Saturday, May 25, 2019

নামাযের মধ্যে ঘটে যাওয়া ভুল সমূহ

নামাযের মধ্যে ঘটে যাওয়া ভুল সমূহ

নামাযের মধ্যে সাধারণতঃ ঘটে যাওয়া ভুল সমূহঃ

কাতারের ভুলসমূহঃঃ

১. দাগের উপরে বা দাগে আঙ্গুল রেখে দাগের পিছনে দাঁড়ানো। নিয়ম হলো দাগের আগে গোড়ালী রেখে উভয় পা কিবলামুখী সোজা করে দাঁড়ানো।

২. কাতার ইমামের ডানে বাড়িয়ে ফেলা। অথচ নিয়ম হলো, ইমামের সোজাসুজি পিছনে একজন দাঁড়িয়ে তাঁর দু’দিক থেকে সমানভাবে কাতারে লোক দাঁড়াবে। কোন দিকে কাতার লম্বা করবে না। (আলমগীরী ১ : ৮৭)

৩. সামনের কাতারে খালি জায়গা রেখে পিছনের কাতারে বসে থাকা বা পিছের কাতারে দাঁড়ানো। নিয়ম হল সবচেয়ে সামনের যে কাতারে খালী পাওয়া যায় সেখানে চলে যাওয়া।(শামী, ১ : ৫৭০)

৪. কাতারে মিলে মিলে না দাঁড়ানো এবং দু’জনের মাঝে এতটুকু ফাঁকা রাখা যার মধ্যে আর একজন দাঁড়াতে পারে।(মাসায়িলে নামায, ৮৭ পৃষ্ঠা)

৫. শেষ কাতারে শুধু একজন দাঁড়ানো। নিয়ম হলো কেউ কাতারে একা হলে, সামনের কাতার হতে মাসআলা জানেন এমন একজন মুসল্লীকে হাতে ধরে পিছনে নিয়ে আসবে, তিনিও সিনা ঠিক রেখে দু-এক কদম হেঁটে পিছের কাতারে আসবেন। মাসআলা জানেন এমন লোক না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে একাই পিছনে দাঁড়াবে। (শামী, ১ : ৫৬৮)

৬. জামা‘আত শুরু হওয়ার পর কাতারে দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়া। নিয়ম হলো ইকামত শুরু হয়ে গেলে একমাত্র ফজরের সুন্নাত ছাড়া অন্য কোন সুন্নাত শুরু না করা। আর ফজরের সুন্নাত জামা‘আত পাওয়ার শর্তে কাতারের পিছনে বা বারান্দায় পড়া। (আলমগীরী, ১ : ১০৮)

ইকামাতের সময় ভুল সমূহঃ

১. ইকামতের সময় বা তাহরীমা বাঁধার পূর্বে অনেকেই হাত বেঁধে দাঁড়ায়। অথচ এমনটি করা মাকরূহ। নিয়ম হলো এ সময় হাত ছেড়ে রাখা। (ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া, ৩ : ১৪)

২. অনেকে ইকামাতের জবাব দেয় না। অথচ আযানের ন্যায় ইকামাতের জবাব দেয়াও মুস্তাহাব। (আবু দাউদ, হাদীস নং- ৫২৮)

তাকবীরে তাহরীমার ক্ষেত্রে ভুল সমূহঃ

১. অনেকে তাকবীরে তাহরীমার জন্য হাত উঠানোর সময় মাথা ঝুঁকায়, এটা নাজায়েয। সুন্নাত হলো মাথা সোজা রেখে সিজদার জায়গায় নজর রাখা। (শামী ১ : ৪৪৪)

২. তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় পুরুষদের অনেকে চাদরের ভিতর থেকে হাত বের করে না। অথচ পুরুষদের জন্য চাদর থেকে হাত বের করে কান পর্যন্ত উঠানো মুস্তাহাব। তবে মহিলারা কাপড়ের ভিতর হতে হাত বের করবে না।(শামী, ১ : ৪৭৮)

