Showing posts with label বিভিন্ন আমল. Show all posts
Showing posts with label বিভিন্ন আমল. Show all posts

Sunday, May 26, 2019

লায়লা তুল কদর

রমাদানের শেষ দশ রাতে কিছু সহজ আমল করা যায়। লাইলাতুল কদর নসিব হলে এই সহজ, ছোট আমলগুলোই পাহাড় সমান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্।
.
(১) মাগরিব অথবা তারাবির পর ২/৪ রাকাত নফল নামায আর অবশ্যই সাহরি খাওয়ার পূর্বে ৪/৬ রাকাত তাহাজ্জুদের নামায।
(২) অল্প কিছু টাকা- যেমন ১০/২০ টাকা হলেও কোনো গরিব-মিসকিনকে দান করা।
(৩) ২/৪ পৃষ্ঠা কুরআন তিলাওয়াত করা। সম্ভব হলে আরো বেশি।
(৪) বিভিন্ন তাসবিহ (যেমন: সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়া ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার/ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযিম ইত্যাদি) পড়া অগণিতবার।
(৫) নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পড়া। সহজ কিছু দরুদ হলো: ♦ সল্লাল্লাহু আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন ♦ আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ ইত্যাদি। এগুলো সহিহ হাদিসে এসেছে।
(৬) ইসতিগফার করা। সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত ইসতিগফার হলো: আসতাগফিরুল্লাহ। আর একটু বড় পড়তে চাইলে "আসতাগফিরুল্লাহাল্লাযি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতূবু ইলাইহি।"
(৭) আন্তরিক দু'আ। প্রথমে অযু করে নিবেন। সম্ভব হলে দুই রাকাত তাওবাহর নামায পড়ে নিবেন সাধারণ নফল নামাযের মতই। এরপর কিছু সময় জায়নামাযে বসে মনোযোগ ঠিক করবেন, কিছু যিকর করবেন। এরপর কিবলার দিকে মুখ করে নামাযের বৈঠকের সুরতে বসবেন। দু'আ এভাবে করবেন: আল্লাহর প্রশংসাসূচক কোনো বাক্য বলতে বলতে হাত তুলবেন (বুক বরাবর)। সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াতটি দিয়েও শুরু করা যায়। এরপর উপরে বর্ণিত কোনো দরুদ বা আমাদের নামাযে পঠিত দরুদ (ইব্রাহিমি) পড়বেন। এরপর প্রথমে নিজের জন্য দু'আ করবেন। এরপর সবকিছুর জন্য। দু'আর মধ্যে মাঝে মধ্যে বলবেন ইয়া হাইয়ু! ইয়া কাইয়ুমু!, লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যোয়ালিমিন। অবশ্যই নির্যাতিত মুসলিম জনপদ উইঘুর, কাশ্মির, ফিলিস্তিন, সোমালিয়া, ইয়েমেন, আরাকান (মিয়ানমার), মিশর ইত্যাদির মুসলিমদের জন্য মাগফিরাত, সবর এবং আল্লাহর সাহায্যের দু'আ করবেন। আল্লাহর কাছে চাওয়া শেষ। এবার ঠিক আগের মতই আবারো আল্লাহর প্রশংসা এবং নবীজির উপর দরুদ পড়বেন। এরপর "আমীন" অথবা "ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম" বলে দু'আ শেষ করবেন। দু'আ শেষে মুখে হাত মোছা জায়েয, তবে এটার সপক্ষে খুব একটা দলিলাদি নেই। মোছতেও পারেন আবার নাও মোছতে পারেন। এই হলো সহিহ হাদিসসম্মত দু'আর পদ্ধতি।
.
আপাতত এ পর্যন্তই। রামাদানের শেষ দশ দিনের যেকোনো দিনেই হতে পারে লাইলাদুল কদর। অতএব, প্রতিটা রাতকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

