Showing posts with label ইসলামিক কাহিনী. Show all posts
Showing posts with label ইসলামিক কাহিনী. Show all posts

Friday, August 23, 2019

পাহাড়ের গুহায় আটকে পড়া তিন যুবক :-

পাহাড়ের গুহায় আটকে পড়া তিন যুবক

একবার তিনজন লোক পথ চলছিল, এমন সময় তারা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হ’ল। অতঃপর তারা এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিল। হঠাৎ পাহাড় হ’তে এক খন্ড পাথর পড়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তখন তারা একে অপরকে বলল, নিজেদের কৃত কিছু সৎকাজের কথা চিন্তা করে বের কর, যা আললাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমরা করেছ এবং তার মাধ্যমে আললাহর নিকট দো‘আ কর। তাহ’লে হয়ত আল্লাহ্‌ তোমাদের উপর হ’তে পাথরটি সরিয়ে দিবেন।

তাদের একজন বলতে লাগল, হে আল্লাহ্‌! আমার আববা-আম্মা খুব বৃদ্ধ ছিলেন এবং আমার ছোট ছোট সন্তানও ছিল। আমি তাদের ভরণ-পোষণের জন্য পশু পালন করতাম। সন্ধ্যায় যখন আমি বাড়ি ফিরতাম তখন দুধ দোহন করতাম এবং আমার সন্তান্দের আগে আমার আববা-আম্মাকে পান করাতাম। একদিন আমার ফিরতে দেরী হয় এবং সন্ধ্যা হওয়ার আগে আসতে পারলাম না। এসে দেখি তারা ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি দুধ দোহন করলাম, যেমন প্রতিদিন দোহন করি। তারপর আমি তাঁদের শিয়রে (দুধ নিয়ে) দাঁড়িয়ে রইলাম। তাদেরকে জাগানো আমি পছন্দ করিনি এবং তাদের আগে আমার বাচ্চাদেরকে পান করানোও সঙ্গত মনে করিনি। অথচ বাচ্চাগুলো দুধের জন্য আমার পায়ের কাছে পড়ে কান্নাকাটি করছিল। এভাবে ভোর হয়ে গেল। হে আল্লাহ্‌! আপনি জানেন আমি যদি শুধু আপনার সন্তুষ্টির জন্যই এ কাজটি করে থাকি তবে আপনি আমাদের হ’তে পাথরটা খানিক সরিয়ে দিন, যাতে আমরা আসমানটা দেখতে পাই। তখন আল্লাহ পাথরটাকে একটু সরিয়ে দিলেন এবং তারা আসমান দেখতে পেল।

দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্‌! আমার এক চাচাতো বোন ছিল। পুরুষরা যেমন মহিলাদেরকে ভালবাসে,আমি তাকে তার চেয়েও অধিক ভালবাসতাম। একদিন আমি তার কাছে চেয়ে বসলাম (অর্থাৎ খারাপ কাজ করতে চাইলাম)। কিন্তু তা সে অস্বীকার করল যে পর্যন্ত না আমি তার জন্য একশ’ দিনার নিয়ে আসি। পরে চেষ্টা করে আমি তা যোগাড় করলাম (এবং তার কাছে এলাম)। যখন আমি তার দু’পায়ের মাঝে বসলাম (অর্থাৎ সম্ভোগ করতে তৈরী হলাম) তখন সে বলল, হে আললাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় কর। অন্যায়ভাবে মোহর (পর্দা) ছিঁড়ে দিয়ো না। (অর্থাৎ আমার সতীত্ব নষ্ট করো না)। তখন আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। হে আল্লাহ! আপনি জানেন আমি যদি শুধু আপনার সন্তুষ্টির জন্য এ কাজটি করে থাকি, তবে আপনি আমাদের জন্য পাথরটা সরিয়ে দিন। তখন পাথরটা কিছুটা সরে গেল।

তৃতীয় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্‌! আমি এক ‘ফারাক’ চাউলের বিনিময়ে একজন শ্রমিক নিযুক্ত করেছিলাম। যখন সে তার কাজ শেষ করল আমাকে বলল, আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি তাকে তার পাওনা দিতে গেলে সে তা নিল না। আমি তা দিয়ে কৃষি কাজ করতে লাগলাম এবং এর দ্বারা অনেক গরু ও তার রাখাল জমা করলাম। বেশ কিছু দিন পর সে আমার কাছে আসল এবং বলল, আল্লাহকে ভয় কর (আমার মজুরী দাও)। আমি বললাম, এই সব গরু ও রাখাল নিয়ে নাও। সে বলল, আল্লাহকে ভয় কর, আমার সাথে ঠাট্টা কর না। আমি বললাম, আমি তোমার সাথে ঠাট্টা করছি না, ঐগুলো নিয়ে নাও। তখন সে তা নিয়ে গেল। হে আল্লাহ! আপনি জানেন, যদি আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্য এ কাজটি করে থাকি, তবে পাথরের বাকীটুকু সরিয়ে দিন। তখন আল্লাহ পাথরটাকে সরিয়ে দিলেন।

(আব্দুললাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, বুখারী হা/২৩৩৩, ‘চাষাবাদ’ অধ্যায়, অনুচেছদ-১৩; মুসলিম হা/২৭৪৩, মিশকাত হা/৪৯৩৮)।

শিক্ষা :

১. বান্দা সুখে-দুঃখে সর্বদা আল্লাহকে ডাকবে।

২. বিপদাপদের সময় আল্লাহকে ব্যতীত কোন মৃত ব্যক্তি বা অন্য কাউকে ডাকা শিরকে আকবর বা বড় শিরক।

৩. সৎ আমলকে অসীলা হিসাবে গ্রহণ করতে হবে।

৪. পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে হবে এবং স্ত্রী ও সন্তানদের উপর তাদেরকে প্রাধান্য দিতে হবে।

৫. শ্রমিককে তার ন্যায্য পাওনা প্রদান করতে হবে।

Monday, August 5, 2019

এক ভিক্ষুক আর এক দম্পতির গল্প:-

এক ভিক্ষুক আর এক দম্পতির গল্প :-

  🌻🌹এক যুবক নতুন বিয়ে করল। ভালোই কাটতেছিল তাদের দিনগুলো ।
 একদিন স্ত্রী খুব ভালো খাবার রান্না করল।
 স্বামী স্ত্রী যখন খেতে বসল, এমন সময় এক ভিক্ষুক হাজির হল। ভিক্ষুক টি খুব ক্ষুধার্ত ছিল এবং সে কিছু খাবার চাইল । স্বামী খুব রাগ হইলেন এবং ভিক্ষুকটিকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও অপমান করে তাড়িয়ে দিল। অসহায় ভিক্ষুক চলে গেল !!!
 কিছুদিন পর স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হল। এক পর্যায়ে তাদের সংসার ভেঙ্গে গেল । স্বামী স্ত্রী কে তালাক দিয়ে দিল। স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গেল।

✉️ কয়েক বছর পর মেয়ের বাবা অন্য এক জায়গায় মেয়ের বিয়ে দিল । নতুন স্বামীর সাথে শুরু হল তার জীবন! দ্বিতীয় স্বামী প্রথম স্বামীর চেয়ে অনেক ধনী ছিল। একদিন স্বামী স্ত্রী খেতে বসল। ইতিমধ্যে একজন ভিক্ষুক আসল। স্ত্রী স্বামী কে বললআমি ভিক্ষা দিয়ে আসি। কারণ এমন এক মুহুর্তে আমার প্রথম স্বামী এক ভিক্ষুকের সাথে খারাপ আচরন করেছিল, যা আমি এখনও ভুলতে পারিনা। যখন স্ত্রী ভিক্ষা দিতে গেল তখন সে অবাক হয়ে গেল !!!

 ✍️কারণ,তার সেই প্রথম স্বামীই আজ তার সামনে ভিক্ষার পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!!! স্ত্রী চোখের পানি রাখতে পারল না। মেয়েটি তার দ্বিতীয় স্বামী কে বলল, আমি আপনাকে এক আশ্চর্য ঘটনা শুনাব। তারপর মেয়েটি তার প্রথম স্বামীর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি বলে দিল!! তখন দ্বিতীয় স্বামী চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলল,আমি তোমাকে এর চাইতেও আশ্চর্য ঘটনা শুনাব । তুমি হয়ত শুনে অবাক হবে যে ,ঐ দিনের অসহায় সেই ভিক্ষুক টি আমি, যিনি আজ তোমার সম্পদশালী স্বামী!!!

  📖 শিক্ষাঃ আল্লাহ মুহূর্তের মধ্যেই গরীব কে ধনী আর ধনী কে ফকির বানিয়ে দিতে পারেন । সূতরাং আমরা কখনও কোন অসহায় কিংবা গরীব লোকের সাথে খারাপ ব্যবহার না করি । যদি পারি নিজের সাধ্য মত সাহায্য করব। কোন ভাবেই তাদের সাথে ধমকের সুরে কটু কথা বলব না !!

✍️আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুন-আমিন ।।।

তওবার উপকারিতা!

🌹🌻💖তওবার উপকারিতা:-

 তিনজন লোক হুসাইন বিন আলী (রা:) এর নিকট আসল ।
 প্রথমজন অনাবৃষ্টির অভিযোগ করে বলল অনেকদিন বৃষ্টি হচ্ছে না । একথা শুনে হুসাইন বিন আলী (রা;) বললেন বেশী করে তওবা কর ।

দ্বিতীয়জন অভিযোগ করল আমার কোনো সন্তান নেই, আমি সন্তান পেতে আগ্রহী । একথা শুনে হুসাইন বিন আলী (রা;) বললেন বেশী করে তওবা কর।

৩য়জন ব্যক্তি অভিযোগ করল এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে , ফসল উৎপন্ন হচ্ছে না। তখনও হুসাইন বিন আলী (রা;) বললেন বেশী করে তওবা কর।

তার সামনে যারা বসা ছিল তারা বলল হে রসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) এর নাতি, তিনজন ৩ ধরনের অভিযোগ করল আর আপনি একই উত্তর দিলেন

তিনি একথা শুনে বললেন তোমরা কি আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার এই বানী পড় নাই ?

