বুখারী শরীফ সব খণ্ড
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
অধ্যায় - ৩৯ - অংশীদারিত্ব
( হাদিস নং - ২৩২১-২৩৪২ = মোট ২২ টি হাদিস)
হাদিস ২৩২১
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসূফ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমুদ্র তীর অভিমুখে বাহিনী প্রেরণ করেন এবং আবূ উবায়দা ইন জাররাহ (রাঃ)কে তাদের সেনাপতি নিয়োগ করলেন। এ বাহিনীতে তিনশ’ লোক ছিলেন। আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। আমরা রওয়ানা হলাম। কিন্তু মাঝখানেই এক জায়গায় জমা করার নির্দেশ দিলেন। তাই সমস্ত খাদ্য দ্রব্য জমা করা হল। এতে মোট দু’থলে খেজুর জমা করা হলে। আবূ উবাযদা (রাঃ) প্রতি দিন আমাদের এই খেজুর থেকে কিছু কিছু খেতে দিতেন। অবশেষে তাও শেষ হওয়ার উপক্রম হল এবং জন প্রতি একটি করে খেজুর ভাগে পড়তে লাগলো। (রাবী বলেন) আমি (জাবির (রাঃ)-কে) বললাম, একটি খেজুর কি যথেষ্ট হত। তিনি বললেন, তার মূল্য তখন বুঝতে পারলাম, যখন তাও শেষ হয়ে গেল। তিনি বলেন, এরপর আমরা সমুদ্র পর্যন্ত পৌছে গেলাম। হঠাত ছোট পাহাড়ের ন্যায় একটা মাছ আমরা পেয়ে গেলাম। এবং এ বাহিনী আঠারো দিন পর্যন্ত এই মাছ থেকে খেলো। তারপর আবূ উবাযদা (রাঃ)-এর আদেশে সে মাছের পাঁজর থেকে দুটো কাঁটা দাঁড় করানো হল। তারপর তিনি হাওদা লাগাতে বললেন। হাওদা লাগানো হল। এরপর উট তার পাঁজরের নীচ দিয়ে চলে গেলো কিন্তু উটের দেহ সে দুটো কাঁটা স্পর্শ করল না।
হাদিস ২৩২২
বিশর ইবনু মারহুম (রহঃ) সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে লোকদের পাথেয় কমে গিয়েছিল এবং তারা অভাবগ্রস্থ হয়ে পড়লেন। তখন তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট তাদের উট যবেহ করার অনুমতি দেয়ার জন্য এলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনুমতি দিলেন। তারপরে তাদের সঙ্গে উমর (রাঃ)-এর সাক্ষাত হলে তারা তাঁকে এ খবর দিলেন। তিনি বললেন, উট শেষ হয়ে যাবার পর তোমাদের বাঁচার কি উপায় থাকবে? তারপর উমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! উট শেষ হয়ে যাবার পর বাঁচার কি উপায় হবে? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকদের কাছে ঘোষণা করে দাও যে, যাদের কাছে অতিরিক্ত যে খাদ্য সামগ্রী আছে, তা যেন আমার কাছে নিয়ে আসে। এর জন্য একটা চামড়া বিছিয়ে দেওয়া হল। তারা সেই চামড়ার উপর তা রাখলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাতে বরকতের জন্য দু’আ করলেন। এরপর তিনি তাদেরকে তাদের পাত্রগুলো নিয়ে আসতে বললেন, লোকেরা দু’হাত ভর্তি করে করে নিল। সবার নেওয়া শেষ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল।
হাদিস ২৩২৩
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে উট যবেহ করতাম। তারপর সে গোশত দশ ভাগে ভাগ করা হত এবং সূর্যাস্তের পূর্বেই আমরা রান্না করা গোশত খেয়ে নিতাম।
হাদিস ২৩২৪
মুহাম্মদ ইবনু আলা (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আশ’আরী গোত্রের লোকেরা যখন জিহাদে গিয়ে অভাবগ্রস্থ হয়ে পড়ে বা মদিনাতেই তাদের পরিবার পরিজনদের খাবার কম হয়ে যায়, তখন তারা তাদের যা কিছু সম্বল থাকে, তা একটা কাপড়ে জমা করে। তারপর একটা পাত্র দিয়ে মেপে তা নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নেয়। কাজেই তারা আমার এবং আমি তাদের।
হাদিস ২৩২৫
মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মূসান্না (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক) (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতের বিধান হিসাবে যা নির্দিষ্ট করেছিলেন, আবূ বকর (রাঃ) তা আমাকে লিখে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, যেখানে দু’জন অংশীদার থেকে (যাকাত প্রদানের পর) তারা দু’জনে নিজ নিজ অংশ আদান-প্রদান করে নেবে।
