Wednesday, June 5, 2019

বিবাহের পর স্ত্রীর সাথে স্বামীর ব্যবহার:-

🌻🌹বিবাহের পর স্ত্রীর সাথে স্বামীর ব্যবহার:-

বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী উভয়ের একের প্রতি অন্যের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পিত হয়। এর সবটাই দুনিয়া আখিরাতের শান্তি ও কামিয়াবীর জন্য শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত সুন্দর ব্যবস্থা।

প্রত্যেক বিবেকবান স্বামীকে খেয়াল রাখতে হবে যে, আজ থেকে তাদের দুজনের ৬০/৭০ বছরের দীর্ঘ এক সফর শুরু হয়ে গেল। আর শরীআতের মাসআলা হচ্ছে, ২/৪ জনের কোন সফর যদি মাত্র এক ঘণ্টার জন্যও শুরু হয় তাহলে তাদের মধ্যে একজনকে আমীর বানিয়ে নিতে হবে। আর এখানের তো দীর্ঘ দিনের সফর। কাজেই একজনকে নেতৃত্ব দেয়া প্রয়োজন।

 শরীআতে স্বামীকে আমীরের আসন দিতে বলা হয়েছে। আর আমীর সম্পর্কে শরীআতের নির্দেশ হল “সায়্যিদুল কাওমি খাদেমুহুম” অর্থাৎ যিনি আমীর হবেন তিনি মানুষের খিদমত করবেন। বুঝা গেল যে, স্বামীকে কর্তৃত্ব দেয়া দ্বারা নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তারের কোন সুযোগ দেয়া হয়নি। বরং স্ত্রীর ও সন্তানাদির লালন-পালনের পূর্ণ দায়িত্ব স্বামীর উপর আরোপ করা হয়েছে। 

শরীআতের অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গিতে কথাটি এভাবে বলা যায় যে, স্বামী হল আশেক আর স্ত্রী তার মাহবুবা বা প্রেমাস্পদ। আর দুনিয়ার নিয়ম হচ্ছে, আশেক স্বীয় মা‘শুককে সর্বদা আরামে রাখার চেষ্টা করে। কাজেই স্বামী স্বীয় স্ত্রীকে সাধ্যমত আরাম পৌঁছানের জন্য সচেষ্ট থাকবে এবং তাকে আল্লাহওয়ালী বানানোর চেষ্টা জারী রাখবে। আল্লাহ পাক স্বামীকে উদ্দেশ্য করে আদেশ দিচ্ছেন, দেখো ! আমার এই বান্দীকে আমি সৃষ্টি করেছি। বিদ্যা-বুদ্ধি দিয়েছি। অতঃপর আমি নিজে তোমার জন্য তাকে নির্ধারিত করেছি। কাজেই তুমি তাকে আমার দেয়া নেআমত মনে করে তার সাথে কোমল ব্যবহার কর। 

তার দোষ ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখ। আল কুরআনে আরো ইরশাদ হয়েছেঃ “তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর।” (সুরা নিসা, আয়াত- ১৯) একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে আশা করা যায়। এক লোকের কাছে পুলিশের আই.জি. ফোন করে বলল, ভাই! শুনলাম আমার মেয়ের বান্ধবীকে নাকি তুমি বিবাহ করেছ? ওদের দুই বান্ধবীর মধ্যে কিন্তু খুব চমৎকার সম্পর্ক। সুতরাং তুমি তার প্রতি খেয়াল রেখ, যাতে তার কোন অসুবিধা না হয়। এই ফোন পাওয়ার পরে ঐ ব্যক্তি কিন্তু সতর্ক হয়ে যাবে। আগের চেয়ে আরো বেশী ভাল ব্যবহার করবে স্ত্রীর সাথে। তার সমস্যা সমাধানের জন্য নিজ থেকেই উদ্যোগী হবে। সামান্যতম জুলুম-অত্যাচারের চিন্তাও তার মনে আসবে না। কেননা, তার পিছনে পুলিশ কর্মকর্তা আছে। 

