহ, ক্যালোরি, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে।যে কোনো মাটিতে বরবটি চাষ করা যায়। তবে দোআঁশ মাটি অধিকতর উপযোগী। অপেক্ষাকৃত উচ্চ তাপমাত্রায় এটি ভালো জন্মে। সাধারণত ২০-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গাছের বাড়-বাড়তি খুব ভালো হয়। এ সবজি মূলত খরিপ মৌসুমের ফসল। শুষ্ক ও আর্দ্র উভয় আবহাওয়া বরবটির জন্য সমান উপযোগী। কিন্তু অতি বৃষ্টির সময় উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়।বরবটির বেশ কিছু উচ্চ ফলনশীল জাত আছে। এর মধ্যে কেগরনাটকী, বারি বরবটি-১, লালবেনী, তকি, বনলতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
বরবটির স্বাস্থ্য উপকারী গুণ
নুডুলস, রোল, ভাজি, ভর্তা অথবা সবজি হিসেবে বরবটির ব্যবহার চলে দারুণভাবে। খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের দেহে যোগান দেয় চমৎকার কিছু পুষ্টি। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম বরবটিতে রয়েছে জলীয় অংশ ৮৭.৫ গ্রাম, আমিষ ৩.০, শর্করা ৯.০, মোট খনিজ পদার্থ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ৫.৯, ভিটামিন বি-১ ০.১৪, ভিটামিন বি-২ ০.৩০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি খুব অল্প, খাদ্যশক্তি ১৮ ক্যালরি। বরবটির জাত ও স্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে পুষ্টিমানের পরিবর্তন হতে পারে। আজ জেনে নেব বরবটির অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।
– বরবটিতে পাওয়া যায় ফ্ল্যাভোনয়েড নামক উচ্চ ক্ষমতাশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এই উপাদান ক্যানসার কোষ বৃদ্ধিরোধ করতে চমৎকার কাজ করে।
– ডায়াবেটিসের হাত থেকে রক্ষা করতেও বরবটির ভূমিকা অনেক।
– বরবটিতে থাকা ভিটামিন কে আপনার অস্টিওআর্থারাইটিস সমস্যা থেকে হাড়ের যত্ন নেয়। দেহে রক্ত জমাট বাঁধতেও ভিটামিন কে- এর ভূমিকা অনেক বেশি।
– বরবটিতে রয়েছে প্রচুর উপকারি খাদ্যআঁশ। খাদ্যআঁশ শরীরের ক্ষতিকারক এলডিএল কলেস্টেরলের পরিমান কমিয়ে দেয়। ফলে হার্টের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। এছাড়াও এটি উচ্চ রক্তচাপ, বুক জ্বালাপোড়া প্রভৃতি সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখে।
– বরবটিতে থাকা সিলিকন হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। হাড় শক্ত করতে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় বরবটির বীজে।
– ভিটামিন সি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রন পরিশোষণে ভূমিকা রাখে। সালাদে কাঁচা বরবটি খেলে তা থেকে প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তাছাড়া বরবটিতেও রয়েছে যথেষ্ট পরিমান আয়রন। যা আপনার শরীরের আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে।
– কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য ও ফ্যাট-কলেস্টেরল না থাকায় বরবটি পেট ভরে খাওয়া যায়। এতে ক্ষুধাভাব কম হয়। ওজন হ্রাসে সহায়তা করে।
– চুল পড়ে যাওয়া ঠেকাতেও বরবটির ভূমিকা রয়েছে।
পর্ব - ২
বরবটি
Vigna sesquipedalis
বরবটি আমিষ সমৃদ্ধ একটি সবজি। প্রায় সারা বছরই এটি ফলানো যায়। তবে খরিপ তথা গ্রীষ্মকালে ভাল হয়। খুব শীতে ভাল হয় না।
মাটিঃ
দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি বরবটি চাষের জন্য উপযোগী।
জাতঃ
কেগরনাটকীই অনেকদিন পর্যন্ত বরবটি একটি উন্নত জাত হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। এখন অবশ্য বেশ কয়েকটি জাত চলে এসেছে। লাল বেণী, তকি, ১০৭০, বনলতা, ঘৃতসুন্দরী, গ্রীন লং, গ্রীন ফলস এফ১, সামুরাই এফ১ ইত্যাদি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জাত। কেগরনাটকী জাতটি পৌষ-মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। মধ্য মাঘ থেকে মধ্য আশ্বিনে চাষ করা যায় ঘৃতসুন্দরী, গ্রীন লং। মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য আশ্বিন পর্যন্ত চাষ করা যায় ১০৭০ জাতটি। উল্লেখিত জাতগুলোর রমধ্যে কেগরনাটকী ও লাল বেণী জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি। তবে খেতে ভাল ঘৃতসুন্দরী।
সময়ঃ
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সাধারণতঃ বীজবপন করা হয়। তাছাড়া আশ্বিন-অগ্রাহায়ণ মাসেও বীপবপন কর হয়। অন্যান্য সময়ও বোনা যেতে পারে।
বীজের পরিমাণঃ
প্রতি শতকে ১০০-১২৫ গ্রাম, হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি।
জমি তৈরিঃ
৪ - ৫ টি চাষ ও মই দিয়ে ভালভাবে জমি তৈরি করতে হয়।
সারের মাত্রাঃ
সারের নাম সারের পরিমাণ
প্রতি শতকে প্রতি হেক্টরে
ইউরিয়া ১০০ গ্রাম ২৫০ কেজি
টি এস পি ৯০ গ্রাম ২২৫ কেজি
এমওপি ৭৫ গ্রাম ১৮৫ কেজি
গোবর ২০ কেজি ৫ টন
সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
গোবর, টিএসপি সম্পূর্ণ পরিমাণ ও অর্ধেক এমওপি সার শেষ চাষের সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। পরে বীজ বোনার ২০ দিন পর ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও বাকি অর্ধেক এমওপি সার জমিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
বীজ বপনঃ
২ মিটার দূরত্বে সারি করে ২৫-৩০ সেমি. দূরে দূরে বীজ বুনতে হয়। জাত হিসেবে সারির দূরত্ব ১ মিটার বাড়ানো বা কমানো যায়।
পারিচর্যাঃ
চারা বড় হলে মাচা বা বাউনি দিতে হবে। জমিতে পানির যাতে অভাব না হয় সে জন্য প্রয়োজন অনুসারে সবসময় সেচ দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে। পোকামাকড় ও রোগ ব্যবস্থাপনা শিমের মতই। জাব পোকা, ফল ছিদ্রকারী পোকা ও মোজেইক রোগ বরবটি চাষের বড় সমস্যা।
ফসল সংগ্রহ ও ফলনঃ
বীজ বোনার ৫০ - ৬০ দিন পর থেকেই বরবটি সংগ্রহ করা যায়। শতক প্রতি ফলন ৩০ - ৬০ কেজি, হেক্টর প্রতি১০ - ১২ টন।