হাদিস ২৩২৬
আলী ইবনু হাকাম আনসারী (রহঃ) রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে যুল-হুলায়ফাতে ছিলাম। সাহাবীগণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন, তারা কিছু উট ও বকরী পেলেন। রাফি’ (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দলের পিছনে ছিলেন। তারা তাড়াহুড়া করে গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে সেগুলোকে যবেহ করে পাত্রে চড়িয়ে দিলেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশে পাত্র উলটিয়ে ফেলা হল। তারপর তিনি (গনীমতের মাল) বন্টন শুরু করলেন। তিনি একটি উটের সমান দশটি বকরী নির্ধারণ করেন। হঠাত একটি উট পালিয়েগেল। সাহাবীগণ উটকে ধরার জন্য ছুটলেন, কিন্তু উটটি তাঁদেরকে ক্লান্ত করে ছাড়ল। সে সময় তাঁদের নিকট অল্প সংখ্যক ঘোড়া ছিল। অবশেষে তাঁদের মধ্যে একজন সেটির প্রতি তীর ছুড়লেন। তখন আল্লাহ উটটাকে থামিয়ে দিলেন। তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই পলায়নপর বন্য জন্তুদের মত এ সকল চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে কতক পলায়নপর করবে। (রাবী বলেন), তখন আমার দাদা (রাফি’ রা)বললেন, আমরা আশংকা করছিলাম যে, কাল শত্রুর সাতে মুকাবিলা হবে। আর আমাদের নিকট কোন ছুরি ছিল না। তাই আমরা ধারলো বাঁশ দিয়ে যবেহ করতে পারব ক? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে বস্তু রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, সেটা তোমরা আহার করতে পার। কিন্তু দাঁত বা নখ দিয়ে যেন যবেহ না করা হয়। আমি তোমাদেরকে এর কারণ বলে দিচ্ছি। দাঁত তো হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি
হাদিস ২৩২৭
খাল্লাদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এক সাথে খেতে বসে) সঙ্গীদের অনুমতি ব্যতীত কাউকে এক সঙ্গে দুটো করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন।
হাদিস ২৩২৮
আবূল ওয়ালিদ (রহঃ) জাবালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মদিনায় ছিলাম। একবার আমরা দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হলাম। তখন ইবনু যুবায়র (রাঃ) আমাদেরকে (প্রত্যহ) খেজুর খেতে দিতেন। একদিন ইবনু উমর (রাঃ) আমাদের কাছে দিয়ে যাচ্ছিলেন। (আমাদের খেজুর খেতে দেখে) তিনি বললেন, তোমরা এক সাথে দু’টো করে খেজুর খেও না। কেননা, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে তার ভাইয়ের অনুমতি ব্যতীত দু’টো করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন।
হাদিস ২৩২৯
ইমরান ইবনু মায়সারা (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (শরীকী) গোলাম থেকে কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে এবং তার কাছে গোলামের ন্যায্য মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকলে সে গোলাম (সম্পূর্ণ) আযাদ হয়ে যাবে (তবে আযাদকারী ন্যায্যমূলে শরীকদের ক্ষতিপূরণ দিবে) আর সে পরিমাণ অর্থ না থাকলে যতটুকু সে আযাদ করবে ততটুকুই আযাদ হবে। (রাবী আইয়ুব রা)বলেন, বাক্যটি নাফি (রহঃ)-এর নিজস্ব উক্তি, না নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীসের অংশ, তা আমি বলতে পারছি না।
হাদিস ২৩৩০
