Monday, May 27, 2019

অধ্যায় - ৫০ - আম্বিয়া কিরাম (আ.) - ১ ( হাদিস নং - ৩০৯১-৩১৯২ = মোট ১০২ টি হাদিস)

বুখারী শরীফ সব খণ্ড


بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

অধ্যায় - ৫০ - আম্বিয়া কিরাম (আ.) - ১
( হাদিস নং - ৩০৯১-৩১৯২ = মোট ১০২ টি হাদিস)


হাদিস নং - ৩০৯১
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ্তা’আলা আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত। এরপর তিনি (আল্লাহ্) তাঁকে (আদমকে) বললেন, যাও। ঐ ফিরিশ্তা দলের প্রতি সালাম কর এবং তাঁরা তোমার সালামের জওয়াব কিরূপে দেয় তা মনোযোগ দিয়ে শোন। কেননা এটাই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালামের রীতি। তারপর আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ফিরিশ্তাদের) বললেন, “আস্‌সালামু আলাইকুম”। ফিরিশ্তাগণ তার উত্তরে “আস্‌সালামু আলাইকা ওয়া রাহামাতুল্লাহ” বললেন। ফিরিশ্তারা সালামের জওয়াবে “ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহ” শব্দটি বাড়িয়ে বললেন। যারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন তারা আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আকৃতি বিশিষ্ট হবেন। তবে আদম সন্তানদের দেহের দৈর্ঘ্য সর্বদা কমতে কমতে বর্তমান পরিমাপ পর্যন্ত পোঁছেছে।

হাদিস নং - ৩০৯২
কুতায়বা ইবনুু্‌ সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত উজ্জ্বল। তারপর যে দল তাদের অনুগামী হবে তাদের মুখমণ্ডল হবে আকাশের সর্বাদিক দিপ্তমান উজ্জ্বল তারকার মত। তারা না করবে পেশাব আর না করবে পায়খানা। তাদের থুথু ফেলার প্রয়োজন হবে না এবং তাদের নাক হতে শ্লেম্মাও বের হবে না। তাদে র চিরুনি হবে স্বর্ণের তৈরি। তাদের ঘাম হবে মিস্‌কের ন্যায় সুগন্ধপূর্ণ। তাদের ধনুচি হবে সুগন্ধযুক্ত চন্দন কাঠের। বড় চক্ষু হবে বিশিষ্ট হুরগণ হবেন তাদের স্ত্রী। তাদের সকলের দেহের গঠন হবে একই। তারা সবাই তাদের আদি-পিতা আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আকৃতিতে হবেন। উচ্ছতায় তাদের দেহের দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত বিশিষ্ট।

হাদিস নং - ৩০৯৩
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে সুলায়ম (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহ সত্য প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। মেয়েদের স্বপ্নদোষ হলে কি তাদের উপর গোসল ফরয হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যখন সে বীর্য দেখতে পারবে। এ কথা শুনে উম্মে সালামা (রাঃ) হাসলেন এবং বললেন, মেয়েদের কি স্বপ্নদোষ হয়? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা না হলে সন্তান তার সদৃশ হয় কিভাবে।

হাদিস নং - ৩০৯৪
ইবনু সালাম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালামের কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর মদিনায় আগমনের খবর পৌঁছল, তখন তিনি তাঁর কাছে আসলেন। এরপর তিনি বলেছেন, আমি আপনাকে এমন তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে চাই যার উত্তর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া আর কেও অবগত নয়। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন কি? আর সর্বপ্রথম খাবার কি, যা জান্নাতবাসী খাবে? আর কি কারণে সন্তান তার পিতার সা’দৃশ্য লাভ করে? আর কিসের কারণে (কোন কোন সময়) তার মামাদের সা’দৃশ্য হয়? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এইমাত্র জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। রাবি বলেন, তখন আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, সে তো ফিরিস্তাগণের মধ্যে ইয়াহূদীদের শত্রু। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন হল আগুন যা মানুষকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে তাড়িয়ে নিয়ে একত্রিত করবে। আর প্রথম খাবার যা জান্নাতবাসীরা খাবেন তা হল মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। আর সন্তান সদৃশ হওয়ার রহস্য এই যে পুরুষ যখন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন যদি পুরুষের বীর্যের পূর্বে স্খলিত হয় তখন সন্তান তার সা’দৃশ্যতা লাভ করে। তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসুল। এরপর তিনি বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ইয়াহূদিরা অপবাদ ও কুৎসা রটনাকারী সম্প্রদায়। আপনি তাদেরকে আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করার পূর্বে তারা যদি আমার ইসলাম গ্রহণের বিষয় জেনে ফেলে, তাহলে তারা আপনার কাছে আমার কুৎসা রতনা করবে। তারপর ইয়াহূদিরা এলো এবং আবদুল্লাহ (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনুু্‌ সালাম কেমন লোক? তারা বলল, তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যাক্তি এবং সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যাক্তির পুত্র। তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যাক্তি এবং সর্বোত্তম ব্যাক্তির পুত্র। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি আবদুল্লাহ ইসলাম গ্রহন করে, এতে তোমাদের অভিমত কি হবে? তারা বলল, এর থেকে আল্লাহ তার তাঁকে রক্ষা করুক। এমন সময় আবদুল্লাহ (রাঃ) তাদের সামনে বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। তখন তারা বলতে লাগল, সে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাক্তি এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাক্তির সন্তান এবং তারা তাঁর গীবত ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয়ে গেল।

হাদিস নং - ৩০৯৫
বিশ্‌র ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। অর্থাৎ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনী ইসরাঈল যদি না হত তবে গোশত দুর্গন্ধযুক্ত হতো না। আর যদি হাওয়া আলাইহি ওয়া সাল্লাম না হতেন তবে কোন নারীই তাঁর স্বামীর খেয়ানত করত না (১)। ১ মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সময় বনী ইসরাইল আল্লাহ তা’আলার আদেশ অমান্য করে ‘সালওয়া’ নামক এক প্রকার পাখির গোশতে পচন ধরে। এ ঘটনা থেকেই গোশতে পচনের সূত্রপাত হয়। হাদিসের দ্বিতীয় অংশে আদম ও হাওয়ার নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল খাওয়ার ঘটনার দিকে ইশারা করা হয়েছে। আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ফল খাওয়ার ব্যাপারে স্ত্রী হাওয়ার ভুমিকা ও প্রভাব কম ছিল। আদি-মাতা হাওয়ার ভুমিকা স্বভাবত নারী জাতি এখনও বহন করে যাচ্ছে। এ দু’টো ঘটনাই হাদিসের উভয় বাক্যের তাৎপর্য। (আইনী)

হাদিস নং - ৩০৯৬
আবূ কুরায়ব ও মূসা ইবনু হিযাম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নারিদেরকে উত্তম উপদেশ দিবে। কেননা নারী জাতিকে পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর হাড়টি অধিক বাঁকা। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে আর যদি ছেড়ে দাও, তাহলে সব সময় তা বাকাই থেকে যাবে। কাজেই নারীদের সাথে উপদেশপূর্ণ কথাবার্তা বলবে।

হাদিস নং - ৩০৯৭
উমর ইবনু হাফস (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, সত্যবাদী-সত্যনিষ্ট হিসাবে স্বীকৃত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান স্বীয় মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত জমা রাখা হয়। এরপর অনুরূপভাবে (চল্লিশ দিনে) তা আলাকারুপে পরিণত হয়। তারপর অনুরূপভাবে (চল্লিশ দিনে) তা গোশ্‌তের টুকরার রূপ লাভ করে। এরপর আল্লাহ তার কাছে চারটি বিষয়ের নির্দেশ নিয়ে একজন ফিরিশ্‌তা পাঠান। সে তার আমল, মৃত্যু, রিয্‌ক এবং সে কি পাপি হবে না পুণ্যবান হবে, এসব লিখে দেন। তারপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেয়া হয়। (ভুমিষ্টের পর) এক ব্যাক্তি একজন জাহান্নামীর আমলের ন্যায় আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জাহান্নামীদের মধ্যে এক হাতের ব্যবধান থেকে যায়, এমন সময় তার ভাগ্যের লিখন এগিয়ে আসে। তখন সে জান্নাতবাসীদের আমলের ন্যায় আমল করে থাকে। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর এক ব্যাক্তি (প্রথম হতেই) জান্নাতবাসীদের আমলের অনুরুপ আমল করতে থাকে। এমন কি শেষ পর্যন্ত তার অ জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থেকে যায়। এমন সময় তার ভাগ্যের লিখন এগিয়ে আসে। তখন সে জাহান্নামীদের আমলের অনুরূপ আমল করে থাকে এবং পরিণতিতে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে।

হাদিস নং - ৩০৯৮
আবূ নু’মান (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ মাতৃগর্ভে একজন ফিরিশ্‌তা নিযুক্ত করে রেখেছেন। (সন্তান জন্মের সূচনায়) সে ফিরিশ্‌তা বলেন, হে রব! এ তো বীর্য। হে রব! এ তো আলাকা। হে রব! এ তো গোশ্‌তের টুকরো। এরপর আল্লাহ যদি তাকে সৃষ্টি করতে চান। তাহলে ফিরিশ্‌তা বলেন, হে রব! সন্তানটি ছেলে হবে, না মেয়ে হবে? হে রব! সে কি পাপীষ্ঠ হবে, না পুণ্যবান হবে? তার রিয্‌ক কি পরিমাণ হবে, তার আয়ু কত হবে? এভাবে তার মাতৃগর্ভে সব কিছুই লিখে দেয়া হয়।

হাদিস নং - ৩০৯৯
কায়স ইবনু হাফস (রহঃ) আনাস (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে সহজ আযাব ভোগকারীকে জিজ্ঞাসা করবেন, যদি পৃথিবীর সব ধন-সম্পদ তোমার হয়ে যায়, তবে তুমি কি আযাবের বিনিময়ে তা দিয়ে দিবে? সে উত্তর দিবে হাঁ। তখন আল্লাহ বলবেন, যখন তুমি আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পৃষ্ঠদেশে ছিলে, তখন আমি তোমার কাছে এর চেয়েও সহজ একটি জিনিস চেয়েছিলাম। সেটা হল, তুমি আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। কিন্তু তুমি তা মানতে অস্বীকার করে শির্‌ক করতে লাগলে।

হাদিস নং - ৩১০০
উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যাক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে, তার এ খুনের পাপের একাংশ আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রথম ছেলের (কাবিলের) উপর বর্তায়। কারণ সেই সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন করেছে।

হাদিস নং - ৩১০১
আবদান (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা জনসমাবেশে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন, তারপর দাজ্জালের উল্লেখ করে বললেন, আমি তোমাদেরকে তার থেকে সতর্ক করছি আর প্রত্যেক নাবীই নিজ নিজ সম্প্রদায়কে এ দাজ্জাল থেকে সতর্ক করে দিয়েছেন। নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -ও নিজ সম্প্রদায়কে দাজ্জাল থেকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি তোমাদেরকে তার সম্বন্ধে এমন একটা কথা বলছি, যা কোন নাবী তাঁর সম্প্রদায়কে বলেন নি। তা হল তোমরা জেনে রেখ, নিশ্চয়ই দাজ্জাল কানা, আর আল্লাহ কানা নন।

হাদিস নং - ৩১০২
আবূ নুআঈম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পরকে এমন আক্তি কথা বলে দেব না, যা কোন নাবী ই তাঁর সম্প্রদায়কে বলেন নি? তা হল, নিশ্চয়ই সে হবে কানা, সে সাথে করে জান্নাত এবং জাহান্নামের দু’টি কৃত্রিম ছবি নিয়ে আসবে। অতএব যাকে সে বলবে যে এটি জান্নাত প্রকৃতপক্ষে সেটি হবে জাহান্নাম। আর আমি তার সম্পর্কে তোমাদের ঠিক তেমনি সতর্ক করছি, যেমন নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সম্প্রদায়কে সে সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

হাদিস নং - ৩১০৩
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (হাশরের দিন) নূহ এবং তাঁর উম্মত (আল্লাহর দরবারে) হাযির হবেন। তখন আল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞাসা করবেন, নূহ কি তোমাদের কাছে আমার বাণী পৌছিয়েছেন। তারা বলবে, না, আমাদের কাছে কোন নাবী ই আসেন নি। তখন আল্লাহ নূহকে বলবেন, তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে কে? তিনি বলবেন, মুহাম্মদ এবং তাঁর উম্মত। (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) তখন আমরা সাক্ষ্য দিব। নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর বাণী পৌছিয়েছেন। আর এটই হল আল্লাহর বাণীঃ আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মত বানিয়েছে, যেন তোমরা মানব জাতির উপর সাক্ষী হও। (২ : ১৪৩) অর্থ ন্যায়বান।

হাদিস নং - ৩১০৪
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সাথে এক যিয়াফতে উপস্থিত ছিলাম। তাঁর সামনে (রান্না করা) ছাগলের বাহু পেশ করা হল, এটা তাঁর কাছে পছন্দনীয় ছিল। তিনি সেখান থেকে এক টুকরা খেলেন এবং বললেন, আমি কিয়ামতের দিন সমগ্র মানব জাতির সরদার হব। তোমরা কি জানো? আল্লাহ কিভাবে (কিয়ামতের দিন) একই সমতলে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষকে একত্রিত করবেন? যেন একজন দর্শক তাদের সবাইকে দেখতে পায় এবং একজন আহ্বানকারীকে ডাক সবার কাছে পোঁচছায়। সূর্য তাদের অতি নিকটে এশে যাবে। তখন কোন কোন মানুষ বলবে, তোমরা কি লক্ষ্য করনি, তোমরা কি অবস্তায় আছে এবং কি পরিস্তিতির সম্মুখীন হয়েছে। তোমরা কি এমন ব্যাক্তিকে খুঁজে বের করবে না, যিনি তোমাদের জন্য তোমাদের রবের নিকট সুপারিশ করবেন? তখন কিচু লোক বলবে, তোমাদের আদম পিতা আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছেন। (চল তাঁর কাছে যাই)। তখন সকলে তাঁর কাছে যাবে এবং বলবে, হে আদম! আপনি সমস্ত মানব জাতির পিতা। আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং তার পক্ষ থেকে রূহ আপনার মধ্যে ফুঁকেছেন। তিনি ফিরিশ্‌তাদেরকে (আপনার সম্মানের) নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সকলে আপনাকে সিজ্‌দাও করেছেন এবং তিনি আপনাকে জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন। আপনি কি আমাদের জন্য রবের নিকট সুপারিশ করবেন না? আপনি দেখেন না আমরা কি অবশ্তায় আছি এবং কি কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি? তখন তিনি বলবেন, আমার রব আজ এমন রাগান্বিত হয়েছেন, এর পূর্বে এমন রাগান্বিত হননি আর পরেও এমন রাগান্বিত হবেন না। আর তিনি আমাকে বৃক্ষটি থকে (ফল খেতে) নিষেধ করেছিলেন। তখন আমি ভুল করেছি। এখন আমি নিজের চিন্তায় ব্যস্ত। তোমরা আমি ব্যতিত অন্য কার কাছে যাও। তোমরা নূহের কাছে চলে যাও। তখন তারা নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসবে এবং বলবে, হে নূহ! পৃথিবীবাসীদের নিকট আপনই প্রথম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আল্লাহ আপনার নাম রেখেছেন কৃতজ্ঞ বান্দা। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন না, আমরা কি ভয়াবহ অবশ্তায় পরে আছি? আপনি দেখছেন না আমরা কতইনা দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হয়ে আছি? আপনি কি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করবেন না? তখন তিনি বলবেন, আমার রব আজ এমন রাগান্বিত হয়ে আছেন, যা ইতিপূর্বে হন নাই এবং এমন রাগান্বিত পরেও হবেন না। এখন আমি নিজের চিন্তায় ব্যস্ত। তোমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুহাম্মদ )–এর কাছে চলে যাও। তখন তারা আমার কাছে আসবে আর আমি আরশের নীচে সিজ্‌দায় পড়ে যাবে। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মদ! আপনারা মাথা উঠান এবং সুপারিশ করুন। আপনারা সুপারিশ গ্রহন করা হবে আর আপনি যা চান, আপনাকে তাই দেওয়া হবে। মুহাম্মদ ইবনু উবাইদ (রহঃ) বলেন, হাদীসের সকল অংশ আমি মুখস্ত করতে পারি নি।

