ছেলে শিশুর বাংলা থেকে আরবি নাম
১.) উসামা (أسامة-সিংহ)
২.) হামদান (প্রশংসাকারী)
৩.) লাবীব (لبيب-বুদ্ধিমান)
৪.) রাযীন (رزين-গাম্ভীর্যশীল)
৫.) রাইয়্যান (ريَّان-জান্নাতের দরজা বিশেষ)
৬.) মামদুহ (مَمْدُوْح-প্রশংসিত)
৭.) নাবহান (نَبْهَان- খ্যাতিমান)
৮.) নাবীল (نَبِيْل-শ্রেষ্ঠ)
৯.) নাদীম (نَدِيْم-অন্তরঙ্গ বন্ধু)
১০.) ইমাদ (عِمَاد- সুদৃঢ়স্তম্ভ)
১১.) মাকহুল (مكحول-সুরমাচোখ)
১২.) মাইমূন (مَيْمُوْن- সৌভাগ্যবান)
১৩.) তামীম (تَمِيْم-দৈহিক ও চারিত্রিকভাবে পরিপূর্ণ)
১৪.) হুসাম (حُسَام-ধারালো তরবারি)
১৫.) (بَدْرٌ-পূর্ণিমার চাঁদ)
১৬.) হাম্মাদ (حَمَّادٌ-অধিক প্রশংসাকারী)
১৭.) হামদান (حَمْدَانُ-প্রশংসাকারী)
১৮.) সাফওয়ান (صَفْوَانُ-স্বচ্ছ শিলা)
১৯.) গানেম (غَانِمٌ-গাজী বিজয়ী)
২০.) খাত্তাব (خَطَّابٌ-সুবক্তা)
২১.) সাবেত (ثَابِتٌ-অবিচল)
২২.) জারীর (جَرِيْرٌ- রশি)
২৩.) খালাফ (خَلَفٌ- বংশধর)
২৪.) জুনাদা (جُنَادَةُ- সাহায্যকারী)
২৫.) ইয়াদ (إِيَادٌ-শক্তিমান)
২৬.) ইয়াস (إِيَاسٌ-দান)
২৭.) যুবাইর (زُبَيْرٌ- বুদ্ধিমান)
২৮.) শাকের (شَاكِرٌ-কৃতজ্ঞ)
২৯.) আব্দুল মুজিব (عَبْدُ الْمُجِيْبِ- উত্তরদাতার বান্দা)
৩০.) আব্দুল মুমিন (عَبْدُ الْمُؤْمِنِ- নিরাপত্তাদাতার বান্দা)
৩১.) কুদামা (قُدَامَةُ- অগ্রণী)
৩২.) সুহাইব (صُهَيْبٌ-যার চুল কিছুটা লালচে)
৩৩.) আব্দুল আযীয (عبد العزيز- পরাক্রমশালীর বান্দা),
৩৪.) আব্দুল মালিক (عبد المالك),
৩৫.) আব্দুল কারীম (عبد الكريم-সম্মানিতের বান্দা),
৩৬.) আব্দুর রহীম (عبد الرحيم-করুণাময়ের বান্দা),
৩৭.) আব্দুল আহাদ (عبد الأحد- এক সত্তার বান্দা),
৩৮.) আব্দুস সামাদ (عبد الصمد- পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্বের অধিকারীর বান্দা),
৩৯.) আব্দুল ওয়াহেদ (عبد الواحد-একক সত্তার বান্দা),
৪০.) আব্দুল কাইয়্যুম (عبد القيوم-অবিনশ্বরের বান্দা),
৪১.) আব্দুস সামী (عبد السميع-সর্বশ্রোতার বান্দা),
৪২.) আব্দুল হাইয়্য (عبد الحي-চিরঞ্জীবের বান্দা),
৪৩.) আব্দুল খালেক (عبد الخالق-সৃষ্টিকর্তার বান্দা),
৪৪.) আব্দুল বারী (عبد الباري-স্রষ্টার বান্দা),
৪৫.) আব্দুল মাজীদ (عبد المجيد-মহিমান্বিত সত্তার বান্দা)
৪৬.) আব্দুল্লাহ (عبد الله),
৪৭.) মুনযির (منذر),
৪৮.) উরওয়া (عروة),
৪৯.) হামযা (حمزة),
৫০.) জাফর (جعفر),
৫১.) মুসআব (مصعب),
৫২.) উবাইদা (عبيدة),
৫৩.) খালেদ (خالد),
৫৪.) উমর (عمر)।
"আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু" * বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম * "ইসলামের আলোকে আমাদের জগৎ" Site এ সবাইকে স্বাগতম। * "প্রচার কর,যদি একটি মাত্র আয়াতও হয়"। [বুখারী-৩৪৬১] * "কেউ হেদায়েতের দিকে আহ্বান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে,তবে যারা অনুসরন করেছে তাদের সওয়াবের কোন কমতি হবেনা।"(মুসলিম-২৬৭৮) * আমাদের এই Site এ আল কুরআন/সুন্নাহ ভিত্তিক লিখনী দেয়া হবে- ইনশা আল্লাহ।আপনারা আমাদের সাথেই থাকবেন। * "জাযাকাল্লাহু/জাযাকি-আল্লাহু খায়রান”
Sunday, May 26, 2019
ছেলে শিশুর বাংলা থেকে আরবি নাম
সুন্দর নামের ফজিলত:-
ইসলামিক সুন্দর নাম
শিশুর জন্মের পর তার জন্য একটি সুন্দর ইসলামী নাম রাখা প্রত্যেক মুসলিম পিতা- মাতার কর্তব্য। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মুসলিমদের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলিমদের মাঝেও ইসলামী সংস্কৃতি ও মুসলিম ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে শিশুর নাম নির্বাচন করার আগ্রহ দেখা যায়। এজন্য তাঁরা নবজাতকের নাম নির্বাচনে পরিচিত আলেম-ওলামাদের শরণাপন্ন হন। তবে সত্যি কথা বলতে কী এ বিষয়ে আমাদের পড়াশুনা একেবারে অপ্রতুল। তাই ইসলামী নাম রাখার আগ্রহ থাকার পরও অজ্ঞতাবশত আমরা এমনসব নাম নির্বাচন করে ফেলি যেগুলো আদৌ ইসলামী নামের আওতাভুক্ত নয়। শব্দটি আরবী অথবা কুরআনের শব্দ হলেই নামটি ইসলামী হবে তাতো নয়। কুরআনে তো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কাফেরদের নাম উল্লেখ আছে। ইবলিস, ফেরাউন,হামান, কারুন, আবু লাহাব ইত্যাদি নাম তো কুরআনে উল্লেখ আছে; তাই বলে কী এসব নামে নাম বা উপনাম রাখা সমীচীন হবে!?
ইসলামী নামকরণ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম তাঁকে বিভিন্ন জিনেসের নাম শিক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর সে সকল জিনিসকে ফেরেশ্তাগণের সম্মুখে পেশ করে তাদেরকে সেগুলোর নাম বলার জন্য বলেছিলেন। এসম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-
ﻭَﻋَﻠَّﻢَ ﺀَﺍﺩَﻡَ ﭐﻟْﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀَ ﻛُﻠَّﻬَﺎ ﺛُﻢَّ ﻋَﺮَﺿَﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟْﻤَﻠَٰٓﺌِﻜَﺔِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﻧۢﺒِـُٔﻮﻧِﻰ ﺑِﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀِ ﻫَٰٓﺆُﻟَﺎٓﺀِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺻَٰﺪِﻗِﻴﻦَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ۟ ﺳُﺒْﺤَٰﻨَﻚَ ﻟَﺎ ﻋِﻠْﻢَ ﻟَﻨَﺎٓ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﻋَﻠَّﻤْﺘَﻨَﺎٓ ۖ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ ﭐﻟْﺤَﻜِﻴﻢُ আর তিনি আদমকে নামসমূহ সব শিক্ষা দিলেন তারপর তা মালাইকাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। সুতরাং বললেন, ‘তোমরা আমাকে এগুলোর নাম জানাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’। তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র মহান। আপনি আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন, তা ছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’। (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ৩১-৩২)
আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন নবী- রাসুলকে তাদের আসল নাম কিংবা গুণবাচক নাম বলে ডাক দিয়েছেন। যেমন ইয়া আদামু, ইয়া মুসা, ইয়া যাকরিয়া, ইয়া ইব্রাহীম, ইয়া ঈসা ইবনু মারইয়ামা, ইয়া মুদদাসসিরু, ইয়া মুযযাম্মিলু, ইত্যাদি। পবিত্র কুরআনের যে আয়াতটি সর্বপ্রথম নাযিল করা হয়েছে, সেখানেরও আল্লাহ পাক নামের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বলা হয়েছ- ﭐﻗْﺮَﺃْ ﺑِﭑﺳْﻢِ ﺭَﺑِّﻚَ ﭐﻟَّﺬِﻯ ﺧَﻠَﻖَ পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আলাক্ব,আয়াতঃ ১)
অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় মানুষের নামকরণেরও গুরুত্ব কম নয়। নামকরণের মূল উদ্দেশ্য যদি কেবলমাত্র শনাক্তকরণই হতো, তাহলে সন্তান ভূমিষ্ট হবার পর পিতামাতা হয়তো সন্তানকে চিহ্নিত বা শনাক্তকরণের জন্য ১,২,৩ বা অন্য কোন সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতেন এবং সে অংক সংখ্যা বা চিহ্ন দিয়েই সন্তানকে ডাকতেন, আর সন্তানের ভাল নামকরণের জন্যে পিতামাতা পেরশানী ভোগ করতেন না। কিন্তু দেখা যায়, সন্তান ভূমিষ্ট হবার পরই তার নামকরণের জন্য একটি ভাল নাম খুজতে থাকেন। ইসলামী ভাবধারা সম্ভলিত নামকরণ যেমন ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অন্যদিকে নামকরণের দ্বারা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তা, চেতনা ও মানসিকতারও উন্নতি ঘটে। কাজেই সন্তানের নামকরণ যেমন উত্তম হতে হবে, তেমনি তা হতে হবে ইসলামী ভাবধারায় পরিপূর্ণ,যাতে নামের দ্বারাই বুঝা যায় যে, লোকটি মুসলনাম। উপরোক্ত কুরআন ও হাদীসের আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষের পরিচয়, শনাক্তকরণ ছাড়াও ইহকাল ও পরকালে নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুন্দর নাম রাখা জন্মের পরপরই পিতামাতার ওপর করর্তব্য হলো নবজাতক শিশুর শ্রুতিমকধুর, অর্থবোধক ও ইওসলাসম্মত নাম রাখা। শিশুর নামকরণের একটি গুরুত্ব রয়েছে। এতে শিশুর পরিচয়, বংশ পরিচয়,জাতীয়তা নির্ণীত হয়। কেননা কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে তার নাম ধরে ডাকা হবে। পৃথিবীর সব সমাজেই এ প্রথা প্রচলিত। ইসলামে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনস্বীকার্য। এনামের প্রভাবে শিশুর পরবর্তী জীবনে স্বভাব-চরিত্রে শুচি-শুভ্রতা ফুটে ওঠে। পরিচয়ের জন্য নামকরণ শিশুর জন্মগত অধিকার। এতে শিশুর অনেকগুলো মৌলিক ও সমাজিক অধিকার প্রতিষ্টিত হয়। আল কুরআন ও হাদীসে এজন্য শিশুর নামকরণের অতিব গুরুত্বের সাথে বিধৃত হয়েছে।নিম্নোক্ত আয়াতটি এ ব্যাপ্যারে প্রনিধানযোগ্য। ﻳﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟﻨَّﺎﺱُ ﺇِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَٰﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺫَﻛَﺮٍ ﻭَﺃُﻧﺜَﻰٰ ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَٰﻜُﻢْ ﺷُﻌُﻮﺑًﺎ ﻭَﻗَﺒَﺎٓﺋِﻞَ ﻟِﺘَﻌَﺎﺭَﻓُﻮٓﺍ۟ ۚ ﺇِﻥَّ ﺃَﻛْﺮَﻣَﻜُﻢْ ﻋِﻨﺪَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺗْﻘَﻯٰﻜُﻢْ ۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻋَﻠِﻴﻢٌ ﺧَﺒِﻴﺮٌ হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (সূরা হুজরাত, আয়াতঃ ১৩)
ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻠْﻤِﺰُﻭٓﺍ۟ ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻨَﺎﺑَﺰُﻭﺍ۟ ﺑِﭑﻟْﺄَﻟْﻘَٰﺐِ ۖ ﺑِﺌْﺲَ ﭐﻟِﭑﺳْﻢُ ﭐﻟْﻔُﺴُﻮﻕُ ﺑَﻌْﺪَ ﭐﻟْﺈِﻳﻤَٰﻦِ ۚ ﻭَﻣَﻦ ﻟَّﻢْ ﻳَﺘُﺐْ ﻓَﺄُﻭ۟ﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤُﻮﻥَ একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতইনা নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো যালিম। (সূরা হুজরাত,আয়াতঃ ১১)
নাম রাখার ক্ষেত্রে নামের অর্থ,প্রয়োজন, বিধি ও ঐতিহাসিক পেক্ষাপট স্বরণ রাখা একান্ত প্রয়োজন। অসাবধানতা ও অজ্ঞতাবশত কোন অর্থহীন বা বিদ্ঘুটে নাম রেখে ফেললে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখা অবশ্য কর্তব্য।আর এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সময় কারো নাম খারাপ পেলে তার নাম সাথে সাথে পরিবর্তন করে দিতেন। এ প্রসঙ্গে এক বর্ণনায় এসেছে- ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ، ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﻳُﻐَﻴِّﺮُ ﺍﻻِﺳْﻢَ ﺍﻟْﻘَﺒِﻴﺢَ . আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকৃষ্ট নামসমূহ পরিবর্তন করে (ভালো নাম রেখে) দিতেন। (তিরমিযি, হাদিস নং-২৮৩৯)
সুন্দর নামের সৌন্দর্য ও তাৎপর্য অপরিসীম একটি সুন্দর নাম আল্লাহর নেয়ামত। কাল কেয়ামতে কঠিন মসিবতের সময় যখন কোন সাহায্যকারী থাকবেনা, তখন হয়ত বা একটি সুন্দর ও ভাল নামের ওসিলায় আমরা নাজাত পেতে পারি। শেষ বিচারের দিন যখন বান্দার বাম ও ডানের পাল্লা সমান হবে তখন আল্লাহ তার সুন্দর নামের ওসিলায় তার ডান পাল্লা ভারি করে দিতে পারেন। তাই সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো তাদের সুন্দর ও ইসলাম সম্মত নাম রাখা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরীফে এরশাদ করেছেন- ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ ﺗَﺴَﻤَّﻮْﺍ ﺑِﺎﺳْﻤِﻲ ﻭَﻻَ ﺗَﻜْﺘَﻨُﻮﺍ ﺑِﻜُﻨْﻴَﺘِﻲ، ﻭَﻣَﻦْ ﺭَﺁﻧِﻲ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﻨَﺎﻡِ ﻓَﻘَﺪْ ﺭَﺁﻧِﻲ، ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻻَ ﻳَﺘَﻤَﺜَّﻞُ ﻓِﻲ ﺻُﻮﺭَﺗِﻲ، ﻭَﻣَﻦْ ﻛَﺬَﺏَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻣُﺘَﻌَﻤِّﺪًﺍ ﻓَﻠْﻴَﺘَﺒَﻮَّﺃْ ﻣَﻘْﻌَﺪَﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আমার নামে তোমরা নাম রেখ; কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াতে) তোমরা উপনামে রেখ না। আর যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে ঠিক আমাকেই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতির ন্যায় রুপ ধারণ করতে পারে না। যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। (বুখারী, হাদিস নং-১১১)
ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ، ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﻳُﻐَﻴِّﺮُ ﺍﻻِﺳْﻢَ ﺍﻟْﻘَﺒِﻴﺢَ . আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকৃষ্ট নামসমূহ পরিবর্তন করে (ভালো নাম রেখে) দিতেন। (তিরমিযি, হাদিস নং-২৮৩৯)
সন্তানের সুন্দর নাম রাখা,তাদের আদব কায়দা শিক্ষা দেওয়া পিতা-মাতার ওপর একটা বড় দায়িত্ব। বাবা মা তাদের সন্তানকে উত্তম আদব কায়দা শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে ভালো কিছু দিতে পারেনা। আজকাল আমাদের মুসলিম সমাজের সন্তানদের নামকরণের আমরা অত্যন্ত উদাসীন ও স্বেচ্ছাচারীতার পরিচয় দিয়ে থাকি। আমাদের সন্তানদের নাম শুনে মনে হয় না যে সে হিন্দু না মুসলমান, ছেলে না মেয়ে, ইনসাম না অন্য কোন জাত, এমনকি আল্লাহ শব্দেরও প্রতিশব্দ বের করে ফেলেছি। আমরা আল্লাহকে খোদা বলে ডাকি। আল্লাহ নামের প্রতিশব্দ খোদা নয়। পৃথিবীর কোন ভাষার কোন শব্দই এ অদ্বিতীয় শব্দের প্রতিশব্দ হওয়ার স্পর্ধা রাখে না। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের কোথাও আল্লাহ শব্দের কোন প্রতিশব্দ নেই। মহান আল্লাহ যেমন লাসানী অদ্বিতীয়, তার জাত পাক এ মহামহিমান্বিত নামও তেমনি অদ্বিয়ীয়,অনুপম।
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻥَّ ﻟِﻠَّﻪِ ﺗِﺴْﻌَﺔً ﻭَﺗِﺴْﻌِﻴﻦَ ﺍﺳْﻤًﺎ ﻣَﻦْ ﺃَﺣْﺼَﺎﻫَﺎ ﺩَﺧَﻞَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ
আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিরানব্বই নাম রয়েছে। যে লোক তা কণ্ঠস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সুনান তিরমিযি,হাদিস নং-৩৫০৮)
ﻭَﻟِﻠَّﻪِ ﭐﻟْﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀُ ﭐﻟْﺤُﺴْﻨَﻰٰ ﻓَﭑﺩْﻋُﻮﻩُ ﺑِﻬَﺎ ۖ ﻭَﺫَﺭُﻭﺍ۟ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﻠْﺤِﺪُﻭﻥَ ﻓِﻰٓ ﺃَﺳْﻤَٰٓﺌِﻪِۦ ۚ ﺳَﻴُﺠْﺰَﻭْﻥَ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ۟ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। (সূরা আরাফ,আয়াতঃ১৮০)
ﻗُﻞِ ﭐﺩْﻋُﻮﺍ۟ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺃَﻭِ ﭐﺩْﻋُﻮﺍ۟ ﭐﻟﺮَّﺣْﻤَٰﻦَ ۖ ﺃَﻳًّﺎ ﻣَّﺎ ﺗَﺪْﻋُﻮﺍ۟ ﻓَﻠَﻪُ ﭐﻟْﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀُ ﭐﻟْﺤُﺴْﻨَﻰٰ ۚ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺠْﻬَﺮْ ﺑِﺼَﻠَﺎﺗِﻚَ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺨَﺎﻓِﺖْ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﭐﺑْﺘَﻎِ ﺑَﻴْﻦَ ﺫَٰﻟِﻚَ ﺳَﺒِﻴﻠًﺎ বল, ‘তোমরা (তোমাদের রবকে) ‘আল্লাহ’ নামে ডাক অথবা ‘রাহমান’ নামে ডাক, যে নামেই তোমরা ডাক না কেন, তাঁর জন্যই তো রয়েছে সুন্দর নামসমূহ। তুমি তোমার সালাতে স্বর উঁচু করো না এবং তাতে মৃদুও করো না; বরং এর মাঝামাঝি পথ অবলম্বন কর। (সূরা আল ইসরা,আয়াতঃ১১০)
ﭐﺩْﻋُﻮﻫُﻢْ ﻷِﺀَﺍﺑَﺎٓﺋِﻬِﻢْ ﻫُﻮَ ﺃَﻗْﺴَﻂُ ﻋِﻨﺪَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻓَﺈِﻥ ﻟَّﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮٓﺍ۟ ﺀَﺍﺑَﺎٓﺀَﻫُﻢْ ﻓَﺈِﺧْﻮَٰﻧُﻜُﻢْ ﻓِﻰ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ ﻭَﻣَﻮَٰﻟِﻴﻜُﻢْ ۚ ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺟُﻨَﺎﺡٌ ﻓِﻴﻤَﺎٓ ﺃَﺧْﻄَﺄْﺗُﻢ ﺑِﻪِۦ ﻭَﻟَٰﻜِﻦ ﻣَّﺎ ﺗَﻌَﻤَّﺪَﺕْ ﻗُﻠُﻮﺑُﻜُﻢْ ۚ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭًﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤًﺎ তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাক; আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ইনসাফপূর্ণ। অতঃপর যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তাহলে তারা তোমাদের দীনি ভাই এবং তোমাদের বন্ধু। আর এ বিষয়ে তোমরা কোন ভুল করলে তোমাদের কোন পাপ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকলে (পাপ হবে)। আর আল্লাহ অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব,আয়াতঃ ৫)
নাম পরিবর্তন করে পূর্বের নামের চেয়ে সুন্দর নাম রাখা
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﺃَﻥَّ ﺯَﻳْﻨَﺐَ، ﻛَﺎﻥَ ﺍﺳْﻤُﻬَﺎ ﺑَﺮَّﺓَ، ﻓَﻘِﻴﻞَ ﺗُﺰَﻛِّﻲ ﻧَﻔْﺴَﻬَﺎ . ﻓَﺴَﻤَّﺎﻫَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺯَﻳْﻨَﺐَ আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্নিত যে যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) এর নাম ছিলো ‘বাররাহ’ (নেককার)। তখন কেউ বললেন এতে তিনি নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম রাখলেন
আ- দিয়ে ছেলে শিশুর নাম:-
আ- দিয়ে ছেলে শিশুদের ইসলামিক নাম:-
1) আশিকুল ইসলাম=অর্থ = ইসলামের বন্ধু
2) আব্বাস=অর্থ =সিংহ
3) আবদুল্লাহ=অর্থ =আল্লাহর দাস
4) আবদুল আলি=অর্থ =মহানের গোলাম
5) আবদুল আলিম=অর্থ =মহাজ্ঞানীর গোলাম
6) আবদুল আযীম=অর্থ =মহাশ্রেষ্ঠের গোলাম
7) আবদুল আযীয=অর্থ =মহাশ্রেষ্ঠের গোলাম
8) আবদুল বারী=অর্থ =সৃষ্টিকর্তার গোলাম
9) আবদুল দাইয়ান=অর্থ =সুবিচারের দাস
10) আবদুল ফাত্তাহ=অর্থ =বিজয়কারীর গোলাম
11) আবদুল গাফফার=অর্থ = মহাক্ষমাশীলের গোলাম
12) আবদুল গফুর=অর্থ =ক্ষমাশীলের গোলাম
13) আবদুল হাদী=অর্থ =পথপ্রর্দশকের গোলাম
14) আবদুল হাফিজ=অর্থ =হিফাজতকারীর গোলাম
15) আবদুল হাকীম=অর্থ =মহাবিচারকের গোলাম
16) আবদুল হালিম=অর্থ =মহা ধৈর্যশীলের গোলাম
17) আবদুল হামি=অর্থ =রক্ষাকারী সেবক
18) আবদুল হামিদ=অর্থ =মহা প্রশংসাভাজনের গোলাম
19) আবদুল হক=অর্থ =মহাসত্যের গোলাম
20) আবদুল হাসিব=অর্থ =হিসাব গ্রহনকারীর গোলাম
21) আবদুল জাব্বার=অর্থ =মহাশক্তিশালীর গোলাম
22) আবদুল জলিল=অর্থ =মহাপ্রতাপশালীর গোলাম
23) আবদুল কাহহার=অর্থ =পরাত্রুমশীলের গোলাম
24) আবদুল কারীম=অর্থ =দানকর্তার গোলাম
25) আবদুল খালেক=অর্থ =সৃষ্টিকর্তার গোলাম
26) আবদুল লতিফ=অর্থ =মেহেরবানের গোলাম
27) আবদুল মাজিদ=অর্থ =বুযুর্গের গোলাম
28) আবদুল মুবীন=অর্থ =প্রকাশের দাস
29) আবদুল মোহাইমেন=অর্থ =মহাপ্রহরীর গোলাম
30) আবদুল মুহীত=অর্থ =বেষ্টনকারী গোলাম
31) আবদুল মুজিব=অর্থ =কবুলকারীর গোলাম
32) আবদুল মুতী=অর্থ =মহাদাতার গোলাম
33) আবদুল নাসের=অর্থ =সাহায্যকারীর গোলাম
34) আবদুল কাদির=অর্থ =ক্ষমতাবানের গোলাম
35) আবদুল কাহহার=অর্থ =মহা প্রতাপশালীর গোলাম
36) আবদুল কুদ্দুছ=অর্থ =মহাপাক পবিত্রের গোলাম
37) আবদুল শাকুর=অর্থ =প্রতিদানকারীর গোলাম