৩. অনেকে হাতের তালু কিবলামুখী করে উঠায় না। বরং হাতের তালু কানমুখী করে দু‘পার্শ্বে উঠিয়ে বা হাতের আঙ্গুলসমূহ কিবলার দিকে বাঁকা করে নিয়ত বাঁধা। এরূপ করা ভুল।

৪. হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের লতি পর্যন্ত উঠাতে হয়। অথচ অনেকে তড়িঘড়ি করে হাত সামান্য একটু উঠিয়েই নিয়ত বাঁধে।

৫. আরবী নিয়ত বলতে গিয়ে অনেকে তাকবীরে উলা, আবার অনেকে রুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে। অথচ আরবীতে নিয়ত বলা জরুরী নয়। বরং আরবীতে নিয়ত বলা জরুরী মনে করলে বিদ‘আত হবে। বাংলায় নির্দিষ্ট নামাযের ও ইমামের ইকতিদার নিয়ত করাই মুস্তাহাব আদায়ের জন্য যথেষ্ট। অধিকন্তু শুধু অন্তরে নির্দিষ্ট নামাযের সংকল্প করার দ্বারাই নিয়ত করার ফরয আদায় হয়ে যায়। নিয়ত মুখে বলা ফরয নয়, মুস্তাহাব।

সবচেয়ে মারাত্মক বিষয়ঃ

হলো, অনেকে আরবী নিয়ত পড়তে যেয়ে সেদিকে অর্থ না বুঝে এত বেশী মনোনিবেশ করে যে, নির্দিষ্ট নামায ও ইমামের ইকতিদার এরাদা বা সংকল্প অন্তরে উপস্থিত থাকেনা সেক্ষেত্রে নিয়ত ফরয এটা না পাওয়ায় তার নামায হয় না।

৬. অনেকে তাকবীরে তাহরীমা ও অন্যান্য তাকবীরে ‘আল্লাহ’ শব্দ এর লামকে এক আলিফের চেয়ে বেশি লম্বা করে থাকে-এটা ভুল। এক আলিফকে এক আলিফই রাখতে হবে। বেশি লম্বা করা অনুচিত।

৭. অনেক সময় ইমামের তাকবীরে তাহরীমার পূর্বেই অনেকে তাকবীরে তাহরীমা বলে ফেলে। সে ক্ষেত্রে ইমামের আগে যদি মুক্তাদীর তাকবীর শেষ হয়ে যায়, তাহলে তার ইকতিদা ও নামায সহীহ হবে না। পুনরায় তাকবীর বলে তাহরীমা বাঁধতে হবে।

৮. ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধার আগে অনেকে হাত দু’দিকে ছেড়ে দিয়ে ঝুলিয়ে তারপর বাঁধে। এরূপ না করে হাত উঠিয়ে সরাসরি বাঁধাই বাঞ্ছনীয়।

৯. ইমামের তাকবীরের পরে খামাখা তাকবীর বলতে দেরী করা। অথচ ইমামের তাকবীরের পর সাথে সাথেই তাকবীর বলতে হয়।

কিয়াম অবস্থায় ভুল সমূহঃ

১. উভয় পায়ের মাঝে গোড়ালী ও আঙ্গুলের দিকে সমানভাবে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রেখে আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী করে রাখা সুন্নাত। কিন্তু অনেকেই তা এভাবে রাখে না। বরং পায়ের আঙ্গুলসমূহ উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে রাখে। এতে পায়ের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী থাকে না যা সুন্নাতের পরিপন্থী।

২. অনেকে দাঁড়ানো অবস্থায় মাথা ঝুঁকিয়ে রাখে। অথচ দাঁড়ানো অবস্থায় মাথা সোজা রেখে সিজদার স্থানে নজর রাখা সুন্নাত।

