বুখারী শরীফ সব খণ্ড
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
অধ্যায় - ৫০ - আম্বিয়া কিরাম (আ.) - ২
( হাদিস নং - ৩১৯৩-৩২৯৪ = মোট ১০১ টি হাদিস)
হাদিস নং - ৩১৯৩
সাদাকা ইবনু ফায্ল (রহঃ) উবাদা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি সাক্ষ্য দিল, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই আর মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর নিশ্চয়ই ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল) তাঁর সেই কালিমা যা তিনি মারিয়ামকে পৌছিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ মাত্র, আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য আল্লাহ তাকে জান্নাত প্রবেশ করাবেন, তার আমল যাই হোক না কেন। ওয়লীদ (রহঃ) জুনাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে জুনাদা বাড়িয়ে বলেছেন যে, জান্নাতের আট দরজায় যেখানে দিয়েই সে চাইবে। (আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। )
হাদিস নং - ৩১৯৪
মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন জন শিশু ব্যতিত আর কেউ দোলনায় থেকে কথা বলেনি। বনী ইসরাঈলের এক ব্যাক্তি যাকে ‘জুরাইজ’ বলে ডাকা হতো। একদা ইবাদাতে রত থাকা অবস্থায় তার মা এসে তাকে ডাকল। সে ভাবল আমি কি তার ডাকে সারা দেব, না সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে থাকব। (জবাব না পেয়ে) তার মা বলল, ইয়া আল্লাহ! ব্যভিচারিণীর চেহারা না দেখা পর্যন্ত তুমি তাকে মৃত্যু দিও না। জুরায়জ তার ইবাদাত খানায় থাকত। একবার তার কাছে একটি মহিলা আসল। সে (অসৎ উদ্দেশ্যে সাধনের জন্য) তার সাথে কথা বলল। কিন্তু জুরায়জ তা অস্বীকার করল। তারপর মহিলাটি একজন রাখালের নিকট গেল এবং তাকে দিয়ে মনোবাসনা পূরণ করল। পরে সে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করল। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল। এটি কার থেকে? স্ত্রী লোকটি বলল, জুরাইজ থেকে। লোকেরা তার কাছে আসল এবং তার ইবাদাত খানা ভেঙ্গে দিল। আর তাকে নীচে নামিয়ে আনল ও তাকে গালি গালাজ করল। তখন জুরাইজ উযূ (ওজু/অজু/অযু) সেরে ইবাদাত করল। এরপর নবজাত শিশুটির নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করল। হে শিশু! তোমার পিতা কে? সে জবাব দিল সেই রাখাল। তারা (বনী ইসরাঈলেরা) বলল, আমরা আপনার ইবাদতখানাটি সোনা দিয়ে তৈরি করে দিচ্ছি। সে বুলল, না। তবে মাটি দিয়ে (করতে পার)। বনী ইসরাঈলের একজন মহিলা তার শিশুকে দুধ পান করাচ্ছিল। তার কাছ দিয়ে দিয়ে একজন সুদর্শন পুরুষ আরোহী চলে গেল। মহিলাটি দু‘আ করল, ইয়া আল্লাহ! আমার ছেলেটিকে তার মত বানাও। শিশুটি তখনই তার মায়ের স্তন ছেড়ে দিল। এবং আরোহীটির দিকে মুখ ফিরালো। আর বলল, ইয়া আল্লাহ! আমাকে তার মত করনা। এরপর মুখ ফিরিয়ে দুধ পান করতে লাগল। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে দেখতে পাচ্ছি তিনি আঙ্গুল চুষছেন। এরপর সেই মহিলাটির পাশ দিয়ে একটি দাসী চলে গেল। মহিলাটি বলল, ইয়া আল্লাহ! আমার শিশুকে এর মত করো না। শিশুটি তৎক্ষনাৎ তার মায়ের দুধ ছেড়ে দিল। আর বলল, ইয়া আল্লাহ! আমাকে তার মত কর। তার মা জিজ্ঞাসা করল, তা কেন? শিশুটি জবাব দিল, সেই আরোহীটি ছিল যালিমদের একজন। আর এ দাসীটি লোকে বলছে তুমি চুরি করেছ, যিনা করেছ। অথচ সে কিছুই করেনি।
হাদিস নং - ৩১৯৫
ইব্রাহীম ইবনু মূসা অ মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মিরাজ রজনীতি আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দেখা পেয়েছি। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আকৃতি বর্ণনা করেছেন। মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন দীর্ঘদেহী, মাথায় কোকড়ানো চুলবিশিষ্ট, যেন শানুআ গোত্রের একজন লোক। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দেখা পেয়েছি। এরপর তিনি তাঁর আকৃতি বর্ণনা করে বলেছেন, তিনি হলেন মাঝারি গড়নের গৌর বর্ণবিশিষ্ট, যেন তিনি এই মাত্র হাম্মামখানা হত বেরিয়ে এসেছেন। আর আমি ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কেও দেখেছি। তাঁর সন্তানদের মধ্যে আকৃতিতে আমই তার বেশী সা’দৃশ্যপূর্ণ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারপর আমার সামনে দু’টি পেয়ালা আনা হল। একটিতে দুধ, অপরটিতে শরাব। আমাকে বলা হল, আপনি যেটি ইচ্ছা গ্রহণ করতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করলাম এবং তা পান করলাম। তখন আমাকে বলা হল, আপনি ফিত্রাত বা স্বভাবিকেই গ্রহণ করে নিয়েছেন। দেখুন! আপনি যদি শরাব গ্রহণ করতেন, তাহলে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।
হাদিস নং - ৩১৯৬
মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মিরাজের রাতে) আমি ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম , মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখেছি। ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম গৌর বর্ণ, সোজা চুল এবং প্রশস্ত বক্ষবিশিষ্ট লোক ছিলেন, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাআমি রং বিশিষ্ট ছিলেন, তাঁর দেহ ছিল সুঠাম এবং মাথার চুল ছিল কোকড়ানো যেন ‘যুত’ গোত্রের একজন লোক।
হাদিস নং - ৩১৯৭
ইব্রাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনের সামনে মাসীহ দাজ্জালের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, আল্লাহ্ ট্যারা নন। সাবধান! মাসীহ দাজ্জালের ডান চোখ ট্যারা। তার চোখ যেন ফুলে যাওয়া আঙ্গুরের মত। আমি এক রাতে স্বপ্নে নিজেকে কাবার কাছে দেখলাম। হঠাৎ সেখানে বাদামী রং এর এক ব্যাক্তিকে দেখলাম। তোমরা যেমন সুন্দর বাদামী রঙের লোক দেখে থাক তার থেকেও বেশী সুন্দর ছিলেন তিনি। তাঁর মাথার সোজা চুল, তার দু’কাঁধ পর্যন্ত ঝূলছিল। তার মাথা থেকে পানি ফোটা ফোটা করে পড়ছিল। তিনি দু’জন লোকের কাঁধে হাত রেখে কা’বা শরীফ তাওয়াফ করছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? তারা জবাব দিলেন, ইনি হলেন, মসীহ ইবনু মারিয়াম। তারপর তাঁর পিছনে আর একজন লোককে দেখলাম। তাঁর মাথার চুল ছিল বেশ কোঁকড়ানো, ডান চোখ ট্যারা, আকৃতিতে সে আমার দেখা মত ইবনু কাতানের অধিক সা’দৃশ্যপূর্ণ। সে একজন লোকের দু’কাঁধে ভর করে কাবার চারদিকে ঘুরছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম , এ লোকটি কে? তারা বললেন, এ হল মাসীহ দাজ্জাল।
হাদিস নং - ৩১৯৮
আহ্মদ ইবনু মুহাম্মদ মাক্কী (রহঃ) সালিম (রাঃ)-এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম রক্তিম বর্ণের ছিলেন। বরং বলেছেন, একদা আমি স্বপ্নে কা’বা ঘর তাইয়াফ করছিলাম। হঠাৎ সোজা চুল ও বাদামী রং বিশিষ্ট একজন লোক দেখলাম। তিনি দু’জন লোকের মাঝখানে চলছেন। তাঁর মাথার পানি ঝরে পড়ছে অথবা বলেছেন, তার মাথা থেকে পানি বেয়ে পড়ছে। আমি বললাম, ইনি কে? তারা বললেন, ইনি মারিয়ামের পুত্র। তখন আমি এদিক সেদিক তাকালাম। হঠাৎ দেখলাম, এক ব্যাক্তি তার গায়ের রং লালবর্ণ, খুব মোটা, মাথার চুল কোকড়ানো এবং তার ডান চোখ ট্যারা। তার চোখ যেন ফুলা আঙ্গুরের ন্যায়। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ লোকটি কে? তারা বললেন, এ হল মানুষের মধ্যে ইবনু কাতানের সাথে তার অধিক সা’দৃশ্য রয়েছ। যুহরী (রহঃ) তার বর্ণনায় বলেন, ইবনু কাতান খুযাআ গোত্রের লোক, সে জাহেলী যুগেই মারা গেছে।
হাদিস নং - ৩১৯৯
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে বলতে শুনেছি, আমি মারিয়ামের পুত্র ঈসার বেশী নিকটতম। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণ পরস্পর আল্লাতী ভাই অর্থাৎ দ্বীনের মূল বিষয়ে এক এবং বিধানে বিভিন্ন। আমার ও তার (ঈসার) মাঝখানে কোন নাবী নেই।
হাদিস নং - ৩২০০
মুহাম্মদ ইবনু সিনান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি দুনিয়া ও আখিরাতে ঈসা ইবনু মারিয়ামের সবচেয়ে নিকটতম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণ একে অন্যের আল্লাতী ভাই। তাঁদের মা ভিন্ন ভিন্ন, অর্থাৎ তাদের বিধান ভিন্ন। (কিন্তু তাদের মূল দ্বীন এক (তাওহিদ)। ইব্রাহীম ইবনু তাহমান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।
হাদিস নং - ৩২০১
আবদুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যাক্তিকে চুরি করতে দেখলেন, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি চুরি করেছ? সে বলল, কখনও নয়। সেই সত্তার কসম, যিনি ব্যাতীত আর কোন ইলাহ নেই। তখন ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি আর আমি আমার দু’নয়নকে বাহ্যত সমর্থন করলাম না।
হাদিস নং - ৩২০২
হুমাইদী (রহঃ) ইব্ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি উমর (রাঃ)- কে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে বলতে শুনেছি, তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে অতিরঞ্জিত করো না, যেমন ঈসা ইব্ন মারিয়াম আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে খৃষ্টানরা অতিরঞ্জিত করেছিল। আমি তাঁর (আল্লাহর) বান্দা, বরং তোমরা আমার সম্পর্কে বলবে, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
হাদিস নং - ৩২০৩
মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) আবূ মূসা মাশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন লোক তার দাসীকে আদব-কায়দা শিখায় এবং তা ভালভাবে শিখায় এবং তাকে দ্বীন শিখায় আর তা উত্তমভাবে শিখায় তারপর তাদের আযাদ করে দেয় অতঃপর তাকে বিয়ে করে তবে সে দু’টি করে সওয়াব পাবে। আর যদি কেউ ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রতি ঈমান আনয়ন করে তারপর আমার প্রতিও ঈমান আনে, তার জন্যও দু’টি করে সওয়াব রয়েছে। আর গোলাম যদি তার প্রতিপালককে ভয় করে এবং তার মনিবদেরকে মেনে চলে তার জন্যও দু’টি করে সওয়াব রয়েছে।
হাদিস নং - ৩২০৪
