ইসলামিক
সাধারণ
জ্ঞান
বিষয়: আল কুরআন
১০০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনুল কারীমে কতটি সূরা আছে?
উত্তরঃ ১১৪টি।
১০১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরার নাম কি?
উত্তরঃ সূরা ফাতিহা।
১০২) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরার নাম কি?
উত্তরঃ সূরা বাকারা।
১০৩) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরার নাম কি?
উত্তরঃ সূরা কাওছার।
১০৪) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়াত কোনটি কোন সূরায়?
উত্তরঃ সূরা বাক্বারার ২৮২ নং আয়াত।
১০৫) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের মধ্যে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ আয়াত কোনটি?
উত্তরঃ আয়াতুল কুরসী। (সূরা বাক্বারা ২৫৫ নং আয়াত।
১০৬) প্রশ্নঃ ফরয নামাযান্তে কোন আয়াতটি পাঠ করলে, মৃত্যু ছাড়া জান্নাতে যেতে কোন বাধা থাকে না?
উত্তরঃ আয়াতুল কুরসী।
১০৭) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্ সূরাটি পাঠ করলে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ সূরা মুলক। (৬৭নং সূরা)
১০৮) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান?
উত্তরঃ সূরা ইখলাছ। (১১২ নং সূরা)
১০৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার প্রতি ভালবাসা মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে?
উত্তরঃ সূরা ইখলাছ।
১১০) প্রশ্নঃ কোন সূরাটি পবিত্র কুরআনের চতুর্থাংশের সমপরিমাণ?
উত্তরঃ সূরা কাফেরূন। (১০৯ নং সূরা)
১১২. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি জুমআর দিন বিশেষভাবে পাঠ করা মুস্তাহাব?
উত্তরঃ সূরা কাহাফ (১৮ নং সূরা)
১১৩ প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার প্রথমাংশ তেলাওয়াতকারীকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা করবে?
উত্তরঃ সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত। (১৮ নং সূরা)
১১৪) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন দু’টি সূরা জুমআর দিন ফজরের নামাযে তেলাওয়াত করা সুন্নাত?
উত্তরঃ সূরা সাজদা ও দাহার।
১১৫ প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন দু’টি সূরা জুমআর নামাযে তেলাওয়াত করা সুন্নাত?
উত্তরঃ সূরা আ’লা ও গাশিয়া।
১১৬) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআন কত বছরে নাযিল হয়?
উত্তরঃ তেইশ বছরে।
১১৭) প্রশ্নঃ ‘মুহাম্মাদ’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নাম পবিত্র কুরআনে কত স্থানে উল্লেখ হয়েছে?
উত্তরঃ চার স্থানে।
(১) সূরা আল ইমরান আয়াত- ১৪৪।
(২) সূরা আহযাব আয়াত নং ৪০।
(৩) সূরা মুহাম্মাদ আয়াত নং ২।
(৪) সূরা ফাতাহ্ আয়াত নং ২৯।
১১৮) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম কোন আয়াত নাযিল হয়?
উত্তরঃ সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত। ইক্বরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী…..
১১৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বশেষ নাযিল হয়?
উত্তরঃ আল্লাহ্ বলেন,
(وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ)
সূরা বাক্বারার ২৮১ নং আয়াত।
(ইবনু আবী হাতেম সাঈদ বিন জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নয় দিন জীবিত ছিলেন।
- আল ইতক্বান ফি উলূমিল কুরআন)
১২০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম কোন সূরাটি পূর্ণাঙ্গরূপে নাযিল হয়?
উত্তরঃ সূরা ফাতিহা।
১২১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআন প্রথম যুগে কিভাবে সংরক্ষিত ছিল?
উত্তরঃক. ছাহাবায়ে কেরামের স্মৃতিতে,
খ. লিখিত অবস্থায় চামড়ায়,
গ. হাড়ে,
ঘ. পাতায় এবং
ঙ. পাথরে।
১২২) প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কে কুরআন একত্রিত করেন?
উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ)।
১২৩) প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে কুরআন একত্রিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল?
উত্তরঃ যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ)কে।
১২৪) প্রশ্নঃ কার পরামর্শে এই কুরআন একত্রিত করণের কাজ শুরু হয়?
উত্তরঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
১২৫ প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন দু’টি সূরা জুমআর নামাযে তেলাওয়াত করা সুন্নাত?
উত্তরঃ সূরা আ’লা ও গাশিয়া।
১২৬) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআন কত বছরে নাযিল হয়?
উত্তরঃ তেইশ বছরে।
১২৭) প্রশ্নঃ ‘মুহাম্মাদ’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরনাম পবিত্র কুরআনে কত স্থানে উল্লেখ হয়েছে?
উত্তরঃ চার স্থানে।
(১) সূরা আল ইমরান আয়াত- ১৪৪।
(২) সূরা আহযাব আয়াত নং ৪০।
(৩) সূরা মুহাম্মাদ আয়াত নং ২।
(৪) সূরা ফাতাহ্ আয়াত নং ২৯।
১২৮) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম কোন আয়াত নাযিল হয়?
উত্তরঃ সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত। ইক্বরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী…..
১২৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বশেষ নাযিল হয়?
উত্তরঃ আল্লাহ্ বলেন,
(وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ)
সূরা বাক্বারার ২৮১ নং আয়াত। (ইবনু আবী হাতেম সাঈদ বিন জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নয় দিন জীবিত ছিলেন।- আল ইতক্বান ফি উলূমিল কুরআন)
১৩০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম কোন সূরাটি পূর্ণাঙ্গরূপে নাযিল হয়?
উত্তরঃ সূরা ফাতিহা।
১৩১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআন প্রথম যুগে কিভাবে সংরক্ষিত ছিল?
উত্তরঃ ছাহাবায়ে কেরামের স্মৃতিতে, লিখিত অবস্থায় চামড়ায়, হাড়ে, পাতায় এবং পাথরে।
১৩) প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কে কুরআন একত্রিত করেন?
উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ)।
১৩৩) প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে কুরআন একত্রিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল?
উত্তরঃ যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ)কে।
১৩৪) প্রশ্নঃ কার পরামর্শে এই কুরআন একত্রিত করণের কাজ শুরু হয়?
উত্তরঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
১৩৫) প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর ওহী লেখক কে কে ছিলেন?
উত্তরঃ আলী বিন আবী তালেব, মুআবিয়া বিন আবী সুফিয়ান, যায়েদ বিন ছাবেত ও উবাই বিন কা’ব প্রমুখ (রাঃ)।
১৩৬) প্রশ্নঃ কোন যুগে কার নির্দেশে কুরআনের অক্ষরে নকতা দেয়া হয়?
উত্তরঃ উমাইয়া খলীফা আবদুল মালিকের যুগে হাজ্জাজ বিন ইউসূফের নির্দেশে একাজ হয়।
১৩৭) প্রশ্নঃ কুরআনে নকতা দেয়ার কাজটি কে করেন?
উত্তরঃ নসর বিন আছেম বিন ই’য়ামার (রহঃ)।
১৩৮) প্রশ্নঃ কুরআনে কে হরকত (যের যবর পেশ ইত্যাদি) সংযোজন করেন?
উত্তরঃ খলীল বিন আহমাদ আল ফারাহীদী (রহঃ)।
১৩৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘দুনিয়া’ শব্দটি এসেছে?
উত্তরঃ ১১৫ বার।
১৪০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘আখেরাত’ শব্দটি এসেছে?
উত্তরঃ ১১৫ বার।
১৪১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি অক্ষর রয়েছে?
উত্তরঃ ৩২৩৬৭১টি।
১৪২)প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি শব্দ আছে?
উত্তরঃ ৭৭৪৩৯টি।
১৪৩) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি আয়াত আছে?
উত্তরঃ ৬২৩৬টি।
১৪৪) প্রশ্নঃ কোন সূরার শেষ দু’টি আয়াত কোন মানুষ রাত্রে পাঠ করলে তার জন্য যথেষ্ট হবে?
উত্তরঃ সূরা বাক্বারার শেষের আয়াত দু’টি। (২৮৫ ও ২৮৬ নং আয়ত)
১৪৫) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি সিজদা আছে এবং কোন কোন সূরায়?
উত্তরঃ১৫টি।
আ’রাফ (২০৬নং আয়াত),
রা’দ (১৫নং আয়াত),
নাহাল (৪৯নং আয়াত),
ইসরা (১০৭নং আয়াত),
মারইয়াম (৫৮নং আয়াত),
হাজ্জ (১৮ ও ৭৭ নং আয়াত),
ফুরক্বান (৬০নং আয়াত),
নামাল (২৫নং আয়াত),
সজিদা (১৫নং আয়াত),
সোয়াদ (২৪নং আয়াত),
হা-মীম আস সাজদাহ (৩৭নং আয়াত),
নাজম (৬২নং আয়াত),
ইনশক্বিাক (২১নং আয়াত),
আলাক (১৯নং আয়াত)।
১৪৬) প্রশ্নঃ কোন সূরায় দু’টি সিজদা রয়েছে?
উত্তরঃ সূরা হজ্জ। (18 ও ৭৭ নং আয়াত)
১৪৭) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘রহমান’ শব্দের উল্লেখ হয়েছে?
উত্তরঃ ৫৭ বার।
১৪৮)প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘জান্নাত’ শব্দ এসেছে?
উত্তরঃ ১৩৯ বার।
(একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন শব্দে)
১৪৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘জাহান্নাম’ শব্দ এসেছে?
উত্তরঃ ৭৭বার।
১৫০. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘নার বা আগুন’ শব্দ এসেছে?
উত্তরঃ ১২৬বার।
১৫১. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্ আয়াতে আরবী ২৯টি অক্ষরই রয়েছে?