বিশর ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ তার (শরীক) গোলাম থেকে নিজের অংশ আযাদ করে দিলে তার দায়িত্ব হয়ে পড়ে নিজস্ব অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করা। যদি তার প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে, তাহলে গোলামের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তারপর (অন্য শরীকদের অংশ পরিশোধের জন্য) তাকে উপার্জন যেতে হবে, তবে তার উপর অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না।
হাদিস ২৩৩১
আবূ নুআঈম (রহঃ) নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং যে সীমা লংঘন করে, তাদের দৃষ্টান্ত সেই যাত্রীদলের মত, যারা কুরআর মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। তাদের কেউ স্থান পেল উপর তলায় আর কেউ নীচ তলায় (পানির ব্যবস্থা ছিল উপর তলায়) কাজেই নীচের তলার লোকেরা পানি সংগ্রহ কালে উপর তলার লোকদের ডিঙ্গিয়ে যেত। তখন নীচ তলার লোকেরা বলল, উপর তলার লোকদের কষ্ট না দিয়ে আমরা যদি নিজেদের অংশে একটি ছিদ্র করে নেই (তবে ভাল হত) এমতাবস্থায় তারা যদি এদেরকে আপন মর্জির উপর ছেড়ে দেয় তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা এদের হাত ধরে রাখে (বিরত রাখে) তবে তারা এবং সকলেই রক্ষা পাবে।
হাদিস ২৩৩২
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ আমিরী ওয়াইসী ও লাইস (রহঃ) উরওয়া ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার আয়িশা (রাঃ)-কে আল্লাহ তা’আলার বাণী : আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তাহলে অন্য মহিলাদের মধ্য থেকে তোমাদের পছন্দ মত দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজনকে বিয়ে করতে পারবে (৪:৩) এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমার ভাগিনা! এ হচ্ছে সেই ইয়াতীম মেয়ের কথা, যে অভিভাবকের আশ্রয়ে থাকে এবং তার সম্পদে অংশীদার হয়। এদেক মেয়ের ধন-এরূপে মুগ্ধ হয়ে তার অভিভাব মহরানার ব্যাপারে সুবিচার না কের অর্থ্যাত অন্য কেউ যে পরিমাণ মহরানা দিতে রাযী হত, তা না দিয়েই তাকে বিয়ে করতে চাইত। তাই প্রাপ্য মহরানা আদায়ের মাধ্যমে সুবিচার না করা পর্যন্ত তাদেরকে আশ্রিতা ইয়াতীম বালিকাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং পছন্দমত অন্য মহিলাদেরকে বিয়ে করতে বলা হয়েছে। উরওয়া (রাঃ) বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, পরে সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট (মহিলাদের সম্পর্কে) ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করলেন তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করেন। তারা আপনর নিকট মহিলাদের সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করে, কিতাব থেকে তোমাদেরকে পাঠ করে শোনান হয় যে, তাদের জন্য বিধিবদ্ধ রয়েছে, তা তোমরা তাদের দাও না অথচ তাদের তোমরা বিয়ে করতে চাও। (৪:১২৭)। বলে আল্লাহ তা’আলা পূর্বোক্ত আয়াতের প্রতি ইংগিত করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে- আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচর করতে পারবে না, তাহলে অন্য নারীদের মধ্যে থেকে তোমাদের পছন্দ মত দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজন বিয়ে করতে পারবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আর অপর আয়াতে আল্লাহ তা’আলার ইরশাদ এর মর্ম হল ধন ও রূপের স্বল্পতা হেতু তোমাদের আশ্রিতা ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তোমাদের অনাগ্রহ। তাই ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি অনাগ্রহ সত্ত্বেও শুধু ধন-এরূপৈর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্য ন্যায়সংগত মহরানা আদায় করে বিয়ে করতে পারে
হাদিস ২৩৩৩