স্বীয় প্রভুর নিকট তাওবা কর , নি:সন্দেহে তিনি তাওবা কবুলকারী , তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন , তিনি তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্তুতিতে এবং তোমাদের জন্য স্হাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত নদী-নালা

শিক্ষনীয় ঘটনা: হযরত ইব্রাহিম (আঃ)

শিক্ষনীয় ঘটনা: হযরত ইব্রাহিম (আঃ)

  🫂একবার হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর নিকট এক ভিক্ষুক আসল, তো তিনি ভিক্ষুককে খাবার দিলেন এবং বললেন যে, বিসমিল্লাহ বলে শুরু কর। ভিক্ষুকটি বলল, বিসমিল্লাহ বলব কেন, আমি তো আল্লাহকে বিশ্বাস করি না। ইব্রাহিম (আঃ) এ কথা শুনে ভিক্ষুকের কাছে থেকে থালা কেড়ে নিলেন এবং বললেন যাও, তুমি আল্লাহকে বিশ্বাস কর না তোমাকে খেতে দিব না। ভিক্ষুক ঘরের দরজা থেকে বেরিয়েছে মাত্র আল্লাহ তায়ালা তৎক্ষণাৎ ইব্রাহিম (আঃ) এর উপর ওহী নাযিল করলেন, হে ইব্রাহিম, সে আমাকে বিশ্বাস করে না সেটা তার আর আমার মধ্যকার ব্যাপার, কেন তুমি রুটি ফিরিয়ে নিলে, যাও তাকে ডেকে এনে আবার খেতে দাও। সুবাহানাল্লাহ! আল্লাহ কত দয়াশীল। যারা ঈমান এনেছে এবং আমল করে তার প্রতি আল্লাহর দয়া কেমন হবে একটু ভেবে দেখুন। 

মহানবী (সা.) মৃত্যুর সময়ের একটি সত্য ঘটনা!

🌹🌻💖মহানবী (সা.) মৃত্যুর সময়ের একটি সত্য ঘটনা :-

  🌻 নবীজির মৃত্যুর সময় জিবরাইল (আ.) আসলেন, এসে নবীজিকে সালাম দিলেন, আর বল্লেন হে আল্লাহর রাসুল। আল্লাহ আপনাকে সালাম দিয়েছে, আর জানতে চেয়েছে আপনি কেমন আছেন। আল্লাহ সব জানেন তার পরও আপনি কেমন আছেন সেটা আপনার মুখ থেকে জানতে চেয়েছেন।

  💖 নবীজি (সা.) বললেন, আমি বড়ই কষ্টের ভিতর আছি, অসুস্হ অবস্থায় আছি। 
তখন জিবরাইল (আ.) বললেন, ইয়া রাসুলল্লাহ (সা.) আমার সাথে আজ একজন নতুন ফেরেশতা এসেছে, যে ফেরেশতা কোন মানুষের কাছে আসার জন্য কোন দিন অনুমতি চায় নাই, আর কোনদিন অনুমতি চাইবেও না, শুধু আপনার অনুমতি চায় আপনার কাছে আসার জন্য।

 আর সে ফেরেস্তার নাম মালাকুল মউত, মালাকুল মউত রাসুলের (সা) অনুমতি নিয়ে রাসুলের (সা.) জান মোবারকের কাছে এসে সালাম দিলেন, বললেন ইয়া রাসুলল্লাহ(সা.), আমি আদম (আ.) থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত যত মানুষের জান কবচ করেছি, আর কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষের জান কবচ করবো কারো কাছে অনুমতি চাইনি আর চাওয়াও আমার লাগবে না, কিন্তু আজকে আসার সময় আল্লাহ বলেছেন আমি যেন আপনার অনুমতি চাই, নবীজি বললেন মালাকুল মউত আমি যদি অনুমতি না দেই? মালাকুল মউত বলে ইয়া রাসুলল্লাহ আল্লাহ বলেছেন যদি অনুমতি না পাও ফিরে এসো।

 আল্লাহু আকবার ।।

Sunday, August 4, 2019

মহানবী (সা.) বেঁচে থাকাকালীন ঈদের দিনের একটি শিক্ষনীয় ঘটনা

মহানবী (সা.) বেঁচে থাকাকালীন ঈদের দিনের একটি শিক্ষনীয় ঘটনা :-

 আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূল (সাঃ) ছিলেন একেবারেই এতিম। এতিম ছিলেন বলেই তিনি বুঝতেন এতিম ও অসহায়দের মনের কষ্ট। জীবনের কষ্ট। কাজের কষ্ট। তাদের সকল কষ্টই তিনি অনুভব করতেন একান্ত হৃদয় দিয়ে। ফলে তাদের সেসব কষ্টের তুষার দূর করার জন্য রাসূল (সাঃ) সকল সময় থাকতেন ব্যাকুল। তাদের প্রতি ছিল তাঁর বিশাল হৃদয়। আকাশের মতো, তার চেয়েও বিশাল। বিশাল ছিল তাঁর মন ও ভালোবাসার দরিয়া। সেখান থেকে উঠে আসতো দরদের তুফান। মমতার ঢেউ। সেই ঢেউ আছড়ে পড়তো নবীর (সাঃ) চারপাশে। সকলের হৃদয়ের দু কূল ছাপিয়ে যেত রাসূলের (সাঃ) ভালোবাসার কোমল তুষারে। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সেতো এক মহৎ গুণ! মানুষকে ভালোবাসতেন রাসূল (সাঃ) মন দিয়ে, প্রাণ দিয়ে, জীবন দিয়ে।

কিন্তু এতিম, গরিব, দুস্থ এবং অসহায়দের প্রতি রাসূলের (সাঃ) ভালোবাসার মাত্রাটা ছিল অনেক- অনেক গুণে বেশি। যার কোনো তুলনাই হয় না। সেই ভালোবাসার নজির তো রয়ে গেছে রাসূলের (সাঃ) জীবনেই। তাঁর জীবন-ইতিহাস যেমন শিক্ষণীয় তেমনই পালনীয়।

ঈদ মানেই তো খুশি আর খুশি। আনন্দের ঢল। সবার জন্যই চাই ঈদের আনন্দ। সমান খুশি। কিন্তু চাইলেই কি সব হয়? কিছু ব্যতিক্রম তো থেকেই যায়। যেমন রাসূলের (সাঃ) সময়ে এক ঈদে, নামাজ শেষে ঘরে ফিরছেন দয়ার নবীজী (সাঃ)। তিনি দেখলেন মাঠের এক কোণে বসে কাঁদছে একটি তুলতুলে কোমল শিশু। এই খুশির দিনেও কান্না! অবাক হলেন রাসূল (সাঃ)। তাঁর হৃদয়ের বেদনার ঢেউ আছড়ে পড়লো। রাসূল (সাঃ) ছেলেটির কাছে গিয়ে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। শিশুটি বললো, আমার আব্বা-আম্মা নেই। কেউ আমাকে আদর করে না। কেউ আমাকে ভালোবাসে না। আমি কোথায় যাবো? এতিম নবী রাহমাতুল্লিল আলামিন। ছেলেটির কথা শুনে গুমরে কেঁদে উঠলো নবীজীর (সাঃ) কোমল হৃদয়। জেগে উঠলো তাঁর মর্মবেদনা। তিনি পরম আদরে শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে গেলেন। হযরত আয়েশাকে (রাঃ) ডেকে বললেন, হে আয়েশা! ঈদের দিনে তোমার জন্য একটি উপহার নিয়ে এসেছি। এই নাও তোমার উপহার। ছেলেটিকে পেয়ে দারুণ খুশি হলেন হযরত আয়েশা (রাঃ)। দেরি না করে মুহূর্তেই তাকে গোসল করিয়ে জামা পরালেন। তারপর তাকে পেট ভরে খেতে দিলেন।

রাসূল (সাঃ) ছেলেটিকে বললেন, আজ থেকে আমরাই তোমার পিতা-মাতা। আমরাই তোমার অভিভাবক। কি, খুশি তো! রাসূলের (সাঃ) কথা শুনে ছেলেটির চোখেমুখে বয়ে গেল আনন্দের বন্যা। এই ছিল এতিমের প্রতি রাসূলের (সাঃ) ভালোবাসার এক বিরল দৃষ্টান্ত! রাসূল (সা) শুধু এতিমদের প্রতিই যে এমন সদয় ছিলেন, সহমর্মী ছিলেন তাই নয় তিনি তাঁর অধীনস্থদের প্রতিও ছিলেন সদা সজাগ ও দরদি। মায়া-মমতার চাদরে তাদেরকে আঁকড়ে রাখতেন। তাদের যেন কোনো কষ্ট না হয়, মনে যেন কোনোপ্রকার দুঃখ না থাকে দয়ার নবী (সাঃ) সেদিকে খেয়াল রাখতেন সর্বক্ষণ।

রাসূলের (সাঃ) দু�জন খাদেম বা চাকর ছিলেন। একজন হযরত যাইদ ও আর একজন হযরত আনাস (রাঃ)। তাদের সাথে রাসূল (সাঃ) কখনোই মনিবসুলভ আচরণ করতেন না। কড়া ভাষায় কথা বলতেন না। খারাপ ব্যবহার করতেন না। মেজাজ দেখাতেন না। আদেশ কিংবা নির্দেশে কঠোরতাও দেখাতেন না। বরং আপন পরিবারের সদস্যদের মতই তাদের সাথে ব্যবহার করতেন। একই খাবার খেতেন। একই ধরনের জীবন-যাপন করতেন। কী আশ্চর্যের ব্যাপার! আজকের দিনে যা কল্পনাও করা যায় না। হযরত যাইদের (রাঃ) কথাই বলি না কেন! ছোট্টবেলায় তিনি মা-বাপ থেকে হারিয়ে যান।