উত্তরঃ সূরা ফাতাহ এর ২৯ নং আয়াতে।
১৫২. প্রশ্নঃ সূরা ফাতিহায় ‘মাগযূবে আলাইহিম’ বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে এবং ‘যাল্লীন’ বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ ‘মাগযূবে আলাইহিম’ বলতে ইহুদীদেরকে এবং ‘যাল্লীন’ বলতে খৃষ্টানদেরকে বোঝানো হয়েছে।
১৫৩. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরায় ‘মীম’ অক্ষরটি নেই?
উত্তরঃ সূরা কাওছার।
১৫৪. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরায় ك ‘কাফ’ অক্ষরটি নেই?
উত্তরঃ সূরা কুরায়শ, ফালাক ও আছর।
১৫৫. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরায় দুবার বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম রয়েছে?
উত্তরঃ সূরা নামল। (২৭ নং সূরা)
১৫৬. প্রশ্নঃ কুরআনের কোন সূরার প্রথমে বিসমিল্লাহ নেই?
উত্তরঃ সূরা তাওবা। (৯নং সূরা)
১৫৭. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে মোট কতবার ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম রয়েছে?
উত্তরঃ ১১৪ বার।
১৫৮. প্রশ্নঃ কোন্ সূরা সম্পর্কে ইমাম শাফেঈ বলেন, “মানুষের জন্য এ সূরাটি ব্যতীত অন্য সূরা নাযিল না হলেও যথেষ্ট ছিল”?
উত্তরঃ সূরা আছর।
১৫৯. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতজন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তরঃ ২৫ জন।
১৬০. প্রশ্নঃ মাক্কী সূরা ও মাদানী সূরা বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ মাক্কীঃ মদীনায় হিজরতের পূর্বে যা নাযিল হয়েছে।
মাদানীঃ মদীনায় হিজরতের পর যা নাযিল হয়েছে।
১৬১. প্রশ্নঃ মাক্কী সূরার মৌলিক বৈশিষ্ট কি কি?
উত্তরঃ মাক্কী সূরার মৌলিক বৈশিষ্ট্য গুলো দেওয়া হলোঃ
১) তাওহীদ এবং আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহবান। জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা এবং মুশরিকদের সাথে বিতর্ক।
২) মুশরকিদের খুন-খারাবী, ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ প্রভৃতি কর্মের নিন্দাবাদ।
৩) সংক্ষিপ্ত বাক্য অথচ অতি উচ্চাঙ্গের সাহিত্য সমৃদ্ধ।
৪) নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)কে সান্তনা দেয়া ও উপদেশ গ্রহণ করার জন্য ব্যাপকভাবে নবী-রাসূলদের কাহিনীর অবতারনা, এবং কিভাবে তাঁদের সমপ্রদায়ের লোকেরা তাঁদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছে ও কষ্ট দিয়েছে তার বর্ণনা।
১৬২. প্রশ্নঃ মাদানী সূরার মৌলিক বৈশিষ্ট কি কি?
উত্তরঃ মাদানী সূরার মৌলিক বৈশিষ্ট গুলো হলোঃ
(১) ইবাদত, আচার-আচরণ, দন্ডবিধি, জিহাদ, শান্তি, যুদ্ধ, পারিবারিক নিয়ম-নীতি, শাসন প্রণালী অন্যান্য বিধি-বিধানের আলোচনা।
(২) আহলে কিতাব তথা ইহুদী খৃষ্টানদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান।
(৩) মুনাফেকদের দ্বিমুখী নীতির মুখোশ উম্মোচন এবং ইসলামের জন্য তারা কত ভয়ানক তার আলোচনা।
(৪) সংবিধান প্রণয়ণের ধারা ও তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ করার জন্য দীর্ঘ আয়াতের অবতারণা।
১৬৩. প্রশ্নঃ মাদানী সূরা পরিচয়ের নিয়ম কি?
উত্তরঃ মাদানী সূরা পরিচয়ের নিয়ম গুলো হলোঃ
(১) যে সকল সূরায় কোন কিছু ফরয করা হয়েছে বা দন্ডবিধির আলোচনা করা হয়েছে।
(২) যে সকল সূরায় মুনাফেকদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
(৩) যে সকল সূরায় আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করা হয়েছে।
(৪) যে সকল সূরা “ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানূ” দ্বারা আরম্ভ হয়েছে।
১৬৪. প্রশ্নঃ মাক্কী সূরার সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ৮৬টি সূরা।
১৬৫. প্রশ্নঃ মাদানী সূরার সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ২৮টি সূরা।
১৬৬. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্ সূরার প্রতিটি আয়াতে ‘আল্লাহ্ শব্দ আছে?
উত্তরঃ সূরা মুজাদালা। (৫৮ নং সূরা)
১৬৭. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্ কোন্ সূরা ‘আল হামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা ফাতিহা, সূরা আনআম, সূরা কাহাফ, সূরা সাবা ও সূরা ফাতির। (সূরা নং যথাক্রমে, ১,৬,১৮,৩৪ ও ৩৫)
১৬৮. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে ছয়জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে যাঁরা সকলেই নবীর পুত্র নবী ছিলেন তাদের নাম কি কি?
উত্তরঃ পবিত্র কুরআনে ছয়জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে যাঁরা সকলেই নবীর পুত্র নবী ছিলেন তাদের নামঃ
(১) ইবরাহীমের পুত্র ইসমাঈল
(২) ইবরাহীমের পুত্র ইসহাক,
(৩) ইসহাকের পুত্র ইয়াকূব
(৪) ইয়াকূবের পুত্র ইউসুফ,
(৫) যাকারিয়ার পুত্র ইয়াহইয়া ও
(৬) দাউদের পুত্র সুলাইমান (আলাইহিমুস্ সালাম)
১৬৯. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে জাহান্নামের ৬টি নাম উল্লেখ হয়েছে। উহা কি কি?
উত্তরঃ পবিত্র কুরআনে জাহান্নামের ৬টি নাম নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
(১) জাহান্নাম (সূরা নাবা: 21)
(২) সাঈর (সূরা নিসা: 10)
(৩) হুতামা (হুমাযা: 4)
(৪) লাযা (সূরা মাআরেজ: 15)
(৫) সাক্বার (সূরা মুদ্দাসসির: 42)
(৬) হাভিয়া (সূরা কারিয়া: 9)
১৭০. প্রশ্নঃ কুরআনের কোন সূরায় মুবাহালার আয়াত রয়েছে?
উত্তরঃ সূরা আলে ইমরান- আয়াত নং- ৬১।
মুবাহালা: হক ও বাতিলের মাঝে দ্বন্দ্ব হলে, বাতিল পন্থীর সামনে যাবতীয় দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করার পরও সে যদি হঠকারিতা করে, তবে তাকে মুবাহালার জন্য আহবান করা হবে। তার নিয়ম হচ্ছেঃ উভয় পক্ষ নিজের স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিকে উপস্থিত করবে, অতঃপর প্রত্যেক পক্ষ বলবে, আমরা যদি বাতিল পন্থা উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, তবে মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লা’নত (অভিশাপ)। এটাকেই বলে মুবাহালা।
১৭১. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্ সূরার কোন্ আয়াতে ব্যভিচারের দন্ডবিধির আলোচনা আছে?
উত্তরঃ সূরা নূর- আয়াত নং- ২।
১৭২. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কত নং আয়াতে ওযুর ফরয সমূহ উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা মায়েদা- আয়াত নং- ৬।
১৭৩. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে চুরির দন্ডবিধি উল্লেখ হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা মায়েদা- আয়াত নং- ৩৮।
১৭৪. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে মিথ্যা অপবাদের শাস্তির বিধান উল্লেখ হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা নূর-
আয়াত নং- ৪।
১৭৫. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে মুমিন নারী-পুরুষকে দৃষ্টি অবনত রেখে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা নূর-
আয়াত নং ৩০-৩১।
১৭৬. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে মীরাছ (উত্তরাধীকার সম্পদ বন্টন) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা নিসা-
আয়াত নং- ১১, ১২ ও ১৭৬।
১৭৭. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে বিবাহ হারাম এমন নারীদের পরিচয় দেয়া হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা নিসা-
আয়াত নং- ২৩, ২৪।
১৭৮. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে যাকাত বন্টনের খাত সমূহ আলোচনা করা হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা তওবা-
আয়াত নং- ৬০।
১৭৯. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে ছিয়াম সম্পর্কিত বিধি-বিধান উল্লেখ হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা বাক্বারা-
আয়াত নং ১৮৩-১৮৭।
১৮০. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে বাহনে আরোহনের দুআ উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা যুখরুফ-
আয়াত নং- ১৩।
১৮১. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি দরূদ পড়ার আদেশ করা হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা আহযাব-
আয়াত নং ৫৬।
১৮২. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে হুনায়ন যুদ্ধের কথা আলোচনা করা হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা তওবা-
আয়াত নং- ২৫, ২৬।
১৮৩. প্রশ্নঃ কোন সূরায় বদর যুদ্ধের ঘটনাবলী উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা আনফাল।
(আয়াত নং : 5-19, 41-48, 67-69)
১৮৪. প্রশ্নঃ কোন সূরায় বনী নযীরের যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা হাশর।
(আয়াত নং ২-১৪)
১৮৫. প্রশ্নঃ কোন সূরায় খন্দক যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা আহযাব
(আয়াত নং ৯-২৭)।
১৮৬. প্রশ্নঃ কোন সূরায় তাবুক যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা তওবা
(আয়াত নং ৩৮-১২৯)।
১৮৭. প্রশ্নঃ কোন সূরায় নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরতের ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা তওবা
(আয়াত নং ৪০)
১৮৮. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে হারূত-মারূতের ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা বাক্বারা-
আয়াত নং- ১০২।
১৮৯. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে কারূনের কাহিনী উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা ক্বাছাছ
আয়াত ৭৬-৮৩।
১৯০. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে সুলায়মান (আঃ)এর সাথে হুদহুদ পাখীর ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা নমল
আয়াত নং ২০, ৪৪।
১৯১. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে ক্বিবলা পরিবর্তনের ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা বাক্বারা-
আয়াত নং ১৪২-১৫০।
১৯২. প্রশ্নঃ কোন সূরায় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইসরা-মেরাজের ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা বানী ইসরাঈল (আয়াত নং ১) ও সূরা নজম (আয়াত: ৮-১৮)
১৯৩. প্রশ্নঃ কোন সূরায় হস্তি বাহিনীর ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা ফীল।
১৯৪. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে যুল ক্বারানাইন বাদশাহর ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা কাহাফ-
আয়াত নং- ৮৩-৯৮।
১৯৫. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে ত্বালুত ও জালুতের ঘটনা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা বাক্বারা-
আয়াত নং- ২৪৬-২৫২।
১৯৬. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে মসজিদে আক্বসার কথা উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ সূরা বানী ইসরাঈল-
আয়াত নং-১
১৯৭. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে পিতা-মাতার ঘরে প্রবেশের জন্য অনুমতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে?