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা হাশরের মাঠে খালি-পা, খালি-গা এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত হবে। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ যেভাবে আমি প্রথবার সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করবো। এটা আমার ওয়াদা। আমি তা অবশ্যই পুর্ণ করব। (২১ : ১০৪) এরপর (হাশরে) সর্বপ্রথম যাকে কাপড় পরানো হবে, তিনি হলেন ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারপর আমার সাহাবীদের কিছু সংখ্যককে ডান দিকে (বেহেশ্তে) এবং কিছু সংখ্যককে বাম দিকে (দোযখে) নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, এরা তো আমার অনুসারী। তখন বলা হবে আপনি তাদের থেকে বিদায় নেয়ার পর তারা মুরতাদ হয়ে গেছে। তখন আমি এমন কথা বলব, যেমন বলেছিল, পুণ্যবান বান্দা ঈসা ইবনু মারিয়াম আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার উক্তিটি হল এ আয়াতঃ আর আমি যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি তাদের উপর সাক্ষী ছিলাম। এরপর আপনি যখন আমকে উঠিয়ে নিলেন তখন আপনই তাদের হেফাযতকারী ছিলেন। আর আপনি তো সবকিছুর উপরই সাক্ষী। যদি আপনি তাদেরকে আযাব দেন, তবে এরা আপনারই বান্দা। আর যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন তবে আপনি নিশ্চয়ই পরাক্রমশীল ও প্রজ্ঞাময়। (৫ : ১১৭) কাবীসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এরা হল ঐ সব মুরতাদ যারা আবূ বক্র (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। তখন আবূ বক্র (রাঃ) তাদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন।
হাদিস নং - ৩২০৫
ইসহাক (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কসম সেই সত্তার, যার হাতে আমার প্রান, অচিরেই তোমাদের মাঝে মারিয়ামের পুত্র ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাসক ও ন্যায় বিচারক হিসেবে অবতরণ করবেন। তিনি ‘ক্রুশ’ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর মেরে ফেলবেন এবং তিনি যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটাবেন। তখন সম্পদের স্রোত বয়ে চলবে। এমনকি কেউ তা গ্রহন করতে চাইবে না। তখন আল্লাহকে একটি সিজ্দা করা সমগ্র দুনিয়া এবং তার মধ্যকার সমস্ত সম্পদ থেকে বেশী মূল্যবান বলে গণ্য হবে। এরপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে এর সমর্থনে এ আয়াতটি পড়তে পারঃ কিতাবীদের মধ্যে প্রত্যেকে তাঁর [ঈসাআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর] মৃত্যুর পূর্বে তাঁকে বিশ্বাস করবেই এবং কিয়ামতের দ্বীন তিনি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবেন।
হাদিস নং - ৩২০৬
ইবনু বুকায়র (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের অবস্থা কেমন (আনন্দের) হবে যখন তোমাদের মাঝে মারিয়াম তনয় ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবতরণ করবেন আর তোমাদের ইমাম তোমাদের মধ্য থেকেই হবে। ১ ১ ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের ইমাম হবেন বটে কিন্তু তিনি কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক শাসনকার্য চালাবেন, ইন্জিল মতে নয়। তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়ে আসবেন। -(আইনী)
হাদিস নং - ৩২০৭
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) উক্বা ইবনু আমর (রাঃ) হুযায়ফা (রাঃ)-কে বললেন, আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন, তা কি আমাদের কাছে বর্ণনা করবেন না? তিনি জবাব দিলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যখন দাজ্জাল বের হবে তখন তার সাথে পানি ও আগুন থাকবে। এরপর মানুষ যাকে আগুনের মতো দেখবে তা হবে আসলে শীতল পানি। আর যাকে মানুষ শীতল পানির ন্যায় দেখবে, তা হবে প্রকৃতপক্ষে দহনকারী আগুন। তখন তোমাদের মধ্যে যে তার দেখা পাবে, সে যেন অবশ্যই তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যাকে সে আগুনের ন্যায় দেখতে পাবে। কেননা, প্রকৃতপক্ষে তা সুস্বাদু শীতল পানি। হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে] বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মাঝে একজন লোক ছিল। তার কাছে ফিরিশ্তা তার জানো কব্য করার জন্য এসেছিলেন। (তার মৃত্যুর পর) তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, তুমি কি কোন ভাল কাজ করেছ? সে জবাব দিল, আমার জানাবেই। তাকে বলা হল, একটু চিন্তা করে দেখ। সে বলল, এ জিনিসটি ব্যতিত আমার আর কিছুই জানানেই যে, দুনিয়াতে আদি মানুষের সাথে ব্যাবসা করতাম। অর্থাৎ ঋণ দিতাম। আর তা আদায়ের জন্য তাদেরকে তাগাদা দিতাম। আদায় না করতে পারলে আমি স্বচ্ছল ব্যাক্তিকে সময় দিতাম আর অভাবী ব্যাক্তিকে ক্ষমা করে দিতাম। তখন আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন। হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এটাও বলতে শুনেছি যে, কোন এক ব্যাক্তির মৃত্যুর সময় এসে হাজির হল। যখন সে জীবন থেকে নিরাশ হয়ে গেল। তখন সে তার পরিজনকে ওসীয়াত করল, আমি যখন মরে যাব, তখন আমার জন্য অনেকগুলো কাঠ একত্র করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিও। (আর আমকে তাতে ফেলে দিও) আগুন যখন আমার গোশত খেয়ে ফেলবে এবং আমার হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে আর আমার হাড়গুলো বেরিয়ে আসবে, তখন তোমরা তা নিয়ে গুড়ো করে ফেলবে। তারপর যেদিন দেখবে খুব হাওয়া বইছে, তখন সেই ছাই গুলোকে উড়িয়ে দেবে। তার পরিজনেরা তাই করল। তারপর আল্লাহ সে সব একত্র করলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কাজ তুমি কেন করলে? সে জবাব দিল, আপনার ভয়ে। তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। উক্বা ইবনু আম্র (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, ঐ ব্যাক্তি ছিল কাফন চোর।
হাদিস নং - ৩২০৮
বিশর ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইন্তেকালের সময় হাজির হল, তখন তিনি আপন চেহারার উপর তাঁর একখানা চাঁদর দিয়ে রাখলেন। এরপর যখন খারাপ লাগল, তখন তাঁর চেহারা মোবারক হতে তা সরিয়ে দিলেন এবং তিনি এ অবস্থায়ই বললেন, ইয়াহূদী ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর লা’নত। তাঁরা তাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে রেখেছে। তাঁরা যা করেছে তা থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের সতর্ক করেছেন।
হাদিস নং - ৩২০৯
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবূ হাযিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি পাঁচ বছর যাবত আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর সহচর্যে ছিলাম। তখন আমি তাঁকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনী ইসরাঈলের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণ তাঁদের উম্মতকে শাসন করতেন। যখন কোন একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করতেন, তখন অন্য একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্থলাভিসিক্ত হতেন। আর আমার পরে কোন নাবী নেই। তবে অনেক খলিফাহ্ হবে। সাহাবাগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! আপনি আমাদের কি নির্দেশ করছেন? তিনি বললেন, তোমরা একের পর এক করে তাদের বায়’আতের হক আদায় করবে। তোমাদের উপর তাদের যে হক রয়েছে তা আদায় করবে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন ঐ সকল বিষয় সম্বন্ধে যে সবের দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা হয়েছিল।
হাদিস নং - ৩২১০
সাঈদ ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের তরীকাহ্ পুরোপুরি অনুসরন করবে, প্রতি বিঘতে বিঘতে এবং প্রতি গজে গজে। এমকি তারা যদি গো সাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। আমরা বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! আপনি কি ইয়াহূদী ও নাসারার কথা বলছেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে আর কার কথা?
হাদিস নং - ৩২১১
ইমরান ইবনু মাইসারা (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁরা (সাহাবাগণ সালাত (নামায/নামাজ)-এর জামা’আতে শরীক হওয়ার জন্য) আগুন জ্বালানো এবং ঘন্টা বাজানোর কথা উল্লেখ করলেন। তখনই তাঁরা ইয়াহূদী ও নাসারার কথা উল্লেখ করলেন। এরপর বিলাল (রাঃ)-কে আযানের শব্দগুলো দু’ দু’ বার করে এবং ইকামতের সব্দগুলো বেজোড় করে বলতে আদেশ দেয়া হল।
হাদিস নং - ৩২১২
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি কোমরে হাত রাখাকে না পছন্দ করতেন। আর বলতেন, ইয়াহূদীরা এরূপ করে। শু’বা (রহঃ) আমাশ (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় সুফিয়ান (রহঃ)-এর অনুসরন করেছেন।
হাদিস নং - ৩২১৩
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যেসব উম্মত অতীত হয়ে গেছে তাদের তুলনায় তোমাদের স্থিতিকাল হল আসরের সালাত (নামায/নামাজ) এবং সূর্য ডুবার মধ্যবর্তী সময় টুকুর সমান। আর তোমাদের ও ইয়াহূদী নাসারাদের দৃষ্টান্ত হল ঐ ব্যাক্তির মতো, যে কয়েকজন লোককে তার কাজে লাগালো এবং জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের মধ্যে কে আছে যে, আমার জন্য দুপুর পর্যন্ত এক এক কিরাতের বিনিময়ে কাজ করবে? তখন ইয়াহূদীরা এক এক কিরাতের বিনিময়ে দুপুর পর্যন্ত কাজ করল। তারপর সে ব্যাক্তি আবার বলল, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, সে দুপুর থেকে আসর সালাত (নামায/নামাজ) পর্যন্ত এক কিরাতের বিনিময়ে আমার কাজটুকু করে দেবে? তখন নাসারারা এক কিরাতের বিনিময়ে দুপুর হতে আসর সালাত (নামায/নামাজ) পর্যন্ত কাজ করল। সে ব্যাক্তি পুনরায় বলল, কে এমন আছে, যে দু’ দু’ কিরাতের বদলায় আসর সালাত (নামায/নামাজ) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমার কাজ করে দেবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, তোমরাই হলে সে সব লোক যারা আসর সালাত (নামায/নামাজ) হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দু’ দু’ কিরাতের বিনিময়ে কাজ করলে। দেখ, তোমাদের পারিশ্রমিক দিগুন। এতে ইয়াহূদী ও নাসারারা অসন্তুষ্ট হয়ে গেল এবং বলল, আমরা কাজ করলাম বেশী আর পারিশ্রমিক পেলাম কম। আল্লাহ বলেন, আমি কি তোমার পাওনা থেকে কিছু যুল্ম বা কম করেছি? তারা উত্তরে বলল, না। তখন আল্লাহ বললেন, এ-ই হল আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে ইচ্ছা, তাক দান করে থাকি।
হাদিস নং - ৩২১৪
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহ অমুক ব্যাক্তিকে ধ্বংস করুক! সে কি জাননা যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ ইয়াহূদীদের ওপর লা’নত করুন। তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল। তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করতে লাগল। জাবির ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদিস নং - ৩২১৫
আবূ আসিম যাহ্হাক ইবনু মাখলাদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার কথা (অন্যদের নিকট) পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়। আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা কর। এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন দোযখকেই তার ঠিকানা নির্ধারিত করে নিল।
হাদিস নং - ৩২১৬
