বুখারী শরীফ সব খণ্ড
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
অধ্যায় - ৫১ - মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) - ১
( হাদিস নং - ৩৬৬৪-৩৭৪৫ = মোট ৮২ টি হাদিস )
হাদিস নং - ৩৬৬৪
আবদুল্লাহ ইবনু মুহামদ (রহঃ) আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যায়েদ ইবনু আরকওমের পাশে ছিলাম। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়টি যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, উনিশটি। পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হল আপনি তাঁর সাথে কতটি যুদ্ধে শরীক ছিলেন? তিনি বললেন, সতেরটি। (আবূ ইসহাক বলেন) আমি বললাম, এসব যুদ্ধের মধ্যে সর্বপ্রথম সংঘটিত হয়েছিল কোনটি? তিনি বললেন, ‘উশায়রা বা ‘উশায়রা। (বর্ণনাকারী বলেন) বিষয়টি আমি কাতাদা (রহঃ)-এর কাছে আলোচনা করলে তিনিও বললেন, ‘উশায়রা(এর যুদ্ধই সর্বপ্রথম সংঘটিত হয়েছিল)।
হাদিস নং - ৩৬৬৫
আহ্মাদ ইবনু উসমান (রহঃ) সা‘দ ইবনু মু‘ইয়ায (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন। তাঁর ও উমাইয়া ইবনু খালফের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। উমাইয়া মদিনায় আসলে সা‘দ ইবনু মু’আযের অতিথি হত এবং সা‘দ (রাঃ) মক্কায় গেলে উমাইয়ার আতিথেয়তা গ্রহণ করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজতর করার পর একদা সা‘দ (রাঃ) উমরা করার উদ্দেশ্যে মক্কা গেলেন এবং উমাইয়ার বাড়ীতে অবস্থান করলেন। তিনি উমাইয়াকে বললেন, আমাকে এমন একটি নিরিবিলি সময়ের কথা বল যখন আমি (শান্তভাবে) বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারব। তাই দ্বি-প্রহরের সময় একদিন উমাইয়া তাঁকে সাথে নিয়ে বের হল, যখন তাঁদের সাথে আবূ জেহেলের দেখা হল। তখন সে (আবূ জেহেল উমাইয়াকে লক্ষ্য করে) বলল, হে আবূ সাফ্ওয়ান! তোমার সাথে ইনি কে? সে বলল, ইনি সা’দ ইবনু মু’আয)। তখন আবূ জেহেল তাকে (সা’দ ইবনু মু‘আযকে) লক্ষ্য করে বলল, আমি তোমাকে নিঃশঙ্ক চিত্তে ও নিরাপদে মক্কায়(বায়তুল্লাহর)তাওয়াফ করতে দেখেছি অথচ তোমরা ধর্মত্যাগীদের আশ্রয় দান করেছ এবং তাদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করে চলেছ। আল্লাহর কসম, (এ মুহূর্তে) তুমি আবূ সাফওয়ানের (উমাইয়া) সঙ্গে না থাকলে তোমার পরিজনদের কাছে নিরাপদে ফিরে যেতে পারতে না। সা’দ (রাঃ) এর চেয়েও অধিক উচ্চস্বরে বললেন, আল্লাহর কসম, তুমি এতে যদি আমাকে বাঁধা দাও তাহলে আমিও এমন একটি ব্যাপারে তোমাকে বাঁধা দেব যা তোমার জন্য এর চেয়েও ভীষণ কঠিন হবে। আর তা হল, মদিনার উপকন্ঠ দিয়ে তোমার(ব্যবসা বাণিজ্যের বৃহত্তম কেন্দ্র সিরিয়ার) যাতায়তের রাস্তা (বন্ধ করে দেব)। তখন উমাইয়া তাকে বলল, হে সা’দ (রাঃ) এ উপত্যাকার প্রধান সর্দার আবূল হাকওমের(আবূ জেহেল) সাথে এরূপ উচ্চস্বরে কথা বলিও না। তখন সা’দ (রাঃ) বললেন, হে উমাইয়া! তুমি চুপ কর। আল্লাহর কসম, আমি রাসুল্লুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি যে, তারা তোমার হত্যাকারী। উমাইয়া জিজ্ঞাসা করল, মক্কার বুকে? সা’দ (রাঃ) বললেন, তা জানিনা। উমাইয়া এতে ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। এরপর উমাইয়া বাড়ী গিয়ে তার(স্ত্রীকে ডেকে) বলল, হে উম্মে সাফওয়ান সা’দ আমার সম্পর্কে কি বলছে জানো? সে বলল, সা’দ তোমাকে কি বলেছে? উমাইয়া বলল, সে বলেছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জানিয়েছে যে, তারা আমার হত্যাকারী। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তা কি মক্কায়? সে(সা’দ) বলল, তা আমি জানিনা। এরপর উমাইয়া বলল, আল্লাহর কসম, আমি কখনো মক্কা থেকে বের হব না। কিন্তু বদর যুদ্ধের দিন সমাগত হলে আবূ জেহেল সর্বস্তরের জনসাধারণকে সদলবলে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলল, তোমরা তোমাদের কাফেলা রক্ষা করার জন্য অগ্রসর হও। উমাইয়া(মক্কা ছেড়ে) বের হওয়াকে অপছন্দ করলে আবূ জেহেল এসে তাকে বলল, হে আবূ সাফওয়ান। তুমি এ উপত্যাকার আধিবাসিদের(একজন) নেতা, তাই লোকেরা যখন দেখবে(তুমি যুদ্ধ যাত্রায়) পেছনে বয়ে গেছ তখন তারাও তোমার সাথে এ বলে পেছনেই থেকে যাবে। এ বলে আবূ জেহেল তার সাথে পীড়াপীড়ি করতে থাকলে সে বলল, তুমি যেহেতু আমাকে বাধ্য করে ফেলেছ তাই খোদার কসম অবশ্যই আমি এমন একটি উষ্ট্র ক্রয় করব যা মক্কার সবচাইতে ভাল। এরপর উমাইয়া(তার স্ত্রীকে) বলল, হে উম্মে সাফওয়ান; আমার সফরের ব্যবস্থা কর। তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, হে আবূ সাফওয়ান! তোমার মদিনাবাসী ভাই যা বলেছিলেন তা তুমি ভূলে গিয়েছ কি? সে বলল, না। আমি তাদের সাথে কিছু দূর যেতে চাই মাত্র। রওয়ানা হওয়ার পর রাস্তায় যে মন্যিলেই উমাইয়া কিছুক্ষণ অবস্থান করেছে সেখানেই সে তার উট বেঁধে রেখেছে, গোটা পথেই এরূপ সে করল পরিশেষে বদর প্রান্তরে আল্লাহর হুকুমে সে মারা গেল।
হাদিস নং - ৩৬৬৬
ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন তন্মধ্যে তাবূকের যুদ্ধ ব্যতীত অন্য সব যুদ্ধে আমি শরীক ছিলাম। তবে বদর যুদ্ধেও আমি শরীক হইনি। কিন্তু যারা যোগদান করেননি তাদেরকে কোন প্রকার দোষারূপ করা হয়নি। কারণ প্রকৃতপক্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ কাফেলার পশ্চাঁদ্ধাবন করার উদ্দেশ্যেই যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত সময় ছাড়া আল্লাহ তা‘আলা তাদের (মুসলমানদের) সাথে তাদের শত্রুদের মুখামুখী করিয়ে দেন।
হাদিস নং - ৩৬৬৭
আবূ নু’আঈম (রহঃ) ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মিকাদাদ ইবনু আসওয়াদকে এমন একটি ভূমিকায় পেয়েছি যে, সে ভূমিকায় যদি আমি হতাম, তবে যা দুনিয়ার সব কিছুর তুলনায় আমার নিকট প্রিয় হত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসলেন, তখন তিনি মুশরিকদের বিরুদ্ধে দু’আ করছিলেন। এতে তিনি(মিকাদাদ ইবনু আসওয়াদ) বললেন, মূসাআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাওম যেমন বলেছিল যে, “তুমি(মূসা) আর তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ কর”। (৫ মায়েদা ২৪) আমরা তেমন বলব না, বরং আমরাতো আপনার ডানে, বামে, সিম্মুখে, পেছনে সর্বদিক থেকে যুদ্ধ করব। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি দেখলাম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মুখমন্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং (একথা) তাঁকে খুব আনন্দিত করল।
হাদিস নং - ৩৬৬৮
মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হাওশাব (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করার জন্য প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ আপনি যদি চান (কাফিররা আমাদের উপর জয়লাভ করুক) আপনার ইবাদত করার লোক আর থাকবে না। এমতবস্থায় আবূ বকর (রাঃ) তাঁর হাত চেপে বললেন, আপনার জন্য এ যথেষ্ট। তখন তিনি(রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )এ আয়াত পড়তে পড়তে বের হলেন! “শত্রুদল শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে। ” (৫৪ ক্বামার ৪৫)
হাদিস নং - ৩৬৬৯
ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু’মিনদের মধ্যে (যারা অক্ষম নন) অথচ ঘরে বসে থাকেন তারা সমান নন।
হাদিস নং - ৩৬৭০
মুসলিম (রহঃ) ও মাহমূদ বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদরের দিন আমাকে ও ইবনু উমরকে ছোট মনে করা হয়েছিল, এ যুদ্ধে মুহাজিরদের সংখ্যা ছিল ষাটের বেশী এবং আনসারদের সংখ্যা ছিল দুইশ’ চল্লিশেরও কিছু বেশী।
হাদিস নং - ৩৬৭১
আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ -এর যে সব সাহাবী বদরে অংশ গ্রহণ করেছেন তারা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তাদের সংখ্যা তালূতের যে সব সঙ্গী (জিহাদে শরীক হওয়ার নিমিত্তে তাঁর সাথে) নদী পার হয়েছিল তাদের সমান ছিল। তাদের সংখ্যা তিনশ’ দশেরও কিছু বেশী। বারা’ (রাঃ) বলেন, আল্লাহের কসম ঈমানদার ব্যতীত আর কেউই তাঁর সাথে নদী অতিক্রম করেনি।
হাদিস নং - ৩৬৭২
আবদুল্লাহ ইবনু রাজা (রহঃ) বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মুহাম্মদ -এর সাহাবাগণ পরস্পর আলোচনা করতাম যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের সংখ্যা তালূতের সঙ্গে নদী অতিক্রমকারী লোকদের সমানই ছিল এবং তিনশ’ দশজনের অধিক ঈমানদার ব্যাক্তই কেবল তাঁর সাথে নদী পার হয়েছিলেন।
হাদিস নং - ৩৬৭৩
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও মুহাম্মদ ইবনু কাসীর বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা পরস্পর আলোচনা করতাম যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের সংখ্যা তালূতের সাথে নদী অতিক্রমকারী লোকদের অনুরূপ তিনশ’ দশজনেরও কিছু বেশী ছিল। আর মু’মিনগণই কেবল তাঁর সাথে নদী পার হয়েছিলেন।
হাদিস নং - ৩৬৭৪
আমর ইবনু খালিদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে মুখ করে কুরাইশ গোত্রীয় কপিতয় লোক তথা—শায়বা ইবনু রাবী’আ, উতবা ইবনু রাবী’আ, ওয়ালিদ ইবনু উতবা এবং আবূ জেহেল ইবনু হিশামের বিরুদ্ধে দু’আ করেন। (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)বলেন) আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি, অবশ্যই আমি এ সমস্ত লোকদেরকে (বদরের রণাঙ্গনে) নিহত হয়ে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখেছি। রৌদ্রের প্রচন্ডতা দেহগুলোকে বিকৃত করে দিয়েছিল। বস্তুতঃ সে দিনটি ছিল প্রচন্ড গরম।
হাদিস নং - ৩৬৭৫
ইবনু নুমায়র (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, বদর যুদ্ধের দিন আবূ জেহেল যখন মৃত্যুর মুখোমুখি তখন তিনি(আবদুল্লাহ) তার কাছে গেলেন। তখন আবূ জেহেল বলল, (আজ) তোমরা তোমাদের এক ব্যাক্তিকে হত্যা করেছ এতে আমি কি আশ্চর্যবোধ করব।
হাদিস নং - ৩৬৭৬
আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ও আমর ইবনু খালিদ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, (বদরের দিন) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ জেহেলের কি অবস্থা কেউ দেখে আসতে পার কি? তখন ইবনু মাসউদ (রাঃ) তার খোঁজে বের হলেন এবং দেখতে পেলেন যে, ‘আফ্রার দুই পুত্র তাকে এমনভাবে প্রহার করতেছে যে, মুমূর্ষু অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। রাবী বলেনঃ যাকে (অর্থাৎ আবূ জেহেল) তোমরা অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তার গোত্রের লোকেরা হত্যা করল তার চেয়ে বেশী আর কি? আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) বলেন, তুমই কি আবূ জেহেল।
হাদিস নং - ৩৬৭৭
মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, (বদরের দিন) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ জেহেলের কি করল, কে তার খোঁজ নিয়ে আসতে পার? (একথা শুনে) ইবনু মাসউদ (রাঃ) চলে গেলেন এবং তিনি দেখতে পেলেন, আফ্রার দুই পুত্র তাকে এমনভাবে প্রহার করেছে যে, সে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে। তখন তিনি তার দাঁড়ি ধরে বললেন, তুমই কি আবূ জেহেল? উত্তরে সে বলল, এক ব্যাক্তিকে তার গোত্রের লোকেরা হত্যা করল অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) যাকে তোমরা হত্যা করলে! এর চাইতে বেশী আর কি? ইবনু মূসান্না (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে অনুরূপ একটি রেওয়ায়েত বর্ণিত আছে।
হাদিস নং - ৩৬৭৮
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ইব্রাহীমের দাদা থেকে তথা আফ্রার দুই ছেলের সম্পর্কে এক রেওয়ায়ত বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৩৬৭৯
মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ রুকাশী (রহঃ) আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমই সর্বপ্রথম ব্যাক্তি যে কিয়ামতের দিন দয়াময়ের সামনে বিবাদের (মীমাংসার) জন্য হাঁটু গেড়ে বসব। কায়স ইবনু উবাদ (রাঃ) বলেন, এদের সম্পর্কেই কুরআন মজীদের (আরবী) “এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ তাঁরা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে” (২২ হাজ্জ (হজ্জ)-১৯) আয়াতটি নাযিল হয়েছে। তিনি বলেন, (মুসলিম পক্ষের) তারা হল হাম্যা, আলী ও উবায়দা অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) আবূ উবায়দা ইবনুল হারিস (কাফির পক্ষের) শায়বা ইবনু রাবীআ, উত্বা এবং ওয়ালীদ ইবনু উতবা।