উত্তরঃ সূরা নূর-
আয়াত নং- ৫৮, ৫৯
১৯৮. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কোন সাহাবী মক্কায় উচ্চ:স্বরে কুরআন পাঠ করেন?
উত্তরঃ আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাঃ)।
১৯৯. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি ওমর (রাঃ)এর ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিল?
উত্তরঃ সূরা ত্বাহা।
২০০. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের মধ্যে কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন হবে না। আল্লাহ নিজেই তার হেফাযতের দায়িত্ব নিয়েছেন। কথাটি কোন সূরার কত নং আয়াতে আছে?
উত্তরঃ সূরা হিজ্র ৯ নং আয়াত।
প্রশ্নঃ ২০১. আল-কুরআন কী?
উত্তরঃ আল-কুরআন মালায়েক জিবরাইল (আঃ)-কর্তৃক সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর উপর প্রত্যাদিষ্ট আল্লাহর বাণী। যে কোন প্রকার বিচ্যুতি বা বিকৃতি থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল-কুরআনকে হেফাজত করবেন।
প্রশ্নঃ ২০২. বর্তমান অবস্থায় প্রাপ্ত আল-কুরআন আমাদের কাছে কীভাবে এলো?
উত্তরঃ নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর প্রত্যাদিষ্ট বাণী বিভিন্ন ব্যক্তি লিখে রখেছিলেন অথবা তা মুখস্থ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একত্রিত করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে ‘তাওয়াতুর’ বলা হয়।
প্রশ্নঃ ২০৩. আল-কুরআন শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ এই শব্দটি ‘পড়া’ বা ‘আবৃত্তি করা’ ধাতু হতে সৃষ্ট। সুতরাং আল-কুরআন একটি ক্রিয়া-বিশেষ্য, যার অর্থ পড়ছে বা আবৃত্তি করছে।
প্রশ্নঃ ২০৪. আল-কুরআন কেন প্রেরিত বা প্রত্যাদিষ্ট হয়েছিল?
উত্তরঃ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ওহীর আকারে আল্লাহর বাণী গ্রহণ করতেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো সাহাবীদের কাছে পৌঁছে দিতেন।
প্রশ্নঃ ২০৫. নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর কীভাবে ওহী নাযিল হোত?
উত্তরঃ বিভিন্ন প্রেরণার মাধ্যমে যেমন, স্বপ্ন; হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে স্বপ্নের মাধ্যমে তার পুত্রকে কোরবানী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিজেকে গোপন রেখে কথা বলা; যেমন, আল্লাহ হযরত মুসা (আঃ) এর সাথে কথা বলেন এবং হযরত জিবরাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর আল -কুরআন নাযিল করা হয়।
প্রশ্নঃ ২০৬. কখন থেকে আল-কুরআন নাযিল হয়?
উত্তরঃ যখন নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বয়স ৪০ বছর পূর্ণ হয় ( প্রায় ৬১০ খ্রিস্টীয় শতকের), তখন লায়লাতুল ক্বদরের (২৭ শে লাইলাতুল ক্বাদর বা ২১ শে রমজানের পর যে কোন বেজোড় রজনীতে) আল-কোরআন নাযিল হয়।
প্রশ্নঃ ২০৭. রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ)- প্রথম কোথায় নবুয়ত প্রাপ্ত হন?
উত্তরঃ মক্কার নিকটবর্তী হীরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় নবী মুহাম্মদ (সাঃ)- প্রথম ওহী প্রাপ্ত হন।
প্রশ্নঃ ২০৮. নবী মুহাম্মদ (সাঃ)- এর উপর প্রথম কোন্ আয়াত নাযিল করা হয়?
উত্তরঃ আল-কুরআনের ৯৩ নং সূরা-আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত : “ পড়, তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাটবদ্ধ রক্ত থেকে। পড়! নিশ্চয়ই আপনার রব সর্বাধিক উদার, যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন; তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানতো না।”
প্রশ্নঃ ২০৯. মহানবী (সাঃ)-এর উপর আল-কুরআন প্রত্যাদিষ্ট হবার বিষয়টি উল্লেখ করার জন্য আল-কুরআনে বিশেষ কিছু নাম উল্লেখিত হয়েছে, সেগুলো কী কী?
উত্তরঃ কুর’আন (আবৃত্তি করা), ফুরকান (নির্ণায়ক), তানজিল (প্রেরিত), জিকর (পুনরায় স্মরণকারী) এবং কিতাব (গ্রন্থ)।
প্রশ্নঃ ২১০. মহানবী (সাঃ) কর্তৃক গৃহীত প্রত্যাদেশ এর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আল-কুরআনে বিশেষ কিছু বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো কী কী?
উত্তরঃ নুর (আলো), রাহমান (করুণা), মাজিদ (গৌরবময়), মুবারক (রহম), বাশির (সুসংবাদ) এবং নাযির (সতর্ককারী)।
প্রশ্নঃ ২১১. ‘ওয়াহী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ আল্লাহর নিকট হতে প্রত্যাদিষ্ট।
প্রশ্নঃ ২১২. প্রথম আয়াত নাযিল হবার অব্যবহিত পরেই কি পরবর্তী আয়াত নাযিল করা হয়?
উত্তরঃ না, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওহী নাযিল বন্ধ থাকে।
প্রশ্নঃ ২১৩. দ্বিতীয়বার কোন্ সূরা নাযিল করা হয়?
উত্তরঃ আল-কুরআনের ৭৪ নং সূরা আল-মুদ্দাস্সির এর প্রথম আয়াত গুলো,“হে চাদরাবৃত। উঠুন, সতর্ক করুন। আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষণা করুন। ”
প্রশ্নঃ ২১৪. প্রথমে নাযিলকৃত কিছু সূরা কোনগুলো?
উত্তরঃ ৭৩নং সূরা (আল-মুজ্জাম্মিল), ১নং সূরা (আল-ফাতিহা), ৮১নং সূরা (আল-তাকবীর), ৮৭নং সূরা (আল-আ’লা), ৯২নং সূরা (আল-লাইল) এবং ৮৯ নং সূরা (আল-ফজর)।
প্রশ্নঃ ২১৫. কত বছর ধরে সূরা নাযিল হতে থাকে?
উত্তরঃ নবী মুহাম্মদ (সাঃ)- এর মৃত্যু অবধি অর্থাৎ ১০ হিজরী বর্ষসাল অবধি প্রায় ২৩ বছর।
প্রশ্নঃ ২১৬. সর্বশেষ কোন্ সূরা নাযিল হয়?
উত্তরঃ ৫ নং সূরার ৪ নং আয়াত। “আজ তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম, আমার অনুগ্রহ তোমাদের উপর পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”
প্রশ্নঃ ২১৭. আল-কুরআন কেন ধাপে ধাপে নাযিল করা হয়?
উত্তরঃ যখন প্রয়োজন অনূভূত হোত তখন মহানবী (সাঃ) এর উপর আয়াত নাযিল হওয়ার মাধ্যমে তার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করা হোত।
১.আল্লাহর আইন ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করার জন্য।
২.যেহেতু ওহী নাযিলের বিষয়টি একটি নিদারুন কষ্টকর ব্যাপার ছিল, তাই মহানবী (সাঃ) যেন সহজভাবে নাযিলকৃত ওহীর কষ্ট বহন করতে পারেন, সেজন্য ধীরে ধীরে ওহী নাযিল করা হয়।
৩.বিশ্বাসীরা যেন সহজভাবে কোরআনের আয়াতের মর্ম সহজভাবে অনুধাবন করতে পারেন, প্রয়োগ করতে পারেন এবং স্মরণ রাখতে পারেন।
প্রশ্নঃ ২১৮. প্রথম কে নায়িলকৃত ওহী মুখস্থ রাখেন?
উত্তরঃ মহানবী (সাঃ) নিজে।
প্রশ্নঃ ২১৯. উল্লেখযোগ্য সাহাবীদের নাম বলুন, যারা কুরআন মুখস্থ করেন?
উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ), উমার (রাঃ), আলী ইবনে মাসুদ (রাঃ), আবু হুরায়রা (রাঃ), আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ’আমর ইবনে আ’লাস (রাঃ)। মহিলাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন : ’আইশা (রাঃ), হাফসা (রাঃ) এবং উম্মে সালমা (রাঃ)।
প্রশ্নঃ ২২০. মহানবী (সাঃ) -এর ইনতিকালের পূর্বে কোন্ কোন্ সাহাবী সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেন?