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইয়াহূদী ও নাসারারা (দাঁড়ি ও চুলে) রং লাগায় না বা খেযাব দেয় না। অতএব তোমরা (রং লাগিয়ে বা খেযাব লাগিয়ে) তাদের বিপরীত কাজ কর।
হাদিস নং - ৩২১৭
মুহাম্মদ (রহঃ) হাসান (বসরী) (রহঃ) বলেন, জুনদুব ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বসরার এর মসজিদে আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেন। সে দিন থেকে আমরা না হাদীস ভুলেছি না আশংকা করেছি যে, জুনদুব (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে একজন লোক আঘাত পেয়েছিল তাতে কাতর হয়ে পড়েছিল। এরপর সে একটি ছুরি হাতে নিল এবং তা দিয়ে সে তার হাতটি কেটে ফেলল। ফলে রক্ত আর বন্ধ হল না। শেষ পর্যন্ত সে মারা গেল। মহান আল্লাহ বললেন, আমার বান্দাটি নিজেই প্রান দেয়ার ব্যাপারে আমার চেয়ে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করল (অর্থাৎ সে আত্মহত্যা করল)। কাজেই, আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম।
হাদিস নং - ৩২১৮
আহ্মদ ইবনু ইসহাক ও মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিন জন লোক ছিল। একজন শ্বেতীরোগী, একজন মাথায় টাকওয়ালা আর একজন অন্ধ। মহান আল্লাহ্ তাদেরকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। কাজেই তিনি তাদের কাছে একজন ফিরিশ্তা পাঠালেন। ফিরিশ্তা প্রথমে শ্বেতী রোগীটির নিকট আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে কোন্ জিনিস বেশী প্রিয়? সে জবাব দিল, সুন্দর রং ও সুন্দর চামড়া। কেননা, মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। ফিরিশ্তা তার শরীরের উপর হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে তার রোগ সেরে গেল। তাকে সুন্দর রং এবং সুন্দর চামড়া দান করা হল। তারপর ফিরিশ্তা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ ধরনের সম্পদ তোমার কাছ বেশী প্রিয়? সে জবাব দিল, ‘উট’ অথবা সে বলল ‘গরু’। এ ব্যাপারে বর্ণনাকারীর সন্দেহ রয়েছে যে শ্বেতরোগী না টাকওয়ালা দু’জনের একজন বলেছিল ‘উট’ আর অপরজন বলেছিল ‘গরু’। অতএব তাকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী উটনী দেয়া হল। তখন ফিরিশ্তা বললেন, “এতে তোমার জন্য বরকত হোক। ” বর্ণনাকারী বলেন, ফিরিশ্তা টাকওয়ালার কাছে গেলেন এবং বললেন, তোমার কাছে কি জিনিস পছন্দনীয়? সে বলল, সুন্দর চুল এবং আমার থেকে যেন এ রোগ চলে যায়। মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। বর্ণনাকারী বলেন, ফিরিশ্তা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তৎক্ষণাৎ মাথার টাক চলে গেল। তাকে (তার মাথায়) সুন্দর চুল দেয়া হল। ফিরিশ্তা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্সম্পদ তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল, ‘গরু’। তারপর তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দান করলেন এবং ফিরিশ্তা দু’আ করলেন, এতে তোমাকে বরকত দান করা হোক। তারপর ফিরিশ্তা অন্ধের নিকট আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ জিনিস তোমার কাছে বেশী প্রিয়? সে বলল, আল্লাহ যেন আমার চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি মানুষকে দেখতে পারি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন ফিরিশ্তা তার চোখের উপর হাত বুলিয়ে দিলেন, তৎক্ষনাৎ আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। ফিরিশ্তা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ সম্পদ তোমার কাছে অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল ‘ছাগল’। তখন তিনি তাকে একটি গর্ভবতী ছাগী দিলেন। উপরে উল্লেখিত লোকদের পশুগুলো বাচ্চা দিল। ফলে একজনের উটে ময়দান ভরে গেল, অপরজনের গরুতে মাঠ পূর্ণ হয়ে গেল এবং আর একজনের ছাগলে উপত্যকা ভরে গেল। এরপর ঐ ফিরিশ্তা তাঁর পূর্ববর্তী আকৃতি প্রকৃতি ধারন করে শ্বেতরোগীর কাছে এসে বললেন, আমি একজন নিঃস্ব ব্যাক্তি। আমার সফরের সকল (সম্বল) শেষ হয়ে গেছে। আজ আমার গন্তব্য স্থানে পৌছার আল্লাহ ছাড়া কোন উপায় নেই। আমি তোমার কাছে ঐ সত্তার নামে একটি উট চাচ্ছি, যিনি তোমাকে সুন্দর রং কোমল চামড়া এবং সম্পদ দান করেছেন। আমি এর উপর সওয়ার হয়ে আমার গন্তব্যে পৌছাব। তখন লোকটি তাকে বলল, আমার উপর বহু দায় দায়িত্ব রয়েছে। (কাজেই আমার পক্ষে দান করা সম্ভব নয়) তখন ফিরিশ্তা তাকে বললেন, সম্ভবত আমি তোমাকে চিনি। তুমি কি এক সময় শ্বেতরোগী ছিলে না? মানুষ তোমাকে ঘৃণা করত। তুমি কি ফকীর ছিলে না? এরপর আল্লাহ তা’আলা তোমাকে (প্রচুর সম্পদ) দান করেছেন। তখন সে বলল, আমি তো এ সম্পদ আমার পূর্বপুরুষ থেকে ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছি। ফিরিশ্তা বললেন, তুমি যদি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে সেরূপ করে দিন, যেমন তুমি ছিলে। তারপর ফিরিশ্তা মাথায় টাকওয়ালার কাছে তাঁর সেই বেশভূষা ও আকৃতিতে গেলেন এবং তাকে ঠিক তদ্রূপই বললেন, যেরূপ তিনি শ্বেতী রোগীকে বলেছিলেন। এও তাকে ঠিক অনুরূপ জবাব দিল যেমন জবাব দিয়েছিল শ্বেতীরোগী। তখন ফিরিশ্তা বললেন, যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে তেমন অবস্থায় করে দিন, যেমন তুমি ছিলে। শেষে ফিরিশ্তা অন্ধ লোকটির কাছে তাঁর আকৃতিতে আসলেন এবং বললেন, আমি একজন নিঃস্ব লোক, মূসা ফির মানুষ ; আমার সফরের সকল সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আজ বাড়ি পৌঁছার ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া কোন গতি নেই। তাই আমি তোমার কাছে সেই সত্তার নামে একটি ছাগী প্রার্থনা করছি যিনি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন আর আমি এ ছাগীটি নিয়ে আমার এ সফরে বাড়ি পৌছতে পারব। সে বলল, বাস্তবিকই আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি ফকীর ছিলাম। আল্লাহ আমাকে ধনী করেছেন। এখন তুমি যা চাও নিয়ে যাও। আল্লাহর কসম। আল্লাহর ওয়াস্তে তুমি যা কিছু নিবে, তার জন্য আমি তোমার নিকট কোন প্রশংসাই দাবী করব না। তখন ফিরিশ্তা বললেন, তোমার মাল তুমি রেখে দাও। তোমাদের তিন জনকে পরীক্ষা করা হল মাত্র। আল্লাহ তোমার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তোমার সাথী দু’জনের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন।
হাদিস নং - ৩২১৯
ইসমাঈল ইবনু খালীল (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যুগের লোকেদের মধ্যে তিনজন লোক ছিল। তারা পথ চলছিল। হঠাৎ তাদের বৃষ্টি পেয়ে গেল। তখন তারা এক গুহায় আশ্রয় নিল। অমনি তাদের গুহার মুখ (একটি পাথর চাপা পড়ে) বন্ধ হয়ে গেল। তাদের একজন অন্যদের বলল, বন্ধুগণ আল্লাহর কসম! এখন সত্য ছাড়া কিছুই তোমাদেরকে মুক্ত করতে পারবে না। কাজেই, এখন তোমাদের প্রত্যেকের সেই জিনিসের উসিলায় দু’আ করা উচিত, যে ব্যপারে জানারয়েছে যে, এ কাজটিতে সে সত্যতা বহাল রেখেছে। তখন তাদের একজন (এই বলে) দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমার একজন মযদুর ছিল। সে এক ফারাক১ চাউলের বিনিময়ে আমার কাজ করে দিয়েছিল। পড়ে সে মজুরী না নিয়েই চলে গিয়েছিল। আমি তার এ মজুরী দিয়ে কিছু একটা করতে মনস্থ করলাম এবং কৃষি কাজে লাগালাম। এতে যা উৎপাদন হয়েছে, তার বিনিময়ে আমি একি গাভী কিনলাম। সে মযদুর আমার নিকট এসে তার মজুরী দাবী করল। আমি তাকে বললাম, এ গাভিটির দিকে তাকাও এবং তা হাঁকিয়ে নিয়ে যাও। সে জবাব দিল, আমার তো আপনার কাছে মাত্র এক ‘ফারাক’ চাউলই প্রাপ্য। আমি তাকে বললাম গাভীটি নিয়ে যাও। কেননা (তোমার) সেই এক ‘ফারাক’ দ্বারা যা উৎপাদিত হয়েছে, তারই বিনিময়ে এটি খরীদ করা হয়েছে। তখন সে গাভীটি হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। (হে আল্লাহ) আপনি জানেন যে, তা আমি একমাত্র আপনার ভয়েই করেছি। তাহলে আমাদের (গুহার মুখ) থেকে (এ পাথরটি) সরিয়ে দাও। তখন তাদের কাছ থেকে পাথরটি কিছুটা সরে গেল। তাদের আরেকজন দু’আ করল, হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমার মা-বাপ খুব বৃদ্ধ ছিলেন। আমি প্রতি রাতে তাঁদের জন্য আমার বকরীর দুধ নিয়ে তাঁদের কাছে যেতাম। ঘটনাক্রমে এক রাতে তাঁদের কাছে যেতে আমি দেরী করে ফেললাম। তারপর এমন সময় গেলাম, যখন তাঁরা উভয়ে ঘুমিয়ে পরেছেন। এদিকে আমার পরিবার পরিজন ক্ষুধার কারণে চিৎকার করছিল। আমার মাতা-পিতাকে দুধ পান না করান পর্যন্ত ক্ষুধায় কাতর আমার সন্তানদের দুধ পান করাইনি। কেননা, তাঁদেরকে ঘুম থেকে জাগানটি আমি পছন্দ করি নি। অপরদিকে তাঁদেরকে বাদ দিতেও ভাল লাগেনি। কারণ, এ দুধটুকু পান না করালে তাঁরা উভয়ে দুর্বল হয়ে যাবেন। তাই (দুধ হাতে) আমি (সারারাত) ভোর হয়ে যাওয়া পর্যন্ত (তাদের জাগ্রত হবার) অপেক্ষা করছিলাম। আপনি জানেন যে, একাজ আমি করেছি, একমাত্র আপনার ভয়ে, তাই, আমাদের থেকে (পাথরটি) সরিয়ে দিন। তারপর পাথরটি তাদের থেকে আরেকটু সরে গেল। এমনকি তারা আসমান দেখতে পেল। অপর ব্যাক্তি দু’আ করল, হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমার একটি চাচাত বোন ছিল। সবার চেয়ে সে আমার নিকট অধিক প্রিয় ছিল। আমি তার সাথে (মিলনের) বাসনা করেছিলাম। কিন্তু সে একশ দীনার (স্বর্ণ মুদ্রার) প্রদান ব্যতিত ঐ কাজে রাজি হতে চাইল না। আমি স্বর্ণ মুদ্রা অর্জনের চেষ্টা আরম্ভ করলাম এবং তা অর্জনে সমর্থও হলাম। তারপর কথিত মুদ্রাসহ তার নিকটে উপস্থিত হয়ে তাকে তা অর্পণ করলাম। সেও তার দেও আমার ভোগে অর্পণ করলো। আমি যখন তার দুই পায়ের মাঝে বসে পড়লাম। তখন সে বলল, আল্লাহকে ভয় কর, অন্যায় ও অবৈধ ভাবে পবিত্র ও রক্ষিত আবরুকে বিনষ্ট করো না। আমি তৎক্ষনাৎ সরে পড়লাম এবং স্বর্ণ মুদ্রা ছেড়ে আসলাম। হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমি প্রকৃতই আপনার ভয়ে তা করে ছিলাম। তাই আমাদের রাস্তা প্রশস্ত করে দাও। আল্লাহ (তাদের) সংকট দূরীভূত করলেন। তারা বের হয়ে আসল।
হাদিস নং - ৩২২০
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়ারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, একদা একজন মহিলা তার কোলের শিশুকে স্তন্য পান করাচ্ছিল। এমন সময় একজন অশ্বরোহী তাদের নিকট দিয়ে গমন করে। মহিলাটি বলল, হে আল্লাহ! আমার পুত্রকে এই অশ্বরোহীর মতো না বানিয়ে মৃত্যু দান করো না। তখন কোলের শিশুটি বলে উঠল- হে আল্লাহ! আমাকে ঐ অশ্বরোহীর মত করো না, এই বলে পুনরায় সে স্তন্য পানে মনোনিবেশ করল। তারপর একজন মহিলাকে কতিপয় লোক অপমানজনক ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে করতে টেনে টেনে নিয়ে চলছিল। ঐ মহিলাকে দেখে শিশুরু মাতা বলে উঠল- হে আল্লাহ! আমার পুত্রকে ঐ মহিলার মত করো না। শিশুটি বলে উঠল, হে আল্লাহ! আমাকে ঐ মহিলার ন্যায় কর। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ অশ্বারোহী ব্যাক্তি কাফির ছিল আর ঐ মহিলাকে লক্ষ্য করে লোকজন বলছিল, তুই ব্যাভিচারিণী, সে বলছিল হাস্বি আল্লাহ-আল্লাহ-ই আমার জন্য যথেষ্ট। তারা বলছিল তুই চোর আর সে বলছিল হাস্বি আল্লাহ-আল্লাহ-ই আমার জন্য যথেষ্ট।