আল্লাহর রহমতে তার আশ্রয় হয় রাসূলের (সাঃ) ঘরে। যখন তার পিতা-মাতার সন্ধান পাওয়া গেল, তখন তারা ছুটে এলো রাসূলের (সাঃ) কাছে। তারা তাকে নিয়ে যেতে চায়। রাসূল (সাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তোমার পিতা-মাতার সাথে যাবে? যাইদ (রাঃ) সাথে সাথেই বললেন, রাসূলের (সাঃ) কাছ থেকে যে ব্যবহার আমি পেয়েছি, তাঁর কোনো তুলনা হয় না। তামাম পৃথিবী যদি আমাকে দেয়া হয় তবুও তাঁকে ছেড়ে আমি যেতে পারবো না। না, কখনোই যাবো না। হযরত আনাস (রাঃ)। তিনি আট বছর বয়সে রাসূলের (সাঃ) খেদমতে এসেছিলেন। দীর্ঘ দশ বছর পর্যন্ত রাসূলের (সাঃ) খেদমত করেছিলেন।

সেই হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, দীর্ঘ দশ বছর রাসূলের (সাঃ) খেদমত করেছি। কিন্তু এই দশ বছরের মধ্যে কোন একটি দিনও রাসূল (সাঃ) আমাকে একটি কথাও ধমক দিয়ে বলেননি। এমনই ছিল রাসূলের (সাঃ) আচার- ব্যবহার। এমনই ছিল তাদের প্রতি তাঁর হৃদয়ের ভালোবাসা। এমনই ছিল তাঁর উদারতা। ছিল দয়া ও মমতার অসীম সাগর। সাগরের চেয়েও অধিক। রাসূলের (সাঃ) মতো এমনই হৃদয়ের অধিকারী হতে হবে আমাদের। যে হৃদয় হবে ভালোবাসায় পূর্ণ। মমতায় টইটম্বুর। যে হৃদয় হবে আকাশের চেয়েও প্রশস্ত। সাগরের চেয়েও বিশাল। এমনই হৃদয় তৈরির জন্য প্রয়োজন রাসূলের (সাঃ) শিক্ষা গ্রহণ ও সৎ সাহসের। এ জন্যই আমাদের রাসূলের (সাঃ) আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। তাঁর পথেই চলতে হবে। তাঁর শিক্ষাই গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই কেবল সুন্দর, সার্থক ও সফল হবে আমাদের জীবন। আসুন আমরা রাসূলকে (সাঃ) ভালোবাসি। তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করি। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করি। তাঁরই দেখানো আলো ঝলমলে পথে সর্বদা চলি।

Saturday, June 29, 2019

পরমাসুন্দরী এক জিন মহিলার কাহিনী :-

পরমাসুন্দরী এক জিন মহিলার কাহিনী :- 

🌻কাজী হাসান উদ্দীন রাযী (র.) বলেন আমি আমার স্ত্রী সন্তানাদিকে পূর্বান্ঞ্চলের কোন একস্থান থেকে আনতে সেখানে যাচ্ছিলাম । 
পথের মধ্যে ঝড়বৃষ্টির সম্মুখীন হওয়ায় আমি এক গুহায় আশ্রয় নিলাম আর আমি তখন ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম । আমি ছিলাম একদল লোকের সাথে । আমি শুয়েই ছিলাম । এমন সময় কে যেন আমাকে জাগ্রত করতে লাগল । জাগ্রত হয়ে দেখলাম আমার পাশে মধ্যম গড়নের এক মহিলা দন্ডায়মান । তার মাত্র একটি চোখ ছিল । চোখটি দেখতে টানাটানা , আলাদাভাবে যেন ফুটে রয়েছে। তাকে দেখে আমি ঘাবড়ে গেলাম । সে আমাকে বলল- ভয়ের কোন কারণ নেই । তোমার সাথে আমার চাঁদের মতো মেয়ের বিয়ে দিতে চাই । আমি ভীত হয়ে বলতে লাগলাম আল্লাহ মঙ্গল করুন । অতঃপর আমার দিকে কিছু লোক আসতে দেখলাম । তারাও এই মহিলার মতো । তাদের সাথে একজন কাজীও ‍ছিল একজন সাক্ষীও ছিল । অতঃপর কাজী বিবাহের পয়গাম দিয়ে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করল । আমিও কবুল করলাম । তারপর তারা চলে গেল এবং উক্ত মহিলা আমার নিকট দ্বিতীয় বার আসে । এখন তার সাথে পরমাসুন্দরী এক বালিকা ছিল । তার চোখও তার মায়ের মতো ছিল । তারপর বালিকাকে রেখে তার মা চলে গেল । তারপর আমার ভয় আরো বেড়ে গেল । আমি আমার পাশের ঘুমন্ত লোকদের উপর কংকর নিক্ষেপ করতে লাগলাম । যাতে তারা জাগ্রত হয় । কিন্তু তারপরও তারা কেউ জাগ্রত হলো না । তারপর আমি বিভিন্ন দোয়া কালাম পড়তে লাগলাম । ইতিমধ্যে আমাদের যাত্রার সময় হয়ে গেল । আমি যাত্রা শুরু করলাম । কিন্তু বালিকা আমার পিছু ধরে যেতে থাকল । এ অবস্থায় তিন দিন অতিবাহিত হয়ে গেল । চতুর্থ দিন প্রথম মহিলাটি আবার এসে বলতে লাগল বোধহয় সে তোমার ভালো লাগেনি । মনে হয় তুমি তাকে দূরে সরাতে যাচ্ছ ? আমি বললাম আল্লাহর শপথ আমি তাকে দূরে সরাতেই চাচ্ছি । অতঃপর মহিলা বলল তাহলে তাকে তালাক দিয়ে দাও । তারপর আমি তাকে তালাক দিয়ে দিলাম । এরপর আর কোন দিন তাকে দেখা যায়নি । কাজী শিহাব ইবনে ফজল বলেন এই মহিলার সাথে কি তার নির্জনবাস হয়েছিল ? সে বলল না ।

Sunday, May 26, 2019

এক মুসলিম তরুণীর সত্য কাহিনী

নামাজ পড়তে চেয়ে বিয়ের রাতে মারা গেল যে নারী (এক মুসলিম তরুণীর সত্য কাহিনী)

আজ তার বিয়ে। মহাধুমধামে চলছে সব আয়োজন। চারদিকে উৎসব।

'মাগরিব নামাজের পর তাকে মেক-আপ দেয়া হলো, সুন্দর সাদা বিয়ের পোশাক পরানো হলো। এই করতে করতে এশার আজান হলো। তখন তার মনে পড়ল, তার ওজু নষ্ট হয়ে গেছে। সে তার মাকে বিষয়টা জানাল : মা, আমি ওজু করে এশার নামাজ পড়তে চাই।

'তার মা এতে বিস্মিত হলেন : 'তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? দেখছ না সবাই তোমার অপেক্ষা করছে, তোমার মেক-আপের কী হবে? পানিতে তো সব ধুয়ে যাবে।

'তখন তিনি বললেন, আমি তোমার মা, আমি নির্দেশ দিচ্ছি, তুমি এখন নামাজ পড়বে না। তুমি যদি এখন ওজু কর, তবে আমি কষ্ট পাব।

মেয়ে জবাব দিল, 'নামাজ না পড়ে আমি এখান থেকে যাব না। মা, তুমি জান, নামাজের মাফ নেই। মানুষ আল্লাহর অবাধ্য হতে পারে না।

'তার মা জবাব দিলেন, মেক আপ ছাড়া তোমাকে দেখলে মেহমানরা তোমাকে নিয়ে কী বলবে? তাদের চোখে তোমাকে কি সুন্দর লাগবে? তোমাকে দেখে তখন তারা কৌতুক করবে।

মেয়ে তখন বলল, মা, তুমি কি এই নিয়ে চিন্তা করো যে, আমি সৃষ্টির দৃষ্টিতে সুন্দর কি না? আমার স্রষ্টা নিয়ে কি ভাবো? আর আমি ভাবছি, আমি যদি আমার নামাজ বাদ দেই, তবে তাঁর দৃষ্টিতে আমি সুন্দর হবো না।

মেয়েটি তখন তার ওজু করতে শুরু করল, তার সব মেক-আপ মুছে গেল। কিন্তু সে ওসবের কিছুরই পরোয়া করল না। তারপর নামাজ শুরু করল। যথারীতি নামাজ আদায় করতে লাগল। কিন্তু তখনও জানত না, এটাই তার শেষ নামাজ!

