Sunday, May 26, 2019

সুন্দর নামের ফজিলত

ইসলামিক সুন্দর নাম

শিশুর জন্মের পর তার জন্য একটি সুন্দর ইসলামী নাম রাখা প্রত্যেক মুসলিম পিতা- মাতার কর্তব্য। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মুসলিমদের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলিমদের মাঝেও ইসলামী সংস্কৃতি ও মুসলিম ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে শিশুর নাম নির্বাচন করার আগ্রহ দেখা যায়। এজন্য তাঁরা নবজাতকের নাম নির্বাচনে পরিচিত আলেম-ওলামাদের শরণাপন্ন হন। তবে সত্যি কথা বলতে কী এ বিষয়ে আমাদের পড়াশুনা একেবারে অপ্রতুল। তাই ইসলামী নাম রাখার আগ্রহ থাকার পরও অজ্ঞতাবশত আমরা এমনসব নাম নির্বাচন করে ফেলি যেগুলো আদৌ ইসলামী নামের আওতাভুক্ত নয়। শব্দটি আরবী অথবা কুরআনের শব্দ হলেই নামটি ইসলামী হবে তাতো নয়। কুরআনে তো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কাফেরদের নাম উল্লেখ আছে। ইবলিস, ফেরাউন,হামান, কারুন, আবু লাহাব ইত্যাদি নাম তো কুরআনে উল্লেখ আছে; তাই বলে কী এসব নামে নাম বা উপনাম রাখা সমীচীন হবে!?

ইসলামী নামকরণ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম তাঁকে বিভিন্ন জিনেসের নাম শিক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর সে সকল জিনিসকে ফেরেশ্তাগণের সম্মুখে পেশ করে তাদেরকে সেগুলোর নাম বলার জন্য বলেছিলেন। এসম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-

ﻭَﻋَﻠَّﻢَ ﺀَﺍﺩَﻡَ ﭐﻟْﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀَ ﻛُﻠَّﻬَﺎ ﺛُﻢَّ ﻋَﺮَﺿَﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟْﻤَﻠَٰٓﺌِﻜَﺔِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺃَﻧۢﺒِـُٔﻮﻧِﻰ ﺑِﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀِ ﻫَٰٓﺆُﻟَﺎٓﺀِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺻَٰﺪِﻗِﻴﻦَ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ۟ ﺳُﺒْﺤَٰﻨَﻚَ ﻟَﺎ ﻋِﻠْﻢَ ﻟَﻨَﺎٓ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﺎ ﻋَﻠَّﻤْﺘَﻨَﺎٓ ۖ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ ﭐﻟْﺤَﻜِﻴﻢُ আর তিনি আদমকে নামসমূহ সব শিক্ষা দিলেন তারপর তা মালাইকাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। সুতরাং বললেন, ‘তোমরা আমাকে এগুলোর নাম জানাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’। তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র মহান। আপনি আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন, তা ছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’। (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ৩১-৩২)

আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন নবী- রাসুলকে তাদের আসল নাম কিংবা গুণবাচক নাম বলে ডাক দিয়েছেন। যেমন ইয়া আদামু, ইয়া মুসা, ইয়া যাকরিয়া, ইয়া ইব্রাহীম, ইয়া ঈসা ইবনু মারইয়ামা, ইয়া মুদদাসসিরু, ইয়া মুযযাম্মিলু, ইত্যাদি। পবিত্র কুরআনের যে আয়াতটি সর্বপ্রথম নাযিল করা হয়েছে, সেখানেরও আল্লাহ পাক নামের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বলা হয়েছ- ﭐﻗْﺮَﺃْ ﺑِﭑﺳْﻢِ ﺭَﺑِّﻚَ ﭐﻟَّﺬِﻯ ﺧَﻠَﻖَ পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আলাক্ব,আয়াতঃ ১)

অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় মানুষের নামকরণেরও গুরুত্ব কম নয়। নামকরণের মূল উদ্দেশ্য যদি কেবলমাত্র শনাক্তকরণই হতো, তাহলে সন্তান ভূমিষ্ট হবার পর পিতামাতা হয়তো সন্তানকে চিহ্নিত বা শনাক্তকরণের জন্য ১,২,৩ বা অন্য কোন সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতেন এবং সে অংক সংখ্যা বা চিহ্ন দিয়েই সন্তানকে ডাকতেন, আর সন্তানের ভাল নামকরণের জন্যে পিতামাতা পেরশানী ভোগ করতেন না। কিন্তু দেখা যায়, সন্তান ভূমিষ্ট হবার পরই তার নামকরণের জন্য একটি ভাল নাম খুজতে থাকেন। ইসলামী ভাবধারা সম্ভলিত নামকরণ যেমন ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অন্যদিকে নামকরণের দ্বারা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তা, চেতনা ও মানসিকতারও উন্নতি ঘটে। কাজেই সন্তানের নামকরণ যেমন উত্তম হতে হবে, তেমনি তা হতে হবে ইসলামী ভাবধারায় পরিপূর্ণ,যাতে নামের দ্বারাই বুঝা যায় যে, লোকটি মুসলনাম। উপরোক্ত কুরআন ও হাদীসের আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষের পরিচয়, শনাক্তকরণ ছাড়াও ইহকাল ও পরকালে নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুন্দর নাম রাখা জন্মের পরপরই পিতামাতার ওপর করর্তব্য হলো নবজাতক শিশুর শ্রুতিমকধুর, অর্থবোধক ও ইওসলাসম্মত নাম রাখা। শিশুর নামকরণের একটি গুরুত্ব রয়েছে। এতে শিশুর পরিচয়, বংশ পরিচয়,জাতীয়তা নির্ণীত হয়। কেননা কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে তার নাম ধরে ডাকা হবে। পৃথিবীর সব সমাজেই এ প্রথা প্রচলিত। ইসলামে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনস্বীকার্য। এনামের প্রভাবে শিশুর পরবর্তী জীবনে স্বভাব-চরিত্রে শুচি-শুভ্রতা ফুটে ওঠে। পরিচয়ের জন্য নামকরণ শিশুর জন্মগত অধিকার। এতে শিশুর অনেকগুলো মৌলিক ও সমাজিক অধিকার প্রতিষ্টিত হয়। আল কুরআন ও হাদীসে এজন্য শিশুর নামকরণের অতিব গুরুত্বের সাথে বিধৃত হয়েছে।নিম্নোক্ত আয়াতটি এ ব্যাপ্যারে প্রনিধানযোগ্য। ﻳﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟﻨَّﺎﺱُ ﺇِﻧَّﺎ ﺧَﻠَﻘْﻨَٰﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺫَﻛَﺮٍ ﻭَﺃُﻧﺜَﻰٰ ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَٰﻜُﻢْ ﺷُﻌُﻮﺑًﺎ ﻭَﻗَﺒَﺎٓﺋِﻞَ ﻟِﺘَﻌَﺎﺭَﻓُﻮٓﺍ۟ ۚ ﺇِﻥَّ ﺃَﻛْﺮَﻣَﻜُﻢْ ﻋِﻨﺪَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺗْﻘَﻯٰﻜُﻢْ ۚ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻋَﻠِﻴﻢٌ ﺧَﺒِﻴﺮٌ হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়া সম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (সূরা হুজরাত, আয়াতঃ ১৩)

ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻠْﻤِﺰُﻭٓﺍ۟ ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻨَﺎﺑَﺰُﻭﺍ۟ ﺑِﭑﻟْﺄَﻟْﻘَٰﺐِ ۖ ﺑِﺌْﺲَ ﭐﻟِﭑﺳْﻢُ ﭐﻟْﻔُﺴُﻮﻕُ ﺑَﻌْﺪَ ﭐﻟْﺈِﻳﻤَٰﻦِ ۚ ﻭَﻣَﻦ ﻟَّﻢْ ﻳَﺘُﺐْ ﻓَﺄُﻭ۟ﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤُﻮﻥَ একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতইনা নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো যালিম। (সূরা হুজরাত,আয়াতঃ ১১)

নাম রাখার ক্ষেত্রে নামের অর্থ,প্রয়োজন, বিধি ও ঐতিহাসিক পেক্ষাপট স্বরণ রাখা একান্ত প্রয়োজন। অসাবধানতা ও অজ্ঞতাবশত কোন অর্থহীন বা বিদ্ঘুটে নাম রেখে ফেললে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখা অবশ্য কর্তব্য।আর এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সময় কারো নাম খারাপ পেলে তার নাম সাথে সাথে পরিবর্তন করে দিতেন। এ প্রসঙ্গে এক বর্ণনায় এসেছে- ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ، ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﻳُﻐَﻴِّﺮُ ﺍﻻِﺳْﻢَ ﺍﻟْﻘَﺒِﻴﺢَ . আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকৃষ্ট নামসমূহ পরিবর্তন করে (ভালো নাম রেখে) দিতেন। (তিরমিযি, হাদিস নং-২৮৩৯)