হাদিস নং - ৩২২১
সাঈদ ইবনু তালীদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, একদা একটি কুকুর এক কূপের চারদিকে ঘুরছিল এবং প্রবল পিপাসার কারণে সে মৃত্যুর নিকটে পৌছেছিল। তখন বনী ইসরাঈলের ব্যাভিচারিণীদের একজন কুকুরটির অবস্থা লক্ষ্য করল, এবং তার পায়ের মোজার সাহায্যে পানি সংগ্রহ করে কুকুরটিকে পান করাল। এ কাজের প্রতিদানে আল্লাহ তা’আলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
হাদিস নং - ৩২২২
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) হুমায়েদ ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মু’আবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, হাজ্জ (হজ্জ) পালনের বছর মিম্বরে নববীতে উপবিষ্ট অবস্থায় তাঁর দেহরক্ষীদের নিকট হতে মহিলাদের একগুচ্ছ কেশ নিজ হাতে নিয়ে তিনি বলেন যে, হে মদিনাবাসী! কোথায় তোমাদের আলিম সমাজ? আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ জাতীয় পরচুলা ব্যবহার থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, বনী ইসরাঈল তখনই ধ্বংস প্রাপ্ত হয়, যখন তাদের মহিলাগণ এ জাতীয় পরচুলা ব্যবহার করতে আরম্ভ করে।
হাদিস নং - ৩২২৩
আব্দুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে মুহাদ্দাস (ইল্হাম প্রেরণাপ্রাপ্ত) ব্যাক্তিবর্গ ছিলেন। আমার উম্মতের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকে, তবে সে নিশ্চয় উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হবেন।
হাদিস নং - ৩২২৪
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বনী ইসরাঈলের মাঝে এমন এক ব্যাক্তি ছিল, যে নিরানব্বইটি নর হত্যা করেছিল। তারপর (অনুশোচনা করতঃ নাজাতের পথের অনুসন্ধানে বাড়ী থেকে) বের হয়ে একজন পাদরীকে জিজ্ঞাসা করল, আমরা তওবা কবুল হওয়ার আশা আছে কি? পাদরী বলল, না। তখন সে পাদরীকেও হত্যা করল। এরপর পুনরায় সে (লোকদের নিকট) জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল। তখন এক ব্যাক্তি তাকে বলল, তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সে রওয়ানা হোল এবং পথিমধ্যে তার মৃত্যু এসে গেল। সে তার বক্ষদেশ দ্বারা সে স্থানটির দিকে ঘুরে গেল। মৃত্যুর পর রহমত ও আযাবের ফিরিশ্তাগন তার রূহকে নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলেন। আল্লাহ সম্মুখের ভূমিকে (যেখানে সে তওবার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল) আদেশ করলেন, তুমি মৃত ব্যাক্তির নিকটবর্তী হয়ে যাও এবং পশ্চাতে ফেলে আসে স্থানকে (যেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল) আদেশ দিলেন, তুমি দূরে সরে যাও। তারপর ফিরিশ্তাদের উভয় দলকে আদেশ দিলেন- তোমরা এখান থেকে উভয় দিকের দূরত্ব পরিমাপ কর। পরিমাপ করা হল, দেখা গেল যে, মৃত লোকটি সম্মুখের দিকে এক বিঘত অধিক অগ্রসরমান। আল্লাহর রহমতে সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হল।
হাদিস নং - ৩২২৫
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) শেষে লোকজনের দিকে ঘুরে বসলেন এবং বললেন, একদা এক ব্যাক্তি একটি গরু হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে এটির পিঠে চড়ে বসল এবং ওকে প্রহার করতে লাগল। তখন গরুটি বলল, আমাদেরকে এজন্য সৃষ্টি করা হয় নি, আমাদেরকে চাষাবাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। ইহা শুনে লোকজন বলে উঠল, সুবহানাল্লাহ! গরুও কথা বলে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এবং আবূ বকর ও উমর ইহা বিশ্বাস করি অথচ তখন তাঁরা উভয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এবং জনৈক রাখাল একদিন তার ছাগল পালের মাঝে অবস্থান করছিল, এমন সময় একটি চিতা বাঘ পেলে ঢুকে একটি ছাগল নিয়ে গেল। রাখাল বাঘের পিছে ধাওয়া করে ছাগলটি উদ্ধার করল। তখন বাঘটি বলল, তুমি ছাগলটি আমা হতে কেড়ে নিলে বটে তবে ঐদিন কে ছাগল রক্ষা করবে? যেদিন হিংস্র জন্তু ওদের আক্রমন করবে এবং আমি ছাড়া তাদের অন্য কোন রাখাল থাকবে না। লোকেরা বলল, সুবহানাল্লাহ! চিতা বাঘ কথা বলে! নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এবং আবূ বকর ও উমর ইহা বিশ্বাস করি অথচ তখন তাঁরা উভয়েই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৩২২৬
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, [নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগে] এক ব্যাক্তি অপর ব্যাক্তি হতে একখণ্ড জমি ক্রয় করেছিল। ক্রেতা খরীদকৃত জমিতে একটা স্বর্ণ ভর্তি ঘড়া পেল। ক্রেতা বিক্রেতাকে তা ফেরত নিতে অনুরোধ করে বলল, কারন আমি জমি ক্রয় করেছি, স্বর্ণ ক্রয় করিনি। বিক্রেতা বলল, আমি জমি এবং এতে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করে দিয়েছি। তারপর তারা উভয়ই অপর এক ব্যাক্তির নিকট এর মীমাংসা চাইল। তিনি বললেন, তোমাদের কি ছেলে-মেয়ে আছে? একজন বলল, আমার একটি ছেলে আছে। অপর ব্যাক্তি বলল, আমার একটি মেয়ে আছে। মীমাংসাকারী বললেন, তোমার মেয়েকে তার ছেলের সাথে বিবাহ দাও আর প্রাপ্ত স্বর্ণের মধ্যে কিছু তাদের বিবাহে ব্যয় কর এবং অবশিষ্টাংশ তাদেরকে দিয়ে দাও।
হাদিস নং - ৩২২৭
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) সায়াদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) উসামাহ্ ইবনু যায়েদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্লেগ সম্বন্ধে কি শুনেছেন? উসামাহ্ (রাঃ) বলেন, হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্লেগ একটি আযাব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর আপতিত হয়েছিল। অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখান যেয়োনা। আর যখন প্লেগ এমন স্থানে দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছো, তখন সে স্থান থেকে পেলানোর উদ্দেশ্যে বের হয়োনা। আবূ নযর (রহঃ) বলেন, পলায়নের উদ্দেশ্যে এলাকা ত্যাগ করো না। তবে অন্য প্রয়োজনে যেতে পার, তাতে বাঁধা নেই।
হাদিস নং - ৩২২৮
মূসা ইবনু ইস্মাঈল (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্লেগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, উত্তরে তিনি বলেলেন, তা একটি আযাব বিশেষ। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি ইচ্ছা করেন তাদের উপর তা প্রেরন করেন। আর আল্লাহ তা'আলা তাঁর মুমিন বান্দাগনের উপর তা (আযাবের সুরতে) রহমত স্বরূপ করে দিয়েছেন। কোন ব্যাক্তি যখন প্লেগাক্রান্ত স্থানে সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাই হবে। তবে সে একজন শহীদের সমান সওয়াব পাবে।
হাদিস নং - ৩২২৯
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মাখযূম গোত্রের জনৈক চোর মহিলার ঘটনা কুরাইশের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন করে তুললো। এ অবস্থায় তারা (পরস্পর) বলাবলি করতে লাগল এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কে আলাপ আলোচনা (সুপারিশ) করতে পারে? তারা বলল, একমাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ে -এর প্রিয়তম ব্যাক্তি ওসামা ইবনু যায়িদ (রাঃ) এ জটিল ব্যাপারে আলোচনা করার সাহস করতে পারেন। (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীর খেদমতে তাঁকে পাঠান হল তিনি এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করে) ক্ষমা করেও দেয়ার সুপারিশ করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লংঘনকারিণীর সাজা (হাত কাটা) মাওকুফের সুপারিশ করছ? তারপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুত্বায় বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে এ কাজই ধ্বংস করেছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা বিনা সাজায় তাকে ছেড়ে দিত। অপরদিকে যখন কোন সহায়হীন দরিদ্র সাধারন লোক চুরি করত, তখন তার উপর হদ্ (হাতকাটা দণ্ডবিধি) প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মদ -এর কন্যা ফাতিমা চুরি করত (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) তবে আমি তার হাত অবশ্যই কেটে ফেলতাম।
হাদিস নং - ৩২৩০
আদম (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক ব্যাক্তিকে কুরআনের একটি আয়াত (এমনভাবে) পড়তে শুনলাম যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার শ্রুত তিলাওয়াতের বিপরীত। আমি তাকে নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি বললাম তখন তাঁর চেহারায় অসন্তোষের ভাব লক্ষ্য করলাম। তিনি বললেন, তোমরা উভয়ই ভাল ও সুন্দর পড়েছ। তবে তোমার ইখ্তিলাফ (মতবিরোধ) করো না। তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ইখ্তিলাফ ও মতবিরোধের কারণেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।
হাদিস নং - ৩২৩১
উমর ইবনু হাফস (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যেন এখনো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি যখন তিনি একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর অবস্থা বর্ণনা করেছিলেন যে, তাঁর স্বজাতিরা তাঁকে প্রহার করে রক্তাক্ত করে দিয়েছে আর তিনি তাঁর চেহারা থেকে রক্ত মুছে ফেলছেন এবং বলছেন, হে আল্লাহ! আমার জাতিকে ক্ষমা করে দাও, যেহেতু তাঁরা অজ্ঞ।
হাদিস নং - ৩২৩২
আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে এক ব্যাক্তি, আল্লাহ তা'আলা তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল তখন সে তার ছেলেদেরকে একত্রিত করে জিজ্ঞাসা করল, আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম? তারা উত্তর দিল, আপনি আমাদের উত্তম পিতা ছিলেন। সে বলল, আমি জীবনে কখনও কোন নেক আমল করতে পারিনি। আমি যখন মারা যাব তখন তোমরা আমার লাশকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে রেখে দিও এবং প্রচণ্ড ঝড়ের দিনে ঐ ভস্ম বাতাসে উড়িয়ে দিও। সে মারা গেল। ছেলেরা ওসিয়াত অনুযায়ী কাজ করল। আল্লাহ তা'আলা তার ভস্ম একত্রিত (পুনঃজীবিত) করে জিজ্ঞাসা করলেন, এমন অদ্ভুত ওসিয়াত করতে কে তোমাকে উদ্ধুদ্ধ করল? সে জবাব দিল, হে আল্লাহ! তোমার শাস্তির ভয়। ফলে আল্লাহর রহমত তাকে ঢেকে নিল। মু'আয (রহঃ) আবূ সা'য়ীদ (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন।
হাদিস নং - ৩২৩৩
