আদার গুনাগুণ
পর্ব - ১
আদা মসলা হিসেবে ব্যবহূত Zingiberaceae গোত্রের সুগন্ধি ঔষধিb Zingier officinale। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় এক প্রজাতি। রাইজোম (rhizome) বাইরের দিকে হলুদাভ, ভেতরে হালকা সবুজ-হলুদ। বড় বড় বিন্যস্ত পাতার অনেকগুলি চওড়া বৃন্তে গঠিত ভুয়োকান্ড উপরে ১৫ সেমি পর্যন্ত লম্বা।
বাংলাদেশে প্রায় ১৯,০৫৫ একর জমিতে ফলে বছরে প্রায় ৪৯,৪০৫ মে টন আদা। মসলা ও আচারের উপকরণ হিসেবে আদা অধিক ব্যবহূত হয়। আদার ঔষধি গুণও রয়েছে। বৃষ্টিধৌত উঁচু জমি ও পাহাড়ের উতরাইয়ে আদার চাষ ভাল হয়। দিনাজপুর, রংপুর, টাঙ্গাইল ও রাঙ্গামাটি জেলায় আদার অধিক ফলন হয়।
আদা শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে। জ্বর জ্বর ভাব, গলা ব্যথা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। তবে রান্না করার চেয়ে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ বেশি। মাইগ্রেনের ব্যথা ও ডায়াবেটিস জনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা।
আসুন জেনে নিই আদার নানা গুণ সম্পর্কে –
১/ জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা, ব্যথায় আদা উপকারী। কারণ আদায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা বডি টেম্পারেচারে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শীতকালে ঠাণ্ডার সময় তাই আদা চা খেতে পারেন।
২/ ঋতু পরিবর্তনের সময় অ্যাজমা, মাইগ্রেনের মতো সমস্যা প্রায়শই দেখা যায়। এই সময়ে ডায়েটে আদা রাখুন। সর্দি-কাশির প্রকোপের সময় মুখে আদা রাখলে, আরাম পাবেন।
৩/ গা গোলানো ও বমিভাব থেকে রেহাই পেতে কয়েক কুচি আদা চিবিয়ে খেয়ে দেখুন। সমস্যা অনেকটা কমবে।
৪/ আর্টারি ওয়ালে ব্যাড কোলেস্টেরল ও ফ্যাটি অ্যাসিড জমে করোনারি হার্ট ডিজিজের সমস্যা দেখা যায়। ফলে রক্ত চলাচলে অসুবিধে দেখা যায়। আদা রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। লিভার ও ব্লাডে কোলেস্টেরল অ্যাবজর্বশন কম রাখতে আদা সাহায্য করে।
৫/ অতিরিক্ত ওজন ঝরাতেও আদা সাহায্য করে। টিস্যু বেশি এনার্জি ব্যবহার করায়, বেশি ক্যালরি বার্ন হয়।
৬/ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আদা ক্যান্সার ও হার্টের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ওভারিয়ান ক্যান্সার প্রতিরোধে আদা উপকারী।
১০০ গ্রাম আদায় রয়েছে –
এনার্জি: ৮০ ক্যালরি
কার্বোহাইড্রেট: ১৭ গ্রাম
ফ্যাট: ০.৭৫ গ্রাম
পটাশিয়াম: ৪১৫ মিলিগ্রাম
ফসফরাস: ৩৪ মিলিগ্রাম
আদার আরো কিছু ওষুধি দিক –
১. আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগলে সারা দিনের খাবারে অল্প পরিমাণে আদা রাখার চেষ্টা করুন। আদা দিয়ে চা খেতে পারেন, সালাদে আদার সরু, লম্বা কুচি মেশাতে পারেন। ব্যথার সমস্যা ধীরে ধীরে কমবে। ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আদা খেয়ে দেখতে পারেন। আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে জিঞ্জার অয়েল উপকারী।
২. গর্ভবতী মহিলাদের সকালে খারাপ লাগার সমস্যা কমাতে আদা সাহায্য করে।
৩. আদা হজমে সাহায্য করে।
সতর্কতা –
১. গলস্টোনের সমস্যা থাকলে কত পরিমাণ আদা খাবেন, ডাক্তারের থেকে জেনে নিন।
২.গর্ভাবস্থায় সারা দিনে ২৫০ গ্রামের বেশি আদা খাবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়।
কারা আদা এড়িয়ে চলবেন ?
