Saturday, May 25, 2019

লাউ-এর পুষ্টিগুন ও উপকারিতা:-

লাউ-এর পুষ্টিগুন ও উপকারিতা




পর্ব - ১
লাউ এর ইংরেজি নাম হয়েছে Bottle gourd। কচি লাউয়ের রং হালকা সবুজ, ভেতরে সাদা রংয়ের শাঁস। লাউকে আঞ্চলিক ভাষায় কদু বলা হয়।লাউ পৃথিবীর অন্যতম পুরনো চাষ হওয়া সবজি অতি পরিচিত লাউয়ের জন্ম কিন্তু আফ্রিকায়। আমাদের দেশে লাউকে আঞ্চলিক ভাষায় কদু বলা হয়। কচি লাউয়ের রং হালকা সবুজ, ভেতরে সাদা রঙের শাঁস। এটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। শুধু লাউ নয়, লাউয়ের বাকল, লতা, এমনকি পাতাও খাওয়া যায়।

বাংলাদেশে লাউ একটি জনপ্রিয় সবজি। লাউ সাধারণত শীতকালে বসতবাড়ির আশপাশে চাষ হয়। লাউয়ের পাতা ও ডগা শাক হিসেবে এবং লাউ তরকারী ও ভাজি হিসেবে খাওয়া যায়। লাউয়ের চেয়ে এর শাক বেশি পুষ্টিকর। বাংলাদেশে লাউয়ের অনেক জাত চোখে পড়ে। ফলের আকার-আকৃতি এবং গাছের লতানোর পরিমাণ থেকেও জাতগুলো পাথর্ক্য করা যায়। যা হোক দেশীয় উন্নত এবং গবেষণালব্ধ কিছু জাত হলোঃ

১। দেশীয় জাতঃ গাঢ় সবুজ থেকে হালকা সবুজ।

২। বারি লাউ-১: এ জাতটি বাছাইয়ের মাধ্যমে উদ্ভাবন করে ১৯৯৬ সনে সর্বত্র চাষাবাদের জন্য অনুমোদন করা হয়। পাতা সবুজ ও নরম। পুরুষ এবং স্ত্রী ফুল যথাক্রমে চারা রোপণের ৪০-৪৫ দিন এবং ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে ফুটে। এর ফল হালকা সবুজ, লম্বা ৪০-৫০ সেমি.। প্রতি ফলের ওজন ১.৫-২.০ কেজি। প্রতি গাছে ১০-১২ টি ফল ধরে। এ জাতটি সারা বছরই চাষ করা যায়।

৩। হাইব্রিড লাউঃ গোলাকার বা লম্বা।
লাউ একই সঙ্গে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি সবজি। আর এর উপকারিতাও অনেক প্রতি ১০০ গ্রাম লাউয়ে আছে, কার্বোহাইড্রেট- ২.৫ গ্রাম, প্রোটিন- ০.২ গ্রাম, ফ্যাট- ০.৬ গ্রাম, ভিটামিন-সি- ৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম- ২০ মি.গ্রা.,ফসফরাস- ১০ মি.গ্রা.,পটাশিয়াম- ৮৭ মি.গ্রা., নিকোটিনিক অ্যাসিড- ০.২ মি.গ্রা.। এছাড়াও লাউয়ে রয়েছে খনিজ লবন, ভিটামিন বি-১, বি-২, আয়রন।
    
    
পর্ব - ২
লাউ আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় তরকারি। লাউ একই সঙ্গে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি সবজি। ঝোল, লাবড়া, নিরামিষ, ভাজি কিংবা সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায় এই তরকারি।

প্রতি ১০০ গ্রাম লাউয়ে আছে, কার্বোহাইড্রেট- ২.৫ গ্রাম, প্রোটিন- ০.২ গ্রাম, ফ্যাট- ০.৬ গ্রাম, ভিটামিন-সি- ৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম- ২০ মি.গ্রা.,ফসফরাস- ১০ মি.গ্রা.,পটাশিয়াম- ৮৭ মি.গ্রা., নিকোটিনিক অ্যাসিড- ০.২ মি.গ্রা.। এছাড়াও লাউয়ে রয়েছে খনিজ লবন, ভিটামিন বি-১, বি-২, আয়রন।

ওজন কমাতে
আপনি যদি ওজন কমানোর কথা ভেবে থাকেন তাহলে খাবার তালিকায় লাউ রাখুন। লাউয়ে ফ্যাট ও ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে বলে লাউ ওজন কমতে সাহায্য করে। রক্তের কোলেস্টেরল কমতেও সাহায্য করে লাউ। লাউ একটি কম ক্যালোরি সম্পন্ন ডায়েট। লাউয়ের ৯৬ভাগ হলো পানি। লাউয়ে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে এবং খুবই কম ক্যালোরি থাকে যা ওজন কমাতে অত্যন্ত সহায়ক। তাই ওজন কমানোর চিন্তা করছেন যারা তাঁরা বেশি করে লাউ খান। তাহলে শরীরে কম ক্যালোরি যুক্ত হবে এবং পেটও ভরবে।

