Sunday, May 26, 2019

ভূমিকা

সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম হতে পারে পরকালীন মুক্তির সহায়ক

====================================== মুসলমানের ঘরে কোন সন্তান জন্ম নিলে ডান কানে আজান ও বাম কানে ইক্বামত আর মেয়ে সন্তানের ডান কানে ইক্বামত এবং বাম কানে আজান দেয়া হয়। এরপর বিসমিল্লাহ্ পড়ে মধু কিংবা মিছরির পানি খাওয়ানো হয়। সপ্তম কিংবা চতুর্দশ কিংবা একবিংশ দিবসে তার আক্বিকা করানো মাতা-পিতা সহ অভিভাবকের দায়িত্ব। সপ্তম দিবসে মাথা মুণ্ডিয়ে চুলের ওযন পরিমাণ স্বর্ণ কিংবা রূপা দান করা এবং একজন দ্বীনদার আলেম কর্তৃক একটি সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখার নিয়ম রয়েছে ইসলামী সমাজে। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন- ﺗُﺪْﻋَﻮْﻥَ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘﻴﺎﻣﺔ ﺑِﺎَﺳْﻤَﺎﺋِﻜُﻢْ ﻭَﺍَﺳْﻤَﺎﺀِ ﺍَﺑَﺎﺋِﻜُﻢْ ﻓَﺎَﺣْﺴَﻨُﻮْﺍ ﺍَﺳْﻤَﺎﺋِﻜُﻢْ - ‘‘ক্বিয়ামত দিবসে তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের নাম এবং তোমাদের পিতার নাম সহকারে। অতএব, তোমরা তোমাদের নামকে উত্তম কর। [মেশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা ৪০৮]

নাম সমূহের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার নিকট সর্বোত্তম নাম হলো আবদুল্লাহ্ এবং আবদুর রহমান। রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দেন- ﺗَﺴَﻤُّﻮْﺍ ﺑِﺎَﺳْﻤَﺎﺀِ ﺍﻻَﻧْﺒِﻴَﺎﺀِ ﻭَﺍَﺣَﺐُّ ﺍﻻَﺳْﻤَﺎﺀِ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠﻪ ﻭَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤﻦ - ‘‘তোমরা নবীগণের নামে নাম রাখ। আর আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট নাম সমূহের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় নাম আবদুল্লাহ্ (আল্লাহর বান্দা) এবং আবদুর রহমান (রহমান তথা আল্লাহর বান্দা)।’’ [মেশকাতুল মাছাবীহ্: পৃষ্ঠা ৪০৯]

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসালাম বলেন, নবীগণের নামে নাম রাখার জন্য। আর নবীগণের মধ্যে আমাদের নবী সর্বাপো শ্রেষ্ঠ। আমাদের নবীর দুটি নাম অধিক প্রিয় একটি ‘মুহাম্মদ’ ( ﻣﺤﻤﺪ ) আরেকটি ‘আহমদ’ ( ﺍﺣﻤﺪ ) এ দুটি নাম ক্বোরআনে পাকে রয়ছে- ﻣُﺒَﺸِّﺮًﺍ ﺑِﺮَﺳُﻮْﻝٍ ﻳَﺄْﺗِﻰْ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻯْ ﺍِﺳْﻤُﻪُ ﺍَﺣْﻤَﺪُ - হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম তাঁর উম্মত বনী ইসরাঈলকে বলছেন- আমি (তোমাদেরকে) এমন এক সম্মানিত রাসূলের শুভসংবাদ দাতা, যিনি আমার পর তাশরিফ আনবেন, তাঁর নাম ‘আহমদ’ (অতিপ্রশংসাকারী)। [সূরা সাফ্ফ: আয়াত- ০৬]

ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﺭَّﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻣَﻌَﻪُ ﺍَﺷِﺪَّﺍﺀُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻜُﻔَّﺎﺭِ ‘মুহাম্মদ’ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছেন, তারা কাফিরদের উপর কঠোর। [সূরা ফাতহ, আয়াত- ২৯]