Saturday, May 25, 2019

⏹️আয়াতুল কুরসি পড়ে বাড়ি থেকে বের হলে :-

⏹️আয়াতুল কুরসি পড়ে বাড়ি থেকে
বের হলে :-
➡️৭০,০০০ ফেরেস্তা চর্তুদিক থেকে
তাকে রক্ষা করে।
➡️এটি পড়ে বাড়ি ঢুকলে বাড়িতে
দারিদ্রতা প্রবেশ করতে পারেনা।
➡️এটি পড়ে ঘুমালে সারারাত একজন
ফেরেস্তা তাকে পাহারা দেন।
➡️ফরজ নামাযের পর পড়লে তার আর
বেহেস্তের মধ্য একটি জিনিসেরই
দূরত্ব থাকে; তা হলো মৃত্য। এবং মৃত্যু
আযাব এতই হালকা হয়; যেন একটি
পিঁপড়ার কামড়।
➡️ওজুর পর পড়লে আল্লাহর নিকট ৭০ গুন
মর্যাদা বৃদ্ধি লাভ করে।

⏺️গর্ভবতী_মহিলাদের_আমলঃ-

*প্রথম মাসে সূরা-আলে ইমরান পড়লে সন্তান
দামী হবে।
*দ্বিতীয় মাসে সূরায়ে ইউসুফ পড়লে সন্তান
সুন্দর হবে।
*তৃতীয় মাসে সূরায়ে মারয়াম পড়লে সন্তান
সবরকারী হবে।
*চতুর্থ মাসে সূরায়ে লোকমান পড়লে সন্তান
হেকমত ওয়ালা হবে।
*পঞ্চম মাসে সূরায়ে মুহাম্মাদ পড়লে সন্তান
চরিত্রবান হবে।
*ষষ্ঠ মাসে সূরায়ে ইয়াসিন পড়লে সন্তান জ্ঞানী
হবে।
*সপ্তম,অষ্ঠম,নবম এবং দ্বশম মাসে সূরা-ইউসুফ,মুহা
ম্মদ এবং ইবরাহিম এর প্রথম থেকে দশ আয়াত
পড়বে।
⏺️ব্যাথা উঠলে সূরা-ইনশিকাক পড়ে পানিতে ফুক
দিয়ে পান করবে।
আল্লাহ তাআ‘লা সকল গর্ভবতি মহিলাদেরকে উক্ত
আমলগুলো করার তাওফীক দান করুন...
(আমীন)।