৩. দাঁড়ানো অবস্থায় অনেকে দু’পায়ে সমান ভর না দিয়ে এক পায়ে ভর দিয়ে বেঁকে দাঁড়ায়। অথচ এভাবে দাঁড়ানো উচিত নয়।

৪. অনেকে নাভি বরাবর বা নাভীর উপর হাত বাঁধে। অথচ হানাফী মাযহাবে নিয়ম হলো নাভীর নীচে হাত বাঁধা।

৫. ইমামের সাথে নামায পড়ার সময় ‘ছানা’ না পড়া। অথচ একা হোক বা জামা‘আতে হোক, সর্বাবস্থায় ছানা পড়া সুন্নাত। তবে যাহেরী ক্বিরা‘আতে ইমামের ক্বিরা‘আত শুরু হয়ে গেলে, ছানা পড়বে না। তাছাড়া মুক্তাদী আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহও পড়বে না।

ক্বিরা‘আত অবস্থায় ভুল সমূহঃ

১. অনেকে ইমামের পিছনে বিড়বিড় করে সূরা ফাতিহা বা অন্য কিছু পড়তে থাকে। অথচ মুক্তাদীর জন্য সূরা ফাতিহা বা অন্য কোন সূরা মুখে পড়া নিষেধ।

২. অনেকের ধারণা অনুচ্চ স্বরে ক্বিরা‘আত পড়লে মদ, গুন্নাহ, ইযহার, ইখফা ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য করার প্রয়োজন হয় না। এটা সঠিক নয়। বরং সব কিরাআতেই তাজবীদ জরুরী। তাই সিররী নামাযেও জাহরী নামাযের মত সময় ব্যয় করে তাজবীদসহ ক্বিরা‘আত পড়া উচিত।

৩. যোহরের নামাযে ‘তিওয়ালে মুফাসসাল’ (লম্বা ক্বিরা‘আত) বা কমপক্ষে ‘আওসাতে মুফাসসাল’ (মধ্যম ক্বিরা‘আত) পড়া সুন্নাত। অথচ অধিকাংশ ইমামগণ যোহরের নামাযে ‘কিসারে মুফাসসাল, (ছোট সূরা) পড়ে থাকেন যা সুন্নাত পরিপন্থী।

৪. অনেকে ক্বিরা‘আত এত বেশি ধীরে পড়েন যার কারণে সুন্নাত পরিমাণ ক্বিরা‘আত পড়া সম্ভব হয় উঠে না। অথচ নিয়ম হলো বেশি ধীরেও না পড়া, আবার বেশি তাড়াতাড়িও না পড়া; বরং মধ্যম গতিতে হদরের সাথে সুন্নাত পরিমাণ ক্বিরা‘আত পড়া।

তারাবীহ নামাযে অধিকাংশ হাফেযগণ এত দ্রুত ক্বিরা‘আত পড়ে থাকেন যে, তাদের পড়া বুঝাই যায় না। এমন দ্রুত পড়া কুরআন বিকৃত করার শামিল, যা নাজায়েয। এতে নামাযের সওয়াব হাসিল হওয়া তো দূরের কথা, নামায সহীহ হওয়ার ব্যাপারেই সন্দেহ রয়েছে।

৫. অনেকে তিন রাক‘আত বা চার রাক‘আত বিশিষ্ট ফরয নামাযের সব রাক‘আতেই সূরা মিলিয়ে থাকে। অথচ ফরযের শুধু প্রথম দু’রাকা‘আতে সূরা মিলাতে হয়। আবার অনেকে চার রাকা‘আত বিশিষ্ট সুন্নাত ও নফরের মধ্যে শেষের দু’রাকা‘আতের মধ্যে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে থাকে। অথচ সুন্নাত ও নফরের সব রাকা‘আতেই সূরা ফাতিহার পর সূরা মিলানো জরুরী।