কাজেই নবীজির সাথে সম্পর্কিত করে নবজাতকের নাম রাখা মুসলমানদের কর্তব্য। কেননা ‘মুহাম্মদ’ ও ‘আহমদ’ নামের বরকত, ফজিলত ও তাৎপর্য রয়েছে। হযরত কা’ব আল আহবার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বনী আদমকে সৃষ্টির সেরা বানিয়েছেন। আর বলেছেন, ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎ ﺑَﻨِﻰْ ﺍَﺩَﻡَ এবং নিশ্চয় আমি ‘‘আদম সন্তান (মানুষ জাতিকে) সম্মানিত করেছি।’’ আদম সন্তানের মর্যাদা হলো এ যে, তাকে ﻣﺤﻤﺪ (মুহাম্মদ) সাল্লাল্লাাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম নামের আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন তার গোলাকার মাথা ﻣﺤﻤﺪ শব্দের ﻡ-এর মতো, তাঁর হাত ﻣﺤﻤﺪ শব্দের ﺡ -এর মতো, তাঁর পেট ﻣﺤﻤﺪ শব্দের দ্বিতীয় ﻡ -এর মতো এবং তাঁর পা ( ﺩ) দাল বর্ণের মতো। হাদীসে পাকে এসেছে, যে কাফেরকে দোযখে নিপে করা হবে, তার ‘ইনসানী’ আকৃতি (যা নবীজির নামের আকৃতিতে) বিকৃতি করে দেয়া হবে এবং শয়তানী আকৃতিতে পরিণত করে দেয়া হবে। কেননা ইনসান (মানুষ) এর আকৃতি আমার নামের ( ﻣﺤﻤﺪ ) আকৃতিতে। আল্লাহ্ তা’আলা আমার নামের আকৃতিতে আযাব দেবেন না। আর যে বান্দা আমার নাম গ্রহণ করবে, আমার অনুগত হবে এবং আমার প্রেমিক হবে তাকে কীভাবে আল্লাহ্ তা‘আলা আযাব দিতে পারেন? [মা‘আরিজুন্নবূয়ত: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮২]

হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, বিচার দিবসে পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকল সৃষ্টিকে তাদের মন্দ কাজের কারণে পাকড়াও করা হবে। দু’জন বান্দাকে আল্লাহ্ তা‘আলার সামনে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ্ তা‘আলা নির্দেশ দেবেন, আমার এ দু’বান্দাকে বেহেশতে নিয়ে যাও। তখন ওই দু’বান্দা পরম খুশি হয়ে আল্লাহর দানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নিমিত্তে মুনাজাত করবে এবং আরয করবে, আল্লাহ্ আমরা তো বেহেশতে প্রবেশ করতে পারি এমন কোন যোগ্যতা এবং অধিকার রাখি না। জান্নাতিদের মতো আমাদের কোন আমল নেই। আমাদেরকে এ ইজ্জত ও দয়া করার কারণ জানতে আগ্রহী। নির্দেশ হবে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। কেননা এটা আমার সাধারণ দয়া যে, যার নাম আমার প্রিয় নবীর নামে হবে তাকে আমি জাহান্নামে দিতে পারি না।[মা‘আরিজুন্ নুবূয়্যত: পৃষ্ঠা ৮২ ও ৮৩, খণ্ড ২য়।

হযরত আবু সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ঘরের মধ্যে আহমদ, মুহাম্মদ ও আবদুল্লাহ্, এ তিন নাম হতে কোন নামের লোক থাকেন, সে ঘরের মধ্যে দরিদ্রতা আসবে না। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে মু’মিন বান্দা আমার সাথে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার ভিত্তিতে নিজের সন্তানের নাম আমার নামে রাখে সে এবং তার সন্তান আমার সাথে বেহেশতে প্রবেশ করবে। হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কোন মু’মিন বান্দা নিজের ছেলের নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখে এবং ছেলেকে ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ (হে মুহাম্মদ) বলে ডাকে, তখন আরশের বাহক ফেরেশতারা ﻟَﺒَّﻴْﻚَ ﻳَﺎﻭَﻟِﻰَّ ﺍﻟﻠﻪِ (হে আল্লাহর ওলী বা বন্ধু আমরা হাজির আছি বলে জবাব দেন। এরপর বলেন, হে ওলী! আপনাকে শুভসংবাদ যে, আপনি আমাদের কাজের মধ্যে শরীক হয়েছেন। অর্থাৎ আমাদের মতো আল্লাহ্ তা’আলার আনুগত্য ও ইবাদত করেছেন। বিনিময় আপনাকে দেওয়া হবে এবং বিচার দিনে আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে আরশ বহনকারীদের সাওয়াব দান করবেন। [মা‘আরিজুন নুবূয়্যত: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৩]

হযরত আবদুর রহমান ইবনে আমর ইবনে জুবাবা হতে বর্ণিত, তিনি রুশদা বিনতে সা’ঈদ হতে, তিনি উম্মে কুলসুম বিনতে ওতবা হতে, তিনি স্বীয় মাতা জলিলা বিনতে আবদুল জলিল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেন, তার মাতা বলেন যে, এক দিন আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম- এর পবিত্র দরবারে আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পুত্রসন্তান জন্ম নেয়ার পর শৈশবেই মারা যায়। আপনি আমাকে কী নির্দেশ দান করবেন? তিনি (নবীজি) ফরমায়েছেন এবার তোমার গর্ভধারণ হলে, তুমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবে যে, তোমার সন্তানের নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখবে। আমি আশা করি সে ছেলে দীর্ঘ হায়াত পাবে এবং বংশধরের মধ্যে বরকত হবে। তিনি (জলিলা বিনতে আবদুল জলিল) বলেন, আমি এ নিয়ত করলাম। এরপর আমার ভূমিষ্ট হওয়া ছেলে দীর্ঘায়ু হয়েছে। তার বংশধরের সংখ্যাও এমন বেড়েছে বাহরাইনের একটি জায়গায় তার চেয়ে বেশী কারও বংশধর নেই। [মা‘আরিজুন নুবূয়্যত]

উপরিউক্ত হাদীস সমূহ হতে বুঝা যায়, মুসলমানের ছেলের নাম মুহাম্মদ, আহমদ, আবদুল্লাহ্, আবদুর রহমানসহ নবীগণ, সাহাবায়ে কেরাম তাবেয়ীন, তবে তাবেয়ীন, আউলিয়া কেরামের নামে হলে অনেক বরকত ও ফজিলত পাওয়া যায়। সর্বোপরি নামের মাধ্যমে মুসলিম ও অমুসলিম পরিচিতি পাওয়া যায়। উদাহরণ স্বরূপ রাস্তা দিয়ে দু’জন ছেলে হেঁটে যাচ্ছে। একজন মুসলমানের ছেলে আরেকজন অমুসলিমের ছেলে। কিন্তু কোনটা মুসলমানের এবং কোনটা অন্য ধর্মাবলম্বীর ছেলে তা কিছুতেই বুঝা যাচ্ছে না। হিন্দুর ছেলের মুখে যেমন দাঁড়ি নেই, মুসলমানের ছেলের মুখেও দাড়ি তখনও গজায়নি। হিন্দুর মাথায় মেযন টুপি নেই, মুসলমানের ছেলের মাথায়ও তখন টুপি নেই। মুসলমানের ছেলে পাঞ্জাবী পরলে হিন্দু ছেলেও পাঞ্জাবী পরতে পারে।তাই নিরূপায় হয়ে তখন শরণাপন্ন হতে হলো নামের। নামের মাধ্যমেই তখন উভয়ের পরিচয়। সুতরাং বলা যায় ﺍﻻﺳﻢ ﻓﺮﻕ ﺑﻴﻦ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ ﻭﺍﻟﻜﻔﺮ অর্থাৎ নামই ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী। যেমনিভাবে নামায ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী। আগের যুগে মাতা-পিতারা অজ্ঞতার কারণে নিজেদের ছেলে মেয়ের ইচ্ছা মতো এমন এমন নাম রাখত, যেগুলো অর্থহীন ও অসুন্দর। যেমন কালা মিয়া, লাল মিয়া, গুরা মিয়া, নোয়া মিয়া, খুল্যা মিয়া, সোনা মিয়া ইত্যাদি।

