Saturday, May 25, 2019

সাজনার গুনাগুন:-

সাজনার গুনাগুন



            
➢ ইংরেজিতে সাজনার নাম 'ড্রামস্টিক' যার অর্থ ঢোলের লাঠি। সাজনার ইংরেজি নামটি অদ্ভুত হলেও এটি একটি অতি প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী উদ্ভিদ। বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে নানা রকমের গবেষণা হয়েছে; বিশেষ করে এ গাছ হরমোন বর্ধক ঔষধি গুণসম্পন্ন, কাগজ তৈরি ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এটি সবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

➢ দেশের সর্বত্রই সাজনা পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্রামের রাস্তার ধারে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে এ বৃক্ষটি। সাজনার ফুল ও পাতা শুধু শাক হিসেবেই নয়, পশু খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার হয়। এর পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়_ এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচিবর্ধক হয়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। ভারতীয়রা এটির স্যুপ খেয়ে থাকে। এ সময় ঋতু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেকেরই মুখে স্বাদ থাকে না। আর এ স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে সাজনার জুড়ি নেই। সজিনা গাছটির প্রতি আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও এর ডাঁটা সব মানুষই পছন্দ করে। আমরা জানি, সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য। তবে সাজনা শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ওষুধি বৃক্ষও বটে।

➢ সাজনার ফুল বসন্তকালে খাওয়া ভালো কারণ এটি বসন্ত প্রতিষেধক।
এটি সর্দি কাশিতে, যকৃতের কার্যকারিতায়, কৃমি প্রতিরোধে, শক্তি বৃদ্ধিতে ফলদায়ক।
এর ডাঁটা বা ফলে প্রচুর এমাইনো এসিড আছে। এটি বাত রোগীদের জন্য ভালো।
সাজনার বীজ থেকে তেলও পাওয়া যায়, যা বাতের ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে এবং ঘড়ি ঠিক করার জন্য যে বেল ওয়েল ব্যবহার হয় তা এর বীজ হতে পাওয়া যায়।

➢ সাজনা চরম পরিবেশগত অবস্থা সহ্য করতে সক্ষম। তবে ২০ হতে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালো জন্মায় এবং যেসব এলাকায় ২৫০ থেকে ১৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় সেখানে ভালো জন্মায়। মাটি বেলে দোঁআশ থেকে দোঁয়াশ এবং পিএইচ ৫.০ থেকে ৯.০ সম্পন্ন মাটি সহ্য করতে পারে। সজিনা চাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। কারণ সজনার বিস্তৃত ও গভীর শিকড় রয়েছে। তবে ইউরিয়া এবং জৈব সার প্রয়োগ করলে গাছ ভালো হয়। এ বৃক্ষটি বীজ ও ডালের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা সম্ভব। তবে আমাদের দেশে বীজ থেকে চারা তৈরি করে চাষাবাদের রীতি এখনো অনুসরণ করা হয় না। কারণ বীজ থেকে চারা তৈরি ব্যয়বহুল।
➢ বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে এপ্রিল-মে মাসে গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করতে হবে, তারপর সেটিকে শুকিয়ে ফাটলে বীজ পাওয়া যাবে। এ বীজ শুকনো বায়ুরোধী পাত্রে ১-৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখতে পারি। তার পর জুলাই-আগস্টে বীজতলায় অথবা পলি ব্যাগে বপন করতে পারি। বীজ বপনের আগে বীজগুলোকে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে বীজ থেকে চারা গজাতে সুবিধা হয়।