উত্তরঃ উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ), মু’আয়য ইবনে জাবার (রাঃ) এবং যায়িদ ইবনে তাবিত (রাঃ) ।
প্রশ্নঃ ২২১. নবী (সাঃ) -এর জীবদ্দশায় কি কুরআন লিপিবদ্ধ হয়?
উত্তরঃ হয়, তবে একটি খন্ডে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।
প্রশ্নঃ ২২২. নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কি ওহী লিখে রাখতেন?
উত্তরঃ না। তিনি আটচল্লিশ জন সাহাবী, যাদের মধ্যে যায়িদ ইবনে সাবিত (রাঃ) কে নবী মৌখিক নির্দেশ দিতেন, তিনি তা লিখে রাখতেন।
প্রশ্নঃ ২২৩. নবী (সাঃ) এর জীবদ্দশায় আল-কুরআন লিপিবদ্ধ করার নির্ভরযোগ্য কোন তথ্য পাওয়া যায় কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, একটি তথ্য থেকে জানা যায় যে, একদল লোক যখন মদীনায় ইসলাম ধর্ম শিক্ষার জন্য আগমন করেন, তখন তাদের পাঠ করা এবং মুখস্থ করার জন্য আল-কুরআনের বিভিন্ন অধ্যায়ের লিখিত কয়েকটি কপি দেওয়া হয়।
প্রশ্নঃ ২২৪. আল-কুরআন সাজানোর বিষয়ে নবী (সাঃ) কি কোন নির্দেশ প্রদান করেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ, সালাতে আল-কুরআন তেলাওয়াত করার সময় প্রতিটি মুসলমানই কুরআন সাজানোর বিষয়টি জানতে পারেন।
প্রশ্নঃ ২২৫. কে মহানবী (সাঃ)-এর সাথে বছরে একবার আল-কুরআন তেলওয়াত করতেন?
উত্তরঃ মহানবী (সাঃ) যে বছর ইন্তেকাল করেন, জিবরাইল (আঃ) সেই বছর নবীর সাথে দুইবার আল-কুরআন তেলাওয়াত করেন।
প্রশ্নঃ ২২৬. মহানবী (সাঃ) যে বছর ইনতিকাল করেন সে বছর আল-কুরআন কী আকারে ছিল?
উত্তরঃ আল-কুরআনের যাবতীয় ক্রম এবং বিন্যাস উভয়ই লিখিত ছিল, আলাদাভাবে লিখিত অংশ ছিল যাকে সুহুফ বলা হোত এবং তা সাহাবীরা মুখস্থ করতেন।
প্রশ্নঃ ২২৭. সুহুফ এবং মুসাফ- এর মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ সুহুফ (বহুবচন, এর একবচন সহীফা) অর্থ আলগা লেখার সামগ্রী যেমন, কাগজ, শুষ্ক পশুর চামড়া, প্যাপিরাস ইত্যাদি। অপরদিকে মুসাফ একবচন, এর বহুবচন মাসাহিফ। দুই কভারের মধ্যে এক খন্ডের মধ্যে নির্দিষ্ট ক্রম।
প্রশ্নঃ ২২৮. মহানবী (সাঃ), আবু বকর (রা) এবং উমার (রাঃ) এর জীবদ্দশায় আল-কুরআন কী আকারে ছিল?
উত্তরঃ সুহুফ আকারে ছিল। প্রতিটি সূরার মধ্যে আয়াতের ক্রম নির্ধারিত ছিল, কিন্ত লিখিত সূরার ক্ষেত্রে তা এলোমেলোভাবে সাজানো ছিল। অর্থাৎ তখন কুরআন একটি খণ্ডে লিপিবদ্ধ ছিল না।
প্রশ্নঃ ২২৯. কে কুরআনের একটি খণ্ড তৈরী করার নির্দেশ দেন?
উত্তরঃ উসমান (রাঃ)
প্রশ্নঃ ২৩০. কেন উসমান (রাঃ) আল-কুরআনের সংকলন বা মুসাফ এর কাজ শুরু করতে চাইলেন?
উত্তরঃ আবু বকরের রাজত্বকালে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির স্মৃতিতে থাকা এবং আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত সংগ্রহের জন্য যায়িদ ইবনে তাবিত (রাঃ)-কে নির্দেশ দেন। সংগৃহীত কপি নিজের কাছে রাখেন, অতঃপর তা উমার (রাঃ) এর কাছে এবং পরবর্তীতে কন্যা হাফসা (রাঃ) এর নিকট রাখেন।
১.উসমান (রাঃ)-এর রাজত্বকালে, আল-কুরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত নিয়ে মুসলিম সামাজ্যের বিভিন্ন অংশে বিবাদ সৃষ্টি হয়।
২.উসমান (রাঃ) সুহুফ নিজের কাছে নিয়ে আসেন। পরে তা হাফসা (রাঃ) এর কাছে সংরতি থাকে এবং যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাঃ) সহ মোট চারজন সাহাবীকে আল-কুরআনের অবিকল নকল প্রস্তুতের আদেশ দেওয়া হয়।
প্রশ্নঃ ২৩১. বর্তমান সময়ের লিখিত মুসাফ এবং উসমান (রাঃ) এর সময়কার কপির মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য রয়েছে?
উত্তরঃ বতমান সময়ে প্রাপ্ত মুসাফ ভাওয়েলিং মার্ক (তাসকিল) রয়েছে, যা সঠিক উচ্চারণে সহযোগিতা করে এবং চিহ্ন রয়েছে যা একই বর্ণসমূহের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায়তা করে। তাছাড়া উসমান (রাঃ)-এর সময়কার কপিতে বিভিন্ন আয়াতের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তির মধ্যে কোন প্রকার বিভাজন বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছিল না অথবা সওয়ারের মধ্যে কোন শিরোনাম বা বিভাজক ছিল না, যা বর্তমান সময়ে প্রাপ্ত কুরআনে আছে।
প্রশ্নঃ ২৩২. আল-কুরআনের কোন পুরাতন পান্ডুলিপি রয়েছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, বিশেষ ধরনের ছাগলের চামড়ার উপর লিখিত কুরআনের একটি পান্ডুলিপি মিশরের জাতীয় যাদুঘরে রয়েছে। সেটি নবী (সাঃ) এর মৃত্যুর ৫৮ বছর পর (৬৮৮ খ্রিস্টাব্দ)-এ প্রস্তুত করা হয়। প্রথম এবং দ্বিতীয় হিজরীতে প্রস্তুত করা আল-কুরআনের কপিও রয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৩৩. কোন বছর আল-কুরআনের ডায়েকরিটিকাল চিহ্ন এবং ভাওয়েলিং প্রতীক প্রবর্তিত হয়?
উত্তরঃ প্রথম হিজরী শতকে।
প্রশ্নঃ ২৩৪. কুরআনের চলতি পান্ডুলিপি কখন প্রথম মুদ্রিত হয়?
উত্তরঃ মিশরের কায়রোতে ১৯২৫ সালে ( ১৩৪৪ হিজরীতে) আসিম হতে বর্নিত হাফসের তেলাওয়াতের উপর ভিত্তি করে উক্ত কপি প্রস্তুত করা হয়।
প্রশ্নঃ ২৩৫. আয়া’ ( বহুবচনে আয়াত) বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ আয়া’ অর্থ একটি চিহ্ন এবং কুরআনে এর দ্বারা কুরআনের আয়াত বুঝায়।
প্রশ্নঃ ২৩৬. সূরা (বহুবচনে সোয়ার) বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ আরবী শব্দ সূর হতে সূরা শব্দটির উৎপত্তি। এর অর্থ বেড়া এবং কুরআনে এর দ্বারা অধ্যায় বুঝায়।
প্রশ্নঃ ২৩৭. আল-কুরআনে মোট কতটি সূরা?
উত্তরঃ ১১৪ ( একশত চৌদ্দটি সূরা)।
প্রশ্নঃ ২৩৮. আল-কুরআনের প্রতিটি সূরার আয়াত সংখ্যা কি এক?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ ২৩৯. আল-কুরআনের দীর্ঘতম সূরার আয়াত সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ২৮৬ (দুই শত ছিয়াশি)।
প্রশ্নঃ ২৪০. কোন্ সূরাটি দীর্ঘতম সূরা ?
উত্তরঃ আল-বাকারা (২নং সূরা)।
প্রশ্নঃ ২৪১. ক্ষুদ্রতম সূরার আয়াত সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ৩ (তিনটি)।
প্রশ্নঃ ২৪২. ক্ষুদ্রতম সূরার নাম কী?
উত্তরঃ সূরা আল কাউসার (১০৮ নং সূরা)।
প্রশ্নঃ ২৪৩. প্রতিটি সূরাই কি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দ্বারা সূচিত হয়েছে?
উত্তরঃ না; ১২৯ টি আয়াত সমন্বয়ে গঠিত আল-কুরআনের সূরা-আত-তাওবাহ ব্যতীত সকল সূরাই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দ্বারা সূচিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৪৪. প্রতিটি সূরার কি শিরোনাম বা নামকরণ রয়েছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৪৫. কে সূরাসমূহ সাজিয়েছিলেন?
উত্তরঃ মালায়েক জিবরাইল (আঃ)-এর তত্ত্বাবধানে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সূরা সাজিয়েছিলেন।
প্রশ্নঃ ২৪৬. আলেমে দ্বীনগণ কীভাবে সূরাসমূহ চার ভাগে ভাগ করেছিলেন?
উত্তরঃ দীর্ঘতম সূরা (আল-তিওয়াল); ২-১০ নং সূরা;
১.দৈর্ঘ্যের দিক থেকে মধ্যম সূরাসমূহ (আল-মা’উন); প্রতিটি সূরার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১০০ আয়াত; ১১-৩৫ নং সূরা।
২.আল-মিজানা, প্রতিটির আয়াত সংখ্যা ১০০ এর কম; ৩৬-৪৯ নং আয়াত।
৩.আল-মুফাস্সল, শেষ ধারা; ৫০ থেকে ১১৪ নং সূরা।
প্রশ্নঃ ২৪৭. জুয’ বলতে কী বুঝায়?