আমাদের আরো অ্যাপস
শালগমের উপকারিতা:-
শালগমের উপকারিতা
কেউ কেউ শালগমের কথা শুনলেই নাক কুঁচকে বলেন, গন্ধ লাগে। খাইনা। কথা সত্য। আর এই গন্ধের কারণ হলো শালগমে সালফারের উপস্থিতি। মজার ব্যাপার হলো এই গন্ধই কিন্তু ব্রঙ্কাইটিস জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এক সময় ব্রঙ্কাইটিস হলে লোকে তা নিরাময়ের জন্য দুধ দিয়ে রান্না করে শালগম খেতেন।
শালগম বাংলাদেশে সুপরিচিত। শালগম শীতকালীন সবজি। স্ফীত ও রূপান্তরিত মূলই শালগমের প্রধান ভক্ষণযোগ্য অঙ্গ । স্ফীত মূলের যে অংশ মাটির নিচে থাকে তা সাধারণত সাদা অথবা হলুদাভ, কিন্তু । পরের অংশ জাত ভেদে বেগুনী, লাল, সাদা, হলুদ, এমনকি সবুজও হয়। আবারসম্পূর্ণ লাল জাতও আছে। শাঁসের বর্ণ সাদা অথবা হালকা হলুদ। এর ছোট ও ভাল জাতটি মানুষ গ্রহণ করে, বড় আকারের শালগম গুলো পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
শালগমের পুষ্টিগুণ:
শালগম মূলত শীতকালীন সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম শালগমে আছে ০.৫ গ্রাম আমিষ, ৬.২ গ্রাম শর্করা, ০.৯ গ্রাম আশ, ০.২ গ্রাম চর্বি, ২৯ কিলোক্যালরি শক্তি, ৩০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৪০ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ৪৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’।
শালগম অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি সবজি। সাধারণত শীতকালের এই সবজিতে প্রচুর ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণে আঁশ আছে। এর পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় যা অত্যন্ত পুষ্টিকর।
আসুন জেনে নেই শালগম খাওয়ার উপকারিতা গুলো কি কি?
শরীরে অগ্ন্যাশয় যদি যথার্থ ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীরে ইনসুলিনের সঠিক কাজ ব্যাহত হয় তাহলে সেটাকে ডায়াবেটিস বলা হয়। এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের ঘন ঘন প্রস্রাব হয়; অধিক তৃষ্ণার্ত অনুভব করে এবং বার বার মুখ শুকিয়ে যায়।আক্রান্তরা অতিশয় দুর্বলতা, সার্বক্ষণিক ক্ষুধা, স্বল্প সময়ে দেহের ওজন হ্রাস, চোখে ঝাপসা দেখাসহ নানান সমস্যায় ভোগে। তারা ঔষধের পাশাপাশী সবুজ শাক-সবজি খাবেন। বিশেষ করে শালগম খাবেন। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।
শালগম দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন-সি দেহের কোষ ক্ষয় রোধ করে। শালগমের পাতায় গ্লুকোসিনোলেট নামক উপকারী উপাদান রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। শালগমে প্রচুর আঁশ থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় করে। শালগম কফ, ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমা নিরাময়ে সাহায্য করে শালগম রক্ত পরিশোধিত করে এবং রক্তকণিকা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এটি দেহে রোগসংক্রমণে বাধা দেয় শালগম ক্ষুধামন্দা দূর করে শালগমের রস রক্তে ই।রিক এসিডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এটি ব্রণসহ ত্বকের অন্যান্য সমস্যা নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে
শালগমের জাত:
আমাদের দেশে বিভিন্ন দেশের কয়েক জাতের শালগম রয়েছে এ গুলোর মধ্যে। উল্লেখযোগ্য সাদা শাঁস বিশিষ্ট সাদা মূল বিশিষ্ট জাত হচ্ছে- হোয়াইট ফ্ল্যাট ডাচ, হোয়াইট মিলান, সগোয়িন, টোকিওটপ, টোকিও মার্কেট এবং এক্সপ্রেসহোয়াইট।
হলুদ শাঁস বিশিষ্ট:
ইয়েলো গ্লোব, গোল্ডেন বল, ইয়েলো এবারডিন ইত্যাদি।
জাপানি জাত:
হোয়াইট লেডি, এক্সপ্রেস হোয়াইট, টোকিও ক্রস ইত্যাদি জাপানি জাত।
ভারতীয় জাত:
ভারতীয় জাতের মধ্যে- পশু চন্দ্রি, পশু স্বর্ণিমা, পশু কাঞ্চন এবং পশু স্বেতী অন্যতম।
শালগমের নানা গুণের কারণেই আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই সবজিটিকে স্থান দিন। যারা শালগম গন্ধের কারণে খেতে চান না, তাদের জন্য পরামর্শ হলো রান্না করার আগে লবণ পানিতে ভাপিয়ে নিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। আর সালাদ বা ক্ষেত্রে শালগম কুঁচিয়ে লবণ দিয়ে মাখিয়ে রাখুন। ৫/৭ মিনিট পর ভালোমতো চিপে পানি ফেলে দিন। বিকেলের নাশতায় সবজি পাকোড়ায় শালগম দিতে পারেন, শালগমের উপস্থিতি বোঝা যাবে না কিন্তু এর পুষ্টি পাওয়া যাবে। মিক্সড সবজি বা ভেজিটেবল স্যুপে শালগম দিন।
পর্ব - ৩
শালগম অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি সবজি। সাধারণত শীতকালের এই সবজিতে প্রচুর ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণে আঁশ আছে। এর পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায় যা অত্যন্ত পুষ্টিকর। আসুন জেনে নেই শালগম খাওয়ার উপকারিতা গুলো।
শালগম দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে
এর লিউটিন নামক উপাদান হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী
এতে থাকা ভিটামিন-সি দেহের কোষ ক্ষয় রোধ করে
শালগমের পাতায় গ্লুকোসিনোলেট নামক উপকারী উপাদান রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
শালগমে প্রচুর আঁশ থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় করে
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী
শালগম কফ, ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমা নিরাময়ে সাহায্য করে
শালগম রক্ত পরিশোধিত করে এবং রক্তকণিকা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে
এটি দেহে রোগসংক্রমণে বাধা দেয়
শালগম ক্ষুধামন্দা দূর করে
শালগমের রস রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে
এটি ব্রণসহ ত্বকের অন্যান্য সমস্যা নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে
সতর্কতা