হাদিস নং - ৩১০৫
নাসর ইবনু আলী (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল কারীদের কিরাআতে ন্যায় তিলাওয়াত করেছেন।

হাদিস নং - ৩১০৬
আবদান ও আহমাদ ইবনু সালিহ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (লাইলাতুল মি’রাজে) আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হয়েছিল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম। তারপর জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবতরণ করলেন এবং আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। এরপর তিনি যমযমের পানি দ্বারা তা ধুইলেন। এরপর হিক্‌মত ও ঈমান (জ্ঞান ও বিশ্বাস) দ্বারা পরিপূর্ণ একখানা সোনার তশ্‌তরী নিয়ে আসেন এবং তা আমার বক্ষে দেলে দিলেন। তারপর আমার বক্ষকে পূর্বের ন্যায় মিলিয়ে দিলেন। এবার তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে আকাশের দিকে উঠিয়ে নিলেন। এরপর যখন দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে। পৌছলেন, তখন জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে? জবাব দিলেন, আমি জিব্‌রাঈল। দ্বাররক্ষী বললেন, আপনার সাথে কি আর কেউ আছেন? তিনি বললেন, আমার সাথে মুহাম্মদ আছেন। দ্বাররক্ষী জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? বললেন, হাঁ। তারপর দরজা খোলা হল। যখন আমরা আকাশের উপরে আহোরণ করলাম, হঠাৎ দেখলাম এক ব্যাক্তি যার ডানে একদল লোক আর তাঁর বামেও একদল লোক। যখন তিনি তাঁর ডান দিকে তাকান তখন হাসতে থাকেন আর যখন তাঁর বাম দিকে তাকান তখন কাঁদতে থাকেন। (তিনি আমাকে দেখে) বললেন, মারাহাবা! হে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও নেক সন্তান। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিব্‌রাঈল! ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর তাঁর ডানের ও বামের এ লোকগুলো হল তাঁর সন্তান (আত্মাসমূহ) এদের মধ্যে ডানদিকের লোকগুলো হল জান্নাতী আর বামদিকের লোকগুলো হল জাহান্নামী। অতএব যখন তিনি ডান দিকে তাখান তখন হাসেন আর যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁদেন। এরপর আমাকে নিয়ে জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লামরও উপরে উঠলেন। এমনকি দ্বিতীয় আকাশের দ্বারে এসে গেলেন। তখন তিনি এ আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন! দ্বাররক্ষী তাঁকে প্রথম আকাশের দ্বাররক্ষী যেরূপ বলেছিল, অনুরূপ বলল। তারপর তিনি দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, এরপর আবূ যার (রাঃ) উল্লেখ করেছেন যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশসমূহে ইদ্‌রীস, মূসা , ঈসা এবং ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তাঁদের কার অবস্তান কোন আকাশে তিনি আমার কাছে তা বর্ণনা করেন নি। তবে তিনি এটা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার নিকটর্তী আকাশে আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে এবং ষষ্ঠ আকাশে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পেয়েছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ) ইদ্‌রীস আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, তখন তিনি (ইদ্‌রীস আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেচিলেন, হে নেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নেক ভাই! আপনাকে মারহাবা। (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল) জবাব দিলেন, ইনি ইদ্‌রীস আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এরপর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! হে নেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নেক ভাই। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, ইনি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারপর ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! হে নেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নেক ভাই। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম)জবাব দিলেন, ইনি ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললাম, মারহাবা। হে নেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নেক সন্তান! আমি জানতে চাইলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, ইনি ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আমাকে ইবনু হাযম (রহঃ) জানিয়েছেন যে, ইবনু আব্বাস ও আবূ হাইয়্যা আনসারী (রাঃ) বলতেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এরপর জিব্‌রাঈল আমাকে উর্ব্ধে নিয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত আমি একটা সমতল স্থানে গিয়ে পৌছলাম। সেখান থেকে কলমসমুহের খসখস শব্দ শুনছিলাম। ইবনু হাযম (রহঃ) এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তখন আল্লাহ আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) ফরয করেছেন। এরপর আমি এ নির্দেশ নিয়ে ফিরে চললাম। যখন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার রব আপনার উম্মতের উপর কি ফরয করেছেন? আমি বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) ফরয করা হয়েছে। তিনি বললেন, পুনরায় আপনার রবের কাছে ফিরে যান (এবং তা কমাবার জন্য আবেদন করুন।)কেননা আপনার উম্মতের তা পালন করার সামর্থ্য থাকবে না। তখন ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার জন্য করলাম। তিনি তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি বললেন, আপনার রবের কাছে পুনরায় কমাবার আবেদন করুন এবং তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )পূর্বের অনুরূপ কথা এবার উল্লেখ করলেন। এবার তিনি (আল্লাহ) তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। এবার আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে আসলাম এবং তিনি পূর্বের মত বললেন। আমি তা করলাম। তখন আল্লাহ তার এক অংশ মাফ করে দিলেন। আমি পুনরায় মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে আসলাম এবং তাঁকে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, আপনার রবের নিকট গিয়ে আরো কমাবার আরয করুন। কেননা আপনার উম্মতের তা পালন করার সামর্থ্য থাকবে না। আমি আবার ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার আবেদন করলাম। তিনি বললেন, এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) বাকী রইল। আর তা সাওয়াবের ক্ষেত্রে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ)-এর সমান হবে। আমার কথার পরিবর্তন হয় না। তারপর আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি এবারও বললেন, আপনার রবের কাছে গিয়ে আবেদন করুন। আমি বললাম, এবার আমার রবের সম্মুখীন হতে আমি লজ্জাবোধ করছি। এরপর জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম চললেন এবং অবশেষে আমাকে সাথে করে সিদ্‌রাতুল মুন্‌তাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। দেখলাম তা এমন অনুরূপ রঙে পরিপূর্ণ, যা বর্ণনা করার আমার ক্ষমতা আমার নেই। এরপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হল। দেখলাম এর ইট হচ্ছে মোতির তৈরি আর তার মাটি মিস্‌ক বা কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধযুক্ত।

হাদিস নং - ৩১০৭
মুহাম্মদ ইবনু ‘আর‘আরা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে ভোরের বায়ু (পুবালি বাতাস) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে আর আদ জাতিকে দাবুর বা পশ্চিমের (এক প্রকার মারাত্মক) বায়ু দ্বারা ধংস করা হয়েছে। ইবনু কাসীর (রহঃ) আবূ সাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আলী (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কিছু স্বর্ণের টুকরো পাঠালেন। তিনি তা চার ব্যাক্তির মাঝে বন্টন করে দিলেন। (১) আল-আকরা ইবনু হাবেস হান্‌যালী যিনি মাজাশেয়ী গোত্রের ছিলেন (২) উআইনা ইবনু বদর ফাযারী (৩) যায়েদ ত্বায়ী, যিনি বনী নাবহান গোত্রের ছিলেন (৪) আলকামা ইবনু উলাসা আমেরী, যিনি বনী কিলাব গোত্রের ছিলেন। এতে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হলেন এবং বলতে লাগলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাদবাসী নেতৃবৃন্দকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে দিচ্ছেন না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি ত তাদেরকে (ইসলামের দিকে) আকৃষ্ট করার জন্য মনোরঞ্জন করছি। তখন এক ব্যাক্তি সামনে এগিয়ে আসল, যার চোখ দু’টি কোটরাগত, গণ্ডুদ্বয় জুলে পড়া; কপাল উঁচু, ঘন দাঁড়ি এবং মাথা মোড়ানো ছিল। সে বলল, হে মুহাম্মদ! আল্লাহকে ভয় করুন। তখন তিনি বললেন, আমই যদি নাফরমানি করি তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর উপর আমানতদার বানিয়েছেন আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। তখন এক ব্যাক্তি তাঁর কাছে তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। (আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন) আমি তাকে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) বলে ধারণা করছি। কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিষেধ করলেন। তারপর অভিযোগকারী লোকটি যখন ফিরে গেল, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন। এ ব্যাক্তির বংশ হতে বা এ ব্যাক্তির পরে এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে তারা কুরআন পরবে কিন্তু তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবেনা। দিন থেকে তারা এমনভাবে বেরিয়ে পড়বে যেমনি ধনুক থেকে তির বেরিয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে (মুসলিমদেরকে) হত্যা করবে আর মূর্তি পূজারীদেরকে হত্যা করা থেকে মুক্তি দেবে। আমি যদি তাদের নাগাল পেতাম তবে তাদেরকে আদ জাতির মত অবশ্যয় হত্যা করতাম।

হাদিস নং - ৩১০৮
খালিদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (আদ জাতির ঘটনা বর্ণনায়) এ আয়াতটি পড়তে শুনেছি।

হাদিস নং - ৩১০৯
ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর কাছে আসলেন এবং বলতে লাগলেন, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আরবের লোকদের জন্য সেই অনিষ্ঠের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে (ছিদ্র হয়ে) গেছে। এ কথার বলার সময় তিনি তাঁর বিদ্ধাংগুলির অগ্রভাগকে তাঁর সাথের শাহাদাতের আংগুলির অগ্রভাগের সাথে মিলিয়ে গোলাকৃতি করে ছিদ্রের পরিমাণ দেখান। যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের মধ্যে নেক ও পুণ্যবান লোকজন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, হাঁ যখন পাপাচার অধিক মাত্রায় বেড়ে যাবে। (তখন অল্প সংখ্যক নেক লোকের বিদ্যমানেই মানুষের ধ্বংস নেমে আসবে।)

হাদিস নং - ৩১১০
মুসলিম ইবনু ইব্‌রাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীরে আল্লাহ এ পরিমাণ ছিদ্র করে দিয়েছেন। এই বলে, তিনি তাঁর হাতে নব্বই সংখ্যার আকৃতি ধারণ করে দেখালেন। (অর্থাৎ তিনি নিজ শাহাদাত আঙ্গুলীর মাথা বৃদ্ধাংগুলের গোড়ায় লাগিয়ে ছিদ্রের পরিমাণ দেখালেন।

হাদিস নং - ৩১১১
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ (হাশরের দিন) ডাকবেন, হে আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তখন তিনি জবাব দিবেন, আমি হাযির আমি সৌভাগ্যবান এবং সকল কল্যাণ আপনার হাতেই। তখন আল্লাহ বলবেন জাহান্নামী দলকে বের করে দাও। আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবেন, জাহান্নামী দল কারা? আল্লাহ বলবেন, প্রতি হাযারে নয়শত নিরানব্বই জন। এ সময় (চরম ভয়ের কারণে) ছোটরা বুড়ো হয়ে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী তাঁর গর্ভপাত করে ফেলবে। মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুতঃ আল্লাহর শাস্তি কঠিন (২২:২)। সাহাবাগণ বলবেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (প্রতি হাযারের মধ্যে একজন) আমাদের মধ্যে সেই একজন কে? তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কেননা তোমাদের মধ্য থেকে একজন আর এক হাযারের অবশিষ্ট ইয়াজুজ-মাজুজ হবে। ১ তারপর তিনি বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রান, তাঁর কসম। আমি আশা করি, তোমরা (যারা আমার উম্মত) সমস্ত জান্নাতবাসীদের এক চতুর্থাংশ হবে। (আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন) আমরা এ সুসংবাদ শুনে) আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। এরপর তিনি আবার বললেন, আমি আশা করি তোমরা সমস্ত জান্নাতবাসীদের এক তৃতীয়াংশ হবে। আমরা পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। তিনি আবার বললেন, আমি আশাকরি তোমরা সমস্ত জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হবে। একথা শুনে আমরা আবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। তিনি বললেন, তোমরা তো অন্যান্য মানুষের তুলনায় এমন, যেমন সাদা ষাঁড়ের দেহে কয়েকটি কাল পশম অথবা কালো ষাঁড়ের দেহে কয়েকটি সাদা পশম।

হাদিস নং - ৩১১২
মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের হাশর ময়দানে খালি পা, বিবস্ত্র এবং খাতনাবিহীন অবস্তায় উপশ্তিত করা হবে। এরপর তিনি (এ কথার সমর্থনে) পবিত্র কুরআনের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ যে ভাবে আমি প্রথমে সৃষ্টির সুচনা করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। এটি আমার প্রতিশ্রুতি। এর বাস্তবায়ন আমি করবই। (২১:১০৪) আর কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাকে কাপর পরানো হবে তিনি হবেন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর (সে দিন) আমার অনুসারীদের মধ্য হতে কয়েকজনকে পাকড়াও করে বাম দিকে অর্থাৎ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, এরা তো আমার অনুসারী, এরা তো আমার অনুসারী! এ সময় আল্লাহ বলবেন, যখন আপনি এদের থেকে বিদায় নেন, তখন তারা পূর্ব ধর্মে ফিরে যায়। কাজেই তারা আপনার সাহাবী নয়। তখন আল্লাহর নেক বান্দা (ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম)যেমন বলেছিলেন ; তেমন আমি বলব, হে আল্লাহ! আমি যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের অবস্থার পর্যবেক্ষক। আপনি পরক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (৫:১১৭-১১৮)।

হাদিস নং - ৩১১৩
ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বরনিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পিতা আযরের দেখা পাবেন। আযরের মুখমণ্ডল কালিমা এবং ধুলাবালি থাকবে। তখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলবেন, আমি কি পৃথিবীতে আপনাকে বলিনি যে, আমার অবাধ্যতা করবেন না? তখন তাঁর পিতা বলবে, আজ আর তোমার অবাধ্যতা করব না। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আল্লাহর কাছে) আবেদন করবেন, হে আমার রব! আপনি আমার সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, হাশরের দিন আপনি আমাকে লজ্জিত করবেন না। আমার পিতা রহমর থকে বঞ্চিত হওয়ার থেকে অধিক অপমান আমার জন্য আর কি হতে পারে? তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কাফিরদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। পুনরায় বলা হবে, হে ইব্‌রাহীম! তোমার পদতলে কি? তখন তিনি নিচের দিকে তাকাবেন। হঠাৎ দেখতে পাবেন তাঁর পিতার স্থানে সরবশরীরে রক্তমাখা আক্তি জানোয়ার পড়ে রয়েছে। এর চার পা বেঁধে জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলা হবে। ১ ১ ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আবেদনক্রমে তাঁর পিতার আকৃতি বিবরতন ঘটিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। মহান আল্লাহ এভাবে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে অপমান হতে রক্ষা করবেন।

হাদিস নং - ৩১১৪
ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা কা’বা ঘরে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মারইয়ামের ছবি দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, তাদের (কুরাইশদের) কি হল? অথচ তারা তো শুনতে পেয়েছে, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকবে, সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশ্‌তাগণ প্রবেশ করেন না। এ যে ইব্‌রাহীমের ছবি বানানো হয়েছে, (ভাগ্য নির্ধারক জুয়ার তীর নিক্ষেপরত অবস্থায়) তিনি কেন ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করবেন!