বীজ থেকে চারা বের হতে সময় লাগে ১০ থেকে ২০ দিন। চারা বের হওয়ার পর নিয়মিত সেচ, সার প্রয়োগ ও অন্যান্য যত্ন পরিচর্যা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো যে, বীজ থেকে সজিনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডাল পুঁতে অঙ্গজ বংশবিস্তারের চেয়ে দেরিতে ফল আসে। আমাদের দেশে ডাল পুঁতে অঙ্গজ উপায়ে বংশ বিস্তার পদ্ধতিটি বেশি ব্যবহৃত হয়। তার কারণ হলো, এটি করতে তেমন দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। আর খরচও কম, অঙ্গজ বংশবিস্তারের জন্য ৪-৫ ব্যাসের বা বেডের ৫-৬ হাত লম্বা নিরোগ ডাল এবং আঘাতমুক্ত ডাল ব্যবহার করা ভালো। নতুন লাগানো গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে শীঘ্রই শিকড় গজাতে পারে। শুষ্ক ও গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রায় দুই মাস সেচ দিতে হবে। তবে সাজনার গাছ একবার লেগে গেলে তেমন পানির প্রয়োজন হয় না।

সজিনার গাছে তুলনামূলক কীট-পতঙ্গ ও রোগ সহনশীলভাবে মাঝে মাঝে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। যেমন জলাবদ্ধ মাটিতে শিকড় পচা রোগ দেখা দিতে পারে এর কারণ ডিপ্লোডিয়া। কীট-পতঙ্গ শুষ্ক ও ঠাণ্ডায় বেশি আক্রমণ করে। কীট-পতঙ্গ দ্বারা গাছে হলুদ রোগ দেখা যায়। কীট-পতঙ্গের মধ্যে টারমাইটস, এফিড, সাদা মাছি প্রধান।
সজিনার পাতা বেটে ফোঁড়া বা টিউমারে লাগালে বহু ক্ষেত্রে মিলিয়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যথার উপশম হয়।
স্বাদে ও গুণে ভরপুর সজিনা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করা লাভজনক। কারণ অন্যান্য সবজির মতো এর উৎপাদনে তেমন ঝুঁকি নেই এবং লাভজনক।


➢ সজনে ডাটা :
➢ সজনে গাছ খনিজ পাওয়ার হাউস ভারতে সবচেয়ে সাধারণ গাছ বলা. তার পাতা, ফল, ফুল, ছাল ও বীজ ঔষধি মান আছে এবং সব খাবারের মধ্যে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়. কার্ডিয়াক রোগ প্রতিরোধ অমূল্য; গবেষকরা পাতার পুষ্টিমান কমলালেবু মধ্যে 7 বার ভিটামিন সি প্লাস দুধে 4 বার ক্যালসিয়াম প্লাস 3 বার পটাসিয়াম কলা প্লাস 2 বার প্রোটিন দুধে প্লাস গাজর মধ্যে 4 বার ভিটামিন এ সমতূল্য বলে উল্লেখ করেছে. এটা সম্ভাব্য ব্যবহারের বিভিন্ন ধরনের সঙ্গে একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি গাছ. এটা ব্যাকটেরিয়ারোধী এবং একটি বিস্ময়কর cleanser.It খাবার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে Moringa ট্রি হিসাবে প্রায় প্রতিটি অংশ, বিশ্বের সবচেয়ে দরকারী গাছ এক বিবেচনা করা হয় বা অন্য কিছু উপকারী সম্পত্তি আছে. এ কবলিত রোগের বিরুদ্ধে সাহায্য করার জন্য একটি বিপাকীয় কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করা হয় ক্রান্তীয় অঞ্চলে, এটা লাইভস্টক জন্য ঘাস হিসাবে ব্যবহার করা হয়, এবং অনেক দেশে, Moringa মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট তরল, একটি প্রাকৃতিক anthelmintic (অন্য ড্রাগ এইড বা উন্নত) এবং সহযোগিতা (প্যারাসাইট নিহত) উন্নয়নশীল

➢ দেশ.আফ্রিকার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার উদ্ভিদ, এই সামান্য পরিচিত সবজি, পুষ্টি উন্নত খাদ্য নিরাপত্তা, ফস্টার পল্লী উন্নয়ন অনুমোদন, এবং টেকসই landcare সমর্থন করার সম্ভাবনা রয়েছে.
পাতার বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে, অত্যন্ত পুষ্টিকর. পাতার রান্না ও লতাপাতা মত ব্যবহার করা হয়. শাক জন্য একটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে তাজা ছাড়াও, তার পাতার সাধারণভাবে শুষ্ক হয় এবং একটি পাউডার মধ্যে গুঁড়ো, এবং সূপ এবং sauces ব্যবহৃত. এটা স্থানীয়ভাবে তামিলনাড়ু ও কেরালার পরিচিত হিসাবে Murungakai, সিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার করা হয়. বৃক্ষ ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস জন্য একটি ভাল উৎস
Moringa একটি পাতা এবং pods স্তন্যপান করানো মাসে স্তন্য বৃদ্ধি সহায়ক. পাতার গুঁড়ো এক ঝোল খাত্তয়ার জন্য প্রোটিন 14ভাগ, ক্যালসিয়াম 40ভাগ, আয়রন 23ভাগ এবং প্রদান থেকে তিন এক বছর বয়সী একটি শিশু ভিটামিন এ চাহিদার অধিকাংশ. পাতার গুঁড়ো ছয় চামচ গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যপান করানো সময় প্রায় সব মহিলার দৈনিক আয়রন এবং ক্যালসিয়াম চাহিদার প্রদান করবে.

