বুখারী শরীফ সব খণ্ড
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
অধ্যায় - ৫২ - তাফসীর - ১
( হাদিস নং - ৪১২২-৪২২৭ = মোট ১০৫ টি হাদিস)
হাদিস নং - ৪১২২
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আবূ সাঈদ ইবনু মুআল্লা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে নববীতে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলাম, এমন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা আমাকে ডাকেন। কিন্তু সে ডাকে আমি সাড়া দেইনি। পরে আমি বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলাম। (এ কারণে জবাব দিতে পারিনি)। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ কি বলেন নি যে, হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ডাকেও যখন তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন। (৮ঃ ২৪)। তারপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই তোমাকে আমি কুরআনের এক মহান সূরা শিক্ষা দিব। তারপর তিনি আমার হাত ধরেন। এরপর যখন তিনি মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করেন তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনি না আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরা শিক্ষা দিবেন বলে বলছিলেন? তিনি বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক, এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা আমাকেই প্রদান করা হয়েছে।
হাদিস নং - ৪১২৩
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন ইমাম বলবে তখন তোমরা বলবে অর্থ আল্লাহ আপনি কবূল করুন। যার পড়া ফেরেশতাদের পড়ার সময়ে হবে, তার পূর্বে গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
হাদিস নং - ৪১২৪
মুসলিম ও খলীফা (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন মু’মিনগণ একত্রিত হবে এবং তারা বলবে, আমরা যদি আমাদের রবের কাছে আমাদের জন্য একজন সুপারিশকারী পেতাম। এরপর তারা আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে আসবে এবং তাঁকে বলবে আপনি মানব জাতির পিতা। আপনাকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। আর ফেরেশতা দ্বারা আপনাকে সিজদা করিয়েছেন এবং যাবতীয় বস্ত্তর নাম আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। অতএব আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, যেন আমাদের কঠিন স্থান থেকে আরাম দিতে পারেন। তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের আমার সাহস হচ্ছে না। তিনি নিজ ভুলের কথা স্মরণ করে লজ্জাবোধ করবেন। (তিনি বলবেন) তোমরা নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে যাও। তিনই প্রথম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে আল্লাহ জগতবাসীর কাছে পাঠিয়েছেন। তখন তারা তাঁর শরণাপন্ন হবে। তিনিও বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তিনি তাঁর রবের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন এমন বিষয় যা তাঁর জানাছিল না। সেকথা স্মরণ করে তিনি লজ্জাবোধ করবেন। এবং বলবেন বরং তোমরা আল্লাহর খলীল (ইবরাহীম) আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে যাও। তারা তখন তাঁর কাছে আসবে, তখন তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তোমরা মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে যাও। তিনি এমন বান্দা যে তাঁর সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং তাঁকে তাওরাত গ্রন্থ দান করেছেন। তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। এবং তিনি এক কিবতীকে বিনা দোষে হত্যা করার কথা স্মরণ করে তাঁর রবের নিকট লজ্জাবোধ করবেন। তিনি বলবেন, তোমরা ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এবং আল্লাহর বাণী ও রূহ্। (তারা খোনে যাবে) তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না। তোমরা মুহাম্মদ -এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা যার পূর্ব ও পরের ভুলত্রটি আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন। তখন তারা আমার কাছে আসবে। তখন আমি আমার রবের কাছে যাব এবং অনুমতি চাব, আমাকে অনুমতি প্রদান করা হবে। আর আমি যখন আমার রবকে দেখব, তখনমি সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ চান আমাকে এ অবস্থায় রাখবেন। তারপর বলা হবে, আপনার মাথা উঠান এবং চান দেওয়া হবে, বলুন শোনা হবে, সুপারিশ করুন কবুল করা হবে। তখন আমি আমার মাথা উঠাব এবং আমাকে যে প্রশংসাসূচক বাক্য শিক্ষা দিবেন তা দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব। তারপ সুপারিশ করব। আমাকে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। (সেই সীমিত সংখ্যায়) আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাব। আমি পুনরায় রবের সমীপে ফিরে আসব। যখন আমি আমার রবকে দেখব তখন পূর্বের ন্যায় সব কিছু করব। তারপর আমি সুপারিশ করব। আবার আমাকে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। তদনুসারে আমি তাদের জান্নাতে দাখিল করাব। (তারপর তৃতীয়বার) আমি আবার রবের দরবারে উপস্থিত হয়ে অনুরূপ করব। এরপর আমি চতুর্থবার ফিরে আসব এবং আরজ করব এখন কেবল তারাই জাহান্নামে অবশিষ্ট রয়ে গেছে যারা কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী আটকে রয়েছে আর যাদের উপর চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকা অবধারিত রয়েছে। আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, কুরআনের যে ঘোষণায় তারা জাহান্নামে আবদ্ধ রয়েছে তাহল মহান আল্লাহর বাণীঃ অর্থাৎ তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
হাদিস নং - ৪১২৫
উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, কোন গুনাহ আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বড়? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য সমকক্ষ দাঁড়ান করান। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এতো সত্যি বড় গুনাহ। আমি বললাম, তারপর কোন গুনাহ? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করবে যে সে তোমার সাথে আহার করবে। আমি আরয করলাম, এরপর কেনটি? তিনি উত্তর দিলেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার ব্যভিচার করা।
হাদিস নং - ৪১২৬
আবূ নুআইম (রহঃ) সাঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল কামাআত (ব্যাঙের ছাতা) মান্ন জাতীয়। আর তার পানি চক্ষু রোগের শিফা।
হাদিস নং - ৪১২৭
মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বনী ইসরাঈলকে বলা হয়েছিল যে, তোমরা সিজদা অবস্থায় শহর দ্বারে প্রবেশ কর এবং বল হিত্তাতুন(ক্ষমা চাই) কিন্তু তারা প্রবেশ করল নিতম্ব হেঁচড়িয়ে এবং নির্দেশিত শব্দকে পরিবর্তন করে তদস্থলে বলল, গম ও যবের দানা। আল্লাহর বাণীঃ ‘যারা জিবরাঈলের শত্রুতা করবে। ‘ইকরিমা (রহঃ) বলেন, জবর, মীক, সারাফ অর্থ ‘আবদ-বান্দা, ঈল-আল্লাহ। (অর্থ দাঁড়াল আবদুল্লাহ-আল্লাহর বান্দা)
হাদিস নং - ৪১২৮
আবদুল্লাহ মুনীর (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর শুভাগম বার্তা শুনতে পেলেন। তখন তিনি (আবদুল্লাহগ ইবনু সালাম) বাগানে ফল আহোরণ করছিলেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বললেন, আমি আপনাকে তিনটি বিষয় জিজ্ঞাসা করব যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বতীত অন্য কেউ জানেন না। তাহল কিয়ামতের প্রথম লক্ষণ কি? জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য কি হবে? এবং সন্তান কখন পিতার সদৃশ হয় আর কখন মাতার সর্দশ হয়? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখনি এসব সম্পর্কে অবহিত করলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, জিবরাঈল? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললে, হ্যাঁ। ইবনু সালাম বললেন, সে তো ফেরেশতাদের মধ্যে ইয়াদীদের শত্রু। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করলেন, যে ব্যাক্তি জিবরাঈলের শত্রু হবে, এ জন্যযে তিনি তো আপনার অমত্মরে, (আল্লাহর হুকুমে) ওহী নাযিল করেন। (২: ৯৭)। কিয়ামতের প্রথম লক্ষণ হল, এক প্রকার আগুন বের হবে যা মানবকুলকে পূর্ব প্রামত্ম হতে পশ্চিম প্রামত্ম পর্যন্ত একত্রিত করবে। আর জান্নাতীরা প্রথমে যা আহার করবে তা হল মাছের কলিজার টুকরা। আর যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর উপর প্রাধান্য লাভ করবে তখন সন্তান পিতার সদৃশ হয় এবং যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের উপ প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান মাতার সদৃশ হয়। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দেই যে, আপনি নিঃসন্দেহে আল্লাহর রাসূল। ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ইয়াহূদরা সাঘাতিক মিথ্যারূপকারী। যদি তারা আপনাকে প্রশ্ন করার পূর্বেই আমার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ জেনে যায় তবে তারা আমার প্রতি অপবাদ আনবে। ইতিমধ্যে ইহূদীরা এসে গেল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহূদীদের জিজ্ঞাসা করলেন, আবদুল্লাহ তোমাদের মধ্যে কেমন লোক? তারা উত্তর দিল, তিনি আমাদের মধ্যে উত্তম এবং আমাদের মধ্যে সম্ভ্রামত্ম ব্যাক্তির পুত্র। তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার ছেলে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি আবদুল্লাহ ইবনু ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে তোমরা কেমন মনে করবে। তারা বলল, আল্লাহ তাকে এর থেকে পানাহ দিন। তখন {আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)} বের হয়ে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ নিঃসন্দেহে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন তারা বলল, সে আমাদের মধ্যে মন্ ব্যাক্তি ও মন্দ ব্যাক্তির ছেলে। তারপর তারা ইবনু সালাম (রাঃ)-কে দোষী সাব্যস্ত করে সমালোচনা করতে লাগল। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এটাই আমি ভয় করছিলাম।
হাদিস নং - ৪১২৯
আমর ইবনু আলী (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেন, উবাই (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম কারী, আর আলী (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক। কিন্তু আমরা উবাই (রাঃ)-এর সব কথাই গ্রহণ করি না। কারণ উবাই (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছি তা ছেড়ে দিতে পারি না। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলে, আমি যে আয়াত রহিত করি অথবা বিস্মৃত হতে দেই (২: ১০৬)।
হাদিস নং - ৪১৩০
আবূল ইয়ামান (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আদম সন্তান আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে। অথচ তার তা উচিত নয়। আমাকে গালি দিয়েছে অথচ তার জন্য তা উচিত নয়। তার আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ হল, সে বলে যে, আমি তাকে পূর্বের ন্যায় পুনরুজ্জীবনে সক্ষম নই। আর আমাকে তার গালি প্রদন হল--তার বক্তব্য যে, আমার সন্তান আছে অথচ আমি স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।
হাদিস নং - ৪১৩১
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার মতামত আল্লাহর ওহীর অনুরূপ হয়েছে অথবা (তিনি বলেছেন) তিনটি বিষয়ে আমার মতামতের অনুকুলে আল্লাহ ওহী নাযিল করেছেন। তা হল, আমি বলেছিলাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! যদি আপনি মাকামে ইবরাহীমকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর স্থান হিসাবে গ্রহণ করতেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন । তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর স্থানে নির্ধারণ কর (২: ১২৫) আমি আরয করেছিলাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার কাছে ভাল ও মন্দ উভয় প্রকারে লোক আসে। কাজেই আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদেরকে (আপনার স্ত্রীদের) পর্দা করার নির্দেশ দিতেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছিলাম যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কতক বিবির প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তখন আমি তাদের কাছে উপস্থিত হই, এবং বলি যে, আপনারা এর থেকে বিরত হবেন অথবা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল) -কে আপনাদের চেয়েও উত্তম স্ত্রী প্রদান করবেন। এরপর আমি তাঁর কোন এক স্ত্রীর কাছে আসি, তখন তিনি বললেন, হে উমর! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীগণকে নসীহত করে থাকেন আর এখন তুমি তাদের উপদেশ দিতে আরম্ভ করেছ? তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন তবে তাঁর রব সম্ভবত তোমাদের স্থলে তাঁকে দিবেন তোমাদের অপেক্ষা উত্তম স্ত্রী যারা হবে আত্মসমপর্ণকারী। (৬৬: ৫) ইবনু আবী মারয়াম (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ) আমার কাছে এরূপ বলেছেন।