এখানে লণীয় এ নামগুলো অসুন্দর হলেও এ নামগুলো হিন্দু-বিধর্মীদের মধ্যে পাওয়া যায় না। তবুও অর্থগত দিকে দিয়েও কোন তাৎপর্য নেই নামগুলোতে। তাছাড়া অভিভাবকরা ছেলে মেয়েদের এমন অধুনিক নাম রাখেন যেগুলোর অনেকটা বিধর্মী ও হিন্দুয়ানি নাম। মেযন: ছোটন, লিটন, লাকি, কাজল, সুজন, মন্টু, পিন্টু, হ্যাপি, সুমি, ডেজি, ডলি, পিংকি ইত্যাদি। নাম দুই ধরনের (একটি আসল আরেকটি ডাক নাম) হওয়াও উচিত নয়। প্রত্যেক মুসলমান ছেলে মেয়ের নাম হবে একটি। তা হতে পারে আল্লাহ্ তা‘আলার সিফাতী নামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত নাম। যেমন: আবদুল্লাহ্, আবদুর রহমান, আবদুর রহিম, আবদুল মালেক, আবদুল খালেক, আবদুল গফুর, আবদুস্ সালাম, আবদুর রউফ, আবদুল আওয়াল, আবদুন নূর, আবদুস্ সাত্তার, আবদুল গফ্ফার, আবদুস্ সমদ, আবদুল আহাদ। নবীজির নামের নুরুন নবী, গোলাম মোস্তফা, আবদুন্ নবী, আবদুর রসূল ইত্যাদি নামও রাখা যেতে পারে। নবী রাসূলগণের নামও রাখা যায়। মেযন: মুসা, ঈসা, ইসহাক, ইউসুফ, ইউনুস, ইদ্রিস, ইসমাঈল, ইবরাহিম, নূহ, দাউদ, ইউনুস, ইয়াকুব ইত্যাদি। অথবা সাহাবায়ে কেরামের নাম। মেযন আবু বকর, ওমর, ওসমান, আলী, আনাস ইত্যাদি। মেয়েদের নাম রাখা যায় আম্বিয়া কেরামের সহধর্মিনী ও মেয়েদের নামে মেযন- খাদিজা, আয়েশা, হাফসা, উম্মে সালমা, যয়নব, ফাতিমা, উম্মে কুলসুম, রোকেয়া, হাজেরা, হাবীবা, মরিয়ম, রহিমা ইত্যাদি।

ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ —— ﻳﻐﻴﺮ ﺍﻻﺳﻢ ﺍﻟﺒﻴﺢ - ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ) হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম খারাপ নাম পরিবর্তন করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি হাদীস ইমাম তিরমিযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেছেন। [মেশকাত, পৃৃষ্ঠা ৪০৮]

যেমন: ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺤﻤﻴﺪ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ ﺑﻦ ﺷﻴﺒﺔ ﻗﺎﻝ ﺟﻠﺴﺖ ﺍﻟﻰ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﻤﺴﻴﺐ ﻓﺤﺪﺛﻨﻰ ﺃﻥ ﺟﺪﻩ ﺣﺰﻧﺎ ﻗﺪ ﻓﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﺎ ﺍﺳﻤﻚ ﻗﺎﻝ ﺍﺳﻤﻰ ﺣﺰﻥ ﻗﺎﻝ ﺑﻞ ﺍﻧﺖ ﺳﻬﻞ ﻗﺎﻝ ﻣﺎ ﺃﻧﺎ ﺑﻤﻐﻴﺮ ﺍﺳﻤًﺎ ﺳﻤﺎﻧﻴﺔ ﺍﺑﻰ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻰ ﺍﻟﻤﺴﻴﺐ ﻓﻤﺎﺯﺍ ﻟﺴﺖ ﻓﻴﻨﺎ ﺍﻟﺤﺰﻭﻧﺔ ﺑﻌﺪ - ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ ) হযরত আবদুল হামিদ ইবনে জুবাইর ইবনে শায়বা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি সাঈদ ইবনুল সুমাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট বসলাম। তিনি আমাকে বলেন, নিশ্চয় তার দাদা ‘হাযন’ নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম- এর নিকট শুভাগমন করলেন, তিনি (নবীজি) জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার নাম কী? তিনি উত্তর দিলেন, ‘হাযন’ (শক্ত) তিনি (নবীজি) বললেন বরং আপনি সাহল (নরম)। তিনি বললেন, আমি আমার সে নাম যা আমার বাবা রেখেছেন তা পরিবর্তন করতে পারব না। হযরত ইবনুল মুসাইব বলেন, তখন থেকে আমাদের মধ্যে (দুঃখ-কষ্টের) সখতি তথা কঠোরতা লেগে থাকে। হাদীসটি ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বর্ণনা করেন। [মেশকাতুল মসাবিহ, পৃষ্ঠা ৪০৯]