হাদিস নং - ৩৬৮০
কাবীসা (রহঃ) আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, (আরবী) “এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ তারা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে” আয়াতটি কুরাইশ গোত্রীয় ছয়জন লোক (এদের তিনজন মুসলিম এবং তিনজন মুশরিক) সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। তারা হলেন, (মুসলিম পক্ষের) হাম্যা, আলী ও উবায়দা অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) আবূ উবায়দা ইবনুল হারিস (কাফির পক্ষের) শায়বা ইবনু রাবীআ, উত্বা এবং ওয়ালীদ ইবনু উতবা।
হাদিস নং - ৩৬৮১
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম সাওওয়াফ কায়স ইবনু উবাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রাঃ) বলেছেন (আরবী) “এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে” আয়াতটি আমাদের সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে।
হাদিস নং - ৩৬৮২
ইয়াহ্ইয়া ইবনু জাফর (রহঃ) কায়স ইবনু উবাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেছেন) আমি আবূ যার (রাঃ)-কে কসম করে বলতে শুনেছি যে, উপরোক্ত আয়াতগুলো উল্লেখিত বদরের দিন ঐ ছয় ব্যাক্তি সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল।
হাদিস নং - ৩৬৮৩
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি আবূ যার (রাঃ)-কে কসম করে বলতে শুনেছি যে, (আরবী) “এরা দুটি বিবাদমান পক্ষ তারা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে” আয়াতটি বদরের দিন দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হামযা, আলী, উবাইদা ইবনুল হারিস, রাবীআর দুই পুত্র উত্বা ও শায়বা এবং ওয়ালীদ ইবনু উত্বার সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছে।
হাদিস নং - ৩৬৮৪
আহ্মদ ইবনু সা‘ঈদ আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ ইসহাক (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি শুনলাম, এক ব্যাক্তি বারা‘ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করল, ‘আলী (রাঃ) কি বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল? তিনি বললেন, আলী তো নিঃসন্দেহে মুকাবিলায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন এবং দুইটি লৌহ পোশাক পরিধান করেছিলন।
হাদিস নং - ৩৬৮৫
‘আবদুল ‘আযীয ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) ‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমাইয়া ইবনু খালফে্র সাথে একটি চুক্তি করেছিলাম। যখন বদর দিবস উপস্থিত হল, এরপর তিনি উমাইয়া ইবনু খাল্ফ ও তার পুত্রের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করলেন। সেদিন বিলাল (রাঃ) বললেন, যদি উমাইয়া ইবনু খাল্ফ প্রাণে বেঁচে যায় তাহলে আমি সফল হব না।
হাদিস নং - ৩৬৮৬
আবদান ইবনু ‘উসমান (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি সূরা নাজ্ম তিলাওয়াত করলেন এবং সাথে সাথে সিজ্দা করলেন। এক বৃদ্ধ ব্যতীত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীর নিকট যারা উপস্থিত ছিলেন তারা সকলেই সিজ্দা করলেন। সে বৃদ্ধ এক মুষ্টি মাটি উঠিয়ে কপালে লাগিয়ে বলল, আমার জন্য এতটুকু যথেষ্ট। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কিছুদিন পর আমি তাকে কাফির অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি। ইব্রাহীম ইবনু মূসা হিশামের পিত (‘উরওয়া) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, (তার পিতা) যুবায়রের শরীরে তিনটি মারাত্নক আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। এর একটি ছিল তার কাঁধে। ‘উরওয়া বলেন, আমি আমার আঙ্গুলগুলো ঔ ক্ষতস্থানে ঢুকিয়ে দিতাম, বর্ণনাকারী ‘উরওয়া বলেন, ঔ আঘাত তিনটির দু’টি ছিল বদর যুদ্ধের এবং একটি ছিল ইয়ারমুক যুদ্ধের। ‘উরওয়া বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র শহীদ হলেন তখন আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান আমাকে বললেন, হে ‘উরওয়া, যুবায়রের তরবারিখানা তুমি কি চিন? আমি বললাম হাঁ চিনি। ‘আবদুল মালিক বললেন, এর কি কোন চিহ্ন(তোমার জানোা) আছে? আমি বললাম, এর ধার পাশে এক জায়গায় ভাঙ্গা আছে যা বদর যুদ্ধের দিন ভেঙ্গে ছিল তখন তিনি বললেন, হাঁ তুমি সত্যি বলেছ, (তারপর তিনি একটি কবিতাংশ আবৃত্তি করলেন) (আরবী) সে তরবারীর ভাঙ্গন ছিল শত্রু সেনাদের আঘাত করার কারণে। এরপর আবদুল মালিক তরবারী খানা ‘উরওয়ার নিকট ফিরিয়ে দিলেন, হিশাম বলেন, আমরা নিজেরা এর মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম তিন হাজার দিরহাম। এরপর আমাদের এক ব্যাক্তি তা (উত্তরাধিকার সূত্রে) নিয়ে নিল। আমার মনে বাসনা জাগল যে যদি আমি তরবারীটি নিয়ে নিতাম।
হাদিস নং - ৩৬৮৭
ফারওয়া (রহঃ) হিশামের পিতা (‘উরওয়া) (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যুবায়র (রাঃ)-এর তরবারী রূপার কারুকার্য খচিত ছিল। হিশাম (রাঃ) বলেন, ‘উরওয়া (রহঃ)-এর তরবারীটিও রূপার কারুকার্য খচিত ছিল।
হাদিস নং - ৩৬৮৮
আহ্মদ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ‘উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইয়ারমুকের (যুদ্ধের) দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবাগণ যুবায়র (রাঃ) কে বলেন যে, (মুশরিকদের প্রতি) আপনি কি আক্রমন করবেন না তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে আক্রমণ করব। তখন তিনি বলেন, আমি যদি (তাদের প্রতি) আক্রমণ করি তখন তোমরা পিছে সরে পড়বে। তখন তারা বললেন, আমরা তা করব না। এরপর তিনি (যুবায়ের (রাঃ) তাদের উপর আক্রমণ করলেন। এমনকি শত্রুদের কাতার ভেদ করে সামনে এগিয়ে গেলেন। কিন্তু (এ সময়) তার সঙ্গে আর কেউ ছিলনা। মুখোমুখি হয়ে ফিরে আসার জন্য উদ্যত হলে শত্রুগণ তাঁর ঘোড়ার লাগাম ধরে ফেলে এবং তার কাঁধের উপর দু’টি আঘাত করে, যে আঘাত দু’টির মাঝেই বিদ্যমান রয়েছে বদর যুদ্ধের আঘাতের চিহ্নটি। ‘উরওয়া (রহঃ) বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন ঐ ক্ষত চিহ্ন গুলোতে আমার সবগুলো আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে আমি খেলা করতাম। ‘উরওয়া (রাঃ) আরো বলেন, ঐদিন তার(যুবায়রের) সঙ্গে (তার পুত্র) আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) ও শরীক ছিলেন, তখন তার বয়স ছিল দশ বছর। যুবায়র (রাঃ), তাকে ঘোড়ার পিঠে উঠিয়ে নিলেন এবং এক ব্যাক্তিকে তার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিলেন।
হাদিস নং - ৩৬৮৯
‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধের দিন আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশে চব্বিশজন কুরাইশ সর্দারের লাশ বদর প্রান্তরের একটি কদর্য আবর্জনপূর্ণ কূপে নিক্ষেপ করা হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করলে সে স্থানের উপকন্ঠে তিনদিন অবস্থান করতেন। সে মতে বদর প্রান্তরে অবস্থানের পর তৃতীয় দিন তিনি তাঁর সাওয়ারী প্রস্তুত করার আদেশ দিলেন, সাওয়ারী জ্বীন কষে বাঁধা হল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পদব্রজে (কিছু দূর) এগিয়ে গেলেন। সাহাবাগণও তাঁর পেছনে পেছনে চলেছেন। তারা বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, কোন প্রয়োজনে (হয়ত) তিনি কোথাও যাচ্ছেন। অবশেষে তিনি ঐ কূপের কিনারে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং কূঁপে নিক্ষিপ্ত ঐ নিহত ব্যাক্তিদের নাম ও তাদের পিতার নাম ধরে এভাবে ডাকতে শুরু করলেন, হে অমুকের পুত্র অমুক, হে অমুকের পুত্র অমুক! তোমরা কি এখন অনুভাব করতে পারছ যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) -এর আনুগত্য তোমাদের জন্য পরম খুশীর বস্তু ছিল? আমাদের প্রতিপালক আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমরা তো তা সত্য পেয়েছি, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যা বলেছিলেন তোমরাও তা সত্য পেয়েছ কি? বর্ণনাকারী বলেন, (এ কথা শুনে) ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি আত্মাহীন দেহগুলুকে সম্বোধন করে কি কথা বলছেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐ মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, আমি যা বলছি তা তাদের তুলনায় তোমরা অধিক শ্রবণ করছ না। কাতাদা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাঁর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা শোনাতে) তাদের ধমকি, লাঞ্ছনা, দুঃখ-কষ্ট, আফসোস এবং লজ্জা দেওয়ার জন্য (সাময়িকভাবে) দেহে প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন।
হাদিস নং - ৩৬৯০
হুমায়দী (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (আরবী) (যারা আল্লাহর অনুগ্রহের বদলে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে) ১৪ ইবরাহীম ২৮ আয়াতাংশ সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহর কসম, এরা হল কাফির কুরাইশ সম্প্রদায়। ‘আমর (রহঃ) বলেন, এরা হচ্ছে কুরাইশ সম্প্রদায় এবং মুহাম্মদ হচ্ছেন আল্লাহর নিয়ামত। এবং (আরবী) (নিজেদের সম্প্রদায়কে তারা নামিয়ে আনে ধ্বংসের ক্ষেত্রে) ১৪ ইবরাহীম ২৮ আয়াতাংশের মাঝে বর্ণিত (আরবী) এর অর্থ হচ্ছে (আরবী) দোযখ। (অর্থাৎ বদর যুদ্ধের দিন তারা তাদের কাওমকে দোযখে পৌছিয়ে দিয়েছে।)
হাদিস নং - ৩৬৯১
উবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) হিশামের পিতা (উরওয়া) (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মৃত ব্যাক্তিকে তার পরিবার পরিজনদের কান্নাকাটি করার কারণে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়। ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর কথাটি” আয়িশা (রাঃ) –এর নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেছেন, মৃত ব্যাক্তির অপরাধ ও গোনাহর কারণে তাকে (কবরে) শাস্তি দেয়া হয় অথচ তখনও তার পরিবারের লোকেরা তার জন্য ক্রন্দন করছে। তিনি (রাঃ) বলেন, এ কথাটি ঐ কথাটিরই অনুরূপ যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কূপের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, যে কূপে বদর যুদ্ধে নিহত মুশরিকদের নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তিনি তাদেরকে যা বলার বল্লেন(এবং জানালেন)যে, আমি যা বলছি তারা তা সবই শুনতে পাচ্ছে। তিনি বললেন, এখন তারা খুব বুঝতে পারছে যে, আমি তাদেরকে যা বলছিলাম তা ছিল যথার্থ। এরপর ‘আয়িশা (রাঃ)(আরবী) (তুমি তো মৃতকে শোনাতে পারবেনা) (৩০ রূমঃ ৫২) (এবং তুমি শোনাতে সমর্থ হবে না তাদেরকে যারা কবরে রয়েছে)(৩৫ ফাতিরঃ ২২) আয়াতাংশ দু’টো তিলাওয়াত করলেন। উরওয়া (রাঃ) বলেন, (এর অর্থ হল) জাহান্নামে যখন তারা তাদের আসন গ্রহণ করে নেবে।
হাদিস নং - ৩৬৯২
উসমান (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরে অবস্থিত কূপের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, (হে, মুশরিকগণ) তোমাদের রব তোমাদের নিকট যা ওয়াদা করেছিলেন তা তোমরা ঠিক মত পেয়েছ কি? পরে তিনি বললেন, এ মুহূর্তে তাদেরকে আমি যা বলছি তারা তা সবই শুনতে পাচ্ছে। এ বিষয়টি আয়িশা (রাঃ) এর সামনে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার অর্থ হল, তারা এখন বুঝতে পারছে যে, আমি তাদেরকে যা বলতাম তাই হক ছিল। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন (আরবী) তুমি তো মৃতকে শোনাতে পারবেনা) এভাবে আয়াতটি সম্পুর্ণ তিলাওয়াত করলেন।
হাদিস নং - ৩৬৯৩
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, হারিসা (রাঃ) একজন নওজোয়ান লোক ছিলেন। বদর যুদ্ধে তিনি শাহাদত বরণ করার পর তার আম্মা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারিসা আমার কত আদরের আপনি তো তা অবশ্যই জানেন। (বলুন) সে যদি জান্নাতী হয় তাহলে আমি ধৈর্য ধারণ করব এবং আল্লাহর নিকট সাওয়াবের আশা পোষণ করব। আর যদি এর অন্যথায় হয় তাহলে আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন, আমি (তার জন্য) যা করছি। তখন তিনি বললেন, তোমার কি হল, তুমি কি জ্ঞানশূন্য হয়ে গেলে? বেহেশ্ত কি একটি? (না না) বেহেশ্ত অনেকগুলি, সে তো জান্নাতুল ফিরদাউসে অবস্থান করছে।
হাদিস নং - ৩৬৯৪