38) আবদুল ওয়াদুদ=অর্থ =প্রেমময়ের গোলাম
39) আবদুল ওয়াহেদ=অর্থ =এককের গোলাম
40) আবদুল ওয়ারিছ=অর্থ =মালিকের দাস
41) আবদুল ওয়াহহাব=অর্থ = দাতার দাস
42) আবদুর রাফি=অর্থ = মহিয়ানের গোলাম
43) আবদুর রাহিম=অর্থ =দয়ালুর গোলাম
44) আবদুর রহমান=অর্থ =করুনাময়ের গোলাম
45) আবদুর রশিদ=অর্থ =সরল সত্যপথে পরিচালকের গোলাম
46) আদুর রউফ=অর্থ =মহাস্নেহশীলের গোলাম
47) আবদুর রাজ্জাক=অর্থ =রিযিকদাতার গোলাম
48) আবদুস সবুর=অর্থ = মহাধৈর্যশীলের গোলাম
49)
আবদুস সালাম=অর্থ =শান্তিকর্তার গোলাম
50) আবদুস সামাদ=অর্থ =অভাবহীনের গোলাম
51) আবদুস সামী=অর্থ =সর্ব শ্রোতার গোলাম
52) আবদুস ছাত্তার=অর্থ =মহাগোপনকারীর গোলাম
53) আবদুজ জাহির=অর্থ =দৃশ্যমানের গোলাম
54) আবেদ=অর্থ =উপাসক
55) আবীদ=অর্থ =গোলাম
56) আদিব আখতাব=অর্থ =ভাষাবিদ বক্তা
57) আবরার=অর্থ =ন্যায়বান, গুণাবলী
58) আবরার আজমল=অর্থ = ন্যায়বান নিখুঁত
59) আবরার আখলাক=অর্থ =ন্যায়বান চরিত্র
60) আবরার আখইয়ার=অর্থ =ন্যায়বান মানুষ
61) আবরার আওসাফ=অর্থ =ন্যায় গুনাবলী
62) আবরার ফাহাদ=অর্থ =ন্যায়বান সিংহ
63) আবরার ফাহিম=অর্থ =ন্যায়বান বুদ্ধিমান
64) আবরার ফয়সাল=অর্থ =ন্যায় বিচারক
65) আবরার ফাইয়াজ=অর্থ =ন্যায়বান দাতা
66) আবরার ফসীহ=অর্থ =ন্যায়বান বিশুদ্ধভাষী
67) আবরার ফুয়াদ=অর্থ =ন্যায়পরায়ন অন্তর
68) আবরার গালিব=অর্থ =ন্যায়বান বিজয়ী
69) আবরার হাফিজ=অর্থ =ন্যায়বান রক্ষাকারী
70) আবরার হামি=অর্থ =ন্যায়বান রক্ষাকারী
71) আবরার হামিদ=অর্থ =ন্যায়বান প্রশংসাকারী
72) আবরার হামিম=অর্থ =ন্যায়বান বন্ধু
73) আবরার হানীফ=অর্থ =ন্যায়বান ধার্মিক
74) আবরার হাসান=অর্থ =ন্যায়বান উত্তম
75) আবরার হাসিন=অর্থ =ন্যায়বান সুন্দর
76) আবরার হাসানাত=অর্থ =ন্যায়বান গুনাবলী
77) আবরার জাহিন=অর্থ =ন্যায়বান বিচক্ষন
78) আবরার জলীল=অর্থ =ন্যায়বান মহান
79) আবরার জামিল=অর্থ =ন্যায়বান মহান
80) আবরার জাওয়াদ =অর্থ =ন্যায়বান দানশীল
81) আবরার খলিল=অর্থ =ন্যায়বান বন্ধু
82) আবরার করীম=অর্থ =ন্যায়বান দয়ালু
83) আবরার মাহির=অর্থ =ন্যায়বান দক্ষ
84) আবরার মোহসেন=অর্থ =ন্যায়বান উপকারী
85) আবরার নাদিম=অর্থ =ন্যায়বান সঙ্গী
86) আবরার নাসির=অর্থ =ন্যায়বান সাহায্যকারী
87) আবরার রইস=অর্থ =ন্যায়বান ভদ্রব্যক্তি
88) আবরার শাহরিয়ার=অর্থ =ন্যায়বান রাজা
89) আবরার শাকিল=অর্থ =ন্যায়বান সুপুরুষ
90) আবরার তাজওয়ার=অর্থ =ন্যায়বান রাজা
91) আবরার ওয়াদুদ=অর্থ =ন্যায়পরায়ন বন্ধু
92) আবরার ইয়াসির=অর্থ =ন্যায়বান ধনী
93) আবসার=অর্থ =দৃষ্টি
94) আবতাহী=অর্থ =নবী-(স:)-এর উপাধি
95) আবুল হাসান=অর্থ =সুন্দরের কল্যাণ
96) আবইয়াজ আজবাব=অর্থ =সাদা পাহাড়
97) আদম=অর্থ =মাটির সৃষ্টি
98) আদেল=অর্থ =ন্যায়পরায়ন
99) আহদাম=অর্থ =একজন বুজুর্গ ব্যক্তির নাম
100) আদীব=অর্থ =ন্যায় বিচারক
101) আদিল=অর্থ =ন্যায়বান
102) আদিল আহনাফ=অর্থ =ন্যায়পরায়ন ধার্মিক
103) আফিয়া মাদেহা=অর্থ =পুণ্যবতী প্রশংসাকারিনী
104) আফতাব হুসাইন=অর্থ =সুন্দর চন্দ্র
105) আফতাবুদ্দীন=অর্থ =দ্বীনের মহান ব্যক্তিত্ব
106) আফজাল=অর্থ =অতি উত্তম
107) আফজাল আহবাব=অর্থ =দয়ালু অতি উত্তম বন্ধু
108) আহনাফ রাশিদ=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী পথ প্রদর্শক
109) আহকাম=অর্থ =অত্যন্ত শক্তিশালী
110) আহমেদ=অর্থ =প্রশংসিত
111) আহমাদ আওসাফ=অর্থ =অতি প্রশংসনীয় গুনাবলী
112) আহমাদ হুসাইন=অর্থ =সুন্দর মহত্ত্ব
113) আহমাদুল হক=অর্থ =যথার্থ প্রশংসিত
114) আহমাম আবরেশমা=অর্থ =লাল বর্নেরসিল্ক
115) আহমার=অর্থ =অধিক লাল
116) আহমার আজবাব=অর্থ =লাল পাহাড়
117) আহমার আখতার=অর্থ =লাল তারা
118) আহনাফ=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসে অতিখাঁটি
119) আহনাফ আবিদ=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী ইবাদতকারী
120) আহনাফ আবরার=অর্থ =অতিপ্রশংসনীয় ন্যায়বান
121) আহনাফ আদিল=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী ন্যায়পরায়ন
122) আহনাফ আহমাদ=অর্থ =ধার্মিক অতি প্রশংসনীয়
123) আহনাফ আকিফ=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী উপাসক
124) আহনাফ আমের=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী শাসক
125) আহনাফ আনসার=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী সাহায্যকারী
126) আহনাফ আতেফ=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী দয়ালু
127) আহনাফ হাবিব=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী বন্ধু
128) আহনাফ হামিদ=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী প্রশংসাকারী
129) আহনাফ হাসান=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী উত্তম
130) আহনাফ মনসুর=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী প্রত্যয়নকারী
131) আহনাফ মোহসেন=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী উপকারী
132) আহনাফ মোসাদ্দেক=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী প্রত্যয়নকারী
133) আহনাফ মুইয=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী সম্মানিত
134) আহনাফ মুজাহিদ=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী ধর্মযোদ্ধা
135) আহনাফ মুরশেদ=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী পথপ্রদর্শক
136) আহনাফ মুত্তাকী=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী ধর্মযোদ্ধা
137) আহনাফ শাকিল=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী সুপুরুষ
138) আহনাফ শাহরিয়ার=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী রাজা
139) আহনাফ তাজওয়ার=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী রাজা
140) আহনাফ ওয়াদুদ=অর্থ =ধর্মবিশ্বাসী বন্ধু
141) আহরার=অর্থ =আজাদী প্রাপ্তদান
142) আইনুদ্দীন=অর্থ =দ্বীনের আলো
143) আইনুল হাসান=অর্থ =সুন্দর ইঙ্গিতদাতা
144) আজফার=অর্থ =বিজয়
145) আযহার=অর্থ =অপরিস্ফুট ফুল
146) আজমাইন ইকতিদার=অর্থ =পূর্ন ক্ষমতা
147) আজমাইন আদিল=অর্থ =সম্পূর্ন ন্যায়পরায়ন
148) আজমাইন ফায়েক=অর্থ =সম্পূর্ন উত্তম
149) আজমাইন ইনকিশাফ=অর্থ =পূর্ন সূর্যগ্রহন
150) আজমাইন ইনকিয়াদ=অর্থ =পূর্ন বাধ্যতা
151) আজমাইন মাহতাব=অর্থ =পূর্ন চাঁদ
152) আজমাল=অর্থ =অতি সুন্দর
153) আজমল আফসার=অর্থ =নিখুঁত দৃষ্টি
154) আজমাল আহমাদ=অর্থ =নিখুঁত অতিপ্রশংসনীয়
155) আজমল আওসাফ=অর্থ =নিখুঁত গুনাবলী
156) আজমল ফুয়াদ=অর্থ =নিখুঁত অন্তর
157) আজরফ=অর্থ =সুচতুর
158) আজরফ আমের=অর্থ =অতিবুদ্ধিমান শাসক
159) আজওয়াদ আবরার=অর্থ =অতিউত্তম ন্যায়বান
160) আজওয়াদ আহবাব=অর্থ =অতিউত্তম বন্ধু
161) আকবার=অর্থ =অতি দানশীল
162) আকবর আওসাফ=অর্থ =মহান গুনাবলী
163) আকবর ফিদা=অর্থ =মহান উৎসর্গ
164) আখফাশ=অর্থ =এক বিজ্ঞ ব্যক্তি
165) আখলাক=অর্থ =চারিত্রিক গুনাবলী
166) আখতাব=অর্থ =বক্তৃতা দানে বিশারদ
167) আখজার আবরেশাম=অর্থ =সবুজ বর্ণের সিল্ক
168) আকমল=অর্থ =ত্রুটিহীন
169) আকরাম=অর্থ =অতিদানশীল
170) আকরাম আনওয়ার=অর্থ =অতি উজ্জ্বল গুনাবলী
171) আখতার নেহাল=অর্থ =সবুজ চার গাছ
172) আল-বা=অর্থ =দর্শনকারী
173) আলম=অর্থ =বিশ্ব
174) আলমগীর=অর্থ =বিশ্বজয়ী
175) আলাউদ্দীন =অর্থ =দ্বীনের নেতা
176) আলাউল হক=অর্থ =প্রকৃত অস্ত্র
177) আলী আফসার=অর্থ =উচ্চ দৃষ্টি
178) আলী আহমদ=অর্থ =প্রশংসিত সূর্য
179) আলি আরমান=অর্থ =উচ্চ ইচ্ছা
180) আলি আওসাফ=অর্থ =উচ্চগুনাবলী
181) আলী হাসান=অর্থ =সুন্দরের নেতা
182) আলিফ=অর্থ =আরবী অক্ষর
183) আলিম=অর্থ =বিদ্যান
184) আলীমুদ্দীন =অর্থ =দ্বীনের শৃংখলা
185) আলিউদ্দীন =অর্থ =দ্বীনের উজ্জ্বলতা
186) আলতাফ=অর্থ =দয়ালু, অনুগ্রহ
187) আলতাফ হুসাইন=অর্থ =সুন্দর সূর্য্য
188) আলতাফুর রহমান=অর্থ =দয়াময়ের বন্ধু
189) আমান=অর্থ =নিরাপদ
190) আমানাত=অর্থ =গচ্ছিত ধন
191) আমিন=অর্থ =বিশ্বস্ত
192) আ-মের=অর্থ =নির্দেশদাতা
193) আমীর আহমদ=অর্থ =প্রশংসিত বিশ্বস্ত
194) আমিন আহমদ=অর্থ =প্রশংসিত বক্তা
195) আমীনুদ্দীন=অর্থ =দ্বীনের সৌন্দর্য্য
196) আমীনুল হক=অর্থ =যথার্থ বিশ্বস্ত
197) আমীলুন ইসলাম =অর্থ =ইসলামের চাঁদ
198) আমীর=অর্থ =নেতা
199) আমির আহমদ=অর্থ =প্রশংসিত বিশ্বস্ত
200) আমীর হাসান=অর্থ =সুন্দরের বন্ধু
201) আমীরুল হক=অর্থ =প্রকৃত নেতা
202) আমিরুল ইসলাম=অর্থ =ইসলামের জ্যোতি
203) আমজাদ আবিদ=অর্থ =সম্মানিত ইবাদতকারী
204) আমজাদ আকিব=অর্থ =সম্মানিত উপাসক
205) আমজাদ আলি=অর্থ =সম্মানিত উচ্চ
206) আমজাদ আমের=অর্থ =সম্মানিত শাসক
207) আমজাদ আনিস=অর্থ =সম্মানিত বন্ধু
208) আমজাদ আরিফ=অর্থ =সম্মানিত জ্ঞানী
209) আমজাদ আসাদ=অর্থ =সম্মানিত সিংহ
210) আমজাদ আশহাব=অর্থ =সম্মানিত বীর
211) আমজাদ আজিম=অর্থ = সম্মানিত শক্তিশালী
212) আমজাদ আজিজ=অর্থ =সম্মানিত ক্ষমতাবান
213) আমজাদ বখতিয়ার=অর্থ =সম্মানিত সৌভাগ্যবান
214) আমজাদ বশীর=অর্থ =সম্মানিত সুসংবাদবহনকারী
215) আমজাদ ফুয়াদ=অর্থ =সম্মানিত অন্তর
216) আমজাদ গালিব=অর্থ =সম্মানিত বিজয়ী
217) আমজাদ হাবীব=অর্থ =সম্মানিত প্রিয় বন্ধু