হাদিস নং - ৪১৩২
ইসমাঈল (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার কি জানানেই যে তোমার সম্প্রদায় কুরাইশ কা’বা তৈরী করেছে এবং ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ভিত্তির থেকে ছোট নির্মাণ করেছে?’ {আয়িশা (রাঃ) বলেন} আমি তখন বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি কি ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ভিত্তির উপর কা’বাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার গ্রোত্রে কুফরীর যামানা অতীতে না হত। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, যদি আয়িশা (রাঃ) এ কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনে থাকেন, তবে আমার মনে হয় যে এ কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতিমের দিকের দুই রোকনে (রোকনে ইরাকী ও রোকন শামী) চুম্বন বর্জন করেছেন, যেহেতু বায়তুল্লাহ ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ভিত্তির উপর সম্পূর্ণভাবে নির্মিত নয়।
হাদিস নং - ৪১৩৩
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহলে কিতাব (ইহূদী) ইবরানী ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলিমদের জন্য তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আহলে কিতাবকে বিশ্বস করো না আর অবিশ্বাসও কর না এবং (আল্লাহর বাণী) ‘তোমরা বল আমরা আল্লাহতে ঈমান এনেছি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তা । ’
হাদিস নং - ৪১৩৪
আবূ নু‘আইম (রহঃ) বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাতে ষোল অথবা সতের মাস যাবত বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। অথচ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল্লাহর দিকে তাঁর কিবলা হওয়াকে পছন্দ করতেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায/নামাজ) (কাবার দিকে মুখ করে) আদায় করেন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কারী একজন বের হন এবং তিনি একটি মসজিদের লোকদের কাছ দিয়ে গেলেন তখন তারা রুকু অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহকে সাক্ষি রেখে বলছি যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে মক্কার দিকে মুখ কনোমায আদায় করেছি। একথা শোনার পর তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন, সে অবস্থায় বায়তুল্লাহর দিকে ফিরে গেলেন। আর যারা কিবলা বায়তুল্লাহর দিকে পরিবর্তের পূর্বে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় অবস্থায় মারা গিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, তাদের সম্পর্কে আমরা কি বলব তা আমাদের জানাছিল না। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন-‘‘আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের ঈমানকে তিনি ব্যর্থ করে দিবেন, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরমদয়ালু। (২:১৪৩)
হাদিস নং - ৪১৩৫
ইউসুফ ইবনু রাশিদ (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে ডাকা হবে। তখন তিনি উত্তর দিবেন এ বলেঃ হে আমাদের রব! আমি আপনার পবিত্র দরবারে উপস্থিত (তখন আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন) তুমি কি (আল্লাহ পায়গাম লোকদের) চৌঁছে দিয়েছিলেন? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। এরূপ তাঁর উম্মাতকে জিজ্ঞাসা করা হবে, [নূহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি] তোমাদের নিকট (আল্লাহর পয়গাম) পৌঁছে দিয়েছে? তারা তখন বলবে, আমাদের কাছে কোন সতর্কবাণী আগমন করেনি। তখন আল্লাহ তা‘আলা [নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে] বলবেন, তোমা দাবির প্রতি সাক্ষী কে? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ এবং তাঁর উম্মাতগণ। তখন তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মাতের নিকট আল্লাহর পয়গাম প্রচার করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের প্রতি সাক্ষ্য হবেন। এটাই মহান আল্লাহর বাণী । ওয়াসাত শব্দের অর্থ ন্যায়নিষ্ঠ।
হাদিস নং - ৪১৩৬
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন লোকেরা কুবা মসজিদে ফযরের সালাম আদায় করছিলেন। এমন সময় এক আগন্তুক এসে বলল, আল্লাহ তা‘আলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি কুরআনের এ আয়াত নাযিল করেছেন যে, তিনি যেন কাবার দিকে (সালাত (নামায/নামাজ)) মুখ করেন। কাজেই আপনারাও কাবার দিকে মুখ করে নিন। সে মুতাবিক লোকেরা কাবার দিকে মুখ করে নেন।
হাদিস নং - ৪১৩৭
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যারা উভয় কিবলার (কাবা ও বায়তুল মুকাদ্দাস)-এর দিকে ফিরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন তাদের মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ জীবিত নেই।
হাদিস নং - ৪১৩৮
খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা লোকেরা মসজিদে কুবায় ফযরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। এমন সময় তাদের কাছে একজন লোক এসে বলল, এই রাত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর কুরআনের আয়াত নাযিল হয়েছে এবং তিনি নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছেন কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার জন্য। অতএব আপনারা কাবার দিকে মুখ ফিরান। আর তখন লোকদের চেহারা শামের দিকে ছিল। এরপর তারা তাদের চেহারা কাবার দিকে ফিরিয়ে নিলেন।
হাদিস নং - ৪১৩৯
ইয়াহইয়া ইবনু কাযাআ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা লোকেরা কুবা মসজিদে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলেন, তখন তাদের নিকট একজন আগুন্তুক এসে বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি এ রাতে কুরআনের আয়াত নাযিল করা হয়েছে, তাতে তাঁকে কাবার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতএব আপনারা কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তার তখন তাদের মুখ সিরিয়ার দিকে ছিল। এরপর তাদের মুখ কাবার দিকে ফিরে গেল।
হাদিস নং - ৪১৪০
মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) বারা ইবনু আযিব) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ষোল অথবা সতের মাস যাবত (মদিনাতে) বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি। তারপর আল্লাহ তাঁকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেন।
হাদিস নং - ৪১৪১
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা কূবা মসজিদে সাহাবীগণ ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলেন। এমন সময় এক ব্যাক্তি এসে বলল, আজ রাতে {নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি} কুরআনের আযাত নাযিল হয়েছে, তাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে মুখ ফিরাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতএব আপনারা সে দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তখন তারা আপন আপন অবস্থায় মুখ ফিরিয়ে নেন এবং কাবার দিকে মুখ করেন। সে সময় তাদের মুখ সিরিয়ার দিকে ছিল।
হাদিস নং - ৪১৪২
কুতাইবা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা কূবাতে সাহাবীগণ ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) রত ছিলেন, এমতাবস্থায় জনৈক আগুন্তুক এসে বলল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এÿ প্রতি আজ রাতে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়েছে এবং তাঁকে কাবার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতএব আপনারাও সে দিকে মুখ ফিরান। তাদের মুখ তখন সিরিয়ার দিকে ছিল। এরপর তারা কাবার দিকে ফিরে গেলেন।
হাদিস নং - ৪১৪৩
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) উরওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম আর সে সময় আমি অল্প বয়স্ক ছিলাম। মহান আল্লাহর বাণী এ আয়াত সম্পর্কে আপনার অভীমত কি? ‘‘সাফা এবং মারওয়া পর্বদ্বয় আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শসমূহের অমত্মর্ভুক্ত। কাজেই যে বায়তুল্লাহর হাজ্জ (হজ্জ) বা উমরা ইচ্ছা করে তার জন্য উভয় পর্বতের মধ্যে সায়ীকরণে কোন দোষ নেই। ’’ (২:১৫৮) আমি মনে করি উক্ত দুই পর্বত সায়ী নাকরণের কোন ব্যাক্তির উপর গুনাহ বর্তাবে না। তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, কখনই এরূপ নয়। তুমি যা বলছ যদি তাই হতো তা হলে বলা হতো এভাবে ‘‘উভয় পর্বত তাওয়াফ না করলে কোন গুনাহ বর্তাবে না। বস্ত্তত এই আয়াত নাযিল হয়েছে আনসারদের শানে। তারা ‘‘মানাত’-এর পূজা করত। আর ‘মানাত’ ছিল কুদায়েদের পথে অবস্থিত। আনসারগণ সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করা মন্দ জানতো। ইসলামের আগমনের পর তারা এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করল। তখন আল্লাহ উক্ত আয়াত নাযিল করেন।
হাদিস নং - ৪১৪৪
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আসিম ইবনু সুলাইমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমরা ঐ দু’টিকে জাহেলী যুগের প্রথা বলে বিবেচনা করতাম। এরপর যখন ইসলাম আসলো, তখন আমরা উভয়ের মধ্যে সায়ী করা থেকে বিরত থাকি। তখন উক্ত আয়াত নাযিল হয়।
হাদিস নং - ৪১৪৫
আবদান (রহঃ) ‘‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কথা বললেন, আর আমি আর একটি বললাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যকে তাঁর সমকক্ষে স্থাপন করতঃ মৃত্যুবরণ করে, সে জাহান্নামে যাবে। আর আমি বললাম, যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক ও সমকক্ষ স্থাপন না করা অবস্থায় মারা যায়, (তখন তিনি বললেন) সে জান্নাতে যাবে।
হাদিস নং - ৪১৪৬
হুমায়দী (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ে কিসাস প্রথা চালু ছিল কিন্তু দিয়াত২ তাদের মধ্যে চালু ছিল না। অনমত্ম আল্লাহ তা‘আলা এ উম্মতের জন্য এ আয়াত নাযিল করেনঃ উল্লিখ আয়াতে আলআফুর -এর অর্থ ইচ্ছাকৃত হত্যার বিনিময়ে দিয়াত গ্রহণ করে কিসাস ক্ষমা করে দেওয়া। ‘‘ফাত্তবাউন বিল মারুফি ওয়া আদাউন ইলাহি বি ইহসানিন’ অর্থাৎ এ ব্যাপারে যথাযথ বিধির অনুসরণ করবে এবং সততার সাথে দিয়াত আয়াত করে দেবে। তোমাদের প্রতি অবধারিতভাবে আরোপিত কেবল কিসাস হতে তোমাদের প্রতি দিয়াত ব্যবস্থা আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ ও হ্রাস ও লঘু শাস্তির বিধান। দিয়াত কবুল করার পরও যদি হত্যা করে তাহলে তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।
হাদিস নং - ৪১৪৭
মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রহঃ) আনাস (রাঃ) তাদের কাছে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহর কিতাবেই কিসাসের নির্দেশ রয়েছে।
হাদিস নং - ৪১৪৮
আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আনাসের ফুফু রুবাঈ জনৈক বাঁদির সামনের দাঁদ ভেঙ্গে ফেলে। এরপর বাঁদির কাছে রুবাঈয়ের লোকেরা ক্ষা প্রার্থী হলে বাঁদির লোকেরা অস্বীকার করে। তখন তাদের কাছে দীয়াত পেশ করা হল, তখন তা তারা গ্রহণ করল না। অগত্যা তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সমীপে এসে ঘটনা জানাল। কিন্তু বাঁদির লোকেরা কিসাস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ কিসাসের নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনু নযর (রাঃ) নিবেদন করল, ইয়অ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! রুবাঈয়ের সামনে দাঁত ভেঙ্গে দেওয়া হবে? না যে সত্তা আপনাকে সত্য ধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ, তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনাস! আল্লাহর কিতাবই কিসাসের নির্দেশ দেয়। এরপর বাঁদির সম্প্রদায় রাযী হয়ে যায় এবং রুবাঈকে ক্ষমা করে দেয়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যিনি আল্লাহর নামে শপথ করেন, আল্লাহ তা পূরণ করেন।