হজমে সাহায্য করে
লাউয়ে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় এবং অদ্রবনীয় ফাইবার আছে। দ্রবণীয় ফাইবার খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে এবং হজম সংক্রান্ত সকল সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে। এছাড়াও নিয়মিত লাউ খেলে অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধান করে। অদ্রবণীয় ফাইবার পাইলসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

শরীর ঠান্ডা করে
যেহেতু লাউ এর মূল উপাদান হলো পানি তাই লাউ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। যারা নিয়মিত সূর্যের আলোতে কাজ করে অথবা দীর্ঘক্ষন ধরে রোদে কাজ করার পর লাউ তরকারী খেলে শরীর বেশ ঠান্ডা হয় এবং শরীরের ভেতরের অস্বস্তি লাগা কমে। গরমের কারণে আমাদের শরীর থেকে যে পানি বের হয়ে যায় লাউ সেটার অনেকটাই পূরণ করে ফেলে। ফলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যায়।

ত্বক ভালো করে
লাউয়ে আছে প্রাকৃতিক প্রোটিন ও ভিটামিন। তাই নিয়মিত লাউ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ত্বক ভেতর থেকে ভালো হয়। এছাড়াও যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের ত্বকের তৈলাক্ততার সমস্যা অনেকটাই কমে যায় লাউ খেলে। এছাড়াও লাউ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেট পরিষ্কার রাখে। ফলে মুখে ব্রণ ওঠার প্রবণতাও কমে যায় অনেকটাই।

পানিশূন্যতা দূর করে
জ্বর, ডায়রিয়া ও অন্যান্য বড় ধরণের অসুখে শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায় বলে পানি শূন্যতার সৃষ্টি হয় এবং তা কিডনির উপর প্রভাব ফেলে। তাই এ ধরণের অসুখের সময় প্রচুর পরিমাণে লাউ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়ে যায় এবং শরীর সতেজ থাকে।

প্রসাবের জ্বালা পোড়া কমায়
লাউয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। তাই যাদের প্রসাবে জ্বালা পোড়ার সমস্যা আছে কিংবা প্রসাব হলদে হয় তাদের নিয়মিত লাউ খাওয়া উচিত। নিয়মিত লাউ খেলে এধরণের সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে।


পর্ব - ৩
লাউ এমন একটি সবজি যা অনেকের কাছেই প্রিয় একটি খাবার। কিন্তু কিশোর-তরুণরা এই সবজিটি তেমন পছন্দ করেনা। লাউ এর উপকারিতাকে উপেক্ষা করার কোন উপায় নেই। কারণ লাউয়ে প্রচুর পানি থাকার পাশাপাশি এতে ফাইবার, ভিটামিন ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান থাকে। সাধারণ লাউ এর অসাধারণ কিছু উপকারিতার কথাই জানবো আজ।

১। ক্যালরি কম
কম ক্যালরির খাবার হিসেবে লাউ আদর্শ খাবার। লাউয়ে ৯৬ভাগ পানি থাকে। উচ্চমাত্রার ডায়াটারি ফাইবার থাকে লাউয়ে। ১০০ গ্রাম লাউয়ে ১৫ ক্যালরি ও ০.১ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এতে ভিটামিন সি ও সামান্য বি ভিটামিন, আয়রন, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ও থাকে।

২। পরিপাকে সাহায্য করে
লাউয়ে ভালো পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার এবং পানি থাকে। তাই লাউ পরিপাকে এবং পরিপাক সম্পর্কিত সমস্যা যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও এসিডিটির সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। যাদের পাইলসের সমস্যা আছে তাদের জন্য লাউ খাওয়া উপকারী।

৩। শিতলিকারক
লাউয়ে ভালো পরিমাণে পানি থাকে বলে শরীর ঠান্ডা ও শান্ত করার ক্ষমতা আছে। তাই গরমের সময় লাউ খাওয়া উপকারী বিশেষ করে যারা প্রখর সূর্যতাপে কাজ করেন তাদের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে সাহায্য করে লাউ। লাউ বিভিন্নভাবে রান্না করে খাওয়া যায়।