হাদিস নং - ৩১১৫
ইব্‌রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কা’বা ঘরে ছবিসমূহ দেখতে পেলেন, তখন যে পর্যন্ত তাঁর নির্দেশ তা মিটিয়ে ফেলা না হল, সে পর্যন্ত তিনি তাতে প্রবেশ করলেন না। আর তিনি দেখতে পেলেন, ইব্‌রাহীম এবং ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর হাতে ভাগ্য নির্ধারণের তীর। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তাদের (কুরায়শদের) অপর লানত বর্ষণ করুক। আল্লাহর কসম, তারা দু’জন কখনও ভাগ্য নির্ধারক তীর করেন নি।

হাদিস নং - ৩১১৬
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যাক্তি কে? তিনি বলেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেসি মুত্তাকী। তখন তারা বলল, আমরা তো আপনাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিনি। তিনি বললেন, তা হলে (সবচেয়ে সম্মানিত ব্যাক্তি) আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইউসুফ, যিনি আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইয়াকুব)-এর পুত্র, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইসহাক)-এর পৌত্র, এবং আল্লাহর খলিল (ইব্‌রাহীম)-এর প্রপৌত্র। তারা বলল, আমরা আপনাকে এ সম্বন্ধেও জিজ্ঞাসা করিনি। তিনি বললেন, তাহলে কি তোমরা আরবের মূল্যবান গোত্রসমুহ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছ? জাহিলী জুগে তাদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম ব্যাক্তি ছিলেন, ইসলামেও তাঁরা সর্বোত্তম ব্যাক্তি যদি তাঁরা ইসলামী জ্ঞানার্জন করেন। আবূ উসামা ও মু’তামির (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত।

হাদিস নং - ৩১১৭
মুআম্মাল ইবনু হিশাম (রহঃ) সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আজ রাতে (স্বপ্নে) আমার কাছে দু’জন লোক আসলেন। তারপর আমরা এক দীর্ঘদেহী লোকের কাছে আসলাম। তারপর দেহ দীর্ঘ হওয়ার কারণে আমি তাঁর মাথা দেখতে পাচ্ছিলাম না। মুলতঃ তিনি ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন।

হাদিস নং - ৩১১৮
বায়ান ইবনু আম্‌র (রহঃ) আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, লোকজন তাঁর সামনে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর (দাজ্জালের) দু’ চোখের মাঝখানে অর্থাৎ কপালে লেখা থাকবে কাফির বা কাফ, ফা, রা। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর কাছে শুনে। বরং তিনি বলেছেন, যদি তোমরা ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে চাও তবে তোমাদের সাথীর (আমার) দিকে তকাও আর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন কুকড়ানো চুল, তামাটে রং-এর দেহ বিশিষ্ট। তিনি এমন এক লাল উথঠের উপর উপবিষ্ঠ, যার নাকের রশি হবে খেজুর গাছের চালের তৈরি। আমি যেন তাকে দেখতে পাচ্ছি, তিনি আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে দিতে উপত্যকায় অবতরণ করেছেন।

হাদিস নং - ৩১১৯
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূত্রধরদের অস্ত্র দ্বারা নিজের খাত্‌না করেছিলেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল আশি বছর। আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক (রহঃ) আবূ যিনাদ (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় মুগীরা ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) এর অনুসরন করেছেন। আজলান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে হাদিস বর্ণনায় আরজ (রহঃ) এর অনুসরন করেছেন। আর মুহাম্মদ ইবনু আমর (রহঃ) আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নং - ৩১২০
সাঈদ ইবনু তালীদ রু‘আইনী ও মুহাম্মদ ইবনু মাহবুব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার ব্যতিত কখনও কথাকে ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলেন নি। তন্মধ্যে দু’বার ছিল আল্লাহ প্রসঙ্গে। তার উক্তি ‘‘আমি অসুস্থ’’ (৩৭:৮৯) এবং তাঁর আবার এক উক্তি ‘‘বরং এ কাজ করেছে, এই তো তাদের বড়টি। (২১:৬৩) বর্ণনাকারী বলেন, একদা তিনি (ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং (তাঁর পত্নি) সারা অত্যাচারী শাসকগণের কোন এক শাসকের এলাকায় এসে পৌঁছলেন। (তা-ছিল মিসর) তখন তাকে (শাসককে) সংবাদ দেওয়া হল যে, এ এলাকায় একজন লোক এসেছে। তার সাথে একজন সর্বাপেক্ষা সুন্দরী মহিলা রয়েছে। তখন সে (রাজা) তাঁর (ইব্‌রাহীম) কাছে লোক পাঠাল। সে তাঁকে মহিলাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, এ মহিলাটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, মহিলাটা আমার বোন। তারপর তিনি সবার কাছে আসলেন এবং বললেন, হে সারা, তুমি আর আমি ছাড়া পৃথিবীর উপর আর কোন মু’মিন নেই। এ লোকটি আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তখন আমি তাকে জানিয়েছে যে, তুমি আমার বোন। কাজেই তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন কর না। এরপর (অত্যাচারী রাজা) সারাকে আনার জন্য লোক পাঠালো। তিনি (সারা) যখন তার (রাজার) কাছে প্রবেশ করলেন এবং রাজা তাঁর দিকে হাত বাড়ালো তখনই সে (আল্লাহর গযবে) পাকড়াও হল। তখন অত্যাচারী রাজা সারাকে বলল, আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ কর, আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। তখন সারা আল্লাহর নিকট দু’আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। এরপর দ্বিতীয়বার তাকে ধরতে চাইলো। এইবার সে পূর্বের ন্যায় বা তার চেয়ে কঠিনভাবে (আল্লাহর গযবে) পাকড়াও হল। এবারও সে বলল, আল্লাহর কাছে আমার জন্য দু’আ কর। আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। আবারও তিনি দু’আ করলেন ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। তারপর রাজা তার কোন এক দারোয়ানকে ডাকল। সে তাকে বলল, তুমি তো আমার কাছে কোন মানুষ আননি। বরং এনেছ এক শয়তান। তারপর রাজা সারার খেদমতের জন্য হাযেরাকে ডান করল। এরপর তিনি (সারা) তাঁর (ইব্‌রাহীম) কাছে আসলেন, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। যখন তিনি (সালাত (নামায/নামাজ) রত অবস্থায়) হাত দ্বারা ইশারা করে সারাকে বললেন, কি ঘটেছে? তখন সারা বললেন, আল্লাহ কাফির বা ফাসিকের চক্রান্ত তারই বক্ষে ফিরিয়ে দিয়েছেন। (অর্থাৎ তাঁর চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছেন।)আর সে (রাজা) হাযেরাকে খেদমতের জন্য দান করেছেন। ১ আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ‘‘হ আকাশের পানির২ সন্তানগণ! এ হাযেরাই তোমাদের আদি মাতা। ১। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উক্ত তিনটি উক্তি ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলার অর্থাৎ-প্রথমটি দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মানসিক অসুস্থতা। আর দ্বিতীয়টির উদ্দেশ্য ছিল মুরতি-পুজারীদেরকে বোকা সাজানোো এবং স্ত্রীকে বোন বলে পরিচয় দেওয়ার উদ্দেশ্য ধরমিও সম্পর্ক। ২। আকাশের পানির দ্বারা ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর বংশের পবিত্রতা বুঝানো হয়েছে।

হাদিস নং - ৩১২১
উবাঈদুল্লাহ ইবনু মূসা অথবা ইবনু সালাম (রহঃ) উম্মে শারীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিরগিট বা কাকলাশ মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তাতে এ গিরগিট ফুঁ দিয়েছিল।

হাদিস নং - ৩১২২
উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করনি। (৬:৮২) তখন আমরা বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর যুলুম করেনি? তিনি বললেন, তোমরা যা বল ব্যাপারটি তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘যুলুম’ অর্থাৎ শিরক দ্বারা কলুষিত করেনি। তোমরা কি লোকমানের কথা শুননি? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, ‘‘হে বৎস! আল্লাহর সাথে কোনরূপ শির্‌ক করো না। নিচ্ছয় শির্‌ক একটা চরম যুলুম। ’’ (৩১:১৩)

হাদিস নং - ৩১২৩
ইসহাক ইবনু ইব্‌রাহীম ইবনু নাসর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আকদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সামনে কিছু গোশ্‌ত আনা হল। তখন তিনি বললেন, নিচ্ছয় আল্লাহ কিয়ামতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একই সমতল ময়দানে সমবেত করবেন। তখন আহ্বানকারী তাদের সকলকে তাঁর আহ্বান সমভাবে শোনাতে পারবে। এবং তাদের সকলের উপর সমভাবে দর্শকদের দৃষ্টি পড়বে আর সূর্য তাদের অতি নিকটবর্তী হবে। তারপর তিনি শাফায়াতের হাদিস বর্ণনা করলেন যে, সকল মানুষ ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট আসবে এবং বলবে, পৃথিবীতে আপনি আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খলীল। অতএব আমাদের জন্য আপনি আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন। তখন তিনি ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলা উক্তির কথা স্মরণ করে বলবেন, নাফসি! নাফসি! তোমরা মূসার কাছে যাও। অনুরূপ হাদিস আনাস (রাঃ)-অ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নং - ৩১২৪
আহ্‌মদ ইবনু সাঈদ আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইসলামাঈলের মায়ের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। যদি তিনি তাড়াতাড়ি না করতেন, তবে যমযম একটির প্রবহমান ঝরণায় পরিণত হত। আনসারী (রহঃ) ইবনু জুরাইজ (রহঃ) সূত্রে বলেন যে, কাসীর ইবনু কাসীর বলেছেন যে আমি ও উসমান ইবনু আবূ সুলায়মান (রহঃ) সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে এরূপ বলেন নি বরং তিনি বলেছেন, ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম , ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর মাকে নিয়ে আসলেন। মা তখন তাঁকে দুধ পান করাতেন এবং তাঁর সাথে একটি মশ্‌ক ছিল। এ অংশটি মারফুরূপে বর্ণনা করেন নি।