বয়স্ক ব্যক্তি যাদের অন্ত্রের সমস্যা আছে এবং খাবার হজমে অসুবিধা হয়, তাঁদের শালগম না খাওয়া উচিত।
পর্ব - ৪
শালগম ক্রুসিফেরি পরিবারের অন্তর্গত এবং পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে সুপরিচিত। ভিটামিন এ, সি এবং ভিটামিন কে তে ভরপুর থাকে শালগম। শালগমের সবচাইতে ভালো দিক হচ্ছে এদের ক্যালরি খুব কম থাকে। নিয়মিত শালগম খাওয়ার কিছু কারণ সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।
১। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
যদি ঘন ঘন ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা থাকে আপনার তাহলে আপনার খাদ্যতালিকায় শালগম যোগ করুন। এটি আপনার ইমিউনিটিকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করবে। শালগম পুষ্টি উপাদান ও ফ্ল্যাভনয়েডে সমৃদ্ধ বলে স্বাস্থ্যকর মেমব্রেন এর বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে।
২। খারাপ কোলেস্টেরল কমায়
যাদের কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে তারা শালগম খেয়ে উপকৃত হতে পারেন। এর কারণ শালগম পাকস্থলীতে অনেক বেশি পিত্তরস শোষণ করতে পারে যা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এভাবেই কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে শালগম।
৩। ব্লাডপ্রেসার কমায়
২০১৩ সালে ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি নামক ব্রিটিশ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, শালগম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। শালগম পটাসিয়ামে সমৃদ্ধ বলে ধমনীকে প্রশস্ত করে এবং শরীর থেকে সোডিয়াম বাহির করে দেয়। দেহে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য শালগম।
৪। হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়
ভিটামিন ও পটাসিয়াম ছাড়াও শালগম ক্যালসিয়ামেও সমৃদ্ধ বলে হাড়ের জন্য উপকারী। সুস্থ ও শক্তিশালী হাড়ের জন্য আপনার খাদ্যতালিকায় শালগম যুক্ত করুন।
৫। পরিপাকের উন্নতি ঘটায়
শালগমে প্রচুর ফাইবার থাকে বলে হজমে সাহায্য করে। যদি আপনার হালকা কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা থাকে তাহলে শালগম এই পরিস্থিতি থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে পারে।
৬। রক্তজমাট বাঁধাতে সাহায্য করে
শালগম ভিটামিন কে এর চমৎকার উৎস যা সঠিকভাবে রক্তজমাট বাঁধার জন্য অত্যন্ত আবশ্যক। ক্যালসিয়ামকে প্রসেস করা ও ধমনীর স্বাস্থ্যের জন্যও ভিটামিন কে প্রয়োজনীয়। ধমনীর শক্ত হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে ভিটামিন কে।
৭। দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়
ইমিউন সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করার জন্য এবং ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিরোধ করার জন্য ভিটামিন এ প্রয়োজনীয়। শালগম ভিটামিন এ তে ভরপুর থাকে বলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে।
৮। অ্যানেমিয়া প্রতিরোধ করে
শালগম ফলিক এসিডে সমৃদ্ধ যা কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং অ্যানেমিয়া প্রতিরোধ করে। এই ভিটামিন জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৯। আরথ্রাইটিসের বিরুদ্ধে কাজ করে
যারা রিউমাটয়েড আরথ্রাইটেসে ভুগছেন তাদের জন্য উপকারী শালগম খাওয়া। কারণ শালগমে ভিটামিন এ, সি, ই, ক্যালসিয়াম ও কপার থাকে যা এই ধরণের আরথ্রাইটেসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে।
এগুলো ছাড়াও শালগম অ্যাজমা, মুত্রথলির সমস্যা, ব্রংকাইটিস, কাশি, বাত, লিভারের সমস্যা, স্থূলতা এবং টিউবারকোলোসিস নিরাময়েও সাহায্য করে।
আমাদের আরো অ্যাপস
সাজনার গুনাগুন:-
সাজনার গুনাগুন
➢ ইংরেজিতে সাজনার নাম 'ড্রামস্টিক' যার অর্থ ঢোলের লাঠি। সাজনার ইংরেজি নামটি অদ্ভুত হলেও এটি একটি অতি প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী উদ্ভিদ। বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে নানা রকমের গবেষণা হয়েছে; বিশেষ করে এ গাছ হরমোন বর্ধক ঔষধি গুণসম্পন্ন, কাগজ তৈরি ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এটি সবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
➢ দেশের সর্বত্রই সাজনা পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রামের রাস্তার ধারে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে এ বৃক্ষটি। সাজনার ফুল ও পাতা শুধু শাক হিসেবেই নয়, পশু খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার হয়। এর পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়_ এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচিবর্ধক হয়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। ভারতীয়রা এটির স্যুপ খেয়ে থাকে। এ সময় ঋতু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেকেরই মুখে স্বাদ থাকে না। আর এ স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে সাজনার জুড়ি নেই। সজিনা গাছটির প্রতি আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও এর ডাঁটা সব মানুষই পছন্দ করে। আমরা জানি, সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য। তবে সাজনা শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ওষুধি বৃক্ষও বটে।
➢ সাজনার ফুল বসন্তকালে খাওয়া ভালো কারণ এটি বসন্ত প্রতিষেধক।
এটি সর্দি কাশিতে, যকৃতের কার্যকারিতায়, কৃমি প্রতিরোধে, শক্তি বৃদ্ধিতে ফলদায়ক।
এর ডাঁটা বা ফলে প্রচুর এমাইনো এসিড আছে। এটি বাত রোগীদের জন্য ভালো।
সাজনার বীজ থেকে তেলও পাওয়া যায়, যা বাতের ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে এবং ঘড়ি ঠিক করার জন্য যে বেল ওয়েল ব্যবহার হয় তা এর বীজ হতে পাওয়া যায়।
