বুখারী শরীফ সব খণ্ড
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
অধ্যায় - ৫০ - আম্বিয়া কিরাম (আ.) - ৪
( হাদিস নং - ৩৩৯৭-৩৪৯৮ = মোট ১০১ টি হাদিস)
হাদিস নং - ৩৩৯৭
হুমাইদী ও মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) জুবায়র ইবনু মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন মহিলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে এলো। (আলোচনা শেষে যাওয়ার সময়) তিনি তাঁকে আবার আসার জন্য বললেন। মহিলা বলল, আমি এসে যদি আপনাকে না পাই তবে কি করব? একথা দ্বারা মহিলাটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের প্রতি ইঙ্গিত করেছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি আমাকে না পাও তবে আবূ বকরের নিকট আসবে।
হাদিস নং - ৩৩৯৮
আহমদ ইবনু আবূ তৈয়্যেব (রহঃ) আম্মার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এমন অবস্থায় দেখেছি যে তাঁর সাথে মাত্র পাঁচজন গোলাম, (বিলাল, যায়েদ ইবনু হারিসা, আমির ইবনু ফুহাইরা, আবূ ফুকীহা ও আম্মারের পিতা ইয়াসির) দু’জন মহিলা (খাদিজা ও সুমাইয়া) এবং আবূ বকর (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউ ছিল না।
হাদিস নং - ৩৩৯৯
ইবনু হিশাম আম্মার (রহঃ) আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় আবূ বকর (রাঃ) পরিহিত কাপড়ের একপাশে এমনভাবে ধরে রেখে আসলেন যে তাঁর উভয় হাঁটু বেরিয়ে পড়ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের এ সাথী এইমাত্র কারো সাথে ঝগড়া করে আসছে। (এমন সময় আবূ বকর (রাঃ) মজলিসে উপস্থিত হয়ে) তিনি সালাম করলেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার এবং উমর ইবনু খাত্তাবের মাঝে একটি বিষয়ে কিছু বচসা হয়ে গেছে। আমই প্রথম কটু কথা বলেছি। তারপর আমি লজ্জিত হয়ে তাঁর নিকট ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু তিনি ক্ষমা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এখন আমি আপনার খেদমতে হাযির হয়েছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন, হে আবূ বকর (রাঃ)। একথাটি তিনি তিনবার বললেন। এরপর উমর (রাঃ) লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আবূ বকর (রাঃ) এর বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আবূ বকর (রাঃ) কি বাড়িতে আছেন? তাঁরা বলল না। তখন উমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে চলে আসলেন। (তাঁকে দেখে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। আবূ বকর (রাঃ) ভীত হয়ে নতজানোু হয়ে বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমই প্রথম অন্যায় করেছি। একথাটি তিনি দু’বার বললেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ যখন আমাকে তোমাদের নিকট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপে প্রেরণ করেছেন তখন তোমরা সবাই বলেছ, তুমি মিথ্যা বলছ আর আবূ বকর বলেছে, আপনি সত্য বলেছেন। তাঁর জানো মাল সর্বস্ব দিয়ে আমার প্রতি যে সহানিভুতি দেখিয়েছে তা নজিরবিহীন। তোমরা কি আমার খাতিরে আমার সাথীকে অব্যাহতি প্রদান করবে? এ কথাটি তিনি দু’বার বলেছেন। এরপর আবূ বকর (রাঃ) কে আর কখনও কষ্ট দেয়া হয় নি।
হাদিস নং - ৩৪০০
মু’আল্লা ইবনু আসা’দ (রহঃ) আমর ইবনু আ’স (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যাতুস সালাসিল যুদ্ধের সেনানায়ক করে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, মানুষের মধ্যে কে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন, আয়িশা। আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, আয়িশার পিতা (আবূ বকর)। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারপর কোন লোকটি! তিনি বললেন, উমর ইবনু খাত্তাব তারপর আরো কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেন।
হাদিস নং - ৩৪০১
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি; একদা একজন রাখাল তার বকরীর পালের কাছে ছিল। এমতাবস্থায় একটি একটি নেড়ে বাঘ আক্রমণ করে পাল থেকে একটি বকরী নিয়ে গেল। রাখাল নেকড়ে বাঘের পিছনে ধাওয়া করে বকরীটি ছিনিয়ে আনল। তখন বাঘটি তাকে লক্ষ্য করে বলল, তুমি বকরীটি ছিনিয়ে নিলে? হিংস্র জন্তুর আক্রমণের দিন কে তাকে রক্ষা করবে, যেদিন তার জন্য আমি ব্যতীত অন্য কোন রাখাল থাকবে না। একদা এক ব্যাক্তি একটি গাভীর পিয়ে আরোহণ করে সেটিকে হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন গাভীটি তাকে লক্ষ্য করে বলল, আমি এ কাজের জন্য সৃষ্টি হয় নি। বরং আমি কৃষি কাজের জন্য সৃষ্ট হয়েছি। একথা শুনে সকলেই বিস্ময়ের সাথে বলতে লাগল ‘‘সুবহানাল্লাহ! (কি আশ্চর্য গাভী কথা বলে! বাঘ কথা বলে‘‘) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি আবূ বকর এবং উমর ইবনু খাত্তাব এ কথা বিশ্বাস করি (ঐ সময়ে তাঁরা দু’জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। )
হাদিস নং - ৩৪০২
আবদান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, একদা আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে আমি আমাকে এমন একটি কূপের কিনারায় দেখতে পেলাম যেখানে বাতিও রয়েছে, আমি কূপ থেকে পানি উঠালাম যে পরিমাণ আল্লাহ্ ইচ্ছা করলেন। তারপর বালতিটি ইবনু আবূ কুহাফা (আবূ বকর) নিলেন এবং এক বা দু’বালতি পানি উঠালেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তার দুর্বলতাকে ক্ষমা করে দিবেন। তারপর উমর ইবনু খাত্তাব বালতিটি তার হাতে নিলেন। তার হাতে বালতিটির আয়তন বেড়ে গে।। আমি কোন দক্ষ, শক্তিশালী বাহাদুর ব্যাক্তিকে উমরের ন্যায় পানি উঠাতে দেখিনি। অবশেষ মানুষ (তৃপ্ত হয়ে) নিজ নিজ আবাসে অবস্থান নিল।
হাদিস নং - ৩৪০৩
মুহাম্মদ ইবনু মুতকাতিল (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যাক্তি গর্বের সাথে পরিহিত কাপড় টাখ্নুর নিম্নভাগে ঝুলিয়ে চলাফিরা করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তার প্রতি রহমতের নযর করবেন না। এ শুনে আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমার অজ্ঞাতসারে কাপড়ের একপাশ কোন কোন সময় নীচে নেমে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তো গর্বের সাথে তা করছ না। মূসা (রহঃ) বলেন, আমি সালিমকে জিজ্ঞাসা করলাম, আবদুল্লাহ (রাঃ) কি ‘যে ব্যাক্তি তার লুঙ্গী ঝুলিয়ে চলল’ বলেছেন? সালিম (রহঃ) বললেন, আমি তাকে শুধু কাপড়ের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি।
হাদিস নং - ৩৪০৪
আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি কোন জিনিসের জোড়া জোড়া আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে (পরকালে) তাকে জান্নাতে প্রবেশের জন্য সকল দরজা থেকে আহবান করা হবে। বলা হবে, হে আল্লাহর বান্দা, এ দরজাই উত্তম। যে ব্যাক্তি (অধিক নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কারী হবে তাঁকে সালাত (নামায/নামাজ)-এর দরজা দিয়ে প্রবেশের আহবান জানানো হবে। যেব্যাক্তি জিহাদকারী হবে তাকে জিাহাদের দরজা থেকে আহবান করা হবে। যে ব্যাক্তি (অধিক নফল) সা’দকাঁদানকারী হবে, তাকে সা’দকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে। যে ব্যাক্তি (অধিক নফল) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) আদায়কারী হবে তাকে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)রে দরজা বাবুর রাইয়ান থেকে আহবান করা হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কোন ব্যাক্তিকে সকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে এমনতো অবশ্য জরুরী নয়, তবে কি এরূপ কাউকে ডাকা হবে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ, আছে। আমি আশা করছি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে, হে আবূ বকর।
হাদিস নং - ৩৪০৫
ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখন ওফাত হয়, তখণ আবূ বকর (রাঃ) (সীয় বাসগৃহ) সুন্হ-এ ছিলেন। ইসমাঈল (রাবী) বলেন, সুন্হ মদিনার উঁচু এলাকার একটি স্থানের নাম। (ওফাতের সংবাদ শোনার সাথে সাথে) ওমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন, আল্লাহর কসম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত হয় নাই। আয়িশা (রাঃ) বলেন, উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, তখন আমার অন্তরে এ বিশ্বাসই ছিল (তাঁর ওফাত হয় নাই) আল্লাহ্ অবশ্যই তাঁকে পুনরায় জীবিত করবেন। এবং তিনি কিছু সংখ্যক লোকের (মুনাফিকের) হাত-পা কেঁটে ফেলবেন। তারপর আবূ বকর (রাঃ) এলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারা মোবারক থেকে আবরণ সরিয়ে তাঁর ললাটে চুমু খেলেন এবং বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান। আপনি জীবনে মরণে পূত পবিত্র। ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহ্ আপনাকে কখনও দু’বার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করাবেন না। তারপর তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং (উমর (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন) হে হলফকারী, ধৈর্যধারণ কর। আবূ বকর (রাঃ) যখন কথা বলতে লাগলেন, তখন উমর (রাঃ) বসে পড়লেন। আবূ বকর (রাঃ) আল্লাহ্ পাকের হামদ ও সানা বর্ণনা করে বললেন, যাহা মুহাম্মদ এর ইবাদতকারী ছিলে তারা জেনে রাখ, মুহাম্মদ ইন্তেকাল করেছেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদত করতে তারা নিশ্চিত জেনে রাখ আল্লাহ্ চিরঞ্জীব, তিনি অমর। তারপর আবূ বকল (রাঃ) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল আর তারা সকলও মরণশীল্ (৩৯ঃ৩০) আরো তিলওয়াত করলেনঃ মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র। তাঁর পূর্বে বহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গত হয়েছেন। তাই যদি তিনি মারা যান অথবা তিনি নিহত হন তবে কি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে? কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহর ক্ষতি করতে পারবে না। (৩ঃ১৪৪) আল্লাহ্ তাঁর কৃতজ্থ বান্দাদেরকে পুরস্কৃত করবেন। রাবী বলেন, আবূ বকর (রাঃ)-এর এ কথাগুলি শুনে সকলই ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। রাবী বলেন, আনসারগণ সাকীফা বনূ সায়িদায়ে সা’দ ইবনু উবাইদা (রাঃ)-এর নিকট সমবেত হলেন এবং বলতে লাগলেন, আমাদের (আনসারদের) মধ্য হতে একজন আমীর হবেন এবং তোমাদের (মুহাজিরদের) মধ্য হতে একজন আমীর হবেন। আবূ বকর (রাঃ), উমর ইবনু খাত্তাব, আবূ উবাইদা ইবনু জাররাহ (রাঃ)-এ তিনজন আনসারদের নিকট গমন করলেন। উমর (রাঃ) কথা বলতে চাইলে, আবূ বকর (রাঃ) তাকে থামিয়ে দিলেন। উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহ কসম, আমি বক্তব্য রাখতে চেয়েছিলা এই জন্য যে, আমি আনসারদের মাহফিলে বলার জন্য চিন্তা-ভাবনা করে এমন কিছু চমৎকার ও যুক্তিপূর্ণ কথা তৈরী করেছিলাম। যার প্রেক্ষিতে আমার ধারণা ছিল হয়তঃ আবূ বকর (রাঃ)-এর চিন্তা ভাবনা এতটা গভীরে নাও পৌছতে পারে। কিন্তু আবূ বকর (রাঃ) অত্যমত্ম জোরালো ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য পেশ করলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বললেন, আমীর আমাদের (মুহাজিরদের) মধ্য হতে একজন হবেন এবং তোমাদের মধ্য হতে (আনসারদের) হবেন উযীর। তখন হুবাব ইবনু মুনযির (আনসারী) (রহঃ) বললেন, আল্লাহর কসম। আমরা আমরা এরূপ করব না। রবং আমাদের মধ্যে একজন ও আপনাদের মধ্যে একজন আমীর হবেন। কেননা কুরাইশ গোত্র অবস্থানের (মক্কা) দিক দিয়ে যেমন আরবের মধ্যস্থানে, বংশ ও রক্তের দিকে থেকেও তারা তেমনি শ্রেষ্ঠ। তাঁরা নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতায় সবার শীর্ষে। "তোমরা উমর (রাঃ) অথবা আবূ উবায়দা ইবনু জাররাহ (রাঃ)-এর হাতে বায়’আত করে নাও। উমর (রাঃ) বলে উঠলেন, আমরা কিন্তু আপনার হাতেই বায়’আত করব। আপনই আমাদের নেতা। আপনই আমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আমাদের মাঝে আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয়তম ব্যাক্তি। এ বলে উমর (রাঃ) তাঁর হাত ধরে বায়’আত করে নিলেন। সাথে সাথে উপস্থিত সকলেই বায়’আত করলেন। তখন জনৈক ব্যাক্তি বলে উঠলেন, আপনারা সা’দ ইবনু উবায়দা (রাঃ)-কে মেরে ফেললেন? উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তাকে মেরে ফেলেছেন। আবদুল্লাহ্ ইবনু সালিম আয়িশা (রাঃ) বলেন, ওফাতের সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চোখ দু’টি বার বার উপর দিকে উঠছিল এবং তিনি বার বার বলছিলেন, (হে আল্লাহ্) সর্বোচ্চ বন্ধুর (আল্লাহর) সাক্ষাতের আমি আগ্রহী। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আবূ বকর ও উমর (রাঃ)-এর খুত্বা দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলা এ চরম মুহুর্তে উম্মতকে রক্ষা করেছেন। উমর (রাঃ) জনগণকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এমন কিছু মানুষ আছে যাদের অমত্মরে কপটতা রয়েছে আল্লাহ্ তাদের ফাঁদ থেকে উম্মতকে রক্ষা করেছেন। এবং আবূ বকর (রাঃ) লোকদিগকে সত্য সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন। হক ও ন্যায়ের পথ নির্দেশ করেছেন, তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তারপর সাহাবা কেরাম ও আয়াত পড়তে পড়তে প্রস্থান করেছেনঃ মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র। তাঁর পূর্বে বহু রাসুলগণ গত হয়েছেন কৃতজ্ঞ বারান্দের। (৩:১৪৪)।