হাদিস নং - ৩১২৫
আবদুল্লাহ ইবনুুে মুহাম্মদ (রহঃ) সাঈদ ইবনুুে জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত ইবনুুে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নারী জাতি সর্বপ্রথম কোমরবন্দ বানানো শিখেছে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মায়ের (হাযেরা) নিকট থেকে। হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমরবন্দ লাগাতেন সারাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নিজের মর্যাদা গোপন রাখার জন্য। তারপর (আল্লাহর হুকুমে) ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর শিশু ছেলে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে সাথে নিয়ে বের হলেন, এ অবস্থায় যে, হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুকে দুধ পান করাতেন। অবশেষে যেখানে কাবা ঘির অবস্থিত, ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের উভয়কে সেখানে নিয়ে এসে মসজিদের উঁচু অংশে যমযম কূপের উপরে অবস্থিত একটি বিরাট গাছের নীচে তাদেরকে রাখলেন। তখন মক্কায় না ছিল কোন মানুষ না ছিল কোনরূপ পানির ব্যবস্থা। পরে তিনি তাদেরকে সেখানেই রেখে গেলেন। আর এছাড়া তিনি তাদের কাছে রেখে গেলেন একটি থলের মধ্যে কিছু খেজুর এবং একটি মশকে কিছু পরিমাণ পানি। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে চললেন। তখন ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা পিছু পিছু ছুটে আসলেন এবং বলতে লাগলেন, হে ইব্‌রাহীম! আপনি কোথায় চলে যাচ্ছেন? আমাদেরকে এমন এক ময়দানে রেখে যাচ্ছেন, যেখানে না আছে কোন সাহায্যকারী আর না আছে (পানাহারের) ব্যবস্থা। তিনি একথা তাকে বারবার বললেন। কিন্তু ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দিকে তাকালেন না। তখন হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, এ (নির্বাসনের) আদেশ কি আপনাকে আল্লাহ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হাঁ। হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না। তারপর তিনি ফিরে আসলেন। আর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সামনে চললেন। চলতে চলতে যখন তিনি গিরিপথের বাঁকে পৌছলেন, যেখানে স্ত্রী ও সন্তান তাঁকে আর দেখতে পাচ্চেন না, তখন কা’বা ঘরের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি দু’হাত তুলে এ দু’আ করলেন, আর বললেন, ‘‘হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার পরিবারকে কতকে আপনার সম্মানিত ঘরের নিকট এক অনুর্বর উপত্যকায় যাতে আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। (১৪:৩৭) (এ দু’আ করে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলে গেলেন) আর ইসমাঈলের মা ইসমাঈলকে স্বীয় স্তন্যের দুধ পান করাতেন এবং নিজে ঐ মশক থেকে পানি পান করতেন। অবশেষে মশকে যা পানি ছিল তা ফুরিয়ে গেল। তিনি নিজে পিপাসিত হলেন, এবং তাঁর (বুকের দুধ শুখিয়ে যাওয়ায়) শিশু পুত্রটি পিপাসায় কাতর হয়ে পড়ল। তিনি শিশুটির প্রতি দেখতে লাগলেন। পিপাসায় তার বুক ধরফড় করেছে অথবা রাবী বলেন, সে মাটিতে পড়ে ছটফট করছে। শিশুপুত্রের এ করুন অবস্থার প্রতি তাকানো অসহনীয় হয়ে পড়ায় তিনি সরে গেলেন আর তাঁর অবস্থানের সংলগ্ন পর্বত ‘সাফা’ কে একমাত্র তাঁর নিকটমত পর্বত হিসাবে পেলেন। এরপর তিনি তার উপর উঠে দাঁড়ালেন আর ময়দানের দিকে তাকালেন। এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন, কোথাও কাউকে দেখা যায় না? কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন ‘সাফা’ পর্বত থেকে নেমে পড়লেন। এমন কি যখন তিনি নিচু ময়দান পর্যন্ত পৌছলেন, তখন তিনি তাঁর কামিজের এক প্রান্ত তুলে ধরে একজন শ্রান্ত-ক্লান্ত মানুষের ন্যায় ছুটে চললেন। অবশেষে ময়দানে অতিক্রম করে ‘মারওয়া’ পাহাড়ের নিকট এসে তার উপর উঠে দাঁড়ালেন। তারপর এদিকে সেদিকে তাকালেন, কাউকে দেখতে পান কিনা? কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলেন না। এমনিভাবে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এজন্যই মানুষ (হাজ্জ (হজ্জ) বা উমরার সময়) এ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যে সায়ী করে থাকে। এরপর এরপর তিনি যখন মারওয়া পাহাড়ে উঠলেন, তখন একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং তিনি নিজেকেই নিজে বললেন, একটু অপেক্ষা কর। (মনোযোগ দিয়ে শুনি।)তিনি আকাগ্রচিত্তে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তো তোমার শব্দ শুনিয়েছ, আর আমিও শুনেছি)। যদি তোমার কাছে কোন সাহায্যকারী থাকে (তাহলে আমাকে সাহায্য কর)। হঠাৎ যেখানে যমযম কূপ অবস্থিত সেখানে তিনি একজন ফিরিশ্‌তা দেখতে পেলেন। সেই ফিরিশ্‌তা আপন পায়ের গোড়ালি দ্বারা আঘাত করলেন অথবা তিনি বলছেন, আপন ডানা দ্বারা আঘাত করলেন। ফলে পানি বের হতে লাগল। তখন হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর চারপাশে নিজ হাতে বাঁধা দিয়ে এক হাউযের ন্যায় করে দিলেন এবং হাতের কোষভরে তাঁর মশকটিতে পানি ভরতে লাগলেন। তখনো পানি উপছে উঠতে থাকলো। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসমাঈলের মাকে আল্লাহ রহম করুন। যদি তিনি বাঁধ না দিয়ে যমযমকে এভাবে ছেড়ে দিতেন কিংবা বলেছেন, যদি কোষে ভরে পানি মশকে জমা না করতেন, তাহলে যমযম একটি কূপ না হয়ে একটি প্রবাহমান ঝর্ণায় পরিণত হতো। রাবী বলেন, তারপর হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি পান করলেন, আর শিশু পুত্রকেও দুধ পান করালেন, তখন ফিরিশ্‌তা তাঁকে বললেন, আপনি ধ্বংসের কোন আশংকা করবেন না। কেননা এখানেই আল্লাহর ঘর রয়েছে। এ শিশুটি এবং তাঁর পিতা দু’জনে এখানে ঘর নির্মাণ করবে এবং আল্লাহ তাঁর আপনজনকে কখনও ধ্বংস করেন না। ঐ সময় আল্লাহর ঘরের স্থানটি যমীন থেকে টিলার ন্যায় উঁচু ছিল। বন্যা আসার ফলে তাঁর দানে বামে ভেঙ্গে যাচ্ছিল। এরপর হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবেই দিন যাপন করছিলেন। অবশেষে (ইয়ামান দেশীয়) জুরহুম গোত্রের একদল লোক তাদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করচিল। অথবা রাবী বলেন, জুরহুম পরিবারের কিছু লোক কাদা নামক উঁচু ভুমির পথ ধরে এদিক আসছিল। তারা মক্কার নিচু ভুমিতে অবতরণ করল এবং তারা দেখতে পেল একঝাঁক পাখি চক্রাকারে উড়ছে। তখন তারা বলল, নিশ্চয় এ পাখিগুলো পানির উপর উড়ছে। আমরা এ ময়দানের পথ হয়ে বহুবার অতিক্রম করেছি। কিন্তু এখানে কোন পানি ছিল না। তখন তারা একজন কি দু’জন লোক সেখানে পাঠালো। তারা সেখানে গিয়েই পানি দেখতে পেল। তারা সেখান থেকে ফিরে এসে পানির সকলকে পানির সংবাদ দিল। সনবাদ শুনে সবাই সেদিকে অগ্রসর হল। রাবী বলেন, ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা পানির নিকট ছিলেন। তারা তাঁকে বলল, আমরা আপনার নিকটবর্তী স্থানে বসবাস করতে চাই। আপনি আমাদেরকে অনুমতি দিবেন কি? তিনি জবাব দিলেন, হাঁ। তবে, এ পানির উপর তোমাদের কোন অধিকার থাকবে না। তারা হাঁ, বলে তাদের মত প্রকাশ করল। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ ঘটনা ইসমাঈলের মাকে একটি সুযোগ এনে দিল। আর তিনিও মানুষের সাহচর্য চেয়েছিলেন। এরপর তারা সেখানে বসতি স্থাপন করল এবং তাদের পরিবার –পরিজনের নিকটও সংবাদ পাঠাল। তারপর তারাও এসে তাদের সাথে বসবাস করতে লাগল। পরিশেষে সেখানে তাদের কয়েকটি পরিবারের বসতি স্থাপিত হল। আর ইসমাঈলও যৌবন উপনীত হলেন এবং তাদের থেকে আরবী ভাষা শিখলেন। যৌবনে পৌছে তিনি তাদের কাছে অধিক আকর্ষণীয় ও প্রিয়পাত্র হয়ে উঠলেন। এরপর যখন তিনি পূর্ণ যৌবন লাভ করলেন, তখন তারা তাঁর সঙ্গে তাদেরই একটি মেয়েকে বিবাহ দিল। এরই মধ্যে ইসমাঈলের মা হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন। ইসমাঈলের বিবাহের পর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পরিত্যক্ত পরিজনের অবস্থা দেখার জন্য এখানে আসলেন। কিন্তু তিনি ইসমাঈলকে পেলেন না। তিনি তাঁর স্ত্রীকে তাঁর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। স্ত্রী বলল, তিনি আমাদের জীবিকার খোঁজে বেরিয়ে গেছেন। এরপর তিনি পুত্রবধুকে তাদের জীবন যাত্রা এবং অবস্থা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল, আমরা অতি দুরাবস্থায়, অতি টানাটানি ও খুব কষ্টে আছি। সে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট তাদের দুর্দশার অভিযোগ করল। তিনি বললেন, তোমার স্বামী বাড়ী আসলে, তাঁকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, সে যেন তার ঘরের দরজায় চৌকাঠ বদলিয়ে নেয়। এরপর যখন ইসমাঈল বাড়ী আসলেন, তখন তিনি যেন (তাঁর পিতা ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আগমনের) কিছুটা আভাস পেলেন। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদেরকে কাছে কেউ কি এসেছিল? স্ত্রী বলল, হাঁ। এমন এমন আকৃতির একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন এবং আমাকে আপনার সম্বন্ধে জজ্ঞাসা করছিলেন। আমি তাঁকে আপনার সংবাদ দিলাম। তিনি আমাকে আমাদের জীবন যাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাঁকে জানালাম, আমরা খুব কষ্ট ও অভাবে আছি। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কি তোমাকে কোন উপদেশ দিয়েছেন? স্ত্রী বলল, হাঁ। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন আপনাকে তাঁর সালাম পৌছাই এবং তিনি আরো বলেছেন, আপনি যেন আপনার ঘরের দরজায় চৌকাঠ বদলিয়ে ফেলেন। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইনি আমার পিতা। এ কথা দ্বারা তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, আমি যেন তোমাকে পৃথক করে দেই। অতএব তুমি তোমার আপন জন্দের কাছে চলে যাও। এ কথা বলে, ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তালাক দিয়ে দিলেন এবং ঐ লোকদের থেকে অপর একটি মেয়েকে বিবাহ করলেন। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এদের থেকে দূরে রইলেন, আল্লাহ যতদিন চাইলেন। তারপর তিনি আবার এদের দেখতে আসলেন। কিন্তু এবারও তিনি ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দেখা পেলেন না। তিনি ছেলের বউয়ের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বললো, তিনি আমাদের খাবারের খোঁজে বেরিয়ে গেছেন। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কেমন আছ? তিনি তাদের জীবনযাত্রা ও অবস্থা জানতে চাইলেন। তখন সে বলল, আমরা ভাল এবং স্বচ্ছলতার মধ্যেই আছি। আর সে আল্লাহর প্রশংসাও করলো। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন , তোমাদের প্রধান খাদ্য কি? সে বলল, গোশ্‌ত্‌। তিনি আবার জানতে চাইলেন, তোমাদের পানীয় কি? সে বলল, পানি। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তাদের গোশ্‌ত্‌ ও পানিতে বরকত দিন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ সময় তাদের সেখানে খাদ্যশস্য উৎপাদন হতো না। যদি হতো তাহলে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে বিষয়েও তাদের জন্য দু’আ করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, মক্কা ব্যতিত অন্য কোথাও কেউ শুধু গোশ্‌ত্‌ ও পানি দ্বারা জীবন ধারণ করতে পারেনা। কেননা, শুধু গোশ্‌ত্‌ ও পানি জীবনযাপনের অনুকূল হতে পারে না। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যখন তোমার স্বামী ফিরে আসবে, তখন তাঁকে আমার সালাম দিবে, আর তাঁকে আমার পক্ষ থেকে হুকুম করবে যে, সে যেন তার ঘরের দরজায় চৌকাঠ ঠিক রাখে। এরপর ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফিরে আসলেন, তখন তিনি বললেন, তোমাদের নিকট কেউ এসেছিলেন কি? সে বলল, হাঁ। একজন সুন্দর আকৃতিকে বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন এবং সে তাঁর প্রশংসা করলো, (তারপর বললো) তিনি আমাএক আপনার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি তাঁকে আপনার সংবাদ জানিয়েছি। এরপর তিনি আমাকে আপনার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি তাঁকে আপনার সংবাদ জানিয়েছি। এরপর তিনি আমার নিকট আমাদের জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমি তাঁকে জানিয়েছি যে, আমরা ভাল আছি। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তিনি কি তোমাকে আর কোন কিচুর জন্য আদেশ করেছেন? সে বললো, হাঁ। তিনি আপনার প্রতি সালাম জানিয়ে আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার ঘরের দরজায় চৌকাঠ ঠিক রাখেন। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইনই আমার পিতা। আর তুমি হলে আমার ঘরের দরজার চৌকাঠ। একথার দ্বারা তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন তোমাকে স্ত্রী হিসাবে বহাল রাখি। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এদের থেকে দূরে রইলেন, যদ্দিন আল্লাহ চাইলেন। এরপর তিনি আবার আসলেন। (দেখতে পেলেন,)যমযম কূপের নিকটস্থ একটি বৃক্ষের নীচে বসে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর একটি তীর মেরামত করেছেন। যখন তিনি তাঁর পিতাকে দেখতে পেলেন, তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন। এরপর একজন বাপ-বেটার সঙ্গে, একজন বেটা-বাপের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে যেরূপ করে থাকে তারা উভয়ে তাই করলেন। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে ইসমাঈল। আল্লাহ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনার রব! আপনাকে যা আদেশ করেছেন, তা করুন। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ আমাকে এখানে একটি ঘর বানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই বলে তিনি উঁচু টিলাটির দিকে ইশারা করলেন যে, এর চারপাশে ঘেরাও দিয়ে, তখনি তাঁরা উভয়ে কা’বা ঘরের দেয়াল উঠাতে লেগে গেলেন। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাথর আনতেন, আর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্মাণ করতেন। পরিশেষে যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গেল, তখন ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মাকামে ইব্‌রাহীম নামে খ্যাত) পাথরটি আনলেন এবং ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য তা যথাস্থানে রাখলেন। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উপর দাঁড়িয়ে নির্মাণ কাজ করতে লাগলেন। আর ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে পাথর যোগান দিতে থাকেন। তখন তারা উভয়ে দু’আ করতে থাকলেন, হে আমাদের রব। আমাদের থেকে (একাজ) কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছু শুনেন ও জানেন। তাঁরা উভয়ে আবার কা’বা ঘর তৈরি করতে থাকেন। এবং কা’বা ঘরের চার দিকে ঘুরে ঘুরে এ দু’আ করতে থাকেন। ‘‘হে আমাদের রব! আমাদের থেকে (এ শ্রমটুকু) কবুল করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছু শুনেন ও জানেন। ’’ (২:১২৭)

হাদিস নং - ৩১২৬
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর স্ত্রী (সারার) মাঝে যা হওয়ার হয়ে গেল, তখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম (শিশুপুত্র) ইসমাঈল এবং তাঁর মাকে নিয়ে বের হলেন। তাদের সাথে একটি থলে ছিল, যাতে পানি ছিল। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা মশক থেকে পানি পান করতেন। ফলে শিশুরু জন্য তাঁর স্তন্যে দুধ বাড়তে থাকে। অবশেষে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় পৌছে হাযেরকে (শিশুপুত্র ইসমাঈলসহ) একটি বিরাট বৃক্ষের নীচে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপন পরিবার (সারার) নিকট ফিরে চললেন। তখন ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা কিছু দূর পর্যন্ত তাঁর অনুসরণ করলেন। অবশেষে যখন কাদা নামক স্থানে পৌছলেন, তখন তিনি পিছনে থেকে ডেকে বললেন, হে ইব্‌রাহীম! আপনি আমাদেরকে কার কাছে রেখে যাচ্ছেন? ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর কাছে। হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরপর হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসলেন, তিনি মশক থেকে পানি পান করতেন আর শিশুরু জন্য (তাঁর স্তন্যের) দুধ বাড়ত। অবশেষে যখন পানি শেষ হয়ে গেল। তখন ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা বললেন, আমি যদি গিয়ে এদিকে সেদিকে তাকাতাম! তাহলে হয়ত কোন মানুষ দেখতে পেতাম। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, এরপর ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা গেলেন এবং সাফা পাহাড়ে উঠলেন আর এদিকে ওদিকে তাকালেন এবং কাউকে দেখেন কিনা এজন্য বিশেষভাবে তাকিয়ে দেখলেন। কিন্তু কাউকেও দেখতে পেলেন না। (এরপর যখন নীচু ভূমিতে পৌছলেন) তখন দ্রুত বেগে মারওয়া পাহাড়ে এসে গেলেন। এবং এভাবে তিনি কয়েক চক্কর দিলেন। পুনরায় তিনি (মনে মনে) বললেন, যদি গিয়ে দেখতাম যে শিশুটি কি করছে। এরপর তিনি গেলেন এবং দেখতে পেলেন যে সে তার অবস্থায়ই আছে। সে যেন মরণাপন্ন হয়ে গেছে। এতে তাঁর মন স্বস্তি পাচ্ছিল না। তখন তিনি বললেন, যদি সেখানে (আবার) যেতাম এবং এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখতাম। সম্ববতঃ কাউকে দেখতে পেতাম। এরপর তিনি গেলেন, সাফা পাহাড়ের উপর উঠলেন এবং এদিক সেদিক দেখলেন এবং গভীরভাবে তাকিয়ে দেখলেন। কিন্তূ কাউকে দেখতে পেলেন না। এমনকি তিনি সাতটি চক্কর পূর্ণ করলেন। এরপর তিনি মনে মনে বললেন, যদি যেতাম তখন দেখতাম যে সে কি করছে। হঠাৎ তিনি একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, যদি আপনার কোন সাহায্য করার থাকে তবে আমাকে সাহায্য করুন। হঠাৎ তিনি জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পেলেন। রাবী ইবনু আব্বাস (রহঃ)) বলেন, তখন তিনি (জিবরাঈল) তাঁর পায়ের গোড়ালি দ্বারা এরূপ করলেন অর্থাৎ গোড়ালি দ্বারা যমীনের উপর আঘাত করলেন। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, তখনই পানি বেরিয়ে আসল। এ দেখে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা অস্থির হয়ে গেলেন এবং গর্ত খনন করতে লাগলেন। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ প্রসঙ্গে আবূল কাসিম (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )বলেছেন, হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি একে তার অবস্থায় উপর ছেড়ে দিতেন তাহলে পানি বিস্তৃত হয়ে যেত। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, তখন হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি পান করতে লাগলেন এবং তাঁর সন্তানের জন্য তাঁর দুধ বাড়তে থাকে। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, এরপর জুরহুম গোত্রের (ইয়ামান দেশীয়) একদল লোক উপত্যকার নীচু ভূমি দিয়ে অতিক্রম করচিল। হঠাৎ তারা দেখল কিছু পাখি উড়ছে। তারা যেন তা বিশ্বাসই করতে পারছিল না আর তারা বলতে লাগল এসব পাখি তো পানি ছাড়া কোথাও থাকতে পারে না। তখন তারা সেখানে তাদের একজন দুত পাঠাল। সে সেখানে গিয়ে দেখল, সেখানে পানি মাউযূদ আছে। তখন সে তার দলের লোকদের কাছে ফিরে আসল এবং তাদেরকে সংবাদ দিল। এরপর তারা হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে এসে বলল, হে ইসমাঈলের মা। আপনি কি আমাদেরকে আপনার কাছে থাকা অথবা (রাবী বলেছেন), আপনার কাছে বসবাস করার অনুমতি দিবেন? (হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বসবাসের অনুমতি দিলেন এবং এভাবে অনেক দিন কেতে গেল)। এরপর তাঁর ছেলে বয়ঃপ্রাপ্ত হল। তখন তিনি (ইসমাঈল) জুরহুম গোত্রেরই একটি মেয়ে বিয়ে করলেন। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, পুনরায় ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মনে জাগল (ইসমাঈল এবং তাঁর মা হাযেরার কথা) তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে (সারা) বললেন, আমি আমার পরিত্যক্ত পরিজনের অবস্থা সম্পর্কে খবর নিতে চাই রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, এরপর তিনি (তাদের কাছে) আসলেন এবং সালাম দিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইসমাঈল কোথায়? ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর স্ত্রী বলল, তিনি শিকারে গিয়েছেন। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে যখন আসবে তখন তুমি তাঁকে আমার এ নির্দেশের কথা বলবে, ‘‘তুমি ঘরের চৌকাঠখানা বদলিয়ে ফেলবে। ’’ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আসলেন, তখন স্ত্রী তাঁকে খবরটি জানালেন , তখন তিনি স্ত্রীকে বললেন, তুমি সেই চৌকাঠ। অতএব তুমি তোমার পিতামাতার কাছে চলে যাও। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, অতঃপর (তাদের কথা) ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আবার মনে পড়ল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রী (সারা) কে বললেন, আমি আমার নির্বাসিত পরিবারের খবর নিতে চাই। এরপর তিনি সেখানে আসলেন, এবং (পুত্রবধূকে) জিজ্ঞাসা করলেন, ইসমাঈল কোথায়? ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর স্ত্রী বলল, তিনি শিকারে গিয়েছেন। পুত্রবধু তাঁকে বললেন, আপনি কি আমাদের এখানে অবস্থান করবেন না? কিছু পানাহার করবেন না? তখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের খাদ্য এবং পানীয় কি? স্ত্রী বলল, আমাদের খাদ্য হল গোশ্‌ত আর পানীয় হল পানি। তখন ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’আ করলেন, ‘‘হে আল্লাহ! তাদের খাদ্য হল গোশ্‌ত আর পানীয় হল পানি। তখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’আ করলেন, ‘‘হে আল্লাহ! তাদের খাদ্য এবং পানীয় দ্রব্যের মধ্যে বরকত দিন। ’’ রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, আবূল কাসিম বলেছেন, ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দু’আর কারণেই (মক্কার খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যের মধ্যে) বরকত রয়েছে। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, আবার কিছুদিন পর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মনে তাঁর নির্বাসিত পরিজনের কথা জাগল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রী (সারা)-কে বললেন, আমি আমার পরিত্যক্ত পরিজনের খবর নিতে চাই। এরপর তিনি আলেন এবং ইসমাঈলের দেখা পেলেন, তিনি যমযম কূপের পিছনে বসে তাঁর একটি তীর মেরামত করেছেন। তখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডেকে বললেন, হে ইসমাঈল! তোমার রব তাঁর জন্য একখানা ঘর নির্মাণ করতে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনার রবের নির্দেশ পালন করুন। ইব্‌রাহিম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে আমি তা করব অথবা তিনি অনুরূপ কিছু বলেছিলেন। এরপর উভয়ে উঠে দাঁড়ালেন। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইমারাত বানাতে লাগলেন আর ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে পাথর এনে দিতে লাগলেন আর তাঁরা উভয়ে এ দু’আ করছিলেন, হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এ কাজ কবুল করুন। আপনি তো সব কিছু শুনেন এবং জানেন রাবী বলেন, এরি মধ্যে প্রাচীর উঁচু হয়ে গেল আর বৃদ্ধ ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতটা উঠতে দুর্বল হয়ে পড়লেন। তখন তিনি (মাকামে ইব্‌রাহীমের) পাথরের উপর দাঁড়ালেন। ইসমাঈল তাঁকে পাথর এগিয়ে দিতে লাগলেন আর উভয়ে এ দু’আ পড়তে লাগলেন, হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এ কাজটুকু কবূল করুন। নিঃসন্দেহে আপনি সবকিছু শুনেন ও জানেন।