৬. অনেক ইমাম প্রথম রাকা‘আতকে দ্বিতীয় রাকা‘আত থেকে তিন আয়াত বা তার বেশি লম্বা করে থাকেন অথচ সুন্নাত হলো একমাত্র ফজরের নামায ব্যতীত অন্য চার ওয়াক্তে উভয় রাকা‘আতে কিরাআতের পরিমাণ সমান রাখা এবং এক দু‘আয়াতের বেশি না বাড়ানো।

রুকু অবস্থায় ভুলসমূহঃ

১. অনেকে রুকুতে গিয়ে মাথা, পিঠ, কোমর বরাবর করে না এবং পিঠ বিছিয়ে রাখে না এবং কেউ মাথা উঁচু করে রাখে, আবার কেউ মাথা নীচু করে রাখে, এসবই মাকরূহ। কেউ পিঠ গোল করে রাখে। অথচ মাথা, পিঠ, কোমর বরাবর রাখা এবং পিঠ বিছিয়ে রাখা সুন্নাত।

২. অনেকে হাঁটু বাঁকা করে তা সামনে বাড়িয়ে রাখে। আবার কেউ এমনভাবে দাঁড়ায় যে, উপরের অংশ পিছের দিকে বাঁকা হয়ে থাকে। উভয় পদ্ধতিই পা সম্পূর্ণ সোজা না থাকায় ভুল। পা সম্পূর্ণ সোজা রাখা সুন্নাত। এর নিয়ম হল শরীরের ভার সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকিয়ে রাখা।

৩. অনেকে রুকু অবস্থায় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে রাখে এবং হাতকে হাঁটুর উপর একেবারে হালকাভাবে রেখে দেয়। অথচ পুরুষদের জন্য নিয়ম হল আঙ্গুলসমূহ ফাঁকা রাখা এবং উভয় হাত দ্বারা হাঁটুতে শক্তভাবে ধরা।

৪. অনেকে কনুই বাঁকা করে রাখে, যা ভুল। রুকু অবস্থায় হাত সম্পূর্ণ সোজা রাখতে হয়।

৫. অনেকে কোন রকম রুকুতে গিয়েই তাড়াতাড়ি আবার দাঁড়িয়ে যায়। অথচ নিয়ম হলো রুকুতে গিয়ে ধীরস্থিরভাবে কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ পড়ে তারপর দাঁড়ানো।

৬. অনেকে রুকু থেকে সোজা হয়ে হাত ছেড়ে স্থিরভাবে দাঁড়ায় না, বরং সামান্য মাথা উঁচিয়েই সিজদায় চলে যায়। এতে ইচ্ছাকৃতভাবে দু’টি ওয়াজিব (অর্থাৎ রুকু থেকে সম্পূর্ণ সোজা হওয়া এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর এক তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব করা।) তরক করায় নামায নষ্ট হয়ে যায়। এমন নামায পুনরায় পড়া ওয়াজিব।

সিজদা অবস্থায় ভুল সমূহঃ

১. অধিকাংশ লোকই দাঁড়ানো হতে সিজদায় যাওয়ার সময় বিনা ওযরে বুক ও মাথা নীচের দিকে ঝুঁকিয়ে সিজদায় যায়। এটা মারাত্মক ভুল। এতে এক রাকা‘আতে দুই রুকু হয়ে নামায খেলাফে সুন্নাত হয়ে যায়। সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু মাটিতে লাগার আগ পর্যন্ত বুক ও মাথা সম্পূর্ণ সোজা রাখা উচিত।

২. সিজদায় যাওয়ার সময় বা সিজদা থেকে উঠার সময় অনেকে তাকবীর এক আলিফ থেকে বেশি টানতে থাকে, এটা ভুল। তারতীলের সাথে এক আলিফ লম্বা করা উচিত।