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, এক ব্যাক্তির যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল এবং সে জীবন থেকে নিরাশ হয়ে গেল। তখন সে তার পরিবার পরিজনকে ওসিয়াত করল, যখন আমি মরে যাব তখন তোমরা আমার জন্য অনেক লাকড়ি জমা করে (তার ভিতরে আমাকে রেখে) আগুন জ্বালিয়ে দিও। আগুন যখন আমার গোশত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হাড় পর্যন্ত পৌছে যাবে তখন (অদগ্ধ) হাড়গুলি পিষে ছাই করে নিও। তারপর সেই ছাই গরমের দিন কিংবা প্রচণ্ড বাতাসের দিনে সাগরে ভাসিয়ে দিও। (তারা তাই করল) আল্লাহ তা'আলা (তার ভস্মীভূত দেহ একত্রিত করে) জিজ্ঞাসা করলেন, এমন কেন করলে? সে বলল, আপনার ভয়ে। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। উকবা (রহঃ) বলেন, আর আমিও তাঁকে [হুযায়ফা (রাঃ)-কে] বলতে শুনেছি। মূসা (রহঃ) আবদুল মালিক (রহঃ) থেকে বরনিত, তিনি বলেন, ( )অর্থাৎ প্রচণ্ড বাতাসের দিনে।
হাদিস নং - ৩২৩৪
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পূর্বযূগে কোন এক ব্যাক্তি ছিল, যে মানুষকে ঋণ প্রদান করত। সে তার কর্মচারীকে বলে দিত, তুমি যখন কোন অভাবীর নিকট টাকা আদায় করতে যাও, তখন তাকে মাফ করে দাও। হয়ত আল্লাহ তা'আলা এ কারণে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (মৃত্যুর পর) যখন সে আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাত লাভ করল, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
হাদিস নং - ৩২৩৫
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, পূর্বযূগে এক ব্যাক্তি তার নফসের উপর অনেক যুলুম করেছিল। যখন তার মৃত্যুকাল ঘনিয়ে এলো, সে তার পুত্রদেরকে বলল, মৃত্যুর পর আমার দেহ হাড় মাংসসহ পুড়িয়ে দিয়ে ভস্ম করে নিও এবং (ভস্ম) প্রবল বাতাসে উড়িয়ে দিও। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ আমাকে ধরে ফেলেন, তবে তিনি আমাকে এমন কঠোরতম শাস্তি দেবেন যা অন্য কাউকেও দেননি। যখন তার মৃত্যু হল, তার সাথে সেভাবেই করা হল। অতঃপর আল্লাহ যমিনকে আদেশ করলেন, তোমার মাঝে ঐ ব্যাক্তির যা আছে একত্রিত করে দাও। (যমিন তৎক্ষণাৎ তা করে দিল) এ ব্যাক্তি তখনই (আল্লাহ সম্মুখে) দাঁড়িয়ে গেল। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিসে তোমাকে এ কাজ করতে উদ্ধুদ্ধ করল? সে বলল, হে প্রতিপালক তোমার ভয়ে, অতঃপর তাকে ক্ষমা করা হল। অন্য রাবী ( )স্থলে ( )বলেছেন।
হাদিস নং - ৩২৩৬
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আসমা (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। সে অবস্থায় বিড়ালটি মরে যায়। মহিলা ঐ কারণে জাহান্নামে গেল। কেননা সে বিড়ালটিকে দানা-পানি কিছুই দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে সে নিজ খুশিমত যমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত।
হাদিস নং - ৩২৩৭
আহ্মাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) আবূ মাসউদ উকবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আম্বিয়া-এ-কিরামের সর্বসম্মত উক্তি সমূহ যা মানব জাতি লাভ করেছে, তন্মধ্যে একটি হল, "যখন তোমার লজ্জা-শরম না থাকে, তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার। "
হাদিস নং - ৩২৩৮
আদম (রহঃ) আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথমযুগের আম্বিয়া-এ-কিরামের সর্বসম্মত উক্তি সমূহ যা মানব জাতি লাভ করেছে, তন্মধ্যে একটি হল, "যখন তোমার লজ্জা-শরম না থাকে, তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার। "
হাদিস নং - ৩২৩৯
বিশ্র ইবনু মুহাম্মদ (রাঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক ব্যাক্তি গর্ব ও অহংকারের সহিত লুঙ্গী টাখ্নোর নিচে ঝুলিয়ে পথ চলছিল। এমতাবস্থায় তাকে যমিনে ধ্বসিয়ে দেওয়া হল এবং কিয়ামত পর্যন্ত সে এমনি অবস্থায় নীচের দিকেই যেতে থাকবে। আবদুর রহমান ইবনু খালিদ (রাঃ) ইমাম যুহরী (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় ইউনুস (রাঃ)-এর অনুসরন করেছেন।
হাদিস নং - ৩২৪০
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পৃথিবীতে আমাদের আগমন সর্বশেষ হলেও কিয়ামত দিবসে আমরা অগ্রগামী। কিন্তু, অন্যান্য উম্মতগণকে কিতাব দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আর আমাদিগকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের পরে। তারপর এ (ইবাদতের) যে সম্পর্কে তারা মতবিরোধ করছে। তা ইয়াহূদীদের মনোনীত শনিবার, খৃষ্টানদের মনোনীত রবিবার। প্রত্যেক মুসলমানদের উপর সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন (অর্থাৎ শুক্রবার) গোসল করা কর্তব্য।
হাদিস নং - ৩২৪১
আদম (রহঃ) সাঈদ ইবনু মূসা ইয়্যাবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, যখন মু'আবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) মদিনায় সর্বশেষ আগমন করেন, তখন তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে খুত্বা প্রদানকালে এক গুচ্ছ পরচুলা বের করে বলেন, ইয়াহূদীগণ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যবহার করে বলে আমার ধারনা ছিল না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কর্মকে মিথ্যা প্রতারনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ পরচুলা। গুন্দর (রহঃ) শু'বা (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় আদম (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদিস নং - ৩২৪২
খালিদ ইবনু ইয়াযিদ কাহিলী (রাঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়াতে বর্ণিত ( )অর্থ বড় গোত্র এবং ( )অর্থ ছোট গোত্র।
হাদিস নং - ৩২৪৩
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! মানুষের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান কে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে সর্বাধিক মুত্তাকী, সে-ই অধিক সম্মানিত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এ ধরনের কথা জিজ্ঞাসা করিনি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
হাদিস নং - ৩২৪৪
কায়স ইবনু হাফস (রহঃ) কুলায়েবা ইবনু ওয়ায়েল (রহঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অভিভাবকত্বে পেলিতা আবূ সালমার কন্যা যায়নাবকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি বলুন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মুযার গোত্রের ছিলেন? তিনি বললেন, বনু নযর ইবনু কিনানা উদ্ভূত গোত্র মুযার ছাড়া আর কোন্ গোত্র থেকে হবেন? এবং মুযার গোত্র নাযার ইবনু কিনানা গোত্রের একটি শাখা ছিল।
হাদিস নং - ৩২৪৫
মূসা (রহঃ) কুলায়বা বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অভিভাবকত্বে পেলিত কন্যা বলেনঃ আর আমার ধারনা তিনি হলেন যায়নাব। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কদুর বাওশ, সবুজ মাটির পাত্র মুকাইয়ার ও মুযাফ্ফাত (আলকাতরা লাগানো পাত্র বিশেষ) ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। কুলায়ব বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বলেন ত দেখি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন গোত্রের ছিলেন? তিনি কি মুযার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন? তিনি জবাব দিলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযার গোত্র ছাড়া আর কোন গোত্রের হবেন? আর মুযার নাযর ইবনু কিনানার বংশধর ছিল।
হাদিস নং - ৩২৪৬
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মানুষকে খনির ন্যায় পাবে। জাহিলি যুগের উত্তম ব্যাক্তিগন ইসলাম গ্রহনের পরও তারা উত্তম। যখন তারা দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করে আর তোমরা শাসন ও নেতৃত্বের ব্যপারে লোকদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যাক্তিকে পাবে যে এই ব্যাপারে তাদের মধ্যে সবচাইতে অধিক অনাসক্ত। আর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঐ দু'মুখী ব্যাক্তি যে একদলের সাথে একভাবে কথা বলে অপর দলের সাথে অন্য ভাবে কথা বলে।
হাদিস নং - ৩২৪৭
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খিলাফত ও নেতৃত্বের ব্যাপারে সকলেই কুরাইশের অনুগত থাকবে। মুসলমানগণ তাদের মুসলমানদের এবং কাফেরগণ তাদের কাফেরদের অনুগত। আর মানব সমাজ খনির ন্যয় জাহিলী যুগের উত্তম ব্যাক্তি ইসলাম গ্রহনের পরও উত্তম যদি তারা দ্বীনী জ্ঞানার্জন করে। তোমরা নেতৃত্বে ও শাসনের ব্যপারে ঐ ব্যাক্তিকেই সর্বোত্তম পাবে যে এর প্রতি অনাসক্ত, যে পর্যন্ত না সে তা গ্রহন করে।
হাদিস নং - ৩২৪৮
মূসা’দ্দাদ (রাঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ( )এ আয়াতের প্রসঙ্গে রাবী তাউস (রহঃ) বলেন যে, সায়িদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) বলেন, কুরবা শব্দ দ্বারা মুহাম্মদ -এর নিকট আত্মীয়কে বুঝান হয়েছে। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, কুরাইশের এমন কোন শাখা-গোত্র নেই যাঁদের সাথে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আত্মীয়তা ছিল না। আয়াতখানা তখনই নাযিল হয়। অর্থাৎ তোমরা আমার ও তোমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার প্রতি দৃষ্টি রাখ।
হাদিস নং - ৩২৪৯
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই পূর্বদিক হতে ফিত্না-ফাসা’দর উৎপত্তি হবে। নির্মমতা ও হৃদয়ের কঠোরতা উট ও গরুর লেজের নিকট। পশ্মী তাঁবুর অধিবাসীরা রাবী'আ ও মুযার গোত্রের যারা উট ও গরুরর পিছনে চিৎকার করে (হাঁকায়), তাদের মধ্যেই রয়েছে নির্মমতা ও কঠোরতা।
হাদিস নং - ৩২৫০
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি বলতে শুনেছি যে, গর্ব-অহংকার পশম নির্মিত তাঁবুতে বসবাসকারী যারা (উট-গরু হাঁকাতে চিৎকার করে) তাদের মধ্যে। আর শান্তভাবে বকরী পালকদের মধ্যে রয়েছে। ঈমানের দৃষ্টতা ও হিকমাত ইয়ামানবাসীদের মধ্যে রয়েছে। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ইয়ামান নামকরণ করা হয়েছে। যেহেতু ইহা কা'বা ঘরেরে ডানদিকে (দক্ষিন) অবস্থিত এবং শ্যাম (সিরিয়া) কা'বা ঘরের বাম (উত্তর) দিকে অবস্থিত বিধায় তার শ্যাম নামকরন করা হয়েছে। ( )অর্থ বামদিকে, বাম হাতকে ( )এবং বামদিককে ( )বলা হয়েছে।
হাদিস নং - ৩২৫১