218) আমজাদ হামি=অর্থ =সম্মানিত রক্ষাকারী
219) আমজাদ জলিল=অর্থ =সম্মানিত মহান
220) আমজাদ খলিল=অর্থ =সম্মানিত বন্ধু
221) আমজাদ লাবিব=অর্থ =সম্মানিত বুদ্ধিমান
222) আমজাদ লতিফ=অর্থ =সম্মানিত পবিত্র
223) আমজাদ মাহবুব=অর্থ =সম্মানিত বন্ধু
224) আমজাদ মোসাদ্দেক=অর্থ =সম্মানিত প্রত্যয়নকারী
225) আমজাদ মুনিফ=অর্থ = সম্মানিত বিখ্যাত
226) আমজাদ নাদিম=অর্থ =সম্মানিত সঙ্গী
227) আমজাদ রফিক=অর্থ =সম্মানিত বন্ধু
228) আমজাদ রইস=অর্থ =সম্মানিত ভদ্র ব্যাক্তি
229) আমজাদ সাদিক=অর্থ =সম্মানিত সত্যবান
230) আমজাদ শাকিল=অর্থ =সম্মানিত সুপুরুষ
231) আমজাদ=অর্থ =সম্মানিত
232) আমজাদ হুসাইন=অর্থ =সুন্দর সত্যবাদী
233) আনাস=অর্থ =অনুরাগ
234) আনিস=অর্থ =আনন্দিত
235) আনীসুল হক=অর্থ =প্রকৃত মহব্বত
236) আনিসুর রহমান=অর্থ =দয়াময়ের বন্ধু
237) আনসার=অর্থ =সাহায্যকারী
239) আনওয়ার=অর্থ =জ্যোতির্মালা
240) আনোয়ার হুসাইন=অর্থ = সুন্দর দয়ালু
241) আনোয়ারুল হক=অর্থ =প্রকৃত আলো
242) আকিব=অর্থ =সবশেষে আগমনকারী
243) আকীল=অর্থ =বিচক্ষন,জ্ঞানী
244) আদিল আখতাব=অর্থ =বিচক্ষন বক্তা
245) আকমার আবসার=অর্থ =অতিউজ্জ্বল দৃষ্টি
246) আকমার আহমার=অর্থ =অতিউজ্জ্বল লাল
247) আকমার আজমাল=অর্থ =অতিউজ্জ্বল অতিসুন্দর
248) আকমার আকতাব=অর্থ =যোগ্য নেতা
249) আকমার আমের=অর্থ =অতিদানশীল শাসক
250) আকমার আনজুম=অর্থ =অতিউজ্জ্বল তারকা
251) আরাবী=অর্থ =রাসূল (স.)-এর উপাধি
252) আরাফ=অর্থ =চেনার স্থান
253) আরহাম আহবাব=অর্থ =সবচাইতে সংবেদনশীল বন্ধু
254) আরহাম আখইয়ার=অর্থ =সবচেয়ে সংবেদনশীল চমৎকারমানুষ
255) আরিফ আবসার=অর্থ =পবিত্র দৃষ্টি
256) আরিফ আজমল=অর্থ =পবিত্র অতি সুন্দর
257) আরিফ আকরাম=অর্থ =জ্ঞানী অতিদানশীল
258) আরিফ আখতার=অর্থ =পবিত্র তারকা
259) আরিফ আলমাস=অর্থ =পবিত্র হীরা
260) আরিফ আমের=অর্থ =জ্ঞানী শাসক
261) আরিফ আনজুম=অর্থ =পবিত্র তারকা
262) আরিফ আনওয়ার=অর্থ =পবিত্র জ্যোতিমালা
263) আরিফ আকতাব=অর্থ =জ্ঞানী নেতা
264) আরিফ আরমান=অর্থ =পবিত্র ইচ্ছা
265) আরিফ আশহাব=অর্থ =জ্ঞানী বীর
266) আরিফ আসমার=অর্থ =পবিত্র ফলমুল
267) আরিফ আওসাফ=অর্থ =পবিত্র গুনাবলী
268) আরিফ বখতিয়ার =অর্থ =পবিত্র সৌভাগ্যবান
269) আরিফ ফয়সাল=অর্থ =পবিত্র বিচারক
270) আরিফ ফুয়াদ=অর্থ =জ্ঞানী অন্তর
271) আরিফ গওহর=অর্থ =পবিত্র গুনাবলী
272) আরিফ হামিম=অর্থ =জ্ঞানী বন্ধু
273) আরিফ হানিফ=অর্থ =জ্ঞানী ধার্মিক
274) আরিফ হাসনাত=অর্থ =পবিত্র গুনাবলী
275) আরিফ জামাল=অর্থ =পবিত্র ইচ্ছা
276) আরিফ জাওয়াদ=অর্থ =পবিত্র দানশীল
277) আরিফ মাহির=অর্থ =জ্ঞানী দক্ষ
278) আরিফ মনসুর=অর্থ =জ্ঞানী বিজয়ী
279) আরিফ মোসলেহ=অর্থ = জ্ঞানী সংস্কারক
280) আরিফ মুইয=অর্থ =জ্ঞানী সম্মানিত
281) আরিফ নেসার=অর্থ =পবিত্র উৎসর্গ
282) আরিফ রায়হান=অর্থ =পবিত্র সুগন্ধীফুল
283) আরিফ রমিজ=অর্থ =পবিত্র প্রতিক
284) আরিফ সাদিক=অর্থ =জ্ঞানী সত্যবাদী
285) জ্ঞানী সুপুরুষ=অর্থ =জ্ঞানী সুপুরুষ
286) আরিফ সালেহ=অর্থ =জ্ঞানী চরিত্রবান
287) আরিফ শাহরিয়ার=অর্থ =জ্ঞানী রাজা
288) আরিফ জুহায়ের=অর্থ =অতি পবিত্র উজ্জ্বল
289) আরিক=অর্থ =অধিক উজ্জ্বল
290) আরমান=অর্থ =সুদর্শন প্রেমিক
291) আরকাম=অর্থ =অধিক লেখক
292) আরশাদ=অর্থ =সৎপথের অনুসারী
293) আরশাদ আলমাস=অর্থ =অতি স্বচ্ছ হীরা
294) আরশাদ আওসাফ=অর্থ =সবচাইতে সৎগুনাবলী
295) এরশাদুল হক=অর্থ =প্রকৃত পথপ্রদর্শক
296) আস-আদ=অর্থ =অতি সৌভাগ্যবান
297) আসাদুল হক=অর্থ =প্রকৃত সিংহ
298) আসার=অর্থ =চিহ্ন
299) আসীর আবরার=অর্থ =সম্মানিত ন্যায়বান
300) আসীর আহবার=অর্থ =সম্মানিত বন্ধু
301) আসীর আজমল=অর্থ =সম্মানিত নিখুঁত
302) আসীর আওসাফ=অর্থ =সম্মানিত গুনাবলী
303) আসীর ফয়সাল=অর্থ =সম্মানিত বিচারক
304) আসীর হামিদ=অর্থ =সম্মানিত বন্ধু
305) আসীর ইনতিসার=অর্থ =সম্মানিত বিজয়
306) আসীর মনসুর=অর্থ =সম্মানিত বিজয়ী
307) আসীর মোসাদ্দেক=অর্থ =সম্মানিত
308) আসীর মুজতবা=অর্থ =সম্মানিত মনোনীত
309) আসেফ আমের=অর্থ =যোগ্য শাসক
310) আশেকুর রহমান=অর্থ =দয়াময়ের পাগল
311) আশফাক আহবাব=অর্থ =অধিক স্নেহশীল বন্ধু
312) আসগর=অর্থ =ক্ষুদ্রতম
313) আশহাব আওসাফ=অর্থ =বীর গুনাবলী
315) আশিক=অর্থ =প্রেমিক
316) আসীম=অর্থ =রক্ষাকারী
317) আসিল=অর্থ =উত্তম
318) আসীরুল হক=অর্থ =প্রকৃত বন্দী
319) আসলাম=অর্থ =নিরাপদ
320) আসলাম আনজুম=অর্থ =নিরাপদ তারকা
321) আসলাম জলীল=অর্থ =নিরাপদ আশ্রয়স্থান
322 রহস্যাবলী=অর্থ =রহস্যাবলী
323) আতয়াব=অর্থ =সুবাস
324) আতাউর রহমান=অর্থ =দয়াময়ের সাহায্য
325) আতেফ আবরার=অর্থ =দয়ালু ন্যয়বান
326 দয়ালু দৃষ্টি=অর্থ =দয়ালু দৃষ্টি
327) আতেফ আহবাব=অর্থ =দয়ালু বন্ধু
328) আতেফ আহমাদ=অর্থ =দয়ালু অতি প্রশংসনীয়
329) আতেফ আকবার=অর্থ =দয়ালু মহান
330) আতেফ আকরাম=অর্থ =দয়ালু অতিদানশীল
331) আতেফ আমের=অর্থ =দয়ালু শাসক
332) আতেফ আনিস=অর্থ =দয়ালু বন্ধু
333) আতেফ আরহাম=অর্থ =দয়ালু সংবেদনশীল
334) আতেফ আরমান=অর্থ =দয়ালু ইচ্ছা
335) আতেফ আসাদ=অর্থ =দয়ালু সিংহ
336) আতেফ আশহাব=অর্থ =দয়ালু বীর
337) আতেফ আজিজ=অর্থ =দয়ালু ক্ষমতাবান
338) আতেফ বখতিয়ার=অর্থ =দয়ালু সৌভাগ্যবান
339) আতাহার=অর্থ =অতি পবিত্র
340) আতহার আনওয়ার=অর্থ =অতি পবিত্র জ্যোতির্মালা
341) আতহার আশহাব =অর্থ =অতি প্রশংসনীয় বীর
342) আতহার ফিদা=অর্থ =অতি পবিত্র জ্যোতির্মালা
343) আতহার ইহসাস=অর্থ =অতি পবিত্র অনুভূতি
344) আতহার ইশরাক=অর্থ =অতি পবিত্র সকাল
345) আতহার ইশতিয়াক=অর্থ =অতি পবিত্র ইচ্ছ
346) আতহার জামাল=অর্থ =অতি পবিত্র সৌন্দর্য
347) আতহার মাসুম=অর্থ =অতি পবিত্র নিষ্পাপ
348) আতহার মেসবাহ=অর্থ =অতি পবিত্র প্রদীপ
349) আতহার মুবারক=অর্থ =অতি পবিত্র শুভ
350) আতহার নূর=অর্থ =অতি পবিত্র আলো
351) আতহার শাহাদ=অর্থ =অতি পবিত্র মধু
352) আতহার শিহাব=অর্থ =অতি পবিত্র আলো
353) আতহার সিপার=অর্থ =অতি পবিত্র বর্ম
354) আতিক=অর্থ =যোগ্য ব্যাক্তি
355) আতিক সাদিক=অর্থ =সম্মানিত সত্যবান
356) আতিক আবরার=অর্থ =সম্মানিত ন্যায়বান
357) আতিক আদিল=অর্থ =সম্মানিত ন্যায়পরায়ণ
358) আতিক আহমাদ=অর্থ =সম্মানিত অতি প্রশংসনীয়
359) আতিক আহনাফ=অর্থ =সম্মানিত খাঁটি ধার্মিক
360) আতিক আহরাম=অর্থ = সম্মানিত স্বাধীন
361) আতিক আকবর=অর্থ =সম্মানিত মহান
362) আতিক আমের=অর্থ =সম্মানিত শাসক
363) আতিক আনসার=অর্থ =সম্মানিত সাহায্যকারী
364) আতিক আসেফ=অর্থ =সম্মানিত যোগ্যব্যক্তি
365) আতিক আশহাব=অর্থ =সম্মানিত বীর
366) আতিক আশহাব=অর্থ =সম্মানিত শক্তিশালী
367) আতিক বখতিয়ার=অর্থ =সম্মানিত সৌভাগ্যবান
368) আতিক ফয়সাল=অর্থ =সম্মানিত বিচারক
369) আতিক ইশরাক=অর্থ =সম্মানিত প্রভাত
370) আতিক জামাল=অর্থ =সম্মানিত সৌন্দর্য্য
371) আতিক জাওয়াদ=অর্থ =সম্মানিত দানশীল
372) আতিক মাহবুব=অর্থ =সম্মানিত প্রিয় বন্ধু
373) আতিক মনসুর=অর্থ =সম্মানিত বিজয়ী
374) আতিক মাসুদ=অর্থ =সম্মানিত সৌভাগ্যবান
375) আতিক মোসাদ্দেক=অর্থ =সম্মানিত প্রত্যয়নকারী
376) আতিক মুহিব=অর্থ =সম্মানিত প্রেমিক
377) আতিক মুজাহিদ=অর্থ =সম্মানিত ধর্মযোদ্ধা
378) আতিক মুরশেদ=অর্থ =সম্মানিত পথ প্রদর্শক
379) আতিক শাকিল=অর্থ =সম্মানিত সুপুরুষ
380) আতিক শাহরিয়ার=অর্থ =সম্মানিত রাজা
381) আতিক তাজওয়ার=অর্থ =সম্মানিত রাজা
382) আতিক ওয়াদুদ=অর্থ =সম্মানিত বন্ধু
383) আতিক ইয়াসির=অর্থ =সম্মানিত ধনবান
384) চাল-চলন=অর্থ =চাল-চলন
385) আওলা=অর্থ =ঘনিষ্ঠতর
386) আউলিয়া=অর্থ =আল্লাহর বন্ধু
387) আউয়াল=অর্থ =প্রথম
388) আয়মান=অর্থ =অত্যন্ত শুভ
389) আয়মান আওসাফ=অর্থ =নির্ভীক গুনাবলী
390) আইউব=অর্থ =একজন নবীর নাম
391) আজম=অর্থ =শ্রেষ্ঠতম
392) আযহার=অর্থ =সুস্পষ্ট
393) আজীমুদ্দীন=অর্থ =দ্বীনের মুকুট
394) আজিজ=অর্থ =ক্ষমতাবান
395) আজীজ আহমদ=অর্থ =প্রশংসিত নেতা
396) আজিজুল হক=অর্থ =প্রকৃত প্রিয় পাত্র
397) আজীজুল ইসলাম=অর্থ =ইসলামের কল্যাণ
398) আজিজুর রহমান =অর্থ = দয়াময়ের উদ্দেশ্য
399) আব্দুল আযীয =অর্থ =পরাক্রমশালীর বান্দা
400) আব্দুল কারীম =অর্থ =সম্মানিতের বান্দা
401) আব্দুর রহীম =অর্থ =-করুণাময়ের বান্দা
402) আব্দুল আহাদ=অর্থ =এক সত্তার বান্দা
403) আব্দুস সামাদ=অর্থ =পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্বের অধিকারীর বান্দা
404) আব্দুল ওয়াহেদ=অর্থ =একক সত্তার বান্দা
405) আব্দুল কাইয়্যুম =অর্থ =অবিনশ্বরের বান্দা
406) আব্দুস সামী=অর্থ =সর্বশ্রোতার বান্দা
407) আব্দুল হাইয়্য =অর্থ =চিরঞ্জীবের বান্দা
408) আব্দুল খালেক =অর্থ =সৃষ্টিকর্তার বান্দা
409) আব্দুল বারী =অর্থ =স্রষ্টার বান্দা
410) আব্দুল মাজীদ =অর্থ =মহিমান্বিত সত্তার বান্দা
411) আইদ=অর্থ =কল্যাণ
412) আমির=অর্থ =বিশ্বাসী
413) আরিব=অর্থ =বন্ধু
414) আরফান=অর্থ = দয়ালু
415) আরমান =অর্থ =পুরুষ সেনা
416) আজহার=অর্থ = সর্বোত্তম
417) আমিম=অর্থ = ব্যাপক / পরিচিত
418) আন্দালিব=অর্থ = বুলবুল
419) আলওয়ান=অর্থ = উন্নত
420) আওয়াদ=অর্থ = ভাগ্য
421) আব্দুল ইলাহ=অর্থ = উপাস্যের বান্দা
সুন্দর নামের ফজিলত
ইসলামিক সুন্দর নাম