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মারসা’দ, যুবায়র ও আমাকে কোথাও পাঠিয়েছিলেন এবং আমরা সকলেই অশ্বারোহী। তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা যাও। যেতে যেতে তোমরা ‘রাওযা খাখ’ নামক স্থানে পৌঁছে তথায় একজন স্ত্রীলোক দেখতে পাবে। তার নিকট (মক্কায়) মুরশিকদের কাছে লিখিত হাতিব ইবনু আবূ বালতার একখানা পত্র আছে। (সে পত্রখানা ছিনিয়ে আনবে।)আলী (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর নির্দেশিত স্থানে গিয়ে তাকে ধরে ফেললাম। সে তখন স্বীয় একটি উটের উপর আরোহণ করে পথ অতিক্রম করছিল। আমরা তাকে বললাম, পত্রখানা আমাদের নিকট অর্পণ কর। সে বলল, আমার নিকট কোন পত্র নেই। আমরা তখন তার উটটিকে বসিয়ে তার তল্লাশী নিলাম। কিন্তু পত্রখানা উদ্ধার করতে পারলাম না। আমরা বললাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা বলেন নি। তোমাকে পত্রখানা বের করতেই হবে। নতুবা আমরা তোমাকে উলঙ্গ করে ছাড়ব। যখন (আমাদের) কঠোর মনোভাব লক্ষ্য করল তখন স্ত্রীলোকটি তার কোমরের পরিধেয় বস্ত্রের গিঁটে কাপড়ের পুঁটুলির মধ্য থেকে পত্রখানা বের করে দিল। আমরা তা নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর দরবারে উপস্থিত হলাম (সব দেখে শুনে) উমর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) এবং মু’মিনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকথা করেছে। আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দই। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাতিব ইবনু আবূ বালতা (রাঃ) কে ডেকে) বললেন, তোমাকে একাজ করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? হাতিব (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিশ্বাসী নই, আমি এরূপ নই। বরং (এ কাজ করার পেছনে) আমার মূল উদ্দেশ্য হল (মক্কার শত্রু) কাওমের প্রতি কিছু অনুগ্রহ করা যাতে আল্লাহ এ উসিলায় (তাদের অনিষ্ট থেকে) আমার মাল এবং পরিবার ও পরিজনকে রক্ষা করেন। আর আপনার সাহাবীদের সকলেরই কোন না কোন আত্নীয় সেখানে রয়েছে, যার দ্বারা আল্লাহ তার ধন-সম্পদ ও পরিবারবর্গকে রক্ষা করেছেন (এ কথা শুনে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে সত্যই বলেছে। সুতরাং তোমরা তার ব্যাপারে ভাল ব্যাতীত আর কিছু বলো না। তখন উমর (রাঃ) বললেন, সে তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল) ও মু’মিনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকথা করেছে। সুতরাং আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কি বদরী সাহাবী নয়? নিশ্চয়ই বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে দেখে শুনেই আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমাদের যা ইচ্ছা কর” তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। (এ কথা শুনে) উমর (রাঃ)-এর দু’চোখ তখন অশ্রু সজল হয়ে উঠল। তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) ই সর্বাধিক জ্ঞাত।
হাদিস নং - ৩৬৯৫
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ আল জু‘ফী (রহঃ) আবূ উসাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছিলেন, শত্রু তোমাদের নিকটবর্তী হলে তোমরা তীর নিক্ষেপ করবে এবং তীর ব্যবহারে সংযমী হবে।
হাদিস নং - ৩৬৯৬
মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রাহীম (রহঃ) আবূ উসাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তারা (শত্রুরা) তোমাদের নিকটবর্তী হলে তোমরা তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করবে এবং তীর ব্যবহারে সংযমী হবে।
হাদিস নং - ৩৬৯৭
আমর ইবনু খালীদ (রহঃ) বারা‘ ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওহোদ যুদ্ধের দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়রকে তীরন্দাজ বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করেছিলেন। (এ যুদ্ধে) তারা (মুশরিক বাহিনী) আমাদের সত্তর জনকে শহীদ করে দেয়। বদর যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণ মুশরিকদের একশ চল্লিশ জনকে নিহত ও গ্রেফতার করে ফেলেছিলেন। এর মধ্যে সত্তর জন বন্দী হয়েছিল এবং সত্তর জন নিহত হয়েছিল। (ওহোদ যুদ্ধের দিন যুদ্ধ সমাপান্তে কুফরী অবস্থায়) আবূ সুফিয়ান (রাঃ) বললেন, আজকের দিন হল বদরের বদলা(বিজয়)। যুদ্ধ কূপের বালতির ন্যায় হাত বদল হয়।
হাদিস নং - ৩৬৯৮
মুহাম্মাদ ইবনু আলা (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি স্বপ্নে১ যে কল্যাণ দেখতে পেয়েছিলাম সে তো ঐ কল্যাণ যা পরবর্তী সময়ে আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে দান করেছেন। আর উত্তম প্রতিদান সম্বন্ধে যা দেখেছিলাম তা তো আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন বদর যুদ্ধের পর। (১ একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে কতকগুলো গরু কুরবানী করতে দেখলেন এবং ইংগিত পেলেন কতকগুলো কল্যাণকর বিষয়ের। তিনি গরু কুরবানী করাকে ওহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের শাহাদাত বরণ করার দ্বারা ব্যাখ্যা করলেন এবং দ্বিতীয় বদরের পর মুসলমানগণ যে ঈমানী বল লাভ করেছিলেন সেটিকে তিনি স্বপ্নে দেখা কল্যাণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলান। কেননা বদরের পূর্বে ভীতি সৃষ্টি করে মুসলমানদেরকে অবদমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে তাদের ঈমান আরো ময্বুত হয়ে যায় এবং মনোবল আরো দৃঢ় হয়ে যায়। আল-কুরানে এর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।)
হাদিস নং - ৩৬৯৯
ইয়াকুব (রহঃ) আবদুর রাহমান ইবনু আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, বদরের রণাঙ্গনে সৈন্যদের সারিতে দাঁড়িয়ে আমি এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখলাম, আমার ডানে ও বামে অল্প বয়স্ক দু’জন যুবক দাঁড়িয়ে আছে। পাশে তাদের মত অল্প বয়স্ক দু’জন যুবক দাঁড়িয়ে থাকার ফলে আমি নিজেকে নিরাপদ মনে করছিলাম না। এমতাবস্থায় তাদের একজন অপরজন থেকে গোপন করে আমাকে জিজ্ঞাসা করল চাচাজানো, আবূ জেহেল কোন লোকটি আমাকে তা দেখিয়ে দিন? আমি বললাম, ভাতিজা, তাকে চিনে তুমি কি করবে? সে বলল, আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছি, তার দেখা পেলে আমি তাকে হত্যা করব না হয় (এ চেষ্টায়) নিজেই শহীদ হয়ে যাব। এরপর দ্বিতীয় যুবকটিও তাঁর সঙ্গীকে গোপন করে আমাকে অনুরূপ জিজ্ঞাসা করল। আবদুর রাহমান ইবনু আউফ (রাঃ) বলেন, (তাদের কথা শুনে) আমি এত অধিক সন্তুষ্ট হলেম যে, দু’জন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের মধ্যস্থলে অবস্থানেও আমি ততটুকু সন্তুষ্ট হতাম না। এরপর আমি তাদের দু’জনকে ইশারা করে আবূ জেহেলকে দেখিয়ে দিলাম। তৎক্ষণাৎ তাঁরা বাজ পাখির ন্যায় ক্ষিপ্রতার সাথে তাঁর উপর ঝাপিয়ে পড়ল এবং ভীষণভাবে তাকে আঘাত করল। এরা দু’জন ছিল ‘আফরার দু‘পুত্র।
হাদিস নং - ৩৭০০
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসিম ইবনু উমর ইবনু খাত্তাবের নানা আসিম ইবনু সাবিত আনসারীর নেতৃত্বে দশজন সাহাবীর একটি দল গোয়েন্দাগিরির জন্য পাঠালেন। তাঁরা উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থান হান্দায় পৌছালে হুযাইল গোত্রের একটি শাখা বানু লিহয়ানকে তাদের আগমন সম্বন্ধে অবগত করা হয়। (এ সংবাদ শুনে) তারা প্রায় একশ’ জন তীরন্দাজ তৈরি হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করার উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়ে তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে পথ চলতে আরম্ভ করে। যেতে যেতে তারা এমন স্থানে পৌছে যায় যেখানে অবস্থান করে তাঁরা (সাহাবীগণ) খেজুর খেয়েছিলেন। এতদৃষ্টে তারা (বানু লিহ্য়ানের লোকেরা) ইয়াসরিবের খেজুর (এর আটি) বলে তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে তাদের খুঁজতে লাগল। আসিম ও তাঁর সঙ্গীগণ তাদের (আগমন) সম্বন্ধে অনুভব করতে পেরে একটি (পাহাড়ি) স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেন। (লিহয়ান) কাওমের লোকেরা তাদের বেষ্টন করে ফেলে। তারপর তারা মুসলমানদের নিচে অবতরণ করে আত্মসমর্পণের আহবান জানিয়ে বলল, তোমাদেরকে ওয়াদা দিচ্ছি, আমরা তোমাদের কাউকে হত্যা করব না। তখন আসিম ইবনু সাবিত (রাঃ) বললেন, হে আমার সাথী ভাইয়েরা, কাফিরের নিরাপত্তায় আশ্বস্ত হয়ে আমি কখনো নিচে অবতরণ করব না। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের খবর আপনার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জানিয়ে দিন। এরপর তারা মুসলমানদের প্রতি তীর নিক্ষেপ আরম্ভ করল এবং আসিমকে (আরো ছয়জনসহ) শহীদ করে ফেলল। অবশিষ্ট তিনজন, খুবাইব, যায়িদ ইবনু দাসিনা এবং অপর একজন (আবদুল্লাহ ইবনু তারিক) তাদের ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে নিচে নেমে আসলেন। তারা (শত্রুগণ) তাঁদেরকে কাবু করে নিয়ে নিজেদের ধনুকের তার খুলে তা দিয়ে বেঁধে ফেলল। এ দেখে তৃতীয়জন বললেন, এটাই প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা। আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের সাথে যাবনা, আমার জন্য তো এদের(শহীদ সাথীদের) আদর্শই অনুসরনীয়। অর্থাৎ আমিও শহীদ হয়ে যাব। তারা তাকে বহু টানা হেচড়া করল। কিন্তু তিনি তাদের সাথে যেতে অস্বীকার করলেন। (অবশেষে তারা তাঁকে শহীদ করে দিল) এরপর খুবাইব এবং যায়িদ ইবনু দাসিনাকে (বন্দী করে) নিয়ে গিয়ে তাদেরকে (মক্কার বাজারে) বিক্রি করে দিল। এটা ছিল বদর যুদ্ধের পরবর্তী ঘটনা। বদর যুদ্ধে খুবাইব যেহেতু হারিস ইবনু আমিরকে হত্যা করেছিলেন। তাই (প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে) হারিস ইবনু আমির ইবনু নাওফিলের পুত্রগণ তাঁকে খরীদ করে নিল। খুবাইব তাদের নিকট বন্দী অবস্থায় কাটাতে লাগলেন। এরপর তারা সবাই তাকে হত্যা করার দৃঢ় সংকল্প করল। তিনি হারিসের কোন এর কন্যার নিকট থেকে ক্ষৌরকর্মের জন্য একটি ক্ষুর চেয়ে নিলেন। তার (হারিসের কন্যার) অসতর্ক অবস্থায় তার একটি ছোট বাচ্চা খুবাইবের কাছে গিয়ে পৌঁছল। সে (হারিসের কন্যা) দেখতে পেল তিনি (খুবাইব) তার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে রানের উপর বসিয়ে ক্ষুরখানা হাতে ধরে আছেন। সে (হারিসের কন্যা) বর্ণনা করেছে, (এ দেখে) আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম, খুবাইব তা বুঝতে পারলেন, তিনি বললেন, আমি তাকে (শিশুটিকে) হত্যা করে ফেলব বলে তুমি কি ভয় পেয়েছ? আমি কখনো এ কাজ করবনা। সে আরো বলেছে, আল্লাহর কসম! আমি খুবাইবের মত উত্তম বন্দী আর কখনো দেখেনি। আল্লাহর কসম একদিন আমি তাকে আঙ্গুদের গুচ্ছ হাতে নিয়ে আঙ্গুর খেতে দেখেছি। অথচ সে লোহার শিকলে বাঁধা ছিল এবং সে সময় মক্কায় কোন ফলও ছিল না। সে (হারিসের কন্যা) বলত, ঐ আঙ্গুরগুলো আল্লাহ তা‘আলা খুবাইবকে রিয্কস্বরূপ দান করেছিলেন। অবশেষে একদিন তারা খুবাইবকে হত্যা করার জন্য যখন হারামের সীমানার বাইরে নিয়ে গেল। তখন খুবাইব (রাঃ) তাদেরকে বললেন, আমাকে দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার সুযোগ দাও, তারা সুযোগ করে দিলে তিনি দু ‘রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি (মৃত্যু ভয়ে) ভীত হয়ে পড়েছি, তোমরা এ কথা না ভাবলে আমি সালাত (নামায/নামাজ) আরো দীর্ঘায়িত করতাম। এরপর তিনি এ বলে দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তাদেরকে এক এক করে গুনে রাখ, তাদেরকে বিক্ষিপ্তভাবে হত্যা কর এবং তাদের একজনকেও অবশিষ্ট রেখ না। তারপর তিনি আবৃত্তি করলেনঃ “আমি যখন মুসলমান হিসাবে মৃত্যু বরণ করার সৌভাগ্য লাভ করেছি, তাই আমার কোনই ভয় নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে কোন অবস্থাতেই আমার মৃত্যু হউক। আর তা যেহেতু একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই, তিনি ইচ্ছা করলে আমার প্রতিটি কর্তিত অঙ্গে বরকত প্রদান করতে পারেন। ” এরপর (হারিসের পুত্র) আবূ সারুআ উকবা (উকবা ইবনু হারিস) তাঁর দিকে দাঁড়াল এবং তাঁকে শহীদ করে দিল। এভাবেই খুবাইব (রাঃ) সে সব মুসলমানদের জন্য দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ)-এর নিয়ম (সুন্নাত) চালু করে গেলেন যারা ধৈর্যের সাথে শাহাদত বরণ করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐদিনই সাহাবীদেরকে অবহিত করেছিলেন যে দিন তাঁরা শত্রু কবলিত হয়ে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। কুরাইশদের নিকট তাঁর (আসিম (রাঃ) এর) নিহত হওয়ার খবর পৌঁছলে তারা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আসিমের শরীরের কোন অঙ্গ কেটে আনার উদ্দেশ্যে কপিতয় কুরাইশ কাফিরকে প্রেরণ করল। যেহেতু (বদর যুদ্ধের দিন) আসিম ইবনু সাবিত তাদের (কুরাইশদের) একজন বড় নেতাকে হত্যা করেছিল। এদিকে আল্লাহ আসিমের লাশকে হিফাযাত করার জন্য মেঘখন্ডের ন্যায় এক ঝাঁক মৌমাছি পাঠিয়ে দিলেন। মৌমাছিগুলো আসিম (রাঃ) এর লাশকে শত্রু সেনাদের হাত থেকে রক্ষা করল। ফলে তাঁর দেহের কোন অঙ্গ কেটে নিতে সক্ষম হল না। কা’ব ইবনু মালিক(রা০ বলেন, মুরারা ইবনু রাবী আল উমরী এবং হিলাল ইবনু উমাইয়া আল ওয়াকিফী সম্বন্ধে লোকেরা বলেছেন যে, তারা উভয়ই আল্লাহর নেক বান্দা ছিলেন এবং দু’জনই বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