হাদিস নং - ৩৪০৬
মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) মুহাম্মদ ইবনু হানাফীয়া (রাঃ) বলেন, আমি আমার পিতা আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কে? তিনি বললেন, আবূ বকর (রাঃ)। আমি বললাম, এর পর কে? তিনি বললেন, উমর (রাঃ)। আমার আশংকা হল যে, এরপর তিনি উসমান (রাঃ) এর নাম বলবেন, তাই (তাঁকে জিজ্ঞাসা না করে) আমি বললাম, তারপর আপনি? তিনি বললেন, না, আমি তো মুসলিমদের একজন।
হাদিস নং - ৩৪০৭
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক যুদ্ধ সফরে গিয়েছিলাম। আমরা যখন বায়দা অথাব যাতুল জায়েশ নামক স্থানে গিয়েছিলাম, তখন আমার হারটি গলা থেকে ছিড়ে যায়। হার তালাশ করার জন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অবস্থান করেন। এজন্য সাহাবীগণও তার সঙ্গে সেখানে অবস্থান করেন। যেখানে পানি ছিল না এবং তাদের সাথেও পানি ছিল না। তাই সাহাবীগণ আবূ বকর (রাঃ)-এ নিকট এসে বললেন, আপনি কি দেখছেননা, আয়িশা (রাঃ) কি করলেন? তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সঙ্গে সাহাবীগণকে এমন স্থানে অবস্থান করালেন যেখানে পানি নেই এবং তাদের সাথেও পানি নেই। তখন আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট আসলেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুর উপর মাথা রেখে ঘুমচ্ছিলেন। তিনি (আবূ বকর (রাঃ)) আমাকে বলতে লাগলেন, তুমি লাসূলুল্লাহ কে এবং সাহাবীগণকে এমন এক স্থানে আটকিয়ে রেখেছ, যেখানে পানি নেই এবং তাদের সাথেও পানি নেই। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে অনেক ভৎর্সনা করলেন। এক পর্যায়ে তিনি হাত দ্বারা আমার কোমরে খোচা মারতে লাগলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ল। রাহ আমার উরুর উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকার করণে আমি নড়াচড়াও করতে পারছিলাম না। এরূপ পানি না থাকা অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে রইলেন। (ফজরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হল অথচ পানির কোন ব্যবস্থা নেই।)তখন আল্লাহ্ পাক তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন এবং সকলেই তাইয়াম্মুম করলেন। উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাঃ) বলেন, হে আবূ বকর (রাঃ)-এর পরিবারবর্গ, এটা আপনাদের প্রথম (একমাত্র) বরকত নয় ; (ইতিপূর্বেও আমরা এ পরিবার দ্বারা আরো বরকত পেয়েছি।)আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর আমরা সে উটটিকে উঠালাম যে উটের উপর আমি সাওয়ার ছিলাম। তখন হারটি তার নীচে পাওয়া গেল।
হাদিস নং - ৩৪০৮
আদম ইবনুু্ আবূ ইয়াস (রহঃ) সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর উম্মতকে লক্ষ্য করে) বলেছেন, তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ করো না। তোমাদের কেউ যদি ওহোদ পাহাড় সমান স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, তবে তাদের একমুদ বা অর্ধমুদ-এর সমপরিমাণ সাওয়াব হবে না। জরীর আবদুল্লাহ ইবনু দাউদ, আবূ মুয়াবিয়া ও মুহাযির (রহঃ) আমাশ (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় শুবা (রহঃ)-এর অুসরণ করেছেন।
হাদিস নং - ৩৪০৯
মুহাম্মদ ইবনু মিসকীন (রহঃ) আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) বর্ণিত যে, তিনি একদিন ঘরে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে বের হলেন এবং (মনে মনে স্থির করলেন) আমি আজ সারাদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সাথে কাটাব, তার থেকে পৃথক হব না। তিনি মসজিদে গিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খবর নিলেন, সাহাবীগণ বললেন, তিনি এদিকে বেরিয়ে গেছেন। আমিও ঐ পথ ধরে তাঁর অনুগমন করলাম। তাঁর খুঁজে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। তিনি শেষ পর্যন্ত আরীস কূপের নিকট গিয়ে পৌছলেন। আমি (কূপে প্রবেশের) দরজার নিকট বসে পড়লাম। দরজাটি খেজুরের শাখা দিয়ে তৈরী ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর প্রয়োজন (ইস্তিঞ্জা) সেরে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। তখন আমি তাঁর নিকটে দাঁড়ালাম এবং দেখতে পেলাম তিনি আরীস কূপের কিনারার বাঁধের মাঝখানে বসে হাঁটু পর্যন্ত পা দু’টি খুলে কূপের ভিতরে ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং ফিরে এসে দরজার বসে রইলাম এবং মনে মনে স্থির করে নিলাম যে, আজ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দারোয়ানরূপে (পাহারাদারের) দায়িত্ব পালন করব। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) এসে দরজায় ধাক্কা দিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কে? তিনি বললেন, আবূ বকর! আমি বললাম থামুন, (আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি) আমি গিয়ে বললাম, ইয়া সাসূলুল্লাহ! আবূ বকর (রাঃ) ভিতরে আসার অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন, ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি ফিরে এসে আবূ বকর (রাঃ) কে বললাম, ভিতরে আসুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। আবূ বকর (রাঃ) ভিতরে আসলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডানপাশে কূপের কিনারায় বসে দু’পায়ের কাপড় হাটু পর্যন্ত উঠায়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ন্যায় কূপের ভিতর ভাগে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে পড়েন। আমি ফিরে এসে (দরজার পাশে) বসে পড়লাম। আমি (ঘর হতে বের হওয়ার সময়) আমার ভাইকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছে অবস্থায় রেখে এসেছিলাম। তারও আমার সাথে মিলিত হওয়ার কথা ছিল। তাই আমি (মনে মনে) বলতে লাগলাম, আল্লাহ যদি তার (ভাইয়ের) মঙ্গল চান তবে তাকে নিয়ে আসুন। এমন সময় এক ব্যাক্তি দরজা নাড়তে লাগল। আমি বললাম, কে? তিনি বললেন, আমি উমর ইবনু খাত্তাব। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন, (আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে সালাম পেশ করে আরয করলাম, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! উমর ইবনু খাত্তাব (ভিতরে আসার) অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি বললেন তাকে ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি এসে তাকে বললাম, ভিতরে আসুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন। তিনি ভিতরে আসলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বামপাশে হাটু পর্যন্ত কাপড় উঠায়ে কূপের ভিতর দিকে পা ঝুলিয়ে দিয়ে বসে গেলেন। আমি আবার ফিরে আসলাম এবং বলতে থাকলাম আল্লাহ যদি আমার ভাইয়ের মঙ্গল চান, তবে যেন তাকে নিয়ে আসেন। এরপর আর এক ব্যাক্তি এসে দরজা নাড়তে লাগল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কে? তিনি বললেন, আমি উসমান ইবনু আফ্ফান। আমি বললাম, থামুন (আমি অনুমতি নিয়ে আসছি) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করী এর খেদমতে দিয়ে জানালাম। তিনি বললেন, তাকে ভিতরে আসতে বল এবং তাকেও জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়ে দাও। তবে (দুনিয়াতে তার উপর) কঠিন পরীক্ষা হবে। আমি এসে বললা, ভিতরে আসুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে জান্নাতের সু-সংবাদ দিচ্ছেন ; তবে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে। তিনি ভিতরে এসে দেখলেন, কূপের কিনারায় খালি জায়গা নাই। তাই তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে অপর এক স্থানে বসে পড়লেন। শরীক (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু মূসা ইয়্যাব (রহঃ) বলেছেন, আমি এর দ্বারা (পরবর্তী কালে) তাদের কবর এরূপ হবে এই অর্থ করছি।
হাদিস নং - ৩৪১০
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (একবার) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর, উমর, উসমান (রাঃ) ওহোদ পাহাড়ে আরোহণ করেন। পাহাড়টি (তাঁদেরকে ধারণ করে আনন্দে) নড়ে উঠল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে ওহোদ, স্থির হও। তোমার উপর একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , একজন সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ রয়েছেন।
হাদিস নং - ৩৪১১
আহমদ ইবনু সাঈদ আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদা (স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে) আমি একটি কূপ থেকে (বালতি দিয়ে) পানি টেনে তুলছি। তখন আবূ বকর ও উমর (রাঃ) আসলেন। আবূ বকর (রাঃ) আমার হাত থেকে বালতি তার হাতে নিয়ে এক বালতি কি দু’বালতি পানি টেনে তুললেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। তারপর (উমর) ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বালতি আবূ বকরের হাত থেকে নিলেন, তার হাতে যাওয়ার সাথে সাথে বালতিটি বৃহদাকার হয়ে গেল। কোন শক্তিশালী বাহাদুরকে তার মত পানি উঠাতে আমি দেখিনি। লোকজন তাদের উটগুলিকে তৃপ্তি ভরে পানি পান করিয়ে উটশালায় নিয়ে গেল। ওয়াহাব (রাবী) বলেন, অর্থ উটশালা। এমনকি উটগুলি পানি পানি পানে তৃপ্ত হয়ে বসে পড়ল।
হাদিস নং - ৩৪১২
অলীদ ইবনু সালিহ (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমিও ঐ দলের সাথে দু’আয় রত ছিলাম, যারা উমর ইবনু খাত্তাবের জন্য দু’আ করেছিল। তখন তাঁর মরদেহটি খাটের উপর রাখা ছিল। এমন সময় এক ব্যাক্তি হঠাৎ আমার পিছন দিক থেকে তার কনুই আমার কাঁধের উপর রেখে উমর (রাঃ)- কে লক্ষ্য করে বলল, আল্লাহ্ আপনার প্রতি রহম করুন। আমি অবশ্য এ আশা পোষণ করি যে, আল্লাহ্ আপনাকে আপনার উভয় সঙ্গীর সাথেই রাখবেন। কেননা, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বহুবার বলতে শুনেছি, আমি এবং আবূ বকর ও উমর এক সাথে ছিলাম, আমি এবং আবূ বকর ও উমর এ কাজ করেছি। আমি ও আবূ বকর এবং উমর (একসাথে) চলেছি। আমি এ আশাই পোষণ করি যে, আল্লাহ্ তা’আলা আপনাকে তাদের উভয়ের সঙ্গেই রাখবেন। আমি পেছনে তাকিয়ে দেখলাম, তিনি হলেন, আমি ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)।
হাদিস নং - ৩৪১৩
মুহাম্মদ ইবনু ইয়াযিদ কুফী (রহঃ) উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, মক্কার মুশরিকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে সর্বাধিক কঠোর আচরণ কি করেছিল? তিনি বললেন, আমি উক্বা উব্ন আবূ মুআইতকে দেখেছি; সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল যখন তিনি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। সে নিজের চাঁদর দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গলদেশে জড়িয়ে শক্তভাবে চেপে ধরল। আবূ বকর (রাঃ) এসে উকবাকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমরা কি এমন ব্যাক্তিকে হত্যা করতে চাও, যিনি বলেন, একমাত্র আল্লাহ্ই আমার রব। যিনি তাঁর দাবীর সত্যতার স্বপক্ষে তোমাদের রবের নিকট থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি (মুজিযা) সঙ্গে নিয়ে এসেছেন?
হাদিস নং - ৩৪১৪
হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি স্বপ্নে আমাকে দেখতে পেলাম যে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করছি। হঠাৎ আবূ তালহা (রাঃ)-এর স্ত্রী রুমায়সাকে দেখতে পেলাম এবং আমি পদচারণার শব্দও শুনতে পেলাম। তখণ আমি বললা, এই ব্যাক্তি কে? এক ব্যাক্তি বলল, তিনি বিলাল (রাঃ)। আমি একটি প্রাসা’দও দেখতে পেলাম যার আঙ্গিনায় এক মহিলা রয়েছে। আমি বললাম, ঐ প্রাসা’দটি কার? এক ব্যাক্তি বলল, প্রাসা’দটি উমর ইবনু খাত্তাবের (রাঃ)। আমি প্রাসা’দটিতে প্রবেশ করে (সব কিছু) দেখার ইচ্ছা করলাম। তখন তোমার (উমর (রাঃ)) সূক্ষ্মম মর্যাদাবোধের কথা স্মরণ করলাম। উমর (রাঃ) (এ কথা শুনে) বললেন, আমার বাপ-মা আপনার উপর কুরবান, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার কাছেও কি মর্যাদাবোধ প্রকাশ করতে পারি?
হাদিস নং - ৩৪১৫
সাঈদ ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সময় আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, একবার আমি ঘুমিয়েছিলাম। স্বপ্নে আমি নিজেকে জান্নাতে দেখতে পেলাম। আমি দেখলাম, একজন মহিলা একটি প্রাসা’দর আঙ্গিনায় (বসে) উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ প্রাসা’দটি কার? ফিরিশ্তাগণ বললেন, তা উমর (রাঃ)-এর। আমি উমর (রাঃ) সূক্ষ্ম মর্যাদা বোধের স্মরণ করে ফিরে এলাম। উমর (রাঃ) (তা শুনে) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, আপনার কাছে কি মর্যাদাবোধ দেখাব ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম?