হাদিস নং - ৪১৪৯
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগের লোকেরা আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) রোযা পালন করত। এরপর যখন রমযানের রোযা বিধান অবতীর্ণ হল, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার ইচ্ছা সে আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র রোযা পালন করতে পারে আর যে চায় সে পালন না-ও করতে পারে।
হাদিস নং - ৪১৫০
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের রোযা অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র রোযা পালন করা হত। এরপর যখন রমযানের রোযার বিধান অবতীর্ণ হল, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ইচ্ছা করে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) পালন করবে, আর যে চায় সে রোযা পালন করবে না।
হাদিস নং - ৪১৫১
মাহমূদ ইবনু গায়লা) (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর নিকট ‘আশ‘আস (রাঃ) আসেন। এ সময় ইবনু মাসঊদ (রাঃ) পানাহার করছিলেন। তখন আশ‘আস (রাঃ) বললেন, আজকে তো ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)। তিনি বললেন, রমযানের রোযার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র রোযা পালন করা হতো। যখন রমযানের নাযিল হল তখন তা পরিত্যাগ করা হয়েছে। এস, তুমিও খাও।
হাদিস নং - ৪১৫২
মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগে কুরাইশগণআশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন রোযা পালন করত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ও সে রোযা পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় হিজরত করলেন তখনও তিনি সে রোযা পালন করতেন এবং অন্যদেরকেও তা পালনের নির্দেশ দিতেন। এরপর যখন রমযানের ফরয রোযার হুকুম নাযিল হল তখন আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র রোযা ছেড়ে দেওয়া হল। এরপর যে চাইত সে উক্ত রোযা পালন করত আর যে চাইত পালন করত না।
হাদিস নং - ৪১৫৩
ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত, ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে পড়তে শুনেছেন (আরবী) অর্থাৎ যাদের প্রতি রোযার বিধান আরোপ করা হয়েছে অথচ তারা এর সময় নয়। তাদের প্রতি একজন মিসকিনকে খানা খাওয়ানোই ফিদয়া। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ আয়াত রহিত হয়নি। এর হুকুম সেই অতিবৃদ্ধ পুরুষ ও স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা রোযা পালনে সামর্থ্য রাখে না, তখন প্রত্যেকদিনের রোযার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে পেট ভরে আহার করাবে।
হাদিস নং - ৪১৫৪
আইয়্যাশ ইবনুল ওয়ালিদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি পাঠ করতেন রাবী বলে, এ আয়াত আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।
হাদিস নং - ৪১৫৫
কুতায়বা (রহঃ) সালাম ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল এবং যারা রোযা পালনের সামর্থ রাখে তারা একজন মিসকীনকে ফিদয়াস্বরূপ আহার্য দান করবে। তখন যে ইচ্ছা রোযা ভঙ্গ করত এবং তার পরিবর্তে ফিদয়া প্রদান করত। এরপর পরবর্তী আয়াত নাযিল হয় এবং পূর্বোক্ত আয়াতের হুকুম রহিত করে দেয়। আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ইয়াযীদের পূর্বে বুকায় মারা যান। আবূ মামার মুজাহিদ (রহঃ) বর্ণিত, ইবনু আববাস (রাঃ) এ আয়াত এভাবে তিলাওয়াত করতেন তিনি বলতেন, যাদের প্রতি রোযার বোঝা চাপানো হয়েছে (আর সে হল অতিবৃদ্ধ যে রোযা পালনে অসমর্থ। তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সে প্রতিদিন একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। আর স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতিরিক্ত নেক কাজ করবে তা তার জন্য উত্তম। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) বলেন, যে ব্যাক্তি অতিরিক্ত করে এবং নির্ধারিত সংখ্যক মিসকীনদের অধিক জনকে খাদ্যদান করে তা তার জন্য কল্যাণকর হবে।
হাদিস নং - ৪১৫৬
উবায়দুল্লাহ ও আহমদ ইবনু উসমান (রহঃ) বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রমযানের রোযার হুকুম নাযিল হল তখন মুসলিমরা গোটা রমযান মাস স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকতেন আর কিছু সংখ্যক লোক এ ব্যাপারে নিজেদের উপরে (স্ত্রী-সম্ভোগ করে) অবিচার করে বসে তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেন -‘‘আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে। এরপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেন। সুতরায়এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ যা তোমাদের জন্যবিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। (২: ১৮৭)
হাদিস নং - ৪১৫৭
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ‘আদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (আদী) একটি সাদা ও একটি কালো সুতা সঙ্গে রাখলেন। কিছু রাত অতিবাহিত হলে খুলে দেখলেন কিন্তু তাঁর কাছে সাদা কালোর কোন ব্যবধান স্পষ্ট হল না। যখন সকাল হল তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আমার বালিশের নিচে (সাদা ও কালো রঙের দু’টি সুতা) রেখেছিলাম এবং তিনি রাতের ঘটনাটি উল্লেখ করলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার বালিশ তাহলে বেশ চওড়া ছিল, যদি কালো ও সাদা সুতা তোমার বালিশের নিচে থেকে থাকে।
হাদিস নং - ৪১৫৮
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! (আল্লাহর বাণীতে) সাদা সুতা কালো সুতা বের হয়ে আসার অর্থ কি? আসলে কি ঐ দুটি সুতা? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি অবশ্য চওড়া পিঠ ও পচাঁদ বিশিষ্ট দু’টি সুতা দেখতে। তারপর তিনি বললেন, তানয় বরং এ হল রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা।
হাদিস নং - ৪১৫৯
ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) সাহল ইবনু সা‘আদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এ আয়াত যখন নাযিল হয় তখন ‘ফজ হতে’ কথাটি নাযিল হয়নি। তাই লোকেরা রোযা পালনের ইচ্ছা করলে তখন তাদের কেউ কেউ দুই পায়ে সাদা ও কালো রঙের সুতা বেঁধে রাখতো। এরপর ঐ দুই সুতা পরিস্কারভাবে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত তারা পানাহার করতো। তখন আল্লাহ তা‘আলা পরে শব্দটি নাযিল করেন। এতে লোকেরা জানতে পারেন যে, এ দ্বারা উদ্দেশ্য হল রাত ও দিন।
হাদিস নং - ৪১৬০
উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহেলীযুগে যখন লোকেরা ইহরাম বাঁধতো, (এ সময় বাড়িতে আসার প্রয়োজন দেখা দিলে) তারা পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করত। তখন আল্লাহ তা‘আলা আয়াত নাযিল করেন।
হাদিস নং - ৪১৬১
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁর কাছে দুই ব্যাক্তি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ফিতনার সময় আগমন করল এবং বলল, লোকেরা সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আর আপনি উমর (রাঃ)-এর পুত্র এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবী! কি কারণে আপনি বের হন না? তিনি উততর দিলেন আমাকে নিষেধ করেছে এ কথা নিশ্চই আল্লাহ তা‘আলা আমার ভাইয়ের রক্ত হারাম করেছে। তারা দু’জন বললেন, আল্লাহ কি এ কথা বলেননি যে, তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর যাবত না ফিতনার অবসান ঘটে। তখন ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি যাবত না ফিতনার অবসান ঘটেছে এবং দ্বীনও আল্লাহর জন্য হয়ে গেছে। আর তোমরা ফিতনা প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করা ইচ্ছা করছ আর যেন আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য দ্বীন হয়ে গেছে। উসমান ইবনু সালিহ ইবনু ওহাব (রহঃ) সূত্রে নাফে (রহঃ) থেকে কিছু বাড়িয়ে বলেন যে, এক ব্যাক্তি ইবনু উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! কি করণে আপনি এক বছর হাজ্জ (হজ্জ) করেন এবং একবছর উমরা করেন অথচ আপনি আল্লাহর পথে জিহাদ পরিত্যাগ করেছেন? আপনি পরিজ্ঞাত আছেন যে, আল্লাহ এ বিষয়ে জিহাদ সম্পর্কে কিভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, হে ভাতিজা; ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে পাঁচটি বস্ত্তর উপরঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) -এর প্রতি ঈমান আনা, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) প্রতিষ্ঠা, রমযানের রোযা পালন, যাকাত প্রদান এবং বায়তুল্লাহর হাজ্জ (হজ্জ) উদযাপন। তখন সে ব্যাক্তি বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে কি বর্ণনা করেছেন তা কি আপনি শুনেননি? অর্থাৎ মু’মিনদের দু’দল দ্বন্ধে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংশা করে দিবে। এরপর তাদের একদল অপর দলকে আক্রমণ করলে তোমরা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যতক্ষন না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে-তবে তাদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করবে এবং সুবিচার করবে। নিশ্চয়ইাল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালবাসেন। (৪৯: ৯) (এ আয়াতগুলো শ্রবণ করার পর) ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আমরা এ কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে করেছি এবং তখন ইসলামের অনুসারীর দল স্বল্পসংখ্যক ছিল। যদি কোন লোক দ্বীন সম্পর্কে ফিতনায় নিপতিত হতো তখন হয় তাকে হত্যা করা হক অথবা শ্বাসিত্ম প্রদান করা হত। এভাবে ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন আর কোন ফিতনা রইল না। সে ব্যাক্তি বলল, আলী ও উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, উসমান (রাঃ)-কে তো আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করেছেন অথচ তোমরা তাঁকে ক্ষমা করা পছন্দ করো না। আর আলী (রাঃ)-তিনি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চাচাতো ভাই এবং তাঁর জামাতা। তিনি নিজ হাত দ্বারা ইশারা করে বলেন, এই তো তাঁর ঘর {রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ঘরের কাছে} যেমন তোমরা দেখতে পাচ্ছ।
হাদিস নং - ৪১৬৩
আদম আবদুল্লাহ ইবনু মা‘কিল (রাঃ) থেকে বর্ণত। তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইবনু উজরা-এর নিকট এই কূফার মসজিদে বসা থাকাকালে রিাযার ফিদয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমার চেহারায় উকুন ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় আমাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আনা হয়। তিনি তখন বললেন, আমি মনে করি যে, এতে তোমার কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী যোগাড় করতে পার? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি তিনদিন রোযা পালন কর অথবা ছয়জন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান কর। প্রতিটি দরিদ্রকে অর্ধ সা‘ খাদ্য প্রদান করতে হবে এবং তোমার মাথার চুল কামিয়ে ফেল। তখন আমার সম্পর্কে বিশেষভাবে আয়াত নাযিল হয়। তবে তা তোমাদের সকলের জন্য প্রযোজ্য।
হাদিস নং - ৪১৬৪
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তামাত্তুর আয়াত আল্লাহর কিতাবে নাযিল হয়েছে। এরপর আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে তা আদায় করেছি। এবং একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কুরআনের কোন আয়াত নাযিল হয়নি। এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল পর্যন্ত তা থেকে নিষেধও করেনি। এখন যে তা নিষেধ করতে চায় তা হচ্ছে তার নিজস্ব অভিমত।
হাদিস নং - ৪১৬৫
মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উকায, মাজানো্না এবং যুল-মাজায নামক তিনটি স্থানে জাহেলী যুগে বাজার ছিল। কুরাইশগণ তথায় হাজ্জের (হজ্জ) মওসুমে ব্যবসা করতে যেত। তাই মুসলিমগণ সেখানে যাওয়া দোষ মনে করত। তাই এ আয়াত নাযিল হয়।
হাদিস নং - ৪১৬৬
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কুরাইশ এবং যারা তাদের দ্বীনের অনুসারী ছিল তারা (হাজ্জের (হজ্জ) সময়০ মুযদালিফায় অবস্থান করত। ার কুরাইশগণ নিজেদের সাহসী ধর্মে অটল বলে অভিহিত করত এবং অপরাপর আরবগণ আরাফাতে অবস্থান করত। এরপর যখন ইসলামের আগমন হল, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আরাফাতে ওকুফের এবং রেপর সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিলেন। আয়াতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হাদিস নং - ৪১৬৭
মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তামাত্তু আদায়কারী ব্যাক্তি উমরা আদায়ের পরে যতদিন হালাল অবস্থায় থাকবে ততদিন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে। তারপর হাজ্জের (হজ্জ) জন্য ইহরাম বাঁধবে। এরপর যখন আরাফাতে যাবে তখন উট, গরু, ছাগল প্রভৃতি যা মুহারিমের জন্য সহজলভ্য হয় তা মীনাতে কুরবানী করবে। আর যে কুরবানীর সঙ্গতি রাখে না সে হাজ্জের (হজ্জ) দিনসমূহের মধ্যে তিনটি রোযা পালন করবে। আর তারাফার দিবসের পূর্বে হতে হবে। আর তিন দিনের শেষ দিন যদি আরাফার দিন হয়, তবে তাতে কো্ন দোষ নেই। তারপর আরাফাত ময়দানে যাবে এবং সেখানে সালাত (নামায/নামাজ) আসর হতে সূর্যাস্তের অন্ধকার পর্যন্তওকুফ (অবস্থান) করবে। এরপর আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুযদালিফায় পৌঁছে সেখানে নেকী হাসিলের কাজ করতে থাকবে এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকর করবে। সেখানে ফজর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করবে। এরপর (মদিনার) দিকে প্রত্যাবর্তন করবে যেভাবে অন্যান্য লোক প্রর্ত্যাবর্তন করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘এরপর প্রত্যাবর্তন করে সেখান হতে, যেখান হতে লোকজন প্রত্যাবর্তন করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাশীল, দয়াময়। ’’ তারপর জমরাতুল উকাযার প্রস্তর নিক্ষেপ করবে।
হাদিস নং - ৪১৬৮
আবূ মা‘মার (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে দুআ করতেন, ‘‘হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। ’’ (২: ২০১)
হাদিস নং - ৪১৬৯
কাবীসা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর নিকট ঘৃণিত মানুষ হচ্ছে অতিরিক্ত ঝগড়াটে ব্যাক্তি। আবদুল্লাহ বলেন, আমার কাছে সুফিয়ান হাদীস বর্ণনা করেন, সুফিয়ান বলেন আমার কাছে ইবনু যুরায়জ ইবনু আবূ মূলায়কা হতে আয়িশা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই মর্মে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৪১৭০
ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহর বাণীঃ ‘‘অবশেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণ যখন নিরাশ হলেন এবং লোকেরা ভাবলো যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে (১২: ১১০), তখন ইবনু আববাস (রাঃ) এই আয়াতসহ সূরা বাকারার আয়াতের শরনাপন্ন হন ও তিলাওয়াত করেন, যেমনঃ এমন কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাএথ ঈমান আনয়নকারীগণ বলে উঠেছিল-আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? হ্যাঁ, হ্যাঁ, আল্লাহর সাহায্য নিকটেই (২:২১৪) রাবী বলেন, এরপর আমি উরওয়া ইবনু যুবায়রের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করি, তখন তিনি বলেন যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, আল্লাহর কসম, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল) -এর নিকট যেসব অঙ্গীকার করেছেন, তিনি জানতেন যে তা তাঁর মৃত্যুর পূর্বেই বাস্তবে পরিণত হবে। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণের প্রতি সমূহ বিপথ-আপদ নিপতিত হতে থাকবে। এমন কি তারা আশঙ্কা করবে যে, সঙ্গী-সাথীরা তাদেরকে মিথ্যুক প্রতিপন্ন করবে। এ প্রসঙ্গে আয়িশা (রাঃ) এ আয়াত পাঠ করতেন তারা ভাবল যে, তারা তাদেরকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করবে।
হাদিস নং - ৪১৭১
ইসহাক (রহঃ) নাফি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) যখন কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখন কুরআন তিলাওয়াত হতে অবসর না হয়ে কোন কথা বলতেন না। একদা আমি সূরা বাকারা পাঠ করা অবস্থায় তাঁকে পেলাম। পড়তে পড়তে তিনি এক স্থানে পৌঁছলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি জানো, কি উপলক্ষ্যে এ আয়াত নাযিল হয়েছে? আমি বললাম, না। তিনি তখন বললেন, অমুক অমুক ব্যাপারে আয়াত নাযিল হয়েছে। তারপর আবার তিনি তিলাওয়াত করতে থাকেন। আবদুস সামাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করে আইয়ুব, তিনি নাফি‘ থেকে আর নাফি‘ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার। (২: ২২৩)। রাবী বলেন, স্ত্রীলোকের পশ্চাৎ দিক দিয়ে সহবাস করতে পারে। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি‘ থেকে এবং তিনি ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৪১৭২
আবূ নু‘আইম (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহুদীরা বলতো যে, যদি কেউ স্ত্রীর পেছন দিক থেকে সহবাস করে তাহলে সন্তান টেরা চোখের হয়। তখন (তাদের এ ধারণা রদ করে) আয়াত অবতীর্ণ হয়।
হাদিস নং - ৪১৭৩
উবায়দুল্লাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ)মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার এক বোনের বিয়ের পয়গাম আমার নিকট পেশ করা হয়। আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন যে, ইবরাহীম (রহঃ) ইউনুস (রহঃ) থেকে, তিনি হাসান বসরী (রহঃ) থেকে এবং তিনি মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ মা‘মার (রহঃ)হাসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)-এর বোনকে তার স্বামী তালাক দিয়ে তারপর পৃথক করে রাখে। যখন ‘ইদ্দত পালন পূর্ণ হয় তখন তার স্বামী তাকে আবার পয়গাম পাঠায়। মা‘কিল (রাঃ) অমত পোষণ করে তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। ‘‘তারা তাদের স্বামীর সাথে পুনরায় বিধিমত বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হতে চাইলে তাদের তোমরা বাঁধা দিওনা। (২: ২৩২)
হাদিস নং - ৪১৭৪
উমাইয়া (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)-কে উক্ত সম্পর্কে বললাম যে, এ আয়াত তো অন্য আয়াত দ্বারা মানকুক (রহিত) হয়ে গেছে। অতএব উক্ত আয়াত আপনি মুসহাফে লিখেছেন (অথবা রাবী বলেন) কেন বর্জন করছেন না, তখন তিনি নউসমান (রাঃ) বললেন, হে ভাতিজা আমি মুসহাফের স্থান থেকে কোন জিনিস পরিবর্তন করব না।
হাদিস নং - ৪১৭৫
ইসহাক (রহঃ) মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর পরিবার থেকে ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। আয়াতে উল্লিখত শব্দের অর্থ দান করে। অনন্তর আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেনঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে সপত্নীক অবস্থায় যাদের মৃত্যু আসন্ন তারা যেন তাদের স্ত্রীদের গৃহ হতে বহিস্কার না করে তাদের এক বছরের ভরণ পোষণের ওসীয়ত করে। কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায় তবে বিধিমত নিজেদের জন্য তারা যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়। (২: ২৪০) রাবী বলেন, আল্লাহ তা‘আলা স্ত্রীর জন্য পূর্ণ বছর সতের মাস এবং বিশ রজনী নির্ধারিত করেছেন ওসীয়ত হিসেবে। সে ইচ্ছা করলে তার ওসয়ত থাকতে পারে, ইচ্ছা করলে বের হয়েও যেতে পারে। এ কথারই ইঙ্গিত করে আল্লাহর বাণীঃ মোট কথা যেভাবেই হোক স্ত্রীর উপর ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। মুজাহিদ থেকে এরূপই জানাগেছে। কিন্তু ইমাম আতা বলেন যে, ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, এই আয়াত স্ত্রীর প্রতি তার স্বামীর বাড়িতে ‘ইদ্দত পালন করার হুকুম রহিত করে দিয়েছে। সুতরাং স্ত্রী যথেচ্ছা ‘ইদ্দত পালন করতে পারে। আল্লাহর এ বাণী দলীল বলেঃ ইমাম আতা বলেন, স্ত্রী ইচ্ছা করলে স্বামীর পরিজনের নিকট ‘ইদ্দত পালন করতে পারে এবং তার ওসীয়ত থাকতে পারে অথবা তথা হতে চলেও যেতে পারে। আয়াতের মর্মানুসারে। ইমাম আতা (রাঃ) বলেন, তারপর মিরাস বা উত্তরাধিকারের হুকুম আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হল। সুতরাং ঘর ও বাসস্থানের নির্দেশ রহিত হয়ে যায়। কাজেই যথেচ্ছা স্ত্রী ‘ইদ্দত পালন করতে পারে। আর তার জন্য ঘরের বা বাসস্থানের দাবি আগ্রহ্য। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ হতে বর্ণিত, হাদীস বর্ণনা করেন আমার নিকট ওয়াকা’ ইবনুুাবি নাজীহ থেকে আর তিনি মুজাহিদ থেকে এ সম্পর্কে। এবং আরো আবী নাজীহ আতা থেকে এবং তিনি ইবনু আববাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, এই আয়াত স্ত্রীর ‘ইদ্দত পালন করতে পারে। আল্লাহর এই বাণীঃ এবং তদনুরূপ আয়াত এর দলীল মুতাবিক।
হাদিস নং - ৪১৭৬
হিববান (রহঃ) মুহাম্ম ইবনু সীরীন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এমন একটি জলসায় (সভায়) উপবিষ্ট ছিলাম যেখানে নেতৃস্থানীয় আনসারদের কতেক ছিলেন, এবং তাদের মাঝে আবদুর রহমান বিন আবূ লায়লা (রহঃ)-ও ছিলেন। এরপর সুবাইয়া বিনতে হারিস (রহঃ) প্রসঙ্গে বর্ণিত আবদুল্লাহ বিন উতবা (রহঃ) হাদীসটি উত্থাপন করলাম, এরপর আবদুর রহমান (রহঃ) বললেন, ‘‘পক্ষান্তরে তাঁর চাচা এ রকম বলতেন না’’ অনমত্ম আমি বললাম, কূফায় বসবাসরত ব্যাক্তিটি সম্পর্কে যদি আমি মিথ্যা বলি তবে আমি হব চরম ধৃষ্ট এবং তিনি তার স্বর উচুঁ করলেন, তিনি বললেন, তারপর আমি বের হলাম এবং মালিক বিন আমির (রাঃ) মালিক ইবনু আউফ (রহঃ)-এর সাথে আমি বললাম, গর্ভাবস্থায় বিধবা রমণীর ব্যাপারে ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর মমত্মব্য কি ছিল, বললেন যে ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেছেন, তোমরা কি তার উপর কঠোরতা অবলম্বন করছ আর তার জন্য সহজ বিধানটি অবলম্বন করছ না, সংক্ষিপ্ত ‘‘সূরা নিসাটি (সূরা ত্বালাক) দীর্ঘটির পর অবতীর্ণ হয়েছে। আইয়ুব (রহঃ) মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘‘ আবূ আতিয়হ মালিক বিন আমির (রহঃ)-এর সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছিলাম।
হাদিস নং - ৪১৭৭
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হা, আবদুর রহমান আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন কাফিরগণ আমাদের মধ্যবর্তী সালাত (নামায/নামাজ) থেকে বিরত রাখে এমনকি এ অবস্থায় সূর্য অস্তে চলে যায়। আল্লাহ তাদের কবর ও তাদের ঘরকে অথবা পেটকে আগুন দ্বারা পূর্ণ করুক। এখানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর না পেট বলেছেন তাতে ইয়াহইয়া রাবীর সন্দেহ রয়েছে।
হাদিস নং - ৪১৭৮
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) যায়িদ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতাম আর আমাদের কেউ তার ভাইয়ের প্রসঙ্গে কথা বলতেন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ তখন আমাদেরকে চুপ থাকার ও সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে কথা না বলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাদিস নং - ৪১৭৯
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) নাফি‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-কে যখন সালাতুল (নামায) খাওফ (যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুভয়ের মধে সালাত (নামায/নামাজ)) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হত তখন তিনি বলতেন, ইমাম সাহেব সামনে যাবেন এবং একদল লোকও জামাতে শামিল হবে। তিনি তাদের সঙ্গে এক রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবেন এবং তাদের আর একদল জামাতে শামিল না হয়ে তাদের ও শত্রুর মাঝখানে থেকে যারা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেনি তাদের পাহারা দিবে। ইমামের সাথে যারা এক রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছে তারা পেছনে গিয়ে যারা এখনও নামায় আদায় করেনি তাদের স্থানে দাঁড়াবে কিন্তু সালাম ফিরাবে না। যারা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেনি তারা আগে বাড়বে এবং ইমামের সাথে এক রাকাআত আদায় করবে। তারপর ইমাম সালাত (নামায/নামাজ) হতে অবসর গ্রহণ করবে। কেননা তিনি দু’রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছেন। এরপর উভয় দল দাঁড়িয়ে নিজে নিজে বাকি এক রাকাআত ইমামের সালাত (নামায/নামাজ)-এর শেষে আদায় করে নিবে। তাহলে প্রত্যেক জনেরই দু’রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় হয়ে যাবে। আর যদি ভয়-ভীতি ভীষণতর হয় নিজে নিজে দাঁড়িয়ে অথবা যানবাহনে আরোহিত অবস্থায় কিবলার দিকে মুখ করে অসুবিধা হলে যেদিকে সম্ভব মুখ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ইমাম নাফি‘ (রাঃ) বলেন, আমি অবশ্য মনে করি ইবনু উমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেই এ হাদীস বর্ণণা করেছেন।