হ্যাঁ, সে যখন সিজদায় গেল, তখনই তার রুহ বের হয়ে গেল। নামাজ পড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এক মুসলিম নারী তার প্রভুর কাছে চলে গেলেন তার সামনে সিজদায় থেকে। তিনি নামাজকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন।

মেয়েটি চেয়েছিলেন তার রবের কাছাকাছি হতে। আর নামাজেই রবের সবচেয়ে কাছাকাছি হওয়া যায়। কে তার চেহারা নিয়ে, সাজগোজ নিয়ে কী বলল, সে তার পরোয়া করত না। তার ভাবনা জুড়ে ছিল আল্লাহ তার সম্পর্কে কী ভাবছেন।

সব মুসলমানের চিন্তা এমনই হওয়া উচিত নয় কি?এই সত্য কাহিনীটি বলেছেন শেখ আবদুল মহসিন আল আহমদ। ঘটনাটি ঘটেছে সৌদিআরবের রাজধানীর আভায়। তবে তিনি মেয়েটি বা তার পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করেননি।


আমলে নয়, রহমতে জান্নাত মিলে

আমলে নয়, রহমতে জান্নাত মিলে

হযরত জিবরাঈল (আঃ) নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে এসে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি পাহাড়ের উচ্চ চূড়ায় পাঁচশ বছর ধরে আল্লাহ পাকের ইবাদতে মশগুল ছিল। ঐ পাহাড়ের চারদিক লবণাক্ত পানি দ্বারা বেষ্টিত ছিল। আল্লাহ তা'আলা তার জন্য পাহাড়ের অভ্যন্তরে সুপেয় পানির ঝর্ণা এবং একটি আনার গাছের সৃষ্টি করেন। 

প্রতিদিন সেই ব্যক্তি আনার ফল খেত এবং পানি পান করত। আর পানি দিয়ে অযূ করত। সে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ তা'আলার কাছে এই দু'আ করল- হে আল্লাহ্‌! আমার দেহ থেকে রূহ যেন সেজদারত অবস্থায় কবয করার ব্যবস্থা করা হয়। আল্লাহ্‌ তা'আলা তার এই দু'আ কবুল করেন। হযরত জিবরাঈল (আঃ) বলেন- আমি আসমানে আসা যাওয়ার সময় তাকে সেজদারত দেখতাম। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তা'আলা তার সম্পর্কে বলবেনঃ আমার এই বান্দাকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও। ঐ ব্যক্তি বলবে না, বরং আমার আমলের বরকতে। 

তখন নির্দেশ আসবে- আমার নিয়ামতের বিপরীতে তার কৃতামল পরিমাপ কর। পরিমাপ করে দেখা যাবে, পাঁচশ বছরের ইবাদাত খতম হয়ে গেছে একটি চোখের নিয়ামতের বিনিময়ে। 

তখন আল্লাহ্‌ পাক নির্দেশ দিবেনঃ আমার বান্দাকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। ফেরেশতারা তখন তাকে নিয়ে রওয়ানা হবে। কিছুদূর যাওয়ার পর ঐ ব্যক্তি আরয করবে হে আল্লাহ্‌! আমাকে তোমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও। নির্দেশ আসবে তাকে ফিরত নিয়ে আস। আল্লাহ্‌ পাকের নিকট ফিরিয়ে আনার পর তাকে নিচের প্রশ্নগুলো করা হবে আর সে বলবেঃ- 

- তোমাকে কে সৃষ্টি করেছেন? 
- আল্লাহ, আপনি। 
- এই কাজটা তোমার আমল না আমার রহমতের বরকতে হয়েছে? 
- আপনার রহমতে। 
- তোমাকে পাঁচশ বছর ইবাদাত করার শক্তি ও তাওফীক কে দিয়েছে? 
- হে আল্লাহ্‌! আপনি। 
- সমুদ্রের মাঝে পাহাড়ের উপর তোমাকে কে পৌঁছিয়েছে? লবণাক্ত পানির মাঝে সুপেয় পানির ব্যবস্থা কে করেছে? আনার গাছ কে সৃষ্টি করেছে? তোমার দরখাস্ত মুতাবেক সেজদার মাঝে কে তোমার রূহ কবয করার ব্যবস্থা করেছে? 
-হে পরওয়ারদিগার! আপনি। 
তখন ইরশাদ হবেঃ এই সব কিছু আমার রহমতে হয়েছে এবং আমার রহমতেই তোমাকে জান্নাতে দাখিল করছি। 

তথ্যসূত্র
� রিয়াযুস স্বালেহীনঃ ২/৫৩,৫৪


হযরত ইমাম আজম (রহঃ) এর সাথে এক নাস্তিক পন্ডিতের বিতর্ক

হযরত ইমাম আজম (রহঃ) এর সাথে এক নাস্তিক পন্ডিতের বিতর্ক

একবার আল্লাহর অস্তিত্বে অস্বীকারকারী এক নাস্তিকের সাথে আমাদের ইমাম হযরত আবু হানিফা (রহঃ) এর মুনাজেরা হয়েছিল। মুনাজেরার বিষয় ছিল- পৃথিবীর কোন সৃষ্টিকর্তা আছে কিনা। এত বড় ইমামেমর সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মুনাজেরা দেখার জন্য শত্র-মিত্র যথাসময়ে মুনাজেরার স্থানে সমোবেত হয়ে গেল। নাস্তিক লোকটিও যথাসময়ে পৌছে গেল। কিন্তু হযরত ইমাম আজম নির্ধারিত সময়ের অনেক দেরিতে সমাবেশে তশরিফ আনিলেন। নাস্তিক পন্ডিত ব্যাক্তিটি জিজ্ঞাসা করলেন আপনি এত দেরি কররেন কেন? তিনি বললেন জঙ্গল দিয়ে আসার সময় এক অদ্ভুদ ঘটনা চোখে পড়লো, সেটা দেখে আমি আশ্চর্য হয়ে ওখানে থমকে দাড়িয়ে ছিলাম। ঘটনাটি হলো, নদীর কিনারে একটি বৃক্ষ ছিল। দেখতে দেখতে সেই বৃক্ষ নিজেই কেটে পড়ে গেল, এরপর নিজেই তক্তায় পরিনত হলো, অতঃপর সেই তক্তাগুলো নিজেরাই একটি নৌকা হয়ে গেল এবং সেই নৌকা নিজে নদীতে নেমে গেল এবং নিজেই নদীর এপাড় থেকে ওপারে যাত্রী আনা নেওয়া করতে লাগলো এবং নিজেই প্রতেক যাত্রী থেকে ভাড়া আদায় করতে ছিল। এই দৃশ্যটি দেখতে গিয়ে আমার দেরি হয়ে গেল। নাস্তিক পন্ডিত এটা শুনে অট্টহাসি দিল এবং বললো, আাপনার মত একজন বুজুর্গ ইমামের পক্ষে এরকম জঘন্য মিথ্যা বলা খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার এ রকম কি নিজে নিজে কিছু হতে পারে? কোন কারিগর না থাকলে, এরকম কাজ কিছুতেই হতে পারে না।

হযরত ইমাম আযম বললেন, এটাতো কোন কাজই না। আপনার মতে তো এর থেকে অনেক বড় বড় কাজ এমনিতেই হয়। এ পৃথিবী, এ আসমান, এ চাঁদ, সূর্য, তারকারাজি, বাগান সমূহ, রং বেরং এর নানা রকম ফুল, সুমিষ্ট ফল, এ পাহাড় পর্বত, জীব জন্তু,মানব দানব সব কিছু কোন সৃষ্টি কর্তা ব্যতীত এমনিতেই হয়ে গেছে। যদি একটি নৌকা কোন কারিগর ছাড়া এমনিতে তৈরী হয়ে যাওয়াটা মিথ্যা হয়, তাহলে সমস্ত পৃথিবীটা সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত নিজে নিজেই তৈরী হয়ে যাওয়াটা ডাহা মিথ্যা ছাড়া আর কি হতে পারে?

নাস্তিক পন্ডিত তাঁর এ বক্তব্য শুনে বিমোহিত হয়ে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে স্বীয় ভ্রান্ত ধারণা ত্যাগ কওে মুসলমান হয়ে গেল।

সবকঃ
এ বিশ্বের নিশ্চই একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, যার নাম আল্লাহ। আল্লাহর অস্তিত্বেও অস্বীকার যুক্তিরও বিপরীত ।
তথ্যসূত্র
� তাফসীরে কবীর ২২১ পৃঃ ১ম জিলদ
� ইসলামের বাস্তব কাহিনী - ১ম খন্ড


এক ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করত ।

একটি শিক্ষনীয় ঘটনা : এক ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করত ।