আবূল ইয়ামান (রহঃ) মুহাম্মদ ইবনু জুবায়ের ইবনু মুত্'ঈম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু'আবিয়া (রাঃ)-এর নিকট কুরাইশ প্রতিনিধিদের সহিত তার উপস্থিতিতে সংবাদ পৌছলো যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) বর্ণনা করেন, অচিরেই কাহতান বংশীয় একজন বাদশাহর আবির্ভাব ঘটবে। ইহা শুনে মু'আবীয়া (রাঃ) ক্রোধান্বিত হয়ে খুত্বা দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য হামদ ও সানার পর তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি, তোমাদের মধ্য হতে কিছু সংখ্যক লোক এমন সব কথাবার্তা বলতে শুরু করেছ যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বর্ণিত হয়নি। এরাই মূর্খ, এদের থেকে সাবধান থাক এবং এরূপ কাল্পনিক ধারনা হতে সতর্ক থাক যা-এর পোষণকারীকে বিপথগামী করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি বলতে শুনেছি যে, যতদিন তারা দ্বীন কায়েমে নিয়োজিত থাকবে ততদিন খিলাফত ও শাসন ক্ষমতা কুরাইশদের হাতেই থাকবে। এ বিষয়ে যে-ই তাদের সহিত শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে অধঃমুখে নিক্ষেপ করবেন (অর্থাৎ লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন)।
হাদিস নং - ৩২৫২
আবূল ওলীদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ বিষয় (খিলাফত ও শাসন ক্ষমতা) সর্বদাই কুরাইশদের হাতে ন্যাস্ত থাকবে, যতদিন তাদের দু'জন লোকও বেঁচে থাকবে।
হাদিস নং - ৩২৫৩
আবূ নু'য়াঈম ও ইয়া'কুব ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কুরাইশ, আনসার, জুহায়না, মুযায়না, আসলাম, আশজা’ ও গিফার গোত্রগুলো আমার সাহায্যকারী। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) ব্যতীত তাঁদের সাহায্যকারী আর কেউ নেই।
হাদিস নং - ৩২৫৪
ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) জুবায়র ইবনু মুত'ঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং ‘উসমান ইবনু আফ্ফান (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে হাজির হলাম। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আপনি মুত্তালিবের সন্তানগণকে দান করলেন এবং আমাদেরকে বাদ দিলেন। অথচ তারা ও আমরা আপনার বংশগতভাবে সমপর্যায়ের। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বনূ হাশিম ও বনূ মুত্তালিব এক ও অভিন্ন। লায়স ‘উরওয়া ইবনু জুবায়র থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়র (রাঃ) বনূ যুহরার কতিপয় লোকের সাথে আয়িশা (রাঃ)-এর খেদমতে হাজির হলেন। আয়িশা (রাঃ) তাদের প্রতি অত্যন্ত নমর ও দয়ার্দ্র ছিলেন। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে তাঁদের আত্মীয়তা ছিল।
হাদিস নং - ৩২৫৫
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ‘উর্ওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ)-এর পর আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট সকল লোকদের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় পাত্র ছিলেন এবং তিনি সকল লোকদের মধ্যে আয়িশা (রাঃ)-এর সবচেয়ে বেশী সদাচারী ছিলেন। আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে রিযিক স্বরূপ যা কিছু আস্ত তা জমা না রেখে সা’দকা করে দিতেন। এতে আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, অধিক দান খয়রাত করা থেকে তাকে বারণ করা উচিত। তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমাকে দান করা থেকে বারণ করা হবে? আমি যদি তার সাথে কথা বলি, তাহলে আমাকে কাফ্ফারা দিতে হবে এবং আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তাঁর নিকট কুরাইশের কতিপয় লোক, বিশেষ করে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মাতৃবংশের কিছু লোক দ্বারা সুপারিশ করালেন। তবুও তিনি তাঁর সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মাতৃবংশ বনী যুহরার কতিপয় বিশিষ্ট লোক যাদের মধ্যে আবদুর রহমান ইবনু আস্ওয়াদ এবং মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) ছিলেন তার বললেন, আমরা যখন আয়িশা (রাঃ)-এর গৃহে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করব তখন তুমি পর্দার ভিতরে ঢুকে পড়বে। তিনি তাই করলেন। পরে ইবনু যুবায়র (রাঃ) কাফ্ফারা আদায়ের জন্য তার কাছে দশটি ক্রীতদাস পাঠিয়ে দিলেন। আয়িশা (রাঃ) তাদের সকলকে আযাদ করে দিলেন। এরপর তিনি বরাবর আযাদ করতে থাকলেন। এমনকি তার সংখ্যা চল্লিশে পৌছে। আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমি যখন কোন কাজ করার শপথ করি, তখন আমার সংকল্প থাকে যে আমি যেন সে কাজটা করে দায়িত্ব মুক্ত হয়ে যাই এবং তিনি আরো বলেন, আমি যখন কোন কার্য সম্পাদনের শপথ করি উহা যথাযথ পূরণের ইচ্ছা রাখি।
হাদিস নং - ৩২৫৬
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, উসমান (রাঃ), যায়েদ ইবনু সাবিত (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ), সা'ঈদ ইবনুল ‘আস (রাঃ) আবদুর রহমান ইবনু হারিস (রাঃ)-কে ডেকে পাঠালেন। তাঁর [হাফসা (রাঃ)-এর নিকট] সংরক্ষিত কুরআনকে সমবেত ভাবে লিপিবদ্ধ করার কাজ আরম্ভ করলেন। উসমান (রাঃ) কুরাইশ বংশীয় তিন জনকে বললেন, যদি যায়েদ ইবনু সাবিত (রাঃ) এবং তোমাদের মধ্যে কোন শব্দে (উচ্চারন ও লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে) মতোবিরোধ দেখা দেয় তবে কুরাইশের ভাষায় তা লিপিবদ্ধ করো। যেহেতু কুরআন শরীফ তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তাঁরা তা-ই করলেন।
হাদিস নং - ৩২৫৭
মূসা’দ্দাদ (রাঃ) সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আসলাম গোত্রের কিছু সংখ্যক লোক বাজারের নিকটে প্রতিযোগিতামূলক তীর নিক্ষেপের অনুশীলন করছিলেন। এমন সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং তাদেরকে দেখে বললেন, হে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর বংশধর, তোমরা তীর নিক্ষেপ করো। কেননা তোমাদের পিতাও তীর নিক্ষেপে পারদর্শী ছিলেন এবং আমি তোমাদের অমুক দলের পক্ষে রয়েছি। তখন একটি পক্ষ তাদের হাত গুটিয়ে নিল। বর্ণনাকারী বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেলেন, তোমাদের কি হল? তারা বলল, আপনি অমুক পক্ষে থাকলে আমার কি করে তীর নিক্ষেপ করতে পারি? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তীর নিক্ষেপ করো। আমি তোমাদের উভয় দলের সঙ্গে রয়েছি।
হাদিস নং - ৩২৫৮
আবূ মা'মার (রহঃ) আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন, কোন ব্যাক্তি যদি নিজ পিতা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অন্য কাকে তার পিতা বলে দাবী করে তবে সে আল্লাহর (নিয়ামতের) কুফরী করল এবং যে ব্যাক্তি নিজেকে এমন বংশের সাথে নসবী সম্পৃক্ততার দাবী করল, যে বংশের সাথে তার কোন নসবী সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে তৈরি করে নেয়।
হাদিস নং - ৩২৫৯
আলী ইবনু আইয়াশ (রহঃ) ওয়াসিলা ইবনু আসকা (রাঃ) বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিঃসন্দেহে ইহা বড় মিথ্যা যে, কোন ব্যাক্তি এমন লোককে পিতা বলে দাবী করা যে তার পিতা নয় এবং বাস্তবে যা দেখে নাই তা দেখার দাবি করা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি তা তাঁর প্রতি মিথ্যা আরোপ করা।
হাদিস নং - ৩২৬০
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আবদুল কায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! (আমাদের) এ গোত্রটি রাবী'আ বংশের। আমাদের এবং আপনার মধ্যে মুযার গোত্রের কাফেরগণ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। আমরা আশহুরে হারাম (সম্মানিত চার মাস) ব্যতীত অন্য সময় আপনার খেদমতে হাজির হতে পারি না। খুবই ভাল হত যদি আপনি আমাদিগকে এমন কিছু নির্দেশ দিয়ে দিতেন যা আপনার কাছ থেকে গ্রহন করে আমাদের পিছনে অবস্থিত লোকদেরকে পৌছে দিতাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি কাজের আদেশ এবং চারটি কাজের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করছি। (এক) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, (দুই) সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা, (তিন) যাকাত আদায় করা, (চার) গনীমতের যে মাল তোমরা লাভ করো তার পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য বায়তুল মালে দান করা। আর আমি তোমাদেরকে দুব্বা (কদু পাত্র), হান্তম (সবুজ রং এর ঘড়া), নাকীর (খেজুর বৃক্ষের মূল খোদাই করে তৈরি পাত্র), মাযাফ্ফাত (আলকাতরা লাগানো মাটির পাত্র, এই চারটি পাত্রের) ব্যবহার নিষেধ করছি।
হাদিস নং - ৩২৬২
আবূ নু'আইম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কুরাইশ, আনসার, জুহায়না, মুযায়না, আসলাম, গিফার এবং আশজা’ গোত্রগুলো আমার আপনজন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) ব্যতীত অন্য কেহ তাদের আপনজন নেই।
হাদিস নং - ৩২৬৩
মুহাম্মাদ ইবনু গুরায়র যুহ্রী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর) (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উপবিষ্ট অবস্থায় বলেন, গিফার গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করুন, আসলাম গোত্র, আল্লাহ তাদেরকে নিরাপদে রাখুন আর ‘উসাইয়া গোত্র, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) -এর নাফরমানী করেছে।
হাদিস নং - ৩২৬৪
মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আসলাম গোত্র, আল্লাহ তাহাদিগকে নিরাপদে রাখুন। গিফার গোত্র, আল্লাহ তাহাদেরকে ক্ষমা করুন।
হাদিস নং - ৩২৬৫
কাবিসা ও মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবূ বাক্রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবা কিরামকে লক্ষ্য করে) বলেন, বলত জুহায়না, মুযায়না, আসলাম ও গিফার গোত্র যদি আল্লাহর নিকট বানূ তামীম, বানূ আসা’দ, বানূ গাতফান ও বানূ ‘আমের হতে উত্তম বিবেচিত হয় তবে কেমন হবে? তখন জনৈক সাহাবী বললেন, তবে তারা (শেষোক্ত গোত্রগুলো) ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্বোক্ত গোত্রগুলো বানূ তামীম, বানূ আসা’দ, বানূ আবদুল্লাহ ইবনু গাতফান এবং বানূ ‘আমের ইবনু সা'সা' থেকে উত্তম।
হাদিস নং - ৩২৬৬
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবূ বাকরা তার পিতা থেকে বর্ণিত যে, আকরা’ ইবনু হাবিস নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট ‘আরয করলেন, আসলাম গোত্রের সুররাক হাজীজ, গিফার ও মুযায়না গোত্রদ্বয় আপনার নিকট বায়'আত করেছে এবং (রাবী বলেন) আমার ধারনা জুহায়না গোত্রও। এ ব্যাপারে ইবনু আবূ ইয়াকুব সন্দেহ পোষণ করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি কি জানো, আসলাম, গিফার ও মুযায়না গোত্রত্রয়, (রাবী বলেন) আমার মনে হয় তিনি জুহায়না গোত্রের কোথাও উল্লেখ করেছেন যে বনূ তামীম, বনূ 'আমির, আসা’দ এবং গাত্ফান (গোত্রগুলো) যারা ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত হয়েছে, তাদের তুলনায় পূর্বোক্ত গোত্রগুলো উত্তম। রাবী বলেন, হ্যাঁ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে সত্ত্বার কসম যার হাতে আমার প্রান, পূর্বোক্ত গুলো শেষোক্ত গোত্রগুলোর তুলনায় অবশ্যই উত্তম।