শিশুর জন্মের পর তার জন্য একটি সুন্দর ইসলামী নাম রাখা প্রত্যেক মুসলিম পিতা- মাতার কর্তব্য। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মুসলিমদের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলিমদের মাঝেও ইসলামী সংস্কৃতি ও মুসলিম ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে শিশুর নাম নির্বাচন করার আগ্রহ দেখা যায়। এজন্য তাঁরা নবজাতকের নাম নির্বাচনে পরিচিত আলেম-ওলামাদের শরণাপন্ন হন। তবে সত্যি কথা বলতে কী এ বিষয়ে আমাদের পড়াশুনা একেবারে অপ্রতুল। তাই ইসলামী নাম রাখার আগ্রহ থাকার পরও অজ্ঞতাবশত আমরা এমনসব নাম নির্বাচন করে ফেলি যেগুলো আদৌ ইসলামী নামের আওতাভুক্ত নয়। শব্দটি আরবী অথবা কুরআনের শব্দ হলেই নামটি ইসলামী হবে তাতো নয়। কুরআনে তো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কাফেরদের নাম উল্লেখ আছে। ইবলিস, ফেরাউন,হামান, কারুন, আবু লাহাব ইত্যাদি নাম তো কুরআনে উল্লেখ আছে; তাই বলে কী এসব নামে নাম বা উপনাম রাখা সমীচীন হবে!?
ইসলামী নামকরণ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম তাঁকে বিভিন্ন জিনেসের নাম শিক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর সে সকল জিনিসকে ফেরেশ্তাগণের সম্মুখে পেশ করে তাদেরকে সেগুলোর নাম বলার জন্য বলেছিলেন। এসম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-
ﻭَﻋَﻠَّﻢَ ﺀَﺍﺩَﻡَ ﭐﻟْﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀَ ﻛُﻠَّﻬَﺎ ﺛُﻢَّ ﻋَﺮَﺿَﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟْﻤَﻠَٰٓﺌِﻜَﺔِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﻧۢﺒِـُٔﻮﻧِﻰ ﺑِﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀِ ﻫَٰٓﺆُﻟَﺎٓﺀِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺻَٰﺪِﻗِﻴﻦَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ۟ ﺳُﺒْﺤَٰﻨَﻚَ ﻟَﺎ ﻋِﻠْﻢَ ﻟَﻨَﺎٓ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﻋَﻠَّﻤْﺘَﻨَﺎٓ ۖ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ ﭐﻟْﺤَﻜِﻴﻢُ আর তিনি আদমকে নামসমূহ সব শিক্ষা দিলেন তারপর তা মালাইকাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। সুতরাং বললেন, ‘তোমরা আমাকে এগুলোর নাম জানাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’। তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র মহান। আপনি আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন, তা ছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’। (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ৩১-৩২)
আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন নবী- রাসুলকে তাদের আসল নাম কিংবা গুণবাচক নাম বলে ডাক দিয়েছেন। যেমন ইয়া আদামু, ইয়া মুসা, ইয়া যাকরিয়া, ইয়া ইব্রাহীম, ইয়া ঈসা ইবনু মারইয়ামা, ইয়া মুদদাসসিরু, ইয়া মুযযাম্মিলু, ইত্যাদি। পবিত্র কুরআনের যে আয়াতটি সর্বপ্রথম নাযিল করা হয়েছে, সেখানেরও আল্লাহ পাক নামের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বলা হয়েছ- ﭐﻗْﺮَﺃْ ﺑِﭑﺳْﻢِ ﺭَﺑِّﻚَ ﭐﻟَّﺬِﻯ ﺧَﻠَﻖَ পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আলাক্ব,আয়াতঃ ১)
অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় মানুষের নামকরণেরও গুরুত্ব কম নয়। নামকরণের মূল উদ্দেশ্য যদি কেবলমাত্র শনাক্তকরণই হতো, তাহলে সন্তান ভূমিষ্ট হবার পর পিতামাতা হয়তো সন্তানকে চিহ্নিত বা শনাক্তকরণের জন্য ১,২,৩ বা অন্য কোন সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতেন এবং সে অংক সংখ্যা বা চিহ্ন দিয়েই সন্তানকে ডাকতেন, আর সন্তানের ভাল নামকরণের জন্যে পিতামাতা পেরশানী ভোগ করতেন না। কিন্তু দেখা যায়, সন্তান ভূমিষ্ট হবার পরই তার নামকরণের জন্য একটি ভাল নাম খুজতে থাকেন। ইসলামী ভাবধারা সম্ভলিত নামকরণ যেমন ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অন্যদিকে নামকরণের দ্বারা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তা, চেতনা ও মানসিকতারও উন্নতি ঘটে। কাজেই সন্তানের নামকরণ যেমন উত্তম হতে হবে, তেমনি তা হতে হবে ইসলামী ভাবধারায় পরিপূর্ণ,যাতে নামের দ্বারাই বুঝা যায় যে, লোকটি মুসলনাম। উপরোক্ত কুরআন ও হাদীসের আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষের পরিচয়, শনাক্তকরণ ছাড়াও ইহকাল ও পরকালে নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুন্দর নাম রাখা জন্মের পরপরই পিতামাতার ওপর করর্তব্য হলো নবজাতক শিশুর শ্রুতিমকধুর, অর্থবোধক ও ইওসলাসম্মত নাম রাখা। শিশুর নামকরণের একটি গুরুত্ব রয়েছে। এতে শিশুর পরিচয়, বংশ পরিচয়,জাতীয়তা নির্ণীত হয়। কেননা কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে তার নাম ধরে ডাকা হবে। পৃথিবীর সব সমাজেই এ প্রথা প্রচলিত। ইসলামে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনস্বীকার্য। এনামের প্রভাবে শিশুর পরবর্তী জীবনে স্বভাব-চরিত্রে শুচি-শুভ্রতা ফুটে ওঠে। পরিচয়ের জন্য নামকরণ শিশুর জন্মগত অধিকার। এতে শিশুর অনেকগুলো মৌলিক ও সমাজিক অধিকার প্রতিষ্টিত হয়। আল কুরআন ও হাদীসে এজন্য শিশুর নামকরণের অতিব গুরুত্বের সাথে বিধৃত হয়েছে।নিম্নোক্ত আয়াতটি এ ব্যাপ্যারে প্রনিধানযোগ্য। ﻳﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟﻨَّﺎﺱُ ﺇِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَٰﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺫَﻛَﺮٍ ﻭَﺃُﻧﺜَﻰٰ ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَٰﻜُﻢْ ﺷُﻌُﻮﺑًﺎ ﻭَﻗَﺒَﺎٓﺋِﻞَ ﻟِﺘَﻌَﺎﺭَﻓُﻮٓﺍ۟ ۚ ﺇِﻥَّ ﺃَﻛْﺮَﻣَﻜُﻢْ ﻋِﻨﺪَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺗْﻘَﻯٰﻜُﻢْ ۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻋَﻠِﻴﻢٌ ﺧَﺒِﻴﺮٌ হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (সূরা হুজরাত, আয়াতঃ ১৩)
ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻠْﻤِﺰُﻭٓﺍ۟ ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻨَﺎﺑَﺰُﻭﺍ۟ ﺑِﭑﻟْﺄَﻟْﻘَٰﺐِ ۖ ﺑِﺌْﺲَ ﭐﻟِﭑﺳْﻢُ ﭐﻟْﻔُﺴُﻮﻕُ ﺑَﻌْﺪَ ﭐﻟْﺈِﻳﻤَٰﻦِ ۚ ﻭَﻣَﻦ ﻟَّﻢْ ﻳَﺘُﺐْ ﻓَﺄُﻭ۟ﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤُﻮﻥَ একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতইনা নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো যালিম। (সূরা হুজরাত,আয়াতঃ ১১)
নাম রাখার ক্ষেত্রে নামের অর্থ,প্রয়োজন, বিধি ও ঐতিহাসিক পেক্ষাপট স্বরণ রাখা একান্ত প্রয়োজন। অসাবধানতা ও অজ্ঞতাবশত কোন অর্থহীন বা বিদ্ঘুটে নাম রেখে ফেললে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখা অবশ্য কর্তব্য।আর এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সময় কারো নাম খারাপ পেলে তার নাম সাথে সাথে পরিবর্তন করে দিতেন। এ প্রসঙ্গে এক বর্ণনায় এসেছে- ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ، ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﻳُﻐَﻴِّﺮُ ﺍﻻِﺳْﻢَ ﺍﻟْﻘَﺒِﻴﺢَ . আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকৃষ্ট নামসমূহ পরিবর্তন করে (ভালো নাম রেখে) দিতেন। (তিরমিযি, হাদিস নং-২৮৩৯)
সুন্দর নামের সৌন্দর্য ও তাৎপর্য অপরিসীম একটি সুন্দর নাম আল্লাহর নেয়ামত। কাল কেয়ামতে কঠিন মসিবতের সময় যখন কোন সাহায্যকারী থাকবেনা, তখন হয়ত বা একটি সুন্দর ও ভাল নামের ওসিলায় আমরা নাজাত পেতে পারি। শেষ বিচারের দিন যখন বান্দার বাম ও ডানের পাল্লা সমান হবে তখন আল্লাহ তার সুন্দর নামের ওসিলায় তার ডান পাল্লা ভারি করে দিতে পারেন। তাই সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো তাদের সুন্দর ও ইসলাম সম্মত নাম রাখা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরীফে এরশাদ করেছেন- ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ ﺗَﺴَﻤَّﻮْﺍ ﺑِﺎﺳْﻤِﻲ ﻭَﻻَ ﺗَﻜْﺘَﻨُﻮﺍ ﺑِﻜُﻨْﻴَﺘِﻲ، ﻭَﻣَﻦْ ﺭَﺁﻧِﻲ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﻨَﺎﻡِ ﻓَﻘَﺪْ ﺭَﺁﻧِﻲ، ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻻَ ﻳَﺘَﻤَﺜَّﻞُ ﻓِﻲ ﺻُﻮﺭَﺗِﻲ، ﻭَﻣَﻦْ ﻛَﺬَﺏَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻣُﺘَﻌَﻤِّﺪًﺍ ﻓَﻠْﻴَﺘَﺒَﻮَّﺃْ ﻣَﻘْﻌَﺪَﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আমার নামে তোমরা নাম রেখ; কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াতে) তোমরা উপনামে রেখ না। আর যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে ঠিক আমাকেই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতির ন্যায় রুপ ধারণ করতে পারে না। যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। (বুখারী, হাদিস নং-১১১)
ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ، ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﻳُﻐَﻴِّﺮُ ﺍﻻِﺳْﻢَ ﺍﻟْﻘَﺒِﻴﺢَ . আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকৃষ্ট নামসমূহ পরিবর্তন করে (ভালো নাম রেখে) দিতেন। (তিরমিযি, হাদিস নং-২৮৩৯)
