Monday, March 8, 2021

হযরত মুহাম্মাদ (সা) পাঁচটি জিনিসের উপর ঈমান আনার শিক্ষা দিয়েছেনঃ-



 🌹🌼🌻❤️ইবাদাত :-

❤️🌻🌹হযরত মুহাম্মাদ (সা) পাঁচটি জিনিসের উপর ঈমান আনার শিক্ষা দিয়েছেনঃ-


🌹একঃ এক লা-শরীক আল্লহর উপর ।

🌼দুইঃ আল্লাহর ফেরেশতাদের উপর।

💐তিনঃ আল্লহর কিতাবসমূহের উপর, বিশেষ করে কুরআন মজীদের উপর।

🌻চারঃ আল্লাহর রাসূলের উপর, বিশেষ করে তাঁর আখেরী রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর উপর।

🌹পাঁচঃ আখেরাতের জীবনের উপর।


❤️ইসলামের বুনিয়াদ হচ্ছে এই। একজন যখন এ পাঁচটি জিনিসের উপর ঈমান আনলো তখনই সে মুসলমানদের দলভুক্ত হল, কিন্তু এতেই সে পুরো মুসলিম হতে পারলো না। পুরো মুসলিম মানুষ তখনই হতে পারে যখন আল্লাহর তরফ থেকে হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর আনীত হুকুমসমূহের আনুগত্য সে করে, কেননা ঈমান আনার সাথে সাথেই আনুগত্য করা অপরিহার্য কর্তব্য হয়ে পড়ে এবং এ আনুগত্যের নামই হচ্ছে ইসলাম।

চিন্তা করা যায়, একজন লোক স্বীকার করে নিয়েছে একমাত্র আল্লাহই তার ইলাহ। এর অর্থ হচ্ছে একমাত্র তিনিই তার মনিব, আর সে তাঁর গোলাম, একমাত্র তিনিই তাদের আদেশ দাতা, আর সে তাঁর আজ্ঞাবহ। এ মনিব ও আদেশ দাতাকে মেনে নেয়ার পর না-ফরমানী করলে সে নিজেই নিজের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে অপরাধী হল। সে আরো স্বীকার করে নিয়েছে যে, কুরআন মজীদ আল্লাহর কিতাব। তার অর্থ হচ্ছে যা কিছু কুরআন মজীদে রয়েছে তাকে সে আল্লাহর ফরমান বলে স্বীকার করে নিয়েছে।

এখন তার অপরিহার্য কর্তব্য হচ্ছে এর প্রত্যেকটি কথাকে মেনে নেয়া এবং প্রত্যেকটি হুকুমের কাছে মাথা নত করা। সে এও স্বীকার করে নিয়েছে যে হযরত মুহাম্মাদ (সা) আল্লাহর রাসূল। প্রকৃতপক্ষে এতে স্বীকার করা হয়েছে যে হযরত মুহাম্মাদ (সা) যা কিছু করার হুকুম দিয়েছেন এবং যা কিছু নিষেধ করেছেন তা আল্লাহর তরফ থেকেই করেছেন।

🌻❤️এ স্বীকৃতির পর হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর আনুগত্য করা তার জন্য ফরয হয়ে গেছে। সুতরাং যে পুরো ‘মুসলিম’ হবে তখন যখন তার কার্যকলাপ হবে তার ঈমানের অনুরূপ, তার ঈমান ও কার্যকলাপের মধ্যে যতটা তফাৎ থাকবে তার ঈমান ততটা অপূর্ণ থাকবে। এবার বলবো, হযরত মুহাম্মাদ (সা) আমাদেরকে আল্লাহর ইচ্ছা ও মর্জি অনুযায়ী জীবন যাপনের কি পদ্ধতি শিখিয়েছেন, কি কি কাজ করার হুকুম তিনি দিয়েছেন এবং কি কি নিষেধ করেছেন। এ প্রসংগে সবার আগে এমন সব ইবাদাতের কথা বলা যায় যা আমাদের উপর ফরয করা হয়েছে।

ইবাদতের তাৎপর্য

❤️🌼প্রকৃতপক্ষে ইবাদাতের অর্থ হচ্ছে বন্দেগী বা দাসত্ব। মানুষ হচ্ছে বান্দাহ (দাস)। আল্লাহ মানুষের মাবুদ (উপাস্য)। বান্দাহ তার মা’বুদের আনুগত্যের জন্য যা কিছু করে থাকে তাই-ই হচ্ছে ইবাদাত। আমরা লোকের সাথে কথা বলছি; কথা-বার্তায় আমরা মিথ্যা, পরনিন্দা, অশ্লীলতা থেকে সংযত থাকছি, কেননা আল্লাহ তা নিষেধ করেছেন; হামেশা সত্য, ন্যয়, সততা ও পবিত্রতার কথা বলছি; কেনানা আল্লাহ এসব জিনিস পছন্দ করে থাকেন।

🌼🌻আমাদের এ কথাবর্তাগুলো যতই পার্থিব ব্যাপারের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক না কেন তা হবে আমাদের ইবাদাত। আমরা মানুষের সাথে টাকা পয়সা লেনদেন করছি, বাজারে জিনিসপত্র কেনা বেচা করছি, নিজের ঘরে মা বাপ ভাইবোনের সাথে বাস করছি, নিজের বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনের সাথে মেলামেশা করছি।

💐❤️আমরা যদি জীবনের এসব কাজে আল্লাহর বিধি-নিষেধ ও আইন-কানুন মেনে চলি, এবং আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী যদি অপরের অধিকার রক্ষা করে চলি, এবং আল্লাহর নিষেধ হওয়ার কারণে যদি অপরের অধিকার হরণ থেকে বিরত থাকি, তাহলে আমাদের সারা- জীবনই আল্লাহর ইবাদাতে অতিবাহিত হল বলতে হবে। এমনকি এ ধরনের জীবনে খাওয়া, পরা, চলা, ফেরা, শোয়া, জাগা, কথা-বার্তা–সবকিছুই ইবাদাতের অর্ন্তগত।

এ হচ্ছে ইবাদাতের আসল অর্থ। ইসলামের প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে মুসলমানকে এমনি ইবাদাতে অভ্যস্ত বান্দাহ হিসেবে তৈরী করা। এ উদ্দেশ্যে ইসলামে এমন কতকগুলো ইবাদাত ফরয করে দেয়া হয়েছে। যার ফলে মানুষ এ বৃহত্তম ইবাদাতের জন্য তৈরী হয়ে উঠবে।

🌻🌹অবশ্যি এও জেনে রাখা দরকার যে বৃহত্তর ইবাদাতের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতির জন্য ট্রেনিং কোর্স হিসেবে এসব ইবাদাত নির্ধারিত হয়েছে। যে ব্যক্তি যত ভাল করে এ ট্রেনিং নেবে তত ভাল করে বুহ্ত্তর ও প্রকৃত ইবাদাত সম্পন্ন করতে পারবে।

এ কারণেই এসব বিশেষ ইবাদাতকে ফরযে- আইন বলা হয়েছে এবং এগুলোকে আরকানে দ্বীন অর্থাৎ দ্বীনের স্তম্ভ স্বরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। একটি ইমারাত যেমন কতগুলো স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি করে ইসলামী জীবনের ইমারত ও এসব স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। এসব স্তম্ভ ভেঙ্গে দিলে ইসলামের ইমারতই ধ্বংস হয়ে যাবে।


https://www.facebook.com/groups/2488624401231395/?ref=share

No comments:

Post a Comment

Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