হাদিস নং - ৩১২৭
মূসা ইবনু ইসলামাঈল (রহঃ) আবূ যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ তৈরি করা হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদে হারাম। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদে আক্‌সা। আমি বললাম, উভয় মসজিদের (তৈরীর) মাঝে কত ব্যাবধান ছিল? তিনি বললেন, চল্লিস বছর। (তিনি আরো বললেন) এরপর তোমার যেখানেই সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হবে, সেখানেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নিবে। কেননা এর মধ্যে ফযীলত নিহিত রয়েছে।

হাদিস নং - ৩১২৮
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত ওহোদ পাহাড় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দৃষ্টিগোচর হল। তিনি বললেন, এ পাহাড় আমাদের ভালবাসে আর আমরাও তাকে ভালবাসি। হে আল্লাহ! ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কাকে হরম ঘোষণা করছে আর আমি হরম ঘোষণা করছি এ পাহাড়ের উভয় পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানকে (মদিনাকে)। এ হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-ও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নং - ৩১২৯
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আয়িশা (রাঃ)-কে বলেছেন, তুমি কি জানো? তোমরা কওম যখন কা’বা ঘর নির্মাণ করেছে , তখন তারা ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ভিত্তি থেকে ছত করেছে? তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তা ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভিত্তির উপর পুনঃনির্মাণ করবেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার কওম কুফ্‌রী থেকে সদ্য আগত না হতো, (তাহলে আমি তা করে দিতাম।)আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, যদি আয়িশা (রাঃ) এ হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনে থাকেন, তবে আমি মনে করি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতীমে কাবার সংলগ্ন দু’টি কোণকে চুমু দেওয়া একমাত্র এ কারণে পরিহার করেছেন যে, কা’বা ঘর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ভিত্তিক উপর পুরাপুরি নির্মাণ করা হয় নি। রাবী ইসমাঈল (রহঃ) বলেন, ইবনু আবূ বকর হলেন আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর (রাঃ)।

হাদিস নং - ৩১৩০
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুমাঈদ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, সাহাবাগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কিভাবে আপনার উপর দরূদ পাঠ করব? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবে পড়বে, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ –এর উপর, তাঁর স্ত্রীগণের উপর এবং তাঁর বংশধরগণের উপর রহমত নাযিল করুন, যেরূপ আপনি রহমত নাযিল করেছেন ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বংশধরদের উপর। আর আপনি মুহাম্মদ এর উপর, তার স্ত্রীগণের উপর এবং তার বংশধরদের উপর এমনিভাবে বরকত নাযিল করুন যেমনি আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত এবং অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।

হাদিস নং - ৩১৩১
কায়স ইবনু হাফস ও মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কা’আব ইবনু উজরা (রাঃ) আমার সাথে দেখা করে বললেন, আমি কি আপনাকে এমন একটি হাদীয়া দেব না যা আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি? আমি বললাম হাঁ, আপনি আমাকে সে হাদীয়াটি দিন। তিনি বললেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনাদের উপর অর্থাৎ আহলে বাইতর উপর কিভাবে দরূদ পাঠ করতে হবে? কেননা, আল্লাহ তো (কেবল) আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা কিভাবে আপনার উপর সালাম করব। তিনি বললেন, তোমরা এভাবে বল, ‘‘হ্যাঁ আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ –এর উপর এবং মুহাম্মদ -এর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর বংশধরদের উপর রাহমত বর্ষণ করেছেন। নিচ্ছয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ –এর বংশধরদের উপর তেমনি বরকত ডান করুন যেমনি আপনি বরকত ডান করেছেন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর বংশধরদের উপর। নিচ্ছয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মর্যাদায় অধিকারী।

হাদিস নং - ৩১৩২
উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান এবং হুসাইন (রাঃ)-এর জন্য নিম্নোক্ত দু’আ পড়ে পানাহ চাইতেন আর বলতেন, তোমাদের পিতা (ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসমাঈল ও ইসহাক আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর জন্য দু’আ পড়ে পানাহ চাইতেন। (দু’আটি হল,)আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাত দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট হতে পানাহ চাচ্ছি।

হাদিস নং - ৩১৩৩
আহমদ ইবনু সালিহ (রাঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চিত্ত প্রশান্তির জন্য মৃতকে কীভাবে জীবিত করা হবে, এ সম্পর্কে আল্লাহর নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলেন, একে যদি ‘‘শক’’ বলে অভিহিত করা হয় তবে এরূপ ‘‘শক’’ এর ব্যাপারে আমরা ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাইতে অধিক উপযোগী। যখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, হে আমার রব! আমাকে দেখিয়ে দিন, আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন। আল্লাহ বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? তিনি বললেন, হাঁ, (অবশ্যঁই বিশ্বাস করি।)তা সত্ত্বেও (এ জিজ্ঞাসা এজন্য যে) যাতে আমার চিত্ত প্রশান্তি লাভ করে। (২:২৬০) এরপর (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুত আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ঘটনা উল্লেখ করে বললেন।)আল্লাহ লুত আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রতি রহম করুন। তিনি (আল্লাহর দ্বীন প্রচারের সহায়তার জন্য) একটি সুদৃঢ় খুঁটির (দলের) আশ্রয় চেয়েছিলেন আর আমি যদি কারাগারে এত দীর্ঘ সময় থাকতাম যত দীর্ঘ সময় ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারাগারে ছিলেন তবে (বাদশাহ পক্ষ থেকে) তার ডাকে সাড়া দিতাম। ১ ১ ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদীর্ঘ সাত বছর পর্যন্ত কয়েদখানায় বন্দী থাকার পর বাদশাহ যখন মুক্তির হুকুম দিলেন, তখন সাথে সাথে তিনি তা কবূল করলেন না। বরং বললেন, আমার প্রতি আরোপিত কলঙ্ক ও অপরাধের তদন্ত করা হোক। এর মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আমি কয়েদখানা ত্যাগ করব না। এখানে তাঁর দৃঢ় মনোবল ও অসীম ধৈর্যের প্রশংসা করা হয়েছে। আর লুত আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।

হাদিস নং - ৩১৩৪
কুতায়বা ইবনু (রহঃ) সালামা ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইয়ামানের) আসলাম গোত্রের একদল লোকের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় তাঁরা তীরন্দাজীর প্রতিযোগিতা করছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বনী ইসমাঈল! তোমরা তীরন্দাজী করে যাও। কেননা তোমাদের পূর্বপুরুষ (ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তীরন্দাজ ছিলেন। সুতরাং তোমরাও তীরন্দাজী করে যাও আর আমি অমুক গোত্রের লোকদের সাথে আছি। রাবী বলন, (এ কথা শুনে) তাদের এক পক্ষ হাত চালনা থেকে বিরত হয়ে গেল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কি হল, তোমরা যে তীরন্দাজী করছ না? তখন তারা বলল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কিভাবে তীর ছুঁড়তে পারি, অথচ আপনি তো তাদের সাথে রয়েছেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা তীর ছুঁড়তে থাক, আমি তোমাদের সবার সাথেই আছি।

হাদিস নং - ৩১৩৫
ইসহাক ইবনু ইব্‌রাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, লোকদের মধ্যে অধিক সম্মানিত ব্যাক্তি কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহ ভীরু, সে সবচেয়ে অধিক সম্মানিত। সাহাবা কিরাম বললেন, ইয়া নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম য়াল্লাহ! আমরা আপনাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিনি। তিনি বললেন, তা হলে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যাক্তি হলেন, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইউসুফ ইবনু আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইয়াকুব) ইবনু আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইসহাক) ইবনু আল্লাহর খালীল ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁরা বললেন, আমরাও এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিনি। তিনি বললেন, তবে কি তোমরা আমাকে আরবদের উচ্চ বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ? তারা বলল, হাঁ। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জাহেলিয়াতের যুগে তোমাদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম ব্যাক্তি ছিলেন ইসলাম গ্রহণের পরও তারাই সর্বোত্তম ব্যাক্তি, যদি তাঁরা ইসলামী জ্ঞান অর্জন করে থাকেন।

হাদিস নং - ৩১৩৬
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ লুত -কে ক্ষমা করুন। তিনি একটি সুদৃঢ় খুঁটির আশ্রয় চেয়েছিলেন।

হাদিস নং - ৩১৩৭
মাহ্‌মুদ (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দাল সহ) পড়েছেন।

হাদিস নং - ৩১৩৮
হুমায়দী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু যাম‘আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি এবং তিনি যে লোক (সালিহ (আ-এর) উঠনী যখম করেছিল তাঁর উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, উট্‌নীকে হত্যা করার জন্য আমীন এক লোক (কিদার) তৈরি হয়েছিল যে তাঁর গোত্রের মধ্যে প্রবল ও শক্তিশালী ছিল, যেমন ছিল আবূ যাম‘আ।

হাদিস নং - ৩১৩৯
মুহাম্মদ ইবনু মিসকীন আবূল হাসান (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্বের সময় যখন হিজর নামক স্থানে অবতরণ করলেন, তখন তিনি সাহাবাগণকে নির্দেশ দিলেন, তাঁরা যেন এখানে কূপের পানি পান না করে, এবং মশকেও পানি ভরে না রাখে। তখন সাহাবাগন বললেন, আমরা তো এর পানি দ্বারা রুটির আটা গুলে ফেলেছি এবং পানিও ভরে রেখেছি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সেই আটা ফেলে দেয়ার এবং পানি ঢেলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। সাবরা ইবনু মা‘বাদ এবং আবূশ শামূস (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য ফেলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আর আবূ যার (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, এর পানি দ্বারা যে আটা গুলেছে (সে যেন তা ফেলে দেয়।)

হাদিস নং - ৩১৪০
ইব্‌রাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সংগে সামূদ জাতির আবাসস্থল ‘হিজর’ নামক স্থানে অবতরণ করলেন আর তখন তাঁরা এক কূপের পানি মশক ভরে রাখলেন এবং এ পানি দ্বারা আটা গুলে নিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের হুকুম দিলেন, তারা ঐ কূপ থেকে যে পানি ভরে রেখেছে, তা জেন ফেলে দেয় আর পানিতে গোলা আটা যেন উঠগুলোকে খাওয়ায় আর তিনি তাদের হুকুম করলেন তারা যেন ঐ কূপ থেকে মশক ভরে নেয় যেখান থেকে (শালিহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উটনীটি পানি পান করত। উসামা (রহঃ) নাফি (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় উবায়দুল্লাহ (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।

হাদিস নং - ৩১৪১
মুহাম্মদ (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবুকের পথে) যখন ‘হিজর’ নামক স্থান অতিক্রম করলেন, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন লোকদের আবাসস্থলে প্রবেশ করো না যারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুল্‌ম করেছে। তবে প্রবেশ করতে হলে, ক্রন্দনরত অবস্থায়, যেন তাদের প্রতি যে বিপদ এসেছিল তোমাদের প্রতি অনুরূপ বিপদ না আসে। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ল্ললাহ্‌ বাহনের উপর বসা অবস্থায় নিজ চাঁদর দিয়ে চেহারা মোবারক ঢেকে নিলেন।

হাদিস নং - ৩১৪২
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবুকের পথে সাহাবাদেরকে) নিরদেসদিয়েচেন, তোমরা একমাত্র ক্রন্দনরত অবস্থায় এমন লোকদের আবা আবসস্থালে প্রবেশ করবে যারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুল্‌ম করেছে। তাদের উপর যে মুসিবত এসেছে তোমাদের উপরও যেন সে মুসীবত না আসে।

হাদিস নং - ৩১৪৩
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সম্মানী ব্যাক্তি- যিনি সন্তান সম্মানী ব্যাক্তির, যিনি সন্তান সম্মানী ব্যাক্তির, তিনি হলেন, ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব ইবনু ইসহাক ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

হাদিস নং - ৩১৪৪
উবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (শ)-কে জিজ্ঞাসা জরা হয়েছিল, মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ব্যাক্তি কে? তিনি উত্তর দিলেন, তাদের মধ্যে যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশী ভয় করে। তারা বললেন, আমরা আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিনি। তিনি বললেন, তাহলে, মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ব্যাক্তি হলেন, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইউসুফ ইবনু আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইয়াকুব) ইবনু আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইসহাক) ইবনু আল্লাহর খলিল (ইব্‌রাহীম) আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁরা বললেন, আমরা আপনাকে এ বিষয়েও জিজ্ঞাসা করিনি। তখন তিনি বললেন, তাহলে তোমরা আমার কাছে আরবের খনি অর্থাৎ গোত্রগুলোর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ? (তাহলে শুন) মানুষ খনি বিশেষ, জাহিলিয়্যাতের যুগে যারা তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যাক্তি ছিল, ইসলামেও তাঁরা সর্বোত্তম ব্যাক্তি, যদি তারা ইসলামী জ্ঞান লাভ করে।

হাদিস নং - ৩১৪৫
মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (দেখুন হাদিস নম্বর ৩১৪৪)

হাদিস নং - ৩১৪৬
বাদল ইবনু মুহাব্বার (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, আবূ বাক্‌র (রাঃ)_কে বল, তিনি যেন লোকদের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করিয়ে দেন। আয়িশা (রাঃ) বললেন, তিনি একজন কমল হৃদয়ের লোক। যখন আপনার জায়গায় তিনি দাঁড়াবেন, তখন বিনমর অন্তর হয়ে পড়বেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় তাই বললেন, আয়িশা (রাঃ) আবারও সেই উত্তর দিলেন, শোবা (রহঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয় অথবা চতুর্থবার বললেন, (হে আয়িশা (রাঃ)! তোমরা ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ঘটনায় নিন্দুক নারীদের মত। আবূ বকরকে বল, (সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করিয়ে দিক)।

হাদিস নং - ৩১৪৭
এরাবী ইবনু ইয়াহ্‌ইয়া (রাঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন তিনি বললেন, আবূ বকরকে বল, তিনি যেন লোকদের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করিয়ে দেন। তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, আবূ বকর (রাঃ) তো এমন একজন (কোমল হৃদয়ের) লোক। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ বললেন, তখন আয়িশা (রাঃ) ও তদরূপই বললেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ বকরকে বল, (যেন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করিয়ে দেন।)হে আয়িশা! নিশ্চয় তোমরা ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ঘটনার নিন্দুক নারীদের ন্যায় হয়ে পড়েছ। এরপর আবূ বাক্‌র (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর জীবনকালে ইমামতী করলেন। রাবী হুসাইন (রহঃ) যায়িদা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, এখানে এর স্থলে আছে অর্থাৎ তিনি একজন কোমল হৃদয়ের লোক।

হাদিস নং - ৩১৪৮
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করেছেন, হে আল্লাহ! আয়্যাশ ইবনু আবূ রবীআকে (কাফিরদের অত্যাচার হতে) মুক্তি দ্বীন। হে আল্লাহ! সালাম ইবনু হিশামকে বাজাত দ্বীন। হে আল্লাহ! ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদেরকেও মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুযার গোত্রের উপর আপনার পাকড়াওকে মজবুত করুন , হে আল্লাহ! এ গোত্রের উপর এমন দুর্ভিক্ষ এ অভাব অনটন নাযিল করুন যেমন দুর্ভিক্ষ ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর যামানায় হয়েছিল।