➢ সাজনা চরম পরিবেশগত অবস্থা সহ্য করতে সক্ষম। তবে ২০ হতে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালো জন্মায় এবং যেসব এলাকায় ২৫০ থেকে ১৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় সেখানে ভালো জন্মায়। মাটি বেলে দোঁআশ থেকে দোঁয়াশ এবং পিএইচ ৫.০ থেকে ৯.০ সম্পন্ন মাটি সহ্য করতে পারে। সজিনা চাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। কারণ সজনার বিস্তৃত ও গভীর শিকড় রয়েছে। তবে ইউরিয়া এবং জৈব সার প্রয়োগ করলে গাছ ভালো হয়। এ বৃক্ষটি বীজ ও ডালের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা সম্ভব। তবে আমাদের দেশে বীজ থেকে চারা তৈরি করে চাষাবাদের রীতি এখনো অনুসরণ করা হয় না। কারণ বীজ থেকে চারা তৈরি ব্যয়বহুল।
➢ বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে এপ্রিল-মে মাসে গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করতে হবে, তারপর সেটিকে শুকিয়ে ফাটলে বীজ পাওয়া যাবে। এ বীজ শুকনো বায়ুরোধী পাত্রে ১-৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখতে পারি। তার পর জুলাই-আগস্টে বীজতলায় অথবা পলি ব্যাগে বপন করতে পারি। বীজ বপনের আগে বীজগুলোকে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে বীজ থেকে চারা গজাতে সুবিধা হয়।
বীজ থেকে চারা বের হতে সময় লাগে ১০ থেকে ২০ দিন। চারা বের হওয়ার পর নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ ও অন্যান্য যত্ন পরিচর্যা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে, বীজ থেকে সজিনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডাল পুঁতে অঙ্গজ বংশবিস্তারের চেয়ে দেরিতে ফল আসে। আমাদের দেশে ডাল পুঁতে অঙ্গজ উপায়ে বংশ বিস্তার পদ্ধতিটি বেশি ব্যবহৃত হয়। তার কারণ হলো, এটি করতে তেমন দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। আর খরচও কম, অঙ্গজ বংশবিস্তারের জন্য ৪-৫ ব্যাসের বা বেডের ৫-৬ হাত লম্বা নিরোগ ডাল এবং আঘাতমুক্ত ডাল ব্যবহার করা ভালো। নতুন লাগানো গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে শীঘ্রই শিকড় গজাতে পারে। শুষ্ক ও গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রায় দুই মাস সেচ দিতে হবে। তবে সাজনার গাছ একবার লেগে গেলে তেমন পানির প্রয়োজন হয় না।
সজিনার গাছে তুলনামূলক কীট-পতঙ্গ ও রোগ সহনশীলভাবে মাঝে মাঝে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। যেমন জলাবদ্ধ মাটিতে শিকড় পচা রোগ দেখা দিতে পারে এর কারণ ডিপ্লোডিয়া। কীট-পতঙ্গ শুষ্ক ও ঠাণ্ডায় বেশি আক্রমণ করে। কীট-পতঙ্গ দ্বারা গাছে হলুদ রোগ দেখা যায়। কীট-পতঙ্গের মধ্যে টারমাইটস, এফিড, সাদা মাছি প্রধান।
সজিনার পাতা বেটে ফোঁড়া বা টিউমারে লাগালে বহু ক্ষেত্রে মিলিয়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যথার উপশম হয়।
স্বাদে ও গুণে ভরপুর সজিনা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করা লাভজনক। কারণ অন্যান্য সবজির মতো এর উৎপাদনে তেমন ঝুঁকি নেই এবং লাভজনক।
➢ সজনে ডাটা :
➢ সজনে গাছ খনিজ পাওয়ার হাউস ভারতে সবচেয়ে সাধারণ গাছ বলা. তার পাতা, ফল, ফুল, ছাল ও বীজ ঔষধি মান আছে এবং সব খাবারের মধ্যে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়. কার্ডিয়াক রোগ প্রতিরোধ অমূল্য; গবেষকরা পাতার পুষ্টিমান কমলালেবু মধ্যে 7 বার ভিটামিন সি প্লাস দুধে 4 বার ক্যালসিয়াম প্লাস 3 বার পটাসিয়াম কলা প্লাস 2 বার প্রোটিন দুধে প্লাস গাজর মধ্যে 4 বার ভিটামিন এ সমতূল্য বলে উল্লেখ করেছে. এটা সম্ভাব্য ব্যবহারের বিভিন্ন ধরনের সঙ্গে একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি গাছ. এটা ব্যাকটেরিয়ারোধী এবং একটি বিস্ময়কর cleanser.It খাবার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে Moringa ট্রি হিসাবে প্রায় প্রতিটি অংশ, বিশ্বের সবচেয়ে দরকারী গাছ এক বিবেচনা করা হয় বা অন্য কিছু উপকারী সম্পত্তি আছে. এ কবলিত রোগের বিরুদ্ধে সাহায্য করার জন্য একটি বিপাকীয় কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করা হয় ক্রান্তীয় অঞ্চলে, এটা লাইভস্টক জন্য ঘাস হিসাবে ব্যবহার করা হয়, এবং অনেক দেশে, Moringa মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট তরল, একটি প্রাকৃতিক anthelmintic (অন্য ড্রাগ এইড বা উন্নত) এবং সহযোগিতা (প্যারাসাইট নিহত) উন্নয়নশীল
➢ দেশ.আফ্রিকার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার উদ্ভিদ, এই সামান্য পরিচিত সবজি, পুষ্টি উন্নত খাদ্য নিরাপত্তা, ফস্টার পল্লী উন্নয়ন অনুমোদন, এবং টেকসই landcare সমর্থন করার সম্ভাবনা রয়েছে.
পাতার বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে, অত্যন্ত পুষ্টিকর. পাতার রান্না ও লতাপাতা মত ব্যবহার করা হয়. শাক জন্য একটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে তাজা ছাড়াও, তার পাতার সাধারণভাবে শুষ্ক হয় এবং একটি পাউডার মধ্যে গুঁড়ো, এবং সূপ এবং sauces ব্যবহৃত. এটা স্থানীয়ভাবে তামিলনাড়ু ও কেরালার পরিচিত হিসাবে Murungakai, সিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার করা হয়. বৃক্ষ ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস জন্য একটি ভাল উৎস
Moringa একটি পাতা এবং pods স্তন্যপান করানো মাসে স্তন্য বৃদ্ধি সহায়ক. পাতার গুঁড়ো এক ঝোল খাত্তয়ার জন্য প্রোটিন 14ভাগ, ক্যালসিয়াম 40ভাগ, আয়রন 23ভাগ এবং প্রদান থেকে তিন এক বছর বয়সী একটি শিশু ভিটামিন এ চাহিদার অধিকাংশ. পাতার গুঁড়ো ছয় চামচ গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যপান করানো সময় প্রায় সব মহিলার দৈনিক আয়রন এবং ক্যালসিয়াম চাহিদার প্রদান করবে.