এক ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করত । ছেলেটা মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় একটি মেয়ে সব সময় তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকে, তাঁর সাথে কথা বলতে চায় ! কিন্তু সেই ছেলেটি আবার আমার আপনার মত ক্যারেক্টার ঢিলা ছিল না ! সে কোনো বেগানা নারীর দিকে তাকাতে চায়না, চায়না কথা বলতে ! হয়তো এরকম এভয়েড এবং মেয়েদের দিকে তাকানোর অনীহা দেখে সেই মেয়েটি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে !! একদিন মেয়েটা ছেলেটিকে তার খালি বাড়ীতে ডাকলো ! কিন্তু ছেলেটি রাজি হলনা । কিছুদিন পর মেয়েটি একটা কৌশল খাটাল , মেয়েটা তাদের এক দাসীকে শিখিয়ে দিলে যে , ছেলেটাকে বলবে যে , এ বাড়ীতে একটা ছোট বাচ্চা আছে , বাচ্চাটা খুব কান্না-কাঁটি করতেছে , আপনি একটু এসে বাচ্চাটাকে সূরা - কালাম পাঠ করে ঝাড়-ফুঁক দিয়ে যান , দাসীটা এ মিথ্যা কথা বলে ঐ মাদরাসার ছেলেটাকে বাড়ির ভেতর নিয়ে গেলো ! তারপর সে দুষ্ট মেয়েটা ছেলেটাকে নির্জন একটা রুমে বন্দি করল , ছেলেটার কাছে নিজেকে সঁপে দিতে চাইলো !! (আমি আপনি এই জায়গায় হলে হয়তো বলেই বসতাম আই লাভ ইউ !) কিন্তু সেই ছেলেটি চাইলো না কোনো অবৈধ কিছু করতে ! ছেলেটি পড়ে গেলো মহা বিপদে, বুদ্ধি করে বললো, আমার একটু টয়লেটে যেতে হবে! মেয়েটি বলল যাও, তবে দ্রুত ফিরে আসবে । ছেলেটি বাধ্য হয়েই টয়লেট থেকে নোংরা পানি দিয়ে তার পুরো শরীর মেখে নিল,, যাতে তার শরীর থেকেবিশ্রি গন্ধ বের হয়...... ছেলেটি টয়লেট থেকে বের হবার পর,, মেয়েটি তার গায়ের দুর্গন্ধের কারনে তাকে তাড়িয়ে দিলো! আর ছেলেটি খুশী মনে বের হয়ে গোসল করে মাদ্রাসায় গিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করলো !! ওস্তাদ ক্লাস চলাকালীন সময়ে বললেন,, তোমাদের মধ্যে কে আজকে এমন সুগন্ধ লাগিয়ে এসেছো যে পুরো ক্লাস সুগন্ধময় হয়ে আছে! ছেলেটা ভয় পেয়ে গেল , মনে মনে ভাবল হয়ত তার গায়ে কোথাও ময়লা লেগে আছে অথবা ভাল করে ধোয়া হয়নি , সেখান থেকে মনে হয় দুর্গন্ধ বের হচ্ছে ! সে মনে করল , ক্লাসের মধ্যে ওস্তাদ তার গায়ের দুর্গন্ধকে উপহাস করে সুগন্ধ বলছে নাতো ? ছেলেটা লজ্জায় মাথা নিচু করে বেঞ্চে বসে রইল! এদিকে কোন ছাত্র জবাব না দেওয়ায় ওস্তাদ অবাক হলেন , এবং পরীক্ষা করার করার জন্য একজন একজন করে উঠে আসতে বললেন , আশ্চর্যের বিষয় কারো কাছেই এ সুগন্ধ পাওয়া গেল না , অতঃপর ওস্তাদ দেখলেন একটা ছেলে ক্লাসের সর্বশেষ বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসে আছে , ওস্তাদ ছেলেটাকে কাছে ডাকলেন , ছেলেটা কাছে আসলো , ওস্তাদ খেয়াল করলেন এই ছেলেটার কাছে থেকেই এত সুগন্ধ বের হচ্ছে ! ওস্তাদ ছেলেটাকে প্রশ্ন করলেন , তুমি ই এ সুগন্ধ লাগিয়ে এসেছ , কিন্তু আমাদেরকে বলছনা কেন ? বলো এই সুগন্ধ কোথায় পেয়েছ ? ছেলেটা তখন ভয়ে কাঁদতে আরম্ভ করল ! ওস্তাদ আরো বেশি অবাক হলেন এব ছেলেটাকে বললেন , তুমি কাঁদছ কেন ? তখন ছেলেটা সম্পূর্ণ ঘটনা ওস্তাদ কে বলে দিল , সব কিছু শুনে ওস্তাদ ও কেঁদে ফেললেন এবং ছেলেটাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে সকল ছাত্রদেরকে বললেনঃ তোমরা যদি কেউ একজন জান্নাতী মানুষ দেখতে চাও , তাহলে আমার এই ছাত্রটিকে দেখ ! ... ... সুবহান- আল্লাহ্!!!!!!! ছেলেটি আর কেউনা,, তিনি হলেন ঈমাম গাজ্জালী (রহ.)


শিক্ষনীয় ঘটনা: হযরত ইব্রাহিম (আঃ)

শিক্ষনীয় ঘটনা: হযরত ইব্রাহিম (আঃ)

একবার হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর নিকট এক ভিক্ষুক আসল, তো তিনি ভিক্ষুককে খাবার দিলেন এবং বললেন যে, বিসমিল্লাহ বলে শুরু কর। ভিক্ষুকটি বলল, বিসমিল্লাহ বলব কেন, আমি তো আল্লাহকে বিশ্বাস করি না। ইব্রাহিম (আঃ) এ কথা শুনে ভিক্ষুকের কাছে থেকে থালা কেড়ে নিলেন এবং বললেন যাও, তুমি আল্লাহকে বিশ্বাস কর না তোমাকে খেতে দিব না। ভিক্ষুক ঘরের দরজা থেকে বেরিয়েছে মাত্র আল্লাহ তায়ালা তৎক্ষণাৎ ইব্রাহিম (আঃ) এর উপর ওহী নাযিল করলেন, হে ইব্রাহিম, সে আমাকে বিশ্বাস করে না সেটা তার আর আমার মধ্যকার ব্যাপার, কেন তুমি রুটি ফিরিয়ে নিলে, যাও তাকে ডেকে এনে আবার খেতে দাও। সুবাহানাল্লাহ! আল্লাহ কত দয়াশীল। যারা ঈমান এনেছে এবং আমল করে তার প্রতি আল্লাহর দয়া কেমন হবে একটু ভেবে দেখুন।

এক রাখাল যুবক একদিন একটি খুব সুন্দর যুবতী মেয়েকে দেখল। মেয়েটিকে রাখাল বিয়ের প্রস্তাব দিল। মেয়েটি রাজী হয়ে গেল। তাঁরা দুজনে মিলে গেল কাজির কাছে বিয়ে পড়ানোর জন্য।কাজি মেয়েটিকে দেখে নিজেই পছন্দ করে ফেলল এবং বলল ও তো রাখাল আমিইতোমাকে বিয়ে করব।এতে রাখাল ও কাজির মধ্যে ঝগড়া লেগে গেল।এবার তাঁরা তিনজনে মিলে নালিশ নিয়ে গেল পুলিশের কাছে। পুলিশ মেয়েটিকে দেখে বলল, ওরা দুজনেই বাদ আমিই তোমাকে বিয়ে করব। এবার রাখাল,কাজি ও পুলিশ এই তিনজনের মধ্যেই গোলমাল লেগে গেল। মেয়েটি এবার বলল,ঠিক আছে এবার তোমরা তিনজনে এক কাজ কর, আমি দৌড় দিব আর তোমরা আমার পিছনে দৌড়াবে যে আমাকে প্রথমে ধরতে পারবে আমি তাকেই বিয়ে করব। এবার মেয়েটি ছুটল এবং তাঁর পিছনে পিছনে তিনজনেই ছুট দিল। ছুটতে ছুটতে এক সময় তাঁদের সামনে একটি গর্ত পড়ল। তাঁরা ঐ গর্তের মধ্যে পড়ে গেল। বন্ধুরা ঐ সুন্দরী যুবতি মেয়েটি হল দুনিয়া যার সৌন্দর্য আমরা যেই দেখি সেই মুগধ হয়ে যাই।আর তার পেছনে পেছনে ছুটতে থাকি। কিন্তু ছুটতে ছুটতে এক সময় আমাদের সামনেও কবরের গর্ত এসে যায় আর আমরা ঐ গর্তে পড়ে যাই আর দুনিয়া আমাদের হাতছাড়াই রয়ে যায়। আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে দুনিয়ার লোভ ছেড়ে, আখেরাত লোভী হওয়ার তৌফিক দান করুক!!

আমীন


শিক্ষনীয় কাহিনী

শিক্ষনীয় কাহিনী
একদিন এক মহিলা ছুটে এসে আরজ করতে লাগল, হে আমীরুল মোমেনিন, আমার হাত থেকে এক শিশি তৈল হঠাৎ মাটি তে পড়ে যায়। আর মাটি ও সাথে সাথে তা চুষে নেয়। এখন আপনার কাছে আমার আরজ, আমি আমার তৈল ফেরত চায়। অত পর হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একটি কাগজের টুকরা হাতে নিয়ে তাতে কি যেন লিখলেন, লিখার পর তা ভাঁঝ করে ওই মহিলাটির হাতে দিলেন। এবং বললেন,যাও তৈলের শিশি টি যেখানে পড়ে ছিল ঐখানে এ কাগজ টা ফেলে দিও। মহিলা টি ও তাই করল। সাথে সাথে জমিন ওই মহিলার তৈল তার থেকে বের করে দিল, এর পর মহিলাটি তার তৈলের শিশিটি ও পূর্ণ করে নিল, অত পর কৌতূহলি হয়ে মহিলাটি ঐ কাগজ আবার হাতে তুলে নিলেন, এবং দেখতে লাগলেন, যে আমীরুল মোমেনিন এই কাগজে কী এমন লিখেছিলেন!! যে মাটি; তৈল গুলা ভক্ষণ করে আবার বের করে দিল!! অত পর মহিলাটি দেখলেন, ঐ কাগজে আমীরুল মোমেনিন লিখেছিলেন যে, “”হে জমিন এই মহিলাটির তৈলগুলা বের করে দাও যা তুমি ভক্ষণ করেছ, নইলে তোমার মাঝে একজন বে নামাযী কে দাফন করে দিব!!”” দেখুন! বে নামাযী কে জমিন পর্যন্ত ভয় পায়, ঘৃণা করে, জমিন পর্যন্ত গ্রহণ করতে চায় না আমরা যারা নামায পড়িনা! আমাদের কি অবস্থা হবে??? আল্লাহ আমাদেরকে ৫ওয়াক্ত নামায জামাত সহকারে আদায় করার তৌফিক দান করুক
আমীন..।


পরোপকারী মানুষই শ্রেষ্ঠ মানুষ

পরোপকারী মানুষই শ্রেষ্ঠ মানুষ
একবার হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) মসজিদে নববীতে ইতিকাফরত ছিলেন।

এই সময় এক ব্যক্তি এসে তাঁকে সালাম করলো ও তাঁর কাছে বসে পড়লো।

হযরত ইবনে আব্বাস তাঁকে বললেন, “তোমার কি হয়েছে? তোমাকে তো খুবই চিন্তিত মনে হচ্ছে।”

আগন্তুক জবাব দিলঃ “অমুকের কাছে ঋণগ্রস্ত আছি। অথচ তা পরিশোধ করতে পারছি না।”

ইবনে আব্বাস(রা) বললেনঃ আমি কি তোমার সম্পর্কে ঐ ব্যক্তির সাথে কিছু আলোচনা করবো?

আগন্তুক বললেনঃ যদি ভাল মনে করেন করতে পারেন।

হযরত ইবনে আব্বাস তৎক্ষণাত জুতো পরলেন ও মসজিদ থেকে বের হলেন। আগন্তুক বললোঃ এ কী? আপনি করছেন কী? ইতিকাফের কথা কি ভুলে গেছেন?