সুন্দর নামের সৌন্দর্য ও তাৎপর্য অপরিসীম একটি সুন্দর নাম আল্লাহর নেয়ামত। কাল কেয়ামতে কঠিন মসিবতের সময় যখন কোন সাহায্যকারী থাকবেনা, তখন হয়ত বা একটি সুন্দর ও ভাল নামের ওসিলায় আমরা নাজাত পেতে পারি। শেষ বিচারের দিন যখন বান্দার বাম ও ডানের পাল্লা সমান হবে তখন আল্লাহ তার সুন্দর নামের ওসিলায় তার ডান পাল্লা ভারি করে দিতে পারেন। তাই সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো তাদের সুন্দর ও ইসলাম সম্মত নাম রাখা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরীফে এরশাদ করেছেন- ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ ﺗَﺴَﻤَّﻮْﺍ ﺑِﺎﺳْﻤِﻲ ﻭَﻻَ ﺗَﻜْﺘَﻨُﻮﺍ ﺑِﻜُﻨْﻴَﺘِﻲ، ﻭَﻣَﻦْ ﺭَﺁﻧِﻲ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﻨَﺎﻡِ ﻓَﻘَﺪْ ﺭَﺁﻧِﻲ، ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻻَ ﻳَﺘَﻤَﺜَّﻞُ ﻓِﻲ ﺻُﻮﺭَﺗِﻲ، ﻭَﻣَﻦْ ﻛَﺬَﺏَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻣُﺘَﻌَﻤِّﺪًﺍ ﻓَﻠْﻴَﺘَﺒَﻮَّﺃْ ﻣَﻘْﻌَﺪَﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আমার নামে তোমরা নাম রেখ; কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াতে) তোমরা উপনামে রেখ না। আর যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে ঠিক আমাকেই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতির ন্যায় রুপ ধারণ করতে পারে না। যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। (বুখারী, হাদিস নং-১১১)

ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ، ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﻳُﻐَﻴِّﺮُ ﺍﻻِﺳْﻢَ ﺍﻟْﻘَﺒِﻴﺢَ . আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকৃষ্ট নামসমূহ পরিবর্তন করে (ভালো নাম রেখে) দিতেন। (তিরমিযি, হাদিস নং-২৮৩৯)

সন্তানের সুন্দর নাম রাখা,তাদের আদব কায়দা শিক্ষা দেওয়া পিতা-মাতার ওপর একটা বড় দায়িত্ব। বাবা মা তাদের সন্তানকে উত্তম আদব কায়দা শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে ভালো কিছু দিতে পারেনা। আজকাল আমাদের মুসলিম সমাজের সন্তানদের নামকরণের আমরা অত্যন্ত উদাসীন ও স্বেচ্ছাচারীতার পরিচয় দিয়ে থাকি। আমাদের সন্তানদের নাম শুনে মনে হয় না যে সে হিন্দু না মুসলমান, ছেলে না মেয়ে, ইনসাম না অন্য কোন জাত, এমনকি আল্লাহ শব্দেরও প্রতিশব্দ বের করে ফেলেছি। আমরা আল্লাহকে খোদা বলে ডাকি। আল্লাহ নামের প্রতিশব্দ খোদা নয়। পৃথিবীর কোন ভাষার কোন শব্দই এ অদ্বিতীয় শব্দের প্রতিশব্দ হওয়ার স্পর্ধা রাখে না। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের কোথাও আল্লাহ শব্দের কোন প্রতিশব্দ নেই। মহান আল্লাহ যেমন লাসানী অদ্বিতীয়, তার জাত পাক এ মহামহিমান্বিত নামও তেমনি অদ্বিয়ীয়,অনুপম।

ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻥَّ ﻟِﻠَّﻪِ ﺗِﺴْﻌَﺔً ﻭَﺗِﺴْﻌِﻴﻦَ ﺍﺳْﻤًﺎ ﻣَﻦْ ﺃَﺣْﺼَﺎﻫَﺎ ﺩَﺧَﻞَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ

আবূ হুরাইরাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর নিরানব্বই নাম রয়েছে। যে লোক তা কণ্ঠস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সুনান তিরমিযি,হাদিস নং-৩৫০৮)

ﻭَﻟِﻠَّﻪِ ﭐﻟْﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀُ ﭐﻟْﺤُﺴْﻨَﻰٰ ﻓَﭑﺩْﻋُﻮﻩُ ﺑِﻬَﺎ ۖ ﻭَﺫَﺭُﻭﺍ۟ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﻠْﺤِﺪُﻭﻥَ ﻓِﻰٓ ﺃَﺳْﻤَٰٓﺌِﻪِۦ ۚ ﺳَﻴُﺠْﺰَﻭْﻥَ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ۟ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। (সূরা আরাফ,আয়াতঃ১৮০)

ﻗُﻞِ ﭐﺩْﻋُﻮﺍ۟ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺃَﻭِ ﭐﺩْﻋُﻮﺍ۟ ﭐﻟﺮَّﺣْﻤَٰﻦَ ۖ ﺃَﻳًّﺎ ﻣَّﺎ ﺗَﺪْﻋُﻮﺍ۟ ﻓَﻠَﻪُ ﭐﻟْﺄَﺳْﻤَﺎٓﺀُ ﭐﻟْﺤُﺴْﻨَﻰٰ ۚ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺠْﻬَﺮْ ﺑِﺼَﻠَﺎﺗِﻚَ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺨَﺎﻓِﺖْ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﭐﺑْﺘَﻎِ ﺑَﻴْﻦَ ﺫَٰﻟِﻚَ ﺳَﺒِﻴﻠًﺎ বল, ‘তোমরা (তোমাদের রবকে) ‘আল্লাহ’ নামে ডাক অথবা ‘রাহমান’ নামে ডাক, যে নামেই তোমরা ডাক না কেন, তাঁর জন্যই তো রয়েছে সুন্দর নামসমূহ। তুমি তোমার সালাতে স্বর উঁচু করো না এবং তাতে মৃদুও করো না; বরং এর মাঝামাঝি পথ অবলম্বন কর। (সূরা আল ইসরা,আয়াতঃ১১০)

ﭐﺩْﻋُﻮﻫُﻢْ ﻷِﺀَﺍﺑَﺎٓﺋِﻬِﻢْ ﻫُﻮَ ﺃَﻗْﺴَﻂُ ﻋِﻨﺪَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ۚ ﻓَﺈِﻥ ﻟَّﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮٓﺍ۟ ﺀَﺍﺑَﺎٓﺀَﻫُﻢْ ﻓَﺈِﺧْﻮَٰﻧُﻜُﻢْ ﻓِﻰ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ ﻭَﻣَﻮَٰﻟِﻴﻜُﻢْ ۚ ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺟُﻨَﺎﺡٌ ﻓِﻴﻤَﺎٓ ﺃَﺧْﻄَﺄْﺗُﻢ ﺑِﻪِۦ ﻭَﻟَٰﻜِﻦ ﻣَّﺎ ﺗَﻌَﻤَّﺪَﺕْ ﻗُﻠُﻮﺑُﻜُﻢْ ۚ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭًﺍ ﺭَّﺣِﻴﻤًﺎ তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাক; আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ইনসাফপূর্ণ। অতঃপর যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তাহলে তারা তোমাদের দীনি ভাই এবং তোমাদের বন্ধু। আর এ বিষয়ে তোমরা কোন ভুল করলে তোমাদের কোন পাপ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকলে (পাপ হবে)। আর আল্লাহ অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব,আয়াতঃ ৫)

নাম পরিবর্তন করে পূর্বের নামের চেয়ে সুন্দর নাম রাখা

ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﺃَﻥَّ ﺯَﻳْﻨَﺐَ، ﻛَﺎﻥَ ﺍﺳْﻤُﻬَﺎ ﺑَﺮَّﺓَ، ﻓَﻘِﻴﻞَ ﺗُﺰَﻛِّﻲ ﻧَﻔْﺴَﻬَﺎ . ﻓَﺴَﻤَّﺎﻫَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺯَﻳْﻨَﺐَ আবূ হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্নিত যে যায়নাব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) এর নাম ছিলো ‘বাররাহ’ (নেককার)। তখন কেউ বললেন এতে তিনি নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম রাখলেন


No comments:

Post a Comment

Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