সন্তানের সুন্দর নাম রাখা,তাদের আদব কায়দা শিক্ষা দেওয়া পিতা-মাতার ওপর একটা বড় দায়িত্ব। বাবা মা তাদের সন্তানকে উত্তম আদব কায়দা শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে ভালো কিছু দিতে পারেনা। আজকাল আমাদের মুসলিম সমাজের সন্তানদের নামকরণের আমরা অত্যন্ত উদাসীন ও স্বেচ্ছাচারীতার পরিচয় দিয়ে থাকি। আমাদের সন্তানদের নাম শুনে মনে হয় না যে সে হিন্দু না মুসলমান, ছেলে না মেয়ে, ইনসাম না অন্য কোন জাত, এমনকি আল্লাহ শব্দেরও প্রতিশব্দ বের করে ফেলেছি। আমরা আল্লাহকে খোদা বলে ডাকি। আল্লাহ নামের প্রতিশব্দ খোদা নয়। পৃথিবীর কোন ভাষার কোন শব্দই এ অদ্বিতীয় শব্দের প্রতিশব্দ হওয়ার স্পর্ধা রাখে না। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের কোথাও আল্লাহ শব্দের কোন প্রতিশব্দ নেই। মহান আল্লাহ যেমন লাসানী অদ্বিতীয়, তার জাত পাক এ মহামহিমান্বিত নামও তেমনি অদ্বিয়ীয়,অনুপম।
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻥَّ ﻟِﻠَّﻪِ ﺗِﺴْﻌَﺔً ﻭَﺗِﺴْﻌِﻴﻦَ ﺍﺳْﻤًﺎ ﻣَﻦْ ﺃَﺣْﺼَﺎﻫَﺎ ﺩَﺧَﻞَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ
আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিরানব্বই নাম রয়েছে। যে লোক তা কণ্ঠস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সুনান তিরমিযি,হাদিস নং-৩৫০৮)
ﻭَﻟِﻠَّﻪِ ﭐﻟْﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀُ ﭐﻟْﺤُﺴْﻨَﻰٰ ﻓَﭑﺩْﻋُﻮﻩُ ﺑِﻬَﺎ ۖ ﻭَﺫَﺭُﻭﺍ۟ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﻠْﺤِﺪُﻭﻥَ ﻓِﻰٓ ﺃَﺳْﻤَٰٓﺌِﻪِۦ ۚ ﺳَﻴُﺠْﺰَﻭْﻥَ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ۟ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। (সূরা আরাফ,আয়াতঃ১৮০)
ﻗُﻞِ ﭐﺩْﻋُﻮﺍ۟ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺃَﻭِ ﭐﺩْﻋُﻮﺍ۟ ﭐﻟﺮَّﺣْﻤَٰﻦَ ۖ ﺃَﻳًّﺎ ﻣَّﺎ ﺗَﺪْﻋُﻮﺍ۟ ﻓَﻠَﻪُ ﭐﻟْﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀُ ﭐﻟْﺤُﺴْﻨَﻰٰ ۚ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺠْﻬَﺮْ ﺑِﺼَﻠَﺎﺗِﻚَ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺨَﺎﻓِﺖْ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﭐﺑْﺘَﻎِ ﺑَﻴْﻦَ ﺫَٰﻟِﻚَ ﺳَﺒِﻴﻠًﺎ বল, ‘তোমরা (তোমাদের রবকে) ‘আল্লাহ’ নামে ডাক অথবা ‘রাহমান’ নামে ডাক, যে নামেই তোমরা ডাক না কেন, তাঁর জন্যই তো রয়েছে সুন্দর নামসমূহ। তুমি তোমার সালাতে স্বর উঁচু করো না এবং তাতে মৃদুও করো না; বরং এর মাঝামাঝি পথ অবলম্বন কর। (সূরা আল ইসরা,আয়াতঃ১১০)
ﭐﺩْﻋُﻮﻫُﻢْ ﻷِﺀَﺍﺑَﺎٓﺋِﻬِﻢْ ﻫُﻮَ ﺃَﻗْﺴَﻂُ ﻋِﻨﺪَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻓَﺈِﻥ ﻟَّﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮٓﺍ۟ ﺀَﺍﺑَﺎٓﺀَﻫُﻢْ ﻓَﺈِﺧْﻮَٰﻧُﻜُﻢْ ﻓِﻰ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ ﻭَﻣَﻮَٰﻟِﻴﻜُﻢْ ۚ ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺟُﻨَﺎﺡٌ ﻓِﻴﻤَﺎٓ ﺃَﺧْﻄَﺄْﺗُﻢ ﺑِﻪِۦ ﻭَﻟَٰﻜِﻦ ﻣَّﺎ ﺗَﻌَﻤَّﺪَﺕْ ﻗُﻠُﻮﺑُﻜُﻢْ ۚ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭًﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤًﺎ তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাক; আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ইনসাফপূর্ণ। অতঃপর যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তাহলে তারা তোমাদের দীনি ভাই এবং তোমাদের বন্ধু। আর এ বিষয়ে তোমরা কোন ভুল করলে তোমাদের কোন পাপ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকলে (পাপ হবে)। আর আল্লাহ অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব,আয়াতঃ ৫)
নাম পরিবর্তন করে পূর্বের নামের চেয়ে সুন্দর নাম রাখা
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﺃَﻥَّ ﺯَﻳْﻨَﺐَ، ﻛَﺎﻥَ ﺍﺳْﻤُﻬَﺎ ﺑَﺮَّﺓَ، ﻓَﻘِﻴﻞَ ﺗُﺰَﻛِّﻲ ﻧَﻔْﺴَﻬَﺎ . ﻓَﺴَﻤَّﺎﻫَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺯَﻳْﻨَﺐَ আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্নিত যে যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) এর নাম ছিলো ‘বাররাহ’ (নেককার)। তখন কেউ বললেন এতে তিনি নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম রাখলেন
সুন্দর নামের গুরুত্ব
শিশুর সুন্দর নামের গুরুত্ব
নবজাতক শিশুর জন্য পিতামাতার একটি বিশেষ দায়িত্ব হলো জন্মের সপ্তম দিবসে তার জন্য শ্রুতিমধুর ও সুন্দর অর্থবহ নাম রাখা। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মুসলিমদের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলিমদের মাঝেও ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে শিশুর নাম নির্বাচন করার আগ্রহ দেখা যায়। ইসলামী নাম রাখার আগ্রহ থাকার পরও অজ্ঞতাবশত আমরা এমনসব নাম নির্বাচন করে ফেলি যেগুলো আদৌ ইসলামী নামের আওতাভুক্ত নয়। শিশুর নামকরণ ও নামের প্রভাব জাগো নিউজে তুলে ধরা হলো-
কে নাম রাখবেন-
শিশুর জন্মের পর নাম রাখা নিয়ে আত্মীয়- স্বজনদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা দেখা যায়। দাদা-নানা, বাবা-মা, দাদি-নানি, ফুফা-ফুফু, খালা-খালুসহ সবাই অভিন্ন নাম রাখে এবং ডাকে। এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো- আনন্দঘন পরিবেশে সবার সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে সুন্দর অর্থবহ নাম রাখাই উত্তম। যদি এ ক্ষেত্রে ঐকমত্যে পৌঁছার সম্ভাবনা না থাকে সেক্ষেত্রে শিশুর পিতাই নাম রাখার অগ্রাধিকার পাবে। আল্লাহ বলেন, ﺍﺩْﻋُﻮﻫُﻢْ ﻟِﺂﺑَﺎﺋِﻬِﻢْ ﻫُﻮَ ﺃَﻗْﺴَﻂُ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। (সূরা আহযাব : আয়াত ৫) আল্লাহ তাআলা হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সব কিছুর নাম শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে তিনি আল্লাহর শিখানো জ্ঞানে সবকিছুর নাম বলে দিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন। সুতরাং এ থেকে বুঝা যায় নাম রাখা বা নাম জানার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর সুন্দর নাম রাখার গুরুত্ব
এক জন শিশু জন্মগ্রহণ করার পর তার নাম রাখতে হয়। সে সময় তার যে নাম রাখা হয় সবাই তাকে সেই নামেই ডাকে। দুধ পানরত অবস্থায় তাকে ডাকলেও সে বুঝতে পারে, তাকে ডাকছে। তাই কেউ ডাকলে তার দিকে তাকায়। আর বড় হবার পর এ নামেই সে পরিচিতি লাভ করে। হজরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের নামে এবং তোমাদের পিতাদের নামে, তাই তোমাদের নামগুলি সুন্দর রাখো। (আবু দাউদ) সুতরাং শিশুর সুন্দর, অর্থবোধক, মার্জিত, ইসলামী ভাবধারায় উজ্জীবিত, সুন্দর নাম রাখা কর্তব্য। যা পরবর্তীতে শিশুর জীবনে প্রভাব পড়ে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর সামনে কোনো লোক আসলে তিনি তার নাম জিজ্ঞাসা করতেন। কারো নাম সুন্দর হলে তিনি খুশী হতেন। আর কারো নাম অসুন্দর হলে তিনি তা পরিবর্তন করে দিতেন।
নামের প্রভাব মানুষের জীবনে নামকরণের রয়েছে বিরাট প্রভাব। হাদিসে এসেছে- হজরত সাঈদ ইবন মুসাইয়্যাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর দাদা হাযন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গেলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি? তিনি বললেন আমার নাম হাযন (শক্ত)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না বরং তোমার নাম হওয়া উচিত সাহল (সহজ, সরল)। তিনি উত্তরে বলেন, আমার পিতা যে নাম রেখেছেন তা আমি পরিবর্তন করব না। সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব বলেন, এরপর আমাদের পরিবারে পরবর্তীকালে কঠিন অবস্থা ও পেরেশানি লেগে থাকত। (বুখারি, মিশকাত) তাই অর্থ জেনে নাম রাখা জরুরি।
যে নাম রাখা ঠিক নয়
০১. আল্লাহর নাম নয় এমন নামের সঙ্গে গোলাম বা আব্দ (বান্দা) যোগ করে নাম রাখা যাবে না। যেমন- আব্দুশ শামস (সূর্যের উপাসক) আব্দুল কামার (চন্দ্রের উপাসক), আব্দুল মোত্তালিব (মোত্তালিবের দাস), আব্দুল কালাম (কথার দাস) ইত্যাদি।
০২. আবার আল্লাহর গুণবাচক নামের মধ্যে ‘আব্দ’ শব্দটা থাকলেও ডাকার সময় ‘আব্দ’ শব্দটা ছাড়াই ব্যক্তিকে ডাকা হয়। যেমন আব্দুর রহমানকে ডাকা হয় রহমান বলে। আব্দুর রহিমকে ডাকা হয় রহিম বলে। এটি অনুচিত। যদি দ্বৈত শব্দের নাম ডাকা কষ্টকর মনে হয় সেক্ষেত্রে অন্য নাম নির্বাচন করাই শ্রেয়।
০৩. মানুষ যে উপাধির উপযুক্ত নয় অথবা যে নামের মধ্যে মিথ্যাচার রয়েছে এমন নামও রাখা যাবে না। যেমন- শাহেনশাহ (জগতের বাদশাহ), মালিকুল মুলক (রাজাধিরাজ), সাইয়্যেদুন নাস (মানবজাতির নেতা) ইত্যাদি।
০৪. দাম্ভিক ও অহংকারী শাসকদের নামে নাম রাখা। যেমন- ফেরাউন, হামান, কারুন, ওয়ালিদ। শয়তানের নামে নাম রাখা। যেমন- ইবলিস, ওয়ালহান, আজদা, খিনজিব, হাব্বাব ইত্যাদি।
০৫. একদল আলেম কুরআন শরীফের মধ্যে আগত অস্পষ্ট শব্দগুলোর নামে নাম রাখাকে অপছন্দ করেছেন। যেমন- ত্বাহা, ইয়াসিন, হামিম ইত্যাদি। যেভাবে নাম রাখতে হয়- আল্লাহর নামের আগে আব্দ যোগ করে আব্দুল্লাহ কারো নাম রাখা খুবই উত্তম। যেমন আব্দুর রহমান, আব্দুল করিম, আব্দুর রহিম, আব্দুল আউয়াল, আব্দুল কুদ্দুস প্রভৃতি। ডাকার সময় অবশ্যই আব্দ যোগ করেই ডাকতে হবে। অন্য কোনো শব্দ যোগেও নামকে শ্রুতিমধুর ও অর্থবহ করা যায়। যেমন-আতাউল্লহ, রুহুল্লাহ, নূরুল্লাহ, রহমতউল্লাহ, ইত্যাদি।
লক্ষ্যণীয়...