উত্তরঃ জুয’ বলতে বুঝায় নির্দিষ্ট অংশের উপ-বিভাগ এবং আল-কুরআনে এই পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছে কুরআনকে নির্দিষ্ট ভাগে বিভক্ত করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে। এই হিসেবে প্রায় সমান দূরত্ব রেখে আল-কুরআনকে ৩০টি জুয’-এ ভাগ করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ ৪৮. হিজব (বহুবচনে আহজাব) বলতে কী বুঝায়?
উত্তরঃ আল-কুরআনের প্রতিটি জুয’ চারটি হিজব- এ বিভক্ত করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি হিজবকে আবার তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে; হিজবের প্রথম ভাগ, অর্ধভাগ এবং তৃতীয় ভাগ।
প্রশ্নঃ ৪৯. আল-কুরআনের তরজমাকে কী কুরআন বলে অভিহিত করা যায়?
উত্তরঃ না। মূল আরবী ভাষায় নাযিলকৃত আয়াতের ব্যাখ্যা বলা যেতে পারে।
প্রশ্নঃ ৫০. আল-কুরআন সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে আরবী জানা কি পূর্বশর্ত?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৫১. আল-কুরআনের অর্থ বুঝতে তরজমাকে পরোক্ষভাবে ব্যবহার করতে পারি কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৫২. আল-কুরআন বোঝা কি সহজ?
উত্তরঃ চেষ্টা করলে বোঝা সহজ। সূরা-আল ক্বামারের ১৭নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্য। কোন চিন্তাশীল আছে কি?”
প্রশ্নঃ ২৫৩. আল-কুরআনের আয়াত কি গদ্য না পদ্য?
উত্তরঃ কোনটিই নয়। এটি একক বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল এবং অতুলনীয় সৌর্ন্দয্য ও গুণে অনন্য। মানবজাতিকে পথনির্দেশ প্রদানের জন্য আল-কুরআনই আল্লাহর সর্বশেষ বাণী ।
প্রশ্নঃ ২৫৪. আল-কুরআনে কি কোন ঘটনা কাহিনী রয়েছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ। আল-কুরআনের সূরা-ইউসুফের ৩নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করেছি?”
প্রশ্নঃ ২৫৫. কুরআনে বর্ণিত কাহিনীগুলো কি কি?
উত্তরঃ আল্লাহর নবী, তাদের উম্মত, তাদের বানীসমূহ এবং তাদের আহ্বানসমূহ সম্পর্কে । উদাহরণ, নুহ (আঃ), মুসা (আঃ) এবং ঈসা (আঃ) প্রমুখ নবী-রাসূলগণ সম্পর্কে।
১.অতীতের লোকদের সম্পর্কে এবং অতীত ঘটনাসমূহ সম্পর্কে। যেমন, আসহাবে কাহফ এর যুবকদের কাহিনিসমূহ।
২.হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবদ্দশায় সংঘটিত ঘটনাসমূহ। যেমন, বদরের যুদ্ধ ।
প্রশ্নঃ ২৫৬. আল কুরআনে কাহিনী বর্ণনার উদ্দেশ্য কী?
উত্তরঃ পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে জেনে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা, উপদেশ গ্রহণ করা ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ ২৫৭. কোন বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে কি কোনো ধরণের উদাহরণ/তুলনা পেশ করা যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ ।
প্রশ্নঃ ২৫৮. আল-কুরআনে কি কোন বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে উদাহরণ, তুলনা পেশ করা হয়েছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ ।
প্রশ্নঃ ২৫৯. ’ক্বুল’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তরঃ বল। এটি মহানবী (সাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে তার উম্মতের জন্য প্রদত্ত নির্দেশনামা।
প্রশ্নঃ ২৬০. আল-কুরআনে ক্বুল কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তরঃ ২০০ (দুইশত) বারের বেশি।
প্রশ্নঃ ২৬১. আল-কুরআনে শপথজ্ঞাপক কোন অভিব্যক্তি (আকসাম, কাসাম) ব্যবহৃত হয়েছে কী?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৬২. কীভাবে শপথজ্ঞাপক অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তরঃ ‘ওয়া’ শব্দের অর্থ হলো - ‘এবং’, অথবা ‘লা-উকসিমু’ অর্থ - নিশ্চয় আমি শপথ করি’ অথবা ‘তা’ বর্ণ দ্বারা।
প্রশ্নঃ ২৬৩. আল-কুরআনে শপথজ্ঞাপক অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে কেন?
উত্তরঃ কোনো একটি বিতর্কে স্বীয় মত সুদৃঢ় করার জন্য এবং উক্ত মতের স্বপক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে, পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ চিহ্নিত করতে শপথজ্ঞাপক অভিব্যক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৬৪. আল-কুরআনের কিছু আয়াতে ব্যবহৃত ‘মুহকামাত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ আরবী ধাতু হাকামা থেকে ‘মুহকামাত’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি। এর অর্থঃ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং এটি আল-কুরআনের সেই সব আয়াতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, যার একটি ব্যাখ্যাই তৈরী করা যায়।
প্রশ্নঃ ২৬৫. আল-কুরআনের কিছু আয়াতে নির্দেশিত মুতাসাবিহাত (একবচন মুতাসাব্বিয়াহ)-শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ আরবী ধাতু ‘সুববিয়াহ’ থেকে মুতাসাব্বিয়াত শব্দের উৎপত্তি।
প্রশ্নঃ ২৬৬. ‘মুহকামাতে’র অন্তর্ভুক্ত আয়াতের বিষয়বস্তু কি?
উত্তরঃ হালাল, হারাম এর বিধানসমূহ, শাস্তি, উত্তরাধিকার, প্রতিশ্রুতি এবং হুমকি ইত্যাদি ।
প্রশ্নঃ ২৬৭. ‘মুতাসাবিহাত’-এর আয়াতের বিষয়বস্তু কী?
উত্তরঃ আয়াতে আল্লাহর গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে, পরকাল, কেয়ামত এবং পুনরুত্থান দিবসের সত্যিকার প্রকৃতি বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৬৮. সাধারণভাবে প্রযোজ্য আয়াতের নাম কী?
উত্তরঃ ‘আল-আম’ যা সাধারণভাবে প্রযোজ্য। যেমন, সকল মানবজাতির জন্য বা সকল মুসলমানের জন্য।
প্রশ্নঃ ২৬৯. বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য আয়াতগুলোর নাম কী?
উত্তরঃ আল-খাস, যা নির্দিষ্ট অবস্থা বা সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।
প্রশ্নঃ ২৭০. কোন্ দুই ধরণের আয়াতে আহকাম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
উত্তরঃ কিছু আয়াত রয়েছে, যেগুলো কোন প্রকার শর্ত বা মুতলাক হতে মুক্ত এবং আরও কিছু আয়াত রয়েছে, যেগুলি বিশেষ শর্ত (মুকাইয়াদ) দ্বারা বন্দী।
প্রশ্নঃ ২৭১. কোনো কোনো সূরার শুরুতে যে পৃথক আরবী র্বণ রয়েছে সেগুলোকে কী বলে?
উত্তরঃ আল-হুরুফুল মুকাত্তা-আত্।
প্রশ্নঃ ২৭২. পৃথক বর্ণ দ্বারা গঠিত আয়াত দ্বারা কতগুলো সূরা আরম্ভ হয়েছে?
উত্তরঃ ২৯ (ঊনত্রিশ) ।
প্রশ্নঃ ২৭৩. পৃথক বর্ণ দ্বারা গঠিত আয়াতের ক্ষেত্রে কতগুলি বর্ণ ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তরঃ ১৪ (চৌদ্দটি)।
প্রশ্নঃ ২৭৪. সেই বর্ণগুলোর তালিকা প্রদান করুন, যার দ্বারা সূরা সমূহ আরম্ভ হয়েছে এবং সূরার নাম্বার প্রদান করুন।
উত্তরঃ আলিফ লাম রা : সূরা নং ১০,১১,১২, ১৪ এবং ১৫।
আলিফ লাম মিম : সূরা নং ২, ৩, ২৯,৩০,৩১ এবং ৩২।
আলিফ লাম মিম রা : সূরা নং ১৩ ।
আলিফ লাম মিম সোয়াদ : সূরা নং ৭।
হা মিম : সূরা নং ৪০, ৪১,৪২,৪৩,৪৫ এবং ৪৬।
সোয়াদ : সূরা নং ৩৮।
ত্বা-স্বিন : সূরা নং ২৭।
ত্বা-হা : সূরা নং ২০
ক্বাফ : সূরা নং ৫০
কাফ হা ইয়া আ’ইন সোয়াদ : সূরা নং ১৯
নুন : সূরা নং ৬৮
ইয়া ছিন : সূরা নং ৩৬
ত্বা স্বিন মিম : সূরা নং ২৬, ২৮।
প্রশ্নঃ ২৭৫. যে সকল সূরার আরম্ভে বিছিন্ন বর্ণনা রয়েছে, সেগুলোর তাৎপর্য কি?
উত্তরঃ প্রকৃত গুরুত্ব আল্লাহই জানেন। কিন্তু আলেমে দ্বীনগণ এর নানা ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। সর্বার্ধিক প্রচলিত মতবাদ হলো : এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহ শ্রোতাদের এই মর্মে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন যে, ব্যবহৃত বর্ণমালা আল্লাহর একান্ত। যদিও এগুলো আরবী বর্ণমালা, এগুলোর একক সৌন্দর্য্য, ধরণ রয়েছে এবং এগুলো দ্বারা মানবজাতিকে পথপ্রদর্শন করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৭৬. কোন সূরাগুলো মক্কী সূরা?