ইবনে আব্বাস রাসূল(সা) এর কবর দেখিয়ে অশ্রু সজল চোখে বললেনঃ না, সেটা ভুলিনি।  তবে এই কবরে যিনি শুয়ে আছেন তাঁকে আমি বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের উপকারের জন্য সচেষ্ট হবে এবং উপকার সাধন করবে, সে দশ বছর ধরে ইতিকাফকারীর চেয়েও মর্যাদাবান হবে।

অথচ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি একদিন ইতিকাফ করে তার মধ্যে ও দোজখের মধ্যে আল্লাহ এমন তিনটি পরীক্ষা স্থাপন করেন, যার একটি থেকে অপরটির দূরত্ব সূর্যের উদয় ও অস্তের জায়গার মধ্যে দূরত্বের চেয়েও বেশি।

শিক্ষাঃ বান্দার হক তথা মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকলেই পরোপকারী হওয়া সম্ভব।

রাসূল(সা) বলেছেন, “কোন ব্যক্তি যতক্ষণ বান্দার সাহায়্যে নিয়োজিত থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তার সাহায্যে নিয়োজিত থাকেন।”


দুঃসাহসী বীর বিশর বিন আমরের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী

দুঃসাহসী বীর বিশর বিন আমরের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী দশম হিজরীর কথা। কতিপয় সাহাবী রাসূল(সা) এর পাশে বসেছিলেন। সহসা বিশর বিন আমর আল জারূদের আবির্ভাবে রাসূল(সা) এর পবিত্র মুখমন্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। সাহাবীগণ এই বিশরের রহস্য নিয়ে কৌতুহলী হয়ে উঠলেন। তারা কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই রাসূল(সা) পূর্বদিকে ইঙ্গিত করে বললেন, “এখানে একটু পরেই উপস্থিত হবে সেই কাফেলা, যাতে শ্রেষ্ঠ প্রাচ্যবাসীদের সমাবেশ ঘটেছে।” সাহাবীগণ পরস্পরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলেন। এই কাফেলার পরিচয় জিজ্ঞাসা করতে তাদের সকলের মন আকুপাকু করছিল যে, তারা কোন্ গোত্র এবং কোন্ এলাকার লোক। কিন্তু লজ্জ্বায় কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারলেন না। তবে হযরত ওমর(রা) আর দেরী সইতে পারলেন না। তিনি নিজের ঘোড়ায় চড়ে দূর হতে যে কাফেলাটি ধূলা উড়িয়ে আসছে তা দেখতে এগিয়ে এলেন। একেবারে কাজে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ আপনারা কোন্ গোত্রের লোক? তাদের নেতা জবাব দিলেন, “বনু আবদিল কায়েস গোত্রের”। হযরত ওমর(রা) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, “আপনারা কেন এসেছেন? ব্যবসার জন্য?” তারা বললো, না। রাসূল(সা) এইমাত্র আপনাদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং খুব ভালো বলেছেন। অনতিবিলম্বে কাফেলা রাসূল(সা) এর সামনে উপনীত হলো। তিনি তাদেরকে মোবারকবাদ জানালেন, ইসলামী নিয়মে সালাম দিলেন এবং তাদের আগমনে আনন্দ প্রকাশ করে বললেনঃ “আগন্তুক কাফেলাকে অভিনন্দন; সসম্মানে ও নিঃসঙ্কোচে আসুন।” কাফেলার নেতা ছিলেন আবু গিয়াস বিশর বিন আমর বিন আল মুয়াল্লা আল আবদী। তিনি বনু আব্দুল কায়েসের শাখা বনু আবসের প্রবীণতম নেতা, সরদার ও সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ব্যক্তি। প্রতিপক্ষীয় এক গোত্রের ওপর আক্রমণ করে তাদেরকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার কৃতিত্বের জন্য তারা তাকে জারুদ বা নিপাতকারী নামে আখ্যায়িত করে। তারা এসেছিলেন আরব সাগরের উপকূলবর্তী এলাকা হতে। তার বীরত্ব ও সাহসিকতার খ্যাতি সমগ্র আরব উপকূলে ছড়িয়ে পড়েছিল। জারুদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে আলাপ আলোচনা শুরু করলো, তিনি তার নিকট ইসলাম পেশ করলেন এবং তাকে ইসলাম প্রহণের দাওয়াত ও উপদেশ দিলেন। জারুদ বললো, “ইয়া রাসূলুল্লা। আমার একটা ধর্ম আছে। এখন আপনার ধর্ম গ্রহণের উদ্দেশ্যে আমি নিজ ধর্ম ত্যাগ করতে রাজী আছি। তবে নিজ ধর্ম ত্যাগ করায় আমার কোন ক্ষতি হবে না- আমাকে এ নিশ্চয়তা আপনি দিতে পারেন কি?” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হ্যা, আমি তোমাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি ইসলাম গ্রহণের অর্থ দাঁড়াবে এই যে, আল্লাহ তোমার ধর্মের চেয়েও ভাল ধর্ম গ্রহণ করার সুযোগ দিলেন।” এ কথা শুনে জারুদ ও তার সঙ্গীরা ইসলাম গ্রহণ করলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দেশে ফিরে যাওয়অর জন্য সওয়ারী [বাহন] প্রার্থনা করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারী প্রদানে অক্ষমতা প্রকাশ করলেন। তখন জারুদ বললো, “ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের স্বদেশ গমনের পথে অনেক লাওয়ারিশ পথভ্রষ্ট উট পাওয়া যায়। সেগুলোতে চড়ে আমরা যেতে পারি কি?” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “না,খবরদার। এগুলোতে আরোহণ করো না। ওগুলো দোযখে যাওয়ার বাহন হবে।” অতঃপর জারুদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে বেরিয়ে স্বদেশ মুখে রওনা হলেন। তিনি মৃত্যুকাল পর্যন্ত ইসলামের ওপর অবিচল ছিলেন এবং খুবই ভালো মুসলমান ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর যখন কিছু লোক ইসলাম ত্যাগ করে, সে সময়ও তিনি বেঁচে ছিলেন। তাঁর গোত্রের এক ব্যক্তি বলে উঠলোঃ “মুহাম্মদ(সা) যদি নবী হতেন, তাহলে মরতেন না।” সঙ্গে সঙ্গে গোত্রের আরো অনেকে তাকে সমর্থন করলো এবং মুরতাদ হয়ে যেতে লাগলো। জারুদ তাদের সবাইকে এক জায়গায় সমবেত করে বললেনঃ “হে বনু আবদুল কায়েস, আমি তোমাদের কাছে একটি কথা জিজ্ঞেস করছি। যদি তোমাদের জানা থাকে জবাব দিও, নচেত জবাব দিওনা।” তারা বললোঃ “ঠিক আছে, জিজ্ঞেস করুন।” জারুদ বললেন, “তোমরা কি জান যে, অতীতেও আল্লাহর বহু নবী এসেছেন?” তারা বললোঃ শুনেছি। জারুদঃ তারা এখন কোথায়? তারা বললোঃ তারা মারা গেছেন। জারুদঃ তারা যেমন মারা গেছেন, মুহাম্মদ(সা)ও তেমনি মারা গেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মদ(সা) আল্লাহর রাসূল। আমি হযরত আবু বকরের কথার পুনরাবৃত্তি করছি যে, মুহাম্মদ(সা) যদি মারা গিয়ে থাকেন, তাতে কিছু যায় আসে না। আল্লাহ চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। এবার তাঁর গোত্রের লোকেরাও কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বললোঃ “আমরাও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল”। এরপর হযরত জারুদের আর একটি সৌভাগ্য লাভ করা বাকী ছিল। সেটি হলো শাহাদাত। আল্লাহ তাঁর সে আশাও পূর্ণ করলেন। একুশ হিজরীতে হযরত ওমরের(রা) আমলে পারস্যে প্রেরিত একটি সেনাবাহিনীর সেনাপতি হিসেবে লড়াই করতে করতে তিনি শহীদ হন।

Saturday, May 25, 2019

একদিন এক মহিলা মূসা (আঃ) এর কাছে এসে বলল:-

একদিন এক মহিলা মূসা (আঃ) এর
কাছে এসে বলল, “আমি এক জঘন্য
মহা পাপ করে ফেলেছি। তাই
দয়া করে আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ
করুন যেন
তিনি আমাকে ক্ষমা করে দেন।”
মূসা(আঃ) বললেন, “তুমি কি করেছ?”
মহিলাটি বলল,
“আমি যিনা করেছি এবং পরে এর
ফলে যে সন্তান জন্মেছিল তাকেও
হত্যা করেছি।”
মূসা (আঃ) বললেন, “চলে যাও এখান
থেকে হে পাপী মহিলা!
তা না হলে তোমার পাপের
কারণে আকাশ থেকে আগুন
নেমে এসে আমাদের সবাইকে ধ্বংস
করে দেবে।”
মহিলাটি ভগ্ন হৃদয়
নিয়ে চলে গেল।
তখন জিবরাইল
(আঃ) নেমে আসলেন আর জিজ্ঞেস
করলেন, “হে মূসা! কেন আপনি এই
তওবাকারী মহিলাটিকে ফিরিয়ে দিলেন?”
আপনি কি এর চেয়েও জঘন্য, গুরুতর
পাপী সম্পর্কে জানেন না?”
মূসা (আঃ) বললেন, “এর চেয়ে গুরুতর
পাপী কে আছে?”
জিবরাইল (আঃ) বললেন,
“যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ও
নিয়মিত সালাত ত্যাগ করে।”
-নাউযুবিল্লাহ !!