১. অন্তঃসত্ত্বারা :
আদা শরীরে কড়া উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। সেজন্য অন্তঃসত্ত্বারা আদা খেলে, প্রিম্যাচিওর শিশু জন্মের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এজন্য গর্ভবতী মহিলাদের অবশ্যই আদা এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষত প্রেগন্যান্সির শেষ সপ্তাহগুলিতে তো আদা নৈব নৈব চ।
২. যারা ওজন বাড়াতে চান :
যারা রোগা হতে চান তাদের জন্য আদা বিশেষ উপকারী হলেও, যারা শীর্ণকায়, ওজন বাড়াতে উত্সাহী তাদের অবশ্যই আদা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ আদা খিদে কমায়। এছাড়াও শরীরের চর্বি গলানোর প্রক্রিয়ায় আদা বিশেষ সহায়ক। সেজন্য যারা ওজন বাড়াতে চান, আদা তাদের কোনো কাজে আসবে না।
৩. ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যারা ওষুধ খান :
আদা ডায়বেটিসের লেভেল কমাতে কার্যকরী হলেও, যারা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের ডায়েট চার্ট থেকে চিরতরে ডিলিট করে দিতে হবে আদাকে। একই কথা প্রযোজ্য উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদেরও অবশ্যই আদাকে এড়িয়ে চলা উচিত।
কিভাবে আদা খাবেন –
১. আদায় সামান্য পানি দিয়ে থেতলে নিন। আদার রস ও আদা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। চা বানানোর জন্যে এই পানি ব্যবহার করুন।
২. আদা ছিলে , সামান্য লেবুর রস মেশান। হজমে এই মিশ্রণ খুব ভালো কাজ করে।
৩. সারা দিনে ৫০ গ্রাম আদা খেতে পারেন। পাউডারড জিঞ্জার আধা চামচ করে দিনে ৩ বার খেতে পারেন। আদা সরু লম্বা করে চিকন করে কেটে নিন। সামান্য লবণ, গোলমরিচ মেশান।
৪. পানি ফুটিয়ে নিন। এবারে দুধ, মসলা, আদার রস, চা পাতা দিয়ে আরো একবার ফুটিয়ে নিন। কাপে চিনি দিয়ে পরিবেশন করুন। ওপরে সামান্য এলাচগুঁড়ো ছড়িয়ে দিতে পারেন।
৫. হজমে সাহায্য করার জন্যে আদা দিয়ে সিরাপ বানিয়ে নিন। জিরে গুঁড়ো, বিট নুন, আদার রস, লেবুর রস, ঠাণ্ডা জল একসাথে মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। তৈরি আদার সিরাপ। দুপুরে বা রাতের খাবারের পরে এই সিরাট খেতে পারেন।
৬. ভিনিগারে আদার টুকরো, লবণ, মরিচ দিয়ে কিছু দিন রাখুন। খাওয়ার সময় আচার হিসেবে খেতে পারেন।
পর্ব - ২
প্রকৃতিতেই রয়েছে সব রোগের নিরাময়। শুধু জানলে আর মানলেই অনেক রোগের আক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক আদার কিছু ওষুধি গুণাগুণ।
আদা মূলত গাছের শিকড়। মসলা হিসেবে আদার ব্যবহার সব খাবারকেই সুস্বাদু করে, একেবারে জিভে জল এনে দেয় । আদায় রয়েছে অসাধারণ নিরাময় ক্ষমতা। আদার উপকারিতা নিয়ে প্রথম পর্বের লেখার পর আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব।
১. মাথা ব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খেতে পারেন আদার চা। রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। মাথাব্যথাও উপশম হবে।
২. মাতৃত্বকালীন বমি বমি ভাব কিছুটা হলেও কমায় আদা।
৩. শরীরের জয়েন্টে ব্যথা। আদা কুচি করে খান। আরাম পাবেন।
৪. শ্বেতী রোগ? আদা বেটে দিনে তিন থেকে চারবার লাগান। চার থেকে ১২ সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহারে উপকার পাবেন।