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যেসব (স্থাবর) সম্পত্তি এখনো বণ্টিত হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুফ’আ এর (তথা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার)বিধান দিয়েছেন। এরপর সীমানা নির্ধারিত করা হলে এবং পথ আলাদা করে নেওয়া হলে শুফ’আর অধিকার থাকে না।
হাদিস ২৩৩৪
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব ধরনের অবন্টিত স্থাপন সম্পত্তির ক্ষেত্রে শুফ’আর ফায়সালা দিয়েছেন। এরপর সীমান নির্ধারণ করে পথ আলাদা করে নেওয়া হলে শুফ’আর অধিকার থাকে না।
হাদিস ২৩৩৫
আমর ইবনু আলী (রহঃ) আবূ মুসলিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূল মিনহালকে (রহঃ) মুদ্রার নগদ বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি এবং আমার এক অংশীদার একবার কিছু মুদ্রা নগদে ও বাকীতে বিনিময় করেছিলাম। এপর বারা’ ইবনু আযিব (রাঃ) আমাদের কাছে এলে আমার তাকে (সেসম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি এবং আমার অংশীদার যায়িদ ইবনু আরকাম (রাঃ) এরূপ করেছিলাম। পরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন, নগদে যা বিনিময় করেছো, তা বহাল রাখো, আর বাকীতে যা বিনিময় করেছো, তা প্রত্যাহার করো।
হাদিস ২৩৩৬
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের জমি এ শর্তে ইয়াহুদীদের দিয়েছিলেন যে, তারা নিজেদের শ্রমে তাতে চাষাবাদ করবে, তার বিনিময়ে উত্পন্ন ফসলের অর্ধেক তাদের হবে।
হাদিস ২৩৩৭
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) উকবা ইবম আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর কিছু বকরী সাহাবীদের মাঝে বন্টনের জন্য তাকে (দায়িত্ব) দিয়েছেলেন। বন্টন শেষে এক বছর বয়সী একটা ছাগল ছানা রয়ে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সে কথা জানালে তিনি ইরশাদ করলেন, ওটা তুমই কুরবানী করো।
হাদিস ২৩৩৮
আসবাগ ইবনু ফারজ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাক্ষাত পেয়েছিলেন। তার মা যায়নাব বিনতে হুমাইদ (রাঃ) একবার তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট নিয়োগেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! একে বায়আত করে নিন। তিনি বললেন যে তো ছোট। তখন তিনি তার মাথায় আরো বর্ণিত আছে যে, তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) তাকে নিয়ে বাজারে যেতেন, খাদ্য সামগ্রী খরিদ করতেন। পথে ইবনু উমর (রাঃ) ও ইবনু যুবায়েরর সাথে দেখা হলে তারা তাকে বলতেন (আপনার সাথে ব্যবসায়)আমাদেরও শরীক করে নন। কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার জন্য বরকতের দু’আ করেছেন। এ কথায় তিনি তাদের শরীক করে নিতেন। অনেক সময় (লভ্যাংশ হিসাবে) এক উট বোঝাই মাল তিনি ভাগে পেতেন আর তা বাড়ীতে পাঠিয়ে দিতেন।
হাদিস ২৩৩৯
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (শরীকী) গোলাম থেকে কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে সেই গোলামের সম্পূর্ণটা আযাদ করা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। যদি তার কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে নায্যমূল্য নির্ধারিত করে অংশীদারদের তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করা হেব এবং আযাদ কৃত গোলামের পথ ছেড়ে দেওয়া হবে।
হাদিস ২৩৪০
আবূ নু’মান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ (শরীকী) গোলাম থেকে একটা অংশ আযাদ করে দিলে সম্পূর্ণ গোলামটাই আযাদ হয়ে যাবে। যদি তার কাছে (প্রয়োজনীয়) অর্থ থাকে (তাহলে সেখান থেকে অন্য অংশীদারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে) অন্যথায় অতিরিক্ত কষ্ট না চাপিয়ে তাকে উপার্জন করতে বলা হবে।
