বুখারী শরীফ সব খণ্ড
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
অধ্যায় - ৫০ - আম্বিয়া কিরাম (আ.) - ৫
( হাদিস নং - ৩৪৯৯-৩৬০০ = মোট ১০২ টি হাদিস)
হাদিস নং - ৩৪৯৯
আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, আয়িশা (রাঃ)-এর মর্যাদা মহিলাদের উপর এমন যেমন সারীদের মর্যাদা অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর উপর।
হাদিস নং - ৩৫০০
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আয়িশা (রাঃ) যখন (মৃত্যু) রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন। তখণ ইবনু আববাস (রাঃ) এসে বললেন, হে উম্মূল মু’মিনীন, আপনি সত্য পূর্বগামী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট যাচ্ছেন।
হাদিস নং - ৩৫০১
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবূ ওয়াইল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রাঃ)-এর স্বপক্ষে জিহাদে সাহায্য করার জন্য লোক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আম্মার ও হাসান (রাঃ)-কে কুফায় প্রেরণ করেন। আম্মার (রাঃ) তাঁর ভাষণে একদিন বললেন, এ কথা আমি ভালভাবেই জানি যে, আয়িশা (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুনিয়া ও আখিরাতের সম্মানিত সহধর্মিণী। কিন্তু এখন আল্লাহ্ তোমাদেরকে পরীক্ষা করছেন যে তোমরা কি আলী (রাঃ) এর আনুগর্ত করবে না, আয়িশা (রাঃ) এর আনুগত্য করবে।
হাদিস নং - ৩৫০২
উবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (তাঁর বোন) আসমা (রাঃ)-এর নিকট থেকে একটি হার চেয়ে নিয়েছিলেন। পরে হারটি হারিয়ে যায়। এর অনুসন্ধানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক সাহাবীকে পাঠালেন। ইতিমধ্যে সালাত (নামায/নামাজ)-এর সময় হয়ে গেলে তাঁরা পানির অভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) ছাড়াই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তাঁরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে এই বিষয়ে অভিযোগ পেশ করলেন। তখন তায়াইম্মুমের আয়াত নাযিল হল। উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) বললেন, (হে আয়িশা) আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম প্রতিদানে পুরষ্কৃত করুন। আল্লাহর কসম! যখনই আপনি কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তখনই আল্লাহ তা’আলা এর সমাধান করে দিয়েছেন এবং মুসলমানদের জন্য এর মধ্যে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।
হাদিস নং - ৩৫০৩
উবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যু রোগে আক্রান্ত তখন (পূর্বরীতি অনুযায়ী) সহধর্মিণীগণের ঘরে ঘরে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান করতে থাকেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রাঃ) এর ঘরে অবস্থানের আগ্রহে এ কথাটি বলতেন, “আগামীকাল আমি কার ঘরে থাকব? আগামীকাল আমি কার ঘরে থাকব? আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার ঘরে অবস্থানের নির্ধারিত দিনই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন।
হাদিস নং - ৩৫০৪
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহ্হাব (রহঃ) উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে হাদীয়া প্রদানের জন্য আয়িশা (রাঃ)-এর গৃহে তাঁর অবস্থানের দিন তালাশ করতেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, একদিন আমার সতীনগণ উম্মে সালামা (রাঃ) এর নিকট সমবেত হয়ে বললেন, হে উম্মে সালামা। আল্লাহর কসম, লোকজন তাদের হাদীয়াসমূহ প্রেরণের জন্য আয়িশা (রাঃ)-এর গৃহে অবস্থানের দিন তালাশ করেন। আয়িশা (রাঃ) এর ন্যায় আমরাও কল্যাণ আকাঙক্ষা করি। আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলুন, তিনি যেন লোকদের বলে দেন, তারা যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন যেখানেই অবস্থান করেন সেখানেই তারা হাদীয়া পাঠিয়ে দেন। উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলেন। উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কথা শুনে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পরে আমার গৃহে অবস্থানের জন্য পুনরায় আসলে আমি ঐ কথা তাঁকে বলি। এবারও তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তৃতীয়বারেও আমি ঐ কথা তাঁকে বললাম, তিনি বললেন, হে উম্মে সালামা! আয়িশা (রাঃ)-এর ব্যাপারে তোমরা আমাকে কষ্ট দিবে না। আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্যে আয়িশা (রাঃ) ব্যতীত অন্য কারো শয্যায় শায়িত অবস্থায় আমার উপর ওহী নাযিল হয়নি।
হাদিস নং - ৩৫০৫
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) গায়লান ইবনু জারীর (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমা আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাদের আনসার নামকরণ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি? এ নাম কি আপনারা করেছেন না আল্লাহ্ আপনাদের এ নামকরণ করেছেন? আনাস (রাঃ) বললেন, রবং আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের এ নামকরণ করেছেন। (গায়লান (রহঃ) বলেন)আমরা (বসরায়) যখন আনাস (রাঃ)-এর নিকট যেতাম, তখন তিনি আমাদেরকে আনসারদের গুণাবলী ও কীর্তিসমূহ বর্ণনা করে শোনাতেন। তিনি আমাকে অথবা আয্দ গোত্রের এক ব্যাক্তিকে লক্ষ্য করে বলতেন, তোমার গোত্র অমুক দিন অমুক (কৃতিত্বপূর্ণ) কাজ করেছেন, অমুক দিন অমূক(সাহসীকতা পূর্ণ) কাজ করেছেন।
হাদিস নং - ৩৫০৬
উবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বু’আস যুদ্ধ (যা আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে সংঘঠিত হয়ে দীর্ঘ একশ বিশ বছর স্থায়ী ছিল) এমন একটি যুদ্ধ ছিল, যা আল্লাহ তা’আলা (মদিনার পরিবেশকে) তাঁর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুকূল করার জন্য) মদিনা আগমনের পূর্বেই ঘটিয়ে ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করলেন তখন সেখানকার সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ নানা দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিগণ এ যুদ্ধে নিহত ও আহত হয়েছিল। তাদের ইসলাম গ্রহণকে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রাসূল) এর জন্য অনুকূল করে দিয়েছিলেন।
হাদিস নং - ৩৫০৭
আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) আবূ তাইয়্যাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, মক্বা বিজয়ের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদেরকে মালে গনীমত দিলে কতিপয় আনসার বলেছিলেন যে, এ বড় আশ্চার্যের বিষয় যে, কুরাইশদের আমাদের গনীমতের মাল দিলেন অথচ আমাদের তরবারী থেকে তাদের রক্ত এখনও ঝরছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ কথা পৌছলে তিনি আনসারদেরকে ডেকে বললেন, আমি তোমাদের থেকে যে কথাটি শুনতে পেলাম, সে কথাটি কি ছিল? যেহেতু তাঁরা মিথ্যা কথা বলতেন না, সেহেতু তাঁরা বললেন, আপনার নিকট যা পৌছেছে তা সত্যই। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে লোকজন গনীমতের মাল নিয়ে তাদের ঘরে প্রত্যাবর্তন করবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূল কে নিয়ে নিজ ঘরে প্রত্যাবর্তন করবে। যদি আনসারগণ উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলে তবে আমি আনসারদের উত্যকা বা গিরিপথ দিয়েই চলব।
হাদিস নং - ৩৫০৮
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা তিনি বলেছেন আবূল কাসিম বলেন, আনসারগণ যদি কোন উপত্যকা বা গিরিপথে চলে তবে আমি আনসারদের উপত্যকা দিয়েই চলব। যদি হিজরত (এর বিধান) না হত, তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথায় কোন অত্যুক্তি করেন নাই। আমার মাতা-পিতা তাঁর উপর কুরবান হউক তারা তাঁকে আশ্রয় দিয়েছেন, সর্বতোভাবে সাহায্য-সহায়তা করেছেন। অথবা এরূপ কিছু বলেছেন।
হাদিস নং - ৩৫০৯
ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মুহাজিরগণ মদিনায় আগমন করলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান ইবনু আউফ ও সা’দ ইবনু রাবী (রাঃ) এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দিলেন। তখন তিনি (সা’দ (রাঃ)) আবদুর রাহমান (রাঃ) কে বললেন, আনসারদের মধ্যে আমই সবচেয়ে অধিক সম্পদশালী ব্যাক্তি। আপনি আমার সম্পদকে দু’ভাগ করে নিন। আমার দ’জন স্ত্রী রয়েছে আপনার যাকে পছন্দ হয় বলুন, আমি তাকে তালাক দিয়ে দিব। ইদ্দতান্তে আপনি তাকে বিয়ে করে নিবেন। আবদুর রাহমান (রাঃ) বললেন, আল্লাহ আপনার পরিবারে এবং সম্পদে বরকত দান করুন। (আমাকে দেখিয়ে দিন) আপনাদের (স্থানীয়) বাজার কোথায়? তারা তাঁকে বনূ কায়নুকার বাজার দেখিয়ে দিলেন। (কয়েক দিন পর) যখন ঘরে ফিরলেন তখন (ব্যবসায় মুনাফা হিসেবে) কিছু পনীর ও কিছু ঘি সাথে নিয়ে ফিরলেন। এরপর প্রত্যহ সকাল বেলা বাজার যেতে লাগলেন। একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এমতাবস্থায় আসলেন যে, তাঁর শরীর ও কাপড়ে হলুদ রং এর চিহ্ন ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ব্যাপার কি! তিনি (আবদুর রাহমান) (রাঃ) বললেন, আমি (একজন আনসারী মহিলাকে) বিয়ে করেছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তাকে কি পরিমান মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আটির পরিমান অথবা খেজুরের এক আটির ওজন পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি।
হাদিস নং - ৩৫১০
কুতায়বা (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুর রাহমান ইবনু আউফ (রাঃ) হিজরত করে আমাদের কাছে এলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সা’দ ইবনু রাবী (রাঃ) এর মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন করে দিলেন। তিনি (সা’দ) (রাঃ) ছিলেন অধিক সম্পদশালী ব্যাক্তি। সা’দ (রাঃ) বললেন, সকল আনসারগণ জানেন যে আমি তাঁদের মধ্যে অধিক বিত্তবান ব্যাক্তি। আমি অচিরেই আমার ও তোমার মাঝে আমার সম্পত্তি ভাগাভাগি করে দিব দুই ভাগে। আমার দ’জন স্ত্রী রয়েছে; তোমার যাকে পছন্দ হয় বল, আমি তাকে তালাক দিয়ে দিব। ইদ্দত পালন শেষ হলে তুমি তাকে বিয়ে করে নিবে। আবদুর রাহমান (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ আপনার পরিবার পরিজনের মধ্যে বরকত দান করুন। (এরপর তিনি বাজারে গিয়ে ব্যবসা আরম্ভ করেন) বাজার থেকে মুনাফা স্বরূপ ঘি ও পনীর সাথে নিয়ে ফিরলেন। অল্প কয়েকদিন পর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে হাজির হলেন। তখন তাঁর শরীরে ও কাপড়ে হলুদ রংয়ের চিহ্ন ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, ব্যাপার কি? তিনি বললেন, আমি একজন আনসারী মহিলাকে বিয়ে করেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাঁকে কি পরিমান মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আটির ওজন পরিমান স্বর্ণ দিয়েছি অথবা (বলেছেন) একটি আটি পরিমান স্বর্ণ দিয়েছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।
হাদিস নং - ৩৫১১
সালত ইবনু মুহাম্মদ আবূ হাম্মাম (রাঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারগণ বললেন, (হে আল্লাহর রাসূল)আমাদের খেজুরের বাগানগুলি আমাদের এবং তাদের (মুহাজিরদের) মাঝে বন্টন করে দিন। তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )বললেন, না, (ভাগ করে দেয়ার প্রয়োজন নেই।)তখন আনসারগণ (মুহাজিরগণকে লক্ষ্য করে) বললেন, আপনারা বাগানগুলির রক্ষণাবেক্ষণে আমাদের সহায়ক হউন এবং উৎপাদিত ফসলের অংশীদার হয়ে যান। মুহাজিরগণ বললেন, আমরা ইহা (সর্বান্তকরণে) মেনে নিলাম।
হাদিস নং - ৩৫১২
হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, মু’মিন ছাড়া আনসারগণকে কেউ ভালবাসবে না এবং মুনাফিক ছাড়া কেউ তাঁদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে না। যে ব্যাক্তি তাঁদেরকে ভালবাসবে আল্লাহ’তা’আলা তাকে ভালবাসবেন আর যে ব্যাক্তি তাঁদের সাথে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করবে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে ঘৃণা করবেন।
হাদিস নং - ৩৫১৩
মুসলিম ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আনসারদের প্রতি মুহব্বত ঈমানেরই নিদর্শন এবং তাঁদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা মুনাফেকীর পরিচায়ক।
হাদিস নং - ৩৫১৪
আবূ মা’মার (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আনসারদের) কতিপয় বালক-বালিকা ও মহিলাকে রাবী বলেন, আমার মনে হয়- তিনি বলেছিলেন, কোন শাদীর অনুষ্ঠান শেষে ফিরে আসতে দেখে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ্ সাক্ষী, তোমরাই আমার সবচেয়ে প্রিয়জন। একথাটি তিনি তিনবার বললেন।
হাদিস নং - ৩৫১৫
ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহীম ইবনু কাসীর (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন আনসারী মহিলা তার শিশুসহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে হাযির হলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সঙ্গে আলাপ করলেন এবং বললেন, ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, লোকদের মধ্যে তোমরাই আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়জন। একথাটি তিনি দু’বার বললেন।
হাদিস নং - ৩৫১৬
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রাঃ) যায়েদ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদিন কতিপয়) আনসার বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! প্রত্যেক নাবীরই অনুসারী ছিলেন। আমরাও আপনার অনুসারী। আপনি আমাদের উত্তরসুরিদের জন্য দু’আ করুন যেন তারা (সর্বতোভাবে) আপনার অনুসারী হয়। তিনি (আকাঙক্ষা অনুযায়ী) দু’আ করলেন। (আমর একজন রাবী বলেন) আমি এই হাদীসটি (আবদুর রামমান) ইবনু আবূ লায়লার নিকট বর্ণনা করলাম, তিনি বললেন, যায়েদ ইবনু আরকাম (রাঃ) এ ভাবেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৩৫১৭
আদম (রহঃ) আবূ হামযা (রাঃ) নামক একজন আনসারী থেকে বর্ণিত, কতিপয় আনসার (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে) বললেন, প্রত্যেক জাতির মধ্যে (তাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর) অনুসরণকারী একটি দল থাকে। ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরাও আপনার অনুসরণ করছি। আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন আমাদের পরবর্তীগন (সর্বক্ষেত্রে) আমাদের (মত আপনার একনিষ্ঠ) অনুসারী হয়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ্ তাঁদের পরবর্তীগণকে (সম্পূর্ণ) তাদের মত করে দাও। আমর (রহঃ) বলেন। আমি হাদীসটি আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লায়লা (রাঃ)-কে বললাম। তিনি বললেন, যায়েদও এইভাবে হাদীসটি বলেছেন। শুবা (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা, ইনি যায়েদ ইবনু আরকাম (রাঃ)-ই হবেন।
হাদিস নং - ৩৫১৮
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম গোত্র হল বানূ নাজ্জার, তারপর বানূ আবদুল আশহাল তারপর বনূ হারিস ইবনু কাযরাজ তারপর বানূ সায়িদা এবং আনসারদের সকল গোত্রের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। এ শুনে সা’দ (রাঃ) বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যদেরকে আমাদের উপর প্রধান্য দান করেছেন? তখন তাকে বল হল; তোমাদেরকে তো অনেক গোত্রের উপর প্রধান্য দান করেছেন। আবদুস সামাদ (রহঃ) আবূ উসাইদ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) বলেছেন।
হাদিস নং - ৩৫১৯
সা’দ ইবনু হাফস (রহঃ) আবূ উসায়দ (রাঃ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আনসারদের মধ্যে বা আনসার গোত্রগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হল বানূ নাজ্জার, বানূ আবদুল আশহাল, বানূ হারিস ও বানূ সায়িদা।
হাদিস নং - ৩৫২০
খালিদ ইবনু মাখ্লাদ (রহঃ) আবূ হুমায়দ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারদের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্র হল বানূ নাজ্জার, তারপর বানূ আবদুল আশহাল, তারপর বানূ হারিস এরপর বানূ সায়িদা। আনসারদের সকল গোত্রে রয়েছে কল্যাণ। (আবূ হুমায়দ (রহঃ) বলেন,)আমরা সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তখন আবূ উসায়দ (রাঃ) বলেন, আপনি কি শোনেননি যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের পরস্পরের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আমাদেরকে সকলের শেষ পর্যায়ে স্থান দিয়েছেন? তা শুনে সা’দ (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সাক্ষাত করে বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আনসার গোত্রগুলোকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয় হয়েছে এবং আমাদেরকে সকলেন শেষ পর্যায়ে স্থান দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, এটি কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, তোমরাও শ্রেষ্ঠদের অন্তর্ভূক্ত হয়েছ?