হাদিস নং - ৩৭০১
কুতায়বা (রহঃ) নাফি‘ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাঈদ ইবনু যায়দ ইবনু আমর ইবনু নুফায়ল (রাঃ) ছিলেন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবী। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, ইবনু উমরের নিকট জুম‘আর দিন এ সুংবাদ পৌঁছলে তিনি সাওয়ারী পিঠে আরোহণ করে তাঁকে দেখতে গেলেন। তখন বেলা হয়ে গিয়েছে এবং জুমু‘আর সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময়ও ঘনিয়ে আসছে দেখে তিনি জুমু‘আর সালাত (নামায/নামাজ)-এর আদায় করতে পারলেন না। (আর এক সনদে) লায়স (রহঃ) উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা উমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম আয যুহরী সুবায়া বিনত হারিস আসলামিয়্যা (রাঃ) এর কাছে গিয়ে তার ঘটনা ও (গর্ভবতী মহিলাম ইদ্দত সম্বন্ধে) তার প্রশ্নের উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে পত্র মারফত জিজ্ঞাসা করে জানতে আদেশ করলেন। এরপর উমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উতবাকে লিখে জানালেন যে, সুবায়আ বিনতুল হারিস তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি বানু আমির ইবনু লুয়াই গোত্রের সা’দ ইবনু খাওলার স্ত্রী ছিলেন, সা‘দ (রাঃ) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তিনি বিদায় হাজ্জের (হজ্জ) বছর ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন। তার ইন্তেকালের কিছুদিন পরেই তিনি সন্তান প্রসব করলেন। এরপর নিফাস থেকে পবিত্র হয়েই তিনি বিবাহের পয়গাম দাতাদের উদ্দেশ্যে সাজসজ্জা আরম্ভ করলেন। এ সময় আবদুদ্দার গোত্রের আবূস সানাবিল ইবনু বা’কাক নামক এর ব্যাক্তি তাকে গিয়ে বললেন কি হয়েছে, আমি তোমাকে দেখতে পাচ্ছি যে তুমি বিবাহের আশায় পয়গম দাতাদের উদ্দেশ্যে সাজসজ্জা আরম্ভ করে দিয়েছ? আল্লাহর কসম চার মাস দশদিন অতিবাহিত হওয়ার পুর্বে তুমি বিবাহ করতে পারবেনা। সুবায়আ (রাঃ) বলেন, (আবূস সানাবিল আমাকে) এ কথা বলার পর আমি ঠিকঠাক মত কাপড় চোপড় পরিধান করে বিকেল বেলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলাম এবং এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, যখন আমি বাচ্চা প্রসব করেছি তখন থেকেই আমি হালাল হয়ে গিয়েছি। এরপর তিনি আমাকে বিয়ে করার নির্দেশ দিলেন যদি আমার ইচ্ছা হয়। (ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, আসবাগ ইউনুসের সূত্রে লায়সের মতই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। লায়স (রহঃ) বলেছেন, ইউনুস ইবনু শিহাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, বানু আমির ইবনু লুয়াই গোত্রের আযাদকৃত গোলাম মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু সাওবান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুহাম্মদ ইবনু বুকায়য়ের পিতা তাকে জানিয়েছেন।
হাদিস নং - ৩৭০২
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) মু‘আয ইবনু রিফাআ‘ ইবনু যুরাকী (রহঃ)তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের একজন। তিনি বলেন, একদা জিব্রাঈলআলাইহি ওয়া সাল্লাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, আপনারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুসলমানদেরকে কিরূপ গণ্য করেন? তিনি বললেন, তাঁরা সর্বোত্তম মুসলমান অথবা(বর্ণনাকারীর সন্দেহ) এরূপ কোন বাক্য তিনি বলেছিলেন। জিব্রাঈলআলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ফিরিশ্তাগণের মধ্যে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণও তদ্রুপ মর্যাদার অধিকারী।
হাদিস নং - ৩৭০৩
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) মু‘আয ইবনু রাফি‘ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, রিফাআ‘ (রাঃ) ছিলেন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবী আর রাফি‘ (রাঃ) ছিলেন বায়‘আতে আকাবায় অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবী। রাফি‘ (রাঃ) এর পুত্র (রিফাআ‘) কে বলতেন, বায়‘আতে ‘আকাবায় শরীক থাকার চেয়ে বদর যুদ্ধে শরীক থাকা আমার কাছে বেশী আনন্দের বিষয় বলে মনে হয় না। কেননা জিব্রাঈলআলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
হাদিস নং - ৩৭০৪
ইসহাক ইবনু মনসূর (রহঃ) মু‘আয ইবনু রিফাআ‘ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, একজন ফিরিশ্তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। (অন্য সনদে) ইয়াহ্ইয়া থেকে বর্ণিত যে, ইয়াযীদ ইবনুল হাদ (রহঃ) তাকে জানিয়েছেন যে, যেদিন মু‘আয (রাঃ) এ হাদিসটি বর্ণনা করেছিলেন সেদিন আমি তার কাছেই ছিলাম। ইয়াযীদ বলেছেন, মু‘আয (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, প্রশ্নকারী ফিরিশ্তা হলেন জিব্রাঈলআলাইহি ওয়া সাল্লাম।
হাদিস নং - ৩৭০৫
ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধের দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই তো জিব্রাঈলআলাইহি ওয়া সাল্লাম রণ-সজ্জায় সজ্জিত হয়ে ঘোড়ার মাথা (ঘোড়ার লাগাম) হাত দিয়ে ধরে আছেন।
হাদিস নং - ৩৭০৬
খালীফা (রহঃ) আনাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আবূ যায়েদ (রাঃ) ইন্তেকাল করেন। তিনি কোন সন্তান-সন্ততি রেখে যাননি। তিনি ছিলেন বদরী সাহাবী।
হাদিস নং - ৩৭০৭
‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসূফ (রহঃ) ইবনু খাব্বাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ সা‘ঈদ ইবনু মালিক খুদরী (রাঃ) সফর থেকে বাড়ী ফেরার পর তার পরিবারের লোকেরা তাঁকে কুরবানীর গোশ্ত থেকে কিছু গোশ্ত খেতে দিলেন। তিনি বললেন, আমি না জিজ্ঞাসা করে এ গোশ্ত খেতে পারিনা। তারপর তিনি তার মায়ের গর্ভজাত ভ্রাতা কাতাদা ইবনু নু’মানের কাছে গিয়ে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি ছিলেন, একজন বদরী সাহাবী। তখন তিনি তাকে, বললেন, তিনদিন পর কুরবানীর গোশ্ত খাওয়ার ব্যাপারে তোমাদের প্রতি যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল পরবর্তীতে (অনুমতি সম্বলিত হাদীসের দ্বারা) তা সম্পূর্ণ রহিত করে দেয়া হয়েছে।
হাদিস নং - ৩৭০৮
ঊবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুবায়র (রাঃ) বলেছেন, বদর যুদ্ধের দিন আমি উবায়দা ইবনু সাঈদ ইবনু আস (রাঃ) কে এমন অস্ত্রাবৃত অবস্থায় দেখলাম যে, তার দু’চোখ ব্যতীত আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তাকে আবূ যাতুল কারিশ বলে ডাকা হত। সে বলল, আমি আবূ যাতুল কারিশ। (একথা শুনে) বর্শা দিয়ে আমি তার উপর হামলা করলাম এবং তার চোখ ফুঁড়ে দিলাম। সে তৎক্ষণাৎ মারা গেল। হিশাম বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে, যুবায়র (রাঃ) বলেছেন, তার(উবায়দা ইবনু সাঈদ ইবনু আসের) লাশের উপর পা রেখে বেশ বল প্রয়োগ করে (তার চোখ থেকে) আমি বর্শাটি টেনে বের করলাম। এতে বর্শার উভয় প্রান্ত বাঁকা হয়ে যায়। উরওয়া (রহঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়রের নিকট বর্শাটি চাইলে তিনি তা তাঁকে দিয়ে দেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইন্তেকালের পর তিনি তা নিয়ে যান। এবং পরে আবূ বকর (রাঃ) তা চাইলে তিনি তাঁকে বর্শাখানা দিয়ে দেন। আবূ বকরের ইন্তেকালের পর উমর (রাঃ) তা চাইলেন। তিনি তাঁকে বর্শাখানা দিয়ে দিলেন। কিন্তু উমরের ইন্তেকালের পর যুবায়র (রাঃ) পুনরায় বর্শাটি নিয়ে যান। এরপর উসমান (রাঃ) তাঁর নিকট বর্শাখানা চাইলে তিনি উসমানকে তা দিয়ে দেন। তবে উসমানের শাহাদতের পর তা আলীর লোকজনের হস্তগত হওয়ার পর আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তা চেয়ে নিয়ে যান। এরপর থেকে শহীদ হওয়া পর্যন্ত বর্শাখানা তাঁর নিকটই থাকে।
হাদিস নং - ৩৭০৯
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ ইদরীস আয়িযুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার হাতে বায়‘আত গ্রহণ কর। তিনি বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।
হাদিস নং - ৩৭১০
ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সাহাবী আবূ হুযাইফ (রাঃ) এর আনসারী মহিলার আযাদকৃত গোলাম সালিমকে পালকপুত্র হিসাবে গ্রহণ করেন, যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদকে পালকপুত্র হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি তাকে তার ভ্রাতুষ্পুত্রী হিন্দা বিন্তে ওয়ালীদ এব্ন উতবার সাথে বিয়ে করিয়ে দেন। জাহিলিয়্যাতের আমলে কেউ কোন ব্যাক্তিকে পালকপুত্র হিসাবে গ্রহণ করলে লোকেরা তাকে তার(পালনকারীর) প্রতই সম্বোধন করত, এবং সে তার পরিত্যক্ত সম্পদের উত্তরাধিকারী হত। অবশেষে আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করলেন, “তোমরা তাদেরকে ডাক তাদের পিতৃ পরিচয়ে। ” এরপর (আবূ হুযাইফার স্ত্রী) সাহ্লা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে হাদীসে বর্ণিত প্রকৃত ঘটনা বর্ণনা করলেন।
হাদিস নং - ৩৭১১
আলী (রহঃ) রুবায়ই বিন্ত মু‘আওয়িয (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার বাসর রাতের পরদিন সকাল বেলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন এবং তুমি(খালিদ ইবনু যাকওয়ান) যেভাবে আমার কাছে বসে আছ ঠিক সে ভাবে আমার বিছানায় এসে বসলেন। তখন কয়েকজন ছোট বালিকা দুফ বাজিয়ে বদর যুদ্ধে নিহত শহীদ পিতাদের প্রশংসা শ্লোক আবৃত্তি করছিল। পরিশেষে একটি বালিকা বলে উঠল, আমাদের মাঝে এমন একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আছেন, যিনি জানেন আগামীকাল কি হবে। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরূপ কথা বলবে না, বরং পূর্বে যা বলতে ছিলে তাই বল।
হাদিস নং - ৩৭১২
ইব্রাহীম ইবনু মূসা ও ইসমাইল (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী আবূ তাল্হা (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ঘরে কুকুর কিংবা ছবি থাকে সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশ্তা প্রবেশ করেন না। ইবনু ‘আব্বাসের মতে ছবি-এর অর্থ হচ্ছে প্রাণীর ছবি।
হাদিস নং - ৩৭১৩