সূরা ফাতিহার ফজিলত:-

সূরা ফাতিহার ফজিলত:-

‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ শুরু, আরম্ভ, উদ্বোধন, উদঘাটন প্রভৃতি। কুরআনুল কারিমের ১১৪টি সূরার মধ্যে প্রথম সূরাটি হলো সূরাতুল ফাতিহা। আর এ জন্য সূরা ফাতিহাকে ‘ফাতিহাতুল কুরআন’ বা কুরআনের শুরু বলে অভিহিত করা হয়। সূরা ফাতিহাকে সূরাতুল হামদ, উম্মুল কুরআন, আসসাবউল মাছানি, ওয়াকিয়াহ, সূরাতুল কাফিয়্যাহ, সূরাতুল কানয, সূরাতুশ শিফা ও সূরাতুল আসাস নামেও অভিহিত করা হয়। সূরা ফাতিহার প্রত্যেকটি বাক্য ও শব্দ উচ্চারণ করা সহজ। যে কেউ ইচ্ছা করলে সূরা ফাতিহা সহজে মুখস্থ করতে পারে। মক্তব, মাদরাসা ও মসজিদে কুরআনুল কারিমের প্রথম সবক সূরা ফাতিহার মাধ্যমে দেয়া হয়। সালাত আদায়ের জন্য কুরআনুল কারিম থেকে প্রথম যে দশটি সূরা মক্তব-মাদরাসায় পড়ানো হয়। এ ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহা প্রথম পড়ানো হয়। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে দান করেছি পুনঃপুনঃ আবৃত্তির সাতটি আয়াত।’ (সূরা হিজর: ৮৭)। বেশির ভাগ মুফাসসিরে কুরআনের অভিমত হলো, পুনঃপুনঃ পাঠের জন্য যে সাতটি আয়াতে কালিমার ইঙ্গিত সূরা হিজরের মধ্যে এসেছে তা সূরা ফাতিহার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক নামাজে সূরা ফাতিহা পুনঃপুনঃ পাঠ করা হয় বলে এ সূরাকে ‘সূরাতুস সালাত (নামাজের সূরা)ও বলা হয়। এ সূরার সাতটি আয়াতের প্রথম চারটি আয়াতে আল্লাহর প্রশংসা এবং শেষ তিনটি আয়াতে বান্দার প্রার্থনার কথা বর্ণনা করা রয়েছে।
হজরত আবু সাঈদ ইবনে মুয়াল্লা রা: বর্ণিত হয়েছে। একদা হজরত রাসূল সা: বললেন, আমি কি মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শিক্ষা দেবো না? তারপর যখন মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম, তখন বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি না আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শেখাবার কথা বলেছিলেন? তিনি বললেন, তা হলো সূরা ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’। এটিই সেই সাতটি পুনঃ আয়াত এবং আমাকে প্রদত্ত মহা কুরআন। (বুখারি)। হজরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, এক সময় জিব্রাঈল আ: নবী করিম সা:-এর কাছে বসা অবস্থায় উপর দিক থেকে একটি দরজা খোলার আওয়াজ শুনে উপর দিকে মাথা উঠিয়ে বললেন, আকাশের এ দরজাটি আগে আর কখনো খোলা হয়নি। নবী করিম সা: বললেন, ওই দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা নেমে আসতে দেখলাম। জিব্রাঈল আ: বললেন, এই ফেরেশতা জমিনে এর আগে আর কখনো নামেনি। নবী করিম সা: বললেন, ওই ফেরেশতা আমাকে বলল, দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে। যা আপনার আগে কোনো নবী আ:-কে দেয়া হয়নি। তা হলো সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষাংশ। (মুসলিম)।
সূরা ফাতিহার ফজিলতের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। ‘খাজিনাতুল আসরার’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করে ফরজ নামাজ আদায়ের আগে কেউ যদি বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা ৪০ বার পাঠ করে তাহলে ওই ব্যক্তি নিঃসন্তান থাকলে সন্তান হবে, বেকার থাকলে চাকরি হবে, ঋণ থাকলে ঋণ পরিশোধের উপায় হয়ে যাবে, সম্পদহীন থাকলে সম্পদ লাভ হবে, অসুস্থ থাকলে সুস্থ হয়ে যাবে ও বিপদাপন্ন হলে উদ্ধার পেয়ে যাবে’। হজরত আলী রা: বলেছেন, কোনো বিপদে পতিত ব্যক্তি এক হাজার বার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে ওই ব্যক্তির আর বিপদ থাকতে পারে না। হজরত ইমাম জাফর সাদেক রা: বলেছেন, ‘৪১ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে খাওয়ালে অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে’। (তাওয়ারিখে মদিনা)। এ ছাড়া কুরআনের একটি হরফ বুঝে পাঠ করলে ১০টি নেকি লাভ হয়। সূরা ফাতিহায় ১২৫টি হরফ রয়েছে। ১২৫টি হরফ যিনি পাঠ করবেন তার আমল নামায় ১২৫০টি নেকি দান করা হয়।