৩. অনেকে সিজদায় গিয়ে দুই হাতের আঙ্গুলসমূহ ছড়িয়ে রাখে। অথচ সিজদায় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে রাখা সুন্নাত। এরূপ অনেকে হাতের আঙ্গুলসমূহ কান বরাবর রাখে না। বরং আগ-পাছ করে রাখে, এটাও ভুল।

৪. অনেকে সিজদায় উভয় পায়ের মাঝে দাঁড়ানোর ন্যায় চার আঙ্গুল ফাঁক রাখে না এবং আঙ্গুলসমূহ মুড়িয়ে কিবলা মুখী করে উভয় পা খাড়া করে রাখে না বরং উভয় গোড়ালী মিলিয়ে রাখে অথবা পায়ের আঙ্গুলগুলোর মাথা পূর্ব দিকে করে রাখে যা সুন্নাতের খেলাফ।

৫. অনেকে সিজদায় পা যমীন থেকে উঠিয়ে রাখে। অথচ সিজদা আদায় হওয়ার জন্য পা যমীনে লাগিয়ে রাখা জরুরী।

৬. সিজদা অবস্থায় অনেকে উভয় উরু সোজা খাড়া রাখে না। বরং উপরাংশ পূর্বদিকে বা পশ্চিম দিকে বাঁকা করে রাখে যা ভুল। এই ভুল থেকে বাঁচার পদ্ধতি হলো সিজদার সময় হাঁটু থেকে আনুমানিক এক হাত দূরে হাত রেখে উভয় হাতের মাঝে চেহারা রেখে সিজদা করবে।

৭. সিজদায় অনেক সময় পুরুষরা কনুই মাটির উপর বিছিয়ে রাখে বা কনুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে রাখে আবার অনেকে বাহু বা হাত পাঁজরের সাথে মিলিয়ে রাখে। অথচ এসব অঙ্গ পৃথক রাখতে হয়। তবে মহিলারা জড়সড় ও সংকুচিত হয়ে এক অঙ্গের সাথে আরেক অঙ্গ মিলিয়ে সিজদা করবে।

৮. মহিলারা অনেক সময় পুরুষদের মত পা খাড়া করে সিজদা করে। অথচ মহিলাদের সিজদা করার সময় উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে কিবলামুখী করে বিছিয়ে রাখতে হয়।

নামাযে বসা অবস্থায় ভুল সমূহঃ

১. অনেকে দুই সিজদার মাঝে সোজা হয়ে না বসেই আরেক সিজদায় চলে যায়। অথচ এতে ইচ্ছাকৃতভাবে দুটি ওয়াজিব (সিজদা থেকে সোজা হয়ে বসা এবং বসার পর এক তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব করা) তরক করায় নামায নষ্ট হয়ে যায়। এমতাবস্থায় নামায পুনরায় পড়া ওয়াজিব।

২. অনেকে দুই সিজদার মাঝে এবং তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ার সময় ডান পা খাড়া রাখে না, বরং বাঁকা করে রাখে। অথচ তা সুন্নাতের খেলাফ।

৩. দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠার সময় বা মধ্যবর্তী বৈঠক হতে দাঁড়ানোর সময় অনেকে বিনা ওযরে হাত দিয় যমীনে ভর করে দাঁড়ায়। অথচ তা মাকরূহ।

সালামের ভুল সমূহঃ

১. অনেকে উভয় সালাম ফিরানোর সময় কোন নিয়ত করে না। অথচ উভয় দিকে সালাম ফিরানোর সময় মুসল্লী, ফেরেশতা, নামাযী জ্বিন ও ইমামের প্রতি সালাম করার নিয়ত করতে হয়।