হাদিস নং - ৪১৮০
আবদুল্লাহ ইবনু আবূল আসওয়াদ (রহঃ) ইবনু আবূ মূলায়কা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি উসমান (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, সূরা বাকারার এ আয়াতটি কে তো অন্য একটি আয়াত রহিত করে দিয়েছে। তারপরও আপনি এভাবে লিখছেন কেন? জবাবে উসমান (রাঃ) বললেন, ভ্রাতুষ্পুত্র। আমরা তা যথাস্থানে রেখে দিয়েছি। আপন স্থান থেকে কোন কিছুই আমরা পরিবর্তন করিনি। হুমাইদ (রহঃ) বললেন, ‘‘অথবা প্রায় এরকমই উত্তর দিয়ে দিলেন। ’’
হাদিস নং - ৪১৮১
আহমদ ইবনু সালিহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন প্রভু! তুমি আমাকে দেখাও কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত কর? তখন তাঁর তুলনায় আমার সন্দেহ পোষণের ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য ছিলাম। শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘সেগুলোকে টুকরো টুকরো করুন।
হাদিস নং - ৪১৮২
ইবরাহীম উবায়দ ইবনু ইমায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা উমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীগণদের জিজ্ঞাসা করলেন যে, এ আয়াতটি যে উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়েছে, সে ব্যঅপারে আপনাদের মতামত কি? তখন তারা বললেন, আল্লাহই জানেন। উমর (রাঃ) এতে রেগে গিয়ে বললেন, আমরা জানি অথবা জানিনা এদুহটোর একটি বল। ইবনু আববাস (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ ব্যাপারে আমার অমত্মককিছুটা ধারণা আছে। উমর (রাঃ) ভলেন, বৎস! বলে ফেল এবং নিজেকে তুচ্ছ ভেবো না। তখন ইবনু আববাস (রাঃ) বললেন, এটা কর্মে দৃষ্টামত্ম হিসাবে পেশ করা হয়েছে। উমর (রাঃ) বললেন, কোন কর্মের? ইবনু আববাস (রাঃ) বললেন, একটি কর্মের। উমর (রাঃ) বললেন, এটি উদাহরণ হচ্ছে সেই ধনবান ব্যাক্তির, যে আল্লাহর ইবাদত করতে থাকে, এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর্রতি শয়তানকে প্রেরণ করেন। অনমত্ম সে পাপ কার্যে লিপ্ত হয় এবং তার সকল সৎকর্ম নষ্ট করে দেয়।
হাদিস নং - ৪১৮৩
ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) আতা ইবনু ইয়াসার এবং আবূ আমরা আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে বলেন যে, আমরা আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি খেজুর কি দু’টি খেজুর আর এক গ্রাস খাদ্য কি দু’ গ্রাস খাদ্য যাকে দ্বারে দ্বারে ঘোরাতে থাকে সে প্রকৃত মিসকীন নয়। মিসকীন সে ব্যাক্তই, যে ভিক্ষা করা থেকে বেঁচে থাকে। তোমরা ইচ্ছা করলে আল্লাহর বাণী পাঠ করতে পার।
হাদিস নং - ৪১৮৪
উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুদ সম্পর্কিত সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিকট তা পাঠ করে শোনালেন। তারপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।
হাদিস নং - ৪১৮৫
বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হলেন এবং মসজিদে গিয়ে লোকদের নিকট পাঠ করে শোনালেন। এরপর মদের ব্যবসা নিসিদ্ধ ঘোষণা করলেন।
হাদিস নং - ৪১৮৬
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আয়িশা র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গিয়ে তা পাঠ করে আমাদের শোনান এবং মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষনা করলেন।
হাদিস নং - ৪১৮৭
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরা বাকারার শেষ দিকের আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং আমাদের সম্মুখে তা পাঠ করলেন। তারপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।
হাদিস নং - ৪১৮৮
কাবীসা ইবনু উকবা (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর অবতারিত শেষ আয়াতটি হচ্ছে সুদ সম্পর্কিত।
হাদিস নং - ৪১৮৯
মুহাম্মদ (রহঃ) মারওয়ান আল আসফার (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কোন একজন সাহাবীদরে থেকে বর্ণনা করেন, আর তিনি হচ্ছেন উব্ন উমর (রাঃ)-যে আয়াতটি রহিত হয়ে গেছে।
হাদিস নং - ৪১৯০
ইসহাক (রহঃ) মারওয়ানুল আসফার (রাঃ) একজন সাহাবী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন আর তিনি ধারণা করেন যে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ) হবেন। আয়াতটি রহিত হয়ে গিয়েছে।
হাদিস নং - ৪১৯১
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়াতটি তিনই তোমার প্রতি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন। এগুলো কিতাবের মূল অংশ; আর অন্যগুলো রূপক; যাদের অমত্মরে সত্য লংঘন প্রবণতা রয়েছে শুধু তারাইফিতনা এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্ধেশ্যে যা রূপক তা অনুসরণ করে। আল্লাহ ব্যতীত অনূ কেউ এর ব্যাখ্যা জাননা। আর যারা জ্ঞানে সু-গভীর, তাঁরা বলেন, আমরা এসব বিশ্বাস কির, সমস্তআমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে আগত; এং বোধশক্তি সম্পন্নেরা ব্যূতীত অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। (৩: ৭) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন যে, যারা মুতাশাবাহাত আয়াতের পেছনে ছুটে তাদের যখন তুমি দেখবে তখন মনে করব যে তাদের কথাই আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। আল্লাহর বাণীঃ অভিশপ্ত শয়তান থেকে তার ও তার বংশধরদের জন্য তোমার শরণ ও আশ্রয় চাচ্ছি। (৩: ৩৬)
হাদিস নং - ৪১৯২
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রত্যেক নবপ্রসূত বাচ্চা জন্ম গ্রহণ করার সময় শয়তান তাকে স্পর্শ করেই। যার ফলশ্রুতিতে শয়তানের স্পর্শমাত্র সে চিৎকার করে উঠে। কিন্তু মরিয়ম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পুত্র ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে পারেনি। তারপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলতেন, যদি তোমরা ইচ্ছা কর তাহলে পড়ঃ (৩ : ৩৬) ”অতঃপর যখন তাকে প্রসব করলো বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি একে কন্যা প্রসব করেছি। বস্তুতঃ কি সে প্রসব করেছে আল্লাহ তা ভালই জানেন। সেই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম। আর আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি। অভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে। ”
হাদিস নং - ৪১৯৩
হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলিম ব্যাক্তির সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে যে মিথ্যা শপথ করে, সে আল্লাহ সম্মুখীন হবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ থাকবেন। এর সত্যতা প্রমাণের জন্য আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেনঃ (৩ : ৭৭) ”যারা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মুল্যে বিক্রয় করে, আখেরাতে তাদের কেন অংশ নেই। আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টিও দেবেন না। আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। ” বর্ণনাকারী বললেন, এরপর আশআস ইবনু কায়েস (রহঃ) সেখানে প্রবেশ করলেন এবংবললেন, আবূ আবদুর রহমান (রাঃ) তোমাদের নিকট কোন হাদীস বর্ণনা করেছেন? আমরা বললাম, এ রকম এ রকম বলেছে। তখন তিনি বললেন, এ আয়াত তো আমাকে উপলক্ষ করেই অবতীর্ণ হয়েছে। আমার চাচাতো ভাইয়ের এলাকায় আমার একটি কূপ ছিল। এ ঘটনায় জ্ঞাত হয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হয়তো তুমি প্রমাণ উপস্থাপন করবে নতুবা সে শপথ করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো শপথ করে বসবে। অনন্তর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যাক্তি কোন মুসলমানের সম্পত্তি হরণ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা শপথ করে সে আল্লাহর সম্মুখীন হবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহই তার উপর ক্রুদ্ধ থাকবেন।
হাদিস নং - ৪১৯৪
আলী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি বাজারে তার একটি দ্রব্য উপস্থি করল এবং মসলিমদের আটক করার জন্য শপথ সহকারে প্রচার করল যে, এর যে মূল্য দেওয়া কথা হচ্ছে এর চেয়ে অধিক দিতে কোন ক্রেতা রাযী হয়েছিল। তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ (৩ : ৭৭) ”যারা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মুল্যে বিক্রয় করে, আখেরাতে তাদের কেন অংশ নেই। আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টিও দেবেন না। আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। ”
হাদিস নং - ৪১৯৫
নসর ইবনু আলী (রহঃ) ইবনু আবূ মূলায়কা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, দু’জন মহিলা একটি ঘর কিংবা একটি কক্ষে সেলাই করছিল। হাতের তালুতে সুই বিদ্ধ হয়ে তাদের একজন বেরিয়ে পড়ল এবং অপর জনের বিরুদ্ধে সুই ফুটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করল। এই ব্যাপারটি ইবনু আববাস (রাঃ)-এর নিকট উপস্থাপন করা হলে তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি শুধু মাত্র দাবির উপর ভিত্তি করে মানুষের দাবি পূরণ করা হয়, তাহলে তাদের জানো ও মালের নিরাপত্তা থাকবে না। সুতরায় তোমরা বিবাদিদের আল্লাহর নামে শপথ করাও এ আয়াত া তার সম্মুখে পাঠ কর। এরপর তারা তাকে শপথ করাল এবং সে নিজ দোষ স্বীকার করল। ইবনু আববাস (রাঃ) বললে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শপথ করা বিবাদীর জন্য প্রযোজ্য।
হাদিস নং - ৪১৯৬
ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ সুফিয়ান আমাকে সামনাসামনি হাদীস শুনিয়েছেন। আবূ সুফিয়ান বলেন, আমাদের আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদে আমি ভ্রমণে বের হয়ে ছিলাম। আমি তখন সিরিয়ায় অবস্থান করছিলাম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পক্ষ থেকে হিরাক্লিয়াসের নিকট থেকে একখানা পত্র পৌছান। দাহইয়াতুল কালবী এ চিঠিটা বসরাধিপতিকে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি হিরাক্লিয়াসের নিকট পৌছিয়ে দিলেন। পত্র পেয়ে হিরাক্লিয়াস নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র দাবিদার ব্যাক্তির গোত্রস্থি কেউ এখানে আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল, হ্যাঁ আছে। কয়েকজন কুরাইশীসহ আমাকে ডাকা হলে আমরা হিরাক্লিয়াসের নিকট গেলাম এবং আমাদেরকে তাঁর সম্মুখে বসালেন। এরপর তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র দাবিদার ব্যাক্তির তোমাদের মধ্যে নিকটতম আত্মীয় কে? আবূ সুফিয়ান বললেন, উত্তরে বললাম আমই। তারা আমাকে তাদের সম্মুখে এবং আমার সাথীদেরকে আমার পিছনে বসালেন। তারপর দোভাষিকে ডাকলেন এবং বললেন, এদেরকে জানিয়ে দাও যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম র দাবিদার ব্যাক্তিটি সম্পর্কে আবূ সুফিয়ানকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে সে যদি আমার নিকট মিথ্যা বলে তোমরা তার মিথ্যাচারিতা ধরিয়ে দিবে। আবূ সুফিয়ান বলেন, যদি তাদের পক্ষ থেকে আমাকে মিথ্যুক প্রমাণের আশংকা না থাকত তাহলে আমি মিথ্যা বলতামই। সুফিয়ান বললেন, তিনি আমাদের মধ্যে অভিজাত বংশের অধিকারী। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ কি রাজা-বাদশাহ ছিলেন? আমি বললাম, না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পূর্বে তোমরা তাঁকে কখনো মিথ্যূাচারের অপবাদ দিতে পেরেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তিবর্গ তাঁর অনুসরণ করছে, না দূর্বলগণ? আমি বললাম, বরং দুর্বলগণ। তিনি বললেন, তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না হ্রাস পাচ্ছে। আমি বললাম বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বললেন, তাঁর ধর্মে দীক্সিত হওয়ার পর তাঁর প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে কেউ কি ধর্ম ত্যাগ করে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ করেছ কি? আমি বললাম, জি হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলাফল কি? আমি বললাম, আমাদের ও তাদের মধ্যে যুদ্ধের ফলাফল হলঃ একবার তিনি জয়ী হন, আর একবার আমরা জয়ী হই। তিনি বললেন, তিনি প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করেন কি? বললাম, না। তবে বর্তমানে আমরা একটি সন্ধির মেয়াদে আছি। দেখি এতে তিনি কি করেন। আবূ সুফিয়ান বলেন, আল্লাহর শপথ এর সাথে আর অতিরিক্ত কিছু বক্তব্য সংযোজন করার সাহস আমার ছিল না। বললেন, তাঁর পূর্বে এমন কেউ কি আর দাবি করেছে? বললাম না। তারপর তিনি তার দোভাষিকে বললেন যে, একে জানিয়ে দাও যে আমি তোমাকে তোমাদের সাথে সে ব্যাক্তির বংশ মর্যাদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তারপর তুমি বলেছ যে, সে আমাদের মধ্যে কুলীন। তদ্রুপ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণ শ্রেষ্ঠ বংশেই জন্মগ্রহণ করে থাকেন। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে তাঁর পূর্বপুরুষের কেউ রাজা-বাদশাহ ছিলেন কিনা? তুমি বলেছ, না। তাই আমি বলছি যে, যদি তাঁর পূর্বপুরুষের কেউ রাজা-বাদশাহ থাকতেন তাহলে বলতাম তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করতে চাচ্ছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, দুর্বলগণ তাঁর অনুসারী না সম্ভ্রামত্মগণ? তুমি বলেছ দুর্বলগণই। আমি বলেছি যে যুগে যুগে দুর্বলগণই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দের অনুসারী হয়ে থাকি। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, এ দাবির পূর্বে তোমরা তাঁকে কখনো মিথ্যাচারের অপবাদ দিয়েছিলে কি? তুমি উত্তরে বলেছ যে, না। তাতে আমি বুঝেছি যে, যে ব্যাক্তি প্রথমে মানুষদের সাথে মিথ্যাচার ত্যাগ করেন, তারপর আল্লাহর সাথে মিথ্যাচারিতা করবেন, তা হতে পারে না। আমি তোমাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তাঁর প্রতি বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হয়ে কেউ ধর্ম ত্যাগ করে কিনা? তুমি বলেছ, না। আমি বলেীছ, ঈমান যখন অমত্মরের অমত্মস্থলে একবার প্রবিষ্ট হয় তখন এ রকমই হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁর অনুসারীরা বৃদ্ধি পাচ্ছে না হ্রাস পাচ্ছে? তুমি বলেছ, ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি বলেছি, ঈমান পূর্ণতা লাভ করলে এ অবস্থাই হয়। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তাঁর বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করেছ কি? তুমি বলেছ যে, যুদ্ধ করেছ এবং তার ফলাফল হচ্ছে পানি উত্তোলনের বালতির ন্যায়। কখনো তোমাদের বিরুদ্ধে তারা জয়লাভ করে আবার কখনো তাদের বিরুদ্ধে তোমরা জয়লাভ কর। এমনিভাবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দের পরীক্ষা করা হয়, তাপর চুড়ামত্ম বিজয় তাদের পক্ষেই হয়ে থাকে। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন কিনা? তুমি বলেছ না। তদ্রুপ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণ প্রতি্ঞা ভঙ্গ করেন না। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁর পূর্বে কেউ এ দাবি উত্থাপন করেছিল কিনা? তুমি বলেছ, না। আমি বলি যদি কেউ তাঁর পূর্বে এ ধরণের দাবি করে থাকত তাহলে আমি মনে করতাম এ ব্যাক্তি পূর্ববর্তী দাবির অনুসরণ করছে। আবূ সুফিয়ান বলেন, তারপর হিরাক্লিয়াস জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি তোমাদের কি কাজের নির্দেশ দেন? আমি বললাম, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করতে, যাকাত প্রদান করতে, আত্মীয়তা রক্ষা করতে এবং পাপচারিতা থেকে পবিত্র থাকার নির্দেশ দেন। হিরাক্লিয়াস বললেন, তাঁর সম্পর্কে তোমার বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে তিনি ঠিকউ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , তিনি আবির্ভূত হবেন তা আমি জানতাম বটে তবে তোমাদের মধ্যে আবির্ভূত হবেন তা মনে করিনি। যদি আমি তাঁর সান্নিধ্যে পৌছাবার সুযোগ পেতাম তাহলে আমি তাঁর সাক্ষাতকে অগ্রাধিকার দিতাম। যদি আমি তাঁর নিকট অবস্থান করতাম তাহলে আমি তাঁর পদযুগল ধুইয়ে দিতাম। আমার নিচের জমীন পর্যন্ত তাঁর রাজত্ব বিস্তৃত লাভ করবে। আবূ সুফিয়ান বলেন, তারপর হিরাক্লিয়াস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পত্রখানি আনতে বললেন। এরূপ পাঠ করতে বললেন। চিঠির বক্তব্য এইঃ দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ -এর পক্ষ থেকে রোমের অধিপতি হিরাক্লিয়াসের প্রতি। হেদায়েতের অনুসারীর প্রতি শামিত্ম বর্ষিত হোক। এরপরামি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি, ইসলাম গ্রহণ করুন, মুক্তি পাবেন। ইসলাম গ্রহণ করুন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে দ্বিগুন প্রতিদান দেবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে থাকেন তাহলে সকল প্রজার পাপরাশিও আপনার উপর নিপতিত হবে। হে কিতাবিগণ! এসো সে কথায়, যামাদের ও তোমাদের মধ্যে একই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবো না, কোন কিছুতেই তাঁর সাথে শরীক না করি। ার আমাদের একে অন্যকে আল্লাহ ব্যতীত প্রতিপালকরূপে গ্রহণ না করি। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা মুসলিম। যখন তিনি পত্র পাঠ সমাপ্ত করলেন চতুর্দিকে উচ্চ রব উঠল এবং গুনজন বৃদ্ধি পেল। তারপর তাঁর নির্দেশে আমাদের বাইরে নিয়ে আসা হল। আবূ সুফিয়ান বলেন, আমরা বেরিয়ে আসার পরামি আমার সাথীদের বললা যে, আবূ কাবশার সন্তানের ব্যাপারে তো বিসত্মর প্রভাব লাভ করেছে। রোমীয় রাষ্ট্র নায়ক পর্যন্ত তাকে ভয় পায়। তখন থেকে আমার মনে এ দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বীন অতি সত্বর বিজয় লাভ করবে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ইসলামে দীক্ষিত করলেন। ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন, তারপর হিরাক্লিয়াস রোমের নেতৃবৃন্দকে ডেকে একটি কক্ষে একত্রিত করলেন এবং বললেন, হে রোমকগণ! তোমরা কি আজীবন সৎপথ ও সফলতার প্রত্যাশী এবং তোমাদের রাজত্ব অটুট থাকুক? এতে তারা তার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে বন্য-গর্দভের ন্যায় পলায়নরত হল। কিন্তু দরজা গুলো সবই বন্ধ পেল। এরপর বাদশাহ নির্দেশ দিলেন যে, তাদের সবাইকে আমার নিকট নয়ে এসো। তিনি তাদের সবাইকে ডাকলেন এবং বললেন, তোমাদের ধর্মের উপর তোমাদের আস্থা কতটুকু আছে তা আমি পরীক্ষা করলাম। আমি যা আশা করেছিলাম তা তোমাদের থেকে পেয়েছি। অনন্তর সবাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করল এবং তার উপর সন্তুষ্ট থাকল।
হাদিস নং - ৪১৯৭
ইসমাঈল (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, মদিনা মনোয়ারায় আবূ তালহা (রাঃ)-ই অধিক সংখ্যক খেজুর বৃক্সের মালিক ছিলেন। তার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সম্পত্তি ছিল ‘‘বীরাহা’’ নামক বাগান। আর তা ছিল মসজিদের সম্মুকে। রাসূলুল্লাহ সেখানে এসে সেখানকার (কূপের) সুমিষ্ট পান পান করতেন। যখন আয়াতটি নাযিল হল, তখন আবূ তালহা (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ বলেছেন, ‘‘তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যায় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না। ’’ (৩ঃ ৯২) আমার সর্বাধিক প্রিয় সম্পত্তি বীরাহা। এটা আল্লাহ ওয়াসেত্মামি দান করে দিলাম। আমি আল্লাহর নিকট পূণ্য ও সঞ্চয় চাই। আল্লাহ আপনাতে যেখানে নির্দেম দেন আপনি সেখানে তা ব্যয় করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাহ! ওটি তো ক্ষয়িঞ্চু সম্পদ ওটি তো ক্ষয়িঞ্চু সম্পদ, তুমি যা বলেছ আমি তা শুনেছি। তুমি তা তোমার নিকট আত্মীয়কে দিয়ে দাও, আমি এ রায় দিচ্ছি। আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা করব। তারপর আবূ তালহা (রাঃ) সেটা তাঁর চাচাতো ভাই-বোন ও আত্মীয়দের মধ্যেবণ্টন করে দিলেন। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ ও ইবনু উবাদাহ (রাঃ)-এর বর্ণনায় ‘‘ওটা তো লাভ জনক সম্পত্তি’’ বলে উল্লেখিত হয়েছে।
হাদিস নং - ৪১৯৮
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, আমি মালিক (রহঃ)-এর নিকট ‘‘ক্ষয়িষ্ণু সম্পদ পড়েছি। ’’
হাদিস নং - ৪১৯৯
মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এরপর আবূ তালহা (রাঃ) হাসসান ইবনু সাবিত এবং উবায় ইবনু কাআবের মধ্যেবণ্টন করে দিলেন। আমি তার নিকটাত্মীয় ছিলাম। কিন্তু আমাকে তা থেকে কিছুই দেননি।
হাদিস নং - ৪২০০
ইবরাহীম ইবনু মুনযির আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে এমন দু’জন পুরুষ ও মহিলা নিয়ে ইহুদীগণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দরবারে উপস্থিত হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, তোমাদের ব্যভিচারীদেরকে তোমরা কিভাবে শাস্তি দাও? তারা বলল, আমরা তাদের চেহারা কালিমালিপ্ত করি এবং তাদের প্রহার করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান পাও না? তারা বলল, আমরা তাতে এতদ সম্পর্কিত কোন কিছু পাই না। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাত আন এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তা পাঠ কর। এরপর তাওরাত পাঠের সময় তাদের পন্ডিত-পাঠক প্রস্তর নিক্ষেপ বিধির আয়াতের উপর স্বীয় হস্ত রেখে তা থেকে কেবল পূর্ব ও পরের অংশ পড়তে লাগল। রজমের আয়াত পড়ছিল না। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার হাতটি তুলে ফেলে বললেন, এটা কি? যখন তারা পরিস্থিতি বেগতিক দেখল তখন বলল, এটি রজমের আয়াত। অনন্তর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। এবং মসজিদের পার্শ্বে জানাযাগাহের নিকটে উভয়কে ‘রজম’ করা হল। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, আমি সেই পুরুষটিকে দেখেছি যে নিজে মহিলার উপর উপুড় হয়ে তাকে প্রস্তরাঘাত হতে বাচানোর চেষ্টা করছে।
হাদিস নং - ৪২০১
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) আয়াত সম্পর্কে বলেন, মানুষের জণ্যে মানুষ কল্যাণজনক তখনই হয় যখন তাদের গ্রীবাদেশে শিকল লাগিয়ে নিয়ে আসে। এরপর তারা ইসলামে প্রবেশ করে।
হাদিস নং - ৪২০২
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়াতটি আমাদেরকে উপলক্ষ করেই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দু’দল বনী হারিছা আর বনী ছালিমা। যেহেতু এ আয়াতে‘‘আল্লাহ উভয়ের সহায়ক’’ উল্লেখ আছে, সেহেতু এটা অবতীর্ণ না হোক তা আমরা পছন্দ করতাম না। সুফিয়ান (রাঃ)-এর এক বর্ণণায় আমাকে ভাল লাগেনি’ আছে।
হাদিস নং - ৪২০৩
হিববান (রহঃ) সালিম (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন যে, তিনি ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর শেষ রাকাআতে রুকু থেকে মাথা তুলে ‘সামিআল্লাহ লিমান হামিদা, রাববানা ওলাকাল হামদ’ বলার পর এটা বলতেনঃ হে আল্লাহ! অমুক, অমুক, এবং অমুককে লানত২ দিন। তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন। তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন, এবিষয়ে তোমার করনীয় কিছুই নেই। কারণ তারা জালিম। ৩ (৩: ১২৮) ইসহাক ইবনু রাশিদ (রহঃ) ইমাম যুহরী (রহঃ) থেকে এটা বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৪২০৪