➢ এটা সাধারণত, Moringa পাতার গাজর বেশী ভিটামিন এ, দুধ বেশী ক্যালসিয়াম, লতাপাতা বেশী আয়রন, কমলালেবু বেশী ভিটামিন সি, এবং কলা বেশী পটাসিয়াম ধারণ করে বলেন, এবং একটি Moringa প্রোটিন মানের পাতার প্রতদ্বন্দী হয় দুধ যে ও ডিম. [তথ্যসূত্র প্রয়োজন] যাইহোক, এম oleifera পাতা এবং কান্ড ক্যালসিয়াম oxalate স্ফটিক মধ্যে আবদ্ধ তাদের ক্যালসিয়াম, বিশাল পরিমাণ আছে পরিচিত, [8] শরীর থেকে পাওয়া ক্যালসিয়ামের একটি ফর্ম নয় যা. দুধ বেশী ক্যালসিয়াম এর দাবি কিনা এই অ bioavailable ক্যালসিয়াম সুরাহা করা প্রয়োজন রয়েছে. সজনে এর পুষ্টিগুণ Nutritionaly, সজনে pods এবং পাতার সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা পাতা, ফুল ও সজনে ফল মহান পৌষ্টিক মান আছে acrotene, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন সি এর উৎস হিসেবে মহান মূল্য হয়. টেন্ডার ফল samber ও দক্ষিণ ভারতীয় বাড়িতে সবচেয়ে ডিশ ব্যবহার করা হয়. পাতা এবং ফুল তরকারি এবং পিষ্টক প্রস্তুত করার জন্য ব্যবহৃত হয়. বাষ্পের - 86,9ভাগ ক্যালসিয়াম - 30 মিলিগ্রাম প্রোটিন - 2.5ভাগ ফসফরাস - 110 মিলিগ্রাম ফ্যাট - 0.1ভাগ আয়রন - 5.3 মিলিগ্রাম ভিটামিন সি - 120 মিগ্রা ফাইবার - 4.8ভাগ ভিটামিন বি কমপ্লেক্স - অল্প পরিমাণ খনিজ - 2.0ভাগ * 100 গ্রাম এর ভোজ্য অংশ প্রতি মূল্যবোধ শর্করা - 3.7ভাগ তাপন মূল্য - 26 সাজনা ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, এবং আফগানিস্তানের উপ-হিমালয় এলাকায় নেটিভ যে একটি উদ্ভিদ ৷ এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষ করা হয়৷ পাতা, বাকল, ফুল, ফল, বীজ, এবং root- র মেডিসিন করতে ব্যবহার করা হয়৷ সাজনা ক্লান্ত রক্ত (রক্তাল্পতা) জন্য ব্যবহার করা হয়; জন্ম ও পরিবার পরিকল্পনা এবং অন্যান্য জয়েন্টের ব্যাথা (বাত); হাঁপানি; মিশ্রন বর্ণচিহ্ন; কোষ্ঠকাঠিন্য; ডায়াবেটিস; ডায়রিয়া; মৃগীরোগ; পেট ব্যথা; অন্ত্রের আলসার stomachand; অন্ত্রের আক্ষেপ; মাথা ব্যাথা; হার্টের সমস্যা; উচ্চ রক্তচাপ; কিডনি; তরল ধারণ; থাইরয়েড রোগ; এবং ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকজনিত, ভাইরাসজনিত, এবং পরাশ্রয়ী সংক্রমণ৷ সাজনা এছাড়াও, ফোলা কমাতে (একটি কামোদ্দীপক হিসাবে) সেক্স ড্রাইভ বৃদ্ধি, গর্ভধারণ রোধ, ইমিউন সিস্টেম অনুমোদন, এবং বুকের দুধের উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহার করা হয়৷ কিছু কিছু লোকের একটি পুষ্টিকর সম্পূরক বা টনিক হিসাবে এটি ব্যবহার৷ সাজনা কখনও কখনও একটি জীবাণু-হত্যাকারী বা শোষক এজেন্ট (ধারক) হিসাবে ত্বকের সরাসরি প্রয়োগ করা হয়৷ এটি সংক্রমণের পকেট (abscesses), ক্রীড়াবিদ এর পাদদেশ, খুশকি, আঠা রোগ (gingivitis), snakebites, warts, এবং ক্ষত চিকিত্সার জন্য topically ব্যবহৃত হয়৷ সাজনা বীজ থেকে তেল খাবার, সুগন্ধি, চুলের যত্ন পণ্য ব্যবহৃত, এবং একটি মেশিন পিচ্ছিলকারক পদার্থ ব্যবহার করা হয়৷ সাজনা বিশ্বের কিছু অংশে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস৷ এটা সস্তায় এবং সহজেই উত্থিত করা যাবে, এবং শুকনো পাতার যখন, সাজনা অপুষ্টি লড়াই খাওয়ান প্রোগ্রাম ভারত ও আফ্রিকা ব্যবহার করা হয় ভিটামিন এবং খনিজ প্রচুর বজায় রাখা কারণ৷ বীজ আরো পরিপক্ক pods থেকে সরানো হয়েছে এবং বাদাম মত ডাল বা রোস্ট মত রান্না হয় যখন অপূর্ণাঙ্গ সবুজ pods (drumsticks), সবুজ মটরশুটি একইভাবে প্রস্তুত করা হয়৷ পাতার রান্না এবং শাক মত ব্যবহার করা হয়, এবং তারা শুকনো এবং একটি আচার হিসাবে ব্যবহারের জন্য চূর্ণ হয়৷ তেল নিষ্কাশন পর অবশিষ্ট বীজ পিষ্টক একটি সার হিসাবে ব্যবহার করা হয় এবং ভাল জল বিশুদ্ধ করা এবং নোনা জল থেকে লবণ মুছে ফেলার জন্য৷ সাজনা হেল্থ বেনিফিট সাজনা উদ্ভিদ রাখা বিশ্বের দরিদ্র সম্প্রদায়ের লক্ষ লক্ষ অঙ্গীকার যে অনন্য পুষ্টির গুণাবলী possesses যারা প্রোটিন, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন মত পুষ্টির কাজী নজরুল ইসলাম প্রয়োজন৷ সাজনা সবুজ শাক (পাতা) সমগ্র উদ্ভিদ রাজ্যে কোন স্থান আজ এবং শাক-সবুজ শাক জন্য একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য যা প্রোটিন একটি চমৎকার উৎস৷ তাজা কাঁচা পাতা 100 গ্রাম প্রোটিন 9৷8 গ্রাম বা দৈনিক-প্রয়োজনীয় মাত্রা প্রায় 17৷5ভাগ বহন৷ শুকনো, চূর্ণ পাতা প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন মানের অ্যামিনো অ্যাসিড অনেক-কেন্দ্রীভূত উৎস৷ টাটকা pods এবং বীজ oleic অ্যাসিড, একটি স্বাস্থ্য-কল্যাণে monounsaturated চর্বি একটি ভাল উৎস৷ সাজনা, একটি উচ্চ মানের তৈলবীজ ফসল হিসাবে, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অনেক খরা প্রবণ অঞ্চলে জনসংখ্যার পুষ্টি মাত্রা উন্নত অন্যথায় উত্থিত করা যাবে৷ তাজা পাতা এবং সাজনা জন্মানোর টিপস ভিটামিন এ ধনী উৎস তাজা পাতার বহন 7564 ইবি বা ভিটামিন দৈনিক-প্রয়োজন মাত্রা 252ভাগ 100 গ্রাম হয়! ভিটামিন এ শ্লেষ্মা ঝিল্লী মেরামতের, চামড়া অখণ্ডতা, দৃষ্টি, এবং অনাক্রম্যতা রক্ষণাবেক্ষণ সহ বেশ কিছু সুবিধা, প্রস্তাব চর্বি দ্রবণীয় এন্টি অক্সিডেন্ট এক৷ টাটকা সাজনা pods এবং পাতার ভিটামিন-সি এর একটি চমৎকার উৎস৷ Pods 100 গ্রাম 145 μg বা ভিটামিন-সি দৈনিক-প্রয়োজন মাত্রা 235ভাগ ধারণ করে৷ সবুজ শাক 100 গ্রাম এই ভিটামিন দৈনিক প্রস্তাবিত ভোজনের মান 51৷7 μg বা 86ভাগ প্রদান৷ গবেষণা গবেষণা শারীরিক সংক্রামক এজেন্ট বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা বিকাশ, এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর অক্সিজেন মৌলে ময়লা সাফ করতে সাহায্য করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল / সবজি যে খরচ দেখানো হয়েছে৷ সবুজ শাক হিসেবে pods যেমন folates, ভিটামিন-বি 6 (পাইরিডক্সিন), থিয়ামিন (ভিটামিন বি -1), riboflavin, pantothenic অ্যাসিড, এবং নিয়াসিন অনেক অত্যাবশ্যক ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ভাল পরিমাণে ধারণ করে৷ কার্বোহাইড্রেট সহ-এনজাইম, প্রোটিন, এবং মেদ বিপাক এই ভিটামিন ফাংশন অনেক৷ উপরন্তু, তার সবুজ শাক (পাতা) ক্যালসিয়াম, আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, এবং ম্যাগনেসিয়াম মত খনিজ শেখ উত্স এক৷ আয়রন রক্তাল্পতা alleviates৷ ক্যালসিয়াম হাড় ধাতব পরিণতি জন্য প্রয়োজন বোধ করা হয়৷ দস্তা চুল বৃদ্ধি, spermatogenesis, এবং চামড়া স্বাস্থ্যের অধিকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ সজনে পাতা ওষধ তৈরির কাজে ও সজনে পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে। ১০০ গ্রাম সজনে পাতায় প্রচুর পানি থাকা ছাড়াও ৬.৭ গ্রাম পোটিন, ১.৭ গ্রাম চর্বি, ১২.৫ গ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায় । এছাড়া ও সজনে পাতায় কিছু পরিমানে ভিটামিন এ,বি এবং আঁশজাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায়। উল্লেখিত তথ্য থেকে একটি কথা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, সজনে পাতা বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি-র উৎকৃষ্ট উৎস। সজনে পাতায় তৃপ্তিদায়ক গুণ ও থাকে । এই পাতা ভেজে, অন্যান্য সবজির সঙ্গে তরকারি করে খাওয়া ছাড়াও পিঠাগুঁড়োর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে তৃপ্তি পাওয়া যায়। পাশপাশি সজনে পাতায় ঔষধি গুণ সম্পর্কে আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানান, কোমন