হাদিস ২৩৪১
আবূ নু’মান (রহঃ) জাবির ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ ৪ঠা যিলহাজ্জ ভোরে শুধু হাজ্জের (হজ্জ) ইহরাম বেধে মক্কায এসে পৌছলেন। কিন্তু আমরা মক্কায় এসে পৌছালে তিনি আমাদেরকে হাজ্জের (হজ্জ) ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তিত করার আদেশ দিলেন। তখন আমরা হাজ্জ (হজ্জ)কে উমরায় পরিবর্তিত করলাম। তিনি আমাদেরকে স্ত্রীদের সাথে সহবাসেরও অনুমতি দিলেন। এ বিষয়ে কেউ কথা ছাড়ালো। (অধস্তন রাবী) আতা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন আমাদের মধ্যে কেউ কেউ স্ত্রীর সাথে সংগম করে মিনায় যাবে। এ কথা বলে জাবির (রাঃ) নিজের হাত লজ্জাস্থানের দিকে ইংগিত করে দেখালেন। এ খবর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কানে পৌছলে তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। আমি শুনতে পেয়েছি যে, লোকেরা এটা সেটা বলছে। আল্লাহর কসম! আমি তাদের চেয়ে অধিকা পরহেযগার এবং অধিক আল্লাহভীরু। পরে যা জেনেছি তা আগে ভাগে জানতে পারলে হাদী (হাজ্জের (হজ্জ) কুরবানীর জন্তু) সাথে নিয়ে আসতাম না। আর সাথে হাদী না থাকলে আমি ও ইহরাম থেকে হালালা হয়ে যেতাম। তখন সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জুসুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এ হুকুম শুধু আমাদের জন্য না, এটা সর্বকালের জন্য। (রাবী আতা র)বলেন, পরে আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) (ইয়ামান থেকে) মক্কায় এলন দুই রাবীর একজন বলেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ ইহরাম বাধলাম। অপরজনের মতে তিনি বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ ইহরাম বাধলাম। ফলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইহরাম অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিলেন এবং তাকেও হাদী এর মধ্যে শরীক করে দিলেন
হাদিস ২৩৪২
মুহাম্মদ (রহঃ) রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিহামার অন্তর্গত যুলহুলায়ফা নামক স্থানে আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সাতে অবস্থান করছিলাম। সে সময আমরা (গনীমতের অংশ হিসেবে) কিছু বকরী কিংবা উট পেয়ে গেলাম। সাহাবীগণ (অনুমতির অপেক্ষা না করেই) তাড়াহুড়া করে পাত্রে গোশত চড়িয়ে দিলেন। পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পাত্রগুলো উল্টিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। (বন্টনকালে) প্রতি দশটি বকরীকে তিনি একটি উটের সমান ধার্য করলেন। ইতিমধ্যে একট উট পালিয়েগেলো। সে সময় দলে ঘোড়ার সংখ্যাো ছিল খুব অল্প। তাই একজন তীড় ছুঁড়ে সেটাকে আটকালেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখো, পলায়নপর বন্যজন্তুদের মতো এই গৃহপালিত পশুদেরও মধ্যে কোন কোনটা পলায়নপর স্বভাব বিশিষ্ট। কাজেই সেগুলোর মধ্যে যেটা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠবে তার সাথে এরূপই করবে। (রাবী আবায়াহ র)বলেন, আমার দাদা বলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা আশংকা করি; আগামীকাল হয়ত আমরা শত্রুদের মুখোমুখি হবো। আমাদের সাথে তো কোন ছুরি নেই। এমতাবস্থায় আমরা কি বাঁশের ধারলো কুঞ্চি দিয়ে যবেহ করতে পারি? তিনি বললেন, যে রক্ত বের করে দেয় তা দিয়ে, দ্রুত করো। যা আল্লাহর নাম দিয়ে যবেহ হয়, তা তোমরা খেতে পারো। তবে তা যেন দাঁতা বা নখ না হয। তোমাদের আমি এর কারণ বলছি, দাঁততো হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।
No comments:
Post a Comment