➢ এটা সাধারণত, Moringa পাতার গাজর বেশী ভিটামিন এ, দুধ বেশী ক্যালসিয়াম, লতাপাতা বেশী আয়রন, কমলালেবু বেশী ভিটামিন সি, এবং কলা বেশী পটাসিয়াম ধারণ করে বলেন, এবং একটি Moringa প্রোটিন মানের পাতার প্রতদ্বন্দী হয় দুধ যে ও ডিম. [তথ্যসূত্র প্রয়োজন] যাইহোক, এম oleifera পাতা এবং কান্ড ক্যালসিয়াম oxalate স্ফটিক মধ্যে আবদ্ধ তাদের ক্যালসিয়াম, বিশাল পরিমাণ আছে পরিচিত, [8] শরীর থেকে পাওয়া ক্যালসিয়ামের একটি ফর্ম নয় যা. দুধ বেশী ক্যালসিয়াম এর দাবি কিনা এই অ bioavailable ক্যালসিয়াম সুরাহা করা প্রয়োজন রয়েছে. সজনে এর পুষ্টিগুণ Nutritionaly, সজনে pods এবং পাতার সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা পাতা, ফুল ও সজনে ফল মহান পৌষ্টিক মান আছে acrotene, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন সি এর উৎস হিসেবে মহান মূল্য হয়. টেন্ডার ফল samber ও দক্ষিণ ভারতীয় বাড়িতে সবচেয়ে ডিশ ব্যবহার করা হয়. পাতা এবং ফুল তরকারি এবং পিষ্টক প্রস্তুত করার জন্য ব্যবহৃত হয়. বাষ্পের - 86,9ভাগ ক্যালসিয়াম - 30 মিলিগ্রাম প্রোটিন - 2.5ভাগ ফসফরাস - 110 মিলিগ্রাম ফ্যাট - 0.1ভাগ আয়রন - 5.3 মিলিগ্রাম ভিটামিন সি - 120 মিগ্রা ফাইবার - 4.8ভাগ ভিটামিন বি কমপ্লেক্স - অল্প পরিমাণ খনিজ - 2.0ভাগ * 100 গ্রাম এর ভোজ্য অংশ প্রতি মূল্যবোধ শর্করা - 3.7ভাগ তাপন মূল্য - 26 সাজনা ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, এবং আফগানিস্তানের উপ-হিমালয় এলাকায় নেটিভ যে একটি উদ্ভিদ ৷ এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষ করা হয়৷ পাতা, বাকল, ফুল, ফল, বীজ, এবং root- র মেডিসিন করতে ব্যবহার করা হয়৷ সাজনা ক্লান্ত রক্ত (রক্তাল্পতা) জন্য ব্যবহার করা হয়; জন্ম ও পরিবার পরিকল্পনা এবং অন্যান্য জয়েন্টের ব্যাথা (বাত); হাঁপানি; মিশ্রন বর্ণচিহ্ন; কোষ্ঠকাঠিন্য; ডায়াবেটিস; ডায়রিয়া; মৃগীরোগ; পেট ব্যথা; অন্ত্রের আলসার stomachand; অন্ত্রের আক্ষেপ; মাথা ব্যাথা; হার্টের সমস্যা; উচ্চ রক্তচাপ; কিডনি; তরল ধারণ; থাইরয়েড রোগ; এবং ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকজনিত, ভাইরাসজনিত, এবং পরাশ্রয়ী সংক্রমণ৷ সাজনা এছাড়াও, ফোলা কমাতে (একটি কামোদ্দীপক হিসাবে) সেক্স ড্রাইভ বৃদ্ধি, গর্ভধারণ রোধ, ইমিউন সিস্টেম অনুমোদন, এবং বুকের দুধের উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহার করা হয়৷ কিছু কিছু লোকের একটি পুষ্টিকর সম্পূরক বা টনিক হিসাবে এটি ব্যবহার৷ সাজনা কখনও কখনও একটি জীবাণু-হত্যাকারী বা শোষক এজেন্ট (ধারক) হিসাবে ত্বকের সরাসরি প্রয়োগ করা হয়৷ এটি সংক্রমণের পকেট (abscesses), ক্রীড়াবিদ এর পাদদেশ, খুশকি, আঠা রোগ (gingivitis), snakebites, warts, এবং ক্ষত চিকিত্সার জন্য topically ব্যবহৃত হয়৷ সাজনা বীজ থেকে তেল খাবার, সুগন্ধি, চুলের যত্ন পণ্য ব্যবহৃত, এবং একটি মেশিন পিচ্ছিলকারক পদার্থ ব্যবহার করা হয়৷ সাজনা বিশ্বের কিছু অংশে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস৷ এটা সস্তায় এবং সহজেই উত্থিত করা যাবে, এবং শুকনো পাতার যখন, সাজনা অপুষ্টি লড়াই খাওয়ান প্রোগ্রাম ভারত ও আফ্রিকা ব্যবহার করা হয় ভিটামিন এবং খনিজ প্রচুর বজায় রাখা কারণ৷ বীজ আরো পরিপক্ক pods থেকে সরানো হয়েছে এবং বাদাম মত ডাল বা রোস্ট মত রান্না হয় যখন অপূর্ণাঙ্গ সবুজ pods (drumsticks), সবুজ মটরশুটি একইভাবে প্রস্তুত করা হয়৷ পাতার রান্না এবং শাক মত ব্যবহার করা হয়, এবং তারা শুকনো এবং একটি আচার হিসাবে ব্যবহারের জন্য চূর্ণ হয়৷ তেল নিষ্কাশন পর অবশিষ্ট বীজ পিষ্টক একটি সার হিসাবে ব্যবহার করা হয় এবং ভাল জল বিশুদ্ধ করা এবং নোনা জল থেকে লবণ মুছে ফেলার জন্য৷ সাজনা হেল্থ বেনিফিট সাজনা উদ্ভিদ রাখা বিশ্বের দরিদ্র সম্প্রদায়ের লক্ষ লক্ষ অঙ্গীকার যে অনন্য পুষ্টির গুণাবলী possesses যারা প্রোটিন, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন মত পুষ্টির কাজী নজরুল ইসলাম প্রয়োজন৷ সাজনা সবুজ শাক (পাতা) সমগ্র উদ্ভিদ রাজ্যে কোন স্থান আজ এবং শাক-সবুজ শাক জন্য একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য যা প্রোটিন একটি চমৎকার উৎস৷ তাজা কাঁচা পাতা 100 গ্রাম প্রোটিন 9৷8 গ্রাম বা দৈনিক-প্রয়োজনীয় মাত্রা প্রায় 17৷5ভাগ বহন৷ শুকনো, চূর্ণ পাতা প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন মানের অ্যামিনো অ্যাসিড অনেক-কেন্দ্রীভূত উৎস৷ টাটকা pods এবং বীজ oleic অ্যাসিড, একটি স্বাস্থ্য-কল্যাণে monounsaturated চর্বি একটি ভাল উৎস৷ সাজনা, একটি উচ্চ মানের তৈলবীজ ফসল হিসাবে, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অনেক খরা প্রবণ অঞ্চলে জনসংখ্যার পুষ্টি মাত্রা উন্নত অন্যথায় উত্থিত করা যাবে৷ তাজা পাতা এবং সাজনা জন্মানোর টিপস ভিটামিন এ ধনী উৎস তাজা পাতার বহন 7564 ইবি বা ভিটামিন দৈনিক-প্রয়োজন মাত্রা 252ভাগ 100 গ্রাম হয়! ভিটামিন এ শ্লেষ্মা ঝিল্লী মেরামতের, চামড়া অখণ্ডতা, দৃষ্টি, এবং অনাক্রম্যতা রক্ষণাবেক্ষণ সহ বেশ কিছু সুবিধা, প্রস্তাব চর্বি দ্রবণীয় এন্টি অক্সিডেন্ট এক৷ টাটকা সাজনা pods এবং পাতার ভিটামিন-সি এর একটি চমৎকার উৎস৷ Pods 100 গ্রাম 145 μg বা ভিটামিন-সি দৈনিক-প্রয়োজন মাত্রা 235ভাগ ধারণ করে৷ সবুজ শাক 100 গ্রাম এই ভিটামিন দৈনিক প্রস্তাবিত ভোজনের মান 51৷7 μg বা 86ভাগ প্রদান৷ গবেষণা গবেষণা শারীরিক সংক্রামক এজেন্ট বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা বিকাশ, এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর অক্সিজেন মৌলে ময়লা সাফ করতে সাহায্য করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল / সবজি যে খরচ দেখানো হয়েছে৷ সবুজ শাক হিসেবে pods যেমন