আবদান ও আহমাদ ইবনু সালিহ (রহঃ) ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের গনীমতের মাল থেকে আমার অংশে আমি একটি উট পেয়েছিলাম। ‘ফায়’ থেকে প্রাপ্ত এক পঞ্চমাংশ থেকেও সেদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি উট প্রদান করেন। আমি যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা ফাতিমার সাথে বাসর রাত যাপন করার ইচ্ছা করলাম এবং বানু কায়নকা গোত্রের এক ইয়াহূদী স্বর্ণকারকে ঠিক করলাম যেন সে আমার সাথে যায়। (সেখান থেকে) আমরা ইয্খির ঘাস সংগ্রহ করে নিয়ে আসব। পরে ঐ ঘাস স্বর্ণকারদের নিকট বিক্রি করে তা আমি আমার বিয়ের ওয়ালিমায় খরচ করার ইচ্ছা করেছিলাম (একদা ঐ কার্যে যাত্রা করার জন্য) আমি আমার উট দু’টোর জন্য গদি, বস্তা এবং দড়ি ব্যবস্থা করেছিলাম আর উট দু’টো এক আনসারী ব্যাক্তির ঘরের পার্শ্বে বসানো ছিল। আমার যা কিছু সংগ্রহ করার তা সংগ্রহ করে নিয়ে এসে দেখলাম উট দু’টির চুট কেঁটে ফেলা হয়েছে এবং সে দু’টির বক্ষ বিদীর্ণ করে কলিজা খুলে নেওয়া হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে আমি আমার অশ্রু সংবরণ করতে পারলাম না। আমি (নিকটস্থ লোকদেরকে) জিজ্ঞাসা করলাম, এ কাজ কে করেছে? তারা বললেন, আবদুল মুত্তালিবের পুত্র হামযা এ কাজ করেছেন। এখন তিনি এ ঘরে আনসারদের কিছু মদ্যপায়ীদের সাথে মদপান করছেন। সেখানে একদল গায়িকা ও কপিতয় সঙ্গী সাথী। (মদ্যপানের সময়) গায়িকা ও তার সঙ্গীগণ গানের ভেতর বলেছিল, “হে হামযা! মোটা উষ্ট্রদ্বয়ের প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়”। একথা শুনে হামযা দৌড়িয়ে গিয়ে তলোয়ার হাতে নিল এবং উষ্ট্রদ্বয়ের চুট দু’টো কেঁটে নিল আর তাদের পেট চিরে কলীজা বের করে নিয়ে আসল। আলী (রাঃ) বলেন, তখন আমি পথ চলতে চলতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট চলে গেলাম। তখন তাঁর নিকট যায়েদ ইবনু হারিস (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে দেখামাত্রই) আমি যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি তা বুঝে ফেললেন। তিনি আমাকে বললেন, তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আজকের মত বেদনাদায়ক ঘটনা আমি কখনো দেখিনি। হামযা আমার উট দু’টোর উপর খুব জুলুম করেছেন, তিনি উট দূ’টোর চুট কেঁটে ফেলেছেন এবং বক্ষ বিদীর্ণ করেছেন। এখন তিনি একটি ঘরে একদল মদ্যপায়ীদের সাথে অবস্থান করছেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাঁদরখানা চেয়ে নিলেন এবং তা গায়ে দিয়ে হেঁটে রওয়ানা হলেন। (আলী বলেন) এরপর আমি এবং যায়েদ ইবনু হারিস (রাঃ) তাঁকে অনুসরণ করলাম। (হাঁটতে হাঁটতে) তিনি যে ঘরে হামযা অবস্থান করছিলেন সে ঘরের কাছে পৌঁছে তার নিকট অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেয়া হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামযাকে তার কৃতকর্মের জন্য ভৎসনা করতে শুরু করলেন। হামযা তখন নেশাগ্রস্ত। চোখ দু’টো তার লাল। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং দৃষ্টি উপর দিকে উঠিয়ে তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাটুর দিকে তাকালেন। এরপর দৃষ্টি আরো একটু উপরে দিকে উঠিয়ে তিনি তাঁর চেহারার প্রতি তাকালেন। এরপর হামযা বললেন, তোমরা তো আমার পিতার দাস। (এ কথা শুনে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝলেন যে, তিনি এখন নেশাগ্রস্ত। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ( পেছনের দিকে হটে (সেখান থেকে) বেরিয়ে পড়লেন, আমরাও তাঁর সাথে সাথে বেড়িয়ে পড়লাম।
হাদিস নং - ৩৭১৪
মুহাম্মদ ইবনু আব্বাদ (রহঃ) ইবনু মাকিল (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (তিনি বলেছেন) আলী (রাঃ) সাহ্ল ইবনু হুনাইফের(জানাজার সালাত (নামায/নামাজ)) তাকবীর উচ্চারণ করলেন এবং বললেন, তিনি (সাহল ইবনু হুনাইফ) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
হাদিস নং - ৩৭১৫
আবূল ইয়ামান (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (উমর (রাঃ) তাঁকে বলেছেন) ‘উমর ইবনু খাত্তাবের কন্যা হাফসার স্বামী খুনায়স ইবনু হুযাফা সাহামী (রাঃ) যিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবী ছিলেন এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, মদিনায় ইন্তেকাল করলে হাফসা (রাঃ) বিধবা হয়ে পড়লেন। ‘উমর (রাঃ) বলেন, তখন আমি ‘উসমান ইবনু আফফা্নের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর নিকট হাফসার কথা আলোচনা করে তাঁকে বললাম, আপনি চাইলে আমি আপনার সাথে ‘উমরের মেয়ে হাফসাকে বিয়ে দিয়ে দেব। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, ব্যাপারটি আমি একটু চিন্তা করে দেখি। (‘উমর (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে) আমি কয়েকদিন অপেক্ষা করলাম। পরে ‘উসমান (রাঃ) বললেন, আমার সুস্পষ্ট অভিমত এই যে, এই সময় আমি বিয়ে করব না। ‘উমর (রাঃ) বলেন, এরপর আমি আবূ বকরের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে বললাম, আপনার ইচ্ছা করলে ‘উমরের কন্যা হাফসাকে আমি আপনার নিকট বিয়ে দিয়ে দেব। (এ কথা শুনে) আবূ বকর (রাঃ) চুপ করে রইলেন এবং আমাকে কোন জবাব দিলেন না। এতে আমি ‘উসমানের (অস্বীকৃতির) চেয়েও অধিক দুঃখ পেলাম। এরপর আমি কয়েকদিন চুপ করে রইলাম, এমতাবস্থায় হাফসার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - নিজেই প্রস্তাব দিলেন। আমি তাঁকে সাসূলুল্লাহ -এর সাথে বিয়ে দিলাম। এরপর আবূ বকর (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমার সাথে হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পর আমি কোন উত্তর না দেওয়ার ফলে সম্ভবত আপনি মনকষ্ট পেয়েছেন। (‘উমর (রাঃ) বলেন) আমি বললাম, হাঁ। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আপনার প্রস্তাবের জবাব দিতে একটি জিনিসই আমাকে বাঁধা দিয়েছে আর তা হল এই যে, আমি জানতাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই হাফসা (রাঃ) সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন, তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গোপনীয় বিষয়টি প্রকাশ করার আমার ইচ্ছা ছিল না। (এ কারণেই আমি আপনাকে কোন উত্তর দেই নি।)যদি তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )তাঁকে গ্রহণ না করতেন, অবশ্যই আমি তাঁকে গ্রহণ করতাম।
হাদিস নং - ৩৭১৬
মুসলিম (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ বদরী সাহাবী আবূ মাসউদ (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, স্বীয় আহ্লের(পরিবার পরিজনের) জন্য ব্যয়।
হাদিস নং - ৩৭১৭
আবূল ইয়ামান (রহঃ) উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত, উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) তাঁর খিলাফত কালের (একটি ঘটনা) বর্ণনা করেছেন যে, মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) কুফার আমীর থাকা কালে তিনি (একদা) আসরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে বিলম্ব করে ফেললে যায়েদ ইবনু হাসানের দাদা বদরী সাহাবী আবূ মাসউদ উতবা ইবনু আমর আনসারী (রাঃ) তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, আপনিতো জানেন যে, জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর সাথে) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনি এভাবেই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করানোর জন্য আদিষ্ট হয়েছেন। (উরওয়া বলেন) বশীর ইবনু আবূ মাসউদ তার পিতার নিকট থেকে হাদিসটি এভাবেই বর্ণনা করতেন।
হাদিস নং - ৩৭১৮
মূসা (রহঃ) বদরী সাহাবী আবূ মাসউদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূরা বাকারার শেষ এমন দু’টি আয়াত রয়েছে যে ব্যাক্তি রাতের বেলা আয়াত দূ’টো তিলাওয়াত করবে তার জন্য এ আয়াত দু’টোই যথেষ্ট। অর্থাৎ রাত্রে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করার যে হক রয়েছে, কমপক্ষে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত তেলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট। ‘আবদুর রাহমান (রহঃ) বলেন, পরে আমি আবূ মাসঊদের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তখন তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করছিলেন। (সেখানে) এ হাদিসটি সম্পর্কে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা আমার নিকট বর্ণনা করলেন।
হাদিস নং - ৩৭১৯
ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মাহ্মূদ ইবনু রবী (রহঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, ‘ইতবান ইবনু মালিক (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আনসারী সাহাবী ছিলেন এবং তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গেলেন।
হাদিস নং - ৩৭২০
আহ্মদ (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, আমি বনী সালিম গোত্রের অন্যতম নেতা হুসাইন ইবনু মুহাম্মদকে (রহঃ) ইতবান ইবনু মালিক থেকে মাহমুদ ইবনু রাবী এর বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি উহার স্বীকৃতি দিলেন।
হাদিস নং - ৩৭২১
আবূল ইয়ামান (রহঃ) বনী আদী গোত্রের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যাক্তি আবদুল্লাহ ইবনু আমির ইবনু রাবী‘আ যার পিতা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, আমাকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রাঃ) কুদামা ইবনু মাযউনকে (রাঃ) বাহ্রাইনের শাসনকর্তা নিয়োগ করেছিলেন। তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এবং হাফসা (রাঃ)- এর মামা।
হাদিস নং - ৩৭২২
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আসমা (রহঃ) রাফি’ ইবনু খাদীজা (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমরকে বলেছেন যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তার দু’চাচা তাকে জানিয়েছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবাদযোগ্য ভূমি ভাড়া দিতে নিষেধ করেছেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি সালিমকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনিতো এ ধরনের জমি ভাড়া দিয়ে থাকেন? তিনি বললেন, হাঁ। রাফি’ ইবনু খাদীজা) তো নিজের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছেন।
হাদিস নং - ৩৭২৩
আদম (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ ইবনু হাদ লায়সী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রিফা‘আ ইবনু রাফি‘ আনসারী (রাঃ) কে দেখেছি, তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
হাদিস নং - ৩৭২৪
আবদান (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী, বনী আমির ইবনু লুওয়াই গোত্রের বন্ধু আমর ইবনু আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ উবায়দা ইবনুল জার্রাহ্কে জিযিয়া আনার জন্য বাহ্রাইন পাঠান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার্রাইন বাসীদের সাথে সন্ধি করে ‘আলা ইবনু হাযরামী (রাঃ)-কে তাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। আবূ উবায়দা (রাঃ) বাহ্রাইন থেকে মান নিয়ে এসে পৌঁছালে আনসারগণ তার আগমনের সংবাদ জানতে পেরে সকলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হলেন। সালাত (নামায/নামাজ) সমাপ্তির পর ফিরে বসলে তারা সকলেই তাঁর সামনে আসলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, আমার মনে হয়, আবূ উবায়দা কিছু মাল নিয়ে এসেছে বলে তোমরা শুনতে পেয়েছ। তারা সকলেই বললেন, হাঁ, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি বললেন, সু-সংবাদ গ্রহণ কর এবং তোমাদের আনন্দদায়ক বিষয়ের আশায় থাক, আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের জন্য দারিদ্রের আশংকা করিনা। বরং আমি আশংকা করি যে, তোমাদের কাছে দুনিয়ার প্রাচুর্য এসে যাবে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের কাছে এসেছিল, তখন তোমরা তা লাভ করতে পরস্পরে প্রতিযোগিতা করবে যেমনভাবে তারা করেছিল। আর এ ধন-সম্পদ তাদেরকে যেমনিভাবে ধ্বংস করেছিল তোমাদেরকেও তেমনিভাবে ধ্বংস করে দিবে।
হাদিস নং - ৩৭২৫
আবূন নু‘মান (রহঃ) নাফি‘ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনু উমর (রাঃ) সব ধরনের সাপকে হত্যা করতেন। অবশেষে বদরী সাহাবী আবূ লুবাবা (রাঃ) তাকে বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে বসবাসকারী (শ্বেতবর্ণের) ছোট সাপ মারতে নিষেধ করেছেন। এতে তিনি তা মারা থেকে বিরত থাকেন।
হাদিস নং - ৩৭২৬
ইবরাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কপিতয় আনসারী সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তারা বললেন, আমাদেরকে আমাদের ভাগিনা ‘আব্বাসের ফিদ্য়া মাফ করে দেয়ার অনুমতি দিন। ১ তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! তোমরা তার (মুক্তিপণ এর) একটি দিরহামও মাফ করবেনা। ১ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চাচা আব্বাস (রাঃ) বদর যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন। তখনও তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন নি। তাঁকে বন্দী করেছিলেন, আবূল ইউসর কা’ব ইবনু আমর আনসারী (রাঃ)। আন্যান্য বন্দীদের সাথে লোকেরা তাকেও সারারাত শক্তভাবে বেঁধে রাখেন। আদর্শগত বিরোধ থাকার কারণে চাচার প্রতি কোন অনুকম্পা দেখাতে না পারলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারারাত ঘুমাতে পারলেন না। লোকেরা তা বুঝতে পেরে তার বাঁধন খুলে দিলেন এবং মুক্তিপণ মাফ করে দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর প্রতি বিশেষ সম্মান দেখাতে চাইলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জী তাদের এ প্রস্তাব মেনে নিতে পারলেন না। তিনি বললেন, একটি দিরহামও মাফ করা যাবে না। অন্যদের থেকে যা নেয়া হবে তার থেকেও তদ্রূপই নেয়া হবে। মদিনাবাসী আনসারগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর চাচা আব্বাসকে ভাগিনা বলার কারণ হচ্ছে এই যে, আব্বাসের দাদা হাশিম বনী নাজ্জার গোত্রের আমর ইবনু উহায়হার কন্যা সালমাকে বিয়ে করেছিলেন। এ বিয়ের পিছনে মূল কারণ হল এই যে, ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া যাওয়ার পথে তিনি মদিনাতে খাযরাজ গোত্রের বনী নাজ্জার শাখার আমর ইবনু উহায়হার বাড়ীতে অবস্থান করতেন। আমরের কন্যা সালমাকে দেখে তার পছন্দ হবার পর বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমর সালমাকে তার নিকট বিয়ে দেন।
হাদিস নং - ৩৭২৭
আবূ আসিম ও ইসহাক (রহঃ) বনী যুহরা গোত্রের হালীফ(মিত্র) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী মিকদাদ ইবনু আমর কিনদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলুন, কোন কাফিরের সাথে আমার যদি (যুদ্ধক্ষেত্রে) সাক্ষাৎ হয় এবং আমি যদি তার সাথে লড়াই করি আর সে যদি তলোয়ারের আঘাতে আমার একখানা হাত কেটে ফেলে এবং তারপর আমার থেকে আত্মরক্ষার জন্য গাছের আড়ালে গিয়ে বলে “আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইসলাম গ্রহণ করলাম” এ কথা বলার পরেও কি আমি তাকে হত্যা করব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে হত্যা করবে না। এরপর তিনি বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে তো আমার একখানা হাত কেটে এরপর একথা বলছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেন, না তুমি তাকে হত্যা করবেনা। কেননা তুমি তাকে হত্যা করলে হত্যা করার পূর্বে তোমার যে মর্যাদা ছিল সে সেই মর্যাদা লাভ করবে, আর ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার পূর্বে তার যে মর্যাদা ছিল তুমি সে স্তরে গিয়ে পৌঁছাবে। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন বললেন, আবূ জেহেলের কি অবস্থা কেউ দেখে আসতে পার কি? তখন আবদুল্লাহ ইবনু মাসুউদ (রাঃ) তার খোঁজে বের হলেন। এবং আফরার দুই পুত্র তাকে আঘাত করে মুমূর্ষু করে ফেলে রেখেছে দেখতে পেলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি কি আবূ জেহেল? (উত্তরে আবূ জেহেল বলল) একজন লোককে হত্যা করা ছাড়া তোমরা তো বেশী কিছু করনি? সুলায়মান বলেন, অথবা সে (আবূ জেহেল) বলেছিল এর চেয়ে বেশী কিছু হয়েছে কি যে,)একজন লোককে তার কাওমের লোকেরা হত্যা করেছে? আবূ মিজলায (রাঃ) বলেন, আবূ জেহেল বলেছিল, কৃষক ব্যতীত অন্য কেউ যদি আমাকে হত্যা করত, (তাহলে কতই না ভাল হত)।
হাদিস নং - ৩৭২৮
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহিম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন বললেন, আবূ জেহেলের কি অবস্থা কেউ দেখে আসতে পার কি? তখন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) তার খোঁজে বের হলেন। এবং আফরার দুই পুত্র তাকে আঘাত করে মৃত প্রায় করে ফেলে রেখেছে দেখতে পেলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি কি আবূ জেহেল? (উত্তরে আবূ জেহেল বলল) একজন লোককে হত্যা করা ছাড়া তোমরা তো বেশী কিছু করনি। সুলায়মান বলেন, অথবা সে (আবূ জেহেল) বলেছিল, (এর চেয়ে বেশী কিছু হয়েছে কি যে) একজন লোককে তার কাওমের লোকেরা হত্যা করেছে? আবূ মিজলায (রাঃ) বলেন, আবূ জেহেল বলেছিল, কৃষক ব্যাতিত অন্য কেউ যদি আমাকে হত্যা করত (তাহলে কতই না ভাল হত)।
হাদিস নং - ৩৭২৯
মূসা (রহঃ) উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত (তিনি বলেছেন) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর যখন ওফাত হল তখন আমি আবূ বকরকে বললাম, আমাদেরকে আনসার ভাইদের নিকট নিয়ে চলুন। পথিমধ্যে আমরা আনসারদের দু’জন নেক ব্যাক্তির সাক্ষাৎ পেলাম। যাঁরা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ‘উরওয়া ইবনু যুবায়রের নিকট এ হাদিসখানা বর্ণনা করলে তিনি বললেন, তারা ছিলেন ‘উওয়াম ইবনু সা’ঈদ এবং মা‘ন ইবনু আদী (রাঃ)।
হাদিস নং - ৩৭৩০
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের (বাৎসরিক) ভাতা পাঁচ হাজার পাঁচ হাজার (দিরহাম) করে নির্ধারিত ছিল। উমর (রাঃ) বলেছেন, অবশ্যই আমি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদেরকে পরবর্তী লোকদের চেয়ে অধিক মর্যাদা প্রদান করব।
হাদিস নং - ৩৭৩১
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –কে মাগরিবের সালাত (নামায/নামাজ) সূরা তুর পড়তে শুনেছি। এ ঘটনা থেকেই সর্বপ্রথম আমার হৃদয়ে ঈমান বদ্ধমূল হয়। (অপর এক সনদে) যুহরী (রহঃ) মুহাম্মদ ইবনু জুবায়র ইবনু মুত‘ঈমের মাধ্যমে তার পিতা জুবায়র ইবনু মুত‘ঈম (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধবন্দীদের সম্পর্কে বলেছেন, মুত‘ঈম ইবনু ‘আদী যদি বেচে থাকতেন১ আর এসব কদর্য লোকদের সম্পর্কে যদি আমার নিকট সুপারিশ করতেন, তাহলে তার খাতিরে এদেরকে আমি (মুক্তিপণ ব্যতীতই) ছেড়ে দিতাম। লায়স ইয়াহ্ইয়ার সূত্রে সা‘ঈদ ইবনু মূসা য়্যিব (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, প্রথম ফিত্না২ অর্থাৎ ‘উসমান হত্যাকান্ড সংঘটিত হবার পর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের আর কেউ অবশিষ্ট ছিলেন না। দ্বিতীয়৩ ফিত্না তথা হারবার ঘটনা সংঘটিত হলে পর হুদায়বিয়ার সন্ধিকালিন সময়ে কোন সাহাবীই আর বাকী ছিলেন না। এরপর তৃতীয় ফিত্না সংঘটিত হওয়ার পর তা কখনো শেষ হয়নি, যতদিন মানুষের মধ্যে আক্ল ও কল্যাণকামিতা বিদ্যমান ছিল। ১ মুত‘ঈম ইবনু আদী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীর দাদার চাচাতো ভাই ছিলেন। তিনই তায়েফ থেকে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আশ্রয় দিয়ে ছিলেন। মমত্ববোধের কারণেই তিনি তার সম্পর্কে একথা বলেছেন। ২ তৃতীয় খলীফা উসমান (রাঃ) ইয়াহূদী সন্তান মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনু সাবা কর্তৃক উসকিয়ে দেয়া মিসরবাসী কপিতয় বিদ্রোহী লোকেরা হাতে উনপঞ্চাশ দিন কিংবা দুই মাস বিশ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর ৮ই যিলহাজ্জ জুমু‘আর দিন এ পৃথিবী থেকে চরবিদায় গ্রহণ করেন। ৩ হাররা মদিনার নিকটবর্তী কাল পাথরবিশিষ্ট একটি জায়গার নাম। এখানেই ৬৩ হিজরী সনের যিলহাজ্জ মাসে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছিল। অর্থাৎ মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর পুত্র ইয়াযীদের শাসন আমলে তারই নির্দেশে তার সেনাবাহিনী মদিনায় ত্রাসের রাজ্ত্ব কায়েম করে এবং ব্যাপক গণহত্যা ও লুটতরাজ আরম্ভ করে। এমনকি তারা মসজিদে নববীকে আস্তাবলে পরিণত করে। ফলে মসজিদে নববীতে কয়েকদিন পর্যন্ত সালাত (নামায/নামাজ)-এর জামা‘আত কায়েম করা সম্ভব হয়নি। ৪ এ ফিত্নাটি কারো মতে ১৩০ হিজরী সনে মারওয়ান ইবনু মুহাম্মদ ইবনু মারওয়ান ইবনু হাযামের খিলাফতকালে সংঘটিত আবূ হামযা খারিজীর ফিত্না। আবার কারো মতে ৭৪ হিজরী সনে হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ কর্তৃক আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে হত্যা করা ও কাবা ঘর ধ্বংস করার ফিত্না।
হাদিস নং - ৩৭৩২
হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘উরওয়া ইবনু যুবায়র, সাঈদ ইবনু মূসা য়্যিব, আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস ও ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সহধর্মিণী আয়িশার (প্রতি আরোপিত) অপবাদের ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি। তারা সকলেই হাদীসটির একটি অংশ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন। আমি এবং উম্মে মিসতাহ্ (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) বের হলাম। তখন উম্মে মিসতাহ চাঁদরে পেচিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। এতে সে বলল, মিসতাহ এর জন্য ধ্বংস। (আয়িশা (রাঃ) বলেন) তখন আমি বললাম, আপনি ভাল বলেন নি। আপনি বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী ব্যাক্তিকে মন্দ বলেছেন! এরপর অপবাদ-এর (ইফ্ক) ঘটনাটি উল্লেখ করলেন।
হাদিস নং - ৩৭৩৩
ইব্রাহীম ইবনু মুনযির (রহঃ) ইবনু শিহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত (তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর জিহাদ সমূহের বর্ণনা দেয়ার পর) বলেছেন, এ গুলোই ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সামরিক অভিযান। এরপর তিনি (বদর যুদ্ধের) ঘটনা বর্ণনা করলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নিহত) কুরাইশ কাফিরদের লাশ কূপে নিক্ষেপ করার সময় (সে গুলোকে সম্বোধন করে) বললেন, তোমাদের রব তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন পেয়েছ তো? (বর্ণনাকারী) মূসা নাফির মাধ্যমে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর সাহাবীদের থেকে কেউ কেউ বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি মৃতলোকদের আহবান করছেন! তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কথা গূলো তোমরা তাদের থেকে অধিক শুনতে পাচ্ছনা। গণিমতের অংশ লাভ করেছিলেন, এ ধরনের যে সব কুরাইশী সাহাবী বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলের তাঁদের সংখ্যা হল একাশি। ‘উরওয়া ইবনু যুবায়র বললেন, যে যুবায়র (রাঃ) বলেছেন, (বদর যুদ্ধে অংশ গ্রনণকারী) কুরাইশী সাহাবীদের গণীমতের মালের অংশগুলো বন্টন করা হয়েছিল। তাদের সংখ্যা ছিল সর্বমোট একশ’ আল্লাহই ভাল জানেন)
হাদিস নং - ৩৭৩৪
ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, বদরের দিন মুহাজিরদের জন্য (গণীমতের মালের) একশ’ হিস্সা দেয়া হয়েছিল।
হাদিস নং - ৩৭৩৫
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, বনু নাযীর ও বনু কুরায়যা গোত্রের ইয়াহূদী সম্প্রদায় (মুসলমানদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ আরম্ভ করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ নাযীর গোত্রকে দেশান্তরিত করে দেন এবং বনু কুরায়যা গোত্রের প্রতি কৃপা প্রদর্শন করে তাদেরকে (তাদের ঘর বাড়ীতেই) থাকতে দেন। কিন্তু (পরবর্তীকালে) বনূ কুরায়যা গোত্র (মুসলমানদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধে লিপ্ত হলে কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি যারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর দল ভুক্ত হবার পর তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন তারা মুসলমান হয়ে গিয়েছিল তারা ব্যতীত অন্য সব পুরুষ লোককে হত্যা করে দেয়া হয়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার সকল ইয়াহূদীকে দেশান্তরিত করলেন। আবদুল্লাহ ইবনু সালামের গোত্র বনু কায়নুকা ও বনু হারিসাসহ অন্যান্য ইয়াহূদী সম্প্রদায়কেও তিনি দেশান্তরিত করেন।
হাদিস নং - ৩৭৩৬
হাসান ইবনু মুদরিক (রহঃ) সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাসের নিকট সূরা হাশরকে সূরা হাশর বলে উল্লেখ করলে, তিনি আমাকে বললেন, বরং তুমি বলবে “সূরা নাযীর”। আবূ বিশ্র থেকে হুশাইমও এ বর্ণনায় তার (আবূ আওয়ানা) অনুসরণ করেছেন।
হাদিস নং - ৩৭৩৭
আবদুল্লাহ ইবনু আবূল আসওয়াদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আনসারগণ কিছু কিছু খেজুর গাছ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন। অবশেষে বনু কুরায়যা ও বনু নাযীর বিজিত হওয়ার পর তিনি ঐ খেজুর গাছগুলো তাদেরকে ফিরত দিয়ে দেন।
হাদিস নং - ৩৭৩৮
আদম (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুওয়াইরা নামক স্থানে বনু নাযীর গোত্রের যে খেজুর গাছ ছিল তা কিছু জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কিছু কেটে ফেলেছিলেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ তোমরা যে খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলেছ অথবা যেগুলো কান্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে (হাশর ৫৯: ৫)।
হাদিস নং - ৩৭৩৯