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো জন্য বদদোয়া অথবা দোয়া করার মনস্থ করতেন, তখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর রুকুর পরেই কুনূতে নাযিলা পড়তেন। কখনো কখনো সামি আল্লাহ লিমান হামিদা, আল্লাহুম্মা রাববানা লাকাল হামদ বলার পর বলতেন, হে আল্লাহ! ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদ, সালমা ইবনু হিশাম এবং আইয়াশ ইবনু আবূ রাবিয়াকে মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর শা স্তি কঠোর করুন। এ শ্বাসিত্মকে ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর যুগের দূর্ভক্ষের ন্যায় দুর্ভিক্ষে রূপামত্মরিত করে দিন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা গুলোকে উচ্চস্বরে বলতেন। কখনো কখনো তিনি কয়েকটি আরব গোত্রের নাম উল্লেখ করে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) বলতেন, হে আল্লাহ! অমুক এবং অমুককে লানত দিন। অবশেষ আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেনঃ (৩ : ১২৮) হয় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদেরকে আযাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কোন করণীয় নাই। কারণ তারা রয়েছে অন্যায়ের উপর।
হাদিস নং - ৪২০৫
আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) বারা ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদাতিক বাহিনীর উপর আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে সেনাপতি নির্ধারণ করেন। এরপর তাদের কতক পরাজিত হলে পালাতে লাগল, এটাই হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তোমাদের পেছন দিক থেকে ডাকছিলেন। মাত্র বারজন ছাড়া আর কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ছিলেন না।
হাদিস নং - ৪২০৬
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবূ তালহা (রাঃ) বলেন, আমরা উহুদ যুদ্ধের দিন আপন আপন সারিতে ছিলাম। তন্দ্রা আমাদের আচ্ছাদিত করে ফেলেছিল। তিনি বলেছিলেন, আমার তরবারী আমার হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল, আর আমি তা উঠাচ্ছিলাম, আবার পড়ে যাচ্ছিল, আবার আমি উঠাচ্ছিলাম।
হাদিস নং - ৪২০৭
আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, বাক্যটি ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, যখন তিনি অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। আর মুহাম্মদ বলেছিলেন যখন লোকেরা বলল, ‘‘তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করকিন্তু এটি তাদের ঈমান দৃঢ়তর করেছিল এবং তারা বলেীছল ‘‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্ম বিধায়ক’’ (৩: ১৭৩)
হাদিস নং - ৪২০৮
মালিক ইবনু ইসমাঈল (রহঃ)ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তখন তাঁর শেষ বক্তব্য ছিল ‘‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’’ তিনি কত উত্তম কর্ম বিধায়ক।
হাদিস নং - ৪২০৯
আবদুল্লাহ ইবনু মুনীর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যাকে আল্লাহ তাআলা ধন-সম্পদ দেন, তারপর সে তার যাকাত পরিশোধ করে না- কিয়ামত দিবসে তার ধন-সম্পদকে তার জন্য লোমবিহীন কালো-চিহৃ বিশিষ্ট সর্পে রূপামত্মরিত করা হবে এবং তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে। মুখের দু’ধার দিয়ে সে তাকে দংশন করতে থাকবে এবং বলবে, ‘আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চয়। ’ এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন(৩ : ১৮০) অর্থ আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন।
হাদিস নং - ৪২১০
আবূল ইয়ামান (রহঃ) উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার পিঠে আরোহন করেছিলেন, একটি পদকি চাঁদর তাঁর পরনে ছিল। উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে তাঁর পেছনে বসিয়েছিলেন। তিনি বনী হারিস ইবনু খাযরায গোত্রে অসুস্থ সা’দ ইবনু উবায়দা (রাঃ)-কে দেখতে যাচ্ছিলেন। এটা ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বেকার ঘটনা। বর্ণনাকারী বলেন যে, যেতে যেতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি মজলিশে<র সামনে গিয়ে পৌছলেন, যেখানে আবদুল্লাহ ইবনু উবায় বিন সালুলও ছিল-সে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। সে মজলিসে মুসলিম, মুশরিক, প্রতিমা পূজারী এবং ইহূদী সকল প্রকারের লোক ছিল এবং তথায় আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-ও ছিলেন। জন্তুর পদধূলি যখন মজলিস ছেয়ে ফেলল, তখন আবদুল্লাহ ইবনু উবায় আপন চাঁদরে নাক ঢেকে ফেলল। তারপর বলল, আমাদের এখানে ধুলো উড়িয়ো না। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদরকে সালাম করলেন। তারপর বাহন থেকে অবতরণ করলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিলেন এবং তাদেরকে কুআন মজীদ পাঠ করলেন। আবদুল্লাহ ইবনু উবায় বলল, , এই লোকটি! তুমি যা বলছ তা যদি সত্যি হয় তাহলে এর চেয়ে উত্তম কিছুই নেই। তবে আমাদের মজলিসে আমাদেরকে জ্বালাতন করবে না। তুমি তোমার তাবুতে যাও। যে তোমার কাছে যাবে তুমি তাকে তোমার কথা বলবে। অনন্তর আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আমাদের মজলিসে এগুলো আমাদের কাছে বলবেন, কারণ আমরা তা পছন্দ করি। এতে মুসলমান, মুশরিক এবং ইহূদীরা পরস্পর গালাগালি শুরু করল। এমনকি তারা মারামারিতে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম হল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে থামাচ্ছিলেন। অবশেষে তারা থামলো। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্তুর পিঠে আরোহণ করে রওয়অনা দিলেন এবং সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে সা’দ! আবূ হুবাব অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু উবায় কি বলেছে, তুমি শুনেছ কি! সে এমন বলেছে। সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তাকে ক্ষমা করে দিন। তার দিকে ভ্রক্ষেপ করবেন না। যিনি আপনার উপর কিতাব নাযিল করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ আপনার উপর যা নাযিল করেছেন তা সত্য। এতদঞ্চলের অধিবাসীগণ চুক্তি সম্পাদন করেছিল যে, তাকে শাহী টুপি পরাবে এবং নেতৃত্বের শিরস্ত্রানে ভুষিত করবে। যখন আল্লাহ তাআলা সত্য প্রদানের মাধ্যমে এ পরিকল্পনা অস্বীকার করলেন তখন সে ক্রদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং আপনার সাথে যে ব্যবহার করেছে যা আপনি দেখেছেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ক্ষমা করে দিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাঃ) মুশরিক এবং কিতাবীদেরতে ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের জ্বালাতনে ধৈর্যধারণ করতেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘‘তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের এবং মুশরিকদের নিকট থেকে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে (৩ঃ ১৮৬)। আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন, ‘‘তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও কিতাবীদরে মধ্যে অনেকই তোমাদের ঈমান আনার পর ঈর্ষামূলক মনোভাববশত আবার তোমাদেরকে সত্য প্রত্যঅখানকারীরূপে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্খা করে। তোমরা ক্সমা কর এবং উপেক্ষা কর, যতক্ষণ না আল্লাহ কোন নির্দেশ দেন। আল্লাহর সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। ’’ (২: ১০৯) আল্লাহ তাআলার নির্দেশ মোতাবেক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন। শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা অনুমতি দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বদরের যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কাফের কুরাইশ নেতাদেরকে হত্যা করলেন তখন ইবনু উবায় ইবনু সালুল তার সঙ্গী মুশরিক ও প্রতিমা পূজারীরা বলল, এটাতো এমন একটি ব্যাপার যা বিজয় লাভ করেছে। এরপর তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে ইসলামের বায়আত করে জাহেরীভাবে ইসলাম গ্রহণ করল।
হাদিস নং - ৪২১১
সাঈদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে তিনি যখন যুদ্ধে বের হতেন তখন কিছু সংখ্যক মুনাফিক ঘরে বসে থাকত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে যাওয়ার পর বসে থাকতে পারার আনন্দ প্রকাশ করত। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাবর্তন করলে তাঁর কাছে শপথ সহকারে অক্ষমতা প্রকাশ করত এবং যা করেনি তার জণ্যে প্রশংসিত হওয়াকে ভালবাসত।
হাদিস নং - ৪২১২
ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস অবহিত করেছেন যে, মারওয়ান (রাঃ) তাঁর দারোয়ানকে বললেন, হে নাফি! তুমি ইবনু আববাস (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বল, যদি প্রাপ্ত বস্ত্ততে আনন্দিত এবং করেনি এমন কাজ সম্পর্কে প্রশংসিত হতে আশাবাদী প্রত্যেক ব্যাক্তই শ্বাসিত্ম প্রাপ্ত হয় তাহলে তাবৎ মানুষই শ্বাসিত্ম প্রাপ্ত হবে। ইবনু আববাস (রাঃ) বললেন, এটানিয়ে তোমাদের মাথা ঘামানো হচ্ছে একটা অবামত্মর ব্যাপার। একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহূদীদেরকে ডেকে একটা বিষয় জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাতে তারা সত্য গোপন করে বিপরীত তথ্য দিয়েছিল। এতদসত্বেও তারা প্রদত্ত উত্তরের বিনিময়ে প্রশংসা লাভের আশা করেছির এবং তাদের সত্য গোপনের জন্য উল্লাসিত হয়েছিল। তারপর ইবনু আববাস (রাঃ) পাঠ করলেন- ‘‘স্মরণ কর, যদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, তোমরা এটা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। এরপরও তারা তা অগ্রহ্য করে এবং তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে। অতএব তারা যা ক্রয় করে তা কত নিকৃষ্ট! যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনমত্ম প্রকাশ করে এবং যা করেনি এমন কাজের জণ্যে প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা শ্বাসিত্ম থেকে মুক্তি পাবে এরূপ তুমি কখনো মনে করো না, তাদের জন্য মর্মন্তুদ শ্বাসিত্ম রয়েছে (৩ঃ ১৮৭-১৮৮)। বর্ণনাকারী আবদুর রাযযাক (রহঃ) ইবনু জুরায়য (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৪২১৩
ইবনু মুকাতিল (রহঃ) হুমাইদ ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) অবহিত করেছেনযে, মারওয়ান এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৪২১৪
সাঈদ ইবনু আবূ মারয়াম (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি আমার খালাম্মা মায়মুনা (রাঃ)-এর কাছে রাত্রি যাপন করেছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ তাঁর পরিবারবর্গের সাখে আলাপ-আলোচনা করে শুয়ে পড়লেন। তারপর রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশে তিনি উঠলেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে পাঠ করলেন-। এরূপ দাঁড়ালেন এবং ওযু করে মিসওয়াক করে এগার রাকায়াত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর হযরত বিলাল (রাঃ) আযান দিলে তিনি দু’ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর বের হয়ে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
হাদিস নং - ৪২১৫
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার খালাম্মা মায়মুনা (রাঃ)-এর কাছে রাত্রি যাপন করি। আমি মনে স্থির করলাম যে, অবশ্যই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা দেখব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য একটা বিছানা বিছিয়ে দেয়া হল। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটার লম্বালম্বি দিকে নিদ্রামগ্ন হলেন। এরপর জাগ্রত হয়ে মুখমন্ডল থেকে ঘুমের রেশ মুছতে লাগলেন এবং সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করে তা সমাপ্ত করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের পানি পাত্রের নিকট এসে তা নিলেন এবং ওযু করে সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়ালেন, আমি দাঁড়িয়ে তিনি যা যা করছিলেন তা তা করলাম। তারপর আমি এসে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথায় হাত রাখলেন, তারপর আমার কান ধরে মলতে লাগলেন। তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
হাদিস নং - ৪২১৬