উত্তরঃ যে সূরাসমূহ মহানবী (সাঃ)-এর হিজরতের পূর্বে নাযিল করা হয়।
প্রশ্নঃ ২৭৭. কোন্ সূরা মাদানী সূরা?
উত্তরঃ যে সকল সূরা মহানবী (সাঃ)-এর হিজরতের পর নাযিল হয়, এমনকি মাদানী সূরার কিছু আয়াত হিজরতের আগেই নাযিল হয়।
প্রশ্নঃ ২৭৮. মক্কী সূরার মূল প্রতিপাদ্য কী?
উত্তরঃ আল্লাহ এবং তার একত্ব (তাওহীদ);
১.হাশর এবং হাশরের ময়দানে শেষ বিচার;
২.সৎ আমল।
প্রশ্নঃ ২৭৯. মাদানী সূরাসমূহের মূল প্রতিপাদ্য কী?
উত্তরঃ ইসলামী আইন সম্পর্কিত রায়, ব্যাখ্যা।
১.আহলে কিতাব (ইহুদী ও খ্রিস্টান) দের উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন বক্তব্য।
প্রশ্নঃ ২৮০. মাক্কী সূরার মোট সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ৮৫ (পঁচাশি)।
প্রশ্নঃ ২৮১. মাদানী সূরার মোট সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ২৯ (ঊনত্রিশ)।
প্রশ্নঃ ২৮২. মক্কী সূরায় মোট কতটি জুয’ (অংশ) রয়েছে?
উত্তরঃ ১১ (এগারো)।
প্রশ্নঃ ২৮৩. মাদানী সূরায় মোট কতটি জুয’ (অংশ) রয়েছে?
উত্তরঃ ১৯ (উনিশ)। যদিও মাদানী সূরাসমূহ সংখ্যায় কম। এই জাতীয় সূরাসমূহ দীর্ঘ।
প্রশ্নঃ ২৮৪. মক্কী সূরার সাপেক্ষে মাদানী সূরার দৈর্ঘ্য কেমন ?
উত্তরঃ মক্কীসূরাসমূহ সাধারণতঃ মাদানী সূরা অপেক্ষা স্বল্প দৈর্ঘ্যের।
প্রশ্নঃ ২৮৫. প্রথম কোন্ পাঁচটি সূরা নাযিল হয়েছিল?
উত্তরঃ সূরা নং ৯৬, ৬৮, ৭৩, ৭৪ এবং ১১১।
প্রশ্নঃ ২৮৬. যদিও কুরআন কোন বিশেষ ধারা বজায় রেখে নাযিল হয়নি, তবু সূরা ধারাক্রমানুযায়ী সাজানোর আবশ্যকতা কেন?
উত্তরঃ একটি উম্মাহ গঠনের জন্য আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা ধারাবাহিকভাবে উপলব্ধির জন্য সূরাসমূহ ক্রমানুযায়ী সাজানোর আবশ্যকতা রয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৮৭. আসহাবুল নুযুল এর অর্থ কি?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট অবস্থা, ঘটনা এবং ওহী নাযিলের কারণসমূহ।
প্রশ্নঃ ২৮৮. তাফসির শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ আল-কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা।
প্রশ্নঃ ২৮৯. তাফসিরে আসবাব আল নুজুল এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তরঃ এর গুরুত্ব এই জন্য যে, এটি আয়াতের প্রত্য ও তাৎণিক অর্থ বুঝাতে সাহায্য করে।
প্রশ্নঃ ২৯০. আসবাব আন নুজুল এর সাথে সম্পর্কিত কারা?
উত্তরঃ মহানবী (সাঃ) এর সাহাবা (রাঃ)।
প্রশ্নঃ ২৯১. শরীয়াহ্ শব্দটির অর্থ কি?
উত্তরঃ ইসলামী আইন সম্পর্কিত আল-কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।
প্রশ্নঃ ২৯২. মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমনের পূর্বে অন্যান্য নবী রাসূলগণ কি তাদের উম্মতের জন্য নিজস্ব শরীয়ত চালু করেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৯৩. সর্বশেষ প্রদত্ত শরীয়াহ এবং অন্যান্য শরীয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য রয়েছে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৯৪. মূল আহ্বান এবং শেষ আহ্বান এবং নবীর পূর্বে অন্যান্যদের আহ্বানের মধ্যে কোন পার্থক্য রয়েছে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ। আহ্বান একই, এক আল্লাহর উপসানা করা এবং তাকে সিজদা করা। এটাই ইসলামের মর্মকথা।
প্রশ্নঃ ২৯৫. যখন মহানবী (সাঃ) ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন, তখন কি আল্লাহ কর্তৃক আহকাম সময়োপযোগী করা হচ্ছিল?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৯৬. আল-কুরআনের দশটি রিডিং কি?
উত্তরঃ আল-কুরআনের কিছু আয়াতের উচ্চারণের পরিবর্তন এবং যে ভাবে শব্দাচ্চরণ করা হয়, তাই বুঝায়।
প্রশ্নঃ ২৯৭. আল-কুরআন তেলাওয়াতের সর্বাধিক প্রচলিত কোন্ পদ্ধতি রয়েছে?
উত্তরঃ ১২৭ হিজরীতে ’আসিম এর নিকট হতে ১৮০ হিজরীতে হাফস যে পদ্ধতিতে তেলাওয়াত করেন, তা আমাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত।
প্রশ্নঃ ২৯৮. মিশর বাদে উত্তর আফ্রিকায় সর্বাধিক প্রচলিত কোন্ পদ্ধতিতে আল-কুরআন তেলাওয়াত করা হয়?
উত্তরঃ ১৬৯ হিজরীতে নাফি হতে ১৯৭ হিজরীতে ওয়ারস যে পদ্ধতিতে কোরআন মজিদ তেলাওয়াত করতেন, সেই পদ্ধতিটি সেখানে সর্বাধিক প্রচলিত।
প্রশ্নঃ ২৯৯. কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিপাল্য পদ্ধতির শর্তগুলো কি কি?
উত্তরঃ তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে আরবী ব্যাকরণের নিয়ম-কানুনের সাথে একাত্ম থাকতে হবে, উসমান (রাঃ) এর সময়ে লিখিত কুরআনের পান্ডুলিপি অনুসরণ করতে হবে এবং নবী (সাঃ)-এর সাহাবীগণ যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, সেই নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি খুঁজে তাকে সেইভাবে তেলাওয়াত করতে হবে।
প্রশ্নঃ ৩০০. তাফসির এবং তাউইল এর অর্থ কি?
উত্তরঃ উস্সারা ধাতু হতে তাফসির শব্দটির ব্যুৎপত্তি। এর অর্থ ব্যাখা করা, ব্যাখা নির্দেশ করা, কুরআনের আয়াতের জটিল অংশ সহজভাবে পাঠকদের সামনে পেশ করা। অপরদিকে, তাওওইল শব্দটি ‘আওয়ালা’ ধাতু হতে উৎপন্ন হয়েছে। এরও অর্থ ব্যাখ্যা ও নির্দেশ করা। প্রকৃতপে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের অর্থ সহজভাবে উপস্থাপন করাই তাফসির ।
প্রশ্নঃ ৩০১. যদিও কুরআন কোন বিশেষ ধারা বজায় রেখে নাযিল হয়নি, তবু সূরা ধারাক্রমানুযায়ী সাজানোর আবশ্যকতা কেন?
উত্তরঃ একটি উম্মাহ গঠনের জন্য আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা ধারাবাহিকভাবে উপলব্ধির জন্য সূরাসমূহ ক্রমানুযায়ী সাজানোর আবশ্যকতা রয়েছে।
প্রশ্নঃ ৩০২ আসহাবুল নুযুল এর অর্থ কি?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট অবস্থা, ঘটনা এবং ওহী নাযিলের কারণসমূহ।
প্রশ্নঃ ৩০৩. তাফসির শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ আল-কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা।
প্রশ্নঃ ৩০৪. তাফসিরে আসবাব আল নুজুল এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তরঃ এর গুরুত্ব এই জন্য যে, এটি আয়াতের প্রত্য ও তাৎণিক অর্থ বুঝাতে সাহায্য করে।
প্রশ্নঃ ৩০৫. আসবাব আল নুজুল এর সাথে সম্পর্কিত কারা?
উত্তরঃ মহানবী (সাঃ) এর সাহাবা (রাঃ)।
প্রশ্নঃ ৩০৬. শরীয়াহ্ শব্দটির অর্থ কি?
উত্তরঃ ইসলামী আইন সম্পর্কিত আল-কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।
প্রশ্নঃ ৩০৭ মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমনের পূর্বে অন্যান্য নবী রাসুলগণ কি তাদের উম্মতের জন্য নিজস্ব শরীয়ত চালু করেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ৩০৮. সর্বশেষ প্রদত্ত শরীয়াহ এবং অন্যান্য শরীয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য রয়েছে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ৩০৯. মূল আহ্বান এবং শেষ আহ্বান এবং নবীর পূর্বে অন্যান্যদের আহ্বানের মধ্যে কোন পার্থক্য রয়েছে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ। আহ্বান একই, এক আল্লাহর উপসানা করা এবং তাকে সিজদা করা। এটাই ইসলামের মর্মকথা।
প্রশ্নঃ ৩১০. যখন মহানবী (সাঃ) ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন, তখন কি আল্লাহ কর্তৃক আহকাম সময়োপযোগী করা হচ্ছিল?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ৩১১. আল-কুরআনের দশটি রিডিং কি?