ইসহাক (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু নাযীর গোত্রের খেজুর গাছগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, এ সম্বন্ধেই হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেছেনঃ “বনূ লুওয়াই গোত্রের নেতাদের (কুরাইশদের) জন্য সহজ হয়ে গিয়েছে বুওয়াইবা নামক স্থানের সর্বত্রই অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হওয়া। ” বর্ণনাকারী ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, এর উত্তরে আবূ সুফিয়ান ইবনু হারিস বলেছিল, “আল্লাহ এ কাজেকে স্থায়ী করুণ এবং জ্বালিয়ে রাখুন মদিনার আশে পাশে লেলিহান আগুন, অচিরেই জানোবে আমাদের মাঝে কারা নিরাপদ থাকবে এবং জানোবে দুই নগরির কোনটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ”
হাদিস নং - ৩৭৪০
আবূল ইয়ামান (রহঃ) মালিক ইবনু আ’ওস ইবনু হাদসান নাসিরী (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, (একদা) উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাকে ডাকলেন। এসময় তার দ্বাররক্ষী ইয়ারফা এসে বলল, উসমান, আবদুর রাহমান, যুবায়র এবং সা’দ (রাঃ) আপনার নিকট আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, হাঁ তাঁদেরকে আসতে বল। কিছুক্ষণ পরে এসে বলল, আব্বাস এবং আলী (রাঃ) আপনার নিকট অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, হাঁ। তাঁরা উভয়েই ভিতরে প্রবেশ করলেন। আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে, আমীরুল মু’মিনীন! আমার এবং তাঁর মাঝে (চলমান বিবাদের) মীমাংসা করে দিন। বনূ নাযীরের সম্পদ থেকে আল্লাহ তাঁর রাসূল) (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –কে ফাই(বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) হিসাবে যা দিয়েছিলেন তা নিয়ে তাদের উভয়ের মাঝে বিবাদ চলছিল। এ নিয়ে তাঁরা তর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন, (এ দেখে আগত) দলের সকলেই বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! তাদের মাঝে একটি ফয়সালা করে তাদের পারস্পরিক এ বিবাদ থেকে অব্যাহতি দিন। তখন উমর (রাঃ) বললেন, তাড়াহুড়া করবেন না। আমি আপনাদেরকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলছি, যাঁর আদেশে আসমান ও যমিন স্থির আছে। আপনারা কি জানেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের সম্বন্ধে বলেছেন, আমরা (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণ) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাইনা। যা রেখে যাই তা সদকা হিসাবেই গন্য হয়। এর দ্বারা তিনি নিজের কথাই বললেন, উপস্থিত সকলেই বললেন, হাঁ তিনি একথা বলেছেন। উমর (রাঃ) আলী এবং আব্বাসের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে একথা বলেছেন, আপনারা তা জানেন কি? তাঁরা উভয়েই বললেন, হাঁ, এরপর তিনি (উমর) বললেন, এখন আমি আপনাদেরকে(উত্থাপিত) বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা খুলে বলছি। ফায়(বিনা যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ) এর কিছু অংশ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল) -এর জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যা তিনি আর অন্য কাউকে দেননি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদীদের নিকট হতে তাঁর রাসূল) কে যে ফায় দিয়েছেন, তাঁর জন্য তোমরা অশ্বে কিংবা উষ্ট্রে আরোহণ করে যুদ্ধ করনি; আল্লাহ তো তাঁর রাসূল) কে যার উপর ইচ্ছা তার উপর কতৃত্ব দান করেন। ; আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। (৬ ঃ ৫৯) অতএব এ ফায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর জন্যই খাস ছিল। আল্লাহর কসম! এরপর তিনি তোমাদেরকে বাদ দিয়ে নিজের জন্য এ সম্পদকে সংরক্ষিতও রাখেন নি এবং নিজের জন্য নির্ধারিতও করে যান নি। বরং এ অর্থকে তিনি তোমাদের মাঝে বন্টন করে দিয়েছেন। অবশেষে এ মাল উদ্বৃত্ত আছে। এ মাল থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিবার পরিজনের এক বছরের খোরপোশ দিতেন। এ থেকে যা অবশিষ্ট থাকত তা তিনি আল্লাহর পথে খরচ করে দিতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জীবদ্দশায় এ রূপই করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর ওফাতের পর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, এখন থেকে আমই হলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর ওলী। এরপর আবূ বকর (রাঃ) তা স্বীয় তত্ত্বাবধানে নিয়ে এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে নীতি অনুসরণ করেছিলেন তিনিও সে নীতই অনুসরণ করে চললেন। তিনি আলী ও আব্বাসের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আজ আপনারা যা বলেছেন এ বিষয়ে আপনারা আবূ বকরের সাথেও এ ধরনেরই আলোচনা করেছিলেন। আল্লাহর কসম! তিনি জানেন, এ বিষয়ে আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ এবং হকের অনুসারী এক মহান ব্যাক্তিত্ব। এরপর আবূ বকরের ইন্তেকাল হলে আমি বললাম, (আজ থেকে) আমই হলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবূ বকরের ওলী। এরপর এ সম্পদকে আমি আমার খিলাফতের দুই বছরকাল আমার তত্ত্বাবধানে রাখি এবং এ বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আবূ বকরের আনুসৃত নীতই আনুসরণ করে চলছি। আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন, এ বিষয়ে নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ ও হকের একনিষ্ঠ অনুসারী। তা সত্ত্বেও পুনরায় আপনারা দু’জনই আমার নিকট এসেছেন। আপনাদের কথাও এবং আপনাদের ব্যাপারটিও এক। আর আব্বাস আপনিও এখন এসেছেন। আমি আপনাদের উভয়কেই বলেছিলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমরা (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণ) কাউকে উত্তরাধিকারী করিনা, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা হিসাবেই গণ্য হয়। এরপর এ সম্পদটি আপনাদের উভয়ের তত্ত্বাবধানে দেওয়ার বিষয়টি যখন আমার নিকট স্পষ্ট হল তখন আমি বলেছিলাম, যদি আপনারা চান তাহলে একটি শর্তে তা আমি আপনাদের নিকট অর্পণ করব। শর্তটি হচ্ছে, আপনারা আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এমনভাবে কাজ করবেন যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবূ বকর করেছেন। আমার তত্ত্বাবধানে আসার পর আমি করেছি। অন্যথায় এ বিষয়ে আমার সাথে আর কোন আলোচনা করবেন না। তখন আপনারা বলেছিলেন, এ শর্তেই আপনি তা আমাদের নিকট অর্পণ করুন। আমি তা আপনাদের হাতে অর্পণ করেছি। এখন আপনারা আমার নিকট অন্য কোন ফয়সালা কামনা করেন কি? আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, যাঁর আদেশে আসমান যমীন স্থির আছে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত আমি এর বাইরে অন্য কোন ফয়সালা দিতে পারবনা। আপনারা যদি এ দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে থাকেন তাহলে আমার নিকট ফিরিয়ে দিন। আপনাদের এ দায়িত্ব পালনে আমই যথেষ্ট। বর্ণনাকারী(যুহরী) বলেন, আমি হাদিসটি উরওয়া ইবনু যুবায়রের নিকট বর্ণনা করার পর তিনি (আমাকে) বললেন, মালিক ইবনু আওস (রাঃ) ঠিকই বর্ণনা করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, (বনী নাযীর গোত্রের সম্পদ থেকে) ফায় হিসাবে আল্লাহ তাঁর রাসূল) কে যে সম্পদ দিয়েছেন তার অষ্টমাংশ আনার জন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সহধর্মিণীগণ উসমানকে আবূ বকরের নিকট পাঠালে (পাঠাতে ইচ্ছা করলে) এই বলে আমি তাদেরকে রাবণ করছিলাম যে, আপনারা কি আল্লাহকে ভয় করেন না? আপনারা কি জানেন না যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতের আমরা (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণ) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা রেখে যাই তা সা’দকা হিসাবেই থেকে যায়। এ দ্বারা তিনি নিজেকে উদ্দেশ্য করেছেন। এ সম্পদ থেকে মুহাম্মদ(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর বংশধরগণ খেতে পারবেন। (তারা এ সম্পদের মালিক হতে পারবেন না।)আমার এ কথা শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর সহধর্মিণীগণ বিরত হলেন। বর্ণনাকারী (উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) বলেন, অবশিষে সা’দকার এ মাল আলীর তত্ত্বাবধানে ছিল। তিনি আব্বাসকে তা দিতে অস্বীকার করেন এবং পরিশিষে (এ যমীনের ব্যাপারে) তিনি আব্বাসের উপর জয়ী হল। এরপর তা যথাক্রমে হাসান ইবনু আলী এবং হুসাইন ইবনু আলীর হাতে ছিল। পুনরায় তা আলী ইবনু হুসাইন এবং হাসান ইবনু হাসানের হস্তগত হয়। তাঁরা উভয়ই পর্যায়ক্রমে তার দেখা শোনা করতেন। এরপর তা যায়েদ ইবনু হাসানের তত্ত্বাবধানে যায়। ইহা অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর সদ্কা।
হাদিস নং - ৩৭৪১
ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা এবং আব্বাস (রাঃ) আবূ বকরের কাছে এসে ফাদাক এবং খায়বারের (ভূমির) অংশ দাবী করেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –কে বলতে শুনেছি, আমরা (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গন আমাদের সম্পদের) কাউকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে যাই না। আমরা যা রেখে যাই সা’দকা হিসাবেই রেখে যাই। এ মাল থেকে মুহাম্মদের পরিবার পরিজন ভোগ করবে। আল্লাহর কসম! আমার আত্মীয় স্বজনের সাথে আত্মীয়তা বন্ধনকে সুদৃঢ় করার চেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর আত্মীয়তাই আমার নিকট অধিক প্রিয়।
হাদিস নং - ৩৭৪২
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, (একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)) বললেন, কা‘ব ইবনু আশরাফের হত্যা করার জন্য প্রস্তুত আছ কে? কেননা সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) কে কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) দাঁড়ালেন, এবং বললেন ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি কি চান যে আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হাঁ। তখন মুহাম্মদ ইবনু মাসলাম (রাঃ) বললেন, তাহলে আমাকে কিছু (কৃত্রিম) কথা বলার অনুমতি দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যা বল। এরপর মুহাম্মদ ইবনু মাসলাম (রাঃ) কা‘ব ইবনু আশরাফের নিকট গিয়ে বললেন, এ লোকটি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে সা’দ্কা চায়। এবং আমাদেরকে বহু কষ্টে ফেলেছে। তাই (বাধ্য হয়ে) আমি আপনার নিকট কিছু ঋণের জন্য এসেছি। কা‘ব ইবনু আশরাফ বলল, আল্লাহর কসম পরে সে তোমাদেরকে আরো বিরক্ত করবে এবং আরো অতিষ্ট করে তুলবে। মুহাম্মদ ইবনু মাসলাম (রাঃ) বললেন, আমরা তো তাঁকে অনুসরণ করছি। পরিণাম ফল কি দাঁড়ায় তা না দেখে এখনই তাঁর সঙ্গ পরিত্যাগ করা ভাল মনে করছিনা। এখন আমি আপনার কাছে এক ওসাক বা দুই ওসাক খাদ্য ধার চাই। বর্ণনাকারী সুফিয়ান বলেন, আমর (রহঃ) আমার নিকট হাদিসখানা কয়েকবার বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথা উল্লেখ করেননি। আমি তাকে (স্মরণ করিয়ে) বললাম, এ হাদীসে তো এক ওসাক ও দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে। তখন তিনি বললেন, মনে হয় হাদীসে এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে। কা‘ব ইবনু আশবাফ বলল, ধারতো পেয়ে যাবে তবে কিছু বন্ধক রাখ। মুহাম্মদ ইবনু মাসলাম (রাঃ) বললেন, কি জিনিস আপনি বন্ধক চান। সে বলল, তোমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখ। মুহাম্মদ ইবনু মাসলাম (রাঃ) বললেন, আপনি আরবের অন্যতম সুশ্রী ব্যাক্তি, আপনার নিকট কি করে, আমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখব আমরা? তখন সে বলল, তাহলে তোমাদের পুত্র সন্তানদেরকে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, আমাদের পুত্র সন্তানদেরকে আপনার নিকট কি করে বন্ধক রাখি? (কেননা তা যদি করি তাহলে) তাদেরকে এ বলে সমালোচনা করা হবে যে, মাত্র এক ওসাক বা দুই ওসাকের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে। এটাতো আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর বিষয়। তবে আমরা আপনার নিকট অস্ত্রশস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। রাবী সুফিয়ান বলেন, লামা শব্দের অর্থ হল অস্ত্রশস্ত্র। অবশেষে তিনি (মুহাম্মদ ইবনু মাসলাম) তাকে(কা’ব ইবনু আশরাফকে) পুনরায় যাওয়ার ওয়াদা করে চলে আসলেন। এরপর তিনি কা’ব ইবনু আশরাফের দুধ ভাই আবূ নাইলাকে সঙ্গে করে রাতের বেলা তার নিকট গেলেন। কা’ব তাদেরকে দুর্গের মধ্যে ডেকে নিল এবং সে নিজে (উপর তলা থেকে নিচে নেমে আসার জন্য প্রস্তুত হল। এ সময় তার স্ত্রী বলল, এ সময় তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে বলল, এইতো মুহাম্মদ ইবনু মাসলামা এবং আমার ভাই আবূ নাইলা এসেছে। (তাদের কাছে যাচ্ছি) আমর ব্যতীত বর্ণনাকারীগণ বলেন যে কা’বের স্ত্রী বলল, আমি তো এমনই একটি ডাক শুনতে পাচ্ছি যার থেকে রক্তের ফোঁটা ঝড়ছে বলে আমার মনে হচ্ছে। কা’ব ইবনু আশরাফ বলল, মুহাম্মদ ইবনু মাসলামা এবং দুধ ভাই আবূ নাইলা, (অপরিচিত কোন লোক তো নয়) ভদ্র মানুষকে রাতের বেলা বর্শা বিদ্ধ করার জন্য ডাকলে তার যাওয়া উচিৎ। (বর্ণনাকারী বলেন) মুহাম্মদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) সঙ্গে আরো দুই ব্যাক্তি নিয়ে (তথায়) গেলেন। সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ‘আমর কি তাদের দু’জনের নাম উল্লেখ করেছিলেন? উত্তরে সুফিয়ান বললেন, একজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। আমর বর্ণনা করেন যে, তিনি আরো দু’জন মানুষ সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এবং তিনি বলেছিলেন, যখন সে (কা’ব ইবনু আশরাফ) আসবে। আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ (মুহাম্মদ ইবনু মাসলামার সাথীদের সম্পর্কে) বলেছেন যে(তারা হলেন) আবূ আবস ইবনু জাব্র হারীস ইবনু আওস এবং আব্বাদ ইবনু বিশ্র। আমর বলেছেন, তিনি অপর দুই ব্যাক্তিকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। এবং তাদেরকে বলেছিলেন, যখন সে আসবে তখন আমি (কোন বাহানায়) তার চুল ধরে শুঁকতে থাকব। যখন তোমরা আমাকে দেখবে যে, খুব শক্তভাবে আমি তার মাথা আঁকড়িয়ে ধরেছি, তখন তোমরা তরবারী দিয়ে তাকে আঘাত করবে। তিনি (মুহাম্মদ ইবনু মাসলামা) একবার বলেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকেও শুঁকাব। সে(কা’ব) চাঁদর নিয়ে নিচে নেমে আসলে তার শরীর থেকে সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল। তখন (মুহাম্মদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) বললেন, আজকের মত এতো উত্তম সুগন্ধি আমি আর কখনো দেখিনি। আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, কা’ব বলল, আমার নিকট আরবের সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাসম্পন্ন সুগন্ধী ব্যবহারকারী মহিলা আছে। আমর বলেন, মুহাম্মদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) বললেন, আমাকে আপনার মাথা শুঁকতে অনুমতি দেবেন কি? সে বলল, হাঁ এরপর তিনি মাথা শুঁকলেন এবং এরপর তার সাথীদেরকে শুঁকালেন। তারপর তিনি পুনরায় বললেন, আমাকে (আরেকবার শুঁকাবার জন্য) অনুমতি দেবেন কি? সে বলল, হাঁ। এরপর তিনি তাকে কাবু করে ধরে সাথীদেরকে বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। তাঁরা তাকে হত্যা করলেন। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর নিকট এসে এ সংবাদ জানালেন।
হাদিস নং - ৩৭৪৩
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) বারা ইবনু আযীব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দশ জনের কম একটি দলকে রাফির উদ্দেশ্যে পাঠালেন (তাদের মধ্যে) আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) রাতের বেলা তার ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যা করেন।
হাদিস নং - ৩৭৪৪
ইউসুফ ইবনু মূসা (রহঃ) বারা‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনু আতীককে আমীর বানিয়ে তার নেতৃত্বে আনসারদের কপিতয় সাহাবীকে ইয়াহূদী আবূ রাফির(হত্যার) উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। আবূ রাফি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –কে কষ্ট দিত এবং এ ব্যাপারে লোকদের সাহায্য করত। হিজায ভূমিতে তার একটি দুর্গ ছিল। (সে সেখানে বসবাস করত) তারা যখন তার দুর্গের কাছে গিয়ে পৌঁছলেন তখন সূর্য ডুবে গিয়েছে এবং লোকজন নিজেদের পশু পাল নিয়ে রওয়ানা হয়েছে (নিজ নিজ বাড়ীর দিকে) আবদুল্লাহইবনু আতীক) তার সাথীদেরকে বললেন, তোমরা তোমাদের স্থানে বসে থাক। আমি চললাম ভিতরে প্রবেশ করার জন্য দ্বার রক্ষীর সাথে আমি (কিছু) কৌশল প্রদর্শন করব। এরপর তিনি সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দরজার কাছে পৌঁছলেন এবং কাপড় দ্বারা নিজেকে এমনভাবে ঢাকলেন যেন তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে রত আছেন। তখন সবাই ভিতরে প্রবেশ করলে দ্বাররক্ষী তাকে ডেকে বলল, হে আবদুল্লাহ ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে প্রবেশ কর। আমি এখনই দরজা বন্ধ করে দেব। আমি তখন ভিতরে প্রবেশ করলাম এবং আত্মগোপন করে রইলাম। সকলে ভিতরে প্রবেশ করার পর সে দরজা বন্ধ করে দিল এবং একটি পেরেকের সাথে চাবিটা লটকিয়ে রাখল। (আবদুল্লাহ ইবনুু্ আতীক (রাঃ) বলেন) এরপর আমি চাবিটার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং চাবিটা নিয়ে দরজা খুললাম। আবূ রাফির নিকট রাতের বেলা গল্পের আসর জমতো, এ সময় সে তার উপর তলায় কামরায় অবস্থান করছিল। গল্পের আসরে আগত লোকজন চলে গেলে, আমি সিঁড়ি বেয়ে তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। এসময় আমি একটি করে দরজা খুলছিলাম এবং ভিতর থেকে তা আবার বন্ধ করে দিয়ে যাচ্ছিলাম, যাতে লোকজন আমার (আগমন) সম্বন্ধে জানতে পারলেও হত্যা না করা পর্যন্ত আমার নিকট পৌছতে না পারে। আমি তার কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। এ সময় সে একটি অন্ধকার কক্ষে ছেলেমেয়েদের মাঝে শুয়েছিল। কক্ষের কোন্ অংশে সে শুয়ে আছে আমি তা বুঝতে পারছিলাম না। তাই আবূ রাফি‘ বলে ডাক দিলাম। সে বলল, কে আমাকে ডাকছ? আমি তখন আওয়াজটি লক্ষ্য করে এগিয়ে গিয়ে তরবারী দ্বারা প্রচন্ড জোরে আঘাত করলাম। আমি তখন কাঁপছিলাম এ আঘাতে আমি তাকে কিছুই করতে পারলাম না। সে চীৎকার করে উঠলে আমি কিছুক্ষণের জন্য বাইরে চলে আসলাম। এরপর পুনরায় ঘরে প্রবেশ করে (কন্ঠস্বর পরিবর্তন করতঃ তার আপন লোকের ন্যায়) জিজ্ঞেস করলাম, আবূ রাফি’ এ আওয়াজ হল কিসের? সে বলল, তোমার মায়ের সর্বনাশ হোক। কিছুক্ষণ পূর্বে ঘরের ভিতর কে যেন আমাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে। আবদুল্লাহ ইবনু ‘আতীক বলেন, তখন আমি আবার তাকে ভীষণ আঘাত করলাম এবং মারাত্মকভাবে ক্ষত বিক্ষত করে ফেললাম। কিন্তু তাকে হত্যা করতে পারিনি। তাই তরবারির ধারালো দিকটি তার পেটের উপর চেপে ধরলাম এবং পিঠ পার করে দিলাম। এবার আমি নিশ্চিতরূপে অনুভব করলাম যে, এখন আমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছি। এরপর আমি এক এক দরজা খুলে নিচে নামতে শুরু করলাম নামতে নামতে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছলাম। পূর্ণিমার রাত্র ছিল। (চাঁদের আলোতে তাড়াহুড়ার মধ্যে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পেরে) আমি মনে করলাম, (সিঁড়ির সকল ধাপ অতিক্রম করে) আমি মাটির নিকটে এসে পড়েছি। (কিন্তু তখনও একটি ধাপ অবশিষ্ট ছিল) তাই নিচে পা রাখতেই আমি (আঁছাড় খেয়ে) পড়ে গেলাম। অমনই আমার পায়ের গোছার হাড় ভেঙ্গে গেল। (তাড়াহুড়া করে) আমি আমার মাথার পাগড়ী দ্বারা পা খানা বেঁধে নিলাম এবং একটু হেঁটে গিয়ে দরজা সোজা বসে রইলাম মনে মনে সিদ্ধান্ত করলাম, তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত অবগত না হয়ে আজ রাতে আমি এখান থেকে যাব না। ভোর রাতে মোরগের ডাক আরম্ভ হলে মৃত্যু ঘোষণাকারী প্রাচীরে উপর উঠে ঘোষণা করল, হিজায অধিবাসীদের অন্যতম ব্যবসায়ী আবূ রাফীর মৃত্যু সংবাদ গ্রহণ কর। তখন আমি আমার সাথীদের নিকট গিয়ে বললাম, দ্রুত চল, আল্লাহ আবূ রাফিকে হত্যা করেছেন। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর নিকট গেলাম এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। তিনি বললেন, তোমার পা টি লম্বা করে দাও। আমি আমার পা টি লম্বা করে দিলে তিনি উহার উপর স্বীয় হাত বুলিয়ে দিলেন। (এতে আমার পা এমন সুস্থ হয়ে গেল) যেন তাতে কোন আঘাতই পায়নি।
হাদিস নং - ৩৭৪৫
আহমদ ইবনু উসমান (রহঃ) বারা‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ রাফির (হত্যার) উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ইবনু আতীক ও আবদুল্লাহ ইবনু উতবাকে একদল লোকসহ প্রেরণ করেন। যেতে যেতে তারা দুর্গের কাছে গিয়ে পৌঁছালে আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) তাদেরকে বলেন, তোমরা অপেক্ষা কর। আমি যাই, দেখি কি করে সুযোগ করা যায়। আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন, দুর্গের ভিতর প্রবেশ করার জন্য আমি কৌশল অবলম্বন করব। ইতিমধ্যে তারা একটি গাধা হারিয়ে ফেলল এবং একটি আলো নিয়ে এর সন্ধানে বের হল। তিনি বলেন, আমাকে চিনে ফেলবে আমি এ আশংকা করছিলাম। তাই (কাপড় দিয়ে) আমি আমার মাথা ও পা ঢেকে ফেললাম এবং এমনভাবে বসে রইলাম যেন আমি প্রাকৃতিক আবশ্যক মলমূত্র ত্যাগ করার জন্য বসেছি। এরপর দ্বার রক্ষী ডাক দিয়ে বলল, কেউ ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে এখনই দরজা বন্ধ করার আগে ভিতরে ঢুকে পড়ুন। আমি প্রবেশ করলাম এবং দুর্গের দরজার পার্শ্বে গাধা বাঁধার স্থানে আত্মগোপন করে থাকলাম। আবূ রাফির নিকট সবাই বসে রাতের খানা খেয়ে গল্পগুজব করল। এভাবে রাতের কিছু অংশ কেটে যাওয়ার পর সকলেই নিজ নিজ বাড়ীতে চলে গেল। যখন কোলাহল থেকে গেল এবং কোন নড়াচড়া শুনতে পাচ্ছিলাম না। তখন আমি বের হলাম। আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন, দুর্গের চাবি যে ছিদ্রপথে রাখা হয়েছিল তা আমি পূর্বেই দেখেছিলাম। তাই রক্ষিত স্থান থেকে চাবিটি নিয়ে আমি দুর্গের দরজাটি খুললাম। তিনি বলেন, আমি মনে মনে ভাবলাম, কাওমের লোকেরা যদি আমাকে দেখে ফেলে তাহলে সহজেই আমি (পেলিয়ে) যেতে পারব। এরপর দুর্গের ভিতরে তাদের যত ঘর ছিল সবগুলোর দরজা আমি বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলাম। এরপর সিঁড়ি বেয়ে আবূ রাফির কক্ষে উঠলাম। বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়েছিল বলে ঘরটি ছিল ভীষণ অন্ধকার। লোকটি কোথায়, কিছুতেই আমি তা বুঝতে পারছিলাম না। সুতরাং আমি তাকে ডাকলাম, হে আবূ রাফি। সে বলল, কে ডাকছ? তিনি বলেন আওয়াজটি লক্ষ্য করে আমি একটু এগিয়ে গেলাম এবং তাকে আঘাত করলাম। সে চীৎকার করে উঠল। এ আঘাতে কোন কাজই হয়নি। এরপর আবার আমি তার কাছে গেলাম, যেন আমি তাকে সাহায্য করব। আমি এবার স্বর পরিবর্তন করে বললাম, হে আবূ রাফি’ তোমার কি হয়েছে? সে বলল, কি আশ্চার্য ব্যাপার, তার মায়ের সর্বনাশ হোক, এইত এক ব্যাক্তি আমার ঘরে ঢুকে আমাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে, আবদুল্লাহ ইবনু ‘আতীক বলেন, তাকে লক্ষ্য করে পুনরায় আমি আঘাত করলাম, এবারও কোন কাজ হলনা। সে চীৎকার করলে তার পরিবারের সবাই জেগে উঠল। তারপর পুনরায় আমি সাহায্যকারীর ভান করে কন্ঠস্বরে পরিবর্তন করে তার দিকে এগিয়ে গেলাম। এসময় সে পিঠের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে ছিল (এ দেখে)আমি তরবারির অগ্রভাগ তার পেটের উপর রেখে এমন জোরে চাপ দিলাম যে, আমি তার হাড়ের আওয়াজ শুনতে পেলাম। এরপর আমি কাঁপতে কাঁপতে সিঁড়ির নিকট এসে পৌঁছলাম। ইচ্ছা ছিল নেমে যাব। কিন্তু (নামতে গিয়ে) আছাড় খেয়ে পড়ে গেলাম। এবং এতে আমার পা খানা ভেঙ্গে গেল। সাথে সাথে(পাগড়ী দিয়ে) আমি তা বেঁধে ফেললাম। এবং আস্তে আস্তে হেঁটে সাথীদের নিকট চলে এলাম। এরপর বললাম, তোমরা যাও এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –কে সুসংবাদ দাও। আমি তার মৃত্যুসংবাদ না শুনে আসব না। ঊষালগ্নে মৃত্যু ঘোষণাকারী (প্রাচীরে) উঠে বলল, আমি আবূ রাফীর মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করছি। আবদুল্লাহ ইবনু আতীক (রাঃ) বলেন, এরপর আমি উঠে চলতে লাগলাম। এ সময় আমার (পায়ে) কোন ব্যাথাই ছিল না। আমার সাথীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর নিকট পৌঁছার আগেই আমি তাদের ধরে ফেললাম এবং (গিয়ে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –কে তার (আবূ রাফির) মৃত্যুর সংবাদ জানালাম।
No comments:
Post a Comment