হাদিস নং - ৩৫২১
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) উসায়দ ইবনু হুজায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একজন আনসারী বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ, আপনি কি আমাকে অমুকের ন্যায় দায়িত্বে নিয়োজিত করবেন না? তিনি (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা আমার ওফাতের পর অপরকে অগ্রাধিকার দেওয়া দেখতে পাবে, তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে অবশেষে আমার সাথে সাক্ষাত করবে এবং তোমাদের সাথে সাক্ষাতের স্থান হল হাউযে কাওসার।
হাদিস নং - ৩৫২২
আবদুল্লাহ ইবনু (রহঃ) ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি যখন আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর সঙ্গে ওয়ালীদ ইবনু আবদুল মালিক)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বসরা থেকে দামেস্ক সফর করতে গিয়েছিলেন, তখন তিনি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনের জমি তাদের জন্য (জায়গীর হিসাবে) বরাদ্দ করার উদ্দেশ্যে আনসারদিগকে আহবান করলে তারা বললেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মুহাজির ভাইদের জন্য এরূপ জায়গীর বরাদ্দ না করা পর্যন্ত আমরা তা গ্রহণ করব না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যদি তা গ্রহণ করতে না চাও, তবে (কিয়ামতের ময়দানে) হাউযে কাওসারের নিকটে আমার সাথে সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করতে থাক। কেননা অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে, আমার পরে তোমাদের উপর অন্যদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
হাদিস নং - ৩৫২৩
আদম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ! আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন। হে আল্লাহ্! আনসার ও মুহাজিরদের মঙ্গল করুন। কাতাদা (রহঃ) আনাস (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন হে আল্লাহ! আনসারকে ক্ষমা করে দিন।
হাদিস নং - ৩৫২৪
আদম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারগণ খন্দক যুদ্ধের পরিখা খননকালে বলেছিলেন, আমরা হলাম ঐ সমস্ত লোক যারা মুহাম্মদ এর হাতে জিহাদের জন্য বায়’আত করেছি যতদিন আমরা বেঁচে থাকব। এর উত্তরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! আখিরারেত জীবনই প্রকৃত জীবন। (হে আল্লাহ!)আনসার ও মুহাজিরদের সম্মান বৃদ্ধি করে দিন।
হাদিস নং - ৩৫২৫
মুহাম্মদ ইবনু ওবায়দুল্লাহ (রহঃ) সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন পরিখা খনন করে আমাদের কাঁধে করে মাটি বহন করছিলাম, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ! প্রকৃত জীবন একমাত্র আখিরাতের জীবনই। মুহাজির ও আনসারদেরকে আপনি ক্ষমা করে দিন।
হাদিস নং - ৩৫২৬
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনৈক (ক্ষুধার্ত) ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে এল। তিনি খাদ্য দ্রব্য কিছু আছে কিনা তা জানার জন্য তাঁর সহধর্মিণীদের কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা জানালেন , আমাদের নিকট পানি ব্যতীত অন্য কিছুই নেই। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আছ যে এই (ক্ষুধার্ত) ব্যাক্তিকে মেহমান হিসাবে নিয়ে নিজের সাথে খাওয়াতে পার? তখন জনৈক আনসারী সাহাবী (আবূ তারহা (রাঃ)) বললেন আমি (পারব)। এ বলে তিনি মেহমানকে নিয়ে (বাড়িতে) গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মেহমানকে সন্মান কর। স্ত্রী বললেন, বাচ্চাঁদের আহার্য ব্যতীত আমাদের ঘরে অন্য কিছুই নেই। আনসারী বললেন, তুমি আহার প্রস্তুত কর এবং বাতি জ্বালাও এবং বাচ্চারা খাবার চাইলে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দাও। (স্বামীর কথা অনুযায়ী) সে বাতি জ্বালাল, বাচ্চাঁদেরকে ঘুম পাড়াল এবং সামান্য খাবার যা তৈরী ছিল তা উপস্থিত করল। (তারপর মেহমান সহ তারা খেতে বসলেন) বাতি ঠিক করার বাহানা করে স্ত্রী উঠে গিয়ে বাতিটি নিভিয়ে দিলেন। তারপর তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ই অন্ধকারের মধ্যে আহার করার মত শব্দ করতে লাগলেন এবং মেহমানকে বুঝাতে লাগলেন যে তারাও সঙ্গে খাচ্ছেন। তাঁরা উভয়েই (বাচ্চারা সহ) সারা রাত অভুক্ত অবস্থায় কাটালেন। ভোরে যখন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলেন, তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্ তোমাদের গতরাতের কার্যকলাপ দেখে হেসে দিয়েছেন অথবা বলেছেন খুশী হয়েছেন এবং এ আয়াত নাযিল করেছেন। (আনসারদের অন্যতম গুণ হল এই)ঃ তারা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের উপর অন্যদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম। (৫৯:৯)
হাদিস নং - ৩৫২৭
মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া আবূ আলী (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত তখন আবূ বকর ও আব্বাস (রাঃ) আনসারদের কোন একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার কালে দেখতে পেলেন যে, তাঁরা (সকলেই বসে বসে) কাঁদছেন। তাঁদের একজন জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কাঁদছেন কেন? তাঁরা বললেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমাদের মজলিস স্মরণ করে কাঁদছি। তাঁরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে আনসারদের অবস্থা বললেন, রাবী বললেন, (তা শুনে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদরের কিনারা দিয়ে মাথা বেঁধে (ঘর থেকে) বেরিয়ে আসলেন এবং মিম্বরে উঠে বসলেন। এ দিনের পর আর তিনি মিম্বরে আরোহণ করনে নি। তারপর হামদ ও সানা পাঠ করে সমবেত সাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আনসারগণের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য তোমাদিগকে নির্দেশ দিচ্ছি; কেননা তাঁরাই আমার অতি আপনজন, তাঁরাই আমার বিশ্বস্ত লোক। তারা তাঁদের উপর আরোপিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পরিপূর্ণভাবে পালন করেছে। তাঁদের যা প্রাপ্য তা তাঁরা এখনো পায়নি। তাঁদের নেক লোকদের উত্তম কার্যকলাপ সা’দরে গ্রহণ করবে এবং তাঁদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করবে।
হাদিস নং - ৩৫২৮
আহমদ ইবনু ইয়াকুব (রহঃ) ইবনু আবাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অন্তিম পীড়ায় আক্রান্তকালে) একখানা চাঁদর গায়ে জড়িয়ে, চাঁদরের দু-প্রান্ত দ’কাঁধে পেঁচিয়ে এবং মাথায় একটি কাল রঙের পাগড়ী বেঁধে (ঘর থেকে) বের হলেন এবং মিম্বরে উঠে বসলেন। হামদ ও সানার পর বললেন, হে লোক সকল, সনসংখ্যা উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে আর আনসারগণের সংখ্যা ক্রমশঃ হ্রাস পেয়ে যাবে! এমনকি তাঁরা খাদ্য-দ্রব্যে লবনের মত (সামান্য পরিমানে) পরিনত হবে। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এমন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভ করে সে ইচ্ছা করলে কারো উপকার বা অপকার করতে পারে, তখন সে যেন নেক্কার আনসারদের নেক্ কার্যাবলী কবুল করে এবং তাঁদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেয়।
হাদিস নং - ৩৫২৯
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আনসারগন আমার অতি আপনজন ও বিশ্বস্ত লোক। লোক সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে আর তাদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে। তাই তাদের নেক্কারদের উত্তম কার্যাবলী কবুল কর এবং তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দাও।
হাদিস নং - ৩৫৩০
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এক জোড়া রেশমী কাপড় হাদীয়া স্বরূপ দেওয়া হল। সাহাবা কেরাম (রাঃ) তা স্পর্শ করে কোমলতায় অবাক হয়ে গেলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর কোমলতায় তোমরা অবাক হচ্ছ? অথচ সা’দ ইবনু ম’আয (রাঃ)-এর (জান্নাতে প্রদত্ত) রুমাল এর চেয়ে অনেক উত্তম, অথবা বলেছেন অনেক মুলায়েম। হাদীসটি কাতাদা ও যুহরী (রহঃ) আনাস (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ৩৫৩১
মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) জাবির (রাঃ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ)-এর মৃত্যুতে আল্লাহ্ ত’আলার আরশ কেঁপে উঠে ছিল। আমাশ (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, একব্যাক্তি জাবির (রাঃ)-কে বলল, বারা ইবনু আযিব (রাঃ) তো বলেন, জানাযার খাট নড়েছিল। তদুত্তরে জাবির (রাঃ) বললেন, সা’দ ও বারা (রাঃ)-এর গোত্রদ্বয়ের মধ্যে কিছুটা বিরোধ ছিল, (কিন্তু এটা ঠিক নয়) কেননা, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে (আরবী শব্দ) অর্থাৎ আল্লাহর আরশ্ সা’দ ইবনু মু’আযের (মৃত্যুতে) কেঁপে উঠল বলতে শুনেছি।
হাদিস নং - ৩৫৩২
মুহাম্মদ ইবনু আর’আরা (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, কতিপয় লোক (বনী কুরায়যার ইয়াহূদীগণ) সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ)-কে সালিশ মেনে (দুর্গ থেকে) নেমে আসে (তিনি আহত ছিলেন) তাঁকে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠানো হল। তিনি গাধায় সাওয়ার হয়ে আসলেন। যখন (যুদ্ধকালীন অস্থায়ী) মস্জিদের নিকটে আসলেন, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের শ্রেষ্ঠতম ব্যাক্তি অথবা (বললেন) তোমাদের সরদার আসছেন তাঁর দিকে দাঁড়াও। তারপর তিনি বললেন, হে সা’দ! তারা (বনী কুরায়যার ইয়াহূদীগণ) তোমাকে সালিশ মেনে (দুর্গ থেকে) বেরিয়ে এসেছে। সা’দ (রাঃ) বললেন, আমি তাদের সম্পর্কে এ ফয়সালা দিচ্ছি যে, তাদের যোদ্ধাদেরকে হত্যা করা হোক এবং শিশু ও মহিলাদেরকে বন্দী করে রাখা হোক। (তাঁর ফয়সালা শুনে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ুতুমি আল্লাহ্ তা’আলার ফায়সালা অনুযায়ী ফায়সালা দিয়েছ অথবা (বলে ছিলেন) তুমি বাদশাহর (আল্লাহর) ফায়সালা অনুযায়ী ফায়সালা করেছ।
হাদিস নং - ৩৫৩৩
আলী ইবনু মুসলিম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, দু’ব্যাক্তি অন্ধকার রাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট থেকে বের হলেন। হাঠাৎ তারা তাদের সন্মুখে একটি উজ্জ্বল আলো দেখতে পেলেন। রাস্তায় তাঁরা যখন ভিন্ন হয়ে পড়লেন তখন আলোটিও তাঁদের উভয়ের সাথে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। মা’মার (রহঃ) সাবিত (রহঃ)-এর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এদের একজন উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) এবং অপরজন এক আনসারী ব্যাক্তি ছিলেন এবং আম্মদ (রহঃ) সাবিত (রহঃ)-এর মাধ্যমে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, উসায়দ ইবনু হুযায়র) ও আব্বাস ইবনু বিশর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছিলেন।
হাদিস নং - ৩৫৩৪
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, কুরআন পাঠ শিক্ষা কর চারজনের নিকট থেকেঃ ইবনু মাসউদ, আবূ হুযায়ফার আযাদকৃত গোলাম সালিম, উবাই ইবনু কা’ব) ও মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে।
হাদিস নং - ৩৫৩৫