folates, ভিটামিন-বি 6 (পাইরিডক্সিন), থিয়ামিন (ভিটামিন বি -1), riboflavin, pantothenic অ্যাসিড, এবং নিয়াসিন অনেক অত্যাবশ্যক ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ভাল পরিমাণে ধারণ করে৷ কার্বোহাইড্রেট সহ-এনজাইম, প্রোটিন, এবং মেদ বিপাক এই ভিটামিন ফাংশন অনেক৷ উপরন্তু, তার সবুজ শাক (পাতা) ক্যালসিয়াম, আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, এবং ম্যাগনেসিয়াম মত খনিজ শেখ উত্স এক৷ আয়রন রক্তাল্পতা alleviates৷ ক্যালসিয়াম হাড় ধাতব পরিণতি জন্য প্রয়োজন বোধ করা হয়৷ দস্তা চুল বৃদ্ধি, spermatogenesis, এবং চামড়া স্বাস্থ্যের অধিকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ সজনে পাতা ওষধ তৈরির কাজে ও সজনে পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে। ১০০ গ্রাম সজনে পাতায় প্রচুর পানি থাকা ছাড়াও ৬.৭ গ্রাম পোটিন, ১.৭ গ্রাম চর্বি, ১২.৫ গ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায় । এছাড়া ও সজনে পাতায় কিছু পরিমানে ভিটামিন এ,বি এবং আঁশজাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায়। উল্লেখিত তথ্য থেকে একটি কথা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, সজনে পাতা বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি-র উৎকৃষ্ট উৎস। সজনে পাতায় তৃপ্তিদায়ক গুণ ও থাকে । এই পাতা ভেজে, অন্যান্য সবজির সঙ্গে তরকারি করে খাওয়া ছাড়াও পিঠাগুঁড়োর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে তৃপ্তি পাওয়া যায়। পাশপাশি সজনে পাতায় ঔষধি গুণ সম্পর্কে আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানান, কোমন সজনে পাতা শাক হিসাবে বসন্তকালে খেলে বসন্ত রোগ প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়াও সর্দি, জ্বর, কাশি, যকৃৎ প্লীহারোগও কৃমি রোগে সজনে পাতা দারুণ কাজ দেয়,কোন, ও আঘাতের ফলে শরীরের কোনও অংশ ফুলে গেলে বা ব্যথা হলে, কোমল সজনে পাতা বেটে নির্দিষ্ট জায়গায় সামান্য গরম করে লাগালে ব্যথা এবং ফুলাও কমে যায়। সজনে পাতার ব্যবহার সম্পর্কে ভেষজ বিশারদরা বলেন,চোখে ব্যথা হলে সজনে পাতার রসের সঙ্গে ২/৩ ফোঁটা শুদ্ধ মধু মিশিয়ে লাগালে,চোখের ব্যথা দূর হয়। এ সমস্থ তথ্য একটি কথা পরিষ্কার যে, সজনে ডাটাই নয়,সজনে পাতাও আমাদের উপকার করে। উল্লেখ্য, সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাসেই কোমল সজনে পাতা বের হয়। তাই সে সময় এটিকে শাক হিসাবে খেলে পুষ্টি, তুপ্তি পাওয়া ছাড়াও এর ঔষধি গুণ থেকে ও উপকার পাওয়া যায়। ১.মুখে রুচি বাড়েঃ সজনে ডাঁটার মতো এর পাতারও রয়েছে যথেষ্ট গুণ। সজনে পাতা শাক হিসেবে, ভর্তা করেও খাওয়া যায়। এতে মুখের রুচি আসে। ২.শ্বাসকষ্ট ও হেচকি কমানোতেঃ সজনে পাতার রস খাওয়ালে শ্বাসকষ্ট সারে ও হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়।তাছাড়া পাতাকে অনেকক্ষণ সিদ্ধ করে তা থেকে যেই ঘন রস পাওয়া যায় হিং (এক ধরনের বৃক্ষ বিশেষ) ও শুকনো আদার গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়ালে পেটের গ্যাস বেরিয়ে যায়। ৩.রক্ত চাপ কমাতেঃ বার্মিজ চিকিৎসকদের মতে সজনের পাকা পাতার টাটকা রস দু’বেলা খাবাবের ঠিক আগে ২-৩ চা চামচ করে খেলে উচ্চ রক্ত চাপ কমে যায়। তবে ডায়াবেটিস থাকলে তা খাওয়া নিষেধ। ৪.সজনে পাতার বেটে অল্প গরম করে ফোঁড়ার ওপর লাগালে ফোঁড়া ফেটে যায়। ৫.সজনে পাতার রস মাথায় ঘষলে খুসকি দূর হয়। ৬.সজনা পাতার রসে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার ক্ষমতাও রয়েছে। পর্ব - ৩ বহুরুপি সাজনা - সাজনা আমাদের দেশে একটি বহুল পরিচিত বৃক্ষ, যার কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। সাজনা পাতা শাকের মতো রান্না করে আহারের সময় অল্প পরিমাণে খেলে বল বৃদ্ধি পায় ও ক্ষুধা বাড়ে। পাতা কেটে ফোঁড়া বা টিউমারে দিলে উপকার পাওয়া যায়। সজিনা পাতাকে শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এতে তাদের শ্রমজনিত ক্লান্তি, শরীরের ব্যথা ইত্যাদি দূর হয়। সজিনা ফুল শাকের মতো রান্না করে বসন্তকালে খেলে বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ হয়। এছাড়া সর্দি, কাশিতে, শোথে, প্লীহা ও যকৃতের কার্যকারিতা কমে গেলে এবং কৃমিনাশক হিসেবে সজিনা ব্যবহার করা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, সজিনা ডাঁটা অ্যামাইনো এসিডসমৃদ্ধ, যা দেহের পাশাপাশি বাতের জন্যও খুব উপকারী। সজিনা বীজের তেল আমাদের দেশে তেমন পাওয়া যায় না। একে ‘বেন অয়েল‘ বলে। বাতের ব্যথায় তা ভালো কাজ দেয়। কুষ্ঠ রোগে বীজের তেল অথবা বীজের তেলের অভাবে বীজ বেটে প্রলেপ দিলে উপকার হয়। সজিনা মূল ও বীজ সাপে কামড়ানোর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া মূলের ছালের প্রলেপে দাদ উপশম হয়।বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে নানা রকমের গবেষণা হয়েছে; বিশেষ করে এ গাছ হরমোন বর্ধক ঔষধি গুণসম্পন্ন, কাগজ তৈরি ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এটি সবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এর পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়_ এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচিবর্ধক হয়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। ভারতীয়রা এটির স্যুপ খেয়ে থাকে। এ সময় ঋতু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেকেরই মুখে স্বাদ থাকে না। আর এ স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে সাজনার জুড়ি নেই। সজিনা গাছটির প্রতি আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও এর ডাঁটা সব মানুষই পছন্দ করে। আমরা জানি, সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য। তবে সাজনা শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ওষুধি বৃক্ষও বটে। সজিনার পাতা বেটে ফোঁড়া বা টিউমারে লাগালে বহু ক্ষেত্রে মিলিয়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যথার উপশম হয়। সজিনা ৩০০ প্রকার ব্যাধির প্রতিষেধক হিসেবে ব্যাবহৃত হয়।শরীরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ভিটামিনের সাথে আবশ্যকীয় প্রায় সবগুলি এমাইনো এসিড সজিনা পাতায় বিদ্যমান বলে বিজ্ঞানীরা একে “পুষ্টির ডিনামাইট ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । এ্যানিমিয়া, জয়েন্ট পেইন, ক্যান্সার, কোষ্টকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, হার্ড পেইন, ব্লাড পেসার, কিডনিতে পাথর, মায়ের দুধ বৃদ্ধিকরাসহ বিভিন্ন ঔষধি গুনাগুন রয়েছে বলে পুষ্টি বিশেজ্ঞ FNSK জানিয়েছেন। পুরুষের যৌনশক্তি বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী করে, মেয়েদের বিলুপ্ত যৌন বাসনাকে উজ্জীবিত ও দীর্ঘায়িত করে। সজিনা গাছকে প্রচলিত বিভিন্ন খাদ্য প্রজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন উদ্ভিদ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বহুবিধ খাদ্যগুণ সম্পন্ন হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় সজিনা গাছকে “যাদূর গাছ” হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় । গুনাগুনঃ ১। শরীর ব্যাথাঃ শরীরের কোন স্থানে ব্যথা হলে বা ফুলে গেলে সজিনার শিকড় বেটে প্রলেপ দিলে ব্যথা এবং ফোলা সেরে যায়। ২। কান ব্যথাঃ শেকড়ের রস কানে দিলে কানের ব্যথা ভাল হয়ে যায়। ৩। মাথা ব্যথাঃ সজিনার আঠা দুধের সাথে খেলে মাথা ব্যথা সেরে যায়। আঠা কপালে মালিশ করিলে মাথা ব্যথা সেরে যায়। ফোড়া হলে সাজিনার আঠা প্রলেপ দিলে সেরে যায়। ৪। মুত্রপাথরীঃ সজিনা ফুলের রস দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে মুত্রপাথরী থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ৫। হাপানীঃ ফুলের রস হাপানী রোগে বিশেষ উপকারী। ৬। শিশুদের পেটের গ্যাসঃ সজিনা পাতার রসের সাথে লবণ মিশিয়ে খেতে দিলে বাচ্চাদের পেটে জমা গ্যাস দূর হয়। ৭। কুকুরে কামড়েঃ সজিনা পাতা পেষণ করে তাতে রসুন, হলুদ, লবণ ও গোল মরিচ মিশিয়ে সেবন করলে কুকুরের বিষ নষ্ট হয়। ৮। জ্বর, সর্দিঃ পাতার শাক খেলে জ্বর ও যন্ত্রণাদায়ক সর্দি আরোগ্য হয়। ৯। গর্ভপাতকারকঃ সজিনা গর্ভপাত কারক। সজিনার ছাল গর্ভাশয়ের মুখে প্রবেশ করালে গর্ভাশয়ের মুখ প্রসারিত হয়ে যায় এবং গর্ভপাত ঘটে। (সর্তকতাঃ এই ঔষধটি নিদিষ্ট মাত্রায় সতর্কতার সাথে সেবন ও ব্যবহার করতে হয় ।) সজিনার গুণাগুণ সজিনা আমাদের দেশে একটি বহুল পরিচিত বৃক্ষ, যার কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। সজিনা পাতা শাকের মতো রান্না করে আহারের সময় অল্প পরিমাণে খেলে বল বৃদ্ধি পায় ও ক্ষুধা বাড়ে। পাতা কেটে ফোঁড়া বা টিউমারে দিলে উপকার পাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গে সজিনা পাতাকে শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এতে তাদের শ্রমজনিত ক্লান্তি, শরীরের ব্যথা ইত্যাদি দূর হয়। সজিনা ফুল শাকের মতো রান্না করে বসন্তকালে খেলে বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ হয়। এছাড়া সর্দি, কাশিতে, শোথে, প্লীহা ও যকৃতের কার্যকারিতা কমে গেলে এবং কৃমিনাশক হিসেবে সজিনা ব্যবহার করা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, সজিনা ডাঁটা অ্যামাইনো এসিডসমৃদ্ধ, যা দেহের পাশাপাশি বাতের জন্যও খুব উপকারী। সজিনা বীজের তেল আমাদের দেশে তেমন পাওয়া যায় না। একে ‘বেন অয়েল‘ বলে। এটি ঘড়ি মেরামতের কাজে লাগে। বাতের ব্যথায় তা ভালো কাজ দেয়। কুষ্ঠ রোগে বীজের তেল অথবা বীজের তেলের অভাবে বীজ বেটে প্রলেপ দিলে উপকার হয়। সজিনা মূল ও বীজ সাপে কামড়ানোর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া মূলের ছালের প্রলেপে দাদ উপশম হয়।বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে নানা রকমের গবেষণা হয়েছে; বিশেষ করে এ গাছ হরমোন বর্ধক ঔষধি গুণসম্পন্ন, কাগজ তৈরি ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এটিসবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এর পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়_ এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচিবর্ধক হয়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। ভারতীয়রা এটির স্যুপ খেয়ে থাকে। এ সময় ঋতু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেকেরই মুখে স্বাদ থাকে না। আর এ স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে সাজনার জুড়ি নেই। সজিনা গাছটির প্রতি আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও এর ডাঁটা সব মানুষই পছন্দ করে। আমরা জানি, সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য। তবে সাজনা শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ওষুধি বৃক্ষও বটে। সজিনার পাতা বেটে ফোঁড়া বা টিউমারে লাগালে বহু ক্ষেত্রে মিলিয়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যথার উপশম হয়। সজিনা পুষ্টি ও বিভিন্ন খাদ্যগুণসমৃদ্ধ সবজি। সজিনা গাছকে প্রচলিত বিভিন্ন খাদ্য প্রজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন উদ্ভিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বহুবিধ খাদ্যগুণসম্পন্ন হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় সজিনা গাছকে ‘জাদুর গাছ’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। ওষধি উদ্ভিদ সজিনার বৈজ্ঞানিক নাম মোরিনগা অলিফেরা (Moringa Oleifera Lam). সজিনা বা সজনে এর বাংলা নাম। সজিনা