২. অনেকে ‘আসসালামু’ বলা শুরু করার সাথে সাথে চেহারা ডানে বা বামে ঘুরিয়ে ফেলে অথচ ‘আসসালামু’ বলা পর্যন্ত উভয় সালামে চেহারা কিবলার দিকে রাখতে হয়। তারপর ‘আলাইকুম’ বলার সময় চেহারা ঘুরাতে হয়। অনেকেই দ্বিতীয় সালাম কিবলার দিক হতে শুরু করে না। বরং ডান দিকে চেহারা থাকা অবস্থাতেই দ্বিতীয় সালাম শুরু করে দেয়, এটা ভুল। এমনিভাবে সালামের সময় বুক ফিরানো ভুল। বরং শুধু চেহারা এতটুকু ঘুরাবে, যেন পিছনের কাতার হতে চোয়াল দেখা যায়।

৩. ইমামের জন্য দ্বিতীয় সালামের আওয়াজ প্রথম সালামের আওয়াজের তুলনায় ক্ষীনস্বরে বলা সুন্নাত। কিন্তু অনেকেই তা পালন করেনা এবং উভয় সালামে এক সমান আওয়াজ করে, যা ভুল।

৪. মাসবূক ইমামের দ্বিতীয় সালাম ফিরানো শুরু করার সাথে সাথে উঠে পড়ে। অথচ ইমামের দ্বিতীয় সালাম সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পরই মাসবূকের জন্য দাঁড়ানো উত্তম।

মুনাজাতের ভুল সমূহঃ

১. মুনাজাতের সময় অনেকে উভয় হাত কাঁধ থেকে উপরে উঠিয়ে রাখে। অথচ এ সময় উভয় হাত বুক বা কাঁধ বরাবর রাখাই নিয়ম।

২. মুনাজাতের সময় অনেকে উভয় হাত অনেক বেশি ফাঁকা করে অথবা একেবারে মিলিয়ে রাখে। আবার কেউ কেউ দড়ি পাকানোর মত করতে থাকে। এসবই ভুল। নিয়ম হল, উভয় হাতের মাঝখানে দু’এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রাখা।

৩. অনেকে হাতের তালু চেহারামুখী করে রাখে। অথচ হাতের তালু আসমানের দিকে করে রাখা উচিত।

৪. আল্লাহর হামদ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরূদ দ্বারা মুনাজাত আরম্ভ করা এবং হামদ ও দরূদ এবং আমীন দ্বারা মুনাজাত শেষ করা সুন্নাত। অথচ অনেকে এ নিয়ম ব্যতিরেকেই ‘আল্লাহুম্মা আমীন’ বলে মুনাজাত শুরু করে এবং ‘বাহক্বে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে মুনাজাত শেষ করে। এরূপ সব সময় করতে থাকা বিদ‘আত।

৫. অনেকে ফরয নামাযের পর দু‘আ, যিকির না পড়েই সালাম ফিরানোর সাথে সাথে সুন্নাত বা নফল পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে যায়। এটাও সুন্নাতের খেলাফ। ফরয নামাযের পর কিছু সময় দু‘আ-দরূদ, যিকির-আযকার ও তাসবীহ-তাহলীল ইত্যাদি পাঠ করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, এর ব্যতিক্রমকারীকে হযরত উমর রা. কাঁধে ঝাঁকুনি দিয়ে বসিয়ে দিয়েছিলেন এবং হযরত নবী কারীম ﷺ হযরত উমর রা.-এর এ কাজকে সমর্থন করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ফরয সুন্নাত ও নফল নামাযের মাঝে পার্থক্য না করায় বনী ইসরাঈলকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। (আবু দাউদ, হাদীস নং- ১০০৭)

তবে মাগরিবের ফরয নামাযের পর সুন্নাত পড়তে অধিক সময় বিলম্ব করা অনুচিত। মনে মনে মুনাজাত করা মুস্তাহাব। কারো ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হলে আওয়াজ করে দু‘আ করা জায়েয। অনেক ইমাম সাহেব উচ্চৈঃস্বরে মুনাজাত করে মাসবূকদের অবশিষ্ট নামাযের মধ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন, এটা নাজায়েয।


No comments:

Post a Comment

Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