উত্তরঃ আল-কুরআনের কিছু আয়াতের উচ্চারণের পরিবর্তন এবং যে ভাবে শব্দাচ্চরণ করা হয়, তাই বুঝায়।
প্রশ্নঃ ৩১২. আল-কুরআন তেলাওয়াতের সর্বাধিক প্রচলিত কোন্ পদ্ধতি রয়েছে?
উত্তরঃ ১২৭ হিজরীতে ’আসিম এর নিকট হতে ১৮০ হিজরীতে হাফস যে পদ্ধতিতে তেলাওয়াত করেন, তা আমাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত।
প্রশ্নঃ ৩১৩. মিশর বাদে উত্তর আফ্রিকায় সর্বাধিক প্রচলিত কোন্ পদ্ধতিতে আল-কুরআন তেলাওয়াত করা হয়?
উত্তরঃ ১৬৯ হিজরীতে নাফি হতে ১৯৭ হিজরীতে ওয়ারস যে পদ্ধতিতে কুরআন মজিদ তেলাওয়াত করতেন, সেই পদ্ধতিটি সেখানে সর্বাধিক প্রচলিত।
প্রশ্নঃ ৩১৪. কোরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিপাল্য পদ্ধতির শর্তগুলো কি কি?
উত্তরঃ তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে আরবী ব্যাকরণের নিয়ম-কানুনের সাথে একাত্ম থাকতে হবে, উসমান (রাঃ) এর সময়ে লিখিত কুরআনের পান্ডুলিপি অনুসরণ করতে হবে এবং নবী (সাঃ)-এর সাহাবীগণ যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, সেই নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি খুঁজে তাকে সেইভাবে তেলাওয়াত করতে হবে।
প্রশ্নঃ ১০০. তাফসির এবং তাওওইল এর অর্থ কি?
উত্তরঃ উস্সারা ধাতু হতে তাফসির শব্দটির ব্যুৎপত্তি। এর অর্থ ব্যাখা করা, ব্যাখা নির্দেশ করা, কুরআনের আয়াতের জটিল অংশ সহজভাবে পাঠকদের সামনে পেশ করা। অপরদিকে, তাওওইল শব্দটি ‘আওয়ালা’ ধাতু হতে উৎপন্ন হয়েছে। এরও অর্থ ব্যাখ্যা ও নির্দেশ করা। প্রকৃতপক্ষে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের অর্থ সহজভাবে উপস্থাপন করাই তাফসির ।
প্রশ্নঃ ৩১৫. মুফাসসির (বহুবচনে মুফাসসিরিন) বলতে কি বোঝায়?
উত্তরঃ সেই আলেমে দ্বীন, যিনি তাফসির পেশ করেন এবং কোরআনের ব্যাখ্যা ও অর্থ পেশ করেন।
প্রশ্নঃ ৩১৬. একজন মুফসসিরের কী কী গুণাবলী থাকতে হয়?
উত্তরঃ দৃঢ় বিশ্বাস বা আকীদার ভিত্তি মজবুত থাকতে হয়;
১.আরবী ভাষায় পূর্ণ দখল থাকতে হয় এবং আরবী ব্যাকরণ এবং আরবী বাক্যের গঠন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হয়;
২.হাদীসশাস্ত্র সম্পর্কে তার জ্ঞানের স্তর গুণগতমানসম্পন্ন হতে হয়।
৩.অন্যান্য তাফসির সম্পর্কে জানানো এবং সাহাবা এবং তাবেইনদের উদ্দেশ্যে বলা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিভিন্ন হাদীস উল্লেখ করা; এবং
৪.ভিত্তিহীন ব্যাখ্যা প্রদান করা থেকে নিজেদের বিরত রাখা।
প্রশ্নঃ ৩১৭. তাফসির পেশ করার মৌলিক বিধিমালাগুলো কী?
উত্তরঃ আল-কুরআনের অন্যান্য আয়াত দ্বারা, সাহাবা এবং তাবেইনদের উদ্দেশ্যে বলা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিভিন্ন হাদীসসমূহ ব্যাখ্যা করাই তাফসির।
প্রশ্নঃ ৩১৮. ইরাকে বসবাসকারী এবং ইবনে মাসুদ (রাঃ) কর্তৃক প্রশিতি তাবিইইনদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরিন কে?
উত্তরঃ আল-হাসান আল-বাসরী (রাঃ) (১২১ হিজরী), মাসরুক ইবনে আল-’আজা (রাঃ) (৬৩ হিজরী) এবং ইবরাহীম আল নাখায়ী (রাঃ) (৯৫ হিজরী)।
প্রশ্নঃ ৩১৯. সর্বাধিক প্রসিদ্ধ তাফসিরসমূহের একটি তালিকা পেশ করুন।
উত্তরঃ
১.তাফসির আল তাবারী (৩১০ হিজরী);
২.তাফসির ইবনে খাতির (৭৭৪ হিজরী);
৩.তাফসির আল-সুয়ূতি (৯১১ হিজরী);
৪.তাফসির আল-জামকাহশাহরি ( ৫৩৯ হিজরী);
৫.তাফসির আল-রাজি (৬০৬ হিজরী);
৬.তাফসির আল-বাইদাওয়ী (৬৮৫ হিজরী);
৭.তাফসীরে ইবনে কাসির;
৮.তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন
৯.তাফসির আল-মানার (১৩৫৪ হিজরী);
১০.ফি যিলালিল কোরআন (১৩৮৬ হিজরী);
১১.তাফহিমুল কোরআন (১৪০০ হিজরী)।
এছাড়া রয়েছে তাফসির আল-কুরতুবি এবং তাফসির আল-নাসফি।
প্রশ্নঃ ৩২০. তাফসির আল-তাবারী কে রচনা করেন?
উত্তরঃ ইবনে জারির আল-তাবারী। তিনি ইরাকে বসবাস করতেন এবং মিশর ও সিরিয়া ভ্রমণ করেন।
প্রশ্নঃ ৩২১. তাফসির আল-তাবারীর শিরোনাম কি?
উত্তরঃ জামি আল বাইয়ান অথবা তাফসির আল-কুরআন।
প্রশ্নঃ ৩২২. তাফসির আল-তাবারীর বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তরঃ এটি তাফসির বিল রিইওয়া শ্রেণীভুক্ত এবং সাহাবা ও তাবেইনদের উদ্দেশ্যে পেশ করা নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বিভিন্ন হাদীসসমূহের উপর ভিত্তি করে তাফসির আল-তাবারী লিখিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ ৩২৩. তাফসির আল-তাবারী কতটা গুরুত্ববহ?
উত্তরঃ ৩০ খন্ডে লিখিত এই তাফসির গ্রন্থটি একটি দীর্ঘ পান্ডিত্যপূর্ণ কাজ এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে লিখিত তাফসিরগুলোর মধ্যে অন্যতম, পরবর্তী সময়ের অধিকাংশ মুফাসসির এবং আলেমে দ্বীন এই তাফসির গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। ১৯০৩, ১৯১১ এবং ১৯৫৪ সালে মিশরে এই তাফসির মুদ্রিত হয়। এই তাফসির গ্রন্থের কোন ইংরেজি তরজমা পাওয়া যায় না।
প্রশ্নঃ ৩২৪. তাফসির ইবনে খাতির কে রচনা করেন?
উত্তরঃ ইসমাইল ইবনে আ’মর ইবনে খাতির। তিনি দামেস্কে বসবাস করতেন এবং ইবনে তাইয়্যিমিয়ার ছাত্র ছিলেন।
প্রশ্নঃ ৩২৫. তাফসির ইবনে খাতিরের শিরোনাম কি?
উত্তরঃ তাফসির আল-কুরআন আল-জাইম।
প্রশ্নঃ ৩২৬. তাফসির ইবনে খাতির কতটা গুরুত্ববহ?
উত্তরঃ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থ এটি। হাদীসের শুদ্ধতার উপর গুরুত্বরোপ করা হয়েছে, বিষয় ভিত্তিক আলোচনা প্রসঙ্গে আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত পরিবেশিত হয়েছে। এই তাফসির গ্রন্থের কোন ইংরেজি তরজমা পাওয়া যায় না।
প্রশ্নঃ ৩২৭. তাফসির আল-সুয়ূতি কে রচনা করেন?
উত্তরঃ জালাল আল-দ্বীন আল সুয়ূতি।
প্রশ্নঃ ৩২৮. তাফসির আল-সুয়ূতির শিরোনাম কি?
উত্তরঃ আল-দুনির আল-মানথুর ফি আল-তাফসির আল-মা’থুর।
প্রশ্নঃ ৩২৯. তাফসির আল-রাজি কে রচনা করেন?
উত্তরঃ মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-রাজি।
প্রশ্নঃ ৩৩০. তাফসির আল-রাজি’র শিরোনাম কি?
উত্তরঃ মাফতিহ আল-ঘাইয়িব।
প্রশ্নঃ ৩৩১. তাফসির আল-রাজি’র বৈশিষ্ট্য কি?
উত্তরঃ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচিত অন্যতম তাফসির, কেবল সূরা ফাতিহার তাফসিরই এক খন্ডে করা হয়েছে। এটি তাফসির বিল রেই শ্রেণীভুক্ত তাফসির গ্রন্থ। একে তাফসির আল-খাবির (বৃহৎ তাফসির) বলা হয়।
প্রশ্নঃ ৩৩২. তাফসির আল-মানার কে রচনা করেন?
উত্তরঃ মিশরের বিখ্যাত ইমাম মুহাম্মদ আবদুহ’র সুপরিচিত ছাত্র মুহাম্মদ রাসিদ রিযা এটি রচনা করেন।
প্রশ্নঃ ৩৩৩. তাফসির আল-মানারের বৈশিষ্ট্য কি?