ইসহাক (রহঃ) আবূ উসাইদ (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আনসার গোত্রগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম গোত্র হল বানূ নাজ্জার, তারপর বানূ আবদ-ই-আশহাল, তারপর বানূ হারিস ইবনু খাযরাজ তারপর বানু সায়িদা। আনসারদের সকল গোত্রের মধ্যেই খায়র ও কল্যাণ রয়েছে। তখন সা’দ ইবনু উবাদা (রাঃ) বললেন, তিনি ছিলেন প্রথম যুগের অন্যতম মুসলমান। আমার ধারণা হয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যদেরকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন (তদুত্তরে তাঁকে বল হল, আপনাদেরকে বহু গোত্রের উপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আয়িশা সিদ্দীকাহ (রাঃ)-এর বর্ণনার অর্থ এ নয় যে, তিনি ইফ্ক্-এর ঘটনার পর সৎলোক নন।
হাদিস নং - ৩৫৩৬
আবূল ওয়ালিদ (রহঃ) মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর মজলিসে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর আলোচনা চলছিল। তখন তিনি বললেন; তিনি সে ব্যাক্তি যাঁকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বক্তব্য শোনার পর থেকে আমি অত্যন্ত ভালবাসি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআন শিক্ষা কর চারজনের নিকট থেকে, আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (সর্ব প্রথম তিনি এ নামটি বললেন)। সালিম আবূ হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম, মু’আয ইবনু জাবাল ও উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)।
হাদিস নং - ৩৫৩৭
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) কে বললেন আল্লাহ, সুরা তোমাকে পড়ে শোনানোর জন্য আদেশ করেছেন। উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহ আমার নাম উচ্চারন করেছেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ। তখন তিনি (আনন্দের আতিশজ্যে) কাদলেন।
হাদিস নং - ৩৫৩৮
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে (সর্বপ্রথম) যে চার ব্যাক্তি সম্পূর্ণ কুরআনুল কারীম হিফয করেছিলেন, তাঁরা সবাই ছিলেন আনসারী। (তাঁরা হলেন) উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ), ম’আয ইবনু জাবাল (রাঃ), আবূ যায়েদ (রাঃ), যায়েদ ইবনু সাবিত (রাঃ)। কাতাদা (রাঃ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আবূ যায়েদ কে? তিনি বললেন, উনি আমার চাচাঁদের মধ্যে একজন।
হাদিস নং - ৩৫৩৯
আবূ মা’মার (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওহুদ যুদ্ধের এক পর্যায়ে সাহাবায়ে কেরাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তখন আবূ তালহা (রাঃ) ঢাল হাতে নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সন্মুখে প্রাচীরের ন্যায় অটল হয়ে দাঁড়ালেন। আবূ তালহা (রাঃ) সুদক্ষ তীরন্দায ছিলেন। অনবরত তীর ছুড়তে থাকায় তাঁর হাতে দু’ বা তিনটি ধনুক ভেঙ্গে যায়। ঐ সময় তীর ভর্তি শরাধার নিয়ে যে কেউ তাঁর নিকট দিয়ে যেতো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই বলতেন, তোমার তীরগুলি আবূ তালহার জন্য রেখে দাও। এক সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা উঁচু করে শত্রুদের অবস্থা অবলোকন করতে চাইলে আবূ তালহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার মাতা পিতা আপনার জন্য কুরবান হউক, আপনি মাথা উঁচু করবেন না। হয়ত শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তীর এসে আপনার গায়ে লাগতে পারে। আমার বক্ষ আপনাকে রক্ষা করার জন্য ঢাল স্বরূপ। আনাস (রাঃ) বলেন, ঐদিন আমি আবূ বকর (রাঃ)-এর কন্যা আয়িশা (রাঃ)-কে এবং (আমার মাতা) উম্মে সুলায়মকে দেখতে পেলাম যে, তাঁরা পরিধেয় কাপড় এতটুকু পরিমাণ তুলে ফেলেছেন যে, তাঁদের পাঁয়ের খাঁড়ু আমি দেখতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা পানির মশক ভরে নিজেদের পিঠে বহন করে এনে আহতদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। পুনরায় ফিরে গিয়ে পানি ভরে নিয়ে আহতদেরকে পান করাচ্ছিলেন। ঐ সময় আবূ তালহা (রাঃ)-এর হাত থেকে (তন্দ্রবশে) তাঁর তরবারীখানা দু’বার অথবা তিনবার পড়ে গিয়েছিল।
হাদিস নং - ৩৫৪০
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) ব্যতীত ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী কারো সম্পর্কে একথাটি বলতে শুনিনি যে, ‘নিশ্চয়ই তিনি জান্নাতবাসী’। সা’দ (রাঃ) বলেন, তাঁরই সম্পর্কে সূরা আহকাফের এ আয়াত নাযিল হয়েছেঃ “এ বিষয়ে বনী ইসরাঈলের মধ্যে থেকেও একজন সাক্ষ্য প্রদান করেছে।
হাদিস নং - ৩৫৪১
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) কায়েস ইবনু উবাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মদিনায় মস্জিদে বসা ছিলাম। তখন এমন এক ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন যার চেহারায় বিনয় ও নমরতার ছাপ ছিল। (তাঁকে দেখে) লোকজন বলতে লাগলেন, এই ব্যাক্তি জান্নাতিগণের একজন। তিনি, সংক্ষিপ্তাকারে দু’রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এলেন। আমি তাঁকে অনুসরণ করলাম এবং তাঁকে বললাম, আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করছিলেন তখন লোকজন বালাবলি করছিল যে, ইনি জান্নাতবাসগণের একজন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম কারো জন্য এমন কথা বলা উচিৎ নয়, যা সে জানেনা। আমি তোমাকে প্রকৃত ঘটনাটি বলছি কেন ইহা বলা হয়। আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবদ্দশায় একটি স্বপ্ন দেখে তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। আমি দেখলাম যে, আমি একটি বাগানে অবস্থানরত; বাগানটি বেশ প্রশস্ত, সবুজ, (সুন্দর ও শোভাময়)। বাগানের মধ্যে একটি লোহার স্তম্ভ যার নিম্নভাগ মাটিতে এবং ঊর্ধ্বভাগ আকাশ স্পর্শ করেছে; স্তম্ভের ঊর্ধ্বে একটি শক্তকড়া সংযুক্ত রয়েছে। আমাকে বলা হল, উর্ধ্বে আরোহণ কর। আমি বললাম, ইহাতো আমার সামর্থের বাইরে। তখন একজন খাদিম এসে পিছন দিক থেকে আমার কাপড় সমেত চেপে ধরে আমাকে আরোহণে সাহায্য করলেন। আমি চড়তে লাগলাম এবং উপরে গিয়ে আংটাটি ধরলাম। তখন আমাকে বলা হল, শক্তভাবে আংটাটি আঁকড়ে ধর। তারপর কড়াটি আমার হাতের মোঠায় ধারণ অবস্থায় আমি জেগে গেলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট স্বপ্নটি বললে, তিনি স্বপ্নটির (তা’বীর হিসাবে) বললেন, এ বাগান হল ইসলাম, আর স্তম্ভটি হল ইসলামের খুটিসমূহ (করনীয় মৌলিক বিষয়াদি) কড়াটি হল (কুরআনে ে উল্লেখিত) “উরুয়াতুল উস্কা” (শক্ত ও অটুট কড়া) এবং তুমি আজীবন ইসলামর উপর অটল থাকবে। (রাবী বলেন) এই ব্যাক্তি হলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)। খলীফা (রাঃ) এর স্থলে বলেছেন।
হাদিস নং - ৩৫৪২
সুলায়মান ইবনু হাবর (রহঃ) আবূ বুরদা (রহঃ) বলেন, আমি মদিনায় গেলাম; আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেব এবং একটি (মর্যাদাপূর্ণ) ঘরে থাকতে দেব। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এমন স্থানে (ইরাক) বসবাস কর, যেখানে সুদের কারবার অত্যন্ত ব্যাপক। যখন কোন মানুষের নিকট তোমার কোন প্রাপ্য থাকে আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় নগণ্যবস্তুও হাদীয়া পেশ করে তা গ্রহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। নযর (রাঃ), আবূ দাউদ (রহঃ) ও ওয়াহাব (রহঃ) শু’বাহ্ (রহঃ) থেকে শব্দটি বর্ণনা করেন নি।
হাদিস নং - ৩৫৪৩
মুহাম্মদ ও সাদাকা (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মরিয়াম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন (তৎকালীন) নারী সমাজের শ্রেষ্ঠতমা নারী। আর খাদীজা (রাঃ) (এ উম্মদের) নারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা।
হাদিস নং - ৩৫৪৪
সাঈদ ইবনু উফাইর (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কোন সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু অভিমান প্রদর্শন করিনি; যতটুকু খাদীজা (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। কেননা, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর কথা বারবার আলোচনা করতে শুনেছি, অথচ আমাকে বিবাহ করার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন। খাদীজা (রাঃ)-কে জান্নাতে মণি-মুক্তা খচিত একটি প্রাসা’দর সু-সংবাদ দেওয়ার জন্য আল্লাহ তা’আলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আদেশ করেন। কোন দিন বকরী যবেহ হলে খাদীজা (রাঃ)-এর বান্ধবীদের নিকট তাদের প্রত্যেকের আবশ্যক পরিমাণ গোশত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীয়া স্বরূপ পাঠিয়ে দিতেন।
হাদিস নং - ৩৫৪৫
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অন্য কোন সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু ঈর্ষা প্রকাশ করিনি, যতটুকু খাদীজা (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। যেহেতু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আলোচনা অধিক করতেন। তিনি (আরো) বলেন, খাদীজা (রাঃ)-এর (ইন্তেকালের) তিন বছর পর তিনি আমাকে বিবাহ করেন। আল্লাহ স্বয়ং অথবা জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আদেশ করলেন যে, খাদীজা (রাঃ)-কে জান্নাতে মণি-মুক্তা খচিত একটি প্রাসা’দর সু-সংবাদ দিন।
হাদিস নং - ৩৫৪৬
উমর ইবনু মুহাম্মদ ইবনু হাসান (রহঃ) ইসমাঈল (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আউফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা (রাঃ)-কে জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়েছিলেন কি? তিনি বললেন, হাঁ। এমন একটি সুরম্য প্রাসা’দর সু-সংবাদ দিয়েছিলেন, যে প্রাসা’দটি তেরী করা হয়েছে এমন মুতী দ্বারা যার ভিতরদেশ ফাঁকা। আর সেখানে থাকবে না হৈ হুল্লোড়, কোন প্রকার ক্লেশ ও ক্লান্তি।
হাদিস নং - ৩৫৪৭
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইসমাঈল (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আউফা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা (রাঃ) কে জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়েছিলেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এমন একটি সুরম্য প্রাসা’দর সু-সংবাদ দিয়েছিলেন, যে প্রাসা’দটি তৈরি করা হয়েছে এমন মোতি দিয়ে যার ভিতরদেশ ফাঁকা। আর সেখানে থাকবে না হৈ হুল্লোড়, কোন প্রকার ক্লেশ ও ক্লান্তি।
হাদিস নং - ৩৫৪৮
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে হাযির হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ঐ যে খাদীজা (রাঃ) একটি পাত্র হাতে নিয়ে আসছেন। ঐ পাত্রে তরকারী, অথবা খাবার দ্রব্য অথবা পানীয় ছিল। য়খন তিনি পৌছে যাবেন তখন তাঁকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকেও সালাম জানাবেন আর তাঁকে জান্নাতের এমন একটি সুরম্য প্রাসারেদ সু-সংবাদ দিবেন যার ভিতরদেশ ফাঁকা-মুতি দ্বারা তৈরী করা হয়েছে। সেখানে থাকবে না কোন প্রকার হট্টগোল; না কোন প্রকার ক্লেশ ও ক্লান্তি। ইসমাঈল ইবনু খলীল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার খাদীজার বোন হালা বিন্তে খুওয়ায়লিদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে করলেন খাদীজার অনুমতি প্রর্থনার কথা। এজন্য তিনি খুশি হয়ে বললেন, ইয়া আল্লাহ্, হালা (এর কি খবর)? আয়িশা (রাঃ) বললেন এতে আমি অভিমান করে বললাম, আপনি কি কুরায়শ বংশের লাল গন্ডধারী এক বৃদ্ধার স্মরণ করছেন, যে অনেক আগে মৃত্যু বরণ করেছে? আল্লাহ তো আপনাকে তার চেয়ে উত্তম মহিলা দান করেছেন।!