হাদিস নং - ৩৪১৬
মুহাম্মদ ইবনু সালত আবূ জাফর-কুফী (রহঃ) হামযা (রহঃ)-এর পিতা (আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। (স্বপ্নে) দুধ পান করতে দেখলাম যে তৃপ্তির চিহ্ন যেন আমার নখগুলির মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছিল। তারপর দুধ (পান করার জন্য) উমর (রাঃ)-কে দিলাম। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি ব্যাখ্যা দিচ্ছেন? তিনি বললেন, ইল্ম।
হাদিস নং - ৩৪১৭
মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, একটি কূপের পারে বড় বালতি দিয়ে পানি তুলছি। তখন আবূ বকর (রাঃ) এসে এক বালতি বা দু’বালতি পানি তুললেন। তবে পানি তোলার মধ্যে তাঁর দুর্বলতা ছিল আল্লাহ্ তাঁকে ক্ষমা করুন। তারপর উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এলেন। বালতিটি তাঁর হাতে গিয়ে বৃহদাকারে পরিণত হল। তাঁর মত এমন বলিষ্ঠভাবে পানি উঠাতে আমি কোন বাহাদুরকেও দেখিনি। এমনকি লোকেরা পরিতৃপ্তির সঙ্গে পানি পান করে আবাসে বিশ্রাম নিল। ইবনু জুবাইর (রাঃ) বলেন, হল উন্নত মানের সুন্দর বিছানা। ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) বলেন, হল মখমলের সূক্ষ্ম সূতার তৈরী বিছানা। অর্থ প্রসারিত। আর হল গোত্র নেতা।
হাদিস নং - ৩৪১৮
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ ও আলী ইবনু আবূদল্লহি (রহঃ) সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বুর্ণিত, তিনি বলেন, একবার উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর সঙ্গে কুরাইশের কতিপয় মহিলা কথা বলছিলেন এবং তাঁরা বেশী পরিমাণ দাবী-দাওয়া করতে গিয়ে তাঁর আওয়াজের চেয়ে তাদের আওয়াজ উচ্চকণ্ঠ ছিল। যখন উমর ইবনু খাত্তাব প্রবেশের অনুমতি চাইলেন তখন তাঁরা (মহিলাগণ) উঠে দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে গেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। আর উমর (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ে হাঁসছিলেন। উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ আপনাকে সদা হাস্য রাখুন ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহিলাদের কান্ড দেখে আমি অবাক হচ্ছি, তাঁরা আমার কাছে ছিল, অথচ তোমার আওয়াজ শোনা মাত্র তারা সব দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে গেল। উমর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম াল্লহ, আপনাকেই- অধিক ভয় করা উচিত। তারপর উমর (রাঃ) ঐ মহিলাগণকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে নিজ ক্ষতিসাধনকারী মহিলাগণ, তোমরা আমাকে ভয় কর, অথচ আল্লাহর রাসূল কে ভয় কর না? তারা উত্তরে বললেন, আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক রূঢ় ভাষী ও কঠিন হৃদয়ের। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ ঠিকই হে ইবনু খাত্তাব! যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম, শয়তান যখনই কোন পথে তোমাকে দেখতে পায় তখনই তোমার ভয়ে এ পথ ছেড়ে অন্যপথে চলে যায়।
হাদিস নং - ৩৪১৯
মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যেদিন উমর (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন, সেদিন থেকে আমরা অতিশয় বলবান ও মর্যাদাশীল হয়ে আসছি।
হাদিস নং - ৩৪২০
আবদান (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ)-এর লাশ খাটের উপর রাখা হল। খাটটি কাঁধে তোলে নেয়ার পূর্বক্ষণ পর্যন্ত লোকজন তা ঘিরে দু’আ পাঠ করছিল। আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। হঠাৎ একজন আমার কাঁধের উপর হাত রাখায় আমি চমকে উঠলাম। চেয়ে দেখলাম, তিনি আলী (রাঃ)। তিনি উমর (রাঃ)-এর জন্য আল্লাহর অশেষ রহমতের দু’আ করছিলেন। তিনি বলছিলেন, হে উমর, আমার জন্য আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় এমন কোন ব্যাক্তি আপনি রেখে যাননি, যার আমলের অনুসরণ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করব। আল্লাহর কসম। আমার এ বিশ্বাস যে আল্লাহ আপনাকে (জান্নাতে) আপনার সঙ্গীদ্বয়ের সাথে রাখবেন। আমার মনে আছে, আমি বহুবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, আমি, আবূ বকর ও উমর গেলাম। আমি, আবূ বকর ও উমর প্রবেশ করলাম এবং আমি, আবূ বকর ও উমর বের হলাম ইত্যাদি।
হাদিস নং - ৩৪২১
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহোদ পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবূ বকর ও উসমান (রাঃ)। তাদেরকে (ধারণ করতে পেরে) নিয়ে পাহাড়টি (আনন্দে) নেচে উঠল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাহাড়কে পায়ে আঘাত করে বললেন, হে ওহোদ, স্থির হও। তোমার উপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিদ্দীক ও শহীদ ব্যতীত অন্য কেউ নেই।
হাদিস নং - ৩৪২২
ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) আসলাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) আমাকে উমর (রাঃ)-এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাকে সে সম্পর্কে অবহিত করলাম। তখন তিনি ইবনু উমর (রাঃ)) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইন্তেকালের পরে কাউকে (এসব গুণের অধিকারী) আমি দেখিনি। তিনি (উমর (রাঃ)) অত্যন্ত দৃড়চিত্ত দানশীল ছিলেন। এসব গুণাবলী যেন উমর (রাঃ) পর্যন্ত শেষ হয়ে গেছে।
হাদিস নং - ৩৪২৩
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, তুমি কিয়ামতের জন্য কি (পাথেয়) সংগ্রহ করেছ? সে বলল, কোন কিছুই সংগ্রহ করতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) কে (আন্তরিকভাবে) মহববত করি। তখন তিনি বললেন, তুমি (কিয়ামতের দিন) তাঁদের সাথেই থাকবে যাঁদেরকে তুমি মহাববত কর। আনাস (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা দ্বারা আমরা এত আনন্দিত হয়েছি যে, অন্য কোন কথায় এত আনন্দিত হইনি। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মহববত করি এবং আবূ বকর ও উমর (রাঃ) কেও। আশা করি তাঁদেরকে আমার মহববতের কারণে তাদের সাথে জান্নাতে বসবাস করতে পারব; যদিও তাঁদের আমলের মত আমল করতে পারিনি।
হাদিস নং - ৩৪২৪
ইয়াহইয়া ইবনু কাযাআ‘ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে অনেক মুহাদ্দাস (যার অন্তরে সত্য কথা অবতীর্ণ হয়) ব্যাক্তি হলেন। আমার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ মুহাদ্দাস হন তবে সে ব্যাক্তি উমর। যাকারিয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে অতিরিক্ত বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী বনী ইসরাঈলের মধ্যে এমন কতিপয় লোক ছিলেন, যাঁরা নভী ছিলেন না বটে তবে ফিরিশতাগণ তাঁদের সাথে কথা বলতেন। আমর উম্মতে এমন কোন লোক হলে সে হবে উমর (রাঃ)। ইবনু আববাস (রাঃ) (কুরআনের আয়াতে) অতিরিক্ত বলেছেন।
হাদিস নং - ৩৪২৫
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদিন এক রাখাল তার বকরীর পালের সাথে ছিল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ পেল আক্রমন করে একটি বকরী নিয়ে গেল। রাখাল বাঘের পিছনে ধাওয়া করে বকরীকে উদ্ধার করে আনল। তখন বাঘ রাখালকে বলল, যকন আমি ছাড়া অন্য কেউ থাকবেনা তখন হিংস্রে জন্তুদের আক্রমণ থেকে তাদেরকে কে রক্ষা করবে? (তা শুনে) সাহাবীগণ বললেন, সুবহানালাল্লাহ। (বাঘ কথা বলে) কথন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তা বিশ্বাস করি এবং আবূ বকর ও উমরও বিশ্বাস করে। অথচ তাঁরা কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
হাদিস নং - ৩৪২৬
ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, একদিন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। (স্বপ্নে) দেখতে পেলাম, অনেক লোককে আমার সামনে উপস্থিত করা হল। তাদের গায়ে (বিভিন্ন রকমের) জামা ছিল। কারো কারো জামা এত ছোট ছিল যে, কোন প্রকারে বুক পর্যন্ত পৌছেছে। আবার কারো জামা এর চেয়ে ছোট ছিল। আর উমর (রাঃ)-কেও আমার সামনে পেশ করা হল। তাঁর শরীরে এত লম্বা জামা ছিল যে, সে জামাটি হিঁচড়াইয়া চলতেছিল। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি এ স্বপ্নের কি তাবীর (ব্যাখ্যা) করলেন। তিনি বললেন, দ্বীনদারী (ধর্মপরায়ণতা)।
হাদিস নং - ৩৪২৭
সালত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উমর (রাঃ) (আবূ লুলু গোলামের খঞ্জরের আঘাতে) আহত হলেন, তখন তিনি বেদনা অনুভব করছিলেন। তখন তাঁকে সান্তনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলতে লাগলেন, হে আমীরুল মু‘মিনীন, এ আঘাত জনিত কারণে (আল্লাহ না করুন) যদি আপনার কিছু (মৃত্যু) ঘঠে (তাতে চিন্তা-ভাবনা) বা দুঃখের কোন কারণ নেই)। আপনি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর সাহচর্যের হক উত্তমরূপে আদায় করেছেন। এরপর (তাঁর থেকে) আপনি এ অবস্থায় পৃথক হয়েছেন, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। তারপর আপনি আবূ বকর (রাঃ)-এর সাহচর্য লাভ করেন এবং এর হকও উত্তমরূপে আদায় করেন। এরপর (তাঁর থেকে) আপনি এ অবস্থায় পৃথক হয়েছেন যে, তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। তারপর আপনি (খলীফা মনোনীত হয়ে) সাহাবা কেরামের সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাদের হকও উত্তমরূপে আদায় করেছেন। যদি আপনি তাদের থেকে পৃথক হয়ে পড়েন তবে আপনি অবশ্যই তাদের থেকে এমন অবস্থায় পৃথক হবেন যে তাঁরাও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট। উমর (রাঃ) বললেন, তুমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্য ও সন্তুষ্টি লাভ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছ, তাতো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, যা তিনি আমার প্রতি করেছেন। এবং আবূ বকর (রাঃ)-এর সাহচর্য ও সন্তুষ্টি লাভের ব্যাপারে যা তুমি উল্লেখ করেছ তাও একমাত্র মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যা তিনি আমার উপর করেছেন। আর আমার যে অস্থিরতা তুমি দেখেছ তা তোমার এবং তোমার সাথীদের কারণেই। আল্লাহর কসম, আমার নিকট যদি দুনিয়া ভর্তি স্বর্ণ থাকত তবে আল্লাহর আযাব দেখার পূর্বেই তা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য ফিদয়া হিসাবে এসব বিলিয়ে দিতাম। হাম্মাদ (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর (রাঃ)-এর কাছে প্রবেশ করলাম ।
হাদিস নং - ৩৪২৮
ইউসুফ ইবনু মূসা (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদিনার কোন একটি বাগানের ভিতর আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। তখন এক ব্যাক্তি এসে বাগানের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য বলল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম যে, তিনি আবূ বকর (রাঃ)। তাঁকে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত সুসংবাদ দিলাম। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর আরেক ব্যাক্তি এসে দরজা খোলার জন্য বলল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জন্নাতের সুসংবাদ দাও। (রাবী বলেন) আমি তার জন্য দরজা খুলে দিয়ে দেখতে পেলাম যে, তিনি উমর (রাঃ)। তাকে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত সুসংবাদ জানিয়ে দিলাম। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর আর একজন দরজা খুলে দেয়ার জন্য বললেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দরজা খুলে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ জানিয়ে দাও। কিন্তু তার উপর কঠিন বিপদ আসবে। (দরজা খুলে) দেখলাম যে, তিনি উসমান (রাঃ)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, আমি তাকে তা বলে দিলাম। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন আর বললেন, আল্লাহই সাহায্যকারী।
হাদিস নং - ৩৪২৯
ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এর হাত ধরা অবস্থায় ছিলেন।
হাদিস নং - ৩৪৩০
সুলায়মান ইবনু হার্ব (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাগানে প্রবেশ করলেন এবং বাগানের দরজা পাহাড়া দেওয়ার জন্য আমাকে আদেশ করলেন। তখন এক ব্যাক্তি এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে আসতে দাও এবং তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। আমি (দরজা খুলে) দেখলাম যে, তিনি আবূ বকর (রাঃ)। তারপর আর একজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সু-সংবাদ জানিয়ে দাও। (দরজা খুলে) দেখতে পেলেন, তিনি উমর (রাঃ)। তার পর আর একজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে পরে বললেন, তাঁকেও প্রবেশের অনুমতি দাও এবং অচিরেই তাঁর উপর বিপদ আসবে। একথাটির সাথে জান্নাতের সু-সংবাদ জানিয়ে দাও। (দরজা খুলে) দেখতে পেলাম যে, তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)। হাম্মাদ (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। আসিম (রহঃ) (একজন রাবী) উক্ত বর্ণনায় আরো বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাগানের এমন এক জায়গায় বসাছিলেন যেখানে পানি ছিল এবং তাঁর হাঁটু অথবা এক হাঁটুর উপর অতিরিক্ত ছিলনা। যখন উসমান (রাঃ) আসলেন তখন হাঁটু কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেললেন।