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে তিনি মায়মুনা (রাঃ)-এর কাছে রাত্রি যাপন করেন, তিনি হলেন তার খালাম্মা। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়েছিলাম আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবারবর্গ লম্বালম্বি দিকে শুয়েছিলেন। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য পূর্ব অথবা সামান্য পর পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমালেন। তারপর তিনি জাগ্রত হলেন। এরপর দু'হাত দিয়ে মুখ থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের কাছে গেলেন এবং তা থেকে পরিপাটিভাবে উজু করলেন। এরপর সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়ালেন। তিনি যা যা করেছিলেন আমিও ঠিক তা করলাম। তারপর গিয়ে তার পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান ধরে মলতে লাগলেন। এরপর তিনি দু'রাকাত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত, তারপর দু’ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর তিনি একটু শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াজ্জ্বীন আসল, তিনি হালকাভাবে দু'রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। এরপর বের হলেন এবং ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
হাদিস নং - ৪২১৭
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) কুরায়ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনু আববাস (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী মায়মূনা (রাঃ) -এর নিকট রাত্রি যাপন করেছিলেন। মায়মূনা (রাঃ) হলেন তাঁর খালাম্মা। তিনি বলেন, আমি বিছানার প্রস্থের দিকে শুয়েছিলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গ দৈর্ঘ্যের দিকে শুয়েছিলেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রামগ্ন হয়েছিলেন। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্যাগে কিংবা সামান্য পরক্ষনে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। এবং মুখ থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে মুছতে বসলেন। তারপর সূরা আল ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। এরপর সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়ালেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পরাতন মশকের দিকে গিয়ে ভালভাবে ওযু করলেন। এরপর সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়ালেন। ইবনু আববাস (রাঃ) বললেন, আমিও দাঁড়ালাম এবং তিনি যা করেছেন আমিও তা করলাম। তারপর আমি গিয়ে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান মলতে শুরু করলেন। তারপর তিনি দু’ রাকাআত ছয়বারে বারো রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন এবং তারপর তিনি বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। শেষে মুয়াযযিন ফজরের আযান দিলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত কিরাআতে দু’ রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তারপর হুজরাথেকে বের হলেন এবং ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন।
হাদিস নং - ৪২১৮
ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তির তত্ত্বাবধানে এক ইয়াতীম বালিকা ছিল। এরপর সে তাকে বিয়ে করল, সে বালিকার একটি বাগান ছিল। তার অমত্মরে ঐ বালিকার প্রতি কোন আকর্ষণ না থাকা সত্ত্বেও বাগানের কারণে সে ঐ বালিকাটিকে সে বিবাহ করে রেখে দিতে চায়। এ সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হয়। আর যদি আশংকা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না। আমার ধারণা যে, উরওয়া বলেন, ইয়াতীম বালিকাটি সে বাগান ও মালের মধ্যে শরীক ছিল।
হাদিস নং - ৪২১৯
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ‘উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস তকরলেন মহান আল্লাহ বাণী সম্পর্কে। তিনি উত্তরে বললেন, হে ভাগ্নে! সে হচ্ছে পিতৃহীন বালিকা, অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং তার সম্পত্তিতে অংশীদার হয় এবং তার রূপ ও সম্পদ তাকে (অভিভাবককে) আকৃষ্ট করে। এরপর সে অভিভাবক উপযুক্ত মোহরানা না দিয়ে তাকে বিবাহ করতে চায়। তদুপরি অন্য ব্যাক্তি যে পরিমাণ মোহর দেয় তা না দিয়ে এবং তার প্রতি ন্যায় বিচার না করে তাকে বিয়ে করতে চায়। এরপর তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মোহর এবং ন্যায় ও সমুচিত মোহর প্রদান ব্যতীত তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। এবং তদ্ব্যতীত মহিলাপছন্দ হয় তাদেরকে বিয়ে করতে অনুমতি দেয়া হয়েছে। ‘উরওয়া (রহঃ) বলেন যে, আয়িশা (রাঃ) বলেছন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে মহিলাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন, এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ৈ জানতে চায় । আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর বাণী অন্য এক আয়াতে-তোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রুকাশ কর। ইয়াতীম বালিকার ধন-সম্পদ কাম হলে এবং সুন্দরী না হলে তাকে বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করো না। আয়েশো (রাঃ) বলেন, তাই ইয়াতীম বালিকাদের মাল ও সৌন্দর্যের আকর্ষনে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ন্যায় বিচার করলে ভিন্ন কথা। কেননা তারা সম্পদের অধিকারী না হলে তাদেরকেও বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না।
হাদিস নং - ৪২২০
ইসহাক (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর বাণী বিত্তশালী গ্রহণ করবে না। অবতীর্ণ হয়েছে ইয়াতীমের সম্পদ উপলক্ষ্যে, যদি তত্ত্বাবধায়ক বিত্তহীন হয় তাহলে রক্ষনাবেক্ষণের বিনিময়ে সংগত পরিমাণে তা থেকে ভোগ করবে।
হাদিস নং - ৪২২১
আহমদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়াতটি সুস্পষ্ট, রহিত বা মানসুখ নয়। সাঈদ (রাঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে ইকরামা (রাঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর বাণীঅর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন। (৪: ১১)
হাদিস নং - ৪২২২
ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) বনী সালমা গোত্রে পদব্রোজে আমার রোগ সম্পর্কে খোজ খবর নিতে গিয়েছিলেন। অনন্তর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অচেতন অবস্থা দেখতে পেলেন। কাজেই তিনি পানি আনালেন এবং ওযু করে ওযুর পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। তখন আমি হুশ ফিরে পেলাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পত্তিতে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনি আমাকে নির্দেশ দেবেন? তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ
হাদিস নং - ৪২২৩
মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত ব্যাক্তির সম্পদ ছিল সন্তানের জন্য, আর ওসীয়ত ছিল পিতামাতার জন্য। এরপর তা থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর পছন্দ অনুযায়ী কিছু রহিত করলেন এবং পুরুষদের জন্য মহিলার দ্বিগুন নির্ধারণ করলেন। পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য ৬ ভাগের ১ অংশ ও ৩ ভাগের ১ অংশ নির্ধারণ করলেন, স্ত্রীদের জন্য ৮ ভাগের ১ ও ৪ ভাগের ১ অংশ নির্ধারণ করলেন এবং স্বামীর জন্য ২ ভাগের ১ ও ৪ ভাগের ১ অংশ নির্ধারণ করলেন।
হাদিস নং - ৪২২৪
মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে অবস্থা এরূপ ছিল যে, কোন ব্যাক্তি মারা গেলে তার অভিভাবকগণ তার স্ত্রীর উপর দাবিদার হত। তারা ইচ্ছা করলে ঐ মহিলাকে বিয়ে করত। ইচ্ছে করলে অন্যের কাছে বিয়ে দিত। আর নতুবা তাকে আমরণ আটকে রাখত। কারো কাছে বিয়ে দিত না। মহিলার পরিবারের তুলনায় এরা অধিক দাবিদার ছিল। এরপর এ আয়াত নাযিল হল।
হাদিস নং - ৪২২৫
সালত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হচ্ছে বংশীয় উত্তরাধিকারী, হচ্ছে মুহাজিরগণ যখন মদিনায় এসেছিলেন তখন তারা আনসারদের উত্তরাধিকারী হতেন। আত্মীয়তার কারণে নয় বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের স্থাপনের কারণে। যখন (৪ : ৩৩ ” পিতা-মাতা এবং নিকটাত্নীয়গণ যা ত্যাগ করে যান সেসবের জন্যই আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও। আল্লাহ তা’আলা নিঃসন্দেহে সব কিছুই প্রত্যক্ষ করেন। ” নাযিল হল, তখন এ হুকুম রহিত হয়ে গেল। তারপর বললেন, যাদের সাথে তোমরা চুক্তি করে থাক সাহায্য সহযোগীতা ও পরস্পরের উপকার করার। পূর্বতন উত্তরাধিকার বিলুপ্ত হল এবং এদের জন্য ওসীয়ত বৈধ। হাদীসটি আবূ উসামা ইদ্রিসের কাছে এবং ইদ্রিস তালহার কাছে থেকে শুনেছেন।
হাদিস নং - ৪২২৬
মুহাম্মদ ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একদল লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের প্রভুকে দেখব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। গ্রীষ্মকালের মেঘবিহীন ভর দুপুরের প্রখর কিরণ বিশিষ্ট সূর্য দেখতে তোমরা কি পরস্পর ভিড় করে থাক? তারা বলল, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পূর্ণিমার রাতে মেঘবিহীন আলো বিশিষ্ট চন্দ্র দেখতে গিয়ে তোমরা কি ভিড় কর? আবার তারা বলল, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এদের কোনটিকে দেখতে যেমন ভিড় করো না; কিয়ামতের দিনও আল্লাহকে দেখতেও তোমরা পরস্পর ভিড় করবে না। কিয়ামত যখন আসবে তখন এক ঘোষক ঘোসণা দেবে। তখন প্রত্যেকেই আপন আপন উপাস্যের অনুসরণ করবে। আল্লাহ ব্যতীত প্রতিমা ও পাথর ইত্যাদির যারা পূজা করেছে, তারা সবাই দোযখে গিয়ে পড়বে, একজনও অবশিষ্ট থাকবে না। পুণ্যবান হোক চাই পাপী, এরা এবং আল্লাহ অবশিষ্ট বিশ্বাসীরা ব্যতীত যখন আর কেউ থাকবে না, তখন ইহূদীদেরকে ডেকে বলা হবে, তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র উযাইরের ইবাদত করতাম। তাদেরকে বলা হবে যে, তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ স্ত্রীও গ্রহণ করেননি পুত্রও গ্রহণ করেননি। তোমরা কি চাও? তারা বলবে, হে প্রভু! আমরা তৃষ্ণার্ত, আমাদেরকে পানি পান করান। এরপর তাদেরকে ইঙ্গিত করা হবে যে, তোমরা পানির ধারে যাওনা কেন? এরপর তাদেরকে দোযখের দিকে একত্র করা হবে তা যেন মরুভূমির মরিচীকা, এক এক অংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে। অনন্তর তারা সবাই দোযখে পতিত হবে। তারপর খ্রিষ্টানদেরকে ডাকা হবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে, আমরা আল্লাহর পুত্র মসীহের ইবাদত করতাম। তাদেরকে বলা হবে তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ স্ত্রীও গ্রহণ করেননি এবং পুত্রও নয়। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কি চাও? তারা প্রতম পক্ষের মত বলবে, এবং তাদের মত দোযখে নিপতিত হবে। অবশেষে পুণ্যবান হোক কিংবা পাপী হোক আল্লাহর উপাসকগণ ব্যতীত আর কেউ যখন বাকি থাকবে না, তখন তাদের কাছে পরিচিত রূপের নিকটতম একটি রূপ নিয়ে রাববুল আলামীন তাদের কাছে আবির্ভূত হবেন। এরপর বলা হবে, প্রত্যেক দল নিজ নিজ উপাস্যের অনুসরণ করে চলে গেছে। তোমরা কিসের অপেক্ষা করছ? তারা বলবে, দুনিয়াতে এ সকল লোকের প্রতিামাদের চরম প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমরা সেখানে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছি এবং তাদের সাথে মেলামেশা করিনি। এখন আমরা আমাদের প্রতিপালকের অপেক্ষায় আছি, আমরা তাঁর ইবাদত করতাম। এরপর তিনি বলবেন, আমই তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে, আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করব না। এ কথাটি দু’বার কি তিনবার বলবে।
হাদিস নং - ৪২২৭
সা’দকাহ (রহঃ) আমর ইবনু মুররা থৈকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে কুরআন পাঠ কর। আমি বললাম, আমি আপনার কাছে পাঠ করব? অথছ তা আপনার কাছেই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, অন্যের মুখে শ্রবণ করাকে আমি পছন্দ করি। এরপর আমি তাঁর নিকপ ‘সূরা নিসা’ পড়লাম, যখন আমি পর্যন্ত পাঠ করলাম, তিনি বললেন, থাম, থাম, তখন তাঁর দুচোখ থেকে টপ টপ করে অশ্রু নির্গত হচ্ছিল। আল্লাহর বাণীঃ আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচ স্থান থেকে আসে ’’(৪: ৪৩)। মাটির উপরি ভাগ। জাবির (রাঃ) বলেন যে সকল তাগুদের কাছে তারা বিচারের জন্য যেত তাদের একজন ছিল বুহাইনা গোত্রের, একজন আসলাম গোত্রের এবং এভাবে প্রত্যেক গোত্রে এক-একজন করে তাগূদ ছিল। তারা হচ্ছে গণক। তাদের কাছে শয়তান আসত। উমর (রাঃ) বলেন, যাদু। শয়তান। ইকরামা (রাঃ) বলেন, হাবশী ভাষায় শয়তানকে বলা হয়। আর গণককে বলা হয়।
No comments:
Post a Comment