হাদিস নং - ৩৫৪৯
ইসহাক আল ওয়াসিতী (রহঃ) জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গৃহে প্রবেশ করতে কোনদিন আমাকে বাঁধা প্রদান করেন নি এবং যখনই আমাকে দেখেছেন মুচকি হাসি দিয়েছেন। জারীর (রাঃ) আরো বলেন, জাহিলী যুগে (খাস’আম গোত্রের একটি প্রতীমা রক্ষিত মন্দির) যুল-খালাসা নামে একটি ঘর ছিল। যাকে কা’বায়ে ইয়ামানী ও কা’বায়ে শামী বলা হত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি কি যুল-খালাসার ব্যাপারে আমাকে শান্তি দিতে পার? জারীর (রাঃ) বলেন, আমি আহমাস গোত্রের একশ পঞ্চাশ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে যাত্রা করলাম এবং (প্রতীমা ঘরটি) বিধ্বস্ত করে দিলাম। সেখানে যাদেরকে পেলাম হত্যা করে ফেললাম। ফিরে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সংবাদ শোনালাম। তিনি (অত্যন্ত খুশী হয়ে) আমাদের জন্য এবং আহমাস গোত্রের জন্য দু’আ করলেন।
হাদিস নং - ৩৫৫০
ইসমাঈল ইবনু খালীল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওহুদের যুদ্ধে (প্রথম দিকে) মুশরিকগণ যখন চরমভাবে পরাজিত হয়ে পড়লো, তখন ইবলিস চীৎকার করে (মুসলমানগণকে) বলল, হে আল্লাহর বান্দাগণ! পিছনের দিকে লক্ষ্য কর। তখন অগ্রবর্তী দল পিছন দিকে ফিরে (শত্রুদল মনে করে) নিজ দলের উপর আক্রমণ করে বসল এবং একে অন্যকে হত্যা করতে লাগল। এমন সময় হুযায়ফা (রাঃ) পিছনের দলে তাঁর পিতাকে দেখতে পেয়ে চীৎকার করে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর বান্দাগণ, এই যে আমার পিতা, এই যে আমার পিতা। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, তারা কেহই বিরত থাকেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে ফেলল। হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তোমাদিগকে মাফ করে দিন। আমার পিতা উরওয়া (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, এ কথার কারণে হুযায়ফা (রাঃ)-এর মধ্যে তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মঙ্গলের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল।
হাদিস নং - ৩৫৫১
মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ওহী নাযিল হওয়ার পূর্বে একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার নিম্নাঞ্চলের বালদা নামক স্থানে যায়েদ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়েলের সাথে সাক্ষাত করলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সন্মুখে আহার্য পূর্ণ একটি ‘খানচা’ পেশ করা হল। তিনি তা থেকে কছিু খেতে অস্বীকৃতি জানালেন। এরপর যায়েদ (রাঃ) বললেন, আমিও ঐ সব জন্তুর গোশত খাই না যা তোমরা তোমাদের দেব-দেবীর নামে যবাই কর। আল্লাহর নামে যবাইকৃত ছাড়া অন্যের নামে যবাই করা জন্তুর গোশত আমি কিছুতেই খাইনা। যায়েদ ইবনু ‘আমর কুরাইশের যবাইকৃত জন্তু সম্পর্কে তাদের উপর দোষারোপ করতেন এবং বলতেন; বকরীকে সৃষ্টি করলেন আল্লাহ, তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করলেন। ভূমি থেকে উৎপন্ন করলেন, তৃণ-লতা অথচ তোমরা আল্লাহ্ তা’আলার সমূহদান অস্বীকার করে প্রতিমার প্রতি সন্মান করে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করছ। মূসা (সনদসহ) বললেন, সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। মূসা (রহঃ) বলেন, আমার জানামতে তিনি ইবনু উমর (রাঃ) থেকে এ ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন যে, যায়দ ইবনু আমর সঠিক তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত দ্বীনের তালাশে সিরিয়ায় গমন করলেন। সে সময় একজন ইয়াহূদী আলেমের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি তার নিকট তাদের দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এবং বললেন, হয়ত আমি তোমাদের দ্বীনের অনুসারী হব, আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত কর। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবেনা। গ্রহণ করলে যে পরিমান গ্রহণ করবে সে পরিমান আল্লাহর গযব তোমার উপর আপতিত হবে। যায়েদ বললেন, আমি তো আল্লাহর গযব থেকে পালিয়েআসছি। আমি যথাসাধ্য আল্লাহর সামান্যতম গযবকেও আমি বহন করব না। আর আমার ইহা বহনের শক্তি-সামর্থ্য আছে? তুমি কি আমাকে এ ছাড়া অন্য কোন পথের সন্ধান দিতে পার? সে বলল, আমি তা জানিনা, তবে তুমি দ্বীনে হানীফ গ্রহণ করে নাও। যায়েদ জিজ্ঞাসা করলেন, (দ্বীনে) হানীপ কি? সে বলল, তাহল ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দ্বীন। তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না নাসারাও ছিলেন না। তিনি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করতেন না। তখন যায়েদ বের হলেন এবং তাঁর সাথে একজন খৃষ্টান আলিমের সাক্ষাত হল। ইয়াহূদী ‘আলীমের নিকট ইতিপূর্বে তিনি যা যা বলেছিলেন তার কাছেও তা বললেন। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবেনা। তিনি বললেন, তুমি আমাদের দ্বীন গ্রহণ করবে। গ্রহণ করলে যে পরিমান গ্রহণ করবে সে পরিমান আল্লাহর লা’নত তোমার উপর আপতিত হবে। যায়েদ বললেন, আমি তো আল্লাহর লা’নত থেকে পালিয়েএসেছি এবং আমি আল্লাহর লা’নত ও গযবের সামান্যতম অংশ বহন করতে রাযী নই, এবং আমি তা বহনের শক্তিও রাখি? তুমি কি আমাকে এছাড়া অন্য কোন পথের সন্ধান দেবে। সে বলল, আমি অন্য কিছু জানিনা। শুধু এতটুকু বলতে পারি যে, তুমি দ্বীনে হানীফ গ্রহণ কর। তিনি বললেন, হানীফ কী? উত্তরে তিনি বললেন, তাহল ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দ্বীন, তিনি ইয়াহূদীও ছিলেন না এবং খৃষ্টানও ছিলেন না এবং আল্লাহ্ ছাড়া আর কারো ইবাদত করতেন না। যায়েদ যখন ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তাদের মন্তব্য জানতে পারলেন, তখন তিনি বেড়িয়ে পড়ে দু’হাত উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ্! আমি তোমাকে সাক্ষী রেখে বলছি আমি দ্বীনে ইব্রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উপর আছি। নায়স (রহঃ) বলেন হিশাম তাঁর পিতাসূতে তিনি আসবা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে লিখেছেন যে, তিনি (আসমা) বলেন, আমি দেখলাম যায়েদ ইবনু আমর ইবনু নুফায়লকে কা’বা শরীফের দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন, হে কুরাইশ গোত্র, আল্লাহর কসম, আমি ব্যতীত তোমাদের কেউ-ই দ্বীনে ইব্রাহীমের উপর নেই। আর তিনিত যেসব কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার জন্য নেওয়া হত তাদেরকে তিনি বাঁচাবার ব্যবস্থা করতেন। যখন কোন লোক তার কন্যা সন্তানকে হত্যা করার জন্য ইচ্ছা করত, তখন তিনি এসে বলতেন, হত্যা করো না আমি তার জীবিকার ব্যবস্থার ব্যয়ভার গ্রহণ করবো। এ বলে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসতেন। শিশুটি বড় হলে পর তার পিতাকে বলতেন, তুমি যদি তোমার কন্যাকে নিয়ে যেতে চাও, তাহলে আমি দিয়ে দেব। আর তুমি যদি নিতে ইচ্ছুক না হও, তবে আমই –এর যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে থাকব।
হাদিস নং - ৩৫৫২
মাহমূদ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কা’বা গৃহ পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আব্বাস (রাঃ) (অন্যদের সাথে) পাথর বয়ে আনছিলেন। আব্বাস (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেন, তোমার লুঙ্গিটা কাঁধের উপর রাখ, পাথরের ঘর্ষণ হতে তোমাকে রক্ষা করবে। (লুঙ্গিটি খোলার সাথে সাথে) তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পরে গেলেন। তাঁর চোখ দু’টি আকাশের দিকে নিবিষ্ট ছিল। (কিছুক্ষন পর) তাঁর চেতনা ফিরে এল, তখন তিনি বলতে লাগলেন, আমার লুঙ্গি দাও। আমার লুঙ্গি দাও। তৎক্ষণাৎ তাঁর লুঙ্গি পরিয়ে দেওয়া হল।
হাদিস নং - ৩৫৫৩
আবূ নু’মান (রহঃ) ‘আমর ইবনু দীনার ও ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে কা’বা গৃহের চতুষ্পার্শ্বে কোন প্রাচীর ছিল না। লোকজন কা’বা গৃহকে কেন্দ্র করে তার চারপাশে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করত। উমর (রাঃ) (তাঁর খিলাফত কালে) কাবার চতুষ্পার্শ্বে প্রচীর নির্মাণ করেন। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, এ প্রচীর ছিল নীচু, আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) (তাঁর যুগে দীর্ঘ ও উঁচু) প্রাচীর নির্মাণ করেন।
হাদিস নং - ৩৫৫৪
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলি যুগে আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন কুরাইশগণ ও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন। যখন হিজরত করে মদিনায় আগমন করলেন, তিনি নিজেও আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন এবং অন্যকেও তা পালনে আদেশ দিতেন। যখন রমযানের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ফরয করা হল, (তখন ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ঐচ্ছিক করে দেওয়া হল)। তখন যার ইচ্ছা রোযা রাখতেন আর যার ইচ্ছা রোযা রাখতেন না।
হাদিস নং - ৩৫৫৫
মুসলিম (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাজ্জের (হজ্জ) মাসগুলোতে ‘উমরা পালন করাকে কুরাইশগণ পাপ কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের নামকে পরিবর্তন করে সফর মাস নামে আখ্যায়িত করত এবং বলত, (উটের) যখম শুকিয়ে যাবে এবং পদচিহ্ন মুছে যাবে তখন উমরা পালন করা হালাল হবে যারা তা পালন করতে চায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গী সাথীগণ যিলহাজ্জ মাসের চতুর্থ তারিখে হাজ্জের (হজ্জ) তালবিয়া (লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক) পড়তে পড়তে মক্কায় হাযির হলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গী সাথীদেরকে বললেন, তোমরা (তোমাদের তালবীয়অকে উমরায় পরিণত করে নেও। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , আমাদের জন্য কোন কোন বিষয় হালাল হবে? তিনি বললেন, যাবতীয় বিষয় হালাল হয়ে যাবে।
হাদিস নং - ৩৫৫৬
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) সা’ঈদ ইবনু মুসুইয়্যাব (রহঃ) তার পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, জাহেলিয়্যাতের যুগে একটি মহা প্লাবন হয়েছিল। যদ্বারা মক্কায় দু’টি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছিল। ‘সুফিয়ান (রাঃ) বলেন, ‘আমর ইবনু দীনার কলতেন, এ হাদীসটির একটি দীর্ঘ কাহিনী রয়েছে।
হাদিস নং - ৩৫৫৭