হাদিস নং - ৩১৪৯
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আসমা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুল্লাহ্‌ বলেছেন, আল্লাহ লূত আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উপর রহম করুন। তিনি একটি সুদৃঢ় খুঁটির আশ্রয় নিয়েছিলেন আর ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যত দীর্ঘ সময় জেলখানায় কাটিয়েছেন, আমি যদি অত দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতাম এবং পড়ে বাদশাহর দূত (মুক্তির আদেশ নিয়ে) আমার নিকট আসত তবে নিশ্চয়ই আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিতাম।

হাদিস নং - ৩১৫০
মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) মাসরূক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-এর মা উম্মে রুমানার নিকট আয়িশার বিষয়ে যে সব মিথ্যা অপবাদের কথা বলাবলি হচ্ছিল সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি আয়িশার সাথে একত্রে বসা ছিলাম। এমন সময় একজন আনসারী মহিলা একথা বলতে বলতে আমাদের নিকট প্রবেশ করল। আল্লাহ অমুককে শাস্তি দিক। আর শাস্তি তো দিয়েছেন। একথা শুনে উম্মে রুমানা (রাঃ) বললেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম একথা বলার কারণ কি? সে মহিলাটি বলল, ঐ লোকটই তো কথাটির চর্চা করেছে। তখন আয়িশা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, বিষয়টি কি আবূ বকর (রাঃ) এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও শুনেছেন? সে বলল, হাঁ! এতে আয়িশা (রাঃ) বেহুশ হয়ে গেলেন। পড়ে তাঁর হুস ফিরে আসল তবে তাঁর শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসল। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তার কি হল? আমি বললাম, তাঁর সম্পর্কে যা কিছু রটেছে তাতে সে (মনে) আঘাত পেয়েছে ফলে সে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় আয়িশা (রাঃ) উঠে বসলেন, আর বলতে লাগলেন, আল্লাহর কসম, আমি যদি কসম খেয়ে বলি তবুও আপনারা আমায় বিশ্বাস করবেন না আর যদি ওজর পেশ করি তাও আপনারা আমার ওজর শুনবেন না। অতএব এখন আমার ও আপানাদের অবস্থা হল ইয়াকুব আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সন্তানদের মতো। আপনারা যা বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া হল। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে চলে গেলেন এবং আল্লাহ যা নাযিল করার তা নাযিল করলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আয়িশা (রাঃ)-কে এ সংবাদ জানালেন। আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমি একমাত্র আল্লাহরই প্রশংসা করব, অন্য কার প্রশংসা নয়।

হাদিস নং - ৩১৫১
ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহ তা’আলার বাণী আয়াতাংশের মধ্যে হবে, না। হবে? (যাল হরফে তাশদীদ সহ পড়তে হবে না তাশদীদ ব্যাতিত)? হযরত আয়িশা (রাঃ) বলেন, (এখানে নয়, হবে) কেননা, তাঁদের কাওম তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। (উরওয়াহ (রহঃ) বলেন) আমি বললাম, মহান আল্লাহর কসম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, তাঁদের কাওম তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছে, আর তাতো সন্দেহের বিষয় ছিল না। (কাজেই, এখানে হবে কিভাবে?) তখন হযরত আয়িশা (রাঃ) বলেন, হে উরাইয়্যাহ্‌! এ ব্যাপারে তাদের তো দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। (অর্থাৎ এখানে তিনি -কে অর্থে নিয়েছেন।)(উরওয়াহ্‌ (রহঃ) বলেন) আমি বললাম, সম্ভবতঃ এখানে হবে। হযরত আয়িশা (রাঃ) বললেন, মাআযাল্লাহ্‌ (আল্লাহর পানাহ্‌), রসূলগণ কখনও আল্লাহ্ সম্পর্কে এরূপ ধারণা করতেন না। (অর্থাৎ হলে অর্থ দাঁড়ায়, আল্লাহ পাক রসূলগণের সাথে মিথ্যা বলেছেন। অথচ রসূলগণ কখনো এরূপ ধারণা করতে পারে না।)তবে এ আয়াত সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তারা রসূলগণের অনুযায়ী যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন এবং রসূলগণের বিশ্বাস করেছেন। তাঁদের উপর আযমায়েশ (ঈমানের পরীক্ষা) দীর্ঘায়িত হয়। তাঁদের প্রতি সাহায্য পৌছতে বিলম্ব হয়। অবশেষে রসূলগণ যখন তাঁদের কাওমের লোকদের মধ্যে যারা তাদেরকে মিথ্যা মনে করেছে, তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেলেন এবং তাঁরা এ ধারণা করতে লাগলেন যে তাঁদের অনুসারীগণও তাঁদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করবেন, ঠিক এ সময়ই মহান আল্লাহর সাহায্য পৌছে গেল। শব্দটি -এর ওযনে এসেছে। থেকে নিষ্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নিরাশ হয়ে গেসে। এর অর্থ- তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।

হাদিস নং - ৩১৫২
আবদা (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সম্মানিত ব্যাক্তি- যিনি সন্তান সম্মানিত ব্যাক্তির, যিনি সন্তান সম্মানিত ব্যাক্তির, যিনি সন্তান সম্মানিত ব্যাক্তির, তিনি হলেন ইউসুফ ইবনু ইয়াকূব ইবনু ইসহাক ইবনু ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

হাদিস নং - ৩১৫৩
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ আল জু’ফী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদা আইয়্যুব আলাইহি ওয়া সাল্লাম নগ্ন দেহে গোসল করেছিলেন। এমন সময় তাঁর উপর স্বর্ণের এক ঝাঁক পঙ্গপেল পতিত হল। তিনি সেগুলো দু’হাতে কাপড়ে রাখতে লাগলেন। তখন তাঁর রব তাঁকে ডেকে বললেন, হে আইয়্যুব! তুমি যা দেখতে পাচ্ছ, তা থেকে কি আমি তোমাকে মুখাপেক্ষীহীন করে দেই নি? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ, হে রব! কিন্তু আমি আপনার বরকতের অমুখাপেক্ষী নই

হাদিস নং - ৩১৫৪
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসূফ (রহঃ) উরওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হেরা পর্বতের গুহা থেকে) খাদীজা (রাঃ)-এর নিকট ফিরে আসলেন তাঁর হৃদয় কাঁপছিল। তখন খাদীজা (রাঃ) তাঁকে নিয়ে ওয়ারকা ইবনু নাওফলের নিকট গেলেন। তিনি খৃষ্টান ধর্ম অবলম্বন করেছিলেন। তিনি আরবী ভাষায় (অনুবাদ করে) ইনযীল পাঠ করতেন। ওয়ারকা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি দেখছেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সব ঘটনা জানালেন। তখন ওয়ারকা বললেন, এত সেই নামুস (ফিরিশ্‌তা) যাঁকে আল্লাহ তা’আলা মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে নাযিল করেছিলেন। আপনার সে সময় যদি আমি পাই, তবে সর্বশক্তি দিয়ে আমি আপনাকে সাহায্য করব। নামুস অর্থ গোপন তত্ত্ব ও তথ্যবাহী যাকে কেউ কোন বিষয়ে খবর দেয় আর সে তা অপর থেকে গোপন রাখে।

হাদিস নং - ৩১৫৫
হুদবা ইবনু খালিদ (রহঃ) মালিক ইবনু সা‘সাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজ রাত্রির ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁদের কাছে এও বলেন, তিনি যখন পঞ্চম আকাশে এসে পৌছলেন, তখন হঠাৎ সেখানে হারূন আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাথে সাক্ষাৎ হল। জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইনি হলেন, হারূন আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে সালাম করুন। তখন আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, মারহাবা পুণ্যবান ভাই ও পুণ্যবান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । সাবিত এবং আব্বাদ ইবনু আবূ আলী (রহঃ) আনাস (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কাতাদা (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।

হাদিস নং - ৩১৫৬
ইব্‌রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে রাতে আমার মিরাজ হয়েছিল, সে রাতে আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন, হালকা পাতলা দেহবিশিষ্ট ব্যাক্তি, তাঁর চুল কোঁকড়ানো ছিল না। মনে হচ্ছিল তিনি যেন ইয়ামান দেশীয় শানুআ গোত্রের একজন লোক, আর আমি ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন মাধ্যম দেহবিশিষ্ট, গায়ের রং ছিল লাল। যেন তিনি এইমাত্র হাম্মাম থেকে বের হলেন। আর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর বংশধরদের মধ্যে তাঁর সাথে আমার চেহারায় মিল সবচেয়ে বেশী। তারপর আমার সামনে দু’টি পেয়ালা আনা হল। তার একটিতে ছিল দুধ আর অপরটিতে ছিল শরাব। তখন জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বোল্লেণ, এ দু’টির মধ্যে যেটি চান আপনি পান করতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং তা পান করলাম। তখন বলা হল, আপনি ফিত্‌রাত বা স্বভাব ও প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন। দেখুন, আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

হাদিস নং - ৩১৫৭
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন ব্যাক্তির একথা বলা উচিৎ হবেনা যে, আমি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা বলতে গিয়ে ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পিতার নাম উল্লেখ করেছেন। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রজনীর কথাও উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাদামী রং বিশিষ্ট দীর্ঘদেহী ছিলেন। যেন তিনি শানুআ গোত্রের একজন লোক। তিনি আরো বলেছেন যে, ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মধ্যমদেহী, কোঁকড়ানো চুলওয়ালা ব্যাক্তি। আর তিনি দোযখের দারোগা মালিক এবং দাজ্জালের কথাও উল্লেখ করেছেন।

হাদিস নং - ৩১৫৮
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (হিজরত করে) মদিনায় আগমন করেন, তখন তিনি মদিনাবাসীকে এমনভাবে পেলেন যে, তারা একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে অর্থাৎ সে দিনটি হল আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন। (জিজ্ঞাসা করার পর) তারা বলল, এটি একটি মহান দিবস। এ এমন দিন যে দিনে আল্লাহ মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে নাজাত দিয়েছেন এবং ফিরাউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছেন। এরপর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুকরিয়া হিসাবে এদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করেছেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের তুলনায় আমি হলাম মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর অধিক ঘনিষ্ঠ। কাজেই তিনি নিজেও এদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করেছেন এবং (সবাইকে) এদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনের আদেশ দিয়েছেন।

হাদিস নং - ৩১৫৯
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন সব মানুষ বেহুশ হয়ে যাবে। এরপর সর্বপ্রথম আমারই হুশ ফিরে আসবে। তখন আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পাব যে, তিনি আরশের খুঁটিগুলোর একটি খুঁটি ধরে রেখেছেন। আমি জানিনা, আমার আগেই কি তাঁর হুশ আসল, না-কি তূর পাহাড়ে বেহুশ হওয়ার প্রতিদানে তাঁকে দেয়া হল।

হাদিস নং - ৩১৬০
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ জু‘ফী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি বনী ইসরাঈল না হত, তবে গোশ্‌ত পচন ধরত না। আর যদি (মা) হাওয়া আলাইহি ওয়া সাল্লাম না হতেন, তাহলে কোন সময় কোন নারী তাঁর স্বামীর খেয়ানত করত না।