হাদিস নং - ৩৪৩১
আহমদ ইবনু শাবীব ইবনু সাঈদ (রহঃ) উবায়দুল্লাহ ইবনু আদী ইবনু খিয়ার (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মিসওয়ার ইবনু মাখরামা ও আবদুর রাহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু আবদ ইয়াগুস (রহঃ) আমাকে বললেন যে, ইসমান (রাঃ)-এর সাথে তাঁর (বৈপিত্রিয় ভাই) অলীদের বিষয় আলোচনা করতে তোমাকে কি সে বাঁধা দেয়? জনগণ তার সম্পর্কে নানারূপ কথাবার্তা বলছে। উসমান (রাঃ) যখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তখন আমি তাঁর নিকটে গিয়ে বললাম, আপনার সাথে আমার একটি প্রয়োজন আছে এবং তা আমি আপনার কল্যাণের জন্যই বলবো। উসমান (রাঃ) বললেন, ওহে, আমি তোমা থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাচ্ছি। আমি তাদের কাছে ফিরে আসলাম। তৎক্ষণাৎ উসমান (রাঃ)-এর দূত এস হাযির হল। আমি তার খেদমতে গেলাম। তিনি (আমাকে দেখে) বললেন, বল, তোমার নসিহত (উপদেশ) কি? আমি বললাম, আল্লাহ মুহাম্মদ -কে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন। কুরআনে তাঁর উপর অবতীর্ণ করেছেন। আপনি ঐ সকল (মহামানব) এর অন্যতম যাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) -এর আহবানে সাড়া দিয়েছেন। আপনি (হাবসা ও মদিনা) উভয় (স্থানে) হিজরত করেছেন এবং আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর চরিত্র মাধুর্য প্রত্যক্ষ করেছেন। (আপনার ভাই) অলীদ সম্পর্কে জনগণ নানারূপ কথাবার্তা বলাবলি করছে। (সে বিষয় অতি সত্বর ব্যবস্থা করা কর্তব্য)। উসমান (রাঃ) আমাকে বললেন তুমি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাক্ষাত লাভ করেছ? আমি বললাম না। তবে তাঁর ইল্ম আমার পর্দানীশীন কুমারীগণের কাছে যখন পৌছেছে তখন আমার কাছে অবশ্যই পৌছেছে। উসমান (রাঃ) হামদ ও সানা বর্ণনা করে বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মাদ কে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) -এর ডাকসোড়া দানকারীদের মধ্যে আমিও ছিলাম। তাঁর আনীত শরীয়তের উপর আমিও ঈমান এনেছি। হাবসা এবং মদিনায়) আমি উভয় হিজরত করেছি, যেমন তুমি বলছ। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য লাভ করেছি, তাঁর হাতে বয়’আত করেছি। আল্লাহর কসম, আমি তাঁর নাফরমানী করি নি ও তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। অবশেষে আল্লাহ তাঁর রাসূল) কে দুনিয়া হতে নিয়ে গিয়েছেন। তারপর আবূ বকর (রাঃ) এর সাথে অনুরূপ সম্পর্ক ছিল। এরপর উমর (রাঃ) এর সঙ্গেও অনুরূপ সম্পর্ক ছিল। তারপর আমার কাঁধে খিলাফতের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমার কি ঐ সকল অধিকার নেই যা তাঁদের ছিল? আমি বললাম হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তোমাদের পক্ষ থেকে কী সব কথাবার্তা আমার নিকট পৌছেছে? অবশ্য অলীদ সম্পর্কে তুমি যা বলছ অতি সত্বর আমি সে সম্পর্কে সঠিক পদক্ষেপ নিব। এ বলে তিনি আলী (রাঃ) কে ডেকে এনে অলীদকে বেত্রাঘাত করার জন্য আদেশ দিলেন। আলী (রাঃ) তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করলেন।
হাদিস নং - ৩৪৩২
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু বাযী’ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যামানায় (মর্যাদায়) আবূ বকর (রাঃ)-এর সমকক্ষ কাউকে মনে করতাম না, তারপর উমর (রাঃ) কে তারপর উসমান (রাঃ) কে (মর্যাদা দিতাম) তারপর সাহাবাগণের মধ্যে কাউকে কারও উপর প্রাধান্য দিতাম না। আবদুল্লাহ ইবনু সালিহ (রহঃ) আবদুল আযীয (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় শাযান (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদিস নং - ৩৪৩৩
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) উসমান ইবনু মাওহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক মিসরবাসী মক্কায় এসে হাজ্জ (হজ্জ) সম্পাদন করে দেখতে পেল যে, কিছু সংখ্যক লোক একত্রে বসে আছে। সে বলল, এ লোকজন কারা? তাকে জানানো হল এরা কুরাইশ বংশের লোকজন। সে বলল, তাদের মধ্যে ঐ শায়েখ ব্যাক্তিটি কে? তারা বললেন, ইনি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)। সে ব্যাক্তি (তাঁর নিকট এসে) বলল, হে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ), আমি আপনাকে একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব; আপনি আমাকে বলুন, (১) আপনি কি এটা জানেন যে, উসমান (রাঃ) ওহোদ যুদ্ধ (চলাকালে) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়েগিয়েছিলেন। তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। (২) সে বলল, আপনি জানেন কি উসমান (রাঃ) বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন? ইবনু উমর (রাঃ) উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। (৩) আপনি জানেন কি বায়’আতে রিযওয়ানে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন? ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। লোকটি বলে উঠল, আল্লাহু আকবার। ইবনু উমর (রাঃ) তাকে বললেন, এস, তোমাকে প্রকৃত ঘটনা বলে দেই। উসমান (রাঃ)-এর ওহোদ যুদ্ধ থেকে পালিয়েযাওয়া সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাঁকে মাফ করে দিয়েছেন ও ক্ষমা করে দিয়েছেন। (কুরআনে কারীমে এ বিষয়ে উল্লেখ আছে) আর তিনি বদর যুদ্ধে এজন্য অনুপস্থিত ছিলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা তাঁর স্ত্রী (রোকাইয়া (রাঃ)) রোগগ্রস্ত ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, বদরে অংশ গ্রহণকারী ব্যাক্তির সমপরিমাণ সাওয়াব ও গণীমতের অংশ মিলবে। আর বায়’আত রিযওয়ান থেকে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হল, মক্কার বুকে তাঁর (উসমান (রাঃ)) চেয়ে সম্ভ্রান্ত, অন্য কেউ যদি থকতো তবে তাকেই তিনি উসমানের পরিবর্তে পাঠাতেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান (রাঃ) কে মক্কায় প্রেরেণ করেন। এবং তাঁর চলে যাওয়ার পর বায়’আতে রিযওয়ান অনুষ্ঠিত হয়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাতের প্রতি ঈঙ্গিত করে বললেন, এটি উসমানের হাত। তারপর ডান বাম হাতে স্থাপন করে বললেন যে, এ হল উসমানের বায়’আত। ইবনু উমর (রাঃ) ঐ (মিসরীয়) লোকটিকে বললেন, তুমি এস এই জবাব নিয়ে যাও।
হাদিস নং - ৩৪৩৪
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহোদ পাহাড়ে আরোহণ করলেন। তাঁর সাথে ছিলেন আবূ বকর (রাঃ), উমর ও উসমান (রাঃ)। তাঁদেরকে পেয়ে পাহাড়টি (আনন্দে) কেঁপে উঠল। তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ওহোদ স্থির হও। (আনাস (রাঃ) বলেন) আমার মনে হয় তিনি পা দিয়ে পাহাড়কে আঘাত করলেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার উপর একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও একজন সিদ্দীক ও দু’জন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই।
হাদিস নং - ৩৪৩৫
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) কে আহত হওয়ার কিছুদিন পূর্বে মদিনায় দেখেছি যে তিনি হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান (রাঃ) ও উসমান ইবনু হুনায়ফ (রহঃ) এর নিকট দাঁড়িয়ে তাঁদে কে লক্ষ্য করে বলেছেন, (ইরাক বাসীর উপর কর ধার্যের ব্যাপারে) তোমরা এটা কী করলে? তোমরা কী আশঙ্কা করছ যে তোমরা ইরাক ভূমির উপর যে কর ধার্য করেছ তা বহনে ঐ ভূখন্ড অক্ষম? তারা বললেন, আমরা যে পরিমাণ কর ধার্য করেছি, ঐ ভূ-খন্ড তা বহনে সক্ষম। এতে অতিরিক্ত কোন বোঝা চাপান হয়নি। তখন উমর (রাঃ) বললেন, তোমরা পুনঃচিন্তা করে দেখ যে তোমরা এ ভূখন্ডের উপর যে কর আরোপ করেছ তা বহনে সক্ষম নয়? বর্ণনাকারী বলেন, তাঁরা বললেন, না (সাধ্যাতীত কর আরোপ করা হয় নি) এরপর উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ যদি আমাকে সুস্থ রাখেন তবে ইরাকের বিধবাগণকে এমন অবস্থায় রেখে যাব যে তারা আমরার পরে কখনো অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হয়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর চতুর্থ দিন তিনি (ঘাতকের আঘাতে) আহত হলেন। যেদিন প্রত্যুষে তিনি আহত হন, আমি তাঁর কাছে দাঁড়িয়েছিলাম এবং তাঁর ও আমার মাঝে আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউ ছিল না। উমর (রাঃ) (সালাত (নামায/নামাজ) শুরু করার প্রাক্কালে) দু’কাতারের মধ্যে দিয়ে চলার সময় বলতেন, কাতার সোজা করে নাও। যখন দেখতেন কাতারে কোন ত্রুটি নেই তখন তাকবীর বলতেন। তিনি অধিকাংশ সময় সূরা ইউসূফ, সূরা নাহল অথবাএ ধরনের (দীর্ঘ) সূরা (ফজরের) প্রথম রাক’আতে তিলাওয়াত করতেন, যেন অধিক পরিমাণে লোক প্রথম রাকআতে শরীক হতে পারেন। (সেদিন) তাকবীর বলার পরেই আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, একটি কুকুর আমাকে আঘাত করেছে অথবা বললেন, আমাকে আক্রমণ করেছে। ঘাতক ‘‘ইলজ’’ দ্রুত পলায়নের সময় দু’ধারী খঞ্জর দিয়ে ডানে বামে আঘাত করে চলছে। এভাবে তের জনকে আহত করল। এদের মধ্যে সাতজন শহীদ হলেন। এ অবস্থা দৃষ্টে এক মুসলিম তার লম্বা চাঁদরটি ঘাতকের উপর ফেলে দিলেন। ঘাতক যখন বুঝতে পারল সে ধরা পড়ে যাবে তখন সে আত্মহত্যা করল। উমর (রাঃ) আব্দুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এর হাত ধরে আগে এগিয়ে দিলেন। উমর (রাঃ) এর নিকটবর্তী যারা ছিল শুধুমাত্র তারাই ব্যপারটি দেখতে পেল। আর মসজিদের প্রান্তে যারা ছিল তারা ব্যাপারটি এর বেশী বুঝতে পারল না যে উমর (রাঃ) এর কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে না। তাই তারা ‘‘সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ’’ বলতে লাগলেন। আব্দুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) তাঁদেরকে নিয়ে সংক্ষেপে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। যখন মুসল্লীগণ চলে গেলেন, তখন উমর (রাঃ) বললেন, হে ইবনু আববাস (রাঃ) দেখ তো কে আমাকে আঘাত করল। তিনি কিছুক্ষণ অনুসন্ধান করে এস বললেন, মুগীরা ইবনু শো’বা (রাঃ) এর গোলাম (আবূ লুলু)। উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ কারীগর গোলামটি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তার সর্বনাশ করুন। আমি তার সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমার মৃত্যু ইসলামের দাবীদার কোন ব্যাক্তির হাতে ঘটান নি। হে ইবনু আববাস (রাঃ) তুমি এবং তোমার পিতা মদিনায় কাফির গোলামের সংখ্যা বৃদ্ধি পছন্দ করতে। আববাস (রাঃ) এর নিকট অনেক অমুসলিম গোলাম ছিল। ইবনু আববাস (রাঃ) বললেন, যদি আপনি চান তবে আমি কাজ করে ফেলি অর্থাৎ আমি তাদেরকে হত্যা করে ফেলি। উমর (রাঃ) বললেন, তুমি ভুল বলছ। (তুমি তা করতে পার না) কেননা তারা তোমাদের ভাষায় কথা বলে তোমাদের কেবলামুখী হয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, তোমাদের ন্যায় হাজ্জ (হজ্জ) করে। তারপর তাঁকে তাঁর ঘরে নেয়া হল। আমরা তাঁর সাথে চললাম। মানুষের অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল, ইতপিূর্বে তাদের উপর এতবড় মুসীবত আর আসেনি। কেউ কেউ বলছিলেন, ভয়ের কিছু নেই। আবার কেউ বলছিলেন, আমি তাঁর সম্পর্কে আশংকাবোধ করছি। তারপর খেজুরের শরবত আনা হল তিনি তা পান করলেন। কিন্তু তা তার পেট থেকে বেরিয়ে পড়ল। এরপর দুধ আনা হল, তিনি তা পান করলেন; তাও তার পেট থেকে বেরিয়ে পড়ল। তখন সকলই বুঝতে পারলেন, মৃত্যু তাঁর অবশ্যম্ভাবী। আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। অন্যান্য লোকজনও আসতে শুরু করল। সকলেই তার প্রশংসা করতে লাগল। তখন যুবক বয়সী একটি লোক এসে বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন। আপনার জন্য আল্লাহর সু-সংবাদ রয়েছে; আপনি তা গ্রহণ করুন। আপনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য গ্রহণ করেছেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই আপনি তা গ্রহণ করেছেন, যে সম্পর্কে আপনি নিজেই অবগত আছেন তারপর আপনি খলীফা হয়ে ন্যায বিচার করেছেন। তারপর আপনি শাহাদাত লাভ করেছেন। উমর (রাঃ) বললেন, আমি পছন্দ করি যে তা আমার জন্য ক্ষতিকর বা লাভজনক না হয়ে সমান হয়ে যাক। যখন যুবকটি চলে যেতে উদ্যত হল তখন তার (পরিহিত) লঙ্গিটি মাটি ছুঁয়ে যাচ্ছিল। (এ দেখে) উমর (রাঃ) বললেন, যুবকটিকে আমার নিকট ডেকে আন। (ছেলেটি আসল) তিনি বললেন- হে ভাতিজা, তোমার কাপড়টি উঠিয়ে নাও। এটা তোমার কাপড়ের পরিচ্ছিন্নতার উপর এবং তোমার রবের নিকটও পছন্দনীয়। (তারপর তিনি বললেন) হে আবদুল্লাহ ইবনু উমর তুমি হিসাব করে দেখ আমার ঋণের পরিমাণ কত। তাঁরা হিসাব করে দেখতে পেলেন ছিয়াশি হাজার (দিরহাম) বা এর কাছাকাছি। তিনি বললেন, যদি উমরের পরিবার পরিজনের মাল দ্বারা তা পরিশোধ হয়ে যায়, তবে তা দিয়ে পরিশোধ করে দাও। অন্যথায় আদি ইবনু কা’ব এর বংশধরদের নিকট থেকে সাহায্য গ্রহণ কর। তাদের মাল দিয়েও যদি ঋণ পরিশোধ না হয় তবে কুরাইশ কবিলা থেকে সাহায্য গ্রহণ করবে এর বাহিরে কারো সাহায্য গ্রহণ করবে না। আমার পক্ষ থেকে তাড়াতাড়ি ঋণ আদায় করে দাও। উম্মূল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ) এর খেদমতে তুমি যাও এবং বল উমর আপনাকে সালাম পাঠিয়েছে। আমীরুল মু’মিনীন, শব্দটি বলবে না। কেননা এখন আমি মু’মিনগণের আমীর নই। তাঁকে বল উমর ইবনু খাত্তাব তাঁর সাথীদ্বয়ের পাশে দাফন হওয়ার অনুমতি চাচ্ছেন। ইবনু উমর (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) এর খেদমতে গিয়ে সালাম জানিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, প্রবেশ কর, তিনি দেখলেন, আয়িশা (রাঃ) বসে বসে কাঁদছেন। তিনি গিয়ে বললেন, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তাঁর সাথীদ্বয়ের পাশে দাফন হওয়ার অনুমতি চেয়েছেন। আয়িশা (রাঃ) বললেন, তা আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু আজ আমি এ ব্যপারে আমার উপরে তাঁকে অগ্রাধিকার প্রদান করছি। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) যখন ফিরে আসছেন তখন বলা হল- এই যে আবদুল্লাহ ফিরে আসছে। তিনি বললেনম আমাকে উঠিয়ে বসাও। তখন এক ব্যাক্তি তাকে ঠেস দিয়ে বসিয়ে ধরে রাখলেন। উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, কি সংবাদ? তিনি বললেন, আমীরুল মু’মিনীন, আপনি যা আকাঙ্ক্ষা করেছেন, তাই হয়েছে, তিনি অনুমতি দিয়েছেন। উমর (রাঃ) বললেন, আলহামদুল্লিাহ। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় আমার নিকট ছিল না। যখন আমার ওফাত হয়ে যাবে তখন আমাকে উঠিয়ে নিয়ে, তাঁকে (আয়িশা (রাঃ)) আমার সালাম জানিয়ে বলবে, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আপনার অনুমতি চাচ্ছেন। যদি তিনি অনুমতি দেন, তবে আমাকে প্রবেশ করাবে আর যদি তিনি অনুমতি না দেন তবে আমাকে মাধারণ মুসলমানদের গোরস্থানে নিয়ে যাবে। এ সময় উম্মূল মু’মিনীন হাফসা (রাঃ) কে কতিপয় মহিলাসহ আসতে দেখে আমরা উঠে পড়লাম। হাফসা (রাঃ) তাঁর কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ কাঁদলেন। তারপর পুরুষগণ এস প্রবেশের অনুমতি চাইলে, তিনি ঘরের ভিতর চলে (গেলেন) ঘরের ভেতর হতেও আমরা তাঁর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন, আপনি ওয়াসিয়াত করুন এবং খলীফা মনোনীত করুন। উমর (রাঃ) বললেন, খিলাফতের জন্য এ কয়েকজন ব্যতীত অন্য কাউকে আমি যোগ্যত পাচ্ছিনা, যাঁদের প্রতিনিবী তার ইন্তেকালের সময় রাযী ও খুশী ছিলেন। তারপর তিনি তাদের নাম বললেন, আলী, উসমান, যুবায়র, তালহা, সা’স ও আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এবং বললেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তোমাদের সাথে থাকবে। কিন্তু সে খিলাফত লাভ করতে পারবে না। তা ছিল শুধু সান্তনা হিসাবে। যদি খিলাফতের দায়িত্ব সা’দর (রাঃ) উপর ন্যাস্ত করা হয় তবে তিনি এর জন্য যোগ্যতম ব্যাক্তি। এর যদি তোমাদের মধ্যে অন্য কেউ খলীফা নির্বাচিত হন তবে তিনি যেন সর্ব বিষয়ে সা‘দের সাহায্য ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। আমি তাঁকে (কুফার গভর্নরের পদ থেকে) অযোগতা বা খিয়ানতের কারণে অপসারণ করি না। আমার পরে (নির্বাচিত) খলীফাকে আমি ওয়াসিয়াত করছি, তিনি যেন প্রথম যুগের মুহাজিরগণের হক সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তাদের মান-সম্মান রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। এবং আমি তাঁকে আনসার সাহাবীগণের যাঁরা মুহাজিরগণের আগমনের পূর্বে এই নগরীতে (মদিনায়) বসবাস করে আসছিলেন এবং ঈমান এনেছেন, তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওয়াসিয়াত করছি যে তাঁদের মধ্যে নেককারগণের ওযর আপত্তি যেন গ্রহণ করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে কারোর ভুলত্রুটি হলে তা যেন ক্ষমা করে দেয়া হয়। আমি তাঁকে এ ওয়াসিয়াতও করছি যে, তিনি যেন রাজ্যের বিভিন্ন শহরের আধিবাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কেরন। কেননা তাঁরাও ইসলামের হেফাযতকারী। এবং তারাই ধন-সম্পদের যোগানদাতা। তারাই শত্রুদের চোখের কাঁটা। তাদের থেকে তাদের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কেবলমাত্র তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ যাকাত আদায় করা হয়। আমি তাঁকে পল্লীবাসীদের সহিত সদ্ব্যবহার করারও ওয়াসিয়ত করছি। কেননাই আরবের ভিত্তি এবং ইসলামের মূল শক্তি। তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ এনে তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়া হয়। আমি তাঁকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) -এর জিম্মীদের (অর্থাৎ সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়) বিষয়ে ওয়াসিয়াত করছি যে, তাদে সাথে কৃত অঙ্গীকার যেন পুরা করা হয়। (তারা কোন শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে) তাদের পক্ষাবিলম্বে যেন যুদ্ধ করা হয়, তাদের শক্তি সামর্থ্যের অধিক জিযিয়া (কর) যেন চাপানো না হয়। উমর (রাঃ) এর ইন্তেকাল হয়ে গেলে আমরা তাঁর লাশ নিয়ে পায়ে হেঁটে চললাম। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) কে সালাম করলেন এবং বললেন, উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) অনুমতি চাচ্ছেন। তিনি (আয়িশা (রাঃ)) বললেন, তাকে প্রবেশ করাও। এরপর তাঁকে প্রবেশ করান হল এবং তাঁ সঙ্গীদ্বয়ের পার্শ্বে দাফন করা হল। যখন তাঁর দাফন সম্পন্ন হল, তখন ঐ ব্যাক্তিবর্গ একত্রিত হলেন। তখন আবদুর রহমান (রাঃ) বললেন, তোমরা তোমাদের বিষয়টি তোমাদের মধ্য থেকে তিনজনের উপর ছেড়ে দাও। তখন যুবায়ন (রাঃ) বললেন, আমি, আমরা বিষয়টি আলী (রাঃ) এর উপর অর্পণ করলাম। তালহা (রাঃ) বললেন, আমার বিষয়টি উসমান (রাঃ) এর উপর ন্যাস্ত করলাম। সা‘দ (রাঃ) বললেন, আমার বিষয়টি আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এর উপর ন্যাস্ত করলাম। তারপর আবদুর রহমান (রাঃ), উসমান ও আলী (রাঃ) কে বললেন, আপনাদের দু’জনের মধ্য থেকে কে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে ইচ্ছা করেন? (একজন অব্যাহতি দিলে) এ দায়িত্ব অপর জনার উপর অর্পণ করব। আল্লাহ ও ইসলামের হক আদায় করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হবে। কে অধিকতর যোগ্য সে সম্পর্কে দু’জনেরই চিন্তা করা উচিৎ। ব্যাক্তিদ্বয় (উসমান ও আলী (রাঃ)) নীরব থাকলেন। তখন আবদুর রাহমান (রাঃ) নিজেই বললেন, আপনারা এ দায়িত্ব আমার উপর ন্যাস্ত করতে পরেন কি? আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আপনাদের মধ্যকার যোগ্যতম ব্যাক্তিকে নির্বাচিত করতে একটুও ত্রুটি করব না। তাঁরা উভয়ে বললেন, হ্যাঁ। তাদের একজনের (আলী (রাঃ)-এর) হাত ধরে বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আপনার যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ত এবং ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামীতা রয়েছো আপনিও ভালভাবে জানেন। আল্লাহর ওয়াস্তে এটা আপনার জন্য জরুরী হবে যে যদি আপনাকে খলীফা মনোনীত করি তাহলে আপনি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। আর যদি উসমান (রাঃ) কে মনোনিত করি তবে আপনি তাঁর কথা শুনবেন এবং তাঁর প্রতি অনুগত থাকবেন। তারপর তিনি অপরজনের (উসমানের (রাঃ)) সঙ্গে একান্তে অনুরূপ কঅত বললেন। এভাবে অঙ্গীকার গ্রহণ করে, তিনি বললেন, হে উসমান (রাঃ) আপনার হাত বাড়িয়ে দিন। তিনি (আবদুর রহমান (রাঃ), তাঁর হাতে বায়’আত করলেন। তারপর আলী (রাঃ) তাঁর (উসমান রাঃ) এর বায়’আত করলেন)। এরপর মদিনাবাসীগণ অগ্রসর হয়ে সকলেই বায়’আত করলেন।
হাদিস নং - ৩৪৩৬
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রাঃ) সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আগামীকাল এমন এক ব্যাক্তিকে পতাকা দিব যাঁর হাতে আল্লাহ্ বিজয় দান করবেন। রাবী বলেন, তারা এই আগ্রহ ভরে রাত্রি যাপন করলেন যে, কাকে ঐ পতাকা দেয়া হবে। যখন সকাল হল তখন সকলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গিয়ে হাযির হলেন। তাদের প্রত্যেকেই এ আশা পোষণ করছিলেন যে, পতাকা তাকে দেয়া হবে। তারপর তিনি বললেন, আলী ইবনু আবূ তালিব কোথায়? তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি চক্ষু রোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, কাউকে পাঠিয়ে তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এস। যখন তিনি এলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু'চোখে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দু’আও করলেন। এতে তিনি এমন সুস্থ হয়ে গেলেন যেন তাঁর চোখে কোন রোগই ছিলনা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ে তাঁকে পতাকাটি দিলেন। আলী (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , তারা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মত না হয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কি তাদের সাথে দুদ্ধ চালিয়ে যাব। তিনি বললেন, তুমি সোজা অগ্রসর হতে থাক এবং তাদের আঙ্গিনায় উপনীত হয়ে তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দাও। তাদের উপর আল্লাহর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তাবে তাও তাদেরকে জানিয়ে দাও। আল্লাহর কসম, তোমাদের দ্বারা যদি একটি মানুষও হিদায়েত প্রাপ্ত হয়, তা হবে তোমার জন্য লাল রঙের উট প্রাপ্তির চেয়েও অধিক উত্তম।
হাদিস নং - ৩৪৩৭
কুতায়বা (রাঃ) সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে যান নি। কেননা তাঁর চোখে অসুখ ছিল। এতে তিনি (মনে মনে) বললেন, আমি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে (জিহাদে) যাব না? তারপর তিনি বেড়িয়ে পড়লেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মিলিত হলেন। যেদিন সকালে আল্লাহ বিজয় দান করলেন, তার পূর্ব রাত্রে (সান্ধ্যায়) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগামী কাল সকালে আমি এমন এক ব্যাক্তিকে পতাকা প্রদান করব, অথবা বলেছিলেন যে এমন এক ব্যাক্তি ঝান্ডা গ্রহণ করবে যাঁকে আল্লাহ এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালবাসেন, অথবা বলেছিলেন, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল) কে ভালবাসে। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বিজয় দান করাবেন। তারপর আমরা দেখতে পেলাম তিনি হলেন আলী (রাঃ), অথচ আমরা তাঁর সম্পর্কে এমনটি আশা করি নি। তাই সকলেই বলে উঠলেন, এই যে আলী (রাঃ)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা বিজয় দিলেন।
হাদিস নং - ৩৪৩৮
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ)-এর খেদমতে হাযির হয়ে বললেন, মদিনার অমুক আমীর মিম্বরের নিকটে বসে আলী (রাঃ) সম্পর্কে অপ্রিয় কথা বলছে। তিনি বললেন, সে কি বলছে? সে বলল, সে তাকে আবূ তুরাব (রাঃ) বলে উল্লেখ করছে। সাহল (রাঃ) (একথা শুনে) হেসে দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম, তাঁর এ নাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ই রেখে ছিলেন। এ নাম অপেক্ষা তাঁর নিকট অধিক প্রিয় আর কোন নাম ছিল না। আমি (নাম রাখার) ঘটনাটি জানার জন্য সাহল (রাঃ) এর আগ্রহ প্রকাশ করলাম এবং তাকে বললাম, হে আবূ আববাস, এটা কিভাবে হয়েছিল। তিনি বললেন, (একদিন) আলী (রাঃ) এর নিকট গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এস মসজিদে শুয়ে রইলেন। (অল্পক্ষণ পর) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার চাচাত ভাই (আলী) কোথায়? তিনি বললেন, মসজিদে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ে তাঁর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। পরে তিনি তাঁকে এমন অবস্থায় পেলেন যে তাঁর চাঁদর পিঠ থেকে সরে গিয়েছে। তাঁর পিঠে ধূলা-বালি লেগে গেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিঠ থেকে ধুলা-বালি ঝাড়তে ঝাড়তে বলতে লাগলেন, উঠে বস হে আবূ তুরাব। এ কথাটি তিনি দু’বার বলেছিলেন।
হাদিস নং - ৩৪৩৯
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) সা’দ ইবনু উবাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি ইবনু উমর (রাঃ)-এর নিকট এসে উসমান (রাঃ) এর সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করল। তিনি উসমান (রাঃ)-এর কতিপয় ভাল গুণ বর্ণনা করলেন। ইবনু উমর (রাঃ) ঐ ব্যাক্তিকে বললেন, মনে হয় এটা তোমার কাছে খারাপ লাগছে। সে বলল, হাঁ। ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ (তোমাকে) অপমানিত করুন! তারপর সে ব্যাক্তি আলী (রাঃ) এর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাঁরও কতিপয় ভাল গুণ বর্ণনা করলেন এবং বললেন, ঐ দেখ। তাঁর ঘরটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরগুলির মেধ্য অবস্থিত এরপর তিনি বললেন, মনে হয় এসব কথা শুনতে তোমার খারাপ লাগছে। সে বলল, হাঁ। ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছিত করুন। যাও আমার বিরুদ্ধে তোমার শক্তি ব্যয় কর।
হাদিস নং - ৩৪৪০