আবূ নু’মান (রহঃ) কাইস ইবনু আবূ হাযিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবূ বকর (রাঃ) আহমাস গোত্রের যায়নাব নান্মী জনৈক মহিলার নিকট গমন করলেন। তিনি গিয়ে দেখতে পেলেন, মহিলাটি কথাবার্তা বলছেনা। তিনি (লোকজনকে) জিজ্ঞাসা করলেন, মহিলাটির এ অবস্থা কেন, কথাবর্তা বলছে না কেন? তারা তাঁকে জানালেন , এ মহিলা নীরব থেকে থেকে হাজ্জ (হজ্জ) পালন করে আসছেন। আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, কথা বল কেন না ইহা হালাল নয়। ইহা জাহেলিয়্যাত যুগের কাজ। তখন মহিলাটি কথাবর্তা বলল, জিজ্ঞাসা করল, আপনি কে? আবূ বকর (রাঃ) উত্তরে বললেন, আমি একজন মুহাজির ব্যাক্তি। মহিলাটি জিজ্ঞাসা করল, আপিনি কোন গোত্রের মহাজির? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কুরাইশ গোত্রের। মহিলাটি জিজ্ঞাসা করলেন, কোন কুরাইশের কোন শাখার আপনি? আবয় বকর (রাঃ) বললেন, তুমি তো অত্যধিক উত্তম প্রশ্নকারিণী। আমি আবূ বকর। তখন মহিলাটি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, জাহেলিয়্যা যুগের পর যে উত্তম দ্বীন ও কল্যাণময় জীবন বিধান আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন সে দ্বীনের উপর আমরা কতদিন সঠিকভাবে টিকে থাকতে পারব? আবয় বকর (রাঃ) বললেন, যতদিন তোমাদের ইমামগণ তোমাদেরকে নিয়ে দ্বীনের উপর অবিচল থাকবেন। মহিলা জিজ্ঞাসা করল, ইমামগণ কারা? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তোমাদের গোত্রে ও সামাজে এমন সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ কি দেখনি। যারা আদেশ করলে সকলেই তা মেনে চলে। মহিলা উত্তর দিল, হ্যাঁ। আবূ বকর (রহঃ) বললেন, এরাই হলেন জনগণের ইমাম।
হাদিস নং - ৩৫৫৮
ফারওয়া ইবনু আবূল মাগারা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরবের কোন এক গোত্রের জনৈকা (মুক্তিপ্রাপ্ত) কৃষ্ণকায় মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেন। (বসবাসের জন্য) মস্জিদের পাশে ছিল তার একটি ছোট ঘর। আয়িশা (রাঃ) বলেন, সে আমাদের নিকট আসত এবং আমাদের সাথে (নানা রকমের) কথাবার্তা বলত, যখন তার কথাবার্তা শেষ হত তখন প্রায়ই বলতো, ইয়াওমুল বিশাহ (মনিমুক্তা খচিত হারে দিন) আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আশ্চার্যজনক ঘটনাবলীর একটি দিন জেনে রাখুন! আমার প্রতিপালক আমাকে কুফর এর দেশ থেকে নাজাত দিয়েছেন। সে এ কথাটি প্রায়ই বলত। একদিন আয়িশা (রাঃ) ঐ মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়ামুল বিশাহ’ কী? তখন সে বলল, যে আমার মুনীবের পরিবারের জনৈক শিশু কন্যা ঘর থেকে বের হল। তার গলায় চামড়ার (উপর মনিমুক্তা খচিত) একটি হার ছিল। হারটি (ছিড়ে) গলা থেকে পড়ে গেল। তখন একটি চিল একে গোশতের টুকরা মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল। তারা আমাকে হার চুরির সন্দেহে শাস্তি ও নির্যাতন করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত তারা আমার লজ্জাস্থানে তল্লাশী চালাল। যখন তারা আমার চারপাশে ছিল এবং আমি চরম বিষাদে ছিলাম। এমন সময় একটি চিল কোথা থেকে উড়ে আসল এবং আমাদের মাথার উপর এসে হারটি ফেলে দিল। তারা হারটি তুলে নিল। তখন আমি বললাম, এটাই সেই হার যে হার চুরির অপরাধে আমার উপর অপবাদ দিয়েছে, অথচ এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।
হাদিস নং - ৩৫৫৯
কুতায়বা (রহঃ) ইবনু ‘উমর (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাবধান! যদি তোমাদের শপথ করতে হয় তবে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যকারো নামে শপথ করো না। লোকজন তাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করত। তিনি বললেন, সাবধান! বাপ-দাদার নামে শপথ করো না।
হাদিস নং - ৩৫৬০
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ‘আমর (লা) হতে বর্ণিত যে, আব্দুর রাহমান ইবনু কাসিম (রাঃ) তার কাছে বলেছেন যে, কাসিম জানাযা বহনকালে আগে আগে চলতেন। জানোযা দেখলে তিনি দাঁড়াতেন না এবং তিনি বর্ণনা করছেন যে, আয়িশা (রাঃ) বলতেন, জাহিলী যুগে মুশরিকগণ জানাযা দেখলে দাঁড়াত এবং মৃত ব্যাক্তির রূহকে লক্ষ্য করে বলত, তুমি তোমার আপনজনদের সাথেই রয়েছ যেমন তোমার জীবদ্দশায় ছিলে। এ কথাটি তারা দু’বার বলত।
হাদিস নং - ৩৫৬১
‘আমর ইবনু ‘আব্বাস (ল) ‘আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, মুশরিকগণ সাবীর পাহাড়ের উপর সূর্যকিরণ পতিত না হওয়া পর্যন্ত মুয্দালাফা থেকে রওয়ানা হত না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয়ের পূর্বে রওয়ানা হয়ে তাদের প্রথার বিরোধিতা করেন।
হাদিস নং - ৩৫৬২
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ইা (রহঃ) বলেন, আল্লাহর বাণীঃ এর তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, শরাব পরিপূর্ণ এবং একের পর এক পেয়ালা। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমার পিতা আব্বাস (রাঃ)-কে ইসলাম পূর্ব যুগে বলতে শুনেছি, আমাদেরকে পাত্রপূর্ণ শরাব একর পর এক পান করাও।
হাদিস নং - ৩৫৬৩
আবূ নু’য়াঈম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বাধিক সঠিক বাক্য যা কোন কবি বলেছেন তা হল লাবীদ এর এ পংক্তিটি- সাবধান, আল্লাহ্ ব্যতীত সকল জিনিসই বাতিল ও অসার। এবং কবি উমাইয়্যা ইবনু আবূ সাল্ত (তার কথাবার্তার মধ্য দিয়ে) ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছিল।
হাদিস নং - ৩৫৬৪
ইসমাঈল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ)-এর একজন ক্রীতদাস ছিল। সে প্রত্যহ তার উপর নির্ধারিত কর আদায় করত। আর আাবূ বকর (রাঃ) আর দেওয়া কর থেকে আহার করতেন। একদিন সে কিছু খাবার জিনিস এনে দিল। তা থেকে তিন আহার করলেন। তারপর গোলাম বলল, আপনি জানেন কি উহা কিভাবে উপার্জন করা হয়েছে যা আপনি খেয়েছেন? তিনি বললেন, বলত ইহা কি? গোলাম উত্তারে বলল, আমি জাহিলী যুগে এক ব্যাক্তির ভবিষ্যৎ গণনা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ভবিষ্যৎ গণনা করা আমার উত্তমরূপে জানাছিল না। তথাপি প্রতারণামূলকভাবে ইহা করেছিলাম। (কিন্তু ভাগ্যচক্রে আমার গণনা সঠিক হল।)আমার সাথে তার সাক্ষাৎ হলে গণনার বিনিময়ে এ দ্রব্যাদি সে আমাকে হাদীয়া দিল যা থেকে আপনি আহার করলেন। আবূ বকর (রাঃ) ইহা শোনামাত্র মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বমি করে দিলেন এবং পাকস্থলীর মধ্যে যা কিছু ছিল সবই বের করে দিলেন।
হাদিস নং - ৩৫৬৫
মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসলাম পূর্ব যুগের মানুষ ‘হাবালুল হাবালা’ রূপে উটের গোশত ক্রয়-বিক্রয় করত। রাবী বলেন, হাবালুল হাবালার অর্থ হল- তারা উট ক্রয়-বিক্রয় করত এই শর্তে যে কোন নির্দিষ্ট গর্ভবর্তী উটনী বাচ্চা প্রসব করলে পর ঐ প্রসবকৃত বাচ্চা যখন গর্ভবর্তী হবে তখন উটের মূল্য পরেশোধ করা হবে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এরূপ ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করে দিলেন।
হাদিস নং - ৩৫৬৬
আবূ নু’মান (রহঃ) গায়লান ইবনু জারীর (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আমরা আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর কাছ থেকে (কাছে গেলে) তিনি আমাদের কাছে আনসারদের ঘটনা বর্ণনা করতেন। রাবী বলেন, আমাকে লক্ষ্য করে তিনি বলতেন, তোমার স্বজাতি অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কাজ করেছে, অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কাজ করেছে। (জাহিলী যুগের কাসামা (হত্যাকারীর গোত্রের পঞ্চাশ জনের শপথ গ্রহণ)
হাদিস নং - ৩৫৬৭
আবূ মা’মার (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বপ্রথম কাসামা হত্যাকরী গোত্রের লোকের (শপথ গ্রহণ) জাহিলী যুগে অনুষ্ঠিত হয় আমাদের হাশেম গোত্রে। (এতদ্ সম্পর্কীয় ঘটনা হল এই) কে মজুর হিসাবে নিয়োগ করল। ঐ মজুর তার সাথে উটগুলির নিকট গমন করল। ঘটনাক্রমে বনু হাশিমের অপর এক ব্যাক্তি তাদের নিকট দিয়ে যাচ্চিল। তাদের নিকটবর্তী হওয়ার পর খাদ্যভর্তি বস্তার বাঁধন ছিড়ে গেল। তখন সে মজুর ব্যাক্তিটিকে বলল, আমকে রশি দিয়ে সাহায্য কর, যে তা দিয়ে আমার বস্তার মুখ বাঁধতে পারি এবং উটটিও যেন পালিয়েযেতে না পারে। মজুর তাকে একটি রশি দিল। ঐ ব্যাক্তি তার বস্তার মুখ বেঁধে নিল। যখন তারা অবতরণ করল তখন একটি ব্যতীত সকল উট বেঁধে রাখা হল। মজুর নিযুক্তকারী ব্যাক্তি মজুরকে জিজ্ঞাসা করল, সকল উট বাঁধা হল কিন্তু এ উটটি বাঁধা হল না কেন? মজুর উত্তরে বলল, এ উটটি বাঁধার কোন রশি নেই। তখন সে বলল, এই উটটির রশি কোথায়? রাবী বলেন, একথা শুনে মালিক মজুরকে লাঠি দিয়ে এমনভাবে আঘাত করল যে শেষ পর্যন্ত এ আঘাতেই তার মৃত্যু হল। আহত মজুরটি যখন মুমূর্ষ অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুনছিল, তখন ইয়ামানের একজন লোক তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। আহত মজুর তাকে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি এবার হাজ্জে (হজ্জ) যাবেন? সে বলল, না, তবে অনেকবার গিয়েছি। আহত মজুরটি বলল, আপনি কি আমার সংবাদটি আপনার জীবনের যে কোন সময় পৌছে দিতে পারেন? ইয়ামানী লোকটি উত্তরে বলল, হাঁ তা পারব। তারপর মজুরটি বলল, আপনি যখন হাজ্জ (হজ্জ) উপলক্ষে মক্কায় উপস্থিত হবেন তখন হে কুরাইশের লোকজন বলে ঘোষনা দিবেন। যখন তারা আপনার ডাকে সাড়া দিবে, তখন আপনি বনু হাশিম গোত্রকে ডাক দিবেন, যদি তারা আপনার ডাকে সাড়া দেয়, তবে আপনি তাদেরকে আবূ তালিব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন এবং তাকে পেলে জানিয়ে দিবেন যে, অমুক ব্যাক্তি (উটের মালিক) একটি রশির কারণে আমাকে হত্যা করেছে। কিছুক্ষণ পর আহত মজুরটি মৃত্যুবরণ করল। মজুর নিয়োগকারী ব্যাক্তিটি যখন মক্কায় ফিরে এল। তখন আবূ তালিব তার নিকট জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদের ভাইটি কোথায়? তার কি হয়েছে? এখনও ফিরছেনা কেন? সে বলল, আপনার ভাই হঠাৎ ভীষণ রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। আমি যথাসাধ্য সেবা শুশ্রুষা করেছি (কিন্তু শেষ পর্যন্ত মারাই গেল)। মারা যাওয়ার পর আমি তাকে যথারীতি সমাহিত করেছি। আবূ তালিব বললেন, তুমি এরূপ করবে আমরা এ আশাই পোষণ করি। এভাবে কিছুদিন কেটে গেল। তারপর ঐ ইয়ামানী ব্যাক্তি যাকে সংবাদ পৌছে দেয়ার জন্য মজুর ব্যাক্তিটি অসিয়ত করেছিল, হাজ্জ (হজ্জ)ব্রত পালনে মক্কায় উপস্থিত হল এবং (পূর্ব অঙ্গীকার অনুযায়ী) হে কুরাইশগণ বলে ডাক দিল। তখন তাকে বলা হল, এই যে, কুরাইশ। সে আবার বলল, হে বনু হাশিম, বলা হল; এই যে, বনু হাশিম। সে জিজ্ঞাসা করল, আবূ তালিব কোথায়? লোকজন আবূ তালিবকে দেখিয়ে দিল। তখন ইয়ামানী লোকটি বলল, আপনাদের অমুক ব্যাক্তি আপনার নিকট এ সংবাদটি পৌছে দেয়ার জন্য আমাকে অসিয়ত করেছিল যে, অমুক ব্যাক্তি মাত্র একটি রশির কারণে তাঁকে হত্যা করেছে। (সে ঘটনাটিও সবিস্তারে বর্ণনা করল) এ কথা শুনে আবূ তালিব মজুর নিয়োগকারী ব্যাক্তির নিকট গমন করে বলল; (তুমি আমাদের ভাইকে হত্যা করেছ) কাজেই আমাদের তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটি তোমাকে মেনে নিতে হবে। তুমি হয়ত হত্যার বিনিময় স্বরূপ একশ উট দিবে অথবা তোমার গোত্রের বিশ্বাসযোগ্য পঞ্চাশ জন লোক হলফ করে বলবে যে, তুমি তাকে হত্যা করনি। যদি তুমি এসব করতে অস্বীকার কর তবে আমরা তোমাকে হত্যার বিনিময়ে হত্যা করব। তখন হত্যাকরী ব্যাক্তিটি স্ব-গোত্রীয় লোকদের নিকট গমন করলে ঘটনা বর্ণনা করল। ঘটনা শুনে তারা বলল, আমরা হলফ করে বলব। তখন বনু হাশিম গোত্রের জনৈক মহিলা যার বিবাহ হত্যাকারীর গোত্রে হয়েছিল এবং তার একটি সন্তানও হয়েছিল, আবূ তালিবের নিকট এসে বলল, হে আবূ তালিব, আমি এ আশা নিয়ে এসেছি যে, আপনি পঞ্চাশজন হলফকারী থেকে আমার এ সন্তানটিকে রেহাই দিবেন এবং ঐ স্থানে তার হলফ নিবেননা যে স্থানে হলফ নেওয়া হয়। (অর্থাৎ রুকনে ইয়ামিনী ও মাকামে ইব্রাহীমের মধ্যবর্তী স্থান) আবূ তালিব তার আবদারটি মনজুর করলেন। তারপর হত্যাকারীর গোত্রের জনৈক পুরুষ আবূ তালিবের নিকট এসে বলল, হে আবূ তালিব, আপনি একশ’ উটের পরিবর্তে পঞ্চাশজনের হলফ নিতে চাচ্ছেন, এ হিসাব অনুযায়ী প্রতিটি হলফকারীর উপর দু’টি উট পরে। আমার দু’টি উট গ্রহণ করুন এবং আমাকে হলফ করার জন্য দাঁড় করানো হয় সেখানে দাড় করানো থেকে আমাকে অব্যাহতি দেন। অপর আটচল্লিশজন এসে যথাস্থানে হলফ করল। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, হলফ করার পর একটি বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই আটচল্লিশ জনের একজনও বেঁচে ছিলনা।