উক্ত হাদীস হতে আমরা এ শিা অর্জন করতে পারি যে, কোন ছেলে মেয়ের নাম অনৈসলামিক হলে, কিংবা খারাপ অর্থের হলে তার সে নাম পরিবর্তন করে একটি ইসলামিক ও ভালো অর্থবোধক নাম রাখতে হবে। শায়েখ আবু বকর আবু যায়েদ বলেন “ঘটনাক্রমে দেখা যায় ব্যক্তির নামের সাথে তার স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যের মিল থাকে। এটাই আল্লাহর তাআলার হেকমতের দাবি যার নামের মধ্যে গাম্ভীর্যতা আছে তার চরিত্রে গাম্ভীর্য পাওয়া যায়। খারাপ নামের অধিকারী লোকের চরিত্রও খারাপ হয়ে থাকে। ভাল নামের অধিকারী ব্যক্তির চরিত্রও ভাল হয়ে থাকে। পবিত্র কোরআন-হাদিসে অর্থবোধক ভাল নাম রাখার ব্যাপারে তাকীদ দেয়া হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “একদা সাহাবায়ে কেরাম রাসূল (সা.) এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, হুজুর পিতার হক সর্ম্পকে তো আমরা আপনার কাছ থেকে জানলাম। পিতার ওপর সন্তানের হক কী এব্যাপারে আমাদেরকে জানান! তদুত্তরে রাসূল (সা.) ইরশাদ করলেন, পিতা সন্তানের অর্থপূর্ণ ভাল নাম রাখবে এবং তাকে সুশিক্ষা দিবে। (- বায়হাকী শরীফ)

হযরত আবু ওহাব জুশানী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমরা নবীদের নামে নিজেদের নাম রাখবে। তবে আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান’’। (আবু দাউদ শরীফ) হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, “যার সন্তান জন্ম গ্রহণ করে সে যেন সন্তানের সুন্দর নাম রাখে ও সুশিক্ষা দেয় এবং প্রাপ্তবয়ষ্ক হলে তাকে বিবাহ প্রদান করে”। (বায়হাকী শরীফ) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, “তোমরা সন্তানদেরকে তার পিতার নামেই ডাক সেটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত”। (আহযাব- ৫)

হযরত আবূ দারদা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের পিতার নামে ডাকা হবে। অতএব তোমাদের নামগুলো অর্থবোধক রাখো”। (আবু দাউদ শরীফ) রাসূল (সা.) সুন্দর নাম পছন্দ করতেন এবং তিনি সুন্দর নাম রাখার জন্য আদেশও করেছেন । ইবনে কাইয়্যেম জাওযী (রাহ.) তার কিতাব “তুহফাতুল মাওদূদ বি আহকামিল মাওলুদ: এর মধ্যে বলেন নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবেই মানুষের ভাল-মন্দ আচরণ, চরিত্র ও কর্মধারা প্রভাবিত হয়। মন্দ নামেরও মন্দ প্রভাব রয়েছে।

**ইমাম মালেক (রাহ.)-এর প্রসিদ্ধ হাদিসের কিতাব “মুয়াত্তায়” বর্ণিত আছে। হযরত ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রা.) হতে বর্ণিত, ওমর ইবনে খাত্তাবের কাছে জুহারনা কাবীলার এক ব্যক্তি এলো। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তোমার নাম কী? সে বলল জামরা (অগ্নিস্ফুলিঙ্গ), তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কার পুত্র সে বললো ইবনে শিহাব (অগ্নিশিখার পুত্র), তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন কোন গোত্রের সে বললো হারাকা (প্রজ্জলন), তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমার বাড়ি কোথায়? সে বললো হারাকা (অগ্নিগর্ভে), তিনি শেষে জিজ্ঞাসা করলেন কোন অংশে সে বললো বিযাতিল লাযা (শিখাময় অংশে)! ওমর (রা.) তাকে বললেন যাও তোমার গোত্রের লোকদের কাছে গিয়ে দেখ তারা ভস্মীভূত হয়েছে! লোকটি বললো তাদের কাছে এসে দেখলাম সত্যিই তারা সকলেই ভস্মীভূত হয়েছে। মন্দ নামের প্রভাব মানুষের চরিত্র ও আচরণকে প্রভাবিত করে। রাসূল (সা.) এর নিকট কেউ আসলে তার নাম জিজ্ঞাস করতেন নাম পছন্দ হলে খুশী হতেন, অপছন্দ অর্থহীন হলে তা পরিবর্তন করে অর্থপূর্ণ নাম রেখে দিতেন।


No comments:

Post a Comment

Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