৪। ইউরিনারি সমস্যা সমাধানে
লাউ মূত্র বর্ধক হিসেবে কাজ করে। শরীরের অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে সাহায্য করে লাউ। ১ গ্লাস লাউয়ের জুসের সাথে ১ চা চামচ লেবুর রস মিসিয়ে পান করুন। ক্ষারীয় এই মিশ্রণটি এসিডিক মিশ্রণকে তরল হতে সাহায্য করে এবং মূত্রনালীর জ্বালাপোড়া কমতে সাহায্য করে।

৫। অকালে চুল পাকা রোধ করে
আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে যে, সকালে নিয়মিত তাজা লাউয়ের জুস পান করলে অকালে চুল পাকা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সাহায্য করে।

৬। ত্বকের জন্য উপকারী
ত্বকের ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে লাউ। এটি মুখের ত্বকের তেলের নিঃসরণের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং ব্রণের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। বিভিন্ন প্রকার ত্বকের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে লাউ।

৮। ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে
তিলের তেলের সাথে লাউয়ের জুসের মিশ্রণ ইনসমনিয়ার সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। লাউ পাতা রান্না করে খেলে মস্তিষ্ককে ঠান্ডা রাখে এবং ঘুমের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

৯। পুনরুজ্জীবিত করে
ডায়রিয়া, উচ্চমাত্রার জ্বর এবং অন্য কোন স্বাস্থ্যসমস্যার কারণে যদি শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বের হয়ে যায় তাহলে ১ গ্লাস লাউয়ের জুস পান করুন। এটি শরীরের হারিয়ে যাওয়া পানির প্রতিস্থাপনে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসের রোগীদের অত্যধিক তৃষ্ণা কমাতেও সাহায্য করে।

এছাড়াও জন্ডিস ও কিডনির সমস্যার সমাধানেও উপকারী ভূমিকা রাখে লাউ। অসাধারণ উপকারিতা সম্বলিত এই সবজিটি বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞেরা সকালে খালি পেটে লাউয়ের জুস পান করার পরামর্শ দেন। আবার অনেকের মতে লাউ দিনের যেকোন সময় যেকোন উপায়ে রান্না করে খাওয়া উপকারী।


পর্ব - ৪
লাউ (Bottle gourd)  উষ্ণমন্ডলীয় সবজি। সাধারণত রবি ফসল হিসেবে বপন করা হয়। সম্ভবত উষ্ণ ও উপউষ্ণ এলাকা এদের আদি নিবাস। লাউ কেরোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ। এদেশে লাউয়ের চাষ হয় প্রায় ১০,০০০ হেক্টর জমিতে, ফলন হয় প্রায় ৬২,০০০ মে টন। সরাসরি বীজ বপন কিংবা ১৫-২০ দিনের চারা রোপণের মাধ্যমে চাষ করা যায়। লাগানোর ৫৫-৬০ দিনের মধ্যে ফলন শুরু হয়। হেক্টরপ্রতি ফলন হয় ৩৫-৪০ মে টন। লাউয়ের কয়েকটি জাত রয়েছে যেমন, বিরি-লাউ ১, ক্ষেতলাউ, হাজারি-লাউ ইত্যাদি। লাউ প্রধানত মাছের নানা ব্যঞ্জনের সবজি। লতা ও পাতা সুস্বাদু শাক। দুধ ও চিনিসহ কচি লাউের মিষ্টান্ন বেশ জনপ্রিয়।
        
লাউ-কুমড়া (Gourd)  Cucurbitaceae গোত্রের শক্ত খোলকবিশিষ্ট সবজি হিসেবে ব্যবহূত কয়েক ধরনের ফল। লাউ-কুমড়া জাতীয় উদ্ভিদ প্রজাতিগুলির সবাই লতানো বর্ষজীবী। বাংলাদেশে সবচেয়ে পরিচিত লাউ-কুমড়ার মধ্যে উলে­খযোগ্য হলুদ ফুলবিশিষ্ট মিষ্টিকুমড়া (Cucurbita maxima), সাদা ফুলবিশিষ্ট লাউ/কদু (Lageneria vulgaris) এবং চালকুমড়া (Benincasa hispida)।

লাউ-কুমড়ার দলে আর যেসব ফল-সবজি অন্তর্ভুক্ত করা হয় সেগুলির মধ্যে রয়েছে উচ্ছে বা করলা, ঝিঙা, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা এবং ধুন্দুল। এসব সবজি অনাদিকাল থেকেই মানুষ আবাদ করছে। প্রকৃতপক্ষে মিষ্টিকুমড়া এবং লাউ-এর বন্যজাত কোথায়ও দেখা যায় নি। বাংলাদেশে অধিকাংশ লাউ-কুমড়া জাতীয় সবজি বসতবাড়ির আঙিনাতেই মাচায় অথবা ঘরের চালে জন্মানো হয়।



আমাদের আরো অ্যাপস


No comments:

Post a Comment

Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