হাদিস নং - ৩১৬১
আম্‌র ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি এবং হুর ইবনু কায়েস ফাযারি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাথীর ব্যাপারে বিতর্ক করছিলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি হলেন, খাযির। এমনি সময় উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) তাদের উভয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁকে দাক্লেন এবং বললেন, আমি এবং আমার এ সাথি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাথী সম্পর্কে বিতর্ক করছি, যাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে তাঁর ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে বলতে শুনেছি যে, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাঁর কাছে একজন লোক আসল এবং জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি এমন কাউকে জানেন, যিনি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী? তিনি বললেন, না। তখন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রতি আল্লাহ ওহী পাঠায়ে জানায়ে দিলেন, হাঁ, (তোমার চেয়েও অধিক জ্ঞানী) আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাক্ষাতের জন্য পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। তখন তাঁর জন্য একটি মাছ নিদর্শন হিসাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হল এবং তাকে বলে দেওয়া হল, যখন তুমি মাছটা হারাবে, তখন তুমি পিছনে ফিরে আসবে, তাহলেই তুমি তাঁর সাক্ষাৎ পাবে। তারপর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নদীতে মাছের পিছে পিছে চলছিলেন, এমন সময় মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে তাঁর খাদেম বলে উঠল, ‘‘আপনি কি লক্ষ্য করেছেন? আমরা যখন ঐ পাথরটির কাছে অবস্থান করছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। বস্তুতঃ তার স্মরণে থেকে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। ’’(১৮:৬৩) মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমরা তো সে স্থানেরই অনুসন্ধান করছিলাম। অতএব তাঁরা উভয়ে পিছনে ফিরে চললেন, এবং খাযিবের সাক্ষাৎ পেলেন। (১৮:৬৪) তাঁদের উভয়েরই অবস্থার বর্ণনা ঠিক তাই যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নং - ৩১৬২
আলী ইব্‌ন আবদুল্লাহ (রহঃ) সাঈদ ইব্‌ন জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, নাওফল বিক্কালী ধারণা করেছে যে, খাযিরের সঙ্গী মূসা বনী ইসরাঈলের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম নন; নিশ্চয়ই তিনি অপর কোন মূসা। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্‌র দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে। উবাই ইব্‌ন কাব (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একবার মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন ব্যাক্তি সবচেয়ে জ্ঞানী? তিনি বল্লেন, আমি। আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর এ উত্তরে আল্লাহ্‌ তাঁর প্রতি অসুন্তূষ্টি প্রকাশ করলেন। কেননা তিনি জ্ঞানকে আল্লাহ্‌র দিকে সম্পর্কিত করেন নি। আল্লাহ্‌ তাঁকে বললেন, বরং দুই নদীর সংযোগ স্থলে আমার একজন বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে বেশী জ্ঞানী। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরয করলেন, হে আমার রব! আমি তাঁর সাথে কিভাবে সাক্ষাৎ করব? আল্লাহ্‌ বললেন, তুমি একটি মাছ ধর এবং তা (ভাজা করে) একটি থলের মধ্যে ভরা রাখ। যেখানে গিয়ে তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন। তারপর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি মাছ ধরলেন এবং (তা ভাজা করে) থলের মধ্যে ভরে রাখলেন। এরপর তিনি এবং তাঁর সাথী ইউশা ইব্‌ন নূন চলতে লাগলেন অবশেষে তাঁরা উভয়ে (নদীর তীরে) একটি পাথরের নিকট এসে পৌছে তার উপর উভয়ে মাথা রেখে বিশ্রাম করলেন। এ সময় মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন আর মাছটি (জীবিত হয়ে) নড়াচড়া করতে করতে থলে থেকে বের হয়ে নদীতে নেমে গেল। এরপর সে নদীতে সুড়ঙ্গ আকারে আপন পথ করে নিল আর আল্লাহ্‌ মাছটির চলার পথে পানির গতি থামিয়ে দিলেন। ফলে তার গমন পথটি সুড়ঙ্গের ন্যায় হয়ে গেল। এ সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইশারা করে বললেন, এভাবে সুড়ঙ্গের মত হয়েছিল। এরপর তাঁরা উভয়ে অবশিষ্ট তার এবং পুর দিন পথ চললেন। অবশেষে যখন পরের দিন ভোর হল তখন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর যুবক সাথীকে বললেন, আমার ভোরের খাবার আন। আমি এ সফরে খুব ক্লান্তি অনুভব করছি। বস্তুতঃ মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে পর্যন্ত আল্লাহ্‌র নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম না করেছেন সে পর্যন্ত তিনি সফরে কোন ক্লান্তই অনুভব করেন নি। তখন তাঁর সাথী তাঁকে বললেন, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন সেই পাথরটির কাছে বিশ্রাম নিয়েছিলাম (তখন মাছটি পানিতে চলে গেছে) মাছটি চলে যাওয়ার কথা বলতে আমি একেবারেই ভুলে গেছি। প্রকৃতপক্ষে আপনার কাছে তা উল্লেখ করতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছি। বস্তুতঃ মাছটি নদীতে আশ্চার্যজনকভাবে নিজের পথ করে নিয়েছি। (রাবী বলেন) পথটি মাছের জন্য ছিল একটি সুড়ঙ্গের মত আর তাঁদের জন্য ছিল একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, সে তাইতো সেই স্থান যা আমার খুঁজে বেড়াচ্ছি। এরপর উভয়ে নিজ নিজ পদচিহ্ন অনুসরণ করতে করতে পিছনের দিকে ফিরে চললেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা উভয়ে সেই পাথরটির কাছে এসে পৌছলেন এবং দেখলেন সেখানে একজন লোক কাপড়ে আবৃত হয়ে আছেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে সালাম করলেন। তিনি সালামের জওয়াব দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, এখানে সালাম কি করে এলো? তিনি বললেন, আমি মূসা (আমি এ দেশের লোক নই।)তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি ইসরাইলের (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )মূসা? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আপনার নিকট এসেছি, সরল সঠিক জ্ঞানের ঐ সব কথাগুলো শিখার জন্য যা আপনাকে শিখানো হয়েছে। তিনি বললেন, হে মূসা! আমার আল্লাহ্‌ প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে যা আল্লাহ্‌ আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আপনি তা জানেন। আর আপনারও আল্লাহ্‌ প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে, যা আল্লাহ্‌ আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আমি তা জানিনা। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি কি আপনার সঙ্গী হতে পারি? খাযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনি আমার সাথে থেকে ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম হবেন না আর আপনি এমন বিষয়ে ধৈর্য রাখবেন কি করে, যার রহস্য অনুধাবন করা আপনার জানানেই? (মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইন্‌শা আল্লাহ্‌ আপনি আমাকে একজন ধৈর্য ধারণকারী হিসেবে দেখতে পাবেন। আমি আপনার কোন নির্দেশই অমান্য করব না। এরপর তাঁরা উভয়ে রওয়ানা হয়ে নদীর তীরে দিয়ে চলতে লাগলেন। এমন সময় একটি নৌকা তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করচিল। তারা তাদেরকেও নৌকায় উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করলেন। তারা খাযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে চিনে ফেললেন এবং তারা তাঁকে তাঁর সঙ্গীসহ পারিশ্রমিক ব্যতিরেকেই নৌকায় তুলে নিল। তাঁরা দু’জন যখন নৌকায় আরোহণ করলেন, তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির এক পাশে বসল এবং একবার কি দু’বার নদীর পানিতে সে তার ঠোঁট ডুবাল। খাযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার এবং তোমার জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহ্‌র জ্ঞান হতে ততটুকুও হ্রাস পায়নি যতটুকু এ পাখিটি তার ঠোঁটের সাহায্যে পানি হ্রাস করেছে। তারপর খাযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম হঠাৎ করে একটি কুঠায় নিয়ে নৌকার একটি তক্তা খুলে ফেললেন, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম অকস্মাৎ দৃষ্টি দিতেই দেখতে পেলেন তিনি খুঠার দিয়ে একটি তক্তা খুলে ফেলেন। তখন তাঁকে তিনি বললেন, আপনি এ কি করলেন? লোকেরা আমাদের পারিশ্রমিক ছাড়া নৌকায় তুলে নিল, আর আপনি তাদের নৌকার আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন? এত আপনি একটি গুরুতর কাজ করলেন। খাযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি কি বলিনি যে, আপনি কখনও আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবেন না? মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি যে বিষয়টি ভুলে গেছি, তার জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন না। আর আমার এ আচরণে আমার প্রতি কঠোর হবেন না। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পক্ষ থেকে প্রথম এই কথাটি ছিল ভুলক্রমে। এরপর যখন তাঁরা উভয়ে নদী পার হয়ে আসলেন, তখন তাঁরা একটি বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন সে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলছিল। খাযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মাথা ধরলেন এবং নিজ হাতে ছেলেটির ঘাড় পৃথক করে ফেললেন। একথাটি বুঝানোর জন্য সুফিয়ান (রহঃ) তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ দ্বারা এমনভাবে ইশারা করলেন যেন তিনি কোন জিনিস ছিড়ে নিচ্ছিলেন। এতে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, আপনি কি একটি নিষ্পাপ ছেলেকে বিনা অপরাধে হত্যা করলেন? নিশ্চয়ই আপনি এটা গর্হিত কাজ করলেন। খাযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি যে আপনি আপনি আমার সাথে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না? মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সঙ্গে রাখবেন না। কেননা আপনার ওজর আপত্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এরপর তাঁরা চলতে লাগলেন শেষ পর্যন্ত তাঁরা এক লোকালয়ে এসে পৌছলেন। তাঁরা গ্রামবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাঁদের মেহ্‌মানদারী করতে অস্বীকার করল। তারপর তাঁরা সেখানেই একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন যা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তা একদিকে ঝুঁকে গিয়েছিল। খাযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা নিজের হাতে সোজা করে দিলেন। রাবী আপন হাতে এভাবে ইশারা করলেন। আর সুফিয়ান (রহঃ) এমনিভাবে ইঙ্গিত করলেন যেন তিনি কোন জিনিস উপরের দিকে উচিয়ে দিচ্ছেন। ঝুকে পড়েছে’’ একথাটি আমি সুফিয়ানকে মাত্র একবার বলতে শুনেছি। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তারা এমন মানুষ যে, আমরা তাদের কাছে আসলাম, তারা আমাদেরকে না খাবার পরিবেশন করল, না আমাদের মেহমানদারী করল আপনি এদের প্রাচীর সোজা করতে গেলেন। আপনি ইচ্ছা করলে এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন। খাযির আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদ হল। তবে এখনই আমি আপনাকে অবহিত করছি ওসব কথার গুঢ় রহস্য, যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্যধারণ করতে পারেন নি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদেরতো ইচ্ছা যে, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধৈর্যধারণ করলে আমাদের কাছে তাঁদের আরো অনেক বেশী খবর বর্ণিত হতো। সুফিয়ান (রাঃ) বর্ণনা করেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্‌ মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উপর করুন। তিনি যদি ধৈর্যধারণ করতেন, তাহলে তাদের উভয়ের ব্যাপারে আমাদের কাছে আরো অনেক ঘটনা বর্ণিত হতো। রাবী (সাইদ ইব্‌ন জুবায়র) বলেন, ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) এখানে পড়েছেন, তাদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, সে প্রতিটি নিখুঁত নৌকা যবরদস্তিমূলক ছিনিয়ে নিত। আর সে ছেলেটি ছিল কাফির, তার মা-বাবা ছিলেন মুমিন। তারপর সুফিয়ান (রহঃ) আমাকে বলেছেন, আমি এ হাদীসটি তাঁর (আমর ইব্‌ন দীনার) থেকে দু’বার শুনেছি এবং তাঁর নিকট হতেই মুখস্থ করেছি। সুফিয়ান (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনি কি আমর ইব্‌ন দীনার (রহঃ) থেকে শোনার আগেই তা মুখস্থ করেছেন না অপর কোন লোকের নিকট শুনে তা মুখস্থ করেছেন? তিনি বললেন, আমি কার নিকট থেকে তা মুখস্থ করতে পারি? আমি ছাড়া আর কেউ কি এ হাদীস আমরের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন? আমি তাঁর কাছ থেকেই শুনেছি দুইবার কি তিনবার। আর তাঁর থেকেই তা মুখস্থ করেছি। আলী ইব্‌ন খুশরম (রহঃ) সুফিয়ান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নং - ৩১৬৩
মুহাম্মদ ইবনু সাঈদ ইবনু আসবাহানী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, খাযীর আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে খাযির নামে অভিহিত করার কারণ হল এই যে, একদা তিনি ঘাস-পাতা বিহীন শুল্ক সাদা জায়গায় বসেছিলেন। সেখান থেকে তাঁর উঠে যাওয়ার পরই হঠাৎ ঐ স্থানটি সবুজ হয়ে গেল। (এ ঘটনা থেকেই তাঁর নাম খাযির হয়ে যায়। )

হাদিস নং - ৩১৬৪
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনী ইসরাঈলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, তোমরা দ্বার দিয়ে অবনত মস্তিকে প্রবেশ কর আর মুখে বল, ‘হিত্তাতুন’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দাও।)কিন্তু তারা এ শব্দটি পরিবর্তন করে ফেলল এবং প্রবেশ দ্বার দিয়ে যেন জাতু নত না করতে হয় সে জন্য তারা নিজ নিজ নিতম্বের উপর ভর দিয়ে শহরে প্রবেশ করল আর মুখে বলল, ‘‘হাব্বাতুন্‌ ফী শা‘আরাতিন’’(অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদেরকে যবের দানা দাও।)

হাদিস নং - ৩১৬৫
ইসহাক ইবনু ইব্‌রাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত লজ্জাশীল ছিলেন, সব সময় শরীর আবৃত রাখতেন। তাঁর দেহের কোন অংশ খোলা দেখা যেতনা তা থেকে তিনি লজ্জাবোধ করতেন। বনী ইসরাঈলের কিছু সংখ্যক লোক তাঁকে খুব কষ্ট দিত। তারা বলত, তিনি যে শরীরকে এত বেশী ঢেকে রাখেন, তাঁর একমাত্র কারণ হল, তাঁর শরীরে কোন দোষ আছে। হয়ত শ্বেত রোগ অথবা একশিরা বা অন্য কোন রোগ আছে। আল্লাহ তা’আলা ইচ্ছা করলেন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তারা যে অপবাদ রটিয়েছি তা থেকে তাঁকে মুক্ত করবেন। এরপর একদিন নির্জন স্থানে গিয়ে তিনি একাকী হলেন এবং তাঁর পরণের কাপর খুলে একটি পাথরের উপর রাখলেন, তারপর গোসল করলেন, গোসল সেরে যখনই তিনি কাপর নেয়ার জন্য সেদিকে এগিয়ে গেলেন তাঁর কাপড়সহ পাথরটি ছুটে চলল। এরপর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাঠিটি হাতে নিয়ে পাথরটি পেছনে পেছনে ছুঠলেন। তিনি বলতে লাগলেন, আমার কাপড় হে পাথর! হে পাথর! পরিশেষে পাথরটি বনী ইসরাঈলের একটি জন সমাবেশে গিয়ে পৌছল। তখন তারা মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখল যে তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সৌন্দর্যের পরিপূর্ণ এবং তারা তাঁকে যে অপবাদ দিয়েছিল সে সব দোষ থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত। আর পাথরটি থামল, তখন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাপড় নিয়ে পরিধান করলেন এবং তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে পাথরটিকে জোরে জোরে আঘাত করতে লাগলেন। আল্লাহর কসম! এতে পাথরটিতে তিন, চার, কিংবা পাঁচটি আঘাতের দাগ পড়ে গেল। আর এটই হল আল্লাহর এ বাণীর মর্মঃ হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের ন্যায় হয়োনা যারা মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে কষ্ট দিয়েছিল। এরপর আল্লাহ তাঁকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন তা থেকে যা তারা রটনা করেছিল। আর তিনি ছিলেন আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান। (৩৩:৬৯)

হাদিস নং - ৩১৬৬
আবূল ওয়ালিদ (রাঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা কিছু জিনিস (লোকদের মধ্যে) বণ্টন করেন। তখন এক ব্যাক্তি বলল, এতো এমন ধরনের বণ্টন যা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এরপর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি খুব অসন্তূষ্ট হোলেণ, এমনকি তাঁর চেহারায় আমি অসন্তূষ্টিড় ভাব দেখতে পেলাম। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রতি রহম করুন তাঁকে এর চেয়ে অনেক কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তবুও তিনি ধৈর্যধারণ করেছিলেন।

হাদিস নং - ৩১৬৭
ইয়াই্‌য়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সাথে ‘কাবাস’ (পিলু) গাছের পাকা ফল বেছে বেছে নিচ্ছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এর মধ্যে কালোগুলো নেওয়াই তোমাদের উচিৎ। কেননা এগুলোই বেশী সুস্বাদু। সাহাবাগণ বললেন, আপনি কি ছাগল চরিয়েছিলেন? তিনি জাওয়াব দিলেন, প্রত্যেক নাবী ই তা চরিয়েছেন।

হাদিস নং - ৩১৬৮
ইয়াহ্‌ইয়া মূসা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মওতের ফিরিশ্‌তাকে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট তাঁর (জানো কবযের) জন্য পাঠান হয়েছিল। ফিরিশ্‌তা যখন তাঁর নিকট আসলেন, তিনি তাঁর চোখে থাপ্‌পর মারলেন। রখন ফিরিশ্‌তা তাঁর রবের নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন, আপনি এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। আল্লাহ বললেন, তুমি তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বল সে যেন তার একটি হাত একটি গরুর পিঠে রাখে, তার হাত যতগুলো পশম দাকবে তার প্রতিটি পশমের পরিবরতে তাকে এক বছর করে হায়াত দেওয়া হবে। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে রব! তারপর কি হবে? আল্লাহ বললেন, তারপর মৃত্যু। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এখনই হউক (রাবী) আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট আরয করলেন, তাঁকে যেন ‘আরদে মুকাদ্দাস’ বা পবিত্র ভুমিথেকে পাথর নিক্ষেপের দূরত্বের সমান স্থানে পৌছে দেওয়া হয়। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যদি সেখানে থাকতাম তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে রাস্তার পার্শ্বে লাল টিলার নীচে কবরটি দেখিয়ে দিতাম। রাবী আব্দুর রায্‌যাক বলেন, মা’মর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নং - ৩১৬৯
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এলজন মুসলিম আর একজন ইয়াহূদী পরস্পরকে গালি দিল। মুসলিম ব্যাক্তি বললেন, সেই সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মদ –কে সমগ্র জগতের উপর মনোনীত করেছেন। কসম করার তিনি একথাটি বলেছেন। তখন ইয়াহূদী লোকটিও বলল, ঐ সত্তার কসম! যিনি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে সমগ্র জাগতের উপর মনোনীত করেছেন। তখন সেই মুসলিম সাহাবী সে সময় তার হাত উঠিয়ে ইয়াহূদী লোকটিকে একটি চড় মারলেন। তখন সে ইয়াহূদী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর নিকট গেল এবং ঐ ঘটনাটি অবহিত করলো জা তার ও মুসলিম সাহাবীর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমাকে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উপর উপর মর্যাদা দেখাতে যেওনা (কেননা কিয়ামতের দিন) সকল মানুষ বেহুশ হয়ে যাবে। আর আমই সর্বপ্রথম হুশ ফিরে পাব। তখনই আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখব, তিনি আরশের একপাশ ধরে রয়েছেন। আমি জানিনা, যারা বেহুশ হয়েছিল, তিনিও কি তাদের মধ্যে ছিলেন? তারপর আমার আগে তাঁর হুশ এসে গেসে? অথবা তিনি তাদেরই একজন, যাঁদেরকে আল্লাহ বেহুশ হওয়া থেকে বাদ দিয়েছিলেন।

হাদিস নং - ৩১৭০
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মূসা (রূহানী জগতে) তর্ক-বিতর্ক করছিলেন। তখন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলছিলেন, আপনি সেই আদম যে, আপনার ভুল আপনাকে বেহেশত থেকে বের করে দিয়েছিল। আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, আপনি সেই মূসা যে, আপনাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত (নামায/নামাজ) দান এবং বাক্যালাপ দ্বারা সম্মানিত করেছিলেন। তারপরও আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ে দোষারোপ করছেন, জা আমার সৃষ্টির আগেই আমার তাকদীরে নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’বার বলেছেন, এ বিতর্কে আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উপর জয়ী হন।

হাদিস নং - ৩১৭১
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে আসলেন এবং বললেন, আমার নিকট সকল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র উম্মতকে পেশ করা হয়েছিল। তখন আমি এক বিরাট দল দেখতে পেলাম, জা দিগন্ত ঢেকে ফেলেছিল। তখন বলা হল, ইনি হলেন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাওমের সাথে।

হাদিস নং - ৩১৭২
ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু জা‘ফর (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের মধ্যে অনেকেই কামালিয়াত অর্জন করেছেন। কিন্তু মহিলাদের মধ্যে ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া এবং ইমরানের কন্যা মারইয়াম ব্যাতীত আর কেউ কামালিয়াত অর্জনে সক্ষম হয়নি। তবে আয়িশার মর্যাদা সব মহিলার উপর এমন, যেমন সারীদের (গোশতের ঝোলে ভিজা রুটির) মর্যাদা সর্ব প্রকার খাদ্যের উপর।

হাদিস নং - ৩১৭৩
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) এবং আবূ নু‘আঈম (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে যে, আমি (মুহাম্মদ )ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উত্তম। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) বাড়িয়ে বললেন, ইউনুস ইবনু মাত্তা।