সজনে পাতা শাক হিসাবে বসন্তকালে খেলে বসন্ত রোগ প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়াও সর্দি, জ্বর, কাশি, যকৃৎ প্লীহারোগও কৃমি রোগে সজনে পাতা দারুণ কাজ দেয়,কোন, ও আঘাতের ফলে শরীরের কোনও অংশ ফুলে গেলে বা ব্যথা হলে, কোমল সজনে পাতা বেটে নির্দিষ্ট জায়গায় সামান্য গরম করে লাগালে ব্যথা এবং ফুলাও কমে যায়। সজনে পাতার ব্যবহার সম্পর্কে ভেষজ বিশারদরা বলেন,চোখে ব্যথা হলে সজনে পাতার রসের সঙ্গে ২/৩ ফোঁটা শুদ্ধ মধু মিশিয়ে লাগালে,চোখের ব্যথা দূর হয়। এ সমস্থ তথ্য একটি কথা পরিষ্কার যে, সজনে ডাটাই নয়,সজনে পাতাও আমাদের উপকার করে। উল্লেখ্য, সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাসেই কোমল সজনে পাতা বের হয়। তাই সে সময় এটিকে শাক হিসাবে খেলে পুষ্টি, তুপ্তি পাওয়া ছাড়াও এর ঔষধি গুণ থেকে ও উপকার পাওয়া যায়। ১.মুখে রুচি বাড়েঃ সজনে ডাঁটার মতো এর পাতারও রয়েছে যথেষ্ট গুণ। সজনে পাতা শাক হিসেবে, ভর্তা করেও খাওয়া যায়। এতে মুখের রুচি আসে। ২.শ্বাসকষ্ট ও হেচকি কমানোতেঃ সজনে পাতার রস খাওয়ালে শ্বাসকষ্ট সারে ও হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়।তাছাড়া পাতাকে অনেকক্ষণ সিদ্ধ করে তা থেকে যেই ঘন রস পাওয়া যায় হিং (এক ধরনের বৃক্ষ বিশেষ) ও শুকনো আদার গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়ালে পেটের গ্যাস বেরিয়ে যায়। ৩.রক্ত চাপ কমাতেঃ বার্মিজ চিকিৎসকদের মতে সজনের পাকা পাতার টাটকা রস দু’বেলা খাবাবের ঠিক আগে ২-৩ চা চামচ করে খেলে উচ্চ রক্ত চাপ কমে যায়। তবে ডায়াবেটিস থাকলে তা খাওয়া নিষেধ। ৪.সজনে পাতার বেটে অল্প গরম করে ফোঁড়ার ওপর লাগালে ফোঁড়া ফেটে যায়। ৫.সজনে পাতার রস মাথায় ঘষলে খুসকি দূর হয়। ৬.সজনা পাতার রসে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার ক্ষমতাও রয়েছে। পর্ব - ৩ বহুরুপি সাজনা - সাজনা আমাদের দেশে একটি বহুল পরিচিত বৃক্ষ, যার কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। সাজনা পাতা শাকের মতো রান্না করে আহারের সময় অল্প পরিমাণে খেলে বল বৃদ্ধি পায় ও ক্ষুধা বাড়ে। পাতা কেটে ফোঁড়া বা টিউমারে দিলে উপকার পাওয়া যায়। সজিনা পাতাকে শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এতে তাদের শ্রমজনিত ক্লান্তি, শরীরের ব্যথা ইত্যাদি দূর হয়। সজিনা ফুল শাকের মতো রান্না করে বসন্তকালে খেলে বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ হয়। এছাড়া সর্দি, কাশিতে, শোথে, প্লীহা ও যকৃতের কার্যকারিতা কমে গেলে এবং কৃমিনাশক হিসেবে সজিনা ব্যবহার করা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, সজিনা ডাঁটা অ্যামাইনো এসিডসমৃদ্ধ, যা দেহের পাশাপাশি বাতের জন্যও খুব উপকারী। সজিনা বীজের তেল আমাদের দেশে তেমন পাওয়া যায় না। একে ‘বেন অয়েল‘ বলে। বাতের ব্যথায় তা ভালো কাজ দেয়। কুষ্ঠ রোগে বীজের তেল অথবা বীজের তেলের অভাবে বীজ বেটে প্রলেপ দিলে উপকার হয়। সজিনা মূল ও বীজ সাপে কামড়ানোর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া মূলের ছালের প্রলেপে দাদ উপশম হয়।বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে নানা রকমের গবেষণা হয়েছে; বিশেষ করে এ গাছ হরমোন বর্ধক ঔষধি গুণসম্পন্ন, কাগজ তৈরি ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এটি সবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এর পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়_ এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচিবর্ধক হয়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। ভারতীয়রা এটির স্যুপ খেয়ে থাকে। এ সময় ঋতু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেকেরই মুখে স্বাদ থাকে না। আর এ স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে সাজনার জুড়ি নেই। সজিনা গাছটির প্রতি আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও এর ডাঁটা সব মানুষই পছন্দ করে। আমরা জানি, সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য। তবে সাজনা শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ওষুধি বৃক্ষও বটে। সজিনার পাতা বেটে ফোঁড়া বা টিউমারে লাগালে বহু ক্ষেত্রে মিলিয়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যথার উপশম হয়। সজিনা ৩০০ প্রকার ব্যাধির প্রতিষেধক হিসেবে ব্যাবহৃত হয়।শরীরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ভিটামিনের সাথে আবশ্যকীয় প্রায় সবগুলি এমাইনো এসিড সজিনা পাতায় বিদ্যমান বলে বিজ্ঞানীরা একে “পুষ্টির ডিনামাইট ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । এ্যানিমিয়া, জয়েন্ট পেইন, ক্যান্সার, কোষ্টকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, হার্ড পেইন, ব্লাড পেসার, কিডনিতে পাথর, মায়ের দুধ বৃদ্ধিকরাসহ বিভিন্ন ঔষধি গুনাগুন রয়েছে বলে পুষ্টি বিশেজ্ঞ FNSK জানিয়েছেন। পুরুষের যৌনশক্তি বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী করে, মেয়েদের বিলুপ্ত যৌন বাসনাকে উজ্জীবিত ও দীর্ঘায়িত করে। সজিনা গাছকে প্রচলিত বিভিন্ন খাদ্য প্রজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন উদ্ভিদ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বহুবিধ খাদ্যগুণ সম্পন্ন হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় সজিনা গাছকে “যাদূর গাছ” হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় । গুনাগুনঃ ১। শরীর ব্যাথাঃ শরীরের কোন স্থানে ব্যথা হলে বা ফুলে গেলে সজিনার শিকড় বেটে প্রলেপ দিলে ব্যথা এবং ফোলা সেরে যায়। ২। কান ব্যথাঃ শেকড়ের রস কানে দিলে কানের ব্যথা ভাল হয়ে যায়। ৩। মাথা ব্যথাঃ সজিনার আঠা দুধের সাথে খেলে মাথা ব্যথা সেরে যায়। আঠা কপালে মালিশ করিলে মাথা ব্যথা সেরে যায়। ফোড়া হলে সাজিনার আঠা প্রলেপ দিলে সেরে যায়। ৪। মুত্রপাথরীঃ সজিনা ফুলের রস দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে মুত্রপাথরী থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ৫। হাপানীঃ ফুলের রস হাপানী রোগে বিশেষ উপকারী। ৬। শিশুদের পেটের গ্যাসঃ সজিনা পাতার রসের সাথে লবণ মিশিয়ে খেতে দিলে বাচ্চাদের পেটে জমা গ্যাস দূর হয়। ৭। কুকুরে কামড়েঃ সজিনা পাতা পেষণ করে তাতে রসুন, হলুদ, লবণ ও গোল মরিচ মিশিয়ে সেবন করলে কুকুরের বিষ নষ্ট হয়। ৮। জ্বর, সর্দিঃ পাতার শাক খেলে জ্বর ও যন্ত্রণাদায়ক সর্দি আরোগ্য হয়। ৯। গর্ভপাতকারকঃ সজিনা গর্ভপাত কারক। সজিনার ছাল গর্ভাশয়ের মুখে প্রবেশ করালে গর্ভাশয়ের মুখ প্রসারিত হয়ে যায় এবং গর্ভপাত ঘটে। (সর্তকতাঃ এই ঔষধটি নিদিষ্ট মাত্রায় সতর্কতার সাথে সেবন ও ব্যবহার করতে হয় ।) সজিনার গুণাগুণ সজিনা আমাদের দেশে একটি বহুল পরিচিত বৃক্ষ, যার কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। সজিনা পাতা শাকের মতো রান্না করে আহারের সময় অল্প পরিমাণে খেলে বল বৃদ্ধি পায় ও ক্ষুধা বাড়ে। পাতা কেটে ফোঁড়া বা টিউমারে দিলে উপকার পাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গে সজিনা পাতাকে শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এতে তাদের শ্রমজনিত ক্লান্তি, শরীরের ব্যথা ইত্যাদি দূর হয়। সজিনা ফুল শাকের মতো রান্না করে বসন্তকালে খেলে বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ হয়। এছাড়া সর্দি, কাশিতে, শোথে, প্লীহা