রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
কোন বেগানা
নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যেনা,
অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যেনা, অবৈধভাবে
কাউকে স্পর্শ করা হাতের যেনা, ব্যাভিচারের
উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যেনা, খারাপ কথা
শোনা কানের যেনা আর যেনার কল্পণা করা ও
আকাংখা করা মনের যেনা । অতঃপর লজ্জাস্থান একে
পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়”।
( সহীহ আল- বুখারী, সহীহ আল-মুসলিম, সুনানে
আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসায়ী )
যেনা হারামঃ আল্লাহ তাআ’লা যেনাকে হারাম ঘোষণা
করে বলেনঃ “তোমরা যেনার কাছেও যাবে না।
কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ”। ( সূরা
বনী ইসরাঈলঃ ৩২ )
যেনার শাস্তিঃ রাসুল ﷺ বলেছেনঃ
“আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার
উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত
আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী
পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল । আগুনের শিখা উপরে
আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত
হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা
চলছিল, আমি জিবরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে
জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা ? জিবরাইল আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললঃ তারা হল, অবৈধ যৌনচারকারী নারী
ও পুরুষ । ( সহীহ আল-বুখারী )
যিনা বিভিন্ন প্রকার হতে পারে । নিজের স্ত্রী
ব্যতীত অন্য মহিলার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করাকে
যৌনাঙ্গের যিনা বলে । এছাড়া চোখের যিনা হচ্ছে
মাহরাম ব্যতীত অন্য মহিলার দিকে কামনার দৃষ্টি
নিক্ষেপ করা । মুখের বা জিহ্বার যিনা হচ্ছে
কামভাবে কথা বলা (বুখারী , ফাতহুল বারী হা/৬২৪৩ ,
১১/৩০) ।
অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং
বিবাহিতের শাস্তি হচ্ছে রজম (কোমর পর্যন্ত
পুতে পাথর মেরে হত্যা) (ইবনু মাজাহ হা/২৫৫০ ;
ইরওয়া হা/২৩৪১) ।
উল্লেখ্য , দেশের শাসক বা তার প্রতিনিধিই কেবল
এই শাস্তি কার্যকর করতে পারেন (ফাতাওয়া লাজনা
দায়িমাহ , ২২/৩৫) ।
যিনা-ব্যভিচার কবিরাহ গুনাহ । তওবা ব্যতীত এ গোনাহ
মাফ হয় না । ব্যভিচারী ব্যক্তি ঐ গর্হিত কর্ম থেকে
ফিরে এসার জন্য অনুতপ্ত হয়ে খালেছ অন্তরে
তওবা করলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন
# ইনশাআল্লাহ
(তওবা-৮২ ; ফুরকান-৬৮-৭০) ।
বনী_ইসরাঈলের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল অত্যন্ত
পাপী, সে ২০০ বছর পর্যন্ত আল্লাহর নাফরমানী
করেছে!!
যখন সে মৃত্যুবরণ করে মানুষেরা তাকে এমন
স্থানে নিক্ষেপ করল, যেখানে আবর্জনা ফেলা
হতো। তখন হযরত মুসা (আঃ) এর প্রতি ওহী এলো
যে, লোকটিকে ওখান থেকে তুলে যেন, তার
ভালভাবে জানাযার নামায পড়ে তাঁকে দাফন করা হয়!!!!!!!!
হযরত মুসা (আঃ) আরজ করলেন,,, হে আল্লাহ!
বনী ইসরাঈল সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, লোকটি ২০০
বছর পর্যন্ত তোমার নাফরমানী করেছিল!!
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন , হ্যাঁ, তবে তার একটি ভাল
অভ্যাস ছিল!!! যখন সে তাওরাত শরীফ তেলওয়াত
করতো, যতবার আমার হাবীব , সরকারে দু' আলম,
নূরে মোজাচ্ছাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর
নাম মোবারক দেখত , তখন সে ততবার চুম্বন
করে চোখের উপর রাখত এবং উনার প্রতি দুরূদ
শরিফ পাঠ করত।।।
এজন্যই আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং সত্তর
জন হুর স্ত্রী স্বরূপ তাকে দান করেছি।’’ ,
সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ
☆☆☆☆
মুসা নবীর উম্মত, যে ২০০শত বছর গুনাহ করে
কাটিয়েছে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ থাকে মাফ করে
দিলেন আমার নবীজী-কে ভালোবেসে উনার
উপরে দুরুদ শরীফ পড়ার কারনে......
একবার চিন্তা করুন, আপনি সেই নবীর উম্মত
হয়ে কতটুকু ভালোবাসতে পেরেছেন, দিন
রাতে কতবার দুরুদ শরীফ পড়ে থাকেন..??
"আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু" * বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম * "ইসলামের আলোকে আমাদের জগৎ" Site এ সবাইকে স্বাগতম। * "প্রচার কর,যদি একটি মাত্র আয়াতও হয়"। [বুখারী-৩৪৬১] * "কেউ হেদায়েতের দিকে আহ্বান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে,তবে যারা অনুসরন করেছে তাদের সওয়াবের কোন কমতি হবেনা।"(মুসলিম-২৬৭৮) * আমাদের এই Site এ আল কুরআন/সুন্নাহ ভিত্তিক লিখনী দেয়া হবে- ইনশা আল্লাহ।আপনারা আমাদের সাথেই থাকবেন। * "জাযাকাল্লাহু/জাযাকি-আল্লাহু খায়রান”
Saturday, May 25, 2019
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :-
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Most Recent Post :-
-
ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়: আল কুরআন ১০০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনুল কারীমে কতটি সূরা আছে? উত্তরঃ ১১৪টি। ১০১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূর...
-
আবু জাহেলের হত্যার ঘটনা আব্দুর রহমান বিন আউফ বর্ণনা করেছেন “বদরের ময়দানে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। একজন তরুণ এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলঃ হে চাচা! আবু ...
-
ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়: সাহাবায়ে কেরাম (রা:) ৪৪২. প্রশ্নঃ সাহাবী কাকে বলে? উত্তরঃ যাঁরা ঈমানের সাথে নবী (সাঃ)এর সাথে সাক্ষাত লাভ করেছেন ...
No comments:
Post a Comment