হাদিস নং - ৩৫৬৮
‘উবায়দু ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বু’আস যুদ্ধ এমন একটি যুদ্ধ ছিল যা আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর রাসূল) -এর অনুকূলে (হিজরতের পূর্বেই) সংঘঠিত করেছিলেন। এ দুদ্ধের কারণে তারা (মদিনাবাসীরা) বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়েছিল এবং এদের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ এই যুদ্ধে নিহত ও আহত হয়েছিল। আল্লাহ্ তা’আলা এ যুদ্ধ ঘটিয়েছিলেন এ কারণে যেন তারা ইসলাম গ্রহণ করে নেয়। ইবনু ওহাব (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী বাতনে ওয়াদী নামক স্থানে সাঈ (দৌড়ান) করা সুন্নত নয়। জাহেলী যুগের লোকেরাই শুধু সেখানে সাঈ করত এবং বলত আমরা বাতহা নামক স্থানটি দ্রুত দৌড়িয়ে অতিক্রম করব।
হাদিস নং - ৩৫৬৯
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ আল জুফী (রহঃ) আবূস্সাফর (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে এ কথা বলতে শুনেছি, হে লোক সকল! আমি যা বলছি তা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর এবং তোমরা যা বলতে চাও আমাকে শোনাও এবং এমন যেন না হয় যে তোমরা এখান থেকে চলে গিয়ে বলবে ইবনু ‘আব্বাস এরূপ বলেছেন। (অতঃপর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন) যে ব্যাক্তি বাইতুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করতে ইচ্ছা করে সে যেন হিজর এর বাহির থেকে তাওয়াফ করে এবং এ স্থানকে হাতীম বলবেনা কারণ, জাহেলীয়াতের যুগে কোন ব্যাক্তি ঐ জায়গাটিতে তার চাবুক, জুতা তীর ধনু ইত্যাদি নিক্ষেপ করে হলফ করত।
হাদিস নং - ৩৫৭০
নুয়া’ঈম ইবনু হাম্মদ (রহঃ) আমর ইবনু মাইমূন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাহিলিয়াতের যুগে দেখেছি, একটি বানর ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কারণে অনেকগুলো বানর একত্রিত হয়ে প্রস্তর নিক্ষেপে তাকে হত্যা করল। আমিও তাদের সাথে প্রস্তর নিক্ষেপ করলাম।
হাদিস নং - ৩৫৭১
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগের কার্যাবলীর মধ্যে অন্যতম হলঃ কারো বংশ-কুল নিয়ে খোটা দেওয়া (কারো মৃত্যু উপলক্ষে শোক প্রকাশার্থে) বিলাপ করা। তৃতীয় কথাটি (রাবী উবায়দুল্লাহ) ভুলে গেছেন। তবে সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, তৃতীয় কার্যটি হল, নক্ষত্রের সাহায্যে বৃষ্টি কামনা করা।
হাদিস নং - ৩৫৭২
আহমদ ইবনু আবূ রাজা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর যখন (ওহী) নাযিল করা হয় তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। এরপর তিনি মক্কায় তের বছর অবস্থান করেন। তারপর তাঁকে হিজরতের আদেশ দেওয়া হয়। তিনি হিজরত করে মদিনায় চলে গেলেন এবং তথায় দশ বছর অবস্থান করলেন, তারপর তাঁর ওফাত হয়।
হাদিস নং - ৩৫৭৩
আল-হুমায়দী (রহঃ) খাব্বাব (রাঃ) বলেন, আমি (একবার) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে হাযর হলাম। তখন তিনি তাঁর নিজের চাঁদরকে বালিশ বানিয়ে কাবা গৃহের ছায়ায় বিশ্রাম গ্রহণ করছিলেন। (যেহেতু) আমরা মুশরিকদের পক্ষ থেকে কঠিন নির্যাতন ভোগ করছিলাম। তাই আমি বললাম, আপনি কি (আমাদের শান্তি ও নিরাপত্তার) জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করবেন না? তখন তিনি উঠে বসলেন এবং তাঁর চেহারা রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তী ঈমানদারদের মধ্যে কারো কারো শরীরের হাড় পর্যন্ত সমস্ত মাংস ও শিরা উপশিরাগুলি লোহার চিরুনী দিয়ে আঁচড়ে বের করে ফেলা হত। কিন্তু এসব নির্যাতনও তাদেরকে দ্বীন থেকে বিমুখ করতে পারত না। তাঁদের মধ্যে কারো মাথার মধ্যবর্তী স্থানে করাত স্থাপন করে তাকে দ্বিখন্ডিত করে ফেলা হত। কিন্তু এ নির্যাতনও তাঁদেরকে তাঁদের দ্বীন থেকে ফিরাতে পারতনা। আল্লাহর কসম, আল্লাহ্ তা’আলা অবশ্যই দ্বীনকে পরিপূর্ণ করবেন, ফলে একজন উষ্ট্রারোহী সান’আ (শহর) থেকে হাযারামাউত পর্যন্ত একাকী ভ্রমণ করবে। আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে সে ভয় করবে না। রাবী (রহঃ) আরো অতিরিক্ত বর্ণনা করেন এবং তার মেষ পেলেন উপর নেকড়ে বাঘের আক্রমণে সে ভয় করবে না।
হাদিস নং - ৩৫৭৪
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) ইবনু মাসউদ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আন-নাজ্ম তিলাওয়াত করে সিজদা করলেন। তখন এক ব্যাক্তি ব্যতীত (উপস্থিত) সকলেই সিজ্দা করলেন। ঐ ব্যাক্তিকে আমি দেখলাম, সে এক মুষ্টি কংকর তুলে নিয়ে তার উপর সিজ্দা করল এবং সে বলল, আমার জন্য এরূপ সিজ্দা করাই যথেষ্ট। (আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন) পরবর্তীকালে আমি তাকে কাফির অবস্থায় (বদর যুদ্ধে) নিহত হতে দেখেছি।
হাদিস নং - ৩৫৭৫
মুহাম্মদ ইবনু বাশ্শার (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজ্দা করলেন। তাঁর আশেপাশে কুরাইশের কয়েকজন লোক বসেছিল। এমন সময় উক্বা ইবনু আবূ মুয়াইত (যবাইকৃত) উটের রাড়ীভুঁড়ি নিয়ে উপস্থিত হল এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিঠের উপর নিক্ষেপ করল। ফলে তিনি তাঁর মাথা উঠাতে পারলেন না। (সাংবাদ পেয়ে) ফাতিমা (রাঃ) এসে তাঁর পিঠের উপর থেকে তা সরিয়ে দিলেন এবং যে এ কাজটি করেছে তার জন্য বদ দু’আ করলেন। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাথা উঠিয়ে) বললেন, ইয়া আল্লাহ্! পাকড়াও কর কুরাইশ নেতৃবৃন্দকে— আবূ জেহেল ইবনু হিশাম, উৎবা ইবনু রাবিয়া, শায়বা ইবনু রাবি’য়া, উমাইয়া ইবনু খালফ অথবা উবাই ইবনু খালাফ। উমাইয়া ইবনু খালফ না উবাই ইবনু খালফ এ বিষয়ে (শো’বা রাবী নন্দেহ করেন) ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন) আমি এদের সবাইকে বদর যুদ্ধে নিহত অবস্থায় দেখেছি। উমাইয়া অথবা উবাই ব্যতীত এদের সবাইকে সে দিন একটি কূপে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তার গ্রন্হিগুলি এমনভাবে ছিন্নভিন্ন হয়েছিল যে তাকে কূপে নিক্ষেপ করা যায় নি।
হাদিস নং - ৩৫৭৬
‘উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) সা‘ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুর রাহমান ইবনু আবযা (রাঃ) একদিন আমাকে আদেশ করলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে এ আয়াত দু’টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর, এর অর্থ কী? আয়াতটি হল এই “আল্লাহ্ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করবে না। ” এবং “যে ব্যাক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করে। ” আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন, যখন সূরা আল-ফুরকানের আয়াতটি নাযিল করা হল তখন মক্কার মুশ্রিকরা বলল, আমরা তো মানুষকে হত্যা করেছি যা আল্লাহ্ হারাম করেছেন এবং আল্লাহর সাথে অন্যকে মা’বুদ হিসাবে শরীক করেছি। আরো নানা জাতীয় অশ্লীল কাজ কর্ম করেছি। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেন, “কিন্তু যারা তওবা করেছে এবং ঈমান এনেছে ” সুতরাং এ আয়াতটি তাদের জন্য প্রযোজ্য। আর সূরা নিসার যে আয়াতটি রয়েছে তা, ঐ ব্যাক্তি সম্পর্কে যে ইসলাম ও তার বিধি-বিধানকে জেনে বুঝে কবূল করার পর কাউকে (ইচ্ছাকৃত) হত্যা করেছে। তখন তার শাস্তি, জাহান্নাম। তারপর মুজাহিদ (রহঃ) কে আমি এ বিষয় জানালাম। তিনি বললেন, তবে যদি কেউ অনুতপ্ত হয়।
হাদিস নং - ৩৫৭৭
‘আইয়্যাশ ইবনুল ওয়ালিদ (রহঃ) ‘উরাওয়া ইবনু যাবায়র (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) এর নিকট বললাম, মক্কার মুশ্রিক কর্তৃক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সর্বাপেক্ষা কঠের আচরণের বর্ণনা দিন। তিনি বললেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বা শরীফের (পশ্চিম পার্শ্বস্থ) হিজর নামক স্থানে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিলেন। তখন ‘উকবা ইবনু আবূ মু’য়াইত এল এবং তার চাঁদর দিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্ঠনালী পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলল। তখন আবূ বকর (রাঃ) এগিয়ে এসে ‘উকবাকে কাঁধে ধরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট থেকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমরা এমন ব্যাক্তিকে হত্যা করতে চাও যিনি বলেন, একমাত্র আল্লাহ্ তা’আলাই আমাদের প্রতিপালক।
হাদিস নং - ৩৫৭৮
আবদুল্লাহ ইবনু হাম্মাদ আমুলী (রহঃ) আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে এমন অবস্থায় (ইসলাম গ্রহণের জন্য) সাক্ষাত করলাম যে, তখন তাঁর সঙ্গে (ইসলাম গ্রহণ করেছেন) এমন পাঁচজন কৃতদাস, দ’জন মহিলা ও আবূ বকর (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউ ছিল না।
হাদিস নং - ৩৫৭৯
ইসহাক (রহঃ) সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, যেদিন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম সেদিনের পূর্বে অন্য কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। আর আমি সাতদিন পর্যন্ত বয়স্কদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণকারী হিসাবে তৃতীয় ব্যাক্তি ছিলাম।
হাদিস নং - ৩৫৮০
উবায়দুল্লাহ ইবনু সা’দ (রহঃ) আবদুর রাহমান (রহঃ) বলেন, আমি মাসরূক (রহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাতে জ্বিনরা মনোযোগের সাথে কুরআন শ্রবণ করেছিল ঐ রাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাদের উপস্থিতি সম্পর্কে সংবাদটি কে দিয়েছিল? তিনি বলেন, তোমার পিতা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, তাদের উপস্থিতির সংবাদ একটি বৃক্ষ দিয়েছিল।