সকলের কাছে পড়ার অনুরোধ রইল:-

সকলের কাছে পড়ার অনুরোধ রইল।

এক ব্যক্তি জঙ্গলে হাঁটছিলেন। হঠাৎ দেখলেন এক
সিংহ তার পিছু নিয়েছে। তিনি প্রাণভয়ে
দৌড়াতে লাগলেন। কিছুদূর গিয়ে একটি পানিহীন
কুয়া দেখতে পেলেন। তিনি চোখ বন্ধ করে দিলেন
ঝাঁপ। পড়তে পড়তে তিনি একটি ঝুলন্ত দড়ি দেখে তা
খপ করে ধরে ফেললেন এবং ঐ অবস্থায় ঝুলে রইলেন।
উপরে চেয়ে দেখলেন কুয়ার মুখে সিংহটি তাকে
খাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। নিচে চেয়ে
দেখলেন বিশাল এক সাপ তার নিচে নামার
অপেক্ষায় চেয়ে আছে। বিপদের উপর আরো বিপদ
হিসেবে দেখতে পেলেন একটি সাদা আর একটি
কালো ইঁদুর তার দড়িটি কামড়ে ছিড়ে ফেলতে
চাইছে। এমন হিমশিম অবস্থায় কি করবেন যখন
তিনি বুঝতে পারছিলেন না, তখন হঠাৎ তার সামনে
কুয়ার সাথে লাগোয়া গাছে একটা মৌচাক দেখতে
পেলেন। তিনি কি মনে করে সেই মৌচাকের মধুতে
আঙ্গুল ডুবিয়ে তা চেটে দেখলেন। সেই মধুর মিষ্টতা
এতই বেশি ছিল যে তিনি কিছু মুহূর্তের জন্য উপরের
গর্জনরত সিংহ, নিচের হাঁ করে থাকা সাপ, আর
দড়ি কাঁটা ইঁদুরদের কথা ভূলে গেলেন। ফলে তার
বিপদ অবিশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ালো।
ইমাম গাজ্জালী এই গল্পের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে
বলেনঃ
.ණ এই সিংহটি হচ্ছে আমাদের মৃত্যু, যে সর্বক্ষণ
আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
.ණ সেই সাপটি হচ্ছে কবর। যা আমাদের অপেক্ষায়
আছে।
.ණ দড়িটি হচ্ছে আমাদের জীবন, যাকে আশ্রয়
করেই বেঁচে থাকা।
.ණ সাদা ইঁদুর হল দিন, আর কালো ইঁদুর হল রাত,
যারা প্রতিনিয়ত ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের
আয়ু কমিয়ে দিয়ে আমাদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে
যাচ্ছে।
.ණ আর সেই মৌচাক হল দুনিয়া। যার সামান্য
মিষ্টতা পরখ করে দেখতে গেলেও আমাদের এই
চতুর্মুখি ভয়ানক বিপদের কথা ভূলে যাওয়াটা
বাধ্য....তাই আমাদের উচিত দুনিয়ার মায়াটা ত্যাগ
করে...কেয়ামতের কঠিন ভয়াবহ বিপদের কথা স্মরন
করে আল্লাহ কে ভয় করা....এবং আলাহ ও রাসূল (স:)
এর পথে চলা....!!!!
Facebook হবে সব চেয়ে বৃহত্তম virtual কবরস্থান।
.
আগামী ১০০ বছর পর অধিকাংশ Facebook ID গুলো মৃত পরে থাকবে। । শুধু থাকবে তাদের কর্ম।(like+comment
+upload)
.
১) যারা মানুষকে Love story শিখিয়েছে,তার শাস্তি তারা জাহান্নামে পাবে।
.
২) যারা অশ্লীল ও বেহায়াপনা মেয়েদের ছবি upload করেছে ,তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী তাদের Liker ও commenter দিবে।
.
৩) আর যারা ফেসবুককে আল্লাহর বাণী ও ইসলাম প্রচারের মাধ্যম বানিয়েছে তাদের পুরষ্কার আল্লাহ দিবেন।(ইনশাআল্লাহ্) .
ফেসবুকে কোনো অশ্লীল ছবি আপলোড দেওয়া থাকলে মৃত্যুর পরও তার পাপের বোঝা বাড়তে থাকবে। তার কবরে অনন্ত কাল ধরে পাপ পৌছাতে থাকবে। ফেসবুক ভার্চুয়াল দুনিয়া হলেও এই ছবি গুলো মানুষ দেখতে পাবে ও তাই এর হিসাব ও দিতে হবে।

হিসাব দিতে হবে আনাচেকানাচে করা ছোটো
খাটো খারাপ ভালো সব comment+
like এর। কারন তোমার সব কাজই লিখা হচ্ছে তোমার আমলনামায়
.
"So Be Carefull"
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তওফিক দান করুণ


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:-

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামায আদায় করোনা,কারণ সূর্য শয়তানের মাথার দুইপ্রান্তের মধ্যখান দিয়ে উদিত হয়। (বুখারী৪:৫৪:৪৯৪)
কতিপয়_কিছু_খাটি_কথাঃ
(১) পাথর শক্তিশালি, কিন্তু লোহার সাহায্যে তা ভাঙ্গা
যায়!
(২) লোহা শক্তিশালি ,কিন্তু আগুন তাকে নরম করতে
পারে!
(৩) আগুন শক্তিশালি ,কিন্তু জল তাকে নিভাতে পারে!
(৪) জল শক্তিশালি,কিন্তু মেঘ তাকে উড়িয়ে নিতে
পারে!
(৫) মেঘ শক্তিশালি, কিন্তু হাওয়া তাকে বহন করতে
পারে!
(৬) বাতাস শক্তিশালি, কিন্তু মানুষ তা বহন করতে পারে!
(৭) মানুষ শক্তিশালি, কিন্তু ভয় তাকে দুর্বল করতে
পারে!
(৮)ভয় শক্তিশালি, কিন্তু মদ তাকে ভুলিয়ে দিতে
পারে!
(৯)মদ শক্তিশালি, কিন্তু ঘুম তাকে ভুলিয়ে দিতে
পারে!
(১০) ঘুম শক্তিশালি, কিন্তু মৃত্যু অধিকতর শক্তিমান!
(১১)মৃত্যু অধিকতর শক্তিমান, কিন্তু তা আল্লাহর ইচ্ছায়
হয়!
তাই নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশক্তিমান!