৫. নিয়মিত আদা খেলে পাবেন অফুরন্ত প্রাণশক্তি। কমে যাবে রোগ ব্যাধি।
৬. খাবার হজম হচ্ছে না? পেটে গুড়গুড়, আদাজল খেয়ে নিন। আরাম পাবেন
৭. অপারেশনের পর কাঁচা আদা খান। দ্রুত সেরে উঠবেন।
৮. সর্দি লাগলে আদা কুচি করে রুমালে নিয়ে নাকে ঝাঁজ নিন। বন্ধ নাক খুলে যাবে।
৯. ভ্রমনের সময়ও যদি শিশুদের মুখে এক টুকরা আদা দেন দেখবেন বমি ভাব নেই।
১০. নারীদের ওভারিতে ক্যানসার হলে আদা খেলে ক্যান্সারের সেলগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।
পর্ব - ৩
আদা যে শুধুমাত্র রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর কোনো মসলা জাতীয় কিছু নয় তা এখন আর কারো অজানা নয়। আদার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে প্রায় সকলেই বেশ ভালোভাবেই অবগত আছেন। শারীরিক নানা সমস্যায় আদা খাওয়ার বিষয়টি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে বেশ দ্রুত। এমনকি নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস মুক্তি দিতে পারে মারাত্মক বেশ কিছু রোগ থেকে।
নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করেই দেখুন না, শারীরিক অনেক সমস্যার সমাধান পাবেন। আর এজন্যই আদার গুণাগুণ এবং শারীরিক সমস্যা নিরাময়ে আদার ব্যবহার সকলেরই জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরী।
১) বমিভাব বা বমি হচ্ছে অনেক? আদা কুচি করে চিবিয়ে খান অথবা আদার রসের সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করুন। তাৎক্ষণিক সমাধান পেয়ে যাবেন।
২) উল্টাপাল্টা এবং বেশি ভাজাপোড়া খাবারের কারণে বুকজ্বলার সমস্যা হুট করেই শুরু হতে পারে। এক কাজ করুন, ২ কাপ পানিতে ২ ইঞ্চি আদা ছেঁচে জ্বাল দিয়ে চায়ের মতো তৈরি করে পান করুন। বুকজ্বলা কমে যাবে।
৩) ধমনীতে প্লাক জমে রক্ত প্রবাহ বন্ধের সমস্যাকে বলা হয় অথেরোস্ক্লেরোসিস। এই মারাত্মক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে। প্রতিদিন একটু হলেও আদা খান এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে।
৪) অনেক দুর্বল লাগছে? দুর্বলতার কারণ যাই হোক না কেন একটু আদা খেয়ে নিন। অনেকটা শক্তি পাবেন। এরপর ডাক্তারের পরামর্শ নিন দুর্বলতার কারণ জেনে নিরাময়ে সহায়তা পেতে।
৫) আদার রস ব্যথানাশক ঔষধের মতো কাজ করে। সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন আদার রস অথবা পান করে নিতে পারেন, দুভাবেই ভালো উপকার পাবেন।
৬) নতুন আদার সাথে আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করে।
৭) প্রাকৃতিক অ্যান্টিহিস্টামাইন এনং অ্যান্টিবায়োটিক উপাদানে ভরপুর আদা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে ছোটোখাটো অনেক রোগের হাত থেকেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
৮) খেতে ইচ্ছে করছে না বা ক্ষুধা মন্দায় ভুগছেন? তাহলে খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে আদা খেয়ে নিন। এতে ক্ষুধামন্দা দূর হবে এবং খাবারে রুচি ফিরে আসবে।
৯) আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা দূর করতে বিশেষ ভাবে কার্যকরী। এছাড়াও উষ্ণ গরম পানিতে আদার তেল মিশিয়ে গোসল করলে মাংসপেশীর ব্যথা দূর হয়।