মুহাম্মাদ ইবনু মাশ্শার (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা (রাঃ) যাঁতা চালানোর কষ্ট সম্পর্কে একদিন (আমার নিকট) অভিযোগ প্রকাশ করলেন। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট কিছু সংখ্যক যুদ্ধবন্দী আসল। ফাতিমা (রাঃ) (এক জন গোলাম পাওয়ার আশা নিয়ে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে গেলেন। কিন্তু তাঁকে না পেয়ে, আয়িশা (রাঃ) এর কাছে তাঁর কথা বলে আসলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে আসলেন তখন ফাতিমা (রাঃ) এর আগমন ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) তাঁকে অবহিত করলেন। (&আলী (রাঃ) বলেন) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে আসলেন, যখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। তাঁকে দেখে আমি উঠে বসতে চাইলাম। কিন্তু তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় থাক এবং তিনি আমাদের মাঝখানে এমনভাবে বসে পড়লেন যে আমি তাঁর পদদ্বয়ের শীতলতা আমার বক্ষে অনুভব করলাম। তিনি বললেন, আমি কি তোমরা যা চেয়েছিলে তার চেয়েও উত্তম জিনিস শিক্ষা দিবনা? (তা হল) তোমরা যখন ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় যাবে তখন চৌত্রিশ বার ‘‘আল্লাহু আকবার’’ তেত্রিশবার ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ তেত্রিশবার ‘‘আল্ হামদুলিল্লাহ’’ পড়ে নিবে। এটা খাদিম (যা তোমরা চেয়েছিলে) অপেক্ষা অনেক উত্তম।
হাদিস নং - ৩৪৪১
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবূক যুদ্ধের প্রাক্কালে) আলী (রাঃ)-কে বলেছিলেন, তুমি কি এতসেন্তুষ্ট নও যে, যেভাবে হারূন আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা লাভ করেছিলেন, তুমিও আমার নিকট সেই মর্যাদা লাভ কর।
হাদিস নং - ৩৪৪২
আলী ইবনুল জা‘দ (রহঃ) আলী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা পূর্ব থেকে যেভাবে ফয়সালা করে আসছ সেভাবেই কর কেননা পারস্পরিক বিবাদ আমি অপছন্দ করি। যেন সকল লোক এক দল ভুক্ত হয়ে থাকে। অথবা আমি এমতাবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় হই যেভাবে আমার সাথীগণ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। (মুহাম্মদ) ইবনু সীরীন (রহঃ) এ ধারণা পোষণ করতেন যে, আলী (রাঃ) এর (১ম খলীফা হওয়া সম্পর্কে) যে সব কথা তার থেকে (রাফেযী সম্প্রদায় কর্তৃক) বর্ণিত তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন।
হাদিস নং - ৩৪৪৩
আহমদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, লোকজন (অভিযোগের সুরে) বলে থাকেন যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) অনেক বেশী হাদিস বর্ণনা করে থাকেন। বস্ত্ততঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে আত্মতৃপ্তি নিয়ে পড়ে থাকতাম। ঐ সময়ে আমি সুস্বাদু রুটি ভক্ষণ করিনি, দামী বস্ত্র পরিধান করিনি। তখন কেউ আমার খেদমত করত না, এবং আমি ক্ষুধার জ্বালায় পাথরময় যমিনের সাথে পেট চেপে ধরতাম। কোন কোন সময় কুরআনে কারীমের আয়াত বিশেষ, আমার জানাথাকা সত্ত্বেও অন্যদেরকে জিজ্ঞাসা করতাম যেন, তারা আমাকে তাদের বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে কিছু আহারের ব্যবস্থা করেন। গরীব মিসকীনদের জন্য সর্বাপেক্ষা উত্তম ব্যাক্তি ছিলেন জাফর ইবনু তালিব (রাঃ)। তিনি প্রায়ই আমাকে নিজ ঘরে নিয়ে যেতেন এবং যা থাকত তাই আমাকে আহার করিয়ে দিতেন। (কোন সময় এমন হত যে তাঁর ঘরে কিছুই থাকে নাই) ঘিয়ের শূন্য পাত্র এনে তিনি আমাকে সামনে তা ভেঙ্গে দিতেন আর তা চেটে খেতাম।
হাদিস নং - ৩৪৪৪
আমর ইবনু আলী (রহঃ) শাবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) যখন জাফর (রাঃ) এর ছেলে (আবদুল্লাহ) কে সালাম বলতেন তখন বলতেন, হে, দু’বাহু বিশিষ্ট ব্যাক্তির পুত্র। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, বলা হয় অর্থ তুমি আমার পাশে থাক। প্রত্যেক বস্ত্তর দ‘পাশকে দু‘বাহু বলা হয়।
হাদিস নং - ৩৪৪৫
হাসান ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাঃ) (এর খিলাফত কালে) অনাবৃষ্টির কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে আববাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) এর ওয়াসিলা নিয়ে বৃষ্টি বর্ষণের দু‘আ করতেন। তিনি বলতেন, হে আল্লাহ! আমরা অনাবৃষ্টি দেখা দিলে আমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লর ওয়াসিলা নিয়ে দু‘আ করতাম তুমি (আমাদের দু‘আ কবূল করে) বৃষ্টি বর্ষণ করতে, এখন আমরা আমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচা আববাস (রাঃ)-এর ওয়াসিলায় বৃষ্টি বর্ষণের দু‘আ করছি। তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর। তখন বৃষ্টি হত।
হাদিস নং - ৩৪৪৬
আবূ ইয়ামান (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট ফাতিমা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অংশ দাবী করলেন যা আল্লাহ তা‘আলা তাকে বিনাযুদ্ধে দান করেছিলেন, যা তিনি সা’দকা স্বরূপ মদিনা, ফাদাকে রেখে গিয়েছিলেন এবং খায়বারের এক-পঞ্চমাংশ হতে যে অবশিষ্ট ছিল তা। আবূ বকর (রাঃ) (তার উত্তরে) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণের মালের ওয়ারিস কেউ হয় না। আমরা যা কিছু রেখে যাই তা বই সা’দ্কা। মুহাম্মদ -এর পবিারবর্গ এ মাল থেকে অর্থাৎ আল্লাহর মাল থেকে খেতে পারবে। তবে (আহারের জন্য) প্রয়োজনের অধিক নিতে পারবে না। আল্লাহর কসম, আমি নী এর পরিত্যক্ত মালে তাঁর যুগে যেমন নিয়েম ছিল তার পরিবর্তন করব না। আমি অবশ্যই তা করব যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে গেছন। এরপর আলী (রাঃ) শাহাদত (হামদ-সানা) পাঠ করে বললেন, হে আবূ বকর! আমরা আপনার মর্যাদা ওশ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবহিত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাঁদের যে আত্মীয়তা ও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে তা এবং তাঁদের অধিকারের কথাও উল্লেখ করলেন। আবূ বকর (রাঃ)ও এ বিষয়ে উল্লেখ করে বললেন, আল্লাহর কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমার আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করার চেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করা আমি অধিক পছন্দ করি।
হাদিস নং - ৩৪৪৭
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ -এর পরিবারবর্গের প্রতি তোমরা অধিক সম্মান দেখাবে।
হাদিস নং - ৩৪৪৮
আবূ ওয়ালিদ (রহঃ) মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফাতিমা আমার (দেহের) টুকরা। যে তাঁকে কষ্ট দিবে, সে যেন আমাকে কষ্ট দিল।
হাদিস নং - ৩৪৪৯
ইয়াহইয়া ইবনু মাযা‘আ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাতের সময় যে রোগে আক্রান্ত হন তখন তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) কে ডেকে পাঠালেন। (তিনি আসলে) চুপিচুপি কি যেন তাঁকে বললেন, তিনি এতে কাঁদতে লাগলেন। তারপর তিনি তাঁকে ডেকে পুনরায় চুপিচুপি কি যেন বললেন, এবারে তিনি হাসতে লাগলেন। আমি তাঁকে এ (হাস-কান্নার) কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জানালেন যে, তিনি এ রোগে ওফাত লাভ করবেন, এতে আমি কাঁদতে শুরু করি। এরপর তিনি চুপেচুপে বললেন, আমি তাঁর পরিবার বর্গের মধ্যে সর্বপ্রথম তাঁর সাথে মিলিত হব, তখন আমি হাসতে শুরু করি।
হাদিস নং - ৩৪৫০
খালিদ ইবনু মাখলাদ (রহঃ) মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসমান (রাঃ) কঠিন নাকের পীড়ায় (নাক দিয়ে রক্তপাত) আক্রান্ত হলেন (একত্রিশ হিজর) সনে যে সনকে নাকের পীড়ার সন বলা হয় এ কারণে তিনি ঐ বছর হাজ্জ (হজ্জ) করতে পারলেন না এবং ওসিয়াত করলেন। ঐ সময় কুরাইশের এক ব্যাক্তি তাঁর নিকট এস বলল, আপনি কাউকে আপনার খলীফা মনোনীত করুন। উসমান (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, জনগণ কি একথা বলেছে? সে বললো, হাঁ। উসমান (রাঃ) বললেন, বলতো কাকে (মনোনীত করব)? রাবী বলেন তখন সে ব্যাক্তি নীরব হয়ে গেল। তারপর অপর এক ব্যাক্তি আসল, (রাবী বলেন) আমার ধারণা সে হারিস ইবনু হাকাম মারওয়ানের ভাই) ছিল। সেও বলল, আপনি খলীফা মনোনীত করুন। ইসমান (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, জনগণ কি চায়? সে বলল, হাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কাকে? রাবী বলেন সে নীরব হয়ে গেল। উসমান (রাঃ) বললেন, সম্ভবতঃ তারা যুবায়র (রাঃ) এর নাম প্রস্তাব করেছে। সে বলল, হাঁ। উসমান (রাঃ) বললেন, ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমার জানামতে তিনই সর্বোত্তম ব্যাক্তি এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সর্বাধিক প্রিয়পাত্র ছিলেন।
হাদিস নং - ৩৪৫১
উবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) মারওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন এক ব্যাক্তি এস তাঁকে বলল, আপনি খলীফা মনোনীত করুন। তিনি বললেন, তা কি বলাবলী হচ্ছে? সে বলল, হাঁ, তিহিচ্ছেন যুবায়র (রাঃ)। এই শুনে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে যুবায়র (রাঃ) তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যাক্তি। একথাটি তিনি তিনবার বললেন।
হাদিস নং - ৩৪৫২
মালিক ইবনু ইসমঈল (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক নাবীর হাওয়ারী (বিশেষ সাহায্যকারী) ছিলেন। আর আমার হাওয়ারী হলেন যুবায়র (রাঃ)।
হাদিস নং - ৩৪৫৩
আহমদ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু যাবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন খন্দক যুদ্ধ চলাকালে আমি এবং উমর ইবনু আবূ সালামা (স্বল্প বয়সের কারণে) মহিলাদের দলে চলছিলাম। হঠাৎ (আমার পিতা) যুবায়েরকে দেখতে পেলাম যে, তিনি অশ্বারোহণ করে বনী কুরায়যা গোত্রের দদেক দু‘বার অথবা তিন বার আসা যাওয়া করছেন। যখন ফিরে আসলাম তখন বললাম, হে আববা আমি আপনাকে (বনী কুরায়যার দিকে) কুয়েকবার যাতায়াত করতে দেখেছি। তিনি বললেন, হে প্রিয়া পুত্র, তুমি কি আমাকে দেখতে পেয়েছিলে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন কে বনী কুরায়যা গোত্রের নিকট গিয়ে তাদের খবরা-খবর জেনে আসবে? তখন (সে কাজে) আমই গিয়ে ছিলাম। (সংবাদ নিয়ে) যখন আমি ফিরে আসলাম তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য তাঁর মাতা-পিতাকে একত্র করে বললেন, আমার মাতা-পিতা তোমার জন্য কুরবান হোক।
হাদিস নং - ৩৪৫৪
আলী ইবনু হাফস (রহঃ) উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত, ইয়ারমুক যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহীদগণ যুবায়েরকে বললেন, আপনি কি আক্রমণ কঠোরতর করবেন না? তা হলে আমরাও আপনার সাথে (সর্বশক্তি নিয়) আক্রমণ করব। এবার তিনি ভীষণভাবে আক্রমণ করলেন। শত্রুরা তাঁর কাঁধে দু‘টি আঘাত করল। ক্ষতদ্বয়ের মধ্যে আরো একটি ক্ষতের চিহ্ন ছিল যা বদর যুদ্ধে হয়েছিল। উরওয়া (রহঃ) বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন ঐ ক্ষতস্থানগুলিতে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে খেলা করতাম।
হাদিস নং - ৩৪৫৫
মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর মুকাদ্দামী (রহঃ) আবূ উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যেসব যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং অংশগ্রহণ করেছিলেন, তা মধ্য থেকে এক যুদ্ধে (ওহোদ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ল্লহ এর সংগে কোন এক সময় তালহা ও সা‘দ (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউ ছিলেন না। আবূ উসমান (রাঃ) তাঁদের উভয় থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৩৪৫৬
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) কাইস ইবনু আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি তালহা (রাঃ)-এর ঐ হাতকে অবশ অবস্থায় দেখেছি, যে হাত দিয়ে (ওহোদ যুদ্ধে শত্রুদের আক্রমণ হতে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে হিফাযত করেছিলেন।
হাদিস নং - ৩৪৫৭
মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওহোদ যুদ্ধে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাতা-পিতাকে একত্র করে (বলে) ছিলেন, (তোমার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হউক)।
হাদিস নং - ৩৪৫৮
মাক্কী ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমাকে খুব ভালভাবে জানি, ইসলাম গ্রহণে আমি ছিলাম তৃতীয় ব্যাক্তি। (পুরুষদের মধ্যে)
হাদিস নং - ৩৪৫৯
ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আমার জানামতে) যে দিন আমি ইসলাম গ্রহণ করি সেদিন (এর পূর্বে খাদীজা (রাঃ) ও আবূ বকর (রাঃ) ব্যতীত) অন্য কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। ইম সাতদিন এমনিভাবে অতিবাহিত করেছি যে আমি ইসলাম গ্রহণে তৃতীয় ব্যাক্তি ছিলাম।
হাদিস নং - ৩৪৬০
আমর ইবনু আওন (রহঃ) কায়েস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সা‘দ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আরবদের মধ্যে আমই সেই ব্যাক্তি যে আল্লীহর রাস্তায় প্রথম তীর নিক্ষেপ করেছে। আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে থেকে লড়াই করেছি। তখন গাছের পাতা ব্যতীত আমাদের কোন আহার্য ছিল না। এমনকি আমাদেরকে (কোষ্ঠকাঠিন্য হেতু) উট অথবা ছাগলের ন্যায় বড়ির মত মল ত্যাগ করতে হত। আর এখন (এ অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে,)বনু আসা’দ আমাকে ইসলামের ব্যাপারে লজ্জা দিচ্ছে। আমি তখন অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হব এবং আমার আমলসমূহ বৃথা যাবে। বনূ আসা’দ উমর (রাঃ) এর নিকট সা‘দ (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে যথা নিয়মে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় না করার অভিযোগ করছিল। আবূ আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন ইসলামের তৃতীয় ব্যাক্তি একথা দ্বারা তিনি বলতে চান যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যারা প্রথমে ইসলাম এনেছিল আমি এদের তিনজনের তৃতীয়।