সামান্য একজন পুলিশের কথায় যদি একজন মানুষ এমন নিষ্ঠাবান হয়ে যায় তাহলে মহা প্রতাপশালী আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে আমাদের কি করণীয় তা সহজেই অনুমেয়। আকাবিরে দেওবন্দের জনৈক বুযুর্গের কাছে এক ব্যক্তি অভিযোগ করল যে, আমার স্ত্রী আমাকে খুব জ্বালাতন করে, আমি তাকে তালাক দিতে চাই। উত্তরে তিনি বললেন, শোনো! সে যদি তোমাকে কষ্ট দেয় তাহলে এই মহিলারাই কিন্তু আবার অনেক লোককে আল্লাহর অলী বানিয়ে দিয়েছে। তুমি যদি আল্লাহর অলী হতে চাও তাহলে সবর কর। আর যদি না চাও তাহলে তালাক দিয়ে দিতে পার। 

হযরত মির্যা মাজহার জানে জানাঁ অনেক বড় এক বুযুর্গ ছিলেন। একদিন স্বপ্নে তাকে বলা হল, দিল্লির অমুক বস্তিতে খুব দ্বীনদার এক মহিলা আছে, তবে সে খুব বদ মেযাজী। তুমি যদি তাকে বিবাহ করে তার বদ মেযাজীর উপর সবর করতে পার, তাহলে তোমাকে আল্লাহর অলী বানিয়ে নেয়া হবে। পরের দিনই তিনি সেই মহিলাকে বিবাহ করে গৃহে নিয়ে এলেন। তিনি স্বীয় মুরীদদেরকে বলতেন, দেখো! আল্লাহ তাআলা সারা দুনিয়ায় আমার যে ডঙ্কা বাজিয়ে দিয়েছেন, তা এই মুজাহাদা আর সবরের কারণেই। 

শাইখ আবুল হাসান খোরাসানীও উঁচু দর্জার একজন বুযুর্গ ছিলেন। একদিন জনৈক ব্যক্তি দেখতে পেল যে, তিনি একটা সাপ দিয়ে লাকড়ির বোঝা বেঁধে বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে বাড়ীর দিকে আসছেন। লোকটি অবাক হয়ে তার এই পর্যায়ে পৌছার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এসবই আমার বদমেযাজী স্ত্রীর সাথে উত্তম ব্যবহারের পুরস্কার। স্ত্রীর সাথে সদ্ব্যবহারের জন্য স্বামীকে যেভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ঠিক তেমনই স্ত্রীকেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে স্বামীর সাথে ভাল ব্যবহার করার জন্য। বলা হয়েছে, সে যেন স্বামীকে পেরেশান না করে, তার সামর্থ্যের বাইরে তার উপর কোন দাবী-দাওয়া না চাপিয়ে দেয়। বরং স্বামীর আরামের প্রতি যেন তার সর্বদা লক্ষ্য থাকে। স্বামী যেন কখনো তার উপর অসন্তুষ্ট না থাকে। কেননা, স্বামী অসন্তুষ্ট থাকলে উক্ত নারীর ইবাদত কবুল হয়না এবং স্বামীকে সন্তুষ্ট না করা পর্যন্ত ফেরেশতারা তার উপর লা‘নত করতে থাকে। 

স্বামীর মর্যাদা বুঝাতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ “আমার শরীআতে যদি আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সিজদা করার অনুমতি থাকত তাহলে আমি নির্দেশ দিতাম মহিলারা যেন আপন আপন স্বামীকে সিজদা করে।” 

নারীদের জান্নাতে যাওয়া পুরুষদের তুলনায় অনেক সহজ। কোন মুমিনা মহিলা যদি নিম্নোক্ত ৪টি কাজ যথাযথ ভাবে পালন করে তাহলে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশের অধিকার দেয়া হবে।

কাজ ৪টি হলঃ- 

১। পাঁচ ওয়াক্ত নামায সঠিকভাবে আদায় করা। 

২। রমজান মাসের রোযা রাখা। 

৩। স্বামীকে শরীআতের গণ্ডীর মধ্যে থেকে খুশি রাখা। 

৪। পর্দায় থেকে নিজের ইজ্জত-আব্রুর পরিপূর্ণ হিফাজত করা।- এই চারটির কোনটিই কিন্তু অসম্ভব বা কঠিন কাজ নয়। কাজেই প্রতিটি নারীর উচিৎ বেহেশতের মধ্যে আপন স্থান সুনিশ্চিত করা।

আল্লাহ্ আমাদের সুন্নাতি তরিকায় জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন -আমীন ।।

No comments:

Post a Comment

Most Recent Post :-

🌹🌻কেমন_হবে_জান্নাত🌺🌻