১০) আদা হজমে সমস্যা সমাধান করে এবং পেটে ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে ১ কাপ আদা চা পান করলে পুরোদিন পেট ফাঁপা বা বদহজম থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।
পর্ব - ৪
এক কাপ আদার রসের অতুলনীয় ৬ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা
আদার ভেষজ ও ঔষধি উপকারিতার কথা অনেকেই জানেন। আদা শুধু খাবারে স্বতন্ত্র স্বাদ ও গন্ধই সৃষ্টি করেনা বরং সাধারণ ঠান্ডা, কাশি, বদহজম, গলা ব্যথা ও অন্যান্য আরো কিছু রোগে ভোগা থেকে রক্ষা করে। আদা চিবিয়ে খেতে ভালো না লাগলে আদার জুস করে খেতে পারেন। আদার রস খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।
১। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
আদাতে অ্যান্টিডায়াবেটিক উপাদান আছে। গবেষণায় জানা গেছে যে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে আদা এবং যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদেরও। ১ কাপ আদার রস খালি পেটের গ্লুকোজ লেভেলও নিয়ন্ত্রণ করে।
২। মানসিক বয়স বৃদ্ধি বিলম্বিত করে
আদায় ফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড উপাদান থাকে। এছাড়াও নিউরোপ্রোটেক্টিভ বৈশিষ্ট্য আছে আদার। আদার রসে মস্তিস্ককে স্বাস্থ্যবান রাখার জন্য প্রোটিনের লেভেল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ফলে বৃদ্ধাবস্থার বিভিন্ন সমস্যা যেমন- আলঝেইমার্স ও অন্যান্য মানসিক সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করে।
৩। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে
আস্ত আদায় বিভিন্ন ধরণের বায়োএকটিভ ফেনোলিক্স এবং নন ভোলাটাইল পাঞ্জেন্ট উপাদান যেমন- জিঞ্জেরলস, প্যারাডলস, শোগায়োল এবং জিঞ্জেরোনেস থাকে। গবেষণায় জানা যায় যে, আদার রসে ক্যান্সারনাশক উপাদান থাকে। প্রোস্টেট ক্যান্সারের ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করে আদার রস।
৪। জিআই ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা দেয়
পরীক্ষামূলক গবেষণায় জানা যায় যে, আদা ও এর সক্রিয় উপাদান ৬-জিঞ্জেরল ও ৬-শোগায়োল গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে।
৫। কোলেস্টেরল কমায়
যেহেতু আদা গ্লুকোজের মাত্রার উপর কাজ করে তাই মনে করা হয় যে, আদা কোলেস্টেরলের স্তরও কমাতে পারে।
৬। আরথ্রাইটিসের ব্যথা কমায়
একটি গবেষণায় জানা যায় যে, আদার রসে ব্যথা নাশক উপাদান আছে। দীর্ঘস্থায়ী হাঁটু ব্যথার রোগীদের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে আদা।
আদার জুস তৈরি করবেন যেভাবে-
একটি আদা ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। তারপর একটি মিক্সারে সামান্য পানিসহ আদাকুচি দিয়ে ভালো করে চূর্ণ করুন। তারপর ছেকে রসটুকু আলাদা করুন। এর মাঝে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে নিন, ব্যস তৈরি হয়ে গেল আদার জুস।
পর্ব - ৫
আদা কুচি বা আদা বাটা আমরা সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়ানোর কাজেই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আপনি জানেন কি, আদা খাবারে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের দেহের সুস্থতার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী?