➡️শবেবরাত_সহীহ_হাদীস_দ্বারা প্রমাণিত:-

➡️শবেবরাত_সহীহ_হাদীস_দ্বারা প্রমাণিত:-
⏹️মুফতি_আব্দুল_মালেক_সাহেব।

⏺️শবেবরাত এবং এই রাতে ইবাদত-বন্দেগী করা নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাই রাসুল সা. ও সাহাবা-তাবেয়ীনের যুগ থেকে অদ্যবধি এ রাতে বিশেষভাবে নফল ইবাদত ধারাবাহিকতার সাথে চলে আসছে।
⏺️ইদানিং এক শ্রেণির লোক বাংলায় হাদীস পড়া ছাড়া যাদের কুরআন-হাদীসের আবশ্যিক কোনো জ্ঞান নেই। তারা নিজেদের অতিগবেষণার মাধ্যমে ইসলামের সুপ্রমাণিত বিষয়গুলোকে জনসাধারণের মাঝে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
তারা বলছে শবে বরাতের হাদীসগুলো সহীহ নয়, এ রাতে ইবাদত করা বিদআত, ইত্যাদি।
অথচ শবেবরাত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার পরও বিদআত বলাটা হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক। আর জেনে এমনটি বলে থাকলে রাসূল সাঃ এর হাদীস অস্বিকারের মতো মারাত্মক অপরাধে অপরাধী সে ব্যক্তি। রাসূল সাঃ এর হাদীসের প্রতি বিদ্বেষী হওয়া ছাড়া হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এ ফযীলতপূর্ণ রাতকে কেউ অস্বিকার করতে পারে না।

⏹️নিম্নে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হল-

عن علي بن أبي طالب قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( إذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا نهارها . فإن الله ينزل فيها لغروب الشمس إلى سماء الدنيا . فيقول ألا من مستغفر لي فأغفر له ألا من مسترزق فأرزقه ألا مبتلى فأعافيه ألا كذا ألا كذا حتى يطلع الفجر )

⏺️হযরত আলী বিন আবু তালীব রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনী আসে [শবে বরাত] তখন তোমরা রাতে নামায পড়, আর দিনের বেলা রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ এ রাতে সূর্য ডুবার সাথে সাথে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন-কোন গোনাহ ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি আমার কাছে? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোন রিজিকপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দিব। কোন বিপদগ্রস্থ মুক্তি পেতে চায় কি? আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিব। আছে কি এমন, আছে কি তেমন? এমন বলতে থাকেন ফযর পর্যন্ত। {সূনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩৮৮, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৮২২, }

عن عائشة : قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه و سلم ليلة فخرجت فإذا هو بالبقيع فقال أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله ؟ قلت يا رسول الله إني ظننت أنك أتيت بعض نساءك فقال إن الله عز و جل ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا فيفغر لأكثر من عدد شعر غنم كلب
🔰⏺️অনুবাদ-হযরত আয়শা রাঃ বলেন-এক রাতে রাসূল সাঃ কে না পেয়ে খুজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে [মদীনারত কবরস্থান] গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন-কি ব্যাপার আয়শা? [তুমি যে তালাশে বের হলে?] তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অবিচার করবেন? [তোমার পাওনা রাতে অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন?] হযরত আয়শা রাঃ বললেন- আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়েছেন। রাসূল সাঃ তখন বললেন-যখন শাবান মাসের ১৫ই রাত আসে অর্থাৎ যখন শবে বরাত হয়, তখন আল্লাহ পাক এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-৭৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৬০২৮, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ, হাদীস নং-১৫০৯}

عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه و سلم قال : ( يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن

🔰অনুবাদ-হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-অর্ধ শাবানের রাতে [শবে বরাতে]আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন। {সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬৬৫, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৭৫৪, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াই, হাদীস নং-১৭০২, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৭৭৬, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-২১৫, সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং-১৩৯০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২০৩, মুসন্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩০৪৭৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২০৪}
বিষয়টি তাদের ঘরানা এককজন আলেমের বক্তব্য দিয়েি প্রমান করছি।
গায়রে মুকাল্লিদদের ইমাম শায়েখ আলবানী রহঃ তার সিলসিলাতুস সাহিহাহর ৩ নং খন্ডের ১৩৫ নং পৃষ্ঠায় বলেন। “এই হাদিসটি সহীহ” এটি সাহাবাদের এক জামাত বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন সূত্রে যার একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করেছে। তাদের মাঝে রয়েছেন # মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ # আবু সা’লাবা রাঃ # আব্দুল্লাহ বিন আমর রাঃ # আবু মুসা আশয়ারী রাঃ # আবু হুরায়রা রাঃ # আবু বকর সিদ্দীক রাঃ # আউফ বিন মালিক রাঃ # আয়েশা রাঃ প্রমুখ সাহাবাগণ।

⏺️উপরে বর্ণিত সবক’টি বর্ণনাকারীর হাদিস তিনি তার কিতাবে আনার মাধ্যমে সুদীর্ঘ আলোচনার পর শেষে তিনি বলেন-

و جملة القول أن الحديث بمجموع هذه الطرق صحيح بلا ريب و الصحة تثبت بأقل منها
عددا ما دامت سالمة من الضعف الشديد كما هو الشأن في هذا الحديث
⏹️অর্থাৎ সারকথা হলো, এই যে, নিশ্চয় এই হাদিসটি এই সকল সূত্র পরম্পরা দ্বারা সহীহ, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর সহীহ হওয়া এর থেকে কম সংখ্যক বর্ণনার দ্বারাও প্রমাণিত হয়ে যায়, যতক্ষণ না মারাত্মক কোন দুর্বলতামুক্ত থাকে, যেমন এই হাদিসটি হয়েছে।

➡️এবার আসুন জানি
         শবে বরাতের ফযিলত, করনীয় ও বর্জনীয়  সম্পর্কে ।
➡️প্রশ্নঃ
       হুজুর বর্তমানে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বহুধরনে কর্মকান্ড প্রচলিত রয়েছে ৷ যেমন নির্ধারিত পদ্ধতি আমল, আতশবাজি, হালুয়া রুটি তৈরি, আলোকসজ্জা ইত্যাদি ৷ আবার কেউ শবে বরাতকে অস্বিকার করছে ৷ হাদীসে নাকি এ বিষয়ে কিছুই নেই ৷ এ বিষয়ে যদি বিস্তারিত জানাতেন উপকৃত হতাম ৷

⏺️উত্তরঃ
          শবে বরাতকে কেন্দ্র করে একদল নানা রকম নাজায়েজ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন। অপর আরেক দল এই রাতের অস্তিত্বটাকেই অস্বীকার করেন। কোনোটিই ঠিক নয় ৷ তাই প্রথমে শবে বরাতের অস্তিত্ব আছে কি না এ সম্পর্কে সহিহ হাদিস উল্লেখ করছি:
-হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রাঃ)থেকে বর্ণিত,রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন- আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে(শবে বরাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন।এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে মাফ করে দেন।
-সহীহ ইবনে হিব্বান ১২/৪৮১;আত-তারগীব ওয়াত- তারহীবে ২/১৩২ ৷

⏹️আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক শা'বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ
নাযিল করেন। অতঃপর তিনি বণী কালবের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন"।
সুনানে তিরমিযি ২/১২১,১২২; মুসনাদে আহমাদ ৬/২৩৮৷

⏹️এছাড়াও বহু হাদীস দ্বারা এরাতের ফযিলত প্রমানিত ৷ তাই এ রাতের ফযিলত ও মর্যাদা কোন ভাবেই অস্বিকার করা যাবে না ৷

আর এরাতে নাজায়েয কর্মকান্ড সম্পর্কে বলা জরুরী যে, এরাতে নির্ধারিত পরিমান বা নির্ধারিত পন্থায় কোন আমল বর্নিত নেই ৷ এবং তাকে উপলক্ষ করে হালুয়া রুটি তৈরি করা আলোকসজ্জা করা আতশবাজি করা ইত্যাদি সম্পুর্ন নাজায়েয ও বাড়াবাড়ি ৷