নামকরণে যে বিষয়টি জরুরি, পিতা-মাতা ভিন্ন ভিন্ন নাম না রেখে পরামর্শের ভিত্তিতে শিশুর অর্থবহ সুন্দর একটি নাম রাখাই উত্তম। আবার অনেকে খুবই দীর্ঘ নাম রাখেন, যার কারণে পরবর্তীতে নানা ধরনের সমস্যা পোহাতে হয়। যাদের নাম খুব দীর্ঘ তারা অন্য কোনো দেশে গেলে অনেক সময় পরিচিত নামটি হারিয়ে যায়। এজন্য একজন শিশুর সুন্দর, অর্থবহ, সংক্ষিপ্ত, শ্রুতিমধুর নাম হওয়া ভাল। তবে কুনিয়াত (উপনাম) রাখা যেতে পারে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেককে এ ধরনের কুনিয়াত বা উপনামে ডাকতেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের শিশুদের উত্তম নাম রাখার তাওফিক দান রুকন। এবং মন্দ ও খারাপ নামকরণ থেকে হিফাজত করুন। আমিন।
ভূমিকা
সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম হতে পারে পরকালীন মুক্তির সহায়ক
====================================== মুসলমানের ঘরে কোন সন্তান জন্ম নিলে ডান কানে আজান ও বাম কানে ইক্বামত আর মেয়ে সন্তানের ডান কানে ইক্বামত এবং বাম কানে আজান দেয়া হয়। এরপর বিসমিল্লাহ্ পড়ে মধু কিংবা মিছরির পানি খাওয়ানো হয়। সপ্তম কিংবা চতুর্দশ কিংবা একবিংশ দিবসে তার আক্বিকা করানো মাতা-পিতা সহ অভিভাবকের দায়িত্ব। সপ্তম দিবসে মাথা মুণ্ডিয়ে চুলের ওযন পরিমাণ স্বর্ণ কিংবা রূপা দান করা এবং একজন দ্বীনদার আলেম কর্তৃক একটি সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখার নিয়ম রয়েছে ইসলামী সমাজে। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন- ﺗُﺪْﻋَﻮْﻥَ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘﻴﺎﻣﺔ ﺑِﺎَﺳْﻤَﺎﺋِﻜُﻢْ ﻭَﺍَﺳْﻤَﺎﺀِ ﺍَﺑَﺎﺋِﻜُﻢْ ﻓَﺎَﺣْﺴَﻨُﻮْﺍ ﺍَﺳْﻤَﺎﺋِﻜُﻢْ - ‘‘ক্বিয়ামত দিবসে তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের নাম এবং তোমাদের পিতার নাম সহকারে। অতএব, তোমরা তোমাদের নামকে উত্তম কর। [মেশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা ৪০৮]
নাম সমূহের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার নিকট সর্বোত্তম নাম হলো আবদুল্লাহ্ এবং আবদুর রহমান। রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দেন- ﺗَﺴَﻤُّﻮْﺍ ﺑِﺎَﺳْﻤَﺎﺀِ ﺍﻻَﻧْﺒِﻴَﺎﺀِ ﻭَﺍَﺣَﺐُّ ﺍﻻَﺳْﻤَﺎﺀِ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠﻪ ﻭَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤﻦ - ‘‘তোমরা নবীগণের নামে নাম রাখ। আর আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট নাম সমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় নাম আবদুল্লাহ্ (আল্লাহর বান্দা) এবং আবদুর রহমান (রহমান তথা আল্লাহর বান্দা)।’’ [মেশকাতুল মাছাবীহ্: পৃষ্ঠা ৪০৯]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসালাম বলেন, নবীগণের নামে নাম রাখার জন্য। আর নবীগণের মধ্যে আমাদের নবী সর্বাপো শ্রেষ্ঠ। আমাদের নবীর দুটি নাম অধিক প্রিয় একটি ‘মুহাম্মদ’ ( ﻣﺤﻤﺪ ) আরেকটি ‘আহমদ’ ( ﺍﺣﻤﺪ ) এ দুটি নাম ক্বোরআনে পাকে রয়ছে- ﻣُﺒَﺸِّﺮًﺍ ﺑِﺮَﺳُﻮْﻝٍ ﻳَﺄْﺗِﻰْ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻯْ ﺍِﺳْﻤُﻪُ ﺍَﺣْﻤَﺪُ - হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম তাঁর উম্মত বনী ইসরাঈলকে বলছেন- আমি (তোমাদেরকে) এমন এক সম্মানিত রাসূলের শুভসংবাদ দাতা, যিনি আমার পর তাশরিফ আনবেন, তাঁর নাম ‘আহমদ’ (অতিপ্রশংসাকারী)। [সূরা সাফ্ফ: আয়াত- ০৬]
ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﺭَّﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻣَﻌَﻪُ ﺍَﺷِﺪَّﺍﺀُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻜُﻔَّﺎﺭِ ‘মুহাম্মদ’ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছেন, তারা কাফিরদের উপর কঠোর। [সূরা ফাতহ, আয়াত- ২৯]
কাজেই নবীজির সাথে সম্পর্কিত করে নবজাতকের নাম রাখা মুসলমানদের কর্তব্য। কেননা ‘মুহাম্মদ’ ও ‘আহমদ’ নামের বরকত, ফজিলত ও তাৎপর্য রয়েছে। হযরত কা’ব আল আহবার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বনী আদমকে সৃষ্টির সেরা বানিয়েছেন। আর বলেছেন, ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎ ﺑَﻨِﻰْ ﺍَﺩَﻡَ এবং নিশ্চয় আমি ‘‘আদম সন্তান (মানুষ জাতিকে) সম্মানিত করেছি।’’ আদম সন্তানের মর্যাদা হলো এ যে, তাকে ﻣﺤﻤﺪ (মুহাম্মদ) সাল্লাল্লাাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম নামের আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন তার গোলাকার মাথা ﻣﺤﻤﺪ শব্দের ﻡ-এর মতো, তাঁর হাত ﻣﺤﻤﺪ শব্দের ﺡ -এর মতো, তাঁর পেট ﻣﺤﻤﺪ শব্দের দ্বিতীয় ﻡ -এর মতো এবং তাঁর পা ( ﺩ) দাল বর্ণের মতো। হাদীসে পাকে এসেছে, যে কাফেরকে দোযখে নিপে করা হবে, তার ‘ইনসানী’ আকৃতি (যা নবীজির নামের আকৃতিতে) বিকৃতি করে দেয়া হবে এবং শয়তানী আকৃতিতে পরিণত করে দেয়া হবে। কেননা ইনসান (মানুষ) এর আকৃতি আমার নামের ( ﻣﺤﻤﺪ ) আকৃতিতে। আল্লাহ্ তা’আলা আমার নামের আকৃতিতে আযাব দেবেন না। আর যে বান্দা আমার নাম গ্রহণ করবে, আমার অনুগত হবে এবং আমার প্রেমিক হবে তাকে কীভাবে আল্লাহ্ তা‘আলা আযাব দিতে পারেন? [মা‘আরিজুন্নবূয়ত: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮২]
হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, বিচার দিবসে পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল সৃষ্টিকে তাদের মন্দ কাজের কারণে পাকড়াও করা হবে। দু’জন বান্দাকে আল্লাহ্ তা‘আলার সামনে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ্ তা‘আলা নির্দেশ দেবেন, আমার এ দু’বান্দাকে বেহেশতে নিয়ে যাও। তখন ওই দু’বান্দা পরম খুশি হয়ে আল্লাহর দানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নিমিত্তে মুনাজাত করবে এবং আরয করবে, আল্লাহ্ আমরা তো বেহেশতে প্রবেশ করতে পারি এমন কোন যোগ্যতা এবং অধিকার রাখি না। জান্নাতিদের মতো আমাদের কোন আমল নেই। আমাদেরকে এ ইজ্জত ও দয়া করার কারণ জানতে আগ্রহী। নির্দেশ হবে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। কেননা এটা আমার সাধারণ দয়া যে, যার নাম আমার প্রিয় নবীর নামে হবে তাকে আমি জাহান্নামে দিতে পারি না।[মা‘আরিজুন্ নুবূয়্যত: পৃষ্ঠা ৮২ ও ৮৩, খণ্ড ২য়।
হযরত আবু সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ঘরের মধ্যে আহমদ, মুহাম্মদ ও আবদুল্লাহ্, এ তিন নাম হতে কোন নামের লোক থাকেন, সে ঘরের মধ্যে দরিদ্রতা আসবে না। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে মু’মিন বান্দা আমার সাথে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার ভিত্তিতে নিজের সন্তানের নাম আমার নামে রাখে সে এবং তার সন্তান আমার সাথে বেহেশতে প্রবেশ করবে। হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কোন মু’মিন বান্দা নিজের ছেলের নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখে এবং ছেলেকে ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ (হে মুহাম্মদ) বলে ডাকে, তখন আরশের বাহক ফেরেশতারা ﻟَﺒَّﻴْﻚَ ﻳَﺎﻭَﻟِﻰَّ ﺍﻟﻠﻪِ (হে আল্লাহর ওলী বা বন্ধু আমরা হাজির আছি বলে জবাব দেন। এরপর বলেন, হে ওলী! আপনাকে শুভসংবাদ যে, আপনি আমাদের কাজের মধ্যে শরীক হয়েছেন। অর্থাৎ আমাদের মতো আল্লাহ্ তা’আলার আনুগত্য ও ইবাদত করেছেন। বিনিময় আপনাকে দেওয়া হবে এবং বিচার দিনে আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে আরশ বহনকারীদের সাওয়াব দান করবেন। [মা‘আরিজুন নুবূয়্যত: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৩]
হযরত আবদুর রহমান ইবনে আমর ইবনে জুবাবা হতে বর্ণিত, তিনি রুশদা বিনতে সা’ঈদ হতে, তিনি উম্মে কুলসুম বিনতে ওতবা হতে, তিনি স্বীয় মাতা জলিলা বিনতে আবদুল জলিল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন, তার মাতা বলেন যে, এক দিন আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম- এর পবিত্র দরবারে আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পুত্রসন্তান জন্ম নেয়ার পর শৈশবেই মারা যায়। আপনি আমাকে কী নির্দেশ দান করবেন? তিনি (নবীজি) ফরমায়েছেন এবার তোমার গর্ভধারণ হলে, তুমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবে যে, তোমার সন্তানের নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখবে। আমি আশা করি সে ছেলে দীর্ঘ হায়াত পাবে এবং বংশধরের মধ্যে বরকত হবে। তিনি (জলিলা বিনতে আবদুল জলিল) বলেন, আমি এ নিয়ত করলাম। এরপর আমার ভূমিষ্ট হওয়া ছেলে দীর্ঘায়ু হয়েছে। তার বংশধরের সংখ্যাও এমন বেড়েছে বাহরাইনের একটি জায়গায় তার চেয়ে বেশী কারও বংশধর নেই। [মা‘আরিজুন নুবূয়্যত]