এছাড়াও কাঁচা আদা খাওয়ার রয়েছে দারুণ সব উপকারিতা। চলুন তবে আজকে জেনে নেয়া যাক সাধারণ আদার দারুণ সব উপকারিতা সম্পর্কে।
১) খেতে একেবারেই ইচ্ছে হচ্ছে না? অসুস্থ বোধ করছেন খাবার দেখলেই? কোনো সমস্যাই নয়। খাওয়ার আগে ১ চা চামচ তাজা আদা কুচি খেয়ে নিন। মুখের রুচি ফিরে আসবে।
২) হাতে পায়ের জয়েন্টে ব্যথা হলে সাহায্য নিতে পারেন আদার তেলের। খানিকটা অলিভ অয়েলে আদা ছেঁচে নিয়ে ফুটিয়ে নিন ৫ মিনিট। ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন হাতে পায়ের জয়েন্টে। আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান দূর করে দেবে ব্যথা।
৩) প্রতিদিন মাত্র ১ ইঞ্চি পরিমানের আদা কুচি খাওয়া অভ্যাস সাইনাসের সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৪) বমি বমি ভাব হচ্ছে? কিংবা মাথা ঘুরানো? একটুখানি আদা স্লাইস করে লবণ দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে নিন। দেখবেন বমি ভাব একেবারেই কেটে গিয়েছে।
৫) হজমে সমস্যার কারণে পেতে ব্যথা হলে আদা কুচি খেয়ে নিন। আদা পেতে গ্যাসের সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে বেশ কার্যকরী।
৬) খাবারের পুষ্টি দেহে সঠিকভাবে শোষণ করার ক্ষমতা বাড়ায় আদা। তাই প্রতিদিন খুব সামান্য পরিমাণে হলেও আদা খাওয়া অভ্যাস করা উচিত সকলের।
৭) বুকে সর্দি কফ জমে গিয়েছে? নিঃশ্বাস টানতে সমস্যা হচ্ছে? ২ কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি যখন অর্ধেক হয়ে আসবে জ্বাল হয়ে তখন ছেঁকে নামিয়ে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করে ফেলুন। বেশ আরাম পাবেন। সর্দি কফের সমস্যা না যাওয়া পর্যন্ত এই আদা চা পান করে চলুন।
৮) ত্বকে পড়ে যাচ্ছে বয়সের ছাপ? এক কাজ করুন প্রতিদিন সামান্য আদা কাচা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিএইজিং উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের টক্সিন দূর করে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে অনেকটা সময়।
পুদিনা পাতার গুনাগুণ বা উপকারিতা
পুদিনা একটি সাধারণ আগাছা ধরনের গাছ। কাণ্ড ও পাতা বেশ নরম। কাণ্ডের রঙ বেগুনি, পাতার রঙ সবুজ। ছোট গুল্ম জাতীয় এই গাছের পাতা ডিম্বাকার, পাতার কিনারা খাঁজকাটা ও সুগন্ধীযুক্ত হয়। পাতা কিছুটা রোমশ ও মিন্টের তীব্র গন্ধযুক্ত । পুদিনা পাতার মূল, পাতা, কান্ড সহ সমগ্র গাছই ওষুধীগুনে পরিপূর্ণ। বিশ্বের অনেক দেশেই পুদিনার গাছ জন্মে। এর পাতা সুগন্ধি হিসাবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য স্থানীয় নামঃ Mint, nana।
বৈজ্ঞানিক নামঃ Mentha spicata ।
এটি Lamiaceae পরিবারের অন্তর্গত।
আমাদের আরো অ্যাপস
"আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু" * বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম * "ইসলামের আলোকে আমাদের জগৎ" Site এ সবাইকে স্বাগতম। * "প্রচার কর,যদি একটি মাত্র আয়াতও হয়"। [বুখারী-৩৪৬১] * "কেউ হেদায়েতের দিকে আহ্বান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে,তবে যারা অনুসরন করেছে তাদের সওয়াবের কোন কমতি হবেনা।"(মুসলিম-২৬৭৮) * আমাদের এই Site এ আল কুরআন/সুন্নাহ ভিত্তিক লিখনী দেয়া হবে- ইনশা আল্লাহ।আপনারা আমাদের সাথেই থাকবেন। * "জাযাকাল্লাহু/জাযাকি-আল্লাহু খায়রান”
Saturday, May 25, 2019
আদার গুনাগুণ:-
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Most Recent Post :-
-
ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়: আল কুরআন ১০০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনুল কারীমে কতটি সূরা আছে? উত্তরঃ ১১৪টি। ১০১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূর...
-
আবু জাহেলের হত্যার ঘটনা আব্দুর রহমান বিন আউফ বর্ণনা করেছেন “বদরের ময়দানে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। একজন তরুণ এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলঃ হে চাচা! আবু ...
-
ইসলামিক সাধারণ জ্ঞান বিষয়: সাহাবায়ে কেরাম (রা:) ৪৪২. প্রশ্নঃ সাহাবী কাকে বলে? উত্তরঃ যাঁরা ঈমানের সাথে নবী (সাঃ)এর সাথে সাক্ষাত লাভ করেছেন ...
No comments:
Post a Comment