মোরিনগেসি (Moringaceae) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। সজিনা আমাদের দেশে একটি বহুল পরিচিত গাছ। এর কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। সাধারণত এ গাছের উচ্চতা ২৩ ফুট থেকে ৩৩ ফুট বা তারও বেশি হয়ে থাকে। সজিনা গাছের কাঠ অত্যন্ত নরম, বাকলা আঠাযুক্ত ও কর্কি। সজিনা তিন ধরনের নীল, শ্বেত ও রক্ত সজিনা। ড্রামস্টিক, মরিঙ্গাসহ দেশ-বিদেশে সজিনার বিভিন্ন নাম রয়েছে। বাংলাদেশে সজিনা নামেই পরিচিত। ইংরেজিতে সজিনার নাম ‘ড্রামস্ট্রিক’, যার অর্থ ঢোলের লাঠি। নামটি অদ্ভুত হলেও এটি একটি অতিপ্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী উদ্ভিদ। বাংলাদেশে এটি নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে এ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে; বিশেষ করে গাছ বৃদ্ধিকারক হরমোন, ওষুধ, কাগজ তৈরি ইত্যাদি। আমাদের দেশে এটি সবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার হয়ে আসছে। সজিনার অ্যানিমিয়া, জয়েন্ট পেইন, ক্যান্সার, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, হার্ড পেইন, ব্লাডপেসারসহ বিভিন্ন রোগে উপকারী ওষধি গুণ রয়েছে। সজিনায় রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ভিটামিন। সজিনার পাশাপাশি সজিনা পাতা পুষ্টি ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সজিনার পাতার গুঁড়োরও বিশেষ গুণাগুণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এতে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও জিংক রয়েছে। সজিনা শরীরে কোলেস্টরেলের মাত্রা ঠিক রাখে। মানুষের শরীরে চিনির মাত্রা সমান রাখে ও ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড পাওয়া যায়। হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। শরীরে পুষ্টি ও শক্তি জোগায়। সজিনা লিভার ও কিডনি সুরক্ষিত রাখে। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে। মায়ের দুধের পরিমাণ বাড়ায়। ব্যাকটেরিয়াবিরোধী সজিনার পেস্ট ত্বকের জন্য উপকারী। পুষ্টিগুণের দিক থেকে সজিনা অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি, যা দেশের সর্বত্র পাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গে সজিনা পাতাকে শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এতে তাদের শ্রমজনিত ক্লান্তি, শরীরের ব্যথা ইত্যাদি দূর হয়। সজিনা ফুল শাকের মতো রান্না করে বসন্তকালে খেলে বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ হয়। এছাড়া সর্দি, কাশিতে, শ্লোথ, প্লীহা ও যকৃতের কার্যকারিতা কমে গেলে এবং কৃমিনাশক হিসেবে সজিনা ব্যবহার করা যায়। সজিনা বাংলাদেশের সর্বত্র, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে সবজি গাছ হিসেবে লাগানো হয়। এর পাতা অগ্রহায়ণ-মাঘ মাসে হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। মাঘ-ফাল্গুনে থোকা থোকা সাদা ফুল প্রায় পত্রশূন্য গাছ ছেয়ে থাকে। চৈত্র-আষাঢ় মাসের মধ্যে ফল পাকে। ফলের মধ্যে ত্রিকোণাকার অনেক বীজ হয়। বীজ অথবা ডালকাটা (কাটিং) দিয়ে বংশবিস্তার সম্ভব। তেমন কোনো উৎপাদন খরচ না হওয়ায় সজিনার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। একক কোনো চাষাবাদ না হলেও দেশের প্রায় প্রত্যেক স্থানে সজিনার আবাদ হয়। আমাদের দেশে সজিনা সচরাচর দু’ধরনের হয়ে থাকে। মৌসুমি ও ১২ মাসের। ১২ মাস জাতের তেমন বেশি আবাদ না হয়ে থাকলেও মৌসুমি জাতের বেশিরভাগ আবাদ হয়ে থাকে। খুলনার পাইকগাছায় প্রচুর পরিমাণে সজিনার আবাদ হয়ে থাকে। একক কোনো চাষাবাদ কেথায়ও না হলেও উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে অন্যান্য ফসল আবাদের অনুপযোগী যেমন ক্ষেতের আইল, ঘেরের বাঁধ ও রাস্তার দু’পাশ দিয়ে মৌসুমি সজিনার আবাদ রয়েছে। চারা ও ডাল কেটে রোপণ করার মাধ্যমে সজিনা দু’ভাবেই আবাদ করা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সজিনার তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারে না। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রে পরিচর্যার প্রয়োজন হলেও অনেকটাই পরিচর্যা ছাড়াই সজিনার উৎপাদন সম্ভব। ক্ষেতে সুস্বাদু ও বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় সজিনার আবাদ অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। মৌসুমের শুরুতে সজিনা গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে যায়। সজিনা পাতা শাকের মতো রান্না করে আহারের সময় অল্প পরিমাণে খেলে বল বৃদ্ধি পায় ও ক্ষুধা বাড়ে। পাতা কেটে ফোঁড়া বা টিউমারে দিলে উপকার পাওয়া যায়। বাতের ব্যথায় তা ভালো কাজ দেয়। সজিনা বীজের তেল আমাদের দেশে তেমন পাওয়া যায় না। একে ‘বেন অয়েল’ বলে। এটি ঘড়ি মেরামতের কাজে লাগে। কুষ্ঠ রোগে বীজের তেল অথবা বীজের তেলের অভাবে বীজ বেটে প্রলেপ দিলে উপকার হয়। সজিনা মূল ও বীজ সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
আমাদের আরো অ্যাপস
Most Recent Post :-
-
ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়: আল কুরআন ১০০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনুল কারীমে কতটি সূরা আছে? উত্তরঃ ১১৪টি। ১০১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূর...
-
আবু জাহেলের হত্যার ঘটনা আব্দুর রহমান বিন আউফ বর্ণনা করেছেন “বদরের ময়দানে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। একজন তরুণ এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলঃ হে চাচা! আবু ...
-
ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়: সাহাবায়ে কেরাম (রা:) ৪৪২. প্রশ্নঃ সাহাবী কাকে বলে? উত্তরঃ যাঁরা ঈমানের সাথে নবী (সাঃ)এর সাথে সাক্ষাত লাভ করেছেন ...