উপরিউক্ত হাদীস সমূহ হতে বুঝা যায়, মুসলমানের ছেলের নাম মুহাম্মদ, আহমদ, আবদুল্লাহ্, আবদুর রহমানসহ নবীগণ, সাহাবায়ে কেরাম তাবেয়ীন, তবে তাবেয়ীন, আউলিয়া কেরামের নামে হলে অনেক বরকত ও ফজিলত পাওয়া যায়। সর্বোপরি নামের মাধ্যমে মুসলিম ও অমুসলিম পরিচিতি পাওয়া যায়। উদাহরণ স্বরূপ রাস্তা দিয়ে দু’জন ছেলে হেঁটে যাচ্ছে। একজন মুসলমানের ছেলে আরেকজন অমুসলিমের ছেলে। কিন্তু কোনটা মুসলমানের এবং কোনটা অন্য ধর্মাবলম্বীর ছেলে তা কিছুতেই বুঝা যাচ্ছে না। হিন্দুর ছেলের মুখে যেমন দাঁড়ি নেই, মুসলমানের ছেলের মুখেও দাড়ি তখনও গজায়নি। হিন্দুর মাথায় মেযন টুপি নেই, মুসলমানের ছেলের মাথায়ও তখন টুপি নেই। মুসলমানের ছেলে পাঞ্জাবী পরলে হিন্দু ছেলেও পাঞ্জাবী পরতে পারে।তাই নিরূপায় হয়ে তখন শরণাপন্ন হতে হলো নামের। নামের মাধ্যমেই তখন উভয়ের পরিচয়। সুতরাং বলা যায় ﺍﻻﺳﻢ ﻓﺮﻕ ﺑﻴﻦ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ ﻭﺍﻟﻜﻔﺮ অর্থাৎ নামই ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী। যেমনিভাবে নামায ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী। আগের যুগে মাতা-পিতারা অজ্ঞতার কারণে নিজেদের ছেলে মেয়ের ইচ্ছা মতো এমন এমন নাম রাখত, যেগুলো অর্থহীন ও অসুন্দর। যেমন কালা মিয়া, লাল মিয়া, গুরা মিয়া, নোয়া মিয়া, খুল্যা মিয়া, সোনা মিয়া ইত্যাদি।
এখানে লণীয় এ নামগুলো অসুন্দর হলেও এ নামগুলো হিন্দু-বিধর্মীদের মধ্যে পাওয়া যায় না। তবুও অর্থগত দিকে দিয়েও কোন তাৎপর্য নেই নামগুলোতে। তাছাড়া অভিভাবকরা ছেলে মেয়েদের এমন অধুনিক নাম রাখেন যেগুলোর অনেকটা বিধর্মী ও হিন্দুয়ানি নাম। মেযন: ছোটন, লিটন, লাকি, কাজল, সুজন, মন্টু, পিন্টু, হ্যাপি, সুমি, ডেজি, ডলি, পিংকি ইত্যাদি। নাম দুই ধরনের (একটি আসল আরেকটি ডাক নাম) হওয়াও উচিত নয়। প্রত্যেক মুসলমান ছেলে মেয়ের নাম হবে একটি। তা হতে পারে আল্লাহ্ তা‘আলার সিফাতী নামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত নাম। যেমন: আবদুল্লাহ্, আবদুর রহমান, আবদুর রহিম, আবদুল মালেক, আবদুল খালেক, আবদুল গফুর, আবদুস্ সালাম, আবদুর রউফ, আবদুল আওয়াল, আবদুন নূর, আবদুস্ সাত্তার, আবদুল গফ্ফার, আবদুস্ সমদ, আবদুল আহাদ। নবীজির নামের নুরুন নবী, গোলাম মোস্তফা, আবদুন্ নবী, আবদুর রসূল ইত্যাদি নামও রাখা যেতে পারে। নবী রাসূলগণের নামও রাখা যায়। মেযন: মুসা, ঈসা, ইসহাক, ইউসুফ, ইউনুস, ইদ্রিস, ইসমাঈল, ইবরাহিম, নূহ, দাউদ, ইউনুস, ইয়াকুব ইত্যাদি। অথবা সাহাবায়ে কেরামের নাম। মেযন আবু বকর, ওমর, ওসমান, আলী, আনাস ইত্যাদি। মেয়েদের নাম রাখা যায় আম্বিয়া কেরামের সহধর্মিনী ও মেয়েদের নামে মেযন- খাদিজা, আয়েশা, হাফসা, উম্মে সালমা, যয়নব, ফাতিমা, উম্মে কুলসুম, রোকেয়া, হাজেরা, হাবীবা, মরিয়ম, রহিমা ইত্যাদি।
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ —— ﻳﻐﻴﺮ ﺍﻻﺳﻢ ﺍﻟﺒﻴﺢ - ( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ) হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম খারাপ নাম পরিবর্তন করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি হাদীস ইমাম তিরমিযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেছেন। [মেশকাত, পৃৃষ্ঠা ৪০৮]
যেমন: ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺤﻤﻴﺪ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ ﺑﻦ ﺷﻴﺒﺔ ﻗﺎﻝ ﺟﻠﺴﺖ ﺍﻟﻰ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﻤﺴﻴﺐ ﻓﺤﺪﺛﻨﻰ ﺃﻥ ﺟﺪﻩ ﺣﺰﻧﺎ ﻗﺪ ﻓﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﺎ ﺍﺳﻤﻚ ﻗﺎﻝ ﺍﺳﻤﻰ ﺣﺰﻥ ﻗﺎﻝ ﺑﻞ ﺍﻧﺖ ﺳﻬﻞ ﻗﺎﻝ ﻣﺎ ﺃﻧﺎ ﺑﻤﻐﻴﺮ ﺍﺳﻤًﺎ ﺳﻤﺎﻧﻴﺔ ﺍﺑﻰ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻰ ﺍﻟﻤﺴﻴﺐ ﻓﻤﺎﺯﺍ ﻟﺴﺖ ﻓﻴﻨﺎ ﺍﻟﺤﺰﻭﻧﺔ ﺑﻌﺪ - ( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ ) হযরত আবদুল হামিদ ইবনে জুবাইর ইবনে শায়বা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি সাঈদ ইবনুল সুমাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট বসলাম। তিনি আমাকে বলেন, নিশ্চয় তার দাদা ‘হাযন’ নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম- এর নিকট শুভাগমন করলেন, তিনি (নবীজি) জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার নাম কী? তিনি উত্তর দিলেন, ‘হাযন’ (শক্ত) তিনি (নবীজি) বললেন বরং আপনি সাহল (নরম)। তিনি বললেন, আমি আমার সে নাম যা আমার বাবা রেখেছেন তা পরিবর্তন করতে পারব না। হযরত ইবনুল মুসাইব বলেন, তখন থেকে আমাদের মধ্যে (দুঃখ-কষ্টের) সখতি তথা কঠোরতা লেগে থাকে। হাদীসটি ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেন। [মেশকাতুল মসাবিহ, পৃষ্ঠা ৪০৯]
উক্ত হাদীস হতে আমরা এ শিা অর্জন করতে পারি যে, কোন ছেলে মেয়ের নাম অনৈসলামিক হলে, কিংবা খারাপ অর্থের হলে তার সে নাম পরিবর্তন করে একটি ইসলামিক ও ভালো অর্থবোধক নাম রাখতে হবে। শায়েখ আবু বকর আবু যায়েদ বলেন “ঘটনাক্রমে দেখা যায় ব্যক্তির নামের সাথে তার স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যের মিল থাকে। এটাই আল্লাহর তাআলার হেকমতের দাবি যার নামের মধ্যে গাম্ভীর্যতা আছে তার চরিত্রে গাম্ভীর্য পাওয়া যায়। খারাপ নামের অধিকারী লোকের চরিত্রও খারাপ হয়ে থাকে। ভাল নামের অধিকারী ব্যক্তির চরিত্রও ভাল হয়ে থাকে। পবিত্র কোরআন-হাদিসে অর্থবোধক ভাল নাম রাখার ব্যাপারে তাকীদ দেয়া হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “একদা সাহাবায়ে কেরাম রাসূল (সা.) এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, হুজুর পিতার হক সর্ম্পকে তো আমরা আপনার কাছ থেকে জানলাম। পিতার ওপর সন্তানের হক কী এব্যাপারে আমাদেরকে জানান! তদুত্তরে রাসূল (সা.) ইরশাদ করলেন, পিতা সন্তানের অর্থপূর্ণ ভাল নাম রাখবে এবং তাকে সুশিক্ষা দিবে। (- বায়হাকী শরীফ)
হযরত আবু ওহাব জুশানী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমরা নবীদের নামে নিজেদের নাম রাখবে। তবে আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান’’। (আবু দাউদ শরীফ) হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, “যার সন্তান জন্ম গ্রহণ করে সে যেন সন্তানের সুন্দর নাম রাখে ও সুশিক্ষা দেয় এবং প্রাপ্তবয়ষ্ক হলে তাকে বিবাহ প্রদান করে”। (বায়হাকী শরীফ) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, “তোমরা সন্তানদেরকে তার পিতার নামেই ডাক সেটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত”। (আহযাব- ৫)
হযরত আবূ দারদা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের পিতার নামে ডাকা হবে। অতএব তোমাদের নামগুলো অর্থবোধক রাখো”। (আবু দাউদ শরীফ) রাসূল (সা.) সুন্দর নাম পছন্দ করতেন এবং তিনি সুন্দর নাম রাখার জন্য আদেশও করেছেন । ইবনে কাইয়্যেম জাওযী (রাহ.) তার কিতাব “তুহফাতুল মাওদূদ বি আহকামিল মাওলুদ: এর মধ্যে বলেন নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবেই মানুষের ভাল-মন্দ আচরণ, চরিত্র ও কর্মধারা প্রভাবিত হয়। মন্দ নামেরও মন্দ প্রভাব রয়েছে।
**ইমাম মালেক (রাহ.)-এর প্রসিদ্ধ হাদিসের কিতাব “মুয়াত্তায়” বর্ণিত আছে। হযরত ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রা.) হতে বর্ণিত, ওমর ইবনে খাত্তাবের কাছে জুহারনা কাবীলার এক ব্যক্তি এলো। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তোমার নাম কী? সে বলল জামরা (অগ্নিস্ফুলিঙ্গ), তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কার পুত্র সে বললো ইবনে শিহাব (অগ্নিশিখার পুত্র), তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন কোন গোত্রের সে বললো হারাকা (প্রজ্জলন), তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমার বাড়ি কোথায়? সে বললো হারাকা (অগ্নিগর্ভে), তিনি শেষে জিজ্ঞাসা করলেন কোন অংশে সে বললো বিযাতিল লাযা (শিখাময় অংশে)! ওমর (রা.) তাকে বললেন যাও তোমার গোত্রের লোকদের কাছে গিয়ে দেখ তারা ভস্মীভূত হয়েছে! লোকটি বললো তাদের কাছে এসে দেখলাম সত্যিই তারা সকলেই ভস্মীভূত হয়েছে। মন্দ নামের প্রভাব মানুষের চরিত্র ও আচরণকে প্রভাবিত করে। রাসূল (সা.) এর নিকট কেউ আসলে তার নাম জিজ্ঞাস করতেন নাম পছন্দ হলে খুশী হতেন, অপছন্দ অর্থহীন হলে তা পরিবর্তন করে অর্থপূর্ণ নাম রেখে দিতেন।
Most Recent Post :-
-
ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়: আল কুরআন ১০০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনুল কারীমে কতটি সূরা আছে? উত্তরঃ ১১৪টি। ১০১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূর...
-
আবু জাহেলের হত্যার ঘটনা আব্দুর রহমান বিন আউফ বর্ণনা করেছেন “বদরের ময়দানে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। একজন তরুণ এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলঃ হে চাচা! আবু ...
-
ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়: সাহাবায়ে কেরাম (রা:) ৪৪২. প্রশ্নঃ সাহাবী কাকে বলে? উত্তরঃ যাঁরা ঈমানের সাথে নবী (সাঃ)এর সাথে সাক্ষাত লাভ করেছেন ...