হাদিস নং - ৩৪৬১
আবূল ইয়ামান (রহঃ) মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ জেহেলের কন্যাকে আলী (রাঃ) বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে পাঠালেন। ফাতিমা (রাঃ) এই সংবাদ শুনতে পেরে রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর খেদমতে এসে বলেলন, আপনার গোত্রের লোকজন মনে করে যে, আপনি আপনার মেয়েদের খাতিরে রাগান্বিত হন না। আলী তো আবূ জেহেলের কন্যাকে বিবাহ করতে প্রস্ত্তত। রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ কথা শুনে) খুত্বা দিতে প্রস্ত্তত হলেন। (মিসওয়ার বলেন) যখন তিনি হাম্দ ও সানা পাঠ করেন, তখন আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবূল আস ইবনু রাবির নিকট আমার মেয়েকে শাদী দিয়েছিলাম। যে আমার সাথে যা বলেছে সত্যই বলেছে। আর (শোন) ফাতিমা আমার (দেহের) টুকরা; তাঁর কোন কষ্ট হোক তা আমি কখনও পছন্দ করি না। আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূল -এর মেয়ে এবং আল্লাহর চরম দুশমনের মেয়ে একই ব্যাক্তির কাছে একত্রিত হতে পারে না। (এ কথা শুনে) আলী (রাঃ) তাঁর বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাহার করলেন। মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনু হালহালা (রহঃ) মিস্ওয়ার (রহঃ) থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কে বনী আবদে শামস গোত্রে তাঁর এক জামাতা সম্পর্কে অত্যন্ত প্রশংসা করতে শুনেছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে আমাকে যা বলেছে- সত্য বলেছে। যা অঙ্গীকার করেছে, তা পূরণ করেছে।
হাদিস নং - ৩৪৬২
খালিদ ইবনু মাখ্লাদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মৃত্যু রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর) একটি সেনাবাহিনী প্রেরণের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করেন, এবং উসামা বিন যায়েদ (রাঃ)কে উক্ত বাহিনীর অধিনায়ক মনোনীত করেন। কিছু সংখ্যাক লোক তাঁর অধিনায়কত্বের উপর মন্তব্য প্রকাশ করতে লাগলো। (ইহা শুনে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার নেতৃত্বের প্রতি তোমাদের সমালোচনা অস্বভাবিক কিছু নয়। কেননা, এরূপূর্বে তার পিতার (বায়েদের) নেতৃত্বের প্রতিও তোমরা সমালোনা করেছ। আল্লাহর কসম, নিশ্চয় সে (বায়েদ) নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতম ব্যাক্তি ছিল এবং আমার প্রিয়জনদের মধ্যে একজন ছিল। তারপর তার পুত্র (উসামা) আমার প্রিয়তম ব্যাক্তিদের অন্যতম।
হাদিস নং - ৩৪৬৩
ইয়াহ্ইয়া ইবনু কাযা’আ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জনৈক কায়িফ (রেখা চিহ্ন বিশেষজ্ঞ) আসে, সে সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন। উসামা (রাঃ) ও তাঁর পিতা (পা বাইরে রেখে উভয়ই একটি চাঁদরে আবৃত করে) শুয়ে ছিলেন। কায়িফ (তাদের শুধু পা দেখে বলে উঠলেন, এ পাগুলো একটি অন্যটির অংশ। রাবী বলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে (কায়িফের মন্তব্যটি) আয়িশা (রাঃ) কেও অবহিত করলেন (1) ১ ব্যাপার ছিল এই যে, জাহেলী যুগে উসামা (রাঃ) এর পিতৃত্ব সম্পর্কে কেউ কেউ সন্দেহ পোষণ করত, যেহেতু উসামা (রাঃ) ছিলেন কাল এবং তার পিতা যায়েদ (রাঃ) ছিলেন গৌরবর্ণ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনন্দিত হলেন একারণে যে, যেহেতু তারা কাফিরদের মন্তব্যে বিশ্বাসী ছিল। সেহেতু তার বক্তব্যে তাদের সন্দেহ ও ভ্রান্ত ধারণা দূরীভূত হয়ে গেল।
হাদিস নং - ৩৪৬৪
কুতায়বা ইবনু সাইদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাখযুম গোত্রের চুরির ঘটনায় কুরাইশগণ ভীষণভাবে চিন্তিত হয়ে পড়ল। তারা পরষ্পরকে বলাবলি করতে লাগল, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর প্রিয় পাত্র উসামা ইবনু যায়েদ ব্যতীত কে আর তাঁল নিকট (সুপারিশ করার) সাহস করবে?
হাদিস নং - ৩৪৬৫
আলী (রহঃ) আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাখযুম গোত্রের জনৈকা মহিলা চুরি করেছিল। তখন তারা বলল, দেখত, এ ব্যাপারে কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সাথে কথা বলতে পারবে? কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ-ই কথা বলার সাহস করতে করল না। উসামা (রাঃ) এ ব্যাপারে তাঁর সাথে আলোচনা করলেন। তখন তিনি বললেন, বনী ইসরাইল তাদের সভ্রান্ত পরিবারের কেউ চুরি করলে তাকে (বিচার না করে) ছেড়ে দিত। এবং দূর্বল কেউ চুরি করলে তার হাত কেটে দিত। (আমার কন্যা) ফাতিমা (রাঃ) (চুরির অপরাধে দোষিণী) হলেও (আল্লাহ্ তাঁর হিফাযত করুন) তবে অবশ্যই আমি তাঁর হাত কেটে ফেলতাম।
হাদিস নং - ৩৪৬৬
হাসান ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু দিনার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এক ব্যাক্তিকে দেখতে পেলেন যে, মসজিদের এক কোণে তার কাপড় টেনে নিচ্ছে, তিনি বললেন, দেখতো লোকটি কে? সে যদি আমার নিকট থাকত (তবে আমি তাকে সদুপদেশ দান করতাম) তখন একজন তাঁকে বলল, হে আবূ আবদুর রাহমান, আপনি কি তাকে চিনতে পেরেছেন। তিনি উসামা (রাঃ)- এর পুত্র মুহাম্মদ। এ কথা শুনে ইবনু উমর (রাঃ) মাথা নীচু করে দু’হাত মাটি আছাড়াতে লাগলেন এবং বললেন, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখলে নিশ্চয়ই আদর করতেন।
হাদিস নং - ৩৪৬৭
মূসা ইবনু ইসমাইল (রহঃ) উসামা ইবনু যায়েদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -তাঁকে এবং হাসান (রাঃ)-কে এক সাথে (কোলে) তুলে নিতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ্! তুমি এদের ভালবাস। আমিও এদেরকে ভালবাসি। মু’আইয (রহঃ) উসামা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম (হারমালা) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন সে আবদুল্লাহ ইবনু উমরের (রহঃ) এর সঙ্গে ছিল। তখন (উসামা (রাঃ) এর বৈপত্রিয়) ভাই হাজ্জাজ ইবনু আয়মান (মস্জিদে) প্রবেশ করল, এবং সালাত (নামায/নামাজ) রুকু ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করেনি। ইবনু উমর (রাঃ) তাকে বললেন, সালাত (নামায/নামাজ) পুনরায় আদায় কর। যখন সে চলে গেল তখন ইবনু উমর (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যাক্তি কে? আমি বললাম, হাজ্জাজ ইবনু আয়মন ইবনু উম্মে আয়মন। ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাকে দেখতেন তবে স্নেহ্ন করতেন। তারপর এ পরিবারের প্রতি রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর কত ভালবাসা ছিল তা বর্ণনা করতে লাগালেন এবং উম্মে আয়মানের সন্তানদের কথাও বললেন। আবূ আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন আমার কোন কোন সাথী আরো বলেছেন যে উম্মে আয়মন (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কে শিশুকালে কোলে নিয়েছেন। হাজ্জাজ ইবনু আয়মন ইবনু উম্মে আয়মন (রহঃ) আর আয়মান ছিলেন উসামা (রহঃ) এ বৈপিত্রীয় ভাই হাজ্জাজ হলেন এক আন্সারী ব্যাক্তি। ইবনু উম্মে (রাঃ) তাকে দেখলেন যে সালাত (নামায/নামাজ) রুকু সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করছেন না। তখন তিনি তাকে বললেন, পুনরায় সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী (রহঃ)) বলেন সুলায়মান ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) হারমালা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ছিলেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর ধাত্রী।
হাদিস নং - ৩৪৬৮
ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবনকালে কেউ কোন স্বপ্ন দেখলে, তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর নিকট বর্ণনা করতেন। আমিও স্বপ্ন দেখার জন্য আকাঙ্খা করতাম এ উদ্দেশ্যে যে তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর নিকট বর্ণনা করব। আমি ছিলাম অবিবাহিত একজন যুবক। তাই আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ের যুগে মসজিদেই ঘুমাতাম। এক রাতে স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে, যেন দুজন ফিরিশতা আমাকে ধরে জাহান্নামের নিকট নিয়ে গেলেন। আমি দেখতে পেলাম যে কুপের মত দু’টি উঁচু পাড়ও রয়েছে। তাতে এমন এমন মানুষ রয়েছে যাদেরকে আমি চিনতে পারলাম। তখন আমি (জাহান্নামের আগুন থেকে বার বার আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি) বার বার পাঠ করতে লাগলাম। তখন তৃতীয় একজন ফিরিশতা তাদের দু’জনের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তিনি আমাকে বললেন, ভয় করোনা (এরপর আমি জেগে গেলাম) স্বপ্নটি (আমার বোন) হাফসা (রাঃ)-এর নিকট বললাম। তিনি তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বর্ণনা করেন। তিনি বললেন, আবদুল্লাহ অত্যন্ত ভাল মানুষ। যদি সে রাতে (তাহাজ্জুদের) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করত (তবে আরও ভাল হত) (তাঁর পুত্র) সালিম (রহঃ) বলেন, এরপর আবদুল্লাহ (রাঃ) রাতে অতি অল্প সময়ই ঘুমাতেন।
হাদিস ৩৪৬৯
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলাইমান (রহঃ) হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট বলেছেন যে, আবদুল্লাহ অত্যন্ত নেক ব্যাক্তি।
হাদিস নং - ৩৪৭০
মালিক ইবনু ইসমাইল (রহঃ) আলকামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গমন করলাম (সেখানে পৌছে) দু’রাকাত (নফল) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে দু’আ করলাম, হে আল্লাহ্, আপনি আমাকে একজন নেক্কার সাথী মিলিয়ে দিন। তারপর আমি একটি জামাআতের নিকট এসে তাদের নিকট বসলাম। তখন একজন বৃদ্ধ লোক এসে আমার পাশেই বসলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? তারা উত্তরে বললেন, ইনি আবূ দারদা (রাঃ)। আমি তখন তাঁকে বললাম, একজন নেক্কার সাথীর জন্য আমি আল্লাহর নিকট দু’আ করেছিলাম। আল্লাহ্ আপনাকে মিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, তুমি কোথাকার বাসিন্দা? আমি বললাম, আমি কুফার বাসিন্দা। তিনি বললেন, (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর জুতা, বালিশ এবং উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পাত্র হন কারী সর্বক্ষণের সহচর ইবনু উম্মে আবদ (রাঃ) কি তোমাদের ওখানে নেই? তোমাদের মাঝে কি ঐ ব্যাক্তি নেই যাকে আল্লাহ্ শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছেন? (অর্থাৎ আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) তোমাদের মধ্যে কি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর গোপন তথ্য অভিজ্ঞ লোকটি নেই? যিনি ব্যতীত অন্য কেউ এই রহস্য জানেন না (অর্থাৎ হুযায়ফা (রাঃ) তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূরা কি ভাবে পাঠ করতেন? তখন আমি তাঁকে সূরাটি পড়ে শোনালামঃ
হাদিস নং - ৩৪৭১
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ইবরাহীম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আকামা (রাঃ) একবার সিরিয়ায় গেলেন। যখন মসজিদে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ, আমাকে একজন নেককার সাথী মিলিয়ে দিন। তাখন তিনি আবূ দারদা (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে বসলেন, তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করণে, তুমি কোকার বাসিন্দা। তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে কি ঐ ব্যাক্তিটি নেই যাঁকে আল্লাহ্ তাঁর রাসূল) এর জবানীতে শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ আম্মার ইবনু ইয়াসির) (রাঃ)। আমি বললাম, হাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মধ্যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোপন তথ্যভিজ্ঞ ব্যাক্তিটি কি নেই যিনি ব্যতীত অন্য কেউ এ সব গোপন রহস্যাদি জানেন না? অর্থাৎ হুযায়ফা (রাঃ)। আমি বললাম, হাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন তোমাদের মধ্যে কি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মিসওয়াক ও সামান বহনকারী (নিত্য সহচর আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)) নেই? আমি বললাম, হাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, (এভাবে পড়ার কারণে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাঃ) থেকে যেভাবে শুনেছিলাম এরা (সিরিয়াবাসী) তা থেকে আমাকে সরিয়ে দেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।
হাদিস নং - ৩৪৭২
আমর ইবনু আলী (রাঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন আমীন (অত্যন্ত বিশ্বস্ত) বক্তি থাকেন আর আমাদের এই উম্মতের মধ্যে আমীন ব্যাক্তি হচ্ছে আবূ উবাইদা ইবনু জাররাহ (রাঃ)।