হাদিস নং - ৩২৬৭
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আসলাম, গিফার এবং মুযাইনা ও জুহানা গোত্রের কিয়দাংশ অথবা জুহানার কিয়দাংশ কিংবা মুযায়নার কিয়দাংশ আল্লাহর নিকট অথবা বলেছেন কিয়ামতের দিন আসা’দ, তামীম, হাওয়াযিন ও গাত্ফান গোত্র থেকে উত্তম বিবেচিত হবে।
হাদিস নং - ৩২৬৮
যায়েদ ইবনু আখযাম (রহঃ) আবূ জামরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদিন) আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাদিগকে বললেন, আমি কি তোমাদিগকে আবূ যার (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহনের ঘটনা সরববিস্তার বর্ণনা করব? আমার বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) বলেছেন, আমি গিফার গোত্রের একজন মানুষ। আমরা জানতে পেলাম মক্কায় এক ব্যাক্তি আত্মপ্রকাশ করে নিজেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দাবী করেছেন। আমি আমার ভাই (উনাইস)-কে বললাম, তুমি মক্কায় গিয়ে ঐ ব্যাক্তির সহিত সাক্ষাত ও আলোচনা করে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে এস। সে রওয়ানা হয়ে গেল এবং মক্কার ঐ লোকটির সহিত সাক্ষাত ও আলাপ আলোচনা করে ফিরে আসলে আমি জিজ্ঞাসা করলাম- কি খবর নিয়ে এলে? সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি একজন মহান ব্যাক্তিকে দেখেছি যিনি সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেন। আমি বললাম, তোমার সংবাদে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। তারপর আমি একটি ছড়ি ও এক পাত্র খাবার নিয়ে মক্কাভিমুখে রওয়ানা হয়ে পড়লাম। মক্কায় পৌছে আমার অবস্থা দাঁড়াল এই- তিনি আমার পরিচিত নন, কারো নিকট জিজ্ঞাসা করাও আমি সমীচীন মনে করি না। তাই আমি যমযমের পানি পান করে মসজিদে অবস্থান করতে থাকলাম। একদিন সন্ধ্যা বেলায় আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে গমন কালে আমার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, মনে হয় লোকটি বিদেশী। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমার সাথে আমার বাড়িতে চল। রাস্তায় তিনি আমাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেন নি। আর আমিও ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন কিছু বলিনি। তাঁর বাড়িতে রাত্রি যাপন করে ভোর বেলায় পুনরায় মসজিদে গমন করলাম যাতে ঐ ব্যাক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। কিন্তু ঐখানে এমন কোন ব্যাক্তি ছিল না যে ঐ ব্যাক্তি সম্পর্কে কিছু বলবে। ঐ দিনও আলী (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে গমনকালে বললেন, এখনো কি লোকটি তার গন্তব্যস্থল ঠিক করতে পারেনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আমার সাথে চল। পথিমধ্যে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বল, তোমার বিষয় কি? কেন এ শহরে আগমন? আমি বললাম, যদি আপনি আমার বিষয়টি গোপন রাখবেন বলে আশ্বাস দেন তাহলে তা আপনাকে বলতে পারি। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি গোপনীয়তা রক্ষা করব। আমি বললাম, আমরা জানতে পেরেছি, এখানে এমন এক ব্যাক্তির আবির্ভাব হয়েছে যিনি নিজেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দাবী করেন। আমি তাঁর সাথে সবিস্তর আলাপ আলোচনার করার জন্য আমার ভাইকে পাঠিয়ে ছিলাম। কিন্তু সে ফেরত গিয়ে আমাকে সন্তোষজনক কোন কিছু বলতে পারেনি। তাই নিজে দেখা করার ইচ্ছা নিয়ে এখানে আগমন করেছি। আলী (রাঃ) বললেন, তুমি সঠিক পথপ্রদর্শক পেয়েছ। আমি এখনই তাঁর খেদমতে উপস্থিত হওয়ার জন্য রওয়ানা হয়েছি। তুমি আমার অনুসরন করো এবং আমি যে গৃহে প্রবেশ করি তুমিও সে গৃহে প্রবেশ করবে। রাস্তায় যদি তোমার বিপদজনক কোন ব্যাক্তি দেখতে পাই তাহলে আমি জুতা ঠিক করার ভান করে দেয়ালের প্বার্শে সরে দাঁড়াব, যেন আমি জুতা ঠিক করতেছি। তুমি কিন্তু চলতেই থাকবে। (যেন কেউ বুঝতে না পারে তুমি আমার সঙ্গী)। আলী (রাঃ) পথ চলতে শুরু করলেন। আমিও তাঁর অনুসরন করে চলতে লাগলাম। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট প্রবেশ করলে, আমিও তাঁর সাথে ঢুকে পড়লাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল , আমার নিকট ইসলাম পেশ করুন। তিনি পেশ করলেন। আর আমি মুসলমান হয়ে গেলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ যার। আপাততঃ তোমার ইসলাম গ্রহন গোপন রেখে তোমার দেশে চলে যাও। যখন আমাদের বিজয় সংবাদ জানতে পারবে তখন এসো। আমি বললাম, যে আল্লাহ আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম! আমি কাফির মুশরিকদের সম্মুখে উচ্চস্বরে তৌহিদের বাণী ঘোষণা করব। [ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, ] এই কথা বলে তিনি মসজিদে হারামে গমন করলেন, কুরাইশের লোকজনও সেথায় উপস্থিত ছিল। তিনি বললেন, হে কুরাইশগণ! আমি নিশ্চিত ভাবে সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল)। ইহা শুনে কুরাইশগণ বলে উঠল, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। তারা আমার দিকে এগিয়ে আসল এবং আমাকে নির্মমভাবে প্রহার করতে লাগল ; যেন আমি মরে যাই। তখন আব্বাস (রাঃ) আমার নিকট পৌছে আমাকে ঘিরে রাখলেন (প্রহার বন্ধ হল)। তারপর তিনি কুরাইশকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের বিপদ অবশ্যম্ভাবী। তোমরা গিফার বংশের একজন লোককে হত্যা করতে উদ্যোগী হয়েছ অথচ তোমাদের ব্যবসা বাণিজ্যের কাফেলাকে গিফার গোত্রের সন্নিকট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। (ইহা কি তোমাদের মনে নেই?) একথা শুনে তারা সরে পড়ল। পরদিন ভোরবেলা কাবাগৃহে উপস্থিত হয়ে গেল দিনের মতই আমি আমার ইসলাম গ্রহনের পূর্ণ ঘোষণা দিলাম। কুরাইশগণ বলে উঠল, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। পূর্ব দিনের মত আজও তারা নির্মমভাবে আমাকে মারধর করলো। এই দিনও আব্বাস (রাঃ) এসে আমাকে রক্ষা করলেন এবং কুরাইশদিগকে লক্ষ্য করে ঐ দিনের মতো বক্তব্য রাখলেন। ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বলেন, ইহাই ছিল আবূ যার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহনের প্রথম ঘটনা।
হাদিস নং - ৩২৬৯
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত কাহ্তান গোত্র থেকে এমন এক ব্যাক্তির১ আবির্ভাব না হবে যে মানবজাতিকে তাঁর লাঠি দ্বারা (শক্তিদ্বারা সুশৃংখলভাবে) পরিচালিত করবে। ১ ইয়ামান বাসীদের পূর্বপুরুষ, মাহদী আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পরে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে।
হাদিস নং - ৩২৭০
মুহাম্মদ (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরিচালনায় যুদ্ধে শামিল ছিলাম। এ যুদ্ধে বহু সংখ্যক মুহাজির সাহাবী অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুহাজিরদের মধ্যে একজন কৌতুক পুরুষ ছিলেন। তিনি কৌতুকচ্ছলে একজন আনসারীকে আঘাত করলেন। তাতে আনসারী সাহাবী ভীষণ ক্রুদ্ধ হলেন এবং উভয় গোত্রের সহযোগিতার জন্য নিজ নিজ লোকদের ডাকলেন। আনসারী সাহাবী বললেন, হে আনসারীগণ। মুহাজির সাহাবী বললেন, হে মুহাজিরগণ সাহায্যে এগিয়ে আস। নব এ শুনে বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, জাহালী যুগের হাঁকডাক কেন? অতঃপর বললেন, তাদের ব্যপার কি? তাঁকে ঘটনা জানোান হল। মুহাজির সাহাবী আনসারী সাহাবীর কোমরে আঘাত করেছে। রাবী বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ জাতীয় হাঁকডাক ত্যাগ কর, এ অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। (মুনাফিক নেতা) আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল বলল, তারা আমাদের বিরুদ্ধে ডাক দিয়েছে? আমরা যদি মদিনায় নিরাপদে ফিরে যাই তবে সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত ব্যাক্তিগণ অবশ্যই বাহির করে দিবে নিকৃষ্ট ও অপদস্ত ব্যাক্তিগণকে (মুহাজিরদিগকে)। এতে 'উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল , আপনি কি এই খবীসকে হত্যা করার অনুমতি দিবেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এরূপ করলে) লোকজন বলাবলি করবে, মুহাম্মদ তাঁর সঙ্গীদেরকে হত্যা করে থাকে।
হাদিস নং - ৩২৭১
সাবিত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাস'উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঐ ব্যাক্তি আমাদের দলভুক্ত নয় যে, (বিপদ কালিন বিলাপরত অবস্থায়) গন্ডদেশে চপেটাঘাত করে, পরিধেয় বস্ত্র ছিন্ন ভিন্ন করতে থাকে এবং জাহিলিয়াতের যুগের ন্যয় হৈ চৈ করে।
হাদিস নং - ৩২৭২
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমর ইবনু লুহাই ইবনু কাম'আ ইবনু খিনদাফ খুযা'আ গোত্রের পূর্বপুরুষ ছিল।
হাদিস নং - ৩২৭৩
আবূল ইয়ামান (রহঃ) যুহরী (রহঃ) বলেন। আমি সা'ঈদ ইবনু মূসা ইয়্যাব (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, বাহীরা বলে দেবতার নামে উৎসর্গীকৃত উটনি যার দুগ্ধ আট্কিয়ে রাখা হত এবং কোন লোক তার দুধ দোহন করত না। সাইবা বলা হয় ঐ জন্তুকে যাকে তারা ছেড়ে দিত দেবতার নামে। ইহাকে বোঝা বহন ইত্যাদি কোন কাজ কর্মে ব্যবহার করা হয় না। রাবী বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আমর ইবনু 'আমির খুয'আইকে তার বেরিয়ে আসা নাড়ী-ভুঁড়ি নিয়ে জাহান্নামের আগুনে চলাফেরা করতে দেখেছি। সেই প্রথম ব্যাক্তি যে (দেব-দেবীদের নামে) সাইবা উৎসর্গ করার প্রথা প্রচলন করে।
হাদিস নং - ৩২৭৪
আবূন নু'মান (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তুমি যদি আরবদের অজ্ঞতা ও মূর্খতা সম্বন্ধে জ্ঞাত হতে আগ্রহী হও, তবে সূরা আন্'আমের ১৪০ আয়াতের অংশটুকু মনোযোগের সাথে পাঠ করো। (ইরশাদ হয়েছে) "নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে নিজ সন্তানদিগকে (দারিদ্রের ভয়ে) হত্যা করেছে। এবং আল্লাহর দেওয়া হালাল বস্তু সমূহকে হারাম করেছে এবং আল্লাহর প্রতি জঘন্য মিথ্যা আরোপ করেছে, নিশ্চয়ই তারা পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী হয়েছে। তারা সুপথগামী হতে পারে নি।
হাদিস নং - ৩২৭৫
উমর ইবনু হাফ্স (রহঃ) ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত "তোমার নিকট আত্মীয়গণকে সতর্ক কর" অবতীর্ন হল, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে বনী ফিহ্র, হে বনী 'আদি, বিভিন্ন কুরাইশ শাখা গোত্রগুলিকে নাম ধরে ধরে ইসলামের দিকে আহ্বান করতে লাগলেন। এবং কাবীসা (রহঃ) -- ইবনু 'আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত "তোমার নিকট আত্মীয়গণকে সতর্ক কর" অবতীর্ন হল, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের গোত্র গোত্র করে আহ্বান করতে লাগলেন।