হাদিস নং - ৩৫৮১
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উযূ (ওজু/অজু/অযু) ও ইস্তিঞ্জার কাজে ব্যবহারের জন্য পানি ভর্তি একটি পাত্র বহন করে পিছনে পিছনে যাচ্ছিলান, হঠাৎ তাকিয়ে বললেন, কে? আমি বললাম, আমি আবূ হুরায়রা। তিনি বললেন, আমাকে কয়েকটি পাথর তালাশ করে দাও। আমি উহা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করব। তবে, হাঁড় এবং গোবর আনবে না। আমি আমার কাপড়ের কিনারায় করে কয়েকটি পাথর এনে তাঁর নিকটে রেখে দিলাম এবং আমি তথা হতে কিছুটা দূরে সরে গেলাম। তিনি যখন ইস্তিঞ্জা থেকে অবসর হলেন, তখন আমি অগ্রসর হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, হাঁড় ও গোবর এর বিষয় কি? তিনি বললেন এগুলো জ্বিনের খাদ। আমার নিকট নাসীবীন নামক জায়গা থেকে জ্বিনের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল। তারা উত্তম জ্বিন ছিল। তারা আমার কাছে খাদ্যদ্রব্যের প্রার্থনা জানাল। তখন আমি আল্লাহর নিকট দু’আ করলাম যে, যখন কোন হাঁড় বা গোবর (তাদের) হস্তগত হয় তখন যেন উহাতে তাদের খাদ্যদ্রব্য পায়।
হাদিস নং - ৩৫৮২
‘আমর ইবনু ‘আব্বাস (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আবির্ভাবের সংবাদ যখন আবূ যার (রাঃ) এর নিকট পৌছল, তখন তিনি তাঁর ভাই (উনাইস)কে বললেন, তুমি এই উত্যকায় যেয়ে ঐ ব্যাক্তির সম্পর্কে জেনে আস যে ব্যাক্তি নিজেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে দাবী করছেন ও তাঁর কাছে আসমান থেকে সংবাদ আসে। তাঁর কথাবার্তা মনোযোগ সহকারে শুন এবং ফিরে এসে আমাকে শোনাও। তাঁর ভাই (মক্কাভিমুখে) রওয়ানা হয়ে ঐ ব্যাক্তির নিকট পৌছে তাঁর কথাবর্তা শুনলেন। এরপর তিনি আবূ যারের নিকট প্রত্যাবর্তন করে বললেন, আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি উত্তম স্বভাব অবলম্বন করার জন্য (লোকদেরকে) নির্দেশ দান করছেন এবং এমন কালাম (পড়তে শুনলাম) যে পদ্য নয়। এতে আবূ যার (রাঃ) বললেন, আমি যে উদ্দেশ্যে তোমাকে পাঠিয়েছিলাম সে বিষয়ে তুমি আমাকে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলেনা। আবূ যার (রাঃ) সফরের উদ্দেশ্যে যৎসামান্য পাথেয় সংগ্রহ করলেন এবং একটি ছোট্ট পানির মশকসহ মক্কায় উপস্থিত হলেন। মসজিদে হারামে প্রবেশ করে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তালাশ করতে লাগলেন। তিনি তাঁকে (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে চিনতেন না। আবার কাউকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করাও পছন্দ করলেন না। এমতাবস্থায় রাত হয়ে গেল। তিনি (মসজিদে) শুয়ে পড়লেন। আলী (রাঃ) তাঁকে দেখে বুঝতে পারলেন যে, লোকটি বিদেশী মূসা ফির। যখন আবূ যার আলী (রাঃ)-কে দেখলেন, তখন তিনি তাঁর পিছনে পিছনে গেলেন। কিন্তু সকাল পর্যন্ত একে অন্যকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলেন না। আবূ যার (রাঃ) পুনরায় তাঁর পাথেয় ও মশক নিয়ে মসজিদে আরারেম দিকে চলে গেলেন। এ দিনটি এমনিভাবে কেটে গেল, কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে পেলেন না। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। তিনি (পূর্বে দিনের) শোয়ার জায়গায় ফিরে গেলেন। তখন আলী (রাঃ) তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এখন কি মূসা ফির ব্যাক্তির গন্তব্য স্থানের সন্ধান লাভের সময় হয়নি? সে এখনও এ জায়গা অবস্থান করছে। তিনি তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন। (পথিমধ্যে) কেউ কাউকে কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলেন না। এমতাবস্থায় তৃতীয় দিন হয়ে গেল। আলী (রাঃ) পূর্বের ন্যায় তার পাশ দিয়ে যেতে লাগলেন। তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। এরপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তুমি কি আমাকে বলবেনা কি জিনিস এখানে আসতে তোমাকে উদ্ধুদ্ধ করেছে? আবূ যার (রাঃ) বললেন, তুমি যদি আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শনের পাকা পোক্ত অঙ্গীকার কর তবেই আমি তোমাকে বলতে পারি। আলী (রাঃ)অঙ্গীকার করলেন এবং আবূ যার (রাঃ) ও তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করলেন। আলী (রাঃ) বললেন, তিনি সত্য, তিনি আল্লাহর রাসূল যখন ভোর হয়ে যাবে তখন তুমি আমার অনুসরণ করবে। তোমার জন্য ভয়ের কারণ আছে এমন যদি কোন কিছু আমি দেখতে পাই তবে আমি রাস্তার পাশে চলে যাব যেন আমি পেশাব করতে চাই। আর যদি আমি সোজা চলতে থাকি তবে তুমিও আমার অনুসরণ করতে থাকবে। এবং যে ঘরে আমি প্রবেশ করি সে ঘরে তুমিও প্রবেশ করবে। আবূ যার (রাঃ) তাই করলেন আলী (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তিনিও তাঁর (আলীর) সাথে প্রবেশ করলেন। তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথাবার্তা শুনলেন এবং ঐ স্থানেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার স্বগোত্রে ফিরে যাও এবং আমার নির্দেশ না পৌঁছা পর্যন্ত আমার ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করবে না। আবূ যার (রাঃ) বললেন, ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি আমার ইসলাম গ্রহণকে মুশরিকদের সন্মুখে উচ্চস্বরে গোষণা করব। এই বলে তিনি বেরিয়ে পড়লেন ও মসজিদে হারামে গিয়ে উপস্থিত হলেন এবং উচ্চকন্ঠে ঘোষণা করলেন, (ইহা শোনামাত্র মুশরিক) লোকজন (উত্তেজিত হয়ে) তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং প্রহার করতে করতে তাঁকে পাটিতে ফেলে দিল। এমন সময় আব্বাস (রাঃ) এসে তাঁকে আগলিয়ে রাখলেন এবং বললেন, তোমাদের বিপদ অনিবার্য। তোমরা কি জানোনা, এ লোকটি গিফার গোত্রের? আর তোমাদের ব্যবসায়ী দলগুলিকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়েই সিরিয়া যাতায়াত করতে হয়। একথা বলে তিনি তাদের হাত থেকে আবূ যারকে রক্ষা করলেন। পরদিন ভোরে তিনি অনুরূপ বলতে লাগলেন। লোকেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে বেদম প্রহার করতে লাগল। আব্বাস (রাঃ) এসে আজো তাঁকে রক্ষা করলেন।
হাদিস নং - ৩৫৮৩
কুতায়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) কায়স (রাঃ) বলেন, আমি সা‘ঈদ ইবনু যায়েদ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফায়ল (রাঃ)-কে কুফার মসজিদে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, ‘উমরের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমার ইসলাম গ্রহণের কারণে তাঁর হাতে আমাকে বন্দী অবস্থায় দেখেছি। তোমরা উসমান (রাঃ) এর সথে যে ব্যবহার করলে এ কারণে যদি ওহুদ পাহাড় দীর্ণ-বিদীর্ণ হয়ে যায় তবে তা হওয়া সঙ্গতই হবে।
হাদিস নং - ৩৫৮৪
মুহাম্মদ ইবনু কাসীর (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) যেদিন ইসলাম গ্রহণ করলেন ঐ দিন থেকে আমরা সর্বদা প্রভাব প্রতিপত্তির আসনে সমাসীন রয়েছি।
হাদিস নং - ৩৫৮৫
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর পিতা ‘উমর (রাঃ) (ইসলাম গ্রহণের পর) একদিন নিজ গৃহে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় অবস্থান করছিলেন। তখন আবূ ‘আমর ‘আস ইবনু ওয়াইল সাহমী তাঁর কাছে আসলেন তার গায়ে ছিল ধারিদার চাঁদর ও রেশমী জরির জামা। তিনি বাসু সাহম গোত্রের লোকছিলেন। জাহেলী যুগে তারা আমাদের হালীফ (বিপদ কালে সাহায্যের চুক্তি যাদের সাথে করা হয়) ছিল। ‘আস ‘উমর (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন আপনার অবস্থা কমেন? ‘উমর (রাঃ) উত্তর দিলেন, তোমার গোত্রের লোকজন ইসলাম গ্রহণ করার কারণে অচিরেই আমাকে হত্যা করবে। ইহা শুনে ‘আস (রাঃ) বললেন, তোমার কথা শুনে আমি শঙ্কাহীন হলাম। ‘আস বেরিয়ে পড়লেন এবং দেখতে পেলেন, মক্কা ভূমি লোকে লোকারণ্য। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তারা বলল, আমরা ‘উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট যাচ্ছি, সে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে বিধর্মী হয়ে গেছে। ‘আস বললেন, তার নিকট যাওয়া, তাকে কোন কিছু করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। এতে লোকজন ফিরে গেল।
হাদিস নং - ৩৫৮৬
আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, যখন উমর (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন লোকেরা তাঁর গৃহের পাশে সমবেত হল এবং বলতে লাগল, উমর স্বধর্ম ত্যাগ করেছে। আমি তখন ছোট বালক। আমাদের ঘরের ছাদে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখতে ছিলাম। তখন একজন লোক এসে বলল, তার গায়ে রেশমী জুব্বা লিছ, উমর স্বধর্ম ত্যাগ করেছে, (তাতে কার কি হল?) তবে এ সমাবেশ কিসের আমি তাকে আশ্রয় দিচ্ছি। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, তখন আমি দেখলাম, লোকজন চারদিক ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে গেল। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ লোকটি কে? লোকেরা বলল, ইনি ‘আস ইবনু ওয়াই।
হাদিস নং - ৩৫৮৭
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখনই উমর (রাঃ) কে কোন ব্যাপারে একথা বলতে শুনেছি যে, আমার ধারণা হয় ব্যাপারটি এমন হবে, তবে তার ধারণা মত ব্যাপারটি সংঘটিত হয়েছে। একবার উমর (রাঃ) বসা ছিলেন, এমন সময় একজন সুদর্শন ব্যাক্তি তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। উমর (রাঃ) বললেন, আমার ধারণা ভুল ও হতে পারে তবে আমার মনে হয় লোকটি জাহেলী ধর্মাবলম্বী অথবা ভবিষ্যৎ গণনাকারীও হতে পারে। লোকটিকে আমর কাছে নিয়ে এস। তাকে তাঁর কাছে ডেকে আনা হল। উমর (রাঃ) তার ধারণার কথা তাকে শোনালেন। তখন সে বলল, একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে বলা হল যা আজকার মত আর কোন দিন দেখেনি। উমর (রাঃ) বললেন, আমি তোমাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তুমি আমাকে তোমার ব্যাপারটা খুলে বল। সে বলল, জাহেলী যুগে আমি তাদের ভবিষ্যৎগণনাকরী ছিলাম। উমর (রাঃ) বললেন, জ্বিনেরা তোমাকে যে সব কথাবার্তা বলেছে, তন্মধ্যে কোন কথটি তোমার নিকট সর্বাধিক বিষ্ময়কর ছিল। সে বলল, আমি একদিন বাজারে অবস্থান করছিলাম। তখন একটি মহিলা জ্বিন আমার নিকট আসল। আমি তাকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখতে পেলাম। তখন সে বলল, তুমি কি জ্বিন জাতির অবস্থা দেখছনা, তারা কেমন দুর্বল হয়ে পড়ছে? তাদের মধ্যে হতাশা ও বিমূঢ় হওয়ার চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা ক্রমশঃ উটওয়ালাদের এবং চাঁদর জুব্বা পরিধানকারীদের (আরববাসী) অনুগত হয়ে পড়ছে। উমর (রাঃ) বললেন, সে সত্য কথা বলেছে। আমি একদিন তাদের দেবতাদের কাছে ঘুমন্ত ছিলাম। তখন এক ব্যাক্তি একটি গরুর বাছুর নিয়ে হাযির হল এবং সেটা যবাই করে দিল। ঐ সময় এক ব্যাক্তি এমন বিকট চীৎকার করে উঠল, যা আমি আর কখনও শুনিনি। সে চীৎকার করে বলছিল, হে জলীহ! একটি স্বভাবিক কল্যাণময় ব্যাপার অচিরেই প্রকাশ লাভ করবে। তা হল- একজন বিশুদ্ধভাষী লোক বলবেন, (এ ঘোষনা শুনে উপস্থিত) লোকজন ছুটাছুটি করে পলায়ন করল। আমি বললাম, এ ঘোষনার রহস্য উদঘাটন অবশ্যই করব। তারপর আবার ঘোষণা দেওয়া হল। হে জলীহ! একটি স্বভাবিক ও কল্যাণময় ব্যাপার অতি সত্বর প্রকাশ পাবে। তাহল একজন বাগ্মী ব্যাক্তি এর প্রকাশ্যে ঘোষণা দিবে। তারপর আমি উঠে দাড়ালাম। এর কিছুদিন পরেই বলা হল যে, তিনই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