হাদিস নং - ৩৪৭৩
মুসলিম ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজরানবাসীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন; আমি (তোমাদের ওখানে) এমন এক ব্যাক্তিকে পাঠাব যিনি হবেন অত্যন্ত আমীন ও বিশ্বস্ত। একথা শুনে সাহাবয়ে কেরাম আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করতে লাগলেন। পরে তিনি আবূ উবাইদা (রাঃ)কে পাঠালেন।
হাদিস নং - ৩৪৭৪
সা’দ্কা ইবনু ফায্ল) (রহঃ) আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মিন্বরের উপর বলতে শুনেছি, ঐ সময় হাসান (রাঃ) তাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার উপস্থিত লোকদের দিকে আবার হাসান (রাঃ)-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমার এ সন্তান।
হাদিস নং - ৩৪৭৫
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) উসামা ইবনু যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এবং হাসান (রাঃ)-কে এক সাথে কোলে তুলে নিয়ে বলতেন, হে আল্লাহ্! আমি এদের দু’জনকে মহববত করি, আপনিও এদেরকে মহববত করুন। অথবা এরূপ কিছু বলেছেন।
হাদিস নং - ৩৪৭৬
মুহাম্মদ ইবনু হুসাইন ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উবায়দুল্লাহ ইবনু যিয়াদের সম্মুখে হুসাইন (রাঃ)-এর (বিচ্ছেদকৃত) মস্তক আনা হল এবং একটি বড় পাত্রে তা রাখা হল। তখন ইবনু যিয়াদ তাঁর (নাকে মুখে) খুচাতে লাগল এবং তাঁর রূপ লাবণ্য সম্পর্কে কটুক্তি করল। আনাস (রাঃ) বললেন, (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর পরিবারবর্গের মধ্যে) হুসাইন (রাঃ) গঠন ও আকৃতিতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অবয়বের সর্বাধিক সা’দৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। (শাহাদাত বরণকালে) তাঁর চুল ও দাঁড়িতে ওয়াসমা (এক প্রকার পাতার রস) দ্বারা কলপ লাগানো ছিল।
হাদিস নং - ৩৪৭৭
হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হাসানকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাঁধের উপর দেখেছি। তখন তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি, তুমিও তাকে ভালবাস।
হাদিস নং - ৩৪৭৮
আবদান (রহঃ) উকবা ইবনু হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ বকর (রাঃ)-কে দেখলাম, তিনি হাসান (রাঃ)-কে কোলে তুলে নিলেন এবং বলতে লাগলেন, এ-ত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সদৃশ, আলীর সদৃষ নয়। তখন আলী (রাঃ) (নিকটেই দাঁড়িয়ে) হাঁসছিলেন।
হাদিস নং - ৩৪৭৯
ইয়াহইয়া ইবনু মায়ীন ও সাদাকা (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) বললেন, মুহাম্মদ -এর সন্তুষ্টি তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্জন কর।
হাদিস নং - ৩৪৮০
ইব্রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরিবারে হাসান ইবনু আলী (রাঃ)-এর চেয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধিক সা’দৃশ্যপূর্ণ আর কেউ ছিলেন না। আবদুর রাযযাক (রহঃ) আনাস থেকে অনুরূপ বর্ণিত।
হাদিস নং - ৩৪৮১
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাকে ইরাকের জনৈক ব্যাক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইহরামের অবস্থায় মশা-মাছি মারা জায়েয আছে কি? তিনি বললেন, ইরাকবাসী মশা-মাছি মারা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে অথচ তারা রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নাতীকে হত্যা করছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হাসান ও হুসাইন (রাঃ) আমার কাছে দুনিয়ার দুটি পুষ্প বিশেষ।
হাদিস নং - ৩৪৮২
আবূ নু’আঈম (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলতেন, আবূ বকর (রাঃ) আমাদের নেতা এবং মুক্ত করেছেন আমাদের একজন নেতা বিলাল (রাঃ)-কে।
হাদিস নং - ৩৪৮৩
ইবনু নুমাইর (রহঃ) কায়েস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বিশাল (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ)-কে বললেন, আপনি যদি আপনার ব্যাক্তিগত কাজের জন্য আমাকে ক্রয় করে থাকেন কবে আপনার খেদমতেই আমাকে রাখুন আর যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের (আযাদ করার) আশায় আমাকে ক্রয় করে থাকেন, তাহলে আমাকে আল্লাহ্ তা’আলার ইবাদত বন্দেগী করার সুযোগ দান করুন।
হাদিস নং - ৩৪৮৪
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্, তাকে হিকমত শিক্ষা দান করুন।
হাদিস নং - ৩৪৮৫
আবূ মামার (রহঃ) আবদুল ওয়ারিস (রহঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এ কথাটিও বলেছিলেন) ইয়া আল্লাহ্, তাকে কিতাবের (কুরআনের) জ্ঞান দান করুন। মূসা (রাঃ) খালিদ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমার বুখারী (রহঃ) বলেন অর্থ নবুওয়াতের বিয়ষ ব্যতিত অন্যান্য বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছা।
হাদিস নং - ৩৪৮৬
আহম্মদ ইবনু ওয়াকিদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী যায়েদ ইবনু হারিসা) জাফর ইবনু আবূ তালিব) ও (আবদুল্লাহ) ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-এর মৃত্যু সংবাদ যুদ্ধক্ষেত্রে আসার পূর্বেই আমাদিগকে শুনিয়ে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যায়েদ (রাঃ) পতাকা ধারণ করে শাহাদাত বরণ করেছেন
হাদিস নং - ৩৪৮৭
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) মাসরূক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর মজলিসে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর আলোচনা হলে তিনি বললেন, আমি এই ব্যাক্তিকে ঐদিন থেকে অত্যন্ত ভালবাসি যেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, তোমরা চার ব্যাক্তি থেকে কুরআন শিক্ষা কর, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ সর্বপ্রথম তাঁর নাম উল্লেখ করলেন, আবূ হুযায়ফা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম সালিম, উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে। শেষোক্ত দু’জনের মধ্যে কার নাম আগে উল্লেখ করছিলেন শুধু এ কথাটুকু আমার স্মরণ নেই।
হাদিস নং - ৩৪৮৮
হাফস ইবনু উমর (রহঃ) মাসরূক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগতভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অশ্লীল ভাষী ছিনে না; তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যাক্তই আমার সর্বাধিক প্রিয় যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি আরো বলেছেন, তোমরা চার ব্যাক্তির নিকট হতে কুরআন শিক্ষা কর, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, সালিম মাওলা আবূ হুযায়ফা, উবাই ইবনু কা’ব ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)।
হাদিস নং - ৩৪৮৯
মূসা (রহঃ) আলকামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সিরিয়া গেলাম, মস্জিদে দু‘রাকআত (নফল সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে দু‘আ করলাম, হে আল্লাহ, আমাকে একজন সৎ সাথী মিলিয়ে দিন। তখন আমি বললাম, আশা করি আমার দু‘আ কবুল হয়েছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোন স্থানের বাসিন্দা? আম বললাম, আমার ঠিকানা কুফায়। তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জুতা, বালিস ও উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পাত্র বহনকারী (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)) কি বিদ্যমান নেই? তোমরেদ মাঝে ঐ ব্যাক্তি কি নেই, যাকে শয়তান থেকে নিরাপদ করে দেয়া হয়েছে? (অর্থাৎ আম্মার (রাঃ))। তোমাদের মাঝে কি গোপন তথ্যভিজ্ঞ ব্যাক্তিটি (হুযায়ফা (রাঃ)) নেই, যিনি ব্যতীত এসব গোপন রহস্য অন্য কেউ জাননা। (আমি বললাম, আছেন) তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইবনু মাসউদ (রাঃ) কিভাবে পড়েন? আমি পড়লাম, এভাবে পড়েন। তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সুরাটি সরাসরি এভাবে পড়তে শিখিয়েছেন। কিন্তু এসব লোক বার বার বলে আমাকে এ থেকে বিচ্যুতি ঘটানোর উপক্রম করেছে।
হাদিস নং - ৩৪৯০
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হুযায়ফা (রাঃ)-কে এমন এক ব্যাক্তির সন্ধান দিতে অনুরোধ করলাম যার আকার আকৃতি, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার এবং স্বভাব-চরিত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সর্বাধিক সা’দৃস্য আছে, আমরা তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করব। হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, আকার-আকৃতি, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার এবং স্বভাব-চরিত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সর্বাধিকাদৃশ্য রাখেন এমন ব্যাক্তি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউ (রাঃ) ব্যতীত অন্য কাউকে আমি জানিনা।
হাদিস নং - ৩৪৯১
মুহাম্মদ ইবনু আলা (রহঃ) আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা আশআরী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান থেকে মদিনায় আগমন করি এবং বেশ কিছুদিন মদিনায় অবস্থান করি। তখন আমরা মনে করতাম যে, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারেরই একজন সদস্য। কেননা আমরা তাঁকে এবং তাঁর মাকে অহরহ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে যাতায়াত করতে দেখতাম।
হাদিস নং - ৩৪৯২
হাসান ইবনু বিশর (রহঃ) ইবনু আবূ মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মু‘আবিয়া (রাঃ) ইশার সালাত (নামায/নামাজ)-এর পর এক রাকআত মিলিয়ে বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। তখন তাঁর নিকট ইবনু আববাসের আযাদকৃত গোলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইবনু আববাস (রাঃ)-এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করেন, তখন ইবনু আববাস (রাঃ) বললেন, তাঁকে কিছু বলোনা, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য লাভে ধন্য হয়েছেন।
হাদিস নং - ৩৪৯৩
ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ) ইবনু আবূ মুলায়কা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, ইবনু আববাস (রাঃ) কে বলা হলে, আপনি আমীরুল মু’মিনীন মু‘আবিয়া (রাঃ)এর সাথে এ বিষয় আপ করবেন কি? যেহেতু তিনি বিতর সালাত (নামায/নামাজ) এক রাকআত মিলিয়ে আদায় করেছেন। ইবনু আববাস বললেন, তিনি (তাঁর দৃষ্টিতে) ঠিকই করেছেন, কেননা তিনি নিজেই একজন ফকীহ্।
হাদিস নং - ৩৪৯৪
আমর ইবনু আববাস (রহঃ) মু‘আবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা এমন এক সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ে কর, আমরা (দীর্ঘদিন) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্য লাভ করেছি আমরা তাঁকে তা আদায় করতে দেখিনি বরং তিনিএ দু’রাকাআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ আসরের পর দু’রাকআত (নফল)।
হাদিস নং - ৩৪৯৫
আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফাতিমা আমার (দেহের অংশ। যে তাঁকে অসন্তুষ্ট করল সে আমাকেই অসন্তুষ্ট করল।
হাদিস নং - ৩৪৯৬
ইয়াহ্ইয়া ইবনু মায‘আ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে রোগে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত লাভ করেন সে সময়ে তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) কে ডেকে আনলেন এবং তাঁর সাথে চুপে চুপে কিছু বললেন। এতে ফাতিমা (রাঃ) কেঁদে দিলেন। এরপর আবার কাছে ডেকে এনে তার সাথে চুপে চুপে কিছু বললেন। এতে তিনি হেসে দিলেন। আয়িশা (রাঃ)বলেন, আমি এ ব্যাপারে ফাতিমা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে চুপে চুপে অবহিত করলেন যে তিনি এ রোগে ওফাত লাভ করবেন। এতে আমি কেঁদে ছিলাম। তারপর আবার আমাকে চুপে চুপে জানালেন যে আমি তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রথম ব্যাক্তি যে তাঁর সাথে মিলিত হব। এতে আমি হেসে ছিলাম।
হাদিস নং - ৩৪৯৭
ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদিন) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়িশা, জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাকে সালাম বলেছেন। আমি উত্তরে বললাম, ‘‘ওয়া আলাইহিস্ সালাম ওয়া রাহামতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’’। আপনি যা দেখতে পান (জিবরাঈলকে) আমি তা দেখতে পাই না। এ কথা দ্বারা তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বুঝিয়েছেন।
হাদিস নং - ৩৪৯৮
আদম ও আমর (রহঃ) আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষদের মধ্যে অনেকেই কামিল হয়েছে, কিন্তু মহিলাদের মধ্যে মারইয়াম বিনতে ইমরান (ঈসা আলাইহিস্ সালামের মাতা)ও ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া (রহঃ) ব্যতীত অন্য কেউ তাদের মত কামিল হননি। আর আয়িশা (রাঃ)-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য মহিলাদের উপর এমন যেমন সারীদ (গোশত এবং রুটি দ্বারা তৈরী খাদ্য বিশেষ) এর শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর উপর।
No comments:
Post a Comment