হাদিস নং - ৩১৭৪
হাফস ইবনু উমর (রহঃ) ইবনুুে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন বান্দার জন্য এমন কথা বলা শোভনীয় নয় যে, নিশ্চয়ই আমি (মুহাম্মদ) ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (ইউনুসকে) তাঁর পিতার দিকে সম্পর্কিত করেছেন।

হাদিস নং - ৩১৭৫
ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক ইয়াহূদী তার কিছু দ্রব্য সামগ্রী বিক্রির জন্য পেশ করছিল, তার বিনিময়ে তাঁকে এমন কিছু দেওয়া হল যা সে পছন্দ করল না। তখন সে বললো, না! সেই সত্তার কসম, যে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন। এ কথাটি একজন আনসারী (মুসলিম) শুনলেন, তুমি বলছো, সেই সত্তার কসম! যিনি মূসাকে মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন অথচ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে বিদ্যমান। তখন সে ইয়াহূদী লোকটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর নিকট গেলো এবং বললো, হে আবূল কাসিম। নিশ্চয়ই আমার জন্য নিরাপত্তা এবং আহাদ রয়েছে অর্থাৎ আমি একজন যিম্মি। অতএব অমুক ব্যাক্তির কি হল, কি কারণে সে আমার মুখে চড় মারলো? তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, কেন তুমি তার মুখে চড় মারলে? আনসারী ব্যাক্তি ঘটনাটি বর্ণনা করলো। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। এমনকি তার চেহারায় টা প্রকাশ পেল। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণের মধ্যে কাউকে কারো উপর (অন্যকে হেয় করে) মর্যাদা দান করো না। কেননা কিয়ামতের দিন যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন আল্লাহ যাকে চাইবেন সে ব্যতিত আসমান ও যমীনের বাকী সবাই বেহুশ হয়ে যাবে। তারপর দ্বিতীয়বার তাতে ফুঁক দেওয়া হবে। তখন সর্বপ্রথম আমাকেই উঠানো হবে। তখনই আমি দেখতে পাব মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরশ ধরে রয়েছেন। আমি জানিনা, তূর পর্বতের ঘটনার দিন তিনি যে বেহুশ হয়েছিলেন, এটা কি তারই বিনিময়, না আমারই আগে তাঁকে উঠানো হয়েছে? আর আমি এ কথাও বলি না যে কোন ব্যাক্তি ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান।

হাদিস নং - ৩১৭৬
আবূল ওয়ালিদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন বান্দার পক্ষেই এ কথা বলা শোভনীয় নয় যে, আমি (মুহাম্মদ) ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম।

হাদিস নং - ৩১৭৭
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পক্ষে কুরআন (যাবুর) তিলাওয়াত সহজ করে দেয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর যানবাহনের পশুর উপর গদি বাঁধার আদেশ করতেন, তখন তার উপর গদি বাধা হতো। তারপর তাঁর যানবাহনের পশুটির উপর গদি বাঁধার পূর্বেই তিনি যাবুর তিলাওয়াত করে শেষ করে ফেলতেন। তিনি নিজ হাতে উপার্জন করেই খেতেন। মূসা ইবনু উকবা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন।

হাদিস নং - ৩১৭৮
ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জানোান হল যে, আমি বলছি, আল্লাহর কসম! আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন অবশ্যই আমি বিরামহীনভাবে দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবো এবং রাতে ইবাদতে রত থাকবো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তুমই কি বলছো, ‘আল্লাহর কসম, আমি যতদিন বাঁচবো, ততদিন দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবো এবং রাতে ইবাদাত রত থাকবো। আমি আরয করলাম, আমই তা বলছি। তিনি বললেন, সেই শক্তি তোমার নেই। কাজেই সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)ও পালন কর, ইফ্‌তারও কর অর্থাৎ বিরতি দাও। রাতে ইবাদাতও কর এবং ঘুম যাও। আর প্রতি মাসে তিন দিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর। কেননা প্রতিটি নেক কাজের কমপক্ষে দশগুণ সাওয়াব পাওয়া যায় আর এটা সারা বছর সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করার সমান। তখন আরয করলাম। ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি এর চেয়েও বেশী সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করার ক্ষমতা রাখি। তখন তিনি বললেন, তাহলে তুমি একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর আর দু’দিন ইফ্‌তার কর অর্থাৎ বিরতি দাও। তখন আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি এর চেয়েও অধিক পালন করার শক্তি রাখি। তখন তিনি বললেন, তাহলে একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর আর একদিন বিরতি দাও। এটা দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনের পদ্ধতি। আর এটাই সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনের উত্তম পদ্ধতি। আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি এর চেয়েও বেশী শক্তি রাখি। তিনি বললেন, এর চেয়ে অধিক কিছু নেই।

হাদিস নং - ৩১৭৯
খাল্লাদা ইবনু ইয়াহ্‌ইয়া (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি অবহিত হইনি যে, তুমি রাত ভর ইবাদাত কর এবং দিন ভর সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর! আমি বল্ললাম, হাঁ। (খবর সত্য) তিনি বললেন, যদি তুমি এরূপ কর; তবে তোমার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাবে এবং দেহ অবসন্ন হয়ে যাবে। কাজেই প্রতি মাসে তিন দিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর। তাহলে তা সারা বছরের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) র সমতুল্য হয়ে যাবে। আমি বললাম, আমি আমার মধ্যে আরো বেশী পাই। মিসআর (রহঃ) বলেন, এখানে শক্তি বুঝানো হয়েছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পদ্ধতিতে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর। তিনি একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন আর একদিন বিরত থাকতেন। আর শত্রুর সম্মুখীন হলে তিনি কখনও পলায়ন করতেন না।

হাদিস নং - ৩১৮০
কুতায়বা ইব্ব, ন সাঈদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) হল দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পদ্ধতিতে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করা। তিনি একদিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন আর একদিন বিরতি দিতেন। আল্লাহর কাছে সর্বাধিক পছন্দনীয় সালাত (নামায/নামাজ) হল দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পদ্ধতিতে (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা। তিনি রাতের প্রথমার্ধে ঘুমাতেন, রাতের এক ত্তৃতীয়াংশ দাঁড়িয়ে (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন আর বাকী ষষ্টাংশ আবার ঘুমাতেন।

হাদিস নং - ৩১৮১
মুহাম্মদ (রহঃ) মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমরা কি সূরা ছোয়াদ পাঠ করে সিজদা করবো? তখন তিনি থেকে পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন। এরপর ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ মহান ব্যাক্তিদের একজন, যাঁদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। (৬:৮৪-৯০)

হাদিস নং - ৩১৮২
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরা ছোয়াদের সিজ্‌দা অত্যাবশ্যকীয় নয়। কিন্তু আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে এ সুরায় সিজ্‌দা করতে দেখেছি।

হাদিস নং - ৩১৮৩
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি অবাধ্য জ্বিন এক রাতে আমার সালাত (নামায/নামাজ) বিঘ্ন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমার নিকট আসল। আল্লাহ আমাকে তাঁর উপর ক্ষমতা প্রদান করলেন। আমি তাঁকে পাকড়াও করলাম এবং মসজিদের একটি খুটির সঙ্গে বেঁধে রাখার মনস্থ করলাম, যাতে তোমরা সবাই সচক্ষে তাঁকে দেখতে পাও। তখনই আমার ভাই সুলায়মান আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দু’আটি আমার মনে পড়লো। হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুণ এবং আমাকে দান করুন এবং আমাকে দান করুন এমন এক রাজ্য যার অধিকারী আমার পরে আমি ছাড়া কেউ না হয়। (৩৮:৩৫) এরপর আমি জ্বিনটিকে ব্যর্থ এবং অপমানিত করে ছেড়ে দিলাম। জ্বীন অথবা ইনসানের অত্যন্ত পিশাচ ব্যাক্তিকে ইফ্‌রীত বলা হয়। ইফ্‌রীত ও ইফ্‌রীয়াতুন যিব্‌নীয়াতুন-এর ন্যায় এক বচন, যার বহু বচন যাবানিয়াতুন।

হাদিস নং - ৩১৮৪
খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সুলায়মান ইবনু দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আজ রাতে আমি আমার সত্তর জন্য স্ত্রীর নিকট যাব। প্রত্যেক স্ত্রী একজন করে আশারোহী যোদ্ধা গর্ভধারণ করবে। এরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। তখন তাঁর সাথী বললেন, ইন্‌শা আল্লাহ (বলুন)। কিন্তু তিনি মুখে তা বলেন নি। এরপর একজন স্ত্রী ব্যতীত কেউ গর্ভধারণ করলেন, না। সে যাও এক (পুত্র) সন্তান প্রসব করলেন। তাও তার এক অঙ্গ ছিল না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি যদি ‘ইন্‌শা আল্লাহ’ মুখে বলতেন, তা হলে (সবগুলো সন্তানই জন্ম নিত এবং) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতো। শু‘আয়ব এবং আবূ যিনাদ (রহঃ) এখানে নব্বই জন্য স্ত্রীর কথা উল্লেখ করেছেন আর এটাই সঠিক বর্ণনা।

হাদিস নং - ৩১৮৫
উমর ইবনু হাফস (রহঃ) আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বললেন, মসজিদে হারাম। আমি বললাম, এরপর কোন্‌টি? তিনি বললেন, মসজিদে আক্‌সা। আমি বললাম, এ দু’য়ের নির্মাণের মাঝখানে কত ব্যবধান? তিনি বললেন, চল্লিশ (বছরের) (তারপর তিনি বললেন) যেখানেই তোমার সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হবে, সেখানেই তুমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নিবে। কেননা, পৃথিবীটাই তোমার জন্য মাসজিদ।
এ চল্লিশ বছরের ব্যবধান মূল ভিত্তি স্থাপনে; পুনর্নির্মাণে নয়। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সুলায়মান আলাইহি ওয়া সাল্লাম যথাক্রমে মসজিদে হারাম ও মসজিদে আকসার পুনর্নির্মাণ করেছেন মাত্র। মূল ভিত্তি স্থাপন করেছেন, আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

হাদিস নং - ৩১৮৬
আবূল ইয়ামান (রাঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে বলতে শুনেছেন যে, আমার ও অন্যান্য মানুষের উপমা হল এমন যেমন কোন এক ব্যাক্তি আগুন জ্বালাল এবং তাতে পতঙ্গ এবং কীটগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে পড়তে লাগল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দু’জন মহিলা ছিল। তাদের সঙ্গে দু’টি সন্তানও ছিল। হঠাৎ একটি বাঘ এসে তাদের একজনের ছেলে নিয়ে গেল। সাথের একজন মহিলা বললো, ‘‘না, বাঘে তোমার ছেলেটি নিয়ে গেছে। ’’ তারপর উভয় মহিলাই দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট এ বিরোধ মীমাংসার জন্য বিচারপ্রার্থী হল। তখন তিনি ছেলেটির বিষয়ে বয়স্কা মহিলাটির পক্ষে রায় দিলেন। তারপর তারা উভয়ে (বিচারালয় থেকে) বেরিয়ে দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পুত্র সুলায়মান আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছ দিয়ে যেতে লাগল এবং তারা উভয়ে তাঁকে ঘটনাটি জানালেন। তখন তিনি লোকদেরকে বললেন, তোমরা আমার কাছে ছোরা আনয়ন কর। আমি ছেলেটিকে দু’ টুক্‌রা করে তাদের উভয়ের মধ্যে ভাগ করে দেই। এ কথা শুনে অল্প বয়স্কা মহিলাটি বলে উঠলো, তা করবেন না, আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন। ছেলেটি তারই। (এটা আমি মেনে নিচ্ছি।)তখন তিনি ছেলেটির ব্যাপারে অল্প বয়স্কা মহিলাটির পক্ষেই রায় দিলেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! ছোরা অর্থে শব্দটি আমি ঐ দিনই শুনেছি। আর না হয় আমরা তো ছোরাকে ই বলতাম।

হাদিস নং - ৩১৮৭
আবূল ওয়ালিদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াতে কারীমা নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদেরকে যারা ঈমানকে যূল্‌মের দ্বারা কলুষিত করে নি। (৬:৮২)
তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সাহাবাগণ বললেন, আমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে, নিজের ঈমানকে যূল্‌মের দ্বারা কলুষিত করেনি? তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ আল্লাহর সাথে শরীক করো না। কেননা শির্‌ক হচ্ছে এক মহা যূল্‌ম। (৩১:১৮)

হাদিস নং - ৩১৮৮
ইসহাক (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি লেন, যখন এ আয়াতে কারীমা নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যূল্‌মের দ্বারা কলুষিত করেনি। তখন তা মুসলমানদের পক্ষে কঠিন হয়ে গেল। তারা আরয করলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে নিজের উপর যূল্‌ম করেনি? তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখানে অর্থ তা নয় বরং এখানে যূল্‌মের অর্থ হল শির্‌ক। তোমরা কি কুরআনে শুননি? লুকমান তাঁর ছেলেকে উপদেশ প্রধানকালে কি বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, ‘‘হে আমার প্রিয় ছেলে! তুমি আল্লাহর সাথে শির্‌ক করো না। কেননা, নিশ্চয়ই শির্‌ক এক মহা যুল্‌ম।

হাদিস নং - ৩১৮৯
হুদাবা ইবনু খালিদ (রহঃ) মালিক ইবনু সা‘সাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণের কাছে মিরাজের রাত্রি সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, অনন্তর তিনি (জিবরাঈল) আমাকে নিয়ে উপরে চল্লেন, এমনকি দ্বিতীয় আকাশে এসে পৌছলেন এবং দরজা খুলতে বললেন, জিজ্ঞাসা করা হল কে? উত্তর দিলেন, আমি জিবরাঈল। প্রশ্ন করা হল। আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ পৌছলাম তখন সেখানে ইয়াহ্‌ইয়া এবং ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারা উভয়ে খালাত ভাই ছিলেন। জিব্রাইল বললেন, এরা হলেন, ইয়াহইয়া এবং ঈসা। তাদেরকে সালাম করুন। তখন আমি সালাম দিলাম। তাঁরাও সালামের জবাব দিলেন। তারপর তাঁরা বললেন, নেক ভাই এবং নেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র প্রতি মারহাবা।

হাদিস নং - ৩১৯০
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে বলতে শুনেছি, এমন কোন আদম সন্তান নেই, যাকে জন্মের সময় শয়তান স্পর্শ করে না। জন্মের সময় শয়তানের স্পর্শের কারণেই সে চিৎকার করে কাঁধে। তবে মারিয়াম এবং তাঁর ছেলে (ঈসা) আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ব্যতিক্রম। তারপর আবূ হুরায়রা বলেন, (এর কারণ হল মারিয়ামের মায়ের এ দু’আ ‘‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট তাঁর এবং তাঁর বংশধরদের জন্য বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

হাদিস নং - ৩১৯১
আহমাদ ইবনু আবূ রাজা‘ (রহঃ) আলী (রাঃ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, (ঐ সময়ের) সমগ্র নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারিয়াম হলেন সর্বোত্তম আর (এ সময়ে) নারীদের সেরা হলেন খাদীজা (রাঃ)।

হাদিস নং - ৩১৯২
আদম (রহঃ) আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল নারির উপর আয়িশার মর্যাদা এমন, যেমন সকল খাদ্য সামগ্রির উপর সারীদের মর্যাদা। পুরুষদের মধ্যে অনেকেই কামালিয়াত অরজন করেছেন। (অতিত যুগে) কিন্তূ নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারিয়াম এবং ফিরাউনের স্ত্রী আছিয়া ব্যতিত কেউ কামালিয়াত অর্জন করতে পারেনি। ইবনু ওহাব (রাঃ) আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি কুরাইশ বংশীয় নারীরা উঠে আরোহণকারী সকল নারীদের তুলনায় উত্তম। এরা শিশু সন্তানের উপর অধিক স্নেহময়ী হয়ে থাকে আর স্বামীর সম্পদের প্রতি খুব যত্নবান হয়ে থাকে। তারপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, ইমরানের কন্যা মারিয়ামের কখনও উঠে আরোহণ করেন নি। ইবনু আখী যুহরী ও ইসহাক কালবী (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় ইউনুস (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।

No comments:

Post a Comment

Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