একদিন মদীনার দুই ব্যক্তি একজন যুবককে:-

একদিন মদীনার দুই ব্যক্তি একজন যুবককে
টেনে হিছরে, অর্ধপৃথিবীর শাসক,খলীফা, হযরত
উমর (রা:) এর দরবারে হাজির করলো। এবং বিচার দাখিল
করলো যে,এই যুবক আমাদের পিতাকে হত্যা
করেছে। আমরা এর ন্যায় বিচার চায়।
তখন খলীফা (প্রধানমন্ত্রী) হযরত উমর (রা.)সেই
যুবককে প্রশ্ন করেন, তার বিপক্ষে করা দাবী
সম্পর্কে। তখন সেই যুবক বলেন,তাদের দাবী
সম্পুর্ণ সত্য।
আমি ক্লান্তির কারনে বিশ্রামের জন্য এক খেজুর
গাছের ছায়ায় বসলাম। ক্লান্ত শরীরে অল্পতেই
ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার
একমাত্র পছন্দের বাহন আমার উট টি পাশে নেই।
খুঁজতে খুঁজতে কিছু দূর গেয়ে পেলাম, তবে তা
ছিলো মৃত। পাশেই ওদের বাবা ছিলো। যে আমার
সেই উট কে তাদের বাগানে প্রবেশের
অপরাধে পাথর মেরে হত্যা করেছে।
আমি ও রাগান্বিত হয়ে তাদের বাবার সাথে তর্কাতর্কি
করতে করতে এক পর্যায়ে তাদের বাবার মাথায়
পাথর দিয়ে আঘাত করে ফেলি, ফলে সে
সেইখানেই মারা যায়। যা সম্পুর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে
হয়ে গেছে। যার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
বাদী'রা বলেন:- আমরা এত মৃত্যুদণ্ড চাই।
হযরত উমর রা. সব শোনে বললেন উট হত্যার
বদলে একটা উট নিলেই হতো, কিন্তু তুমি বৃদ্ধকে
হত্যা করেছো। হত্যার বদলে হত্যা, এখন
তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে। তোমার
কোন শেষ ইচ্ছা থাকলে বলতে পারো।
নওজোয়ান বললো, আমার কাছে কিছু ঋন ও
অন্যের কিছু আমানত আছে। আমাকে যদি কিছুদিন
সময় দিতেন তবে আমি বাড়ি গিয়ে আমানত ও ঋন গুলি
পরিশোধ করে আসতাম।
খলিফা হযরত উমর রা. বললেন তোমাকে একা
ছেড়ে দিতে পারি না। যদি তোমার পক্ষ থেকে
কাউকে জিম্মাদার রেখে যেতে পারো তবে
তোমায় সাময়িক মুক্তি দিতে পারি।
নিরাশ হয়ে নওজোয়ান বললো, এখানে আমার
কেউ নেই। যে আমার জিম্মাদার হবে।
একথা শুনে হঠাৎ মজলিসে উপস্থিত, আল্লাহর নবীর
এক সাহাবী হযরত আবু জর গেফারী রা. দাড়িয়ে
বললেন, আমি হবো ওর জামিনদার।
সাহাবী হযরত আবু জর গেফারী রা. এই উত্তরে
সবাই হতবাক। একেতো অপরিচিত ব্যক্তি তারউপর
হত্যার দন্ড প্রাপ্ত আসামীর জামিনদার
খলিফা বললেন আগামি শুক্রবার জুম্মা পর্যন্ত
নওজোয়ানকে মুক্তি দেওয়া হলো। জুম্মার
আগে নওজোয়ান মদিনায় না আসলে
নওজোয়ানের বদলে আবু জরকে মৃত্যুদন্ড
দেওয়া হবে।
মুক্তি পেয়ে নওজোয়ান ছুটলো মাইলের পর
মাইল দূরে তার বাড়ির দিকে। আবুজর রা. চলে
গেলেন তাঁর বাড়িতে।এদিকে দেখতে দেখতে
জুম্মাবার এসে গেছে, নওজোয়ানের কোন
খবর নেই।
হযরত উমর রা. রাষ্ট্রীয় পত্রবাহক পাঠিয়ে দিলেন
আবুজর গিফারি রা. এর কাছে। পত্রে লিখা আজ
শুক্রবার বাদ জুমা সেই যুবক যদি না আসে আইন
মোতাবেক আবুজর গিফারির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা
হবে। আবুজর যেন সময় মত জুমার প্রস্তুতি নিয়ে
মসজিদে নববীতে হাজির হয়।
খবর শোনে সারা মদীনায় থমথমে অবস্থা।
একজন নিষ্পাপ সাহাবী আবুজর গিফারী আজ বিনা
দোষে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবে।
জুমার পর মদিনার সবাই মসজিদে নববীর সামনে
হাজির। সবার চোখে পানি। জল্লাদ প্রস্তুত।
জীবনে কতজনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছে তার হিসাব
নেই। কিন্তু আজ কিছুতেই চোখের পানি
আটকাতে পারছে না। আবুজরের মত একজন
সাহাবী সম্পূর্ন বিনা দোষে আজ মৃত্যুদন্ডে
দন্ডিত হবে, এটা মদীনার কেউ মেনে নিতে
পারছে না। এমনকি মৃত্যুদন্ডের আদেশ
প্রদানকারী খলিফা উমর রা. ও অনবরত কাঁদছেন। তবু
আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কারো
পরিবর্তনের হাত নেই। আবু জর রা. তখন ও
নিশ্চিন্তে মনে হাসি মুখে দাড়িয়ে মৃত্যুর জন্য
প্রস্তুত। জল্লাদ ধীর পায়ে আবু জর রা. এর দিকে
এগুচ্ছেন আর কাদছেন। আজ যেন জল্লাদের পা
চলে না। পায়ে যেন কেউ পাথর বেঁধে
রেখেছে।
এমন সময় এক সাহাবী জল্লাদকে বললো, হে
জল্লাদ একটু থামো। মরুভুমির ধুলার ঝড় উঠিয়ে ঐ
দেখ কে যেন আসতেছে। হতে পারে ঐটা
নওজোয়ানের ঘোড়ার ধুলি। একটু দেখে নাও,
তারপর না হয় আবু জরের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করিও।
ঘোড়াটি কাছে আসলে দেখা যায় সত্যিই এটা ঐ
নওজোয়ান। নওজোয়ান দ্রুত খলিফার সামনে এসে
বললো, হুযুর বেয়াদবি মাফ করবেন। রাস্তায় যদি
ঘোড়ার পা'য়ে ব্যাথা না পেত,তবে সঠিক সময়েই
আসতে পারতাম।
বাড়িতে আমি একটুও দেরী করি নাই। বাড়ি পৌছে
গচ্ছিত আমানত ও ঋন পরিশোধ করি এবং তারপর বাড়ি
এসে বাবা, মা এবং নববধুর কাছে সব খুলে বলে
চিরবিদায় নিয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে মদীনার
উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এখন আবু জর রা. ভাইকে
ছেরে দেন, আমাকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে পবিত্র
করুন। কেয়ামতে খুনি হিসেবে আল্লাহর সামনে
দাঁড়াতে চাই না।
আশেপাশে সব নিরব থমথমে অবস্থা।
সবাই হতবাগ, কি হতে চলেছে।
যুবকের পুনরায় ফিরে আসাটা অবাককরে দিলো
সবাইকে। খলিফা হযরত উমর রা. বললেন, তুমি জানো
তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, তারপরে ও
কেন ফিরে এলে।
উত্তরে সেই যুবক বলে:- আমি ফিরে এসেছি,
কেউ যাতে বলতে না পারে, এক মুসলমানের
বিপদে আরেক মুসলামান সাহায্য করতে এগিয়ে
এসে নিজেই বিপদে পড়ে গেছিলো।
এবার হযরত উমর রা. হযরত আবু জর গেফারী রা.
কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কেন না চেনা
সত্যেও এমন জামিনদার হলেন।
উত্তরে হযরত আবু জর গেফারী রা. বললেন,
পরবর্তি কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান
বিপদে পড়েছিলো, অতচ কেউ তাকে সাহায্য
করতে আসেনি।
এমন কথা শুনে, হঠাৎ, বৃদ্বার দুই সন্তানের মাঝে
একজন বলে উঠলেন, হে খলীফা, আপনি তাকে
মুক্ত করে দিন। আমরা তার উপর করা দাবী তুলে
নিলাম।
হযরত উমর রা. বললেন, কেন.?
তাদের মাঝে একজন বলে উঠলো, কেউ যেন
বলতে না পারে,এক মুসলমান অনাকাঙ্ক্ষিত ভূল করে
নিজেই শিকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরে ও অন্য
মুসলমান তাকে ক্ষমা করেনি।
#সুবহানাল্লাহ ( হায়াতুস সাহাবা:-৮৪৪)


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :-

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
কোন বেগানা
নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যেনা,
অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যেনা, অবৈধভাবে
কাউকে স্পর্শ করা হাতের যেনা, ব্যাভিচারের
উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যেনা, খারাপ কথা
শোনা কানের যেনা আর যেনার কল্পণা করা ও
আকাংখা করা মনের যেনা । অতঃপর লজ্জাস্থান একে
পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়”।
( সহীহ আল- বুখারী, সহীহ আল-মুসলিম, সুনানে
আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসায়ী )
যেনা হারামঃ আল্লাহ তাআ’লা যেনাকে হারাম ঘোষণা
করে বলেনঃ “তোমরা যেনার কাছেও যাবে না।
কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ”। ( সূরা
বনী ইসরাঈলঃ ৩২ )
যেনার শাস্তিঃ রাসুল ﷺ বলেছেনঃ
“আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার
উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত
আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী
পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল । আগুনের শিখা উপরে
আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত
হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা
চলছিল, আমি জিবরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে
জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা ? জিবরাইল আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললঃ তারা হল, অবৈধ যৌনচারকারী নারী
ও পুরুষ । ( সহীহ আল-বুখারী )
যিনা বিভিন্ন প্রকার হতে পারে । নিজের স্ত্রী
ব্যতীত অন্য মহিলার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করাকে
যৌনাঙ্গের যিনা বলে । এছাড়া চোখের যিনা হচ্ছে
মাহরাম ব্যতীত অন্য মহিলার দিকে কামনার দৃষ্টি
নিক্ষেপ করা । মুখের বা জিহ্বার যিনা হচ্ছে
কামভাবে কথা বলা (বুখারী , ফাতহুল বারী হা/৬২৪৩ ,
১১/৩০) ।
অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং
বিবাহিতের শাস্তি হচ্ছে রজম (কোমর পর্যন্ত
পুতে পাথর মেরে হত্যা) (ইবনু মাজাহ হা/২৫৫০ ;
ইরওয়া হা/২৩৪১) ।
উল্লেখ্য , দেশের শাসক বা তার প্রতিনিধিই কেবল
এই শাস্তি কার্যকর করতে পারেন (ফাতাওয়া লাজনা
দায়িমাহ , ২২/৩৫) ।
যিনা-ব্যভিচার কবিরাহ গুনাহ । তওবা ব্যতীত এ গোনাহ
মাফ হয় না । ব্যভিচারী ব্যক্তি ঐ গর্হিত কর্ম থেকে
ফিরে এসার জন্য অনুতপ্ত হয়ে খালেছ অন্তরে
তওবা করলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন
# ইনশাআল্লাহ
(তওবা-৮২ ; ফুরকান-৬৮-৭০) ।
বনী_ইসরাঈলের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল অত্যন্ত
পাপী, সে ২০০ বছর পর্যন্ত আল্লাহর নাফরমানী
করেছে!!
যখন সে মৃত্যুবরণ করে মানুষেরা তাকে এমন
স্থানে নিক্ষেপ করল, যেখানে আবর্জনা ফেলা
হতো। তখন হযরত মুসা (আঃ) এর প্রতি ওহী এলো
যে, লোকটিকে ওখান থেকে তুলে যেন, তার
ভালভাবে জানাযার নামায পড়ে তাঁকে দাফন করা হয়!!!!!!!!
হযরত মুসা (আঃ) আরজ করলেন,,, হে আল্লাহ!
বনী ইসরাঈল সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, লোকটি ২০০
বছর পর্যন্ত তোমার নাফরমানী করেছিল!!
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন , হ্যাঁ, তবে তার একটি ভাল
অভ্যাস ছিল!!! যখন সে তাওরাত শরীফ তেলওয়াত
করতো, যতবার আমার হাবীব , সরকারে দু' আলম,
নূরে মোজাচ্ছাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর
নাম মোবারক দেখত , তখন সে ততবার চুম্বন
করে চোখের উপর রাখত এবং উনার প্রতি দুরূদ
শরিফ পাঠ করত।।।
এজন্যই আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং সত্তর
জন হুর স্ত্রী স্বরূপ তাকে দান করেছি।’’ ,
সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ
☆☆☆☆
মুসা নবীর উম্মত, যে ২০০শত বছর গুনাহ করে
কাটিয়েছে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ থাকে মাফ করে
দিলেন আমার নবীজী-কে ভালোবেসে উনার
উপরে দুরুদ শরীফ পড়ার কারনে......
একবার চিন্তা করুন, আপনি সেই নবীর উম্মত
হয়ে কতটুকু ভালোবাসতে পেরেছেন, দিন
রাতে কতবার দুরুদ শরীফ পড়ে থাকেন..??


Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