হাদিস নং - ৩৫৮৮
মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) কাইস (রহঃ) বলেন, আমি সা’ঈদ ইবনু যায়েদ (রাঃ)-কে তাঁর কওমকে লক্ষ্য করে একথা বলতে শুনেছি যে, আমি দেখেছি উমর (রাঃ) আমাকে এবং তার বোন ফাতিমাকে ইসলাম গ্রহণ করার কারণে বেঁধে রেখেছেন। তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন নি। তোমরা উসমান (রাঃ)-এর সাথে যে আচরণ করেছ তার কারণে যদি ওহুদ পাহাড় ভেঙ্গে পরে তবে তা হওয়াটাই স্বভাবিক।
হাদিস নং - ৩৫৮৯
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহ্হাব (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মক্কাবাসী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তাঁর নবুওয়াতে নিদর্শন হিসাবে কোনরূপ মুজিয দেখানোর দাবী জানাল। তিনি তাদেরকে চাঁদ দ্বিখন্ডিত করে দেখালেন। এমনকি তারা চাঁদের দু’খন্ডের মধ্যখানে হেরা পর্বতকে দেখতে পেল।
হাদিস নং - ৩৫৯০
আবদান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয় তখন আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিনায় অবস্থান করছিলাম। তিনি আমাদিগকে বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক। তখন আমরা দেখলাম, চাঁদরে একটি খন্ড হেরা পর্বতের দিকে চলে গেল। আবূ যুহা মাসরূকের বরাত দিয়ে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয় মক্কা শরীফে।
হাদিস নং - ৩৫৯১
উসমান ইবনু সালিহ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়েছিল।
হাদিস নং - ৩৫৯২
উমর ইবনু হাফস (রহঃ) আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে) চাঁদ খন্ডিত হয়েছিল।
হাদিস নং - ৩৫৯৩
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ আল-জু’ফী (রহঃ) উবায়দুল্লাহ ইবনু আদী ইবনু খিয়ার (রহঃ) উরওয়া ইবনু যুবায়েরকে বলেন যে, মিসওয়ার ইবনু মাখরামা এবং আবদুর রাহমান ইবনু আসওয়াদ ইবনু আবদ ইয়াগুস (রাঃ) উভয়ই তাকে বললেন, (হে উবায়দুল্লাহ)! ুতুমি তোমার মামা উসমান (রাঃ)-এর সাথে তার (বৈপিত্রেয়) ভাই ওয়ালীদ ইবনু উকবা সম্পর্কে কোন আলাপ-আলোচনা করছ না কেন? জনগণ তার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করছে। উবায়দুল্লাহ বলেন, উসমান (রাঃ) যখন সালাত (নামায/নামাজ)-এর উদ্দেশ্যে মসজিদে আসছিলেন তখন আমি তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললাম, আপনার সাথে আমার কথা বলার প্রয়োজন আছে এবং তা আপনার মঙ্গলার্থেই। তিনি বললেন, ওহে, আমি তোমা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থণা করছি। আমি তখন ফিরে আসলাম এবং যখন সালাত (নামায/নামাজ) সমাপ্ত করলাম, তখন মিসওয়ার ও ইবনু আবদ ইয়াগুস (রাঃ)-এর নিকট যেয়ে বললাম, এবং উসমান (রাঃ) কে আমি যা বলেছি এবং তিনি যে উত্তর দিয়েছেন তা উভয়কে শোনালাম। তাঁরা বললেন, তোমার উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল তা তুমি আদায় করেছ। আমি তাদের নিকট বসাই আছি এ সময় উসমান (রাঃ) এর পক্ষ তেকে একজন দূত আমাকে ডেকে নেয়ার জন্য আসলেন। তারা দু’জন আমাকে বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে পরীক্ষায় ফেলেছেন। আমি চললাম এবং উসমান (রাঃ) এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি উপদেশ যা তুমি কিছুক্ষন পূর্বে বলতে চেয়েছিলে? তখন আমি কালিমা শাহাদত পাঠ করে (তাঁকে উদ্দেশ্য করে) বললাম, আল্লাহ মুহাম্মদ -কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপে প্রেরণ করেছেন, তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর আপনি ঐ দলেরই অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহ্ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ডাকে সাড়া দিয়েছেন, আপনি তাঁর উপর ঈমান এনেছেন এবং প্রথম দু’হিজরতে (মদিনা ও হাবশা) আপনি অংশ গ্রহণ করেছেন, আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর স্বভাব-চরিত্র স্বচক্ষে দেখেছেন। জনসাধারণ ওয়ালিদ ইবনু উকবার ব্যাপারে অনেক সমালোচনা করছে, আপনার কর্তব্য তাঁর উপর বিধান দন্ড জারি করা। উসমান (রাঃ) আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে ভাতিজা, তুমি কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে পেয়েছ? আমি বললাম, না, পাইনি। তবে তাঁর বিষয় আমার নিকট এমনভাবে নিরঙ্কুশ পৌঁছেছে যেমনভাবে কুমারী মেয়েদের নিকট পর্দার অন্তরালে সংবাদ পৌঁছে থকে। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, উসমান (রাঃ) কালিমা শাহাদত পাঠ করলেন, এবং বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদ -কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল) -এর ডাকে সাড়া দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আমিও ছিলাম। হযরত মুহাম্মদ -কে যা সহ প্রেরণ করা হয়েছিল আমি তার প্রতি ঈমান এনেছি। ইসলামের প্রথম যুগের দু’হিজরতে অংশ গ্রহণ করেছি যেমন তুমি বলছ। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্য লাভ করেছি, তাঁর হাতে বায়’আত করেছি। আল্লাহর কসম, আমি তাঁর নাফরমানী করিনি। তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। এমতাবস্থায় তাঁর ওফাত হয়ে যায়। আরপর আল্লাহ্ তা’আলা আবূ বকর (রাঃ)-কে খলীফা নিযুক্ত করলেন। আল্লাহর কসম আমি তাঁরও নাফরমানী করিনি, তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। অতঃপর উমর (রাঃ) খলীফা মনোনীত হলেন। আল্লাহর কসম, আমি তাঁরও অবাধ্য হইনি, তাঁর সাথে প্রতারণা করিনি। তিনিও ওফাত প্রাপ্ত হলেন এবং তারপর আমাকে খলীফা নিযুক্ত করা হল। আমার উপর তাদের বাধ্য থাকার যেরূপ হক ছিল তোমাদের উপর তাদের ন্যায় আমার প্রতি বাধ্য থাকার কি কোন হক নাই? উবায়দুল্লাহ বললেন, হাঁ। অবশ্যই হক আছে। উসমান (রাঃ) বললেন, তাহলে এসব কথাবর্তা কি, তোমাদের পক্ষ থেকে আমার নিকট আসছে? আর ওয়ালীদ ইবনু উকবা সম্পর্কে তুমি যা বললে, সে ব্যাপারে আমি অতিসত্বর সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করব ইন্শাল্লাহ। অতঃপর তিনি ওয়ালীদকে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করার রায় প্রদান করলেন এবং ইহা কর্যকরী করার জন্য আলী (রাঃ)-কে আদেশ করলেন। তৎকালে অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদানের দায়িত্বে আলী (রাঃ) নিযুক্ত ছিলেন। ইউনুস এবং যুহরির ভাতিজা যুহরী সূত্রে যে বর্ণনা করেন তাতে রয়েছে; ‘তোমাদের উপর আমার কি হক নেই যেমনটি হক ছিল তাদের জন্য। ’
হাদিস নং - ৩৫৯৪
মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন উম্ম হাবীবা ও উম্মে সালামা (রাঃ) তাঁর সাথে আলোচনা করল যে তাঁরা হাবশায় (ইথিওপিয়া) খৃষ্টানদের একটি গির্জা দেখে এসেছেন। সে গির্জায় নানা রকমের চিত্র অঙ্কিত রয়েছে। তাঁরা দু’জন এসব কথা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন (এদের অভ্যাস ছিল যে) তাদের কোন নেক্কার লোক মারা গেলে তার কবরের উপর মসজিদ (উপাসনালয়) নির্মাণ করত এবং এসব ছবি অঙ্কিত করে রাখত, এরাই কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সর্বনিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসাবে পরিগণিত হবে।
হাদিস নং - ৩৫৯৫
হুমাইদী (রহঃ) উম্মে খালিদ (বিনত খালিদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন হাবশা থেকে মদিনায় আসলাম তখন আমি ছোট্ট বালিকা ছিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি চাঁদর পরিয়ে দিলেন যাতে ডোরা কাটা ছিল। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ডোরাগুলির উপর হাত বুলাতে লাগলেন, এবং বলতে ছিলেন সানাহ-সানাহঃ হুমায়দী (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ সুন্দর সুন্দর।
হাদিস নং - ৩৫৯৬
ইয়াহ্ইয়া ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (ইসলামের প্রাথমিক যুগে) সালাত (নামায/নামাজ) রত থাকা অবস্থায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমরা সালাম করতাম, তিনিও আমাদের সালামের উত্তর দিতেন। যখন আমরা নাজাশীর (হাবশা) কাছ থেকে ফিরে এলাম, তখন সালাত (নামায/নামাজ) রত অবস্থায় তাঁকে সালাম করলাাম, কিন্তু তিনি সালামের জবাব দিলেন না। আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম ইয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা (সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে) আপনাকে সালাম করতাম এবং আপনিও সালামের উত্তর দিতেন। কিন্তু আজ আপনি আমাদের সালামের জবাব দিলেন না? তিনি বললেন, সালাত (নামায/নামাজ)-এর মধ্যে আল্লাহর দিকে নিবিষ্টতা থাকে। রাবী বলেন, আমি ইব্রাহীম নাখয়ীকে জিজ্ঞাসা করলাম, (সালারেত মধ্যে কেউ সালাম করলে) আপনি কি করেন? তিনি বললেন, আমি মনে মনে জবাব দিয়ে দেই।
হাদিস নং - ৩৫৯৭
মুহাম্মদ ইবনুল আলা (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের নিকট নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আবির্ভাবের সাংবাদ এসে পৌঁছল। তখন আমরা ইয়ামানে অবস্থান করছিলাম। আমরা একটি নৌকায় আরোহণ করলাম। কিন্তু (প্রতিকূল বাতাসের কারণে) আমাদের নৌকা (গন্তব্যস্থানের দিকে না পৌঁছে) হাবশায় নাজাশীর নিকট নিয়ে গেল। সেখানে জাফর ইবনু আবূ তালিবের (রাঃ) সাথে সাক্ষাৎ হল। আমরা তাঁর সাথে অবস্থান করতে লাগলাম। কিছুদিন পর আমরা সেখান থেকে রওয়ানা হলাম। এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বর বিজয় করলেন তখন আমরা তাঁর সাথে মিলিত হলাম। আমাদেরকে দেখে তিনি বললেন, হে নৌাকারোহীগণ, তোমাদের জন্য দু’টি হিজরতের মর্যাদা রয়েছে।
হাদিস নং - ৩৫৯৮
আবূর রাবী (রহঃ) যাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নাজাশীর (আসহাম) মৃত্যু হল তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আজ একজন সৎ ব্যাক্তি মারা গেছেন। উঠো, এবং তোমাদের (ধর্মীয়) ভাই আসহামার জন্য জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর।
হাদিস নং - ৩৫৯৯
আবদুল আলা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশীর উপর জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। আমরাও তাঁর পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় কাতারে ছিলাম।
হাদিস নং - ৩৬০০
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসহাম নাজাশীর উপর জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন এবং চারবার তাক্বীর বলেন।
No comments:
Post a Comment