সুতরাং যারা শবে বরাতকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন তারাও ভুল করছেন,আর যারা একেবারে অস্বীকার করছেন তারাও ভুল করছেন। কারন হাদিসের মধ্যে কোন বাড়াবাড়ির কথাও নেই আবার অস্তিত্বহীনতাও বুঝা যায়না।

➡️সঠিক পন্থায় এই রাতে কিছু করনীয় ও বর্জনীয় ৷
এই রাতে করনিয়ঃ
১৷ এই রাতে আল্লাহর রাসুল অনেক দীর্ঘ নামাজ পড়তেন। তাই নামায পড়া ৷ তবে নির্ধারিত পরিমান বা পদ্ধতি জরুরী মনে না করা ৷
২৷ পরের দিন রোজা রাখা ৷ কেননা রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,
ﻗﻮﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ : ﺍﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻘﻮﻣﻮﻟﻴﻠﻬﺎ ﻭﺻﻮﻣﻮﺍ
ﻧﻬﺎﺭﻫﺎ
⏹️অর্থাৎ যখন অর্ধ শাবানের আসে- তোমরা সেই রাতে ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও এবং পরের দিন রোজা রাখো। তাই পরদিন রোজা রাখা ৷
বিঃদ্রঃ শবে বরাতের রোজা একটি ৷

৩৷ এই রাতে পুরুষদের জন্য কবরস্থানে যাওয়া এবং তাদের মৃত আত্মীয় স্বজনদের জন্য ইসালে সাওয়াব করা মুস্তহাব। কেননা রাসূল সাঃ বরাতের রাত্রে কবরস্থানে গিয়েছেন ৷
এই সম্পর্কে মুফতি শফি সাহেব অত্যন্ত চমৎকার অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। তিনি বলেন রাসুল (সাঃ) যেহেতু জীবনে একবার মাত্র শবে বরাতের রাত্রে কবরস্থানে গিয়েছেন,কাজেই জীবনে একবার এই রাতে কবরস্থানে গেলেই মুস্তহাব আদায় হয়ে যাবে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল কোন ভাবেই যেন বিদআতি কোন কাজ না হয়ে যায়।

৪৷ এই রাতে খুব দোয়া করা। কেননা আল্লাহর রাসুল বলেছেনঃ শাবানের ১৫ তারিখ রাতে আল্লাহর পক্ষ হতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন,- আছে কি কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী,যাকে আমি ক্ষমা করবো। এমনিভাবে সকল বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়।

৫৷ এই রাতে নির্দিষ্ট কোন নামাজ নেই। যত নফল
নামাজ পড়া যায় পড়বে ৷ তবে যাদের কাজা নামাজ বাকি আছে তাদের জন্য উত্তম হবে কাজা নামাজ গুলো আদায় করে নেয়া। কারন হাশরের মাঠে নফলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেনা,ফরজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।

⏺️এই রাতের বর্জনীয় আমল সমুহঃ-

১৷ আতশবাজি করা যাবেনা ৷
২৷ হালুয়া রুটি বিতরন কারা বা নিজ ঘরে তৈরি করা যাবেনা। কারন এতে অহেতুক সময় নষ্ট হয়, এবং বর্তমানে এটা একটা বড় ধরনের ফেতনার আকার ধারন করেছে।
৩৷ আলোকসজ্জা করা যাবেনা।
৪৷ মাইকে কুরআন তেলাওয়াত বা হামদ নাত পরিবেশন করে অন্যের আমলে ব্যাঘাত ঘটানো যাবেনা।
৫৷ কবরস্থানে ভিড় করা বা মেলা বসানো যাবেনা।

⏺️আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে এই রাতের সকল ফজিলত দান করুণ।

⏹️আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝার এবং আমল করার তৌফীক দান করুন।


Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