হাদিস নং - ৩২৭৬
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, (উপরোক্ত আয়াতের প্রেক্ষিতে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আব্দে মানাফের বংশধরগণ, তোমরা (ঈমান ও নেক আমলের দ্বারা) তোমাদের নিজেদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা কর। হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধরগণ, তোমরা (ঈমান ও আমলের দ্বারা) তোমাদের নিজেদেরকে হিফাযত করো। হে যুবায়রের মাতা - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র ফুফু, হে মুহাম্মদ -এর কন্যা ফাতিমা। তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে (ঈমান ও আমলের দ্বারা) রক্ষা কর। তোমাদেরকে আযাব থেকে বাঁচানোর সামান্যতম ক্ষমতাও আমার নাই আর আমার ধন-সম্পদ থেকে তোমরা যা ইচ্ছা তা চেয়ে নিয়ে যেতে পার (দেওয়ার ইখতিয়ার আমার আছে)।
হাদিস নং - ৩২৭৭
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের বললেন, তোমাদের মধ্যে (এই মজলিশে) অপর গোত্রের কেউ কি আছে? তারা বললেন, না, অন্য কেউ নেই। তবে আমাদের একজন ভাগিনা আছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন কোন গোষ্ঠীর ভাগ্নে সে গোষ্ঠীরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হয়।
হাদিস নং - ৩২৭৮
ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) 'আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, মিনায় অবস্থানের দিনগুলোতে (অর্থাৎ ১০, ১১, ১২ তারিখে) আবূ বকর (রাঃ) আমার গৃহে প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর নিকট দু'টি বালিকা ছিল। তারা দফ (একদিকে খলা ছোট বাদ্যযন্ত্র) বাজিয়ে এবং নেচে নেচে (যুদ্ধের বিজয় গাথা) গান করছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন চাঁদর দিয়ে মুখ ঢেকে শুয়ে ছিলেন। আবূ বক্র (রাঃ) এদেরকে ধমকালেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মুখ থেকে চাঁদর সরিয়ে বললেন, হে আবূ বক্র এদেরকে গাইতে দাও। কেননা, আজ ঈদের দিন ও মিনার দিনগুলির অন্তর্ভুক্ত। আয়িশা (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর আমি (তাঁর পিছনে থেকে) হাবশীদের খেলা উপভগ করছিলাম। মস্জিদের নিকটে তারা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলা করছিল। এমন সময় 'উমর (রাঃ) এসে তাদেরকে ধমকালেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে 'উমর! তাদেরকে বানূ আরফিদাকে নিরাপদে ছেড়ে দাও।
হাদিস নং - ৩২৭৯
উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) 'আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাসসান (রাঃ) কবিতার ছন্দে মুশরিকদের নিন্দা করতে অনুমতি চাইলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার বংশকে কিভাবে তুমি পৃথক করবে? হাসসান (রাঃ)-বললেন, আমি তাদের মধ্য থেকে এমনভাবে আপনাকে আলাদা করে নিব যেমনভাবে আটার খামির থেকে চুলকে পৃথক করে নেয়া হয়। 'উরওয়া (রহঃ) বলেন, আমি হাসসান (রাঃ)-কে 'আয়িশা (রাঃ)-এর সম্মুখে তিরস্কার করতে উদ্যত হলেন, তিনি আমাকে বললেন, তাকে গালি দিও না। সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পক্ষ থেকে কবিতার মাধ্যমে শত্রুদের বাক্যাঘাত প্রতিহত করত। আবূল হায়ছম বলেন, ( )(বলা হয়) যখন পশু তার ক্ষুর দ্বারা আঘাত করে আর ( )(বলা হয়) যখন দূর থেকে আঘাত করা হয়।
হাদিস নং - ৩২৮০
ইব্রাহীম ইবনুল মুন্যির (রহঃ) জুবায়ের ইবনু মুত'ঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার পাঁচটি (প্রসিদ্ধ) নাম রয়েছে, আমি মুহাম্মদ, আমি আহ্মদ, আমি আল-মাহি (নিশ্চিহ্নকারী) আমার দ্বারা আল্লাহ কুফ্র ও শির্ককে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন। আমি আল-হাশির (সমবেতকারী কিয়ামতের ভয়াবহ দিবসে) আমার চারপাশে মানব জাতিকে একত্রিত করা হবে। আমি আল-আক্বিব (সর্বশেষ আগমনকারী আমার পর অন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র আগমন হবে না)।
হাদিস নং - ৩২৮১
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আশ্চর্যান্বিত হওনা? (তোমরা কি দেখছনা) আমার প্রতি আরোপিত কুরাইশদের নিন্দা ও অভিশাপকে আল্লাহ তা'আলা কি চমৎকারভাবে দূরীভূত করছেন? তারা আমাকে নিন্দিত মনে করে গালি দিচ্ছে, অভিশাপ করছে অথচ আমি মুহাম্মদ-চির প্রশংশিত। (কাজেই তাদের গাল-মন্দ আমার উপর পতিত হয় না)।
হাদিস নং - ৩২৮২
মুহাম্মদ ইবনু সিনান (রহঃ) জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমার ও অন্যান্য নাবী গণের অবস্থা এমন, যেন কেউ একটি ভবন নির্মাণ করলো আর একটি স্থান শূন্য রেখে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে গৃহটিকে সুন্দর সুসজ্জিত করে নিল। জনগণ (উহার সৌন্দর্য দেখে) মুগ্ধ হল এবং তারা বলাবলি করতে লাগল, যদি একটি ইটের স্থানটুকু খালি রাখা না হত (তবে ভবনটি কতইনা সুন্দর হত! )
হাদিস নং - ৩২৮৩
কুতায়বা ইবনু সা'ঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণের অবস্থা এরূপ, এক ব্যাক্তি যেন একটি ভবন নির্মাণ করল; ইহাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু এক কোনায় একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন ইহার চারপাশে ঘুরে বিস্ময়ের সহিত বলতে লাগল ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হল না কেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমই সেই ইট। আর আমই সর্বশেষ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।
হাদিস নং - ৩২৮৪
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওফাত হয় তখন তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। ইবনু শিহাব বলেন; সা'ঈদ ইবনুল মূসা য়্যীব এভাবেই আমার নিকট বর্ণনা করেন।
হাদিস নং - ৩২৮৫
হাফ্স ইবনু 'উমর (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বাজারে গিয়েছিলেন। তখন এক ব্যাক্তি হে আবূল কাসিম! বলে ডাক দিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে ফিরে তাকালেন। (এবং বুঝতে পারলেন, সে অন্য কাকেও ডাকছে)। তখন তিনি বললেন, তোমরা আমার আসন নাম (অন্যের জন্য) রাখতে পার, কিন্তু আমার উপনাম কারো জন্য রেখ না।
হাদিস নং - ৩২৮৬
মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) জাবির (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, আমার আসল নামে অন্যের নাম রাখতে পার, কিন্তু আমার উপনাম অন্যের জন্য রেখোনা।
হাদিস নং - ৩২৮৭
আলী ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বলেছেন, আমার নামে নামকরণ করতে পার, কিন্তু আমার কুনিয়্যাতে (উপনাম) তোমাদের নাম রেখ না।
হাদিস নং - ৩২৮৮
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) জু'আইদ ইবনু আবদুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, ইনি বলেন, আমি 'সাইব ইবনু ইয়াযীদকে চুরানব্বই বছর বয়সে সুস্থ-সবল ও সুঠাম দেহের অধিকারী দেখেছি। তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই অবগত আছ যে, আমি এখনও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু'আর বরকতেই চক্ষু ও কর্ণ দ্বারা উপকৃত হচ্ছি। আমার খালা একদিন আমাকে নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে গেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আমার ভাগিনাটি পীড়িত ও রোগাক্রান্ত। আপনি তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু'আ করুন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য দু'আ করলেন।
হাদিস নং - ৩২৮৯
মুহাম্মদ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রহঃ) জু'আইদ (রহঃ) বলেন, আমি সাইব ইবনু ইয়াযীদকে বলতে শুনেছি যে, আমার খালা (একদিন) আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে নিয়ে গেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আমার ভাগিনা পীড়িত ও রোগাক্রান্ত। (আপনি তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু'আ করুন!)তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বরকতের দু'আ করলেন। তিনি ওযু করলেন, তাঁর ওযুর অবশিষ্ট পানি আমি পান করলাম। এরপর আমি তাঁর পিছন দিকে গিয়ে দাঁড়ালাম তাঁর কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে "মোহরে নাবুওয়্যাত" দেখলাম যা কবুতরের ডিমের ন্যায় অথবা বাসর ঘরের পর্দার বুতামের মত। ইবনু উবায়দুল্লাহ বলেন, ( )অর্থ সাদা চিহ্ন, যা ঘোড়ার কপালের সাদা অংশ এর অর্থ থেকে গৃহীত। আর ইব্রাহীম ইবনু হামযা বলেন, কবুতরের ডিমের মত। আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন বিশুদ্ধ হল ( )-এর পূর্বে ( )হবে অর্থাৎ ( )।
হাদিস নং - ৩২৯০
আবূ 'আসিম (রহঃ) 'উক্বা ইবনু হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবূ বক্র (রাঃ) বাদ আসর এর সালাতান্তে (নামাজের পর) বের হয়ে চলতে লাগলেন। (পথিমধ্যে) হাসান (রাঃ)-কে ছেলেদের সঙ্গে খেলা করতে দেখলেন। তখন তিনি তাঁকে কাঁধে তুলে নিলেন এবং বললেন, আমার পিতা কুরবান হউন! এ-ত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সা’দৃশ্য আলীর সা’দৃশ্য নয়। তখন আলী (রাঃ) হাসতেছিলেন।
হাদিস নং - ৩২৯১
আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) আবূ জুহায়ফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি। আর হাসান ইবনু 'আলী) (রাঃ) তাঁরই সা’দৃশ্য।
হাদিস নং - ৩২৯২
'আমর ইবনু 'আলী (রহঃ) আবূ জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি। হাসান ইবনু আলী (রাঃ) ছিলেন তাঁরই সদৃশ (রাবী বলেন) আমি আবূ জুহায়ফাকে বললাম, আপনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বর্ণনা দিন। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৌর বর্ণের ছিলেন। কাল কেশরাজির ভিতর যৎসামান্য সাদা চুলও ছিল। তিনি তেরটি সবল উটনি আমাদিগকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমাদের হস্তগত হওয়ার পূর্বেই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ওফাত হয়ে গেল।
হাদিস নং - ৩২৯৩
আবদুল্লাহ ইবনু রাজা (রহঃ) আবূ জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি আর তাঁর নিচের ঠোটের নিম্নভাগের দাঁড়িতে সামান্য সাদা চুল দেখেছি।
হাদিস নং - ৩২৯৪
ইসাম ইবনু খালিদ (রহঃ) হারীয ইবনু 'উসমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনু বুসরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছেন যে, তিনি বৃদ্ধ ছিলেন? তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বাচ্চা দাঁড়িতে কয়েকটি চুল সাদা ছিল।
No comments:
Post a Comment