উত্তরঃ ১২ খন্ডে রচিত এই তাফসির গ্রন্থটি আল-কুরআনের মাত্র এক তৃতীয়াংশ। দূর্ভাগ্যজনকভাবে মুহাম্মদ রাসিদ রিযা তাফসির সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। মুসলমানরা দৈনিন্দিন জীবনে যে সকল সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো এই তাফসির গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ ৩৩৪. ফি যিলালিল কুরআন (আল-কুরআনের ছায়া) তাফসির গ্রন্থটি কে রচনা করেন ?
উত্তরঃ ১৯৫৪-১৯৬৪ সাল পর্যন্ত কারবাসে থাকাকালে সাইয়েদ কুতুব এই তাফসির গ্রন্থটি রচনা করেন। ইখওয়ানুল মুসলীমিনের মত ইসলামী আন্দোলনে তার সম্পৃক্ততা থাকাকালে তৎকালীন জালিম মিশরীয় সরকার তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার আগেই তিনি এই তাফসির সম্পন্ন করেন।
প্রশ্নঃ ৩৩৫. ফি যিলালিল কুরআন (আল-কুরআনের ছায়া) তাফসির গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য কি?
উত্তরঃ লেখক ইসলাম ও ইসলামী বিরোধী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করেন এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এর শেষ খন্ডটির ইংরেজি তরজমা হয়েছে।
প্রশ্নঃ ৩৩৬. তাফহিমুল কুরআন (আল-কুরআনের উপলব্ধি) কে রচনা করেন?
উত্তরঃ সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদুদী (রঃ)।
প্রশ্নঃ ৩৩৭. তাফহিমুল কুরআন (আল-কুরআনের উপলব্ধি)-এর বৈশিষ্ট্য কি?
উত্তরঃ এটি উর্দু ভাষায় লিখিত। ১৯৭৩ সালে তাফসিরের কাজ সম্পন্ন হয়। এর ইংরেজী তরজমা হয়েছে এবং ইংরেজি ভাষায় সর্বোত্তম তাফসিরগুলোর মধ্যে এটি একটি।
প্রশ্নঃ ৩৩৮. কুরআন অনুবাদ করা কঠিন কাজ কেন?
উত্তরঃ বিভিন্ন ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ দ্বারা কোন বিশেষ একটি ভাষায় পরিবর্তন করলে প্রকৃত অর্থ প্রকাশ পায় না। অধিকন্তু অনুদিত ভাষার মাধ্যমে মূল পাঠের সৌন্দর্য্য যথাযথভাবে প্রকাশিত হয় না।
প্রশ্নঃ ৩৩৯. কোন সুরাকে কুরআনের সিংহাসন বলা হয়?
উত্তরঃ সুরা বাকারা
প্রশ্নঃ ৩৪০. কুরআনের মুকুট বলা হয় কোন সুরাকে?
উত্তরঃ সুরা রহমান
প্রশ্নঃ ৩৪১. ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ কনটি?
উত্তরঃ বদর যুদ্ধ
প্রশ্নঃ ৩৪২. আল কুরআনের সর্বপ্রথম কোন ভাষায় কে অনুবাদ করেন?
উত্তরঃ ল্যাটিন ভাষায়, রবার্ট ক্যাটেনেনিছা।
প্রশ্নঃ ৩৪৩. আল কুরআনের সর্বপ্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
উত্তরঃ মাওলানা আমীর উদ্দীন বশুনিয়া ১৮০৮ সালে।
প্রশ্নঃ ৩৪৪. সর্ব প্রথম পুস্তক আকারে বাংলায় কুরআনের অনুবাদ করেন কে?
উত্তরঃ ভাই গিরিস চন্দ্র সেন ১৮৮৬ সালে।
প্রশ্নঃ ৩৪৫. আল কুরআনকে ৩০ পারায় বিভক্ত করেন কে?
উত্তরঃ হযরত উসমান রা.
প্রশ্নঃ ৩৪৬. হযরত মুসা আ. এর সম্প্রদায়ের নাম কী ছিল?
উত্তরঃ বনী-ইসরাইল
প্রশ্নঃ ৩৪৭. স্পেন বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির নাম কী?
উত্তরঃ তারেক বিন যিয়াদ
প্রশ্নঃ ৩৪৮. মক্কায় সর্বপ্রথম কোন সুরা নাযিল হয়?
উত্তরঃ সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত ।
প্রশ্নঃ ৩৪৯. পবিত্র কুরআনে কতজন নবীর নাম উল্লেখ আছে?
উত্তরঃ ২৮ জন
প্রশ্নঃ ৩৫০. রাসুল সা. এর জীবনের প্রথম যুদ্ধ কোনটি?
উত্তরঃ বদর যুদ্ধ
প্রশ্নঃ ৩৫১. রাসুল সা. এর জীবনের শেষ অভিযান কোনটি?
উত্তরঃ তাবুক অভিযান
প্রশ্নঃ ৩৫২. মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. ইংরেজি কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তরঃ ২৯ অগাস্ট ৫৭০
প্রশ্নঃ ৩৫৩. আল্লাহর সিংহ কোন খলিফার উপাধি ছিল?
উত্তরঃ হযরত আলী রা. এর
প্রশ্নঃ ৩৫৪. তাফসির কত প্রকার?
উত্তরঃ বিল-রিওয়াইয়া; প্রচারের দ্বারা; আল-কুরআন এবং সাহাবা এবং তাবেইনদের উদ্দেশ্যে বলা নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বিভিন্ন হাদীস প্রচার করা;
১.বিল-রাই; ইজতিহাদ দ্বারা ১নং ধারায় বর্ণিত উৎস্যসমূহের উপর গুরুত্বপূর্ণ মতামত পেশ করা।
২.বিল-ইশারা; সমকালীন তাফসীর সংক্রান্ত গবেষণার উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল নয় এবং আল্লাহ প্রদত্ত বিভিন্ন ইঙ্গিত, প্রতীক ও চিহ্ন সম্পর্কে আলোচনা করা।
প্রশ্নঃ ৩৫৫. বিখ্যাততম সাহাবা কারা, যাদের তাফসির গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ আবু বাকর (রা), উমার (রাঃ), উসমান (রাঃ), আলী ইবনে মাসুদ (রাঃ), ইবনে আব্বাস (রাঃ), উবাই বিন খা’ব (রাঃ), যায়িদ বিন ছাবিত (রাঃ), আবু মুসা আল আসারী (রাঃ) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাঃ)।
প্রশ্নঃ ৩৫৬. মক্কায় বসবাসকারী এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ’আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক প্রশিক্ষিত তাবিইনদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরিন কে?
উত্তরঃ মুজাহিদ (১০৪ হিজরী)।
প্রশ্নঃ ৩৫৭. মদীনায় বসবাসকারী এবং উবাই ইবনে খা’ব (রাঃ) কর্তৃক প্রশিতি তাবিইনদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরিন কে?
উত্তরঃ মুহাম্মদ ইবনে কা’ব আল কুরজি (রাঃ) (১১৭ হিজরী), আবু ই’লাইয়া আল রিয়াহী (রাঃ) (৯০ হিজরী) এবং যায়িদ ইবনে আসলাম (রাঃ) (১৩০ হিজরী)।
প্রশ্নঃ ৩৫৮ কোরআন শরীফ কি?
উত্তরঃ একটি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশ্বরিক গ্রন্থ।
প্রশ্নঃ ৩৫৯ কোরআন সর্বপ্রথম কোথায় অবতীর্ণ হয়?
উত্তরঃ হেরা পর্বত গুহায়।
প্রশ্নঃ ৩৬০ কোরআন কত দিনে অবতীর্ণ হয়?
উত্তরঃ ২২ বছর ৫ মাস ১৪ দিনে।
প্রশ্নঃ ৩৬১ কোরআনের প্রধান বৈশিষ্ট কি?
উত্তরঃ মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের বৈশিষ্ট হলো প্রথম থেকে এখনও এটি অবিকৃত রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে।
প্রশ্নঃ ৩৬২ কোরআনে আল্লাহ শব্দটি কত বার এসেছে?
উত্তরঃ ২৫৮৪ বার।
প্রশ্নঃ ৩৬৩ কোরআনের পান্ডুলিপি কে তৈরী করেন?
উত্তরঃ হযরত আবু বকর (রাদি.)।
Developed by
"আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু" * বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম * "ইসলামের আলোকে আমাদের জগৎ" Site এ সবাইকে স্বাগতম। * "প্রচার কর,যদি একটি মাত্র আয়াতও হয়"। [বুখারী-৩৪৬১] * "কেউ হেদায়েতের দিকে আহ্বান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে,তবে যারা অনুসরন করেছে তাদের সওয়াবের কোন কমতি হবেনা।"(মুসলিম-২৬৭৮) * আমাদের এই Site এ আল কুরআন/সুন্নাহ ভিত্তিক লিখনী দেয়া হবে- ইনশা আল্লাহ।আপনারা আমাদের সাথেই থাকবেন। * "জাযাকাল্লাহু/জাযাকি-আল্লাহু খায়রান”
Saturday, May 25, 2019
বিষয়: আল কুরআন
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Most Recent Post :-
-
ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়: আল কুরআন ১০০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনুল কারীমে কতটি সূরা আছে? উত্তরঃ ১১৪টি। ১০১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূর...
-
আবু জাহেলের হত্যার ঘটনা আব্দুর রহমান বিন আউফ বর্ণনা করেছেন “বদরের ময়দানে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। একজন তরুণ এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলঃ হে চাচা! আবু ...
-
ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়: সাহাবায়ে কেরাম (রা:) ৪৪২. প্রশ্নঃ সাহাবী কাকে বলে? উত্তরঃ যাঁরা ঈমানের সাথে নবী (সাঃ)এর সাথে সাক্ষাত লাভ করেছেন ...
No comments:
Post a Comment