ও যকৃতের কার্যকারিতা কমে গেলে এবং কৃমিনাশক হিসেবে সজিনা ব্যবহার করা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, সজিনা ডাঁটা অ্যামাইনো এসিডসমৃদ্ধ, যা দেহের পাশাপাশি বাতের জন্যও খুব উপকারী। সজিনা বীজের তেল আমাদের দেশে তেমন পাওয়া যায় না। একে ‘বেন অয়েল‘ বলে। এটি ঘড়ি মেরামতের কাজে লাগে। বাতের ব্যথায় তা ভালো কাজ দেয়। কুষ্ঠ রোগে বীজের তেল অথবা বীজের তেলের অভাবে বীজ বেটে প্রলেপ দিলে উপকার হয়। সজিনা মূল ও বীজ সাপে কামড়ানোর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া মূলের ছালের প্রলেপে দাদ উপশম হয়।বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে নানা রকমের গবেষণা হয়েছে; বিশেষ করে এ গাছ হরমোন বর্ধক ঔষধি গুণসম্পন্ন, কাগজ তৈরি ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এটিসবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এর পাতা শাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়_ এতে শারীরিক শক্তি ও আহারের রুচিবর্ধক হয়। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, নিকোটিনিক এসিড, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। ভারতীয়রা এটির স্যুপ খেয়ে থাকে। এ সময় ঋতু পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেকেরই মুখে স্বাদ থাকে না। আর এ স্বাদকে ফিরিয়ে আনতে সাজনার জুড়ি নেই। সজিনা গাছটির প্রতি আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও এর ডাঁটা সব মানুষই পছন্দ করে। আমরা জানি, সবজি মাত্রই পুষ্টিকর খাদ্য। তবে সাজনা শুধু পুষ্টিকর সবজি নয় এটি ওষুধি বৃক্ষও বটে। সজিনার পাতা বেটে ফোঁড়া বা টিউমারে লাগালে বহু ক্ষেত্রে মিলিয়ে যায় এবং ফোলা ও ব্যথার উপশম হয়। সজিনা পুষ্টি ও বিভিন্ন খাদ্যগুণসমৃদ্ধ সবজি। সজিনা গাছকে প্রচলিত বিভিন্ন খাদ্য প্রজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন উদ্ভিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বহুবিধ খাদ্যগুণসম্পন্ন হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় সজিনা গাছকে ‘জাদুর গাছ’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। ওষধি উদ্ভিদ সজিনার বৈজ্ঞানিক নাম মোরিনগা অলিফেরা (Moringa Oleifera Lam). সজিনা বা সজনে এর বাংলা নাম। সজিনা মোরিনগেসি (Moringaceae) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। সজিনা আমাদের দেশে একটি বহুল পরিচিত গাছ। এর কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। সাধারণত এ গাছের উচ্চতা ২৩ ফুট থেকে ৩৩ ফুট বা তারও বেশি হয়ে থাকে। সজিনা গাছের কাঠ অত্যন্ত নরম, বাকলা আঠাযুক্ত ও কর্কি। সজিনা তিন ধরনের নীল, শ্বেত ও রক্ত সজিনা। ড্রামস্টিক, মরিঙ্গাসহ দেশ-বিদেশে সজিনার বিভিন্ন নাম রয়েছে। বাংলাদেশে সজিনা নামেই পরিচিত। ইংরেজিতে সজিনার নাম ‘ড্রামস্ট্রিক’, যার অর্থ ঢোলের লাঠি। নামটি অদ্ভুত হলেও এটি একটি অতিপ্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী উদ্ভিদ। বাংলাদেশে এটি নিয়ে তেমন গবেষণা না হলেও বিশ্বের বহু দেশে এ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে; বিশেষ করে গাছ বৃদ্ধিকারক হরমোন, ওষুধ, কাগজ তৈরি ইত্যাদি। আমাদের দেশে এটি সবজির পাশাপাশি ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার হয়ে আসছে। সজিনার অ্যানিমিয়া, জয়েন্ট পেইন, ক্যান্সার, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, হার্ড পেইন, ব্লাডপেসারসহ বিভিন্ন রোগে উপকারী ওষধি গুণ রয়েছে। সজিনায় রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ভিটামিন। সজিনার পাশাপাশি সজিনা পাতা পুষ্টি ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সজিনার পাতার গুঁড়োরও বিশেষ গুণাগুণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এতে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও জিংক রয়েছে। সজিনা শরীরে কোলেস্টরেলের মাত্রা ঠিক রাখে। মানুষের শরীরে চিনির মাত্রা সমান রাখে ও ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড পাওয়া যায়। হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। শরীরে পুষ্টি ও শক্তি জোগায়। সজিনা লিভার ও কিডনি সুরক্ষিত রাখে। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে। মায়ের দুধের পরিমাণ বাড়ায়। ব্যাকটেরিয়াবিরোধী সজিনার পেস্ট ত্বকের জন্য উপকারী। পুষ্টিগুণের দিক থেকে সজিনা অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি, যা দেশের সর্বত্র পাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গে সজিনা পাতাকে শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এতে তাদের শ্রমজনিত ক্লান্তি, শরীরের ব্যথা ইত্যাদি দূর হয়। সজিনা ফুল শাকের মতো রান্না করে বসন্তকালে খেলে বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ হয়। এছাড়া সর্দি, কাশিতে, শ্লোথ, প্লীহা ও যকৃতের কার্যকারিতা কমে গেলে এবং কৃমিনাশক হিসেবে সজিনা ব্যবহার করা যায়। সজিনা বাংলাদেশের সর্বত্র, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে সবজি গাছ হিসেবে লাগানো হয়। এর পাতা অগ্রহায়ণ-মাঘ মাসে হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। মাঘ-ফাল্গুনে থোকা থোকা সাদা ফুল প্রায় পত্রশূন্য গাছ ছেয়ে থাকে। চৈত্র-আষাঢ় মাসের মধ্যে ফল পাকে। ফলের মধ্যে ত্রিকোণাকার অনেক বীজ হয়। বীজ অথবা ডালকাটা (কাটিং) দিয়ে বংশবিস্তার সম্ভব। তেমন কোনো উৎপাদন খরচ না হওয়ায় সজিনার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। একক কোনো চাষাবাদ না হলেও দেশের প্রায় প্রত্যেক স্থানে সজিনার আবাদ হয়। আমাদের দেশে সজিনা সচরাচর দু’ধরনের হয়ে থাকে। মৌসুমি ও ১২ মাসের। ১২ মাস জাতের তেমন বেশি আবাদ না হয়ে থাকলেও মৌসুমি জাতের বেশিরভাগ আবাদ হয়ে থাকে। খুলনার পাইকগাছায় প্রচুর পরিমাণে সজিনার আবাদ হয়ে থাকে। একক কোনো চাষাবাদ কেথায়ও না হলেও উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে অন্যান্য ফসল আবাদের অনুপযোগী যেমন ক্ষেতের আইল, ঘেরের বাঁধ ও রাস্তার দু’পাশ দিয়ে মৌসুমি সজিনার আবাদ রয়েছে। চারা ও ডাল কেটে রোপণ করার মাধ্যমে সজিনা দু’ভাবেই আবাদ করা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সজিনার তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারে না। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রে পরিচর্যার প্রয়োজন হলেও অনেকটাই পরিচর্যা ছাড়াই সজিনার উৎপাদন সম্ভব। ক্ষেতে সুস্বাদু ও বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় সজিনার আবাদ অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। মৌসুমের শুরুতে সজিনা গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে যায়। সজিনা পাতা শাকের মতো রান্না করে আহারের সময় অল্প পরিমাণে খেলে বল বৃদ্ধি পায় ও ক্ষুধা বাড়ে। পাতা কেটে ফোঁড়া বা টিউমারে দিলে উপকার পাওয়া যায়। বাতের ব্যথায় তা ভালো কাজ দেয়। সজিনা বীজের তেল আমাদের দেশে তেমন পাওয়া যায় না। একে ‘বেন অয়েল’ বলে। এটি ঘড়ি মেরামতের কাজে লাগে। কুষ্ঠ রোগে বীজের তেল অথবা বীজের তেলের অভাবে বীজ বেটে প্রলেপ দিলে উপকার হয়। সজিনা মূল ও বীজ সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

আমাদের আরো অ্যাপস


